রাজধানীর কারওয়ান বাজার লেভেল ক্রসিং ও মহাখালী লেভেল ক্রসিংয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলন করায় ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে সারা দেশে আজ বুধবার ‘বাংলা ব্লকেড’র অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রেল লাইনে লগ বসিয়ে লেভেলক্রসিং অবরোধ করেন।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস জানান, বেলা ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারসংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রেন চলাচলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালে হাইকোর্টের আগের আদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা প্রসঙ্গে এক বেসরকারি বিশ্বাবদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোটা পদ্ধতির সংস্কার করতে হবে এবং তা না করা পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী কারওয়ানবাজার এফডিসি পয়েন্ট সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
এদিকে মহাখালী, আমতলী, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও মেরুল বাড্ডায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে দেখা গেছে। রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় যাত্রীদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
কোটা সংস্কারকারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের সময় রেলওয়ে ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।
জাতীয় সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি নিজেই আদালতে আবেদনের পক্ষে সওয়াল করেন। রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী এবং এটি সংসদ সদস্যদের বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করে। একই সাথে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আর্জিও জানানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এই রিটের বিরোধিতা করেন। শুনানিতে তাঁকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেখায় যে, সংবিধানের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ীই সকল প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁর নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন এই সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বেও ২০১৮ সালে একই আইনজীবী ৭০ অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে রিট করেছিলেন যা আদালত কর্তৃক গ্রাহ্য হয়নি। হাইকোর্টের আজকের এই আদেশের ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেছেন। আগামীকাল বুধবার থেকে তাঁরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
আজ মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান।
দুদক সচিব বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। গতকাল গেজেটের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেছেন। আগামীকাল থেকে তাঁরা দুদক কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
দুদক সচিব বলেন, ‘আগামীকাল থেকে নতুন যাত্রা শুরু হবে দুদকের। আপনারা যেরকম প্রত্যাশা করেন, সেটা প্রত্যাশা পূরণ হবে। আগামীকাল সকালে আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁরা মতবিনিময় করবেন।’
গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে নিয়োগ পেয়ে শপথ নেন তিনি।
নতুন কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।
একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সার্বিক সফলতা বহুলাংশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এনবিআরকে জনগণের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জনআস্থা অর্জন করা সম্ভব। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনামলে এনবিআরে যে দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কলঙ্ক লেপন করা হয়েছিল, তা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নীতি নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা করার সংস্কৃতি এখন অতীত। ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এখন আমাদের সাহসের সাথে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’
পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মেলাতে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, মানি লন্ডারিং এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সাথে রাজস্ব ব্যবস্থাকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, ‘শুধুমাত্র কর আদায় বাড়ানোই আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য নয়, বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করাই মূল সার্থকতা।’ তিনি কর ব্যবস্থা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার মাধ্যমে করদাতা ও প্রশাসনের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ভ্যাট ব্যবস্থাপনার সফলতার ওপর আলোকপাত করে তারেক রহমান বলেন, ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতা যাতে কোনোভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিকে বাধাগ্রস্ত না করে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি রাজস্ব কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও স্বস্তি নিয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে সবার আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। প্রত্যেকটি মানুষের অবদানকে বর্তমান সরকার সম্মানের চোখে দেখে।’ গত কয়েক মাসের ইতিবাচক রাজস্ব আহরণের চিত্র উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা থাকলে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা অবশ্যই সম্ভব হবে।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের শুরু হয়। এর পর চলে রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ ফটোসেশনে অংশ নেন এবং ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত বিভিন্ন বিভাগের তথ্যমূলক উপস্থাপনা ঘুরে দেখেন।
দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলকে অধিকতর সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও গতিশীল করতে এক বৈপ্লবিক উদ্যোগের শুভ সূচনা হয়েছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষে এই মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রধান মহাসড়ককে এই স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।
মহাসড়কে যেকোনো প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে চাঁদাবাজির ঘটনা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারও পক্ষ থেকে ঘটলেও তা সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হবে।’ প্রযুক্তির এই নজরদারির ফলে অপরাধের প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় মহাসড়ককে পুরোপুরি চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে স্থানীয় প্রয়োজনে ফিডার রোড ব্যবহার ও জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করতে তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।
প্রকল্পের কারিগরি দিক সম্পর্কে জানানো হয় যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে ইতোমধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো আইন ভঙ্গের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করতে সক্ষম। আইন অমান্যকারী কোনো যানবাহন শনাক্ত হওয়া মাত্রই তার তথ্য বিআরটিএ-র ডেটাবেজের মাধ্যমে যাচাই করে নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জরিমানার খবর পৌঁছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে মালিকরা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ঘরে বসেই সেই জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন। একই যানবাহনের বারবার আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অ্যাডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আধুনিক ব্যবস্থা মামলা পরিচালনায় সময় সাশ্রয় করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগের কথা ভাবছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই চেয়ারম্যান শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। এ কারণে তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছেন।
তবে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপনও জারি হয়নি বলে জানান পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক।
২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তৎকালীন পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ পিএসসির ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
দুই দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি কাতারের উদ্দেশে রওনা হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সঙ্গী হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এই সফরের মাধ্যমে কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
আগামীকাল ১৯ আগস্ট রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশটির সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে দেশের অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে, তবে উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরিহার্য খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে।’ তিনি মনে করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে যার যার নির্দিষ্ট দায়িত্ব সঠিকভাবে পালিত হলে দেশ এক ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ধারণা ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান মন্তব্য করেন, ‘রাজস্ব নিয়ে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করাই চ্যালেঞ্জ।’ দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া, অতীতে ফিরে যাওয়া নয়। সেজন্যই আমরা সকলকে নিয়ে সামনে বাড়তে চাই। আমাদেরকে যদি সামনে এগোতে হয় তাহলে আমাদেরকে সকলকে একত্রিত কাজ করতে হবে, একত্রে যেতে হবে।’
উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ও কমিশনারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে মূলত রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, কর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং জাতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি গড়তে প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘ দিন মানবেতর জীবন কাটানোর পর আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় বেনগাজীর গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে তাঁদের মানবিক ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন করা হয়। ভোর ৬টায় লিবিয়ার বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রত্যাবাসনকৃতদের মধ্যে ৩ জন নারী, ১ জন শিশু এবং ১৫ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই বাংলাদেশিরা দালালের প্রলোভনে পড়ে উন্নত জীবনের আশায় অনিয়মিত পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সমুদ্রপথে কোস্ট গার্ডের অভিযানে তাঁরা আটক হন এবং পরবর্তীতে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি অবস্থায় ছিলেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে যে, লিবিয়ার প্রশাসন ও আইওএম-এর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দি বাংলাদেশিদের পরিচয় যাচাই ও দেশে ফেরানোর কাজ নিয়মিতভাবে চলছে। বর্তমানে বেনগাজীর গ্যানফুদা ছাড়াও ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবশিষ্ট বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই মাসের শুরুর দিকে গত ৭ আগস্ট আরও ৩৪০ জন বাংলাদেশি একইভাবে লিবিয়া থেকে ফিরে এসেছিলেন। ফলে চলতি আগস্ট মাসেই এখন পর্যন্ত মোট ৫১৪ জন বন্দি নাগরিককে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দূতাবাস পুনরায় সকলকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মানবপাচারকারী বা দালালদের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যাত্রা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বরং বৈধ পথে এবং সরকারি অনুমোদিত পন্থায় কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ফিরে আসা এই নাগরিকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নিজ নিজ এলাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৩ সালের পর এটি এনবিআরের দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত বৃহৎ পরিসরের রাজস্ব সম্মেলন।
এবারের সম্মেলনে এনবিআরের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সদস্য, কমিশনার, মহাপরিচালকসহ কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনের কার্যক্রম নিশ্ছিদ্র করতে এবং সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই সম্মেলনস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য আগের দিনই এক বিশেষ অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। এনবিআরের প্রথম সচিব (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) এএম নুরুল হক স্বাক্ষরিত এই আদেশ অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
সরকার গঠনের পর এনবিআরের বিশাল কর্মীবাহিনীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সরাসরি মতবিনিময়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন থেকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজস্ব আদায়ের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, করের আওতা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর ফাঁকি রোধের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারেন। জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে এই সম্মেলনটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীরা চাইলে তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর কমিশন রাষ্ট্রপতি পদের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, যদি একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে বহাল থাকেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ব্যালটে স্বাক্ষর করে নির্ধারিত বাক্সে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মূলত দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করা হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর এই শীর্ষ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সচিবালয় থেকে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিশৃঙ্খলার মাঝে বর্তমান সরকারের ছয় মাস (১৮০ দিন) পূর্ণ করে দেশ পরিচালনা করতে পারাই একটি বড় সফলতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আজকে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হলো। বিগত সরকার যে জঞ্জাল ও ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে রেখে গিয়েছিল, সেই পরিস্থিতির মধ্যেও বর্তমান সরকার যে স্বাভাবিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারছে- এটাই আমাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধাননমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন,সহকারি প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিনিয়ত দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের ৫ বছর মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিন ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল পরিষ্কার করার পর্ব, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ও সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে লাখো-কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল জনগণের সেই ক্ষোভের বিপরীতে ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের রূপকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন, তা ছিল জনগণের আরেকটি শক্ত প্রতীকী বার্তা। অর্থাৎ ৫ আগস্টের ক্ষোভ, ২৫ ডিসেম্বরের ভালোবাসা-আস্থা এবং ৩১ ডিসেম্বরের শ্রদ্ধা ও সংহতি-এই তিনটি ঘটনাই আজকের বাংলাদেশ পরিচালনায় আমাদের মূল অনুপ্রেরণা।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের অপহৃত ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়েই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে এসে কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
নতুন ভবন নির্মাণের উপমা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিষ্কার করা আবশ্যক। ঠিক একইভাবে বিগত শাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া যায়।’
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পূর্ণ উপযোগী করে তোলা। প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথ সুগম করাই ছিল এই পর্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত দলীয় ইশতেহার ও পরিকল্পনার কতটুকু এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে, তার ধারাবাহিক চিত্র প্রতিনিয়ত জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক পুনর্গঠনের এই কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার সফল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিং শেষে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের সার্বিক কর্মকাণ্ড, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ এই আমন্ত্রণপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করার নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলছে। দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর পরিধি বাড়ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্ট মাসেও সৌদি আরব বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ এবং আরও দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের শুরুটা কিছুটা বিলম্বিত হলেও ১৯৭৫ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। হজ, ধর্মীয় যোগাযোগ ও জনশক্তি রপ্তানির মধ্য দিয়ে সম্পর্কের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় প্রসারিত হয়েছে।
সৌদি আরব বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলোর একটি। দেশটিতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি প্রধান উৎস। একই সঙ্গে সৌদি আরব বাংলাদেশের প্রধান হজ গন্তব্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগও অত্যন্ত সুদৃঢ়। ফলে রিয়াদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।