বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশ বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশদারিত্বে’ উন্নীত হতে ২১টি দলিল সই করেছে। যার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন এবং সাতটি প্রকল্পের ঘোষণা রয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে দলিলগুলো সই হয়।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু, ব্যবসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।
অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, ষষ্ঠ ও নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে চুক্তি সই হয়।
দলিলগুলো হলো
১. ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই।
২. চায়না ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএফআরএ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংকিং এবং বীমা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই।
৩. বাংলাদেশ থেকে চীনে তাজা আম রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত (ফাইটোস্যানিটারি) উপকরণ বিষয়ে একটি প্রটোকল সই।
৪. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি সহায়তা ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
৫. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
৬. বাংলাদেশে প্রকল্পে চায়না-এইড ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের ‘সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ বিষয়ে আলোচনার একটি সাইনিং অব মিনিটস (কার্যবিবরণী) সই।
৭. চীনের সহায়তায় ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চায়না মৈত্রী সেতু সংস্কার প্রকল্পের চিঠি বিনিময়।
৮. নাটেশ্বর প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা পার্ক প্রকল্পে চায়না-এইড কনস্ট্রাকশনের সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা বিষয়ে চিঠি বিনিময়।
৯. চীনের সহায়তায় নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্প বিষয়ে চিঠি বিনিময়।
১০. মেডিকেল সেবা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১১. অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১২. গ্রিন অ্যান্ড লো-কার্বন উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১৩. বন্যার মৌসুমে ইয়ালুজাংবু (ব্রহ্মপুত্র) নদীর হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বাংলাদেশ দেওয়ার বিধিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক নবায়ন।
১৪. চীনের জাতীয় বেতার ও টেলিভিশন প্রশাসন এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর।
১৫. চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই।
১৬. চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) ও বিটিভির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই।
১৭. সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও বিটিভির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই।
১৮. চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং বাংলদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এর স্মারক সই।
১৯. অপর আরেকটি দলিল সই করে সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
২০. একটি সমঝোতা স্মারক নবায়ন করে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২১. টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
সাতটি ঘোষণাপত্র
১. চীন-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সমাপ্তি ঘোষণা।
২. চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি ত্বরান্বিতকরণ নিয়ে আলোচনা শুরুর ঘোষণা।
৩. ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণের সমাপ্তির ঘোষণা।
৪. ডাবল পাইপ লাইন প্রকল্পের সঙ্গে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং এর ট্রায়াল রান সমাপ্তির ঘোষণা।
৫. রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর ঘোষণা।
৬. শানদং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
৭. বাংলাদেশে লুবান ওয়ার্কশপ নির্মাণের ঘোষণা।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার (১০ জুলাই) সকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।
দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি ও নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
বিসিআইসি জানিয়েছে, বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া দুইটি নন-ইউরিয়া কারখানা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।
বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা, ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় সরকার নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা
দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি বাস্তবায়নের পর উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারখানাটি স্থাপিত হলে দেশের ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’
চট্টগ্রামে বছরে চার লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ
ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’
পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা
নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা
নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ পর্বে ও উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি এ সময়ের ব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করবে তারা।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে হামের টিকা কেনা ও বিতরণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে কমিশন। তদন্ত শেষে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।
টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান: কমিশনের মূল কাজ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করা। টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোথাও ব্যর্থতা ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব কী ছিল, তা চিহ্নিত করবে কমিশন।
টিকা কেনার উদ্যোগ, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে তা বিতরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।
বাংলাদেশ একসময় হামের টিকাদানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।
২০১০ সালের ফলোআপ ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১ কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যও পূরণ হয়। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি ৫ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় টিকাদানের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
পরবর্তী বছরগুলোতেও টিকাদানের কভারেজ ধারাবাহিকভাবে ১০০ শতাংশ কিংবা তার বেশি ছিল। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হামের টিকাদানের হার হঠাৎ কমে ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকার স্বল্পতা দেখা দেয়।
ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে ইউনিসেফ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে ভ্যাকসিন সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হবে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
তিনি জানান, ইউনিসেফ একাধিক বৈঠক করেছে, প্রতিটি বৈঠকের পর সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে এবং সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সংকট, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
অর্থাৎ, টিকা সংকটের ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্কবার্তা ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই সতর্কবার্তার প্রতি যথাসময়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কি না।
টিকা সংকটের সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবের সম্পর্ক: বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। গত আড়াই দশকে দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর সংক্রমণের সংখ্যা কমতে থাকে।
২০২৫ সালে দেশে মাত্র ১৩২ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরে, অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। ওই সময়ে হামে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না।
তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানের স্বল্পতা এবার হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ।
গত ২০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা সংকটের কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। এ ছাড়া ১০টি সভায় সরকারের কর্মকর্তাদের একই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।
ইউনিসেফের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ মাস বয়সী শিশু মাহাজবির মৃত্যু হয়। তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলেও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, নজরদারি ও গণটিকাদান কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। পরবর্তীকালে বর্তমান সরকার জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি চালু করে।
এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। অথচ একই বয়সি শিশুদের জন্য ২৮ জুন পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে অংশ নেয় ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি শিশু। অর্থাৎ, দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুর সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখের ব্যবধান রয়েছে।
এ ব্যবধানের কারণে দেশে এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু হামের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গণটিকাদানের দুই মাসেরও বেশি সময় পরও প্রতিদিন নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও পুরোপুরি থামেনি। এ পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা, সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব তদন্তের আওতায়: হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা কমিশনের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কমিশন গঠন করা হয়েছে। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল প্রথম আলো প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই দশকের মধ্যে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং বেশি মৃত্যুহারের তথ্য উঠে আসে।
এ ছাড়া ১৩ জুলাই প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদনে হামে সাড়ে সাতশ শিশুর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমে বিলম্বের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে কমিশন।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে টিকা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নিশ্চিত করা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা: তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন দেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাও থাকবে তাদের।
টিকা কেনা, সরবরাহ ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারবে কমিশন। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার সুযোগ থাকবে তাদের।
কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সাচিবিক সহায়তা দেবে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে এ বিভাগ।
ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধে সুপারিশ: তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করাও কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব।
টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমের সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়গুলোও সুপারিশে গুরুত্ব পেতে পারে।
কমিশনকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশের মাধ্যমে টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত আট মাসে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। তারপরও চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকে বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী বছরের গ্রীষ্ম শুরুর আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রকট হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত আট মাসেই এ খাতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় সরকার।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সভায় উপস্থিত সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা সহজ হবে, অন্যদিকে কৃষিনির্ভন অর্থনীতির অগ্রগতিও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু যারা অতীতে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, তারা উন্নয়নপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। শিল্পকারখানা ও শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৪ সালের মতো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি: কাটাখালী মোড়ের পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিরা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মিল-কারখানা ধ্বংসের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের জীবিকার উৎস। এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক, তাদের সন্তান ও পরিবার। তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেব। আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ জবাব দেব। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
দুই-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন মজুরি: শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের দাবিদাওয়া বিবেচনায় সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে। একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্ধ মিল-কারখানা চালু এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।
গতকাল সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এ সময় বন্দরপ্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল ও প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অগ্নিনিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী বাংলাদেশ: কাটাখালী মোড়ে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
বিকেল পৌনে ৪টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় দ্বিতীয় আসরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’
তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’
১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে সারাদেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।
বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।’
তিনি বলেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় আসরের চূড়ান্ত পর্ব আগামী জুনে হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ জাতীয় ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও দেখেন তিনি। গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
খুলনা সফর শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান। সেখানে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান তিনি। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি নিয়ে সারা বিশ্বেই টালমাটাল অবস্থা। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিগত ছয় মাসে জ্বালানি খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। এই কারণে দেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’
বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বিকালে নাটোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয় সংক্রান্ত সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
সোলার প্যানেলের জন্য আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘যেন কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া যায়, যেখানে কৃষি জমি আছে সেখানে সোলার দিয়ে সেচ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, আগামী মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচে যাতে অসুবিধা না হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরে গ্যাস ফিল্ডগুলো খনন করছি। খনন করে পজিটিভ দুইটা রেজাল্ট এসেছে। এই গ্যাসগুলো যদি উত্তোলন করা হয় তাহলে নাটোরে অবশ্যই সুষমভাবে শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস বিতরণ করা হবে।’
দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সন্তানের জন্য অভিভাবকদের বাড়ি থেকেই কাজ করতে হবে। থানার ওসিদের এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসমা খাতুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন।
আগামী বিজয় দিবস ও জয়ের মাস ডিসেম্বর থেকেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ফ্রি অব কস্ট) কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে রিক্রুটিং এম্বাসি ও এজেন্সিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, প্রথম কয়েকটি ফ্লাইটে নির্বাচিত কর্মীদের থেকে ‘নট এ সিঙ্গেল অ্যামাউন্ট’ অর্থাৎ কোনো ধরনের অর্থ নেওয়া হবে না। এমনকি সরকারি সার্ভিস চার্জও মওকুফ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কর্মীরা অনলাইনে আবেদন করবেন এবং স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।
সরকারিভাবে বিনামূল্যে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কর্মী গমনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া বর্তমানে তালিকায় থাকা সীমিতসংখ্যক এজেন্সির বাইরে নিবন্ধিত সব বৈধ এজেন্সি যাতে সমানভাবে কর্মী পাঠানোর ব্যবসায় যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুনভাবে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হবে।
বিদেশে কর্মী প্রেরণে কোনো প্রতারণা বা ভোগান্তি যাতে না হয়, সেজন্য প্রতিটি ডিমান্ড লেটার সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্স মিনিস্ট্রি থেকে সত্যায়ন করার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া মেডিকেল ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ফিক্সড করা হয়েছে এবং দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত হাসপাতালগুলোকে বাদ দেওয়ার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গন্তব্য দেশে কর্মীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্ডিভিজুয়াল অঙ্গীকারনামা গ্রহণ এবং প্রবাসে বিশেষ সহায়ক সেল গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ পুলিশের ৭৮ পুলিশ পরিদর্শককে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদান করতে হবে। একইসঙ্গে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক ৬৭ জন, শহর ও যানবাহন শাখার ১০ জন এবং সশস্ত্র শাখার এক কর্মকর্তা রয়েছেন। পদোন্নতির পর তাদের চাকরি পুলিশ অধিদফতরে ন্যস্ত করা হয়েছে।
নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক থেকে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- মো. হাবিবুল্লাহ সরকার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা), মো. আহসান হাবিব (ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, নীলফামারী), মো. জামাল উদ্দিন (সিআইডি), মো. সাজ্জাদ হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), মো. হাছানুজ্জামান (মাগুরা জেলা), মো. মোক্তার হোসেন (হবিগঞ্জ জেলা), মো. শহীদ উল্লাহ (ডিএমপি, ঢাকা), মো. সাইফুল ইসলাম খান (ডিএমপি, ঢাকা), মো. মাহফুজুর রহমান (লক্ষ্মীপুর জেলা) ও মো. গোলাম মোস্তফা (এসপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়ি)।
এ ছাড়া পদোন্নতি পেয়েছেন- মোহাম্মদ ইয়াছিন (এসবি, ঢাকা), মো. মজিবুর রহমান (পিবিআই), আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল (পিবিআই), মো. আমান উল্লাহ (রাজশাহী রেঞ্জ অফিস), মোহাম্মদ ওবায়দুল হক (সিএমপি, চট্টগ্রাম), মো. বদরুল মামুন (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মামুন খান (কেএমপি, খুলনা), মো. আব্দুর রহিম মন্ডল (রংপুর জেলা), মোহা. শহিদুল ইসলাম (দিনাজপুর জেলা) ও মো. নঈম উদ্দিন (এসবি, ঢাকা)।
তালিকায় আরও রয়েছেন- মো. নজরুল ইসলাম (জামালপুর জেলা), মো. আনোয়ারুল কবির (এসআরইউ), মো. মাসুদুর রহমান (এসবি, ঢাকা), এস এম জাহাঙ্গীর আলম (ডিএমপি, ঢাকা), মো. কামরুজ্জামান (পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকা), কে এম ইনাম আহমেদ (সিআইডি), মো. ইসমাইল হোসেন শাহীন (পিটিসি, টাঙ্গাইল), শেখ বশির আহমেদ (ডিএমপি, ঢাকা), মো. আতিকুর রহমান (কুষ্টিয়া জেলা), মো. ওমর আলী (হবিগঞ্জ জেলা), মো. লুৎফর রহমান (খুলনা জেলা), পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান (ময়মনসিংহ জেলা), মো. আবদুর রহিম (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. নূরুন নবী সরকার (পিবিআই), মো. আব্দুল লতিফ (সাতক্ষীরা জেলা), এস এম আতাউর রহমান (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩), মো. জেহাদ হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), মো. দিদারুল আলম (এসবি, ঢাকা), মো. জয়নাল আবেদীন (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. আলমগীর হোসেন (ঢাকা জেলা) ও মো. জাহির হোসেন (এসবি, ঢাকা)। মো. সোহেল রেজা (এসবি, ঢাকা), মো. তরিকুল ইসলাম (সিআইডি থেকে প্রেষণে পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. শামীম আক্তার খান (এসবি, ঢাকা), এ কে এম আলীনূর হোসেন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা), মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন কাদরী (এসবি, ঢাকা), মো. মোবারক হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), খান মোহা. হাসান মোস্তফা (ময়মনসিংহ জেলা), মো. রেজাউল ইসলাম খান (জামালপুর জেলা), মো. সোহেল আহমেদ (নারায়ণগঞ্জ জেলা, প্রেষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা), মো. আনিছুর রহমান সরদার (রাজশাহী জেলা), মোহাম্মদ আলী হায়দার (এসবি), খান মো. শাহরিয়ার (পঞ্চগড় জেলা), মো. শফিকুল ইসলাম (সিআইডি), মো. গোলাম ফারুক (সিআইডি), মো. মাহাবুব আলম (পিটিসি, রংপুর), মো. সিরাজুল ইসলাম খান (এসবি), মো. অছিকুর রহিম ছিদ্দিক (সিআইডি), মো. আবুল কালাম আজাদ (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), শেখ ফারুকুজ্জামান (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মোহাম্মদ জাকের হোসাইন মাহমুদ (সিএমপি, চট্টগ্রাম), আরিফ ইফতেখার (চাঁদপুর জেলা), সরকার তোফায়েল আহমেদ (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা), মো. আক্তার হোসেন (ডিএমপি, ঢাকা), শাহানা বানু (এসবি), মোহতারেমা আশরাফী খানম (বিপিএ, সারদা, রাজশাহী) এবং মো. মনজুর কাদের মজুমদার (সিআইডি)।
অন্যদিকে, শহর ও যানবাহন শাখার পুলিশ পরিদর্শক থেকে এএসপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন- এ এন এম মাসুদ (নাটোর জেলা), মো. মোফাক-খারুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ জেলা), মো. এনামুল হক (কক্সবাজার জেলা), এস এম শহিদুর রহমান (টিডিএস, ঢাকা), মো. মুনজুরুল করিম (আরএমপি, রাজশাহী), মো. আলী আকবর হাওলাদার (পটুয়াখালী জেলা, সংযুক্ত পুলিশ টেলিকম সংস্থা), কাজী আজম মাহমুদ (ডিএমপি, ঢাকা), মোহাম্মদ কামরুল আলম (এসআরবি সদর দপ্তর, ঢাকা), মুহাম্মদ সুমন জাহিদ লোভেল (খাগড়াছড়ি জেলা) ও মো. আতিকুর রহমান (ডিএমপি, ঢাকা)।
এছাড়া সশস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার (ডিএমপি, ঢাকা) এএসপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ’ (আইসিএপিপি)-এর ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ‘দ্য শিলা সিউল’ হোটেলে আয়োজিত এই সম্মেলনে ক্ষমতাসীন মিনজু পার্টি ও বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রথম প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও আস্থার সংকট মোকাবিলায় গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, এটি জবাবদিহিতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার সামাজিক চুক্তি।’ ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আন্তর্জাতিক নীতি কোনো বৈষম্য ছাড়াই সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের দাবি জানান। এ ছাড়া তিনি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিন্ন কৌশলগত নীতিপত্র প্রণয়ন, জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইসিএপিপিকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আজ শুক্রবার পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে বাংলাদেশের বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
লংমার্চ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে সরকারই সবচেয়ে বড় লংমার্চের আয়োজন করত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘লংমার্চ কিংবা ফাঁকা সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ সরকারকে পাঁচ বছর সময় দিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম বলেন, ‘হুমকি-ধমকি বা আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিরোধীদের সংসদে এসে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া উচিত।’ গবেষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিরা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু দেশে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে তিন-চার নম্বর বেঞ্চে বসা ব্যক্তিরা একসময় মহাপরিচালক (ডিজি) হন। গবেষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।’
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পর দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মেলা ও বাজারব্যবস্থাপনা পণ্য উৎপাদক ও ক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। আগের সরকারের সময়ে সঠিক জরিপ না হওয়ায় দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা, পরিবারের সংখ্যা ও কৃষকের সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।’ কৃষিতে আমদানিনির্ভরতা কমছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘টমেটো, কাঁচামরিচ, চিনি ও সয়াবিন তেল ছাড়া তেমন কিছু আমদানি করতে হয় না। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে সার খাতে সরকারকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।’ দেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘গত ২০ বছরে কেন নতুন গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি, তার জবাব দিতে হবে। ভোলা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি আগেই কেন বিবেচনা করা হয়নি, সেই প্রশ্নও রয়েছে। বর্তমানে ভোলার সঙ্গে গ্যাস সংযোগ তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন করে ৫২টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাতে ভোট করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। পেশিশক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন করার ইচ্ছা তারেক রহমানেরও নেই। সফল হয়েই ২০৩১ সালের নির্বাচনে জনগণের কাছে যাবে সরকার।’ বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘পুষ্টিগুণ বাড়াতে ফর্টিফাইড বা পুষ্টিসমৃদ্ধ আটা-ময়দা বাজারজাতের জন্য নীতিমালা করা হচ্ছে। ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ যোগ করার মতো চাল ও আটাকেও পুষ্টিসমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয় বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষক্রিয় অংশীদার নয় বরং সক্রিয় অংশীদার হওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। এআইনির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। আগামী দশকে এ পরিবর্তন দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা অনেকাংশেই নির্ধারণ করবে এআই। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি নয় বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিকে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিুলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকেও এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এসময় রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ী সমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা সৃষ্টি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে দেশের তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বে দেশকে একটি পরিচিতি দিয়েছে। একইভাবে দেশের তরুণরা যদি যথাযথ সক্ষমতা নিয়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তারাই বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার সম্ভাবনা রাখে।
এআই-এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশে এআই-এর ব্যবহার এবং সম্প্রসারনের বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ যখন শিক্ষিত বেকার, তখন এআই নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি করবে কি না সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকি ও আশঙ্কাও রয়েছে। এ প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয় সে বিষয়ে প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটেও পড়তে পারে। তিনি বলেন, কোনো প্রযুক্তি গ্রহণের আগে সেটি কতটা টেকসই এবং দেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করতে হবে। যে প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হবে তা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তি তখনই প্রকৃত অর্থে উপযোগী হয়, যখন তা মানুষের কল্যাণে এবং সভ্যতার অগ্রগতিতে কাজে লাগে। এসময় তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআই-এর ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
এর আগে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইসিসি), বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান। এতে মূল বক্তব্য প্রদান করেন রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস লিমিটেড-যুক্তরাজ্য-এর সিইও ও সাবেক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অফ কমার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি তাসকিন আহমেদ। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।
আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনসহ আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
আগামী রবিবার (৮ নভেম্বর) রাত ১২টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
সোমবার (৫ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে চলা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো— ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরোনো বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত।
এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরোনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরোনো নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব রাস্তা ও গলিপথ এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
এ সময় এসব এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রন্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫৫০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৫ জন, খুলনা বিভাগে ২২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬৭ জন, বরিশাল বিভাগের ২১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজকে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭১ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৫ হাজার ৮৩৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গিয়েছে ৪৫২ জন।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যু করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামি হওয়ায় তাঁর জন্য কোনো প্রকার প্রচলিত ভ্রমণ ছাড়পত্র প্রযোজ্য হবে না। দুই দেশের মধ্যকার বন্দি বিনিময় চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার আলোকে দিল্লি থেকে তাঁকে সরাসরি ফিরিয়ে এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর সংক্রান্ত বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামোগত সংযোগ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো ভূরাজনৈতিক দ্বিধা বা শঙ্কা নেই। বরং এই পথ বাস্তবায়িত হলে পুরো ভূখণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক নতুন প্রাণকেন্দ্রে রূপ নেবে এবং এ আঞ্চলিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে ঢাকার পূর্ণ আগ্রহ রয়েছে। তবে এ করিডোরের সফল বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে চীনা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করে হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, লিউ হাইশিংয়ের এ সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও বেগবান এবং বহুমাত্রিক রূপ লাভ করবে।