সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। কিছু পর্যবেক্ষণ, নির্দেশনাসহ প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, রাস্তায় আন্দোলন করে রায় পরিবর্তন করা যায় না।
এদিকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, আপনাদের আর আন্দোলন করার যৌক্তিক কারণ নেই। যেহেতু আদালত একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন। আপনারা সবাই রাস্তা ছেড়ে দেন। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবেন না, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে মানুষের সমস্যা হয়। মানুষের সমস্যা হলে রাষ্ট্রকে দেখতে হয়। এ কথাগুলো বিবেচনা করে অবশ্যই আপনারা আপনাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
অন্যদিকে আপিল বিভাগের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীরা বলেছেন, আদালতের সঙ্গে তাদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা সরকারের কাছে কোটা-সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান চাইছেন। যৌক্তিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
এদিকে সংসদে আইন পাস করে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে সারা দেশে সড়ক অবরোধের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ফলে আজ রাজধানীর সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। স্বল্প দূরত্বের পথ যেতে ঘণ্টার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড়, এলিফেন্ট রোড, শাহবাগ, হাই কোর্টের কাছে মৎস্য ভবন মোড়, হানিফ ফ্লাইওভারের নিমতলী, বাংলা মোটর, ফার্মগেট, আগারগাঁও এবং মহাখালীর আমতলীতসহ বিভিন্ন স্থান অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
মিরপুর রোড, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, এয়ারপোর্ট রোড, রামপুরা- বাড্ডা রোড শহর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় যান চলাচল একরকম বন্ধ হয়ে যায়। ফার্মগেটে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার মুখ, জিরো পয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগগুলো অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেছেন। দুপুরে ঢাকার কারওয়ানবাজারেও রেলপথ আটকে দেওয়া হয়।
এই অবরোধের ঘোষণায় অনেক যানবাহন বের না হওয়ায় আজ বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি এয়ারপোর্ট, মহাখালী, রামপুরা, মতিঝিল, মোহাম্মদপুরসহ অন্যান্য রুটের বাসও কম দেখা গেছে। ফলে সকালে বাস না পেয়ে অফিসগামী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বাইকে করে যারা অফিস গেছেন, তারা ফাঁকা রাস্তার সুফল পেয়েছেন।
আজ বেলা সাড়ে ১০টার পর আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামতে শুরু করেন। এরপর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, গুলিস্তানসহ আশপাশের এলাকার সড়কে যানজট শুরু হয়।
এর আগে গত রোববার ও সোমবার চার দফা দাবিতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ‘বাংলা ব্লকেড’ পালন করে আন্দোলনকারীরা। ওই দুই দিনও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবিতে এক দফা দাবিতে নামিয়ে আনেন তারা। তাদের দাবি হল- ‘সকল গ্রেডে সকল প্রকার অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে।’
এই দাবিতে আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা আসে ওই সংবাদ সম্মেলনে।
মিরপুরের কালশী মোড়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা একজন জানান, বাড্ডার অফিসে যেতে গাড়ির জন্য ‘হয়রান’ হতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ পর বাস এলেও এত যাত্রী, উঠতে পারি নাই। সিএনজিও অনেক টাকা চাচ্ছে। কীভাবে অফিসে যাব, বুঝতে পারছি না।
মহাখালীর আমতলীর অফিসে যেতে সকালে মিরপুরে বাসের জন্য ২০ মিনিট অপেক্ষা করেছিলেন একজন বেসরকারি চাকরিজীবী, তিনি বলেন, রাস্তায় গাড়ির জন্য বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু গাড়ি কম থাকায় রাস্তায় ফাঁকা ছিল।
একজন ভাড়ার প্রাইভেটকার চালক বলেছেন, সকাল ৭টায় বের হয়ে তিনি দুটো মাত্র ট্রিপ দিতে পেরেছেন। সকালে মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল এরপর মতিঝিল থেকে বনানী যান। বনানী থেকে ফেরার পথেই সাড়ে ১১টার দিকে যানজটে পড়েন। তিনি বলেন, গাড়ির জন্য সিএনজি পাওয়া যাইতাছে না। আর প্রতিটা পাম্পে লম্বা লাইন। তার উপ্রে এই যানজটে আটকা থাইকা সব গ্যাস পুড়তাছে। আইজ মনে হয় রাস্তায় গ্যাস শেষ হয়্যা যাইব।
দক্ষিণাঞ্চলের সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনি, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল রুটের প্রবেশ দুয়ার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তানে গণপরিবহনের চলাচল স্বাভাবিকের চেয় কম দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাইনবোর্ড, চিটাগাঙ রোড, রায়েরবাগ, শনির আখাড়া ও কেরানীগঞ্জ, পোস্তগোলা, শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ থেকে চাকরি এবং ব্যবসার কাজে প্রতিদিনই ঢাকায় আসা যাত্রীচাপ কম দেখা গেছে। সড়কে গাড়িও ছিল কম।
সড়কে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা এক জায়গায় বাস নিয়ে অপেক্ষা করা এক হেলপার বলেন, ‘সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ছাত্ররা আন্দোলন করার আগেই গন্তব্যে চলে যেতে পারবো। কিন্তু এখন আটকা পড়ে গেছি। সামনেও যাওয়ার সুযোগ নেই, পিছে যাওয়ারও সুযোগ নেই। এখন দোয়া করছি- কখন এই আন্দোলন শেষ হবে, আর গাড়ি নিয়ে বের হতে পারবো।’
এক বাস চালক বলেন, ‘এই গরমে এক জায়গায় এমন রোবটের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। গাড়ি রেখে যে কোথাও যাবো সেটাও পারছি না। তিন ঘণ্টা ধরে আটকে আছি এখানে। কখন যে ছাড়া পাবো, তাও জানি না।’
২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে রিট করেন। গত ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে আবারো ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
এরপর গত ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী রোববার ও সোমবার টানা দুদিন বিকেলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ এলাকা থেকে এ কর্মসূচি পালন করেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকালে সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা দেশের সব মহাসড়ক ও রেলপথ এ ব্লকেডের আওতাভুক্ত থাকবে।
এর আগে ব্লকেড কর্মসূচিতে কয়েকঘণ্টা সড়ক অবরোধ করলেও বুধবার (আজ) সকাল-সন্ধ্যা ব্লকেড কর্মসূচি দেন আন্দোলনকারীরা। এদিনই আবার কোটা বহাল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি হয়। শুনানির পর সরকারি চাকরিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন আপিল বিভাগ। চার সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হবে।
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে পাঠিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার এবং তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতারণার শিকার এই যুবকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, “প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানো এই ৩০ বাংলাদেশিকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাবাল-ই-নূরসহ একটি দালাল চক্র ভালো চাকরির কথা বলে এসব যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন জঘন্য অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো চক্র, সংস্থা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো এজেন্সির অসততার কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করা হবে।” যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের জন্য সব সুবিধা সম্বলিত একটি সমন্বিত 'প্রবাসী কার্ড' চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কী করবে।” এই কার্ডের সম্ভাব্য কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যে ফ্যাসিলিটিটা দেব, সেটা আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। কিন্তু এখানে তার কারেন্সি সুবিধাটা কিভাবে পেতে পারে, তাদের সহজ রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে কী বেনিফিট নিতে পারে, ব্যাংক পেমেন্টের গেটওয়েটা কিভাবে হবে, তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র, এই কার্ডের সঙ্গে ট্র্যাকিং থাকবে।” বিদেশ গমনেচ্ছু নাগরিকদের যেকোনো লেনদেনের আগে এজেন্সির বৈধতা যাচাই করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে সম্মেলনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান।
আজ মঙ্গলবার জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শ্রম অধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারসংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে আইএলওর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধির এ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো। সহ-সভাপতি হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করবেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান, আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান।
বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মতে, এই নির্বাচন বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দেশের অঙ্গীকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।
এছাড়া শ্রম খাতে উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের ভূমিকারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।
সহ-সভাপতির দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ আইএলওভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতৈক্য গড়ে তুলতে এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এবারের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
ঈদে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া গণমুখী উদ্যোগে জবাবদিহি নিশ্চিত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এই ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সকল সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিদের নিজ-নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করতে বলেছেন, মানুষের পাশে থেকে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রেরণা জুগিয়েছেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে সংকটের মধ্যেও স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সোমবার (০১ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি গণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও জবাবদিহিহীনতার যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা মুহূর্তেই বদলে ফেলা কোনো জাদুকরী মন্ত্রের পক্ষেও অসম্ভব। তবে এবারের ঈদুল আজহায় দেশের মানুষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছে, তা হলো রাষ্ট্রের আন্তরিক সদিচ্ছা ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক তৎপরতা।
ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর দশটি গণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রথম পদক্ষেপ ছিল—দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা। এবারের ঈদে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে আমরা এবার ছুটিতে কিছুটা বেশি সময় থাকতে পেরেছি। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে একযোগে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। প্রতি বছরের চেনা ছবি, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি, এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর অসচেতনতার জেরে এবারও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেড়ে নিয়েছে তাজা প্রাণ। টাঙ্গাইলে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আমাদের প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত করেছে। স্বজনহারা মানুষগুলোর ঈদ কাটছে শূন্যতা ও কান্নায়, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে যেকোনো উৎসবে যেকোনো মূল্যে ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দ্বিতীয় পদক্ষেপ ছিল—পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ। তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে শ্রমবান্ধব সরকারের উদ্যোগে সকল ব্যাংক এবং অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে কারখানার শ্রমিক, মালিক ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আমরা দেখেছি, ঈদের ঠিক আগে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ বা শিল্পাঞ্চলে সেই রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, যা ছিল বিগত সময়ের নিয়মিত ঘটনা। প্রায় সকল কারখানায় সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয়েছে, নিশ্চিত করা হয়েছে উৎসবমুখর ঈদের পরিবেশ। এর ফলে লাখো শ্রমিক ও তাদের পরিবার আর্থিক স্বস্তি নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন এবং দেশের শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিরাজ করেছে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
মাহদী আমিন বলেন, তৃতীয় উদ্যোগ ছিল—দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ। স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পশুর হাটগুলোতে ছিল সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা। বাজারে দেশি গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দেশজুড়ে কোরবানির পশুর সংকট তৈরি হয়নি। প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ এবং এভাবেই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয় কোরবানিতে পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি রাস্তায় রাস্তায় গরুর হাট বসানোর ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, কিন্তু এবার রাস্তার বদলে খোলা জায়গায় গরুর হাট বসানোয় রাস্তার যানজট থেকে মানুষ রেহাই পেয়েছে। দেশের অধিকাংশ প্রান্তিক খামারি ও গৃহস্থরা পশুর ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায়, শেষের দিকে কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্যে পশু বিক্রি করতে পারেননি। সরকারের দৃষ্টিও এ বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে তাদের ন্যায্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ পদক্ষেপ ছিল—দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও দেশের বড়-বড় পৌরসভাগুলোতে ঈদের দিন দুপুর থেকেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও অতিরিক্ত জনবল নিশ্চিত হয়। কোরবানির পরবর্তী ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে, যা অতীতে বেশ কয়েক দিন সময় নিত। বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গা ছাড়া প্রায় সর্বত্র ঈদের রাতের মাঝেই পরিচ্ছন্নতা অর্জন স্থানীয় নাগরিক সেবার একটি নতুন মাইলফলক। এই বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীগণ, যারা পরিবারের সঙ্গে সময় না কাটিয়ে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের সাধুবাদ জানাই। ঈদের পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি, অর্থাৎ সরাসরি মাঠপর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেন, যা দেশীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে একটি বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা। পরিদর্শনকালে, ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য অপসারণে অবহেলার দায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সশরীরে তদারকি ও জনগণের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার মানসিকতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্পৃহা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পঞ্চম পদক্ষেপ ছিল—গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা। ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ছিল। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা সংরক্ষিত কোচ বা বগি চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার ওপর বিশেষ ছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটেনি, বরং লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়া রুট ভেদে ৫-৮ শতাংশ ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস, লঞ্চসহ সকল যানবাহনে ডিজিটাল বোর্ড, স্টিকারের মাধ্যমে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। লঞ্চে হুইলচেয়ার, ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালামাল বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাভিত্তিকভাবে মানুষ এসব জায়গা থেকে যাত্রা করতে পেরেছে, সবাইকে সদরঘাটে যেতে হয়নি, এই ঘটনা নিশ্চয়ই সরকারের একটি অবিস্মরণীয় উদ্যোগ। ন্যায্য ভাড়া ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল জোরালো ও সাহসী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ষষ্ঠ পদক্ষেপ ছিল—চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান। পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ও শক্ত ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে পশুর হাটে ইজারা বহির্ভূত চাঁদা আদায় বন্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল। মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি, মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের প্ররোচনায় অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়েনি এবং সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পশু ক্রয় করতে পেরেছেন।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের ঈদে প্রধানমন্ত্রীর সপ্তম গণমুখী উদ্যোগ ছিল—লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঈদের ছুটিতে কলকারখানা বন্ধ থাকার সুযোগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদনে বহু বছরের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, এই তীব্র গরমের মধ্যেও ঈদের দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশের সিংহভাগ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। একটি সমন্বিত ও কার্যকর বিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবতার আলোকে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌসুমি দুর্যোগের ফলে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে। আপনারা অবহিত আছেন যে, ইতোমধ্যে পুরো বিদ্যুৎ খাতকে আরও সেবামুখী ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির সকল উৎস ব্যবহারে সচেষ্ট।
অষ্টম পদক্ষেপ হিসেবে সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোরবানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামক আলোচিত মহিষটির সংরক্ষণ ও চিড়িয়াখানায় প্রেরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়িয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঈদুল আজহার দিন বা এই বন্ধে উল্লেখযোগ্য সামাজিক সংঘাত বা নৈরাজ্যজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ। ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধনে দেশজুড়ে উদ্যাপিত হয়েছে ঈদুল আজহা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, নবম পদক্ষেপ ছিল—চামড়া শিল্পের দাম নির্ধারণ ও তদারকি। লবণের জোগান নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য যথারীতি আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেয় সরকার। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতীতে চামড়ার দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এবার মাঠপর্যায়ে নজরদারির কারণে চামড়া অবিক্রিত থাকার বা নষ্ট হওয়ার হার অনেকটাই কমেছে। কোরবানির মৌসুমে চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চামড়া কেনাবেচায় সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে না ঘটে, সে জন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি ও তথ্য অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়েছে। কোথাও-কোথাও চামড়া অবিক্রীত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও, তা সাম্প্রতিক বছরসমূহের তুলনায় অনেক কম। সরকার ভবিষ্যতে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ব্যাপারে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
ঈদে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া দশম ও সর্বশেষ উদ্যোগ ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এ নিয়ে মাহদী আমিন বলের, ঈদের আগে চাল, ডাল, মসলা, তেল, চিনিসহ কোরবানি-সংশ্লিষ্ট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার তদারকি পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও, উৎসবের সুযোগ নিয়ে খুচরা বাজারে যেভাবে হঠাৎ দাম আকাশচুম্বী করা হতো, এবার সরকারি নজরদারির কারণে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গিয়েছে। উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রান্তিক মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মাঝে রাখার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নে ক্লান্ত জনগণ।
মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়, এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে ক্লান্ত জনগণ এবারের ঈদে উপলব্ধি করেছে যে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার কার্যকর ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি বিভিন্ন দিবস উদ্যাপনের নামে সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয় হয়েছে, এমনকি ব্যবসায়ীসহ নানা মহল থেকে আয়োজনের নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বলপূর্বক আদায় করা হয়েছে। কিন্তু একটি দায়িত্বশীল, গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রদর্শন নয়।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে গণমুখী ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক আদর্শ, সেটিকে পাথেয় করেই গণমানুষের নেতা তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কাউকে রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা যায়, সাময়িকভাবে ব্যক্তিপূজার পরিবেশও তৈরি করা যায়; কিন্তু জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করা যায় না। ইতিহাস সাক্ষী ক্ষমতার বলয়ে নির্মিত জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে, যার প্রমাণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সংবাদ সম্মেলন আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন প্রমুখ।
দেশে একদিকে হাম নিয়ে চলছে ত্রাহি অবস্থা, আর এরই মধ্যে নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিউলেক্স মশার উপদ্রব কিছুটা কমলেও, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এবার ডেঙ্গুর ধরন ও বিস্তার বেশ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে আবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,১৩৪: দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৩৪ জন। সোমবার (০১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫৮৮ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯০ জন শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে বাকি ৪৯৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, রোববার (৩১ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও বুধবার পাঁচজন করে এবং গত মঙ্গলবার ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল।
বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৪ জনে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৭ হাজার ৯০২ জন রোগী। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশ্বস্ত করেছে যে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাদের নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালের বাস্তব চিত্র ও প্রাপ্তবয়স্কদের সংক্রমণ: গতকাল সোমবার বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত হয়ে বহু রোগী সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
তাদেরই একজন শিল্পী আক্তার। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গত ২৭ মে তারা এই হাসপাতালে এসেছেন। এর আগে গত ২২ মে অসুস্থ হন লিপি আক্তার। প্রথমে পরিবারের কেউ হামের বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সাধারণ জ্বর ও অন্যান্য রোগ ভেবে তারা তিন দিন কুমিল্লার ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন না দেখে পরে সেখান থেকে লিপিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মেডিকেল থেকে প্রথমে পাঠানো হয় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে গত ২৯ মে তাকে স্থানান্তর করা হয় ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে।
এখানে আনার পর লিপি আক্তারকে টানা চার দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর গত রোববার বিকেলে তাকে চতুর্থ তলার সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। আইসিইউতে থাকার সময়টা প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় কেটেছে জানিয়ে লিপি আক্তার বলেন, ‘কখনো এ রকম হাম হবে ভাবি নাই। করোনার মতো ভয়াবহ, আত্মীয়স্বজন কেউ আসে না। সবাইকে দূরত্বে থাকতে হয়।’ লিপি আক্তারের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন গাজীপুরের রহিমা আক্তার (৪০), নরসিংদীর মাহমুদুল হাসানসহ (৩২) প্রাপ্তবয়স্ক অন্তত ৪৪ জন মানুষ।
ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১০ জন: হামের এই ভয়াবহতার মাঝেই দেশে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১০ জন রোগী।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির হাসপাতালে ১ জন ও দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন।
এই দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া একমাত্র ডেঙ্গু রোগীটি খুলনা বিভাগের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত বছর ডেঙ্গুর ব্যাপক দাপট দেখা গেলেও, চলতি বছরের এ পর্যন্ত মশাবাহিত এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। তার আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল নভেম্বর মাসে; সেই একক মাসেই প্রাণ হারিয়েছিলেন ১০৪ জন মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পূর্বাভাস: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মতে, বর্তমানের টানা বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়া এডিস মশার প্রজননের জন্য একদম আদর্শ সময়। তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, এবারের ডেঙ্গুর ঢেউ হয়তো ২০২৩ সালের মতো অতটা ভয়াবহ রূপ নেবে না; তবে গত বছরের চেয়ে এর প্রকোপ ও বিস্তৃতি অনেক বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
জনতুষ্টি নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সোমবার (০১ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের পর বিশ্বের অধিকাংশ আমদানিনির্ভর দেশ জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে সেই চাপ সহ্য করে আগের দাম বহাল রেখেছিল।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জনতুষ্টিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের কাজ নয়, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও সুশাসনের স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হয়।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনও নেতিবাচক ঘটনার তথ্য সরকারের কাছে আসেনি।
তিনি বলেন, সম্পাদক, সংবাদপত্র মালিক এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘ সময় পর কোনও ধরনের সরকারি চাপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করতে পেরেছেন। সরকারও মনে করে, অবাধ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন মামলা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন ধরনের মামলা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছে। এ জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন, এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কোনও সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কাজ হলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। এ কাজে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। বিশেষ করে সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ প্রতিবেদনের মাধ্যমে গণমাধ্যম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রম সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনে গিয়ে মোট ৪১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত এই হজযাত্রীদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৪ জন নারী।
মৃত এই হজযাত্রীদের মধ্যে ৩০ জন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মক্কায়, বাকি ১১ জন মদিনায়। বাংলাদেশ সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের বরাতে জানা গেছে এ তথ্য।
সর্বশেষ যে দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন, তারা হলেন মো. আবদুল মজিদ ও মো. শাহজাহান আলী। আবদুল মজিদের বাড়ি নওগাঁ। তিনি মদিনায় মারা গেছেন। শাহজাহান আলীর বাড়ি ঢাকার খিলগাঁও। তার মৃত্যু হয়েছে মক্কায়।
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন দেশে ফিরছেন হাজিরা। এ পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৬১৩ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।
এ বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৬ মে। ঢাকা থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট ছেড়েছে গত ১৮ এপ্রিল, শেষ ফ্লাইট ২১ মে। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
২০২৬ সালের হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব গিয়েছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায়, বআকি ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গিয়েছেন।
সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এ বছর পবিত্র হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি দেশটিতে যান।
এবারের বাজেট ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (০১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেট হবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সচেতনতার বেশ অভাব রয়েছে। আর এই কারণেই অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য দামে ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে পারেন না। ব্যক্তিগতভাবে কোরবানি দেওয়া অনেকেই তাদের পশুর চামড়া বিভিন্ন স্থানে বা এতিমখানায় দান করে দেন। সেসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক চামড়া পচে যায়। ফলে চামড়ার মান কমে যায় এবং নির্ধারিত মূল্য পাওয়া সম্ভব হয় না।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চামড়া যাতে নষ্ট না হয় এবং তা সংরক্ষণে যেন ব্যবসায়ীরা পূর্ণ সহায়তা পান, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। এরপরও অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণে অবহেলা ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।’
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে এলে দেশের বাজারেও দ্রুত মূল্য সমন্বয় করে সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারের বাস্তবতা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে। সোমবার (০১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে এপ্রিল মাসে মূল্য সমন্বয় করায় মে মাসে নতুন করে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামার কারণে সরকারকে নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কখনোই অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে চায় না। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ডিজেলে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম রাখতে এবারও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তারপরও পরিস্থিতির কারণে অন্য কয়েকটি জ্বালানির ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র (বাসস) উদ্যোগে সোমবার এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হয়েছে।
সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলে দেশবাসীর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি যুগান্তকারী ধারা সৃষ্টি করে গেছেন, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির যে দর্শন জিয়াউর রহমান প্রবর্তন করেছিলেন, তা বর্তমান সময়েও জাতীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় শহীদ জিয়ার চিন্তা-চেতনা ও আদর্শের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
দোয়া মাহফিলে বাসস-এর সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম ও জাতীয় উন্নয়নে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ঈদযাত্রা ও ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ অভিযানে ১০ দিনে সংস্থার ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭৫৮টি অভিযান পরিচালনা করেছেন।
এসব অভিযানে ৮১৩টি মামলার পাশাপাশি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ২৩০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়ম অমান্য করায় ছয়টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রার শুরুতেই গত ২২ মে থেকে বড় পরিসরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়, যা ৩১ মে পর্যন্ত একনাগাড়ে চলে। এ ছাড়া ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঢাকার সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ভিজিলেন্স টিমের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
যানবাহন ছাড়ার আগে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, বেপরোয়া ওভারটেকিং পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীদেরও সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অবহিত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের চেয়ে বিআরটিএর অভিযান জোরদার হওয়ায় চালকদের একটি বড় অংশের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে সড়ক নিরাপদ রাখতে এই কর্মসূচি শুধু ঈদ মৌসুমে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছরই অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, শুধু ঈদ মৌসুমে নয়, সারা বছর তদারকি ও সমন্বিত কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ এক বা দুই সপ্তাহে একজন গাড়িচালক হুট করে তার আচরণ পরিবর্তন করবেন—এমনটা আশা করা ঠিক নয়। অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের চর্চার ওপর নির্ভর করে।
বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞা বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে গত ২০ মে থেকে বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে, যা আগামী ৬ জুন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত গতি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি সার্কেল অফিস থেকে বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা যৌথভাবে টার্মিনালগুলোতে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে আজ সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
বিকালে স্কয়ার হাসপাতালে তোফায়েল আহমেদের স্বজনরা জানান, মরদেহ কিছুক্ষণের মধ্যে ধানমন্ডির ১২/এ-তে তাকওয়া মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই মরদেহের গোসল করানো হবে এবং বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল মঙ্গলবার তার নিজ জেলা ভোলায় আবার জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
গত বছরের ২০ নভেম্বর স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ মারা গেছেন।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
সে দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য পরবর্তীতে চিকিৎসকরা বিষয়টি নাকচ করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
বর্ণাঢ্য জীবন
তোফায়েল আহমেদ ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীকে রেখে গেছেন।
অ্যাকাডেমিক জীবনে ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের হাতেখড়ি হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।
১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাস-সহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন এই নেতা।
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকটা বাধ্য হয়েই অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও তা দ্রুত কমিয়ে আনা হবে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার কেবল তখনই এমন কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেয় যখন এছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কথা কিন্তু বারবার বলার চেষ্টা করেছি যে, একান্ত যখন উপায়হীন হবে সরকার তখনই এ ধরনের অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত হয়তোবা নিতে বাধ্য হবে। তো মিডল ইস্ট ক্রাইসিসের কারণে এ ধরনের বাস্তবতা এসেছে।’
প্রতিমন্ত্রী অমিত জানান, দেশের জ্বালানি ব্যবহারের ৬৬ শতাংশই ডিজেল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও পণ্য পরিবহনের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, ডিজেলের পেছনেই সরকারকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ভর্তুকি দিতে হয়, তবুও ‘সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড না হন’ সেই লক্ষ্যেই এর দাম বাড়ানো হয়নি। তবে সামগ্রিক ব্যয় সামাল দিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘না, না, আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি যে আমরা তো আশাবাদী যে মিডল ইস্ট ক্রাইসিস অচিরেই রিজলভ (মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান) হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি যদি গ্লোবাল প্রাইস মানে শার্পলি ডিক্লাইন করে আমরাও খুব শার্পলি এটা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করবো।’ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল দেশের মানুষ যেন পায়, সেটি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অতীতের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘মানে বাড়ে যেভাবে হয়তো বা সেভাবে কমে না। কিন্তু আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যদি এই ক্রাইসিস রিজলভ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, যেহেতু এটা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেবো ইনশাআল্লাহ।’ উল্লেখ্য যে, ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।