মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা: খালেদাসহ বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১১ আগস্ট

ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৪ ১৭:০৫

গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড (গ্যাটকো) দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক আলী হোসেনের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এ দিন খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী হাজিরা দাখিল করেন। এরপর আসামি পক্ষ অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১১ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জিয়া ও হান্নান ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী। এতে আসামি করা হয় চার দলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনকে।

মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।

এ মামলার আসামি ২৪ জনের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানসহ আটজন মারা গেছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় তাকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়াসহ এ মামলার আসামি ১৫ জন। অন্যরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আলী, প্রয়াত মন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের স্ত্রী জাহানারা আনছার, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন ও এ কে এম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌসচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, তৎকালীন গ্যাটকো পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, সৈয়দ তানভির আহমেদ ও সৈয়দ গালিব আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম শাহাদত হোসেন ও বন্দরের সাবেক পরিচালক (পরিবহন) এ এম সানোয়ার হোসেন।


নির্বাচিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে বিএনপির আলোচনা সভা, বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। ‘রক্তাক্ত জুলাই: ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রামের রক্তঝরা জুলাই’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি বিকেল ৩টায় রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে দেশজুড়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। একইভাবে বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরছে। মূলত গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপপ্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

তিনি বলেন, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সুজন মাহমুদ।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু সৌজন্য সাক্ষাত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশ যখন একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সইয়ের দিকে এগোচ্ছে, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষর হতে যাওয়া কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী।

ইয়ো হান-কু বলেন, এ চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে ।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে অনেক কোরিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা করছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক কোরিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে খেলনা, ইলেকট্রনিক্স, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অত্যন্ত দক্ষ এবং বাংলাদেশের রয়েছে সম্ভাবনাময় জনশক্তি। দক্ষিণ কোরিয়া চাইলে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে সে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কাজে লাগাতে পারে।

এছাড়া কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ করতে চাইলে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশে একটি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী উপপ্রেস সচিব।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এসব প্রস্তাব দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

এ সময় বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে দিল্লিকে উদ্বেগ জানাল ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যকে ঘিরে উদ্বেগের কথা দিল্লির কাছে তুলে ধরে ঢাকা। এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারকে জানান, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের ব্যক্তি যাতে তাদের দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও জানান তিনি।

ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন। উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ২৫.২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশকে আরও ২৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সোমবার (৩ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ সহায়তার ঘোষণা দেয়।

ঢাকার পদ্মা স্টেট গেস্ট হাউসে এ বিষয়ে চুক্তি সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং ইউএনএইচসিআরের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকেইসোনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল।

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়া এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে থাকা দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই অংশ এই নতুন অর্থায়ন। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমার ও বাংলাদেশে চলমান সংকট মোকাবিলায় ৩ বছর মেয়াদি ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকটে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মানবিক সহায়তা দিয়েছে দেশটি।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, জীবিকাসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি: ইসি সচিব

ইসি সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরি করতে সংসদ সচিবালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ বা শিডিউল বা অন্য কোনো কিছু ঠিক হয়নি। আমরা ভোটার তালিকার জন্য পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটের কাছে অনুরোধ করেছি। তারা ভোটার তালিকাটা দেবেন।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিগত বছরের দলের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।

এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। এর মধ্যে একটির নিবন্ধন স্থগিত আছে। বাকি ৫৯ দলের মধ্যে ৩৮টি রাজনৈতিক দল বাৎসরিক অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

১৩টি রাজনৈতিক দল অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য ইসির কাছে আবেদন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আটটি দল সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেননি। এর মানে তারা নন রেসপনসিভ।’

আখতার আহমেদ বলেন, যারা সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে, তাদের জন্য কমিশন সময় বাড়াবে। অতীতেও এই সময় বাড়ানো হয়েছে। যারা প্রতিবেদন জমা দেয়নি, তারা আইনের বরখেলাপ করেছে, এটা তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।


নির্বাচিত

রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রক্তস্নাত ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করতে জাতীয় সংসদকেই রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে আবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই আমাদের সবার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।’

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ অর্জন করেছিলাম, তার ৫৫ বছর পরও যখন ভোটাধিকারের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়, তখন তা আমাদের জন্য একইসঙ্গে লজ্জা ও আত্মসমলোচনার বিষয়। তবে, বহু ত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণ তার ম্যান্ডেট দিয়েছে। বর্তমানে সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করছে।’

সংসদকে রাজনীতির মূল কেন্দ্র বানানোর ওপর জোর দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এত রক্ত ও বিসর্জনের পর অর্জিত এই গণতন্ত্র ও সংসদই হওয়া উচিত আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। অত্যন্ত দুঃখজনক যেÑশহীদদের স্মরণ করতে এসেও আমরা দেখছি, আত্মত্যাগ থেকে পরিপূর্ণ শিক্ষা না নিয়ে রাজনীতিকে রাজপথে বা সংসদের বাইরে কৃত্রিমভাবে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

সুশাসন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদের রক্ত মিশে আছে। আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগকে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে উন্নীত করা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিপুল সংখ্যক তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এখন বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজপথে আমরা যেভাবে সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, ঠিক একইভাবে ক্ষমতাসীন হিসেবে আজ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সুশাসন নিশ্চিত করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। শহীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থকতা পাবে, যখন আমরা গণতান্ত্রিক সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারব।’

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ’র সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের বর্তমান সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

পদ্মা ব্যারাজ শুধু অবকাঠামো নয়, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার অংশ: ড. তিতুমীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় প্রযুক্তি ও জনগণের বাস্তব চাহিদাকে কেন্দ্র করেই পদ্মা ব্যারাজের মতো বহুমাত্রিক জাতীয় পরিকল্পনার নকশা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজকে নিছক একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে পরিবেশ, মানুষ ও নদীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। নীতিসংক্রান্ত এই সংলাপের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ)।

দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, ১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে নদী ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রথম বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এ খাতে স্থবিরতা ছিল। ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আবার নতুন এক যাত্রার সূচনা করেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের দাবি ও পরিবেশগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রকল্পের নকশায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, উজানের নদীগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৯৪২টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো রয়েছে। এ অবস্থায় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও আন্তর্জাতিক অধিকার আদায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এগোতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করেই সরকারের নীতি-কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার সব সময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।

আলোচনায় জানানো হয়, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সাতটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের কথা উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে আশঙ্কাজনকভাবে লবণাক্ততা বেড়েছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, মিঠা পানির প্রবাহ বাড়িয়ে সুন্দরবনের ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি গড়াই, মাথাভাঙা, মধুমতি, চন্দনা ও ইছামতী নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি ও অর্থনীতিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রকল্পটির অবদান প্রায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৯ সালের মধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশগত ও টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা বক্তব্য দেন।


নির্বাচিত

আগামী ৫ আগস্টকে ঘিরে দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জননিরাপত্তা এবং দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ৫ আগস্টকে সামনে রেখে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টকে সামনে রেখে দেশজুড়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দিনটির গুরুত্ব এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্কতা জোরদার করতে এবং যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনার অংশ হিসেবে, পুলিশের যানবাহনগুলোকে চালকবিহীন অবস্থায় না রাখা এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক সতর্কতা বজায় রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং ৫ আগস্টের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের সমন্বয় সভা হবে।

তিনি মতিঝিল ও আশুলিয়ায় সম্প্রতি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনাগুলো আতঙ্ক সৃষ্টি ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপপ্রচেষ্টা।

তিনি আরো বলেন, দায়ীদের শনাক্ত করতে এবং ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি সমন্বিত তদন্ত চলছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর কার্যকলাপের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।


নির্বাচিত

সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্পত্তি দান করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি অধিকার বজায় রাখতে পারবেন- এমন বিধান রেখে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।।

বর্তমানে প্রচলিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ কেউ সম্পত্তি দান করলে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছে চলে যায়। তবে নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতা জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

একই বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ আইনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ আইন গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে বলে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

​আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া, ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। তবে ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।


নির্বাচিত

৫ আগস্ট সংবাদপত্রের ছুটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী বুধবার ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনকল্পে দেশের সকল সংবাদপত্র অফিস ছুটি পালনের ঘোষণা দিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

আজ সোমবার সংগঠনের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোয়াবভুক্ত সব সদস্যের অবগতির জন্য ছুটি-সংক্রান্ত এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশেষ ছুটির মধ্যেও প্রকাশনা অব্যাহত রাখার সুযোগ রেখে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “এই ছুটির সময়ও নোয়াব সদস্যরা বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশ করতে পারবেন।”


নির্বাচিত

জেলা পরিষদের প্রশাসক-চেয়ারম্যানদের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিশ্চিতে ডিসিদের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস, সরকারি সভা এবং প্রটোকল সংক্রান্ত অন্যান্য আয়োজনে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের যথাযথ পদমর্যাদা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ লক্ষ্যে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ১৯৮৬ (জুলাই ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও সরকারি সভাসহ বিভিন্ন প্রটোকলিক আয়োজনে আসন বিন্যাস, দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও আমন্ত্রণপত্রে নামের ক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকা বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স গুরুত্বের সাথে অনুসরণ করতে হবে। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় সরকারি কার্যক্রম ও প্রটোকল পালনে স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনার অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ আশা করছে যে, এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানরা তাদের নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও সম্মাননা সুশৃঙ্খলভাবে লাভ করবেন। মূলত সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকার ব্যত্যয় রোধ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা সংকটে অস্ট্রেলিয়ার আড়াই কোটি ডলারের মানবিক সহায়তার ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এই মানবিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই বহুবর্ষী অর্থায়ন করা হবে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয়দের জন্য অপরিহার্য সেবা নিশ্চিত করবে।

অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা এমন এক সময়ে এলো যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার প্রবাহে এক ধরনের অনিশ্চয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারবে। অনুষ্ঠানে জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।”

ইউএনএইচসিআর-এর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি সংকটটি বিশ্ববাসীর নজরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলও শরণার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, “বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ভয়াবহ সহিংসতার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অধিকাংশ বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অর্থায়নের ঘাটতি এই শরণার্থীদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, যার ফলে অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রার ঝুঁকি নিচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এমন চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করায় আবাসন ও জ্বালানির ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার এই ধারাবাহিক সহায়তা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও টেকসই জীবনমান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


নির্বাচিত

banner close