সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ বুধবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিষয়ে চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
আগামী ৭ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে। এ সময় প্রধান বিচারপতি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সকল প্রতিবাদী কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে নিজ নিজ কাজে অর্থাৎ পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে বলা হলো। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিয়ে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবেন বলে এই আদালত আশা করে।’
আদালত আরও বলেন, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকারী ছাত্র-ছাত্রীরা চাইলেও আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য এই আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন। আদালত মূল আবেদন নিষ্পত্তির সময় তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেবেন। এরপর আদালত রায়ের ওপর চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন। একইসঙ্গে আগামী ৭ আগস্ট শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি হয়। প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা ছাড়াই নিয়োগ হয়ে আসছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের লিখিত পরীক্ষা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষা হবে। অপরদিকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রিলিমনারি পরীক্ষা হয়েছে। এখন লিখিত পরীক্ষার অপেক্ষা। হাইকোর্ট থেকে কোটা নিয়ে একটি রায় এসেছে। এই রায়ে পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় আপনারা আমাদের রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিল করতে বলেছেন। কিন্তু রায় এখনও স্বাক্ষর হয়নি। তাই আমরা হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাচ্ছি।’
এরপর শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমরা দুজন ছাত্রের পক্ষে আবেদন করেছি। যদিও এ দুজনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই। তদুপরি শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা নিজেদের মতামত জানাতে চেম্বার জজে আবেদন করেছিলাম। চেম্বার আদালত আজ শুনানির জন্য রেখেছেন। আমরা চাচ্ছি চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই রায়টা স্থগিত থাকুক।’
এরপর রিটকারীদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল চাইনি। আমরা শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার জন্য বলেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটা চালু করেন। ’৭৫ সালের পর ২১ বছর মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রয়োগ হয়নি। এরপর ১৯৯৭ সাল থেকে চার বছর এই কোটা প্রয়োগ হয়। এরপর ২০১৮ সালে নাতি-নাতনির জন্য কোটা প্রয়োগের বিধান হলেও তা প্রয়োগ হয়নি।’
তিনি বলেন, বলা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধারা মেধাহীন। অথচ কোটায় চাকরি পেতে হলেও তাকে সব পরীক্ষায় সমভাবে প্রতিযোগিতা করেই পাস করে আসতে হয়।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, রায়টা যেহেতু আমাদের সামনে নেই, তাই সেখানে কী আছে আমরা কেউ বলতে পারছি না। এ রায় নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করছে। এখন তারা আদালতে এসেছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কিছু করতে হলে এটা এখান থেকেই করতে হবে। আমরা এটা বহাল, বাতিল বা সংশোধন করতে পারি। আমরা সরকারকেও আদেশ দিতে পারি।
এরপর কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা দেন সর্বোচ্চ আদালত। এ আদেশের ফলে আপাতত কোটা বাতিল করে দেওয়া পরিপত্র বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা থাকছে। এর ফলে নিয়োগ পদ্ধতিতে আপাতত কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ হবে না। ২০১৮ সালের পর যেভাবে নিয়োগ হয়ে আসছিল, সেই পদ্ধতিই বহাল থাকবে।
অপরদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আমি বলব, আপনাদের আর আন্দোলন করার যৌক্তিক কারণ নেই। যেহেতু আদালত একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন। আপনারা সবাই রাস্তা ছেড়ে দেন। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবেন না, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে মানুষের সমস্যা হয়। মানুষের সমস্যা হলে রাষ্ট্রকে দেখতে হয়। এ কথাগুলো বিবেচনা করে অবশ্যই আপনারা আপনাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করুন।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টার দিকে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপিত হয়। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির জন্য সাড়ে ১১টায় সময় দেওয়া হয়েছে। দুটি আবেদন একসঙ্গে শুনানি হোক। এ জন্য সময় চান। তবে আদালত সময় নামঞ্জুর করে বেলা সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবেদন শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভুইয়া এবং উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান চেম্বার কোর্টের অনুমতি নিয়ে একটি সিএমপি (হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে) আবেদন করেন। ওই দিনই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সেই আবেনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন চেম্বার আদালত।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের এক রিটে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ জুন কোটা পুনর্বহাল করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ রায়টি স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত গত ৯ জুন আবেদনটি শুনানির জন্য ৪ জুলাই নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। ৪ জুলাই হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়নি। তবে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের রায় স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ ‘নট টু ডে’ (আজ শুনানি নয়) আদেশ দেন। রিট আবেদনকারী পক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।
নবম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) ও ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকার পরিপত্র জারি করে। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা এমন পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট দায়ের করেন অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছরের ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।
রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী জানান, পুরো কোটা বাতিল না করে কেবল নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের কোটা বাতিল করা হয়েছিল। এটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে এসব গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাদের সন্তানদের নিয়োগে আর কোনো বাধা নেই। এরপর ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলসি) সহসভাপতি হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সম্মেলনের সভাপতি উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো এবং অন্য দুই সহসভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান ও আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজের পাশাপাশি তিনি এ দায়িত্ব সামলাবেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রতি বছর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।
গত ১ জুন এই নির্বাচনে আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মত সমর্থন জানান। এটি বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আইএলওর গণতন্ত্রায়ণ, শোভন কর্মসংসথান, সামাজিক ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়া এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।
মিশন আরও জানায়, বিশ্বজুড়ে শ্রমশক্তির নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অবদান, এটি তারই এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
সম্মেলনের সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আইএলও’র সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে (আইএলসি) বিশ্বের ‘শ্রম সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যা আইএলওর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম।
কাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে সরকার, শ্রমিক সংগঠন এবং নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে, গত ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশ খেলাপি থাকলেও মার্চ শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
মঙ্গলবার (০২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মার্চ ২০২৬ ভিত্তিক ‘শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন’–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত বা মন্দ ঋণ। ডিসেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে উঠেছে।
এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকভেদে খেলাপি ঋণের চিত্রে দেখা যায়, সব ধরনের ব্যাংকেই শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের হার ডিসেম্বরের ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে মার্চে বেড়ে ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ দশমিক ১১ শতাংশে, বিদেশি ব্যাংকে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৮২ শতাংশে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশে উঠেছে।
মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।
খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
পরিমাণের দিক থেকেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৭ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি বাড়তে থাকায় ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও নতুন ঋণ বিতরণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন বছর সময় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সরকারের আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)।
ইউএনসিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে একমত ইউএনসিডিপি। ফলে কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতিবাচক সুপারিশ করার পথ তৈরি হয়েছে।
ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন যৌক্তিক। তবে এই অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের একটি সুযোগ।
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইউএনসিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ করেছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।
ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্য মেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণ প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারিত হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে প্রস্তুতি পর্ব ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কমিটি বিশেষভাবে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দিয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ৯৯টি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই জয়ের ফলে আগামী এক বছর মেয়াদে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। এটি বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাব ও সক্ষমতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সাইপ্রাস। ভোটগণনা শেষে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। ফল ঘোষণার পরপরই সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসার গৌরব। এর আগে দীর্ঘ ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে সংস্থাটির ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর পুনরায় এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এখন থেকে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নানা এজেন্ডা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী চলমান নানা সংকট নিরসনে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় সাধারণ পরিষদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আগামী এক বছরের এই মেয়াদে তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবেন। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে সাতজন অতিরিক্ত সচিবকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার (০১ জুন) রাতে দেওয়া এসব প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম ও সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষর করেছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব জিন্নাত রেহানাকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান।
এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশিদা ফেরদৌসকে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম হুমায়ুন কবির সরকারকে।
ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে মেট্রো এলাকার বাইরে পাঠিয়ে পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (০২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কথা বলেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন করে কেউ বেকার হবে না, আবার একই সাথে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। দেশে রাতারাতি বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা রাস্তায় নেমে আসায় বেকারত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের হুট করে উচ্ছেদ করা কঠিন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও চালকদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখে তাদের মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে।
একই সাথে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের যৌথ সমন্বয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা ও জনসচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, এমনকি রাতের বেলাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাম্প্রতিক নৃশংস শিশু হত্যার বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান থাকায় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে যথাসময়ে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
এ ছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটিকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচারসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হবে।
আজ দেশব্যপী উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) অন্যান্য পরিচালকদের ও ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠাবার্র্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান। আরও বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম. এ. খান বেলাল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, উদ্যোক্তা পরিচালক এ.এস.এম. ফিরোজ আলম, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর নাসরিন সুলতানা, পিএইচডি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ মোঃ জাকির হোসাইন, শামীম আহম্মদ, অসীম কুমার সাহা, ড. মোঃ জাহিদ হোসেন ও ড. তাপস চন্দ্র পাল, এসইভিপিবৃন্দ মোহাম্মদ ইকবাল রেজওয়ান, মোঃ আব্দুল হালিম ও মেইন শাখার প্রধান মোঃ আব্দুল আউয়াল সহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যপী ব্যাংকের সকল শাখা, উপশাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয় এবং গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।
ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা, শাখা, আমানত সংগ্রহসহ ব্যাংকের সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ”বাংলার ব্যাংক” খ্যাত মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১৯৯৯ সালের ২ জুন যাত্রা শুরু করে গত ২৭ বছরের কঠোর পরিশ্রমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক একটি গ্রাহকবান্ধব, বিশ^স্ত ও টেকসই ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও করপোরেট সুশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবার প্রতিশ্রুতি দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বলেন, গ্রাহকদের চাহিদার বাস্তবায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত করাসহ চলতি বছর খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, এসএমই ও রিটেইল খাতকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে দেশের প্রত্যন্ত জনপদে শাখা-উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট স্থাপন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ২টায় চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীন সফরের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, চীন সরকার ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় এক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এই প্রতিনিধি দলটি চীন সফরে গিয়েছেন।
তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণ হবে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে এবং তা চলবে ৮ জুন পর্যন্ত।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ মামুন শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, আনোয়ার উল হালিম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার, মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহর একান্ত সচিব তারিখ হাসান। অন্য কর্মকর্তারা হলেন, জুলিয়া মঈন, জেসমিন আক্তার ও মোহাম্মদ জাব্বার।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে সোমবার (০১ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা চীনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আলি আকবর খান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে ১৫ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলি আকবর খান। তিনি ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে রেঞ্জ পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অকৃত্রিম সততার সঙ্গে কর্মসম্পাদন করে সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছেন।
পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ইতালিতে ও মালদ্বীপে দুটি কর্মশালায় অংশ নেন তিনি। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি তাঁর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা সমৃদ্ধ করেছেন।
আলি আকবর খান সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় সিআইডি পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি'র সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সোশ্যাল পলিসি চিফ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার বলেন, আমাদের সবার সন্তান থাকলেও তাদের সুরক্ষা বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন নই। সংসদীয় ককাস গঠনের পূর্ব থেকেই শিশুবান্ধব বাজেট ও নীতি প্রণয়নে ইউনিসেফের প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেন, যে সকল সংসদ সদস্যগণ শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়নের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন, তাঁদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করা সম্ভব।
ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অ্যাডভোকেসির অংশ হিসেবে প্রাক-বাজেট ব্রিফিং ও গোলটেবিল আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুরা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। তিনি আরও বলেন, শুধু বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং তার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকালে শিশু অধিকার, শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিক স্পেশালিস্ট মো. আশিক ইকবাল, কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ফারিয়া সেলিম, কমিউনিকেশন অফিসার কারিশমা আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অবশেষে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এপ্রিল মাসে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পর মে মাসে মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও জুন মাসে এসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৫৫ টাকা কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ মঙ্গলবার এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি কেজির মূল্য ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের এখন ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৮৫ টাকায় কিনতে হবে, যা গত মাসে ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা।
মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, আমদানি ব্যয়, জাহাজ ভাড়া এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে প্রোপেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৭৬০ ডলার এবং বিউটেনের ৮২০ ডলার নির্ধারিত হওয়ায় গড় সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৯৯ ডলার। উল্লেখ্য যে, গত এপ্রিল মাসে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে এলপিজির দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। মে মাসে সেই বর্ধিত দাম বহাল থাকলেও জুন মাসে এসে তা কিছুটা নিম্নমুখী হলো।
অন্যদিকে, সরকারি খাতের এলপিজির মূল্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সরকারি সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে। বিইআরসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কোনো পর্যায়েই এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কমিশন থেকে সতর্ক করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই মূল্য হ্রাস সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে পাঠিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার এবং তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতারণার শিকার এই যুবকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, “প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানো এই ৩০ বাংলাদেশিকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাবাল-ই-নূরসহ একটি দালাল চক্র ভালো চাকরির কথা বলে এসব যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন জঘন্য অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো চক্র, সংস্থা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো এজেন্সির অসততার কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করা হবে।” যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের জন্য সব সুবিধা সম্বলিত একটি সমন্বিত 'প্রবাসী কার্ড' চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কী করবে।” এই কার্ডের সম্ভাব্য কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যে ফ্যাসিলিটিটা দেব, সেটা আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। কিন্তু এখানে তার কারেন্সি সুবিধাটা কিভাবে পেতে পারে, তাদের সহজ রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে কী বেনিফিট নিতে পারে, ব্যাংক পেমেন্টের গেটওয়েটা কিভাবে হবে, তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র, এই কার্ডের সঙ্গে ট্র্যাকিং থাকবে।” বিদেশ গমনেচ্ছু নাগরিকদের যেকোনো লেনদেনের আগে এজেন্সির বৈধতা যাচাই করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।