বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশ বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশদারিত্বে’ উন্নীত হতে ২১টি দলিল সই করেছে। যার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন এবং সাতটি প্রকল্পের ঘোষণা রয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে দলিলগুলো সই হয়।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু, ব্যবসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।
অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, ষষ্ঠ ও নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে চুক্তি সই হয়।
দলিলগুলো হলো
১. ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই।
২. চায়না ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএফআরএ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংকিং এবং বীমা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই।
৩. বাংলাদেশ থেকে চীনে তাজা আম রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত (ফাইটোস্যানিটারি) উপকরণ বিষয়ে একটি প্রটোকল সই।
৪. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি সহায়তা ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
৫. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
৬. বাংলাদেশে প্রকল্পে চায়না-এইড ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের ‘সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ বিষয়ে আলোচনার একটি সাইনিং অব মিনিটস (কার্যবিবরণী) সই।
৭. চীনের সহায়তায় ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চায়না মৈত্রী সেতু সংস্কার প্রকল্পের চিঠি বিনিময়।
৮. নাটেশ্বর প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা পার্ক প্রকল্পে চায়না-এইড কনস্ট্রাকশনের সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা বিষয়ে চিঠি বিনিময়।
৯. চীনের সহায়তায় নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্প বিষয়ে চিঠি বিনিময়।
১০. মেডিকেল সেবা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১১. অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১২. গ্রিন অ্যান্ড লো-কার্বন উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১৩. বন্যার মৌসুমে ইয়ালুজাংবু (ব্রহ্মপুত্র) নদীর হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বাংলাদেশ দেওয়ার বিধিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক নবায়ন।
১৪. চীনের জাতীয় বেতার ও টেলিভিশন প্রশাসন এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর।
১৫. চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই।
১৬. চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) ও বিটিভির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই।
১৭. সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও বিটিভির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই।
১৮. চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং বাংলদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এর স্মারক সই।
১৯. অপর আরেকটি দলিল সই করে সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
২০. একটি সমঝোতা স্মারক নবায়ন করে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২১. টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
সাতটি ঘোষণাপত্র
১. চীন-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সমাপ্তি ঘোষণা।
২. চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি ত্বরান্বিতকরণ নিয়ে আলোচনা শুরুর ঘোষণা।
৩. ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণের সমাপ্তির ঘোষণা।
৪. ডাবল পাইপ লাইন প্রকল্পের সঙ্গে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং এর ট্রায়াল রান সমাপ্তির ঘোষণা।
৫. রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর ঘোষণা।
৬. শানদং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
৭. বাংলাদেশে লুবান ওয়ার্কশপ নির্মাণের ঘোষণা।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার (১০ জুলাই) সকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ নতুন উন্নয়নযাত্রা শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেছেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন-এই তিন ‘আর’ (থ্রি-আর) কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের দ্বার উন্মুক্ত করতে প্রবাসী পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ড. তিতুমীর বলেন, ‘আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগও বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আসুন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করি।’
সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিগণ অংশ নেন। সূত্র: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাত, নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ঢাকা ও আঙ্কারার মধ্যকার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় সফর বিনিময় এবং বাংলাদেশে তুর্কি কোম্পানিগুলোর নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এছাড়া তুরস্কের আনতালিয়া শহরে অনুষ্ঠাতব্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-৩১’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে আয়োজিতব্য ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্মেলন’-এ আঙ্কারার প্রতিনিধিদলকে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে সরকারি সফর সমাপ্ত করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ রাষ্ট্রীয় সফরের নানা কূটনৈতিক অর্জন তুলে ধরে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমেরিকা থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার কঠোরভাবে এসব দমন করবে।’ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের বক্তব্য সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।’
বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় ভিড় পরিহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী জনসমাগম পছন্দ করছেন না এবং এটিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক রূপান্তর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, পাঁচ দিনের এই ব্যস্ত সফরে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান। সাধারণ পরিষদে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু আজ সকালে এ কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি আজ সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।
নিউইয়র্কে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
ঢাকা ফেরার আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, ইউএনজিএর সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। এগুলোর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান। সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, মানুষের অস্তিত্ব, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবনধারণের সঙ্গে জীববিজ্ঞানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে এ বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জ্যুলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক শর্ত খাদ্য। আর খাদ্যসংস্থান সরাসরি উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। মাছ, মাংস ও উদ্ভিদজাত খাদ্য মানুষের পুষ্টি ও জীবনধারণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে মানুষের খাদ্য ও জীবনব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, রাজনীতি বা তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরে সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং সন্তানদের সুশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের বাস্তব সুফল মানুষের কাছে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
চীফ হুইপ বলেন, নদী, হাওর, বন, পাহাড়, জলাভূমি ও সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির আবাসস্থল। দেশের এই সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং টেকসই গবেষণার মাধ্যমে তরুণরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সম্মেলনে দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ড. মো. খালেদ কানাক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে গবেষকগণ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে সই করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে রেহান আসাদও চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সমঝোতায় পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, উন্নত পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরেও পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ছোট আকারের আধুনিক পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। এ ধরনের চুল্লি তুলনামূলক কম জায়গায় স্থাপন করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে। জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এ প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৮১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুই দেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারে সহযোগিতার একটি চুক্তি সই করেছিল। পরবর্তী সময়ে ওই সহযোগিতার মেয়াদ বাড়ানো হলেও একপর্যায়ে তা আর নবায়ন হয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন সমঝোতা সইয়ের ফলে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতা নতুন কাঠামোতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি চুল্লি রয়েছে। দুটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
রূপপুর প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ চিকিৎসা, কৃষি, খাদ্য সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্প খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তদারকির আওতায় থেকেই এসব কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে আসছে বাংলাদেশ।
নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির সমতুল্য নয়। সমঝোতা স্মারক মূলত দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পারমাণবিক জ্বালানি, সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বর্তমান সমঝোতাকে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতার একটি প্রাথমিক ও কৌশলগত কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সহযোগিতার গুরুত্ব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষ জনবল, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা ও কৃষিতে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিরাপত্তা, পরিবেশগত ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করাই হবে মূল বিষয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সফরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরের চারদিনে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকসহ প্রতিনিধিদলের প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হয়।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমিত আকারের প্রতিনিধিদল নিয়ে নিউইয়র্ক সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল আউটপুট বা ফলাফল দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং এ খাতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক প্রভাব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দুই দেশই ক্রমবর্ধমান জাতীয় জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তির অপরিহার্য ভূমিকা স্বীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সুরক্ষা মানদণ্ড, সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।
সমঝোতার রূপরেখা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় রাষ্ট্রই ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পক্ষভুক্ত দেশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সার্বিক সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকল বাস্তবায়নে দুই দেশই দায়বদ্ধ। দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় বৈচিত্র্য আনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ নতুন সমঝোতায় পৌঁছাল ঢাকা। উল্লেখ্য, রাশিয়ার সহায়তায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সাধারণ জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ। তবে এবারের সমঝোতাটি প্রথাগত জ্বালানি বাণিজ্যের বাইরে গিয়ে একান্তভাবেই পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ গবেষণা ও টেকসই ব্যবহারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ, ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের জন্য ৯২ জনকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ সহ্য করা হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশবাসী জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের শক্তি আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা বেশি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে কঠোর হতে হবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুলিশের কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে বা অন্যভাবে সহযোগিতা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা ও দায়িত্বে অবহেলা করার ঘটনাও আছে। ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা ১ মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, জনগণ তাদেরকে পুনরায় আর আহ্বান জানাবে না। এ ঘটনায় তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি।
সরকার তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাপক জনপ্রত্যাশা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর গঠিত বর্তমান সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে সরকারের একটাই বার্তা— সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য পুলিশকে কঠোর হতে হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি তারা অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীকেও অপব্যবহার করেছে, তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে, তাদের দিয়ে নির্যাতন করিয়েছে ও তাদেরকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেকে এই অবৈধ নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আমরা এটি চাই না।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। সূত্র: বাসস
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।
তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম বাঙালি জাতির চেতনা, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।
আজ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগীরা কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় বিজয়ীরা পুরস্কার পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাইমা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাদ্দাম হোসেনসহ প্রমুখ।
এর আগে, এদিন বিকালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী সুন্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন এবং রাজগাতী ইউপি উলহাটি বাজার সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এতে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অনন্য সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ অবদান, জনসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন এবং প্রশংসনীয় উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মনোনীত পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে এ পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাহসিকতা ও সেবামূলক অনন্য অবদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট চারটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে মনোনীত কর্মকর্তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো—‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের অনুপ্রেরণা জোগাতে প্রতি বছর এ পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হবে, তেমনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে বিভাগীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; প্রচলিত আইনেই তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
বাহিনীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশে ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। অতীতে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও অপব্যবহারের যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে বাহিনীর সদস্যদের সামনে এখন নিজেদের সংশোধন ও জনকল্যাণে নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ এসেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন কোনো রাজা-বাদশাহ দেখতে চায় না, তারা চায় সেবাধর্মী ‘জনগণের পুলিশ’। কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যেন এমন কোনো আচরণ না করেন যা জনগণের চোখে অগণতান্ত্রিক মনে হয় এবং একই সঙ্গে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে এমন কোনো অপকর্মে অধস্তন সদস্যদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না। তবে দায়িত্ব পালনকালে অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণআকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাহিনীর প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী সপ্তাহেই পুলিশের একটি আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। সদর দপ্তরের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাব সুবিধাসম্পন্ন এই ইউনিটের শাখা বিস্তৃত থাকবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। একই সাথে যারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করতে গোয়েন্দা সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত আধুনিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহেই পুলিশের একটি পৃথক ও বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। নতুন ইউনিটের সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে একটা আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। নতুন এই ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ একজন অ্যাডিশনাল আইজিপি (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে এই পদটি না থাকলে তা নতুন করে তৈরি করা হবে।’
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজনৈতিক অপশক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন আঁতাত বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত হয়ে যোগাযোগ রাখছে, নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে- এমন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নতুন এই সাইবার ইউনিটের বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিস্তার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত মেট্রো, ডিভিশন ও ডিস্ট্রিক্ট পর্যায়ে তার শাখা থাকবে। থানা ও জেলাপর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে। বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাব ও যে সাপোর্ট দরকার, সেগুলো হেডকোয়ার্টার ও ডিভিশন পর্যায়ে থাকবে।’ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সেটা প্রকল্প প্রণয়নের জন্য আমি গত কয়েক সপ্তাহ আগে নির্দেশ দিয়েছি। যেগুলো জটিল হবে, সেগুলো কেন্দ্রে আসবে। যেগুলো থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যানালাইসিস করা সম্ভব, সেগুলো সেখানেই হবে।’
বিশ্বব্যাপী অপরাধের পরিবর্তিত ধরন ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক জালিয়াতির ঝুঁকি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সাইবার স্পেস ক্রিয়েট করে যেসব ক্রাইম হচ্ছে, সেটা আধুনিক ক্রাইম প্রবণতার একটা ক্যারেক্টার। কোনো কোনো রাষ্ট্রে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্রাইম হচ্ছে এই সাইবার বা স্ক্যামভিত্তিক। সে জন্য এটা আমাদের গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।’ ফলে দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতকে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।