সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

বাংলা ব্লকেড: ঢাকাসহ সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৪ ১৭:১৩

রাজধানীর কারওয়ান বাজার লেভেল ক্রসিং ও মহাখালী লেভেল ক্রসিংয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলন করায় ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে সারা দেশে আজ বুধবার ‘বাংলা ব্লকেড’র অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রেল লাইনে লগ বসিয়ে লেভেলক্রসিং অবরোধ করেন।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস জানান, বেলা ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারসংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রেন চলাচলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালে হাইকোর্টের আগের আদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা প্রসঙ্গে এক বেসরকারি বিশ্বাবদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোটা পদ্ধতির সংস্কার করতে হবে এবং তা না করা পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী কারওয়ানবাজার এফডিসি পয়েন্ট সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

এদিকে মহাখালী, আমতলী, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও মেরুল বাড্ডায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে দেখা গেছে। রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় যাত্রীদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

কোটা সংস্কারকারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের সময় রেলওয়ে ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।


বাংলাদেশিদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র এবার জানিয়েছে, ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) ভিসা দেওয়া হবে।

সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা বন্ড কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য হবে, সেগুলো হলো—

ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে

ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন

সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে

নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে

ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)

জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)

ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)

নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে— আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে বলা হয়।

উল্লেখ্য, অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।


ভারতীয় করের বোঝাও বাংলাদেশের ওপর!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশকে বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দাম দিতে হচ্ছে বলে সরকারের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা এই বিদ্যুতের দাম নিকটতম বেসরকারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে। ন্যাশনাল রিভিউ কমিটি (এনআরসি) তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, এই প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির হার ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির অন্যান্য চুক্তির তুলনায় সর্বোচ্চ। কমিটির মতে, এ ধরনের চরম মূল্য বৈষম্য মূলত ‘চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ফল’ এবং পুরো চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ‘গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ যে হারে মূল্য পরিশোধ করছে, তা বাস্তবসম্মত দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ আমদানির এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে এনআরসি। সাধারণত স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ দেশের করপোরেট কর নিজেরাই বহন করার নিয়ম থাকলেও আদানির ক্ষেত্রে সেই দায় বাংলাদেশের ওপর চাপানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টে প্রচলিত এই রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভারতীয় করপোরেট করের উপাদানটি বাংলাদেশে চার্জ করা হয়েছে, যা এই চুক্তির অত্যন্ত বিতর্কিত একটি দিক। এছাড়া বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশের বেশি জোগান দেওয়া এই কেন্দ্রটি ‘অতিরিক্ত দামে’ কয়লা ব্যবহার করছে বলেও কমিটি তাদের পর্যালোচনায় জানিয়েছে।

বিদ্যমান এই সংকট নিরসনে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো পুনরায় পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ‘সবচেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিকর শর্তগুলো পুনরায় আলোচনার সুযোগ’ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, আদানি পাওয়ার এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দাবি করেছে যে, কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি কিংবা প্রতিবেদনের কোনো অনুলিপিও প্রদান করেনি। তবে বড় অংকের বকেয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে। বকেয়া পরিশোধের তাগিদ দিয়ে তারা বলেছে, ‘আমাদের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। তাই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত আমাদের বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানাচ্ছি।’ গত ২০ জানুয়ারি প্রস্তুতকৃত এনআরসি-র এই শ্বেতপত্রটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।


ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও জনঅধিকার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারে ‘ইনসাফ মঞ্চ’র আত্মপ্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনসাফ মঞ্চ’। সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন মঞ্চের ঘোষণা দেন এই প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল।

সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ এক গভীর ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে জনগণের সার্বভৌমত্ব, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও মৌলিক অধিকার নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এমতাবস্থায় হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনা ও জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যেই মূলত ইনসাফ মঞ্চ গঠিত হয়েছে।

এই প্ল্যাটফর্মের প্রধান লক্ষ্য হলো— ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলা।’ ইনসাফ মঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক জোটের বিকল্প হতে চায় না, বরং বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এবং নৈতিক রাজনীতি ও ভোটাধিকার রক্ষায় এটি একটি স্বতন্ত্র ও নির্বাচনকালীন ঐক্য হিসেবে সক্রিয় থাকবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে নিবন্ধিত দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে এই মঞ্চের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের নেতৃবৃন্দের মতে, ‘নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সাংবিধানিক মাধ্যম।’

একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত এই মঞ্চের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও নৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকবেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল। সৎ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থী উপস্থাপন, ডিজিটাল ও প্রথাগত মাধ্যমে সমান সুযোগভিত্তিক নির্বাচনী সহায়তা প্রদান এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ অনুসরণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে এই নতুন জোটের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে বাজার সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও বেকারত্বের মতো জনদুর্ভোগের কারণগুলোর পাশাপাশি যেকোনো আধিপত্যবাদী প্রভাবের বিরুদ্ধে জনগণের স্বার্থে সোচ্চার হওয়ার ঘোষণাও এসেছে।

মঞ্চের প্রতিটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, ইনসাফ মঞ্চ কোনো সহিংসতা, অনৈতিক আচরণ বা অবৈধ রাজনীতির দায়ভার গ্রহণ করবে না। বিভাজনের বদলে ঐক্যের রাজনীতি এবং ব্যক্তিপূজা পরিহার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল দর্শন। মঞ্চের ভাষায়, ‘শুধু ভোটাধিকার নয়, মানুষের সার্বিক অধিকারের ইনসাফ নিশ্চিত করাই মঞ্চের লক্ষ্য।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে শামীম কামালের পাশাপাশি সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের চেয়ারম্যান গাজী মুস্তাফিজ, গণমুক্তি জোটের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়ার ইফতেখার, শিক্ষাবিদ মোমেনা খাতুন এবং গণ আজাদী লীগের চেয়ারম্যান আতাউল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


‘থ্রি জিরো’ উদ্যোগের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপের উপর শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি টিআইবির

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের ঘোষিত ‘থ্রি জিরো’ অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ উদ্যোগের অগ্রগতি ও জাতীয় পর্যায়ে এর বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারের এই দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের যে মজবুত ভিত্তি বর্তমান সরকারের গড়ার সুযোগ ছিল, তাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি পথরেখা হতে পারত। সরকারের এই ব্যর্থতা ও উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উত্তরণের ভিত্তি তৈরিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। যা পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। কেন তা হলো না, এই প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে জাতীয় নিরাপত্তার সংকটের সঙ্গে তুলনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এমন অবহেলা আশা করা যায় না, কারণ এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের বিষয়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন তারা আদৌ কার্বন-দূষণজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এদেশের জনগণের অস্তিত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভেবেছেন কী-না?’ টিআইবির অভিযোগ, অংশীজনদের সম্পৃক্ত না করেই জ্বালানি খাতের যে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে, তাতে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতির মতো সুশাসনের ঘাটতিগুলো আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি-সহায়ক এই নীতিগুলো দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বাস্তবতায় টিআইবি এবং মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সমমনা নাগরিক সংগঠনগুলো আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে খসড়া “এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৫” সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জ্বালানি নীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই মানববন্ধনে ধারণাপত্র পাঠ করেন টিআইবির এনার্জি গভর্নেন্স বিভাগের সহসমন্বয়ক আশনা ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমন্বয়ক নেওয়াজুল মওলা।

পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের এই দাবিতে ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ, বাপা, সিপিডি, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও বেলাসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সংহতি প্রকাশ করে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে গত বছর থেকে টিআইবি আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস উদযাপন শুরু করে। এ বছরও দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী ৪৫টি জেলায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের মাধ্যমে মানববন্ধন, পথসভা ও প্রচারণাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়ন করা।


তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ৫৩২ নগর কেন্দ্রে সরকারের ‘হিট অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবে ক্রমবর্ধনশীল তাপপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সবকটি নগর কেন্দ্রকে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযোজন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে আয়োজিত ‘হিট-হেলথ অ্যাডাপটেশন প্ল্যান’ প্রণয়ন সংক্রান্ত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং উপজেলা ও জেলা সদরসহ মোট ৫৩২টি নগর এলাকায় জলবায়ু ও হিটওয়েভ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একাডেমিক গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি সভায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উচ্চমাত্রার ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে সচিব বলেন যে, ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট ইনডেক্স ২০২৩’ অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ নবম স্থানে রয়েছে। অথচ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, বাংলাদেশ কোনো বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ না হয়েও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ভুক্তভোগী হওয়ায় নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুদূরপ্রসারী অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

৫৩২টি নগর কেন্দ্র ও বাজেট বরাদ্দ

সচিব জানান, দেশে বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং উপজেলা ও জেলা সদর মিলিয়ে মোট ৫৩২টি নগর কেন্দ্র রয়েছে। আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন বা হিট অ্যাডাপ্টেশন সরাসরি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এখন সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মূল পরিকল্পনায় যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে সরকার একটি ‘ভালনারেবিলিটি ইনডেক্স’ তৈরি করেছে। ফিজিক্যাল এক্সপোজার, সামাজিক সংবেদনশীলতা এবং অভিযোজন সক্ষমতা— এই তিন সূচকের ভিত্তিতে কোন অঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে।

গবেষণাকে নীতিমালায় রূপান্তরের তাগিদ

গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার সচিব বলেন, গবেষণার ফল এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তা সহজেই সরকারি নীতিমালায় রূপান্তর করা যায়। তিনি বলেন, জাতীয় নগর নীতি ২০২৫ এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নগর স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তিনি জানান, ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, যেখানে হিট অ্যাডাপ্টেশনের জন্য প্রায় ২৩ কোটি ডলারের একটি নীতিগত ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপকূলীয় ও বরেন্দ্র অঞ্চলের সংকট

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ ঝুঁকির দিকগুলো তুলে ধরে সচিব বলেন, সাতক্ষীরাসহ ১৯টি উপকূলীয় জেলার ১৭২টি পৌরসভায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারীদের স্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। এসব সংকট মোকাবিলায় বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

নারী উদ্যোক্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

নারী ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে সরকারের একটি নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সচিব। তিনি জানান, দেশে প্রথমবারের মতো স্যানিটেশন খাতে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর আওতায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে স্যানিটারি পণ্য উৎপাদন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ নারীরাই পরিচালনা করবেন।

এছাড়া জলবায়ু প্রশমনে সরকারি অফিসগুলোতে ছাদের সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার সচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কেবল পাঠ্যজ্ঞান নয়, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও স্টার্টআপ গড়ে তোলাও জরুরি। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভেঞ্চার তৈরিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে, যাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে টেকসই ও সাশ্রয়ী সমাধান বের করা যায়।

তিনি আরও বলেন, একাডেমিয়া, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


জোড়া হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৪১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম জুলাই আন্দোলনের সময় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন ও সিএনজি অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যার ঘটনায় দাখিলকৃত দুটি পৃথক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই দুই ঘটনায় সর্বমোট ৬৪ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নিয়েছে আদালত।

ট্রাকচালক হোসেন হত্যার ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রীনা বেগম বাদী হয়ে গত ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এই মামলায় বর্তমানে ২০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন এবং আরও ১০ জন জামিনে মুক্ত আছেন।

আদালত যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন, তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।

অন্যদিকে, সিএনজি চালক সবুজ হত্যার সূত্র ধরে জানা গেছে, ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় সবুজের ভাই মনির হোসেন ১ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ২১ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে এই মামলার তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং ছয়জন জামিনে আছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত এই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পলাতক ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে আদালত এই কঠোর আদেশ প্রদান করেছেন।


বিজিবির অভিযানে ২০২৫ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিগত ২০২৫ সালে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বছরের প্রথম দিন থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে সংস্থাটি সর্বমোট ১,৯০৮ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত এই বিশাল অংকের মালামালের মধ্যে মূল্যবান ধাতু থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মাদকদ্রব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৬০ কেজি ৫৫৬ গ্রাম স্বর্ণ, ১৬৮ কেজি ২৪১ গ্রাম রৌপ্য, ১,৭১,১৯০টি শাড়ি, ১,২৬,৭৭৯টি থ্রিপিস বা কম্বল জাতীয় পোশাক এবং ১,৩৩,৩৩৮টি তৈরী পোশাক। এছাড়া ৬৮,৭৬,৬১১টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ২,০৭,৪৬,১৪৪টি আতশবাজী, ১১,৬৫,৪৮৯ কেজি চিনি এবং ৩,০৫,৪৩৮ কেজি পিঁয়াজসহ বিপুল পরিমাণ জিরা, রসুন ও কয়লা উদ্ধার করা হয়েছে। বনজ সম্পদ রক্ষায় অভিযানে ১,৪০,২৭৪ ঘনফুট কাঠ এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে ১,৭০৮টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহনও বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে।

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি গত বছর মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারেও বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে। বছরব্যাপী অভিযানে ৬৪টি পিস্তল, ২টি এসএমজি, ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১০টি রাইফেল এবং ৩টি রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১,৫০৯টি গোলাবারুদ, ৫৭টি ম্যাগাজিন, ৮টি মর্টার শেল, ৭৩,১০০টি সীসার গুলি এবং ২০.০৫ কেজি গান পাউডার জব্দ করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্যের মধ্যে ৪টি মাইন, ৭৯টি হাত বোমা, ৪০টি পেট্রাল বোম এবং ১৭৮টি ককটেল উদ্ধার করার মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানেও বিজিবির অর্জন উল্লেখযোগ্য। গত এক বছরে ১,৪৭,১৪,২৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ৪০৮ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১,৩৩,৩৯৬ বোতল ফেনসিডিল এবং ১,৩০,৫৪৬ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২২,১৩৭ কেজি গাঁজা, ৫৫ কেজি ৬৩৬ গ্রাম হেরোইন এবং ১৩ কেজি ৬৪৭ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় ১,১৪,৫৮,৬৯৩টি বিভিন্ন প্রকার ঔষধ এবং ৬,৯৪,০৮২টি নেশা জাতীয় ও উত্তেজক ইনজেকশন উদ্ধার করেছে বিজিবি।

অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল মালামাল জব্দ নয়, বরং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেও বিজিবি ছিল আপসহীন। মাদক পাচার ও চোরাচালানে জড়িত থাকার দায়ে ২০২৫ সালে ২,৩৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪,২৩৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক, ১২৪ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৭,৩৬৮ জন মায়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।


কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এ নীতিমালায় প্যারোলে মুক্তির শর্ত, সময়সীমা ও কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা স্পষ্ট করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সরকার কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নিম্নরূপভাবে নীতিমালা প্রণয়ন করলো উল্লেখ করে বলা হয়,

(ক) সাধারণ নীতিমালা:

১. (ক) ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;

(খ) ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াও কোনো আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্যারোলে মুক্তির দেওয়া প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;

উভয়ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন।

২. সেক্ষেত্রে বন্দি সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরাধীনে রাখতে হবে।

৩. মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার অধিক হবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার মুক্তির সময়সীমা হ্রাস/বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।

  1. কোনো বন্দি জেলার কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে ঐ জেলার অভ্যন্তরে যে কোনো স্থানে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।

অপরদিকে, কোনো বন্দি নিজ জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক না থেকে অন্য জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। তবে উভয়ক্ষেত্রেই দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর কিংবা না-মঞ্জুরের ক্ষমতা সংরক্ষন করবেন।

৫. কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে বুঝে নেবার পর অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করবেন।

(খ) প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

(গ) পূর্বে জারীকৃত নীতিমালা বাতিল:

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর কারা শাখা-২ হতে গত ২২-০৯-২০০৭ খ্রি. তারিখে স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮ এবং ০৪-০৩-২০১০ খ্রি. তারিখে স্ব: ম: (কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭নম্বর স্মারকমূলে জারিকৃত নীতিমালা বাতিল করা হলো।

২। বর্ণিতাবস্থায়, বর্তমান নীতিমালাটি অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।


রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উল্লেখযোগ্য সংস্কার কার্যক্রম

আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের রাজস্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব করতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানিয়েছে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ডিজিটালকরণ এবং করের আওতা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় গৃহীত এসব উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) এনবিআর ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেশি।

কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কার

এনবিআরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এনে 'রাজস্ব নীতি' ও 'রাজস্ব ব্যবস্থাপনা' কার্যক্রমকে পৃথক করতে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে, যা এনবিআরের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক। এছাড়া রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ১০ বছর মেয়াদি একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব কৌশল (MLTRS) গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনবিআরের সম্পূর্ণ কার্যক্রমকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে ‘SDRMP’ প্রকল্প শুরু হয়েছে।

কর অব্যাহতিতে স্বচ্ছতা ও আইনি আধুনিকায়ন

সরকার কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা সীমিত করে সংসদের ওপর ন্যস্ত করেছে। এখন থেকে সংসদের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর অব্যাহতি দেয়া যাবে না। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আইনের ‘অথেন্টিক ইংলিশ টেক্সট’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইনি অস্পষ্টতা দূর করবে। পাশাপাশি কর সচেতনতা বাড়াতে ও করদাতাদের পেশাদার সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন ১৩ হাজার ৫০০ জনকে ‘ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার’ (ITP) সনদ প্রদান করা হয়েছে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ও ট্রেড ফেসিলিটেশন

আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদি এখন ‘A Challan’ এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ এর মাধ্যমে কোনো ফি ছাড়াই কর পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যা সরাসরি শোনার জন্য এনবিআর প্রতি মাসে অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনবিআরে সার্বক্ষণিক ‘সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার’ (SOC) স্থাপন করা হয়েছে।

জনস্বার্থে কর ছাড় ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং ধর্মীয় আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর আবগারী শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রো রেলের সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল, ডাল, চিনি, ডিম, ভোজ্যতেল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এমনকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি অবিক্রিত গাড়ি জনস্বার্থে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্যাগেজ রুলস ও মোবাইল ফোনের দাম হ্রাস

যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন ‘ব্যাগেজ রুলস ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ যাত্রীরা বছরে একটি এবং প্রবাসীরা (BMET কার্ডধারী) বছরে দুটি নতুন মোবাইল ফোন শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনতে পারবেন। এছাড়া মোবাইল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% করায় বাজারে মোবাইলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভ্যাট ও আয়কর খাতে ডিজিটালাইজেশন

ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে ‘অনলাইন রিফান্ড মডিউল’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রিফান্ডের টাকা সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। গত ডিসেম্বর মাসে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৭ লক্ষ ৭৫ হাজারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, আয়কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এ বছর অধিকাংশ করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৪ লক্ষাধিক ই-রিটার্ন জমা পড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্টের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রবাসী রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অডিট নির্বাচন পদ্ধতিতে মানুষের হস্তক্ষেপ কমাতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড এবং রিস্ক-বেসড অডিট সিলেকশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা

‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো’ (BSW) চালুর মাধ্যমে ১৯টি সংস্থার লাইসেন্স ও পারমিট এখন অনলাইনেই পাওয়া যাচ্ছে। বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের তথ্য সংরক্ষণে বেনাপোল বন্দরে ‘ট্রাক মুভমেন্ট’ মডিউল পাইলটিং শুরু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ৬ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার দ্রুত নিলামে বিক্রির বিশেষ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ শতাধিক কন্টেইনার ইতোমধ্যে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

সারগ্রাহীতায়, নীতি সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে নির্বাহী আদেশে এই সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস’-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, সংস্থা এবং সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। মূলত নাগরিকদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজতর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ছুটির এই ঘোষণার ফলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘ অবসরের সুযোগ পাচ্ছেন। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চার দিন ছুটি উপভোগ করবেন। অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ ছুটি শুরু হওয়ায় তাঁরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিন কর্মবিরতি পাবেন।


হাইকোর্টে জামিন পেলেন স্ত্রী ও সন্তান হারানো সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতিদের একটি ফৌজদারি বেঞ্চ মানবিক দিক বিবেচনায় তার এই জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালতে সাদ্দামের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি শুনানিকালে মক্কেলের চরম পারিবারিক বিপর্যয়ের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। পরে আইনজীবী নিশ্চিত করেন যে, আদালত সার্বিক পরিস্থিতি ও মানবিক বিপর্যয় বিবেচনা করে সাদ্দামকে এই জামিন প্রদান করেছেন।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন এবং এরপর থেকে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশেই তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, স্বামী কারাগারে থাকায় সৃষ্ট বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন।

পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির পর গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকা। আইনি জটিলতায় প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য প্রিয়জনদের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান বন্দি সাদ্দাম। প্যারোল না দেওয়ায় এবং এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে তাকে মুক্তি না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে হাইকোর্টের আদেশে তিনি সাময়িক মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।


বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল দক্ষিন এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’। রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্বকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই মেগা প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা এই উদ্যোগকে কেবল একটি হাসপাতাল নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক চিকিৎসা কেন্দ্র বা ‘রিজিওনাল হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গৃহীত এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাকি অংশের বিশাল অর্থায়ন আসবে চীনা সরকারের অনুদান সহায়তা হিসেবে। উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে চীন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল স্থাপনের ব্যক্তিগত অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেইজিং দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প গ্রহণে সম্মতি জানায়।

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি অত্যাধুনিক ১০ তলা মূল হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। রোগীদের সুবিধার্থে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি এখানে নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির মতো জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ থাকবে। এছাড়া আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যা বর্তমানে ওই অঞ্চলের জেলা হাসপাতালগুলোতে অনুপস্থিত। অবকাঠামোগত সুবিধার মধ্যে আরও থাকছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক ডরমেটরি, ১০ তলা বিশিষ্ট ডক্টরস কোয়ার্টার, ডিরেক্টরস বাংলো এবং কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন।

একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ঢাকা ও রংপুর কেন্দ্রিক হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি। নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, বরং নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশের রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মৈত্রী আরও সুদৃঢ় হবে।

বর্তমানে নীলফামারী ও আশপাশের জেলায় প্রায় ২১ লক্ষ মানুষের বসবাস, অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শয্যা ও বিশেষজ্ঞ সেবার তীব্র সংকট রয়েছে। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল বা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়, যা দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হলে রাজস্ব খাতে প্রায় ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১,১৯৭ জন নার্স এবং ১,৪১০ জন অন্যান্য জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।


নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শঙ্কামুক্ত ও সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

সোমবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। সভার শুরুতেই ড. ইউনূস দেশের ক্রান্তিলগ্নে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের ত্যাগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিবিধ চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোটের মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে বাহিনীর সদস্যদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।


banner close