মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

১০ টাকার প্রকল্পে ৫ টাকা ঘুষ চলবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৪ ২০:৪৬

সরকারের যেকোনো প্রকল্পে ঘুষদাতাদের শক্ত হাতে দমন করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ১০ টাকার প্রকল্পের কাজে ৩ টাকা ৫ টাকা ঘুষ দিয়ে, বাকি ৫ টাকায় কাজ সেরে ফেলা চলবে না। এটি সবার চোখে ধরা পড়তে হবে। এরকম অবস্থায় পড়লে ঘুষদাতাদের অত্যন্ত শক্ত হাতে দমনের চেষ্টা করতে হবে।

আজ বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ও বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো চলবে না। এটি ভালোভাবে মনিটরিং করতে হবে। কোনো প্রকল্পের মেয়াদ ও সময় বাড়াতে যখন আমার কাছে আসে আমি এগুলো সংশোধনের আগে আইএমইডির প্রতিবেদন দেখে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। কোনোভাবেই কথায় কথায় সময় ও টাকা বাড়ানো চলবে না।

দেখেশুনে প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেখেশুনে প্রকল্প নিতে হবে। সে জন্য আমরা কাজ করছি। আমি সবসময় আইএমইডির প্রতিবেদন দেখি। অনেক পিডি (প্রকল্প পরিচালক) ফিজিবিলিটি স্টাডিও ঠিকমতো করেন না। তিন বছরের প্রকল্প ১১ বছর লাগে, এটি চলবে না।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ আগে করতে হবে। প্রকল্প ধরে বসে থাকলে চলবে না। দ্রুত কাজ করতে হবে। আইএমইডির রিপোর্ট ঠিক না হলে হবে না। আপনারা ঠিকমতো কাজ করবেন। প্রকল্প ঠিক সময়ে ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করে জনগণকে সুবিধা দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, তবে প্রকল্প শেষ করা বিরাট বিষয়। কিছু কিছু বিষয় আমাদের হাত নেই, যেমন- জমি অধিগ্রহণ বা ডলার পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় প্রকল্প সংশোধন হচ্ছে।

বিপিপিএ-আইএমইডি পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, আজকে এখানে এসেছি আপনাদের কাজকর্ম দেখতে, আপনাদের সঙ্গে পরিচিত হতে। আমি একটা বিশাল মন্ত্রণালয়ে এসেছি। কাজের ধারা বুঝতে ৫-৬ মাস লেগেছে। এখন কাজ সম্বন্ধে কিছু বুঝতে পারছি। আজকে মূলত কথা শুনতে এসেছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের সবকিছু জানতে হবে। আপনাদের মূল্যায়নে সবকিছু নির্ভর করে। আইএমইডি মূল্যায়নে কাজ করছি। দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট। আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় করতে দেব না। এখানে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশের টাকা।


শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৬ জুলাই, ২০২৪ ০০:১৩
বাসস

বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ। ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন মিথ্যা-বানোয়াট, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ওই সময় শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ২৫ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরায় ফিরে আসে। যুগপৎভাবে বিকাশ ঘটে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের।

সেদিন ভোরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় দুই সহস্রাধিক সদস্য সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন ঘেরাও করে। সেই সময় শেখ হাসিনা ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শেখ হাসিনাকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে সুধা সদন থেকে বের করে নিয়ে আসে এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বন্দি অবস্থায় তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জামিন আবেদন আইন বহির্ভূতভাবে না মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অবরুদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালায় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শেখ হাসিনা আদালতের গেটে দাঁড়িয়ে প্রায় ৩৬ মিনিটের অগ্নিঝরা বক্তৃতার মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের হীন-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।

গ্রেপ্তার পূর্ব মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠির মাধ্যমে দেশের জনগণ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গণতন্ত্র রক্ষায় মনোবল না হারিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও গণতন্ত্রপ্রত্যাশী দেশবাসীর ক্রমাগত প্রতিরোধ আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুকন্যার আপসহীন ও দৃঢ় মনোভাব এবং দেশবাসীর অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় পিতার মতো আপসহীন মনোভাব নিয়েই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যাত্রা শুরু হয়।

জনগণের মুক্তি আন্দোলনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সহ্য করতে হয়েছে অনেক জেল-জুলুম ও অত্যাচার-নির্যাতন। অসংখ্যবার মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়েছে। জনগণের ভালোবাসায় সব ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অকুতোভয় নির্ভীক সেনানীর মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে পথ চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সব বাধা-বিপত্তি জয় করে আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়- বিশ্ব দরবারেও স্বমহিমায় উজ্জ্বল জনগণের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।


মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এসব অভিযান চালায় ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপি গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার কে এন রায় নিয়তি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১২৬ পিস ইয়াবা, ৬ গ্রাম হেরোইন, ৮১ কেজি ৩৬০ গ্রাম গাঁজা ও ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

এসব ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৬টি মামলা করা হয়েছে।

বিষয়:

নিজেকে রাজাকার বলে স্লোগান দেওয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল, শাস্তির দাবি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার, রাজাকার’- স্লোগান দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতি গভীর অসম্মান প্রদর্শন। এ ধরনের স্লোগানধারীদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন আজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিজেকে রাজাকার, রাজাকার- বলে স্লোগান দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা রাজাকার হিসেবে কাজ করেছে- তাদের পক্ষে দাঁড়ানো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের শামিল। এ ধরনের কার্যকলাপ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। কারণ এটি জাতির সংহতি ও মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে।’

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং রাজাকারদের সমর্থনকারী কার্যকলাপ আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এ জন্য সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত এ ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং জাতীয় সংহতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

নেতারা বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- বেশ কিছুদিন ধরে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে ’৭১-এর পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মাগোষ্ঠী মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে নানাভাবে অপমান-অপদস্থ করছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে, তিনিও এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।’

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় থেকে রাতের আঁধারে পরিত্যক্ত ও প্রত্যাখ্যাত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়ায় কতিপয় বিভ্রান্ত শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ বিরোধী বালখিল্য কর্মকাণ্ড এবং ‘রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এরা সময়ে অসময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে জাতিকে বিভক্ত করছে, ঐতিহাসিকভাবে মীমাংসিত বিষয়কে অমীমাংসিত করার চেষ্টা করছে। এখানে দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন নেতারা।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অবিলম্বে রাজাকারের তালিকা প্রণয়ন করে, এদের পরবর্তী প্রজন্মকে সরকারি-বেসরকারি সব চাকরিতে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।


ঢাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার।

এদিন বিকেল ৩টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে সেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে।

বিকেল ৩টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এরপর দুইপক্ষ ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উত্তপ্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পরে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে। যোগ দেন ঢাকা কলেজসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের আরও নেতাকর্মী।

পরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লাঠি-রড নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিতেও দেখা গেছে।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে সরকারি চাকরিতে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে জড়ো হন। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কে রাজাকার কে রাজাকার, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারো বাপের না’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘আমার স্বাধীন বাংলায়, একের কথা চলে না’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি’, ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারো বাপের না’ অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, হামলা/মামলা দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।


সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ঢাবি, উপাচার্যের বাসভবনে জরুরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে জরুরি বৈঠকে বসেছে প্রভোস্ট কমিটি। আজ সোমবার বিকেলে প্রাধ্যক্ষদের এই বৈঠক বসে। ঢাবির সহকারী প্রক্টর নাজির হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আজ দুপুর ২টার কিছু পর থেকে ঢাবি ক্যাম্পাসে দুপক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে অংশ নিলেও পরে অন্যান্য হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। বিজয় একাত্তর হলের সংঘর্ষের রেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের হটিয়ে ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেন।

মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে শোডাউন করেন। কোটা আন্দোলনকারীরা যাতে পলাশী বা নীলক্ষেত থেকে আবারও ক্যাম্পাসে আসতে না পারেন, সে জন্য ফুলার রোডে অবস্থান নেন।

পরে ঢাবির দোয়েল চত্বর এলাকায় ফের আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শহীদুল্লাহ আবাসিক হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়া এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে আবাসিক হলের ভেতর থেকেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এরমধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। তবে এ সময় পুলিশের কোনো উপস্থিতি ঘটনাস্থলে ছিল না। যদিও প্রথম দফা সংঘর্ষ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর ক্যাম্পাসে পুলিশ সদস্যদের ঢুকতে দেখা গিয়েছিল।


জামিন পেলেন মিল্টন সমাদ্দার

চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল মৃত্যু সনদ তৈরির অভিযোগে মিরপুর মডেল থানার মামলায় চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

আজকেরসহ এ নিয়ে তিন মামলায় মামলায় জামিন পেলেন মিল্টন সমাদ্দার। এর আগে দুটি মামলার একটি হাইকোর্ট থেকে ও আরেকটি জজ কোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। ফলে এখন তার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আর বাধা নেই।

এর আগে গত (১ মে) বুধবার রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালিয়ে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। দেশের সমানধন্য কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে তার অপকর্মবিষয়ক কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ হলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় প্রশাসন।

মিল্টন গ্রেপ্তার হবার পর একে একে বেরিয়ে আসে তার যত অপকর্ম। এসব অপকর্মের মধ্যে মানবপাচার, অবৈধভাবে মরদেহ দাফন, টর্চার সেলে নিয়ে বৃদ্ধ-শিশুদের মারধোর, অবৈধ আয় উল্লেখযোগ্য।

বিষয়:

আশুরা উপলক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ জুলাই, ২০২৪ ১৭:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিল উপলক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর লালবাগে হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিল উপলক্ষ্যে ডিএমপির নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী ১৭ জুলাই (বুধবার) পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে তাজিয়া মিছিলসহ যেসব আয়োজন রয়েছে সে উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। যেসব ইমামবাড়া রয়েছে সেখানে ইন্সট্রুমেন্টাল চেকিং ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে যারা ইমামবাড়ায় প্রবেশ করবে তাদের আর্চওয়ে ও অন্যান্য সুইপিংয়ের মাধ্যমে এখানে প্রবেশ করতে হবে। হোসাইনী দালান ইমামবাড়ার সন্নিকটে যেসব উঁচু ভবন রয়েছে সেখান থেকে ইমামবাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র আশুরার অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ইমামবাড়ায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। তাজিয়া মিছিলের আগে-পেছনে ডানে-বামে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সিসিটিভি ও সাইবার চেকিংসহ যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার তা নেওয়া হয়েছে। ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল নিয়ে যেখানে যাওয়া হবে সেখানেও পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। তাজিয়া মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ থাকবে। আমরা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনুরোধ জানিয়েছি তারা যেন ছুরি চাকু ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশ না করেন। তাজিয়া মিছিলে পতাকা রাখার একটি বিধান রয়েছে, কিন্তু সেই পতাকা যেন বেশি উঁচু না হয় যাতে করে ইলেকট্রিক তারের সঙ্গে সংযোগ না হয় সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় মিটিং করে সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি আজ, আগামীকাল ও পরশুদিন এই তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নিরাপত্তার স্বার্থে ইমামবাড়ার আশেপাশে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সিভিল পোশাকে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আমাদের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। ইমামবাড়ার সন্নিকটে যেসব উঁচু ভবন রয়েছে সেখান থেকে অন্তর্ঘাতমূলক কোনো কর্মকাণ্ড যাতে পরিচালিত না হতে পারে সে কারণে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি থাকবে।

তাজিয়ে মিছিল ও পবিত্র আশুরাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিদের কোনো হুমকি রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, যেহেতু অতীতে তাজিয়া মিছিলে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে সেহেতু এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

বিষয়:

ঢাবিতে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এসময় কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

আজ সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে মল চত্বর, ফুলার রোড, নীলক্ষেত এলাকায়ও তা ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আন্দোলনকারীরা সমাবেশ ডাকেন। আড়াইটার দিকে সমাবেশস্থলে খবর ছড়ায়, বিজয় একাত্তর হলে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে এবং হামলা হয়েছে। এতে উত্তেজিত কতিপয় শিক্ষার্থী সেখান থেকে বিজয় একাত্তর হলের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে থাকেন।

এক পর্যায়ে বিজয় একাত্তর হলের গেইট থেকে ভেতরের দিকে ঢিল ছোড়া হতে থাকে। পাল্টা ভেতর থেকেও বাইরে ঢিল মারা হতে থাকে। তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয়পক্ষ পরস্পরকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

এদিকে বিজয় একাত্তর হলের পর মল চত্বরেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়ায় পিছু হটেন আন্দোলনকারীরা। তাদের কেউ ছুটতে থাকেন ফুলার রোডের দিকে, কেউ চলে যান নীলক্ষেতের দিকে। ওই সময় আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ পিটুনিরও শিকার হন।

বর্তমানে গোটা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি থমথমে। তবে বিজয় একাত্তর হল, জিয়া হল, বঙ্গবন্ধু হল ও মাস্টার দা সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দখলে।


আগেই বলেছিলাম, কোটা আন্দোলনে রাজনৈতিক অপশক্তি ঢুকেছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ জুলাই, ২০২৪ ১৬:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গতকাল রাতে যে ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই দেশে রাজাকারের পক্ষে স্লোগান, এটি রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান। এটি সরকারবিরোধী নয়। একইসঙ্গে সেখানে সরকারবিরোধী, প্রধানমন্ত্রীবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, কোটা আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক অপশক্তি ঢুকেছে, তা স্পষ্ট।

আজ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা ঢুকেছে। তাদের পরিকল্পিত কিছু মানুষ সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা যা বলেছিলাম, গতকাল তারা তা স্পষ্ট করেছে। কালকের যেসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্লোগান ও বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রমাণিত হয় এটি কোটাবিরোধী আন্দোলন নয়। এ আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরে থেকে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যরা সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে কখনো অস্থিতিশীল করতে দেব না। আমাদের সরকার অনেক শক্তিশালী সরকার। আমরা কোনো রাজনৈতিক অপশক্তিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেব না।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্পষ্ট করে বলেছে আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। আদালত যেভাবে নিষ্পত্তি করবেন, সরকারকে সেভাবে কাজ করতে হবে, এটি স্পষ্ট। যারা সংবিধান জানেন, দেশের আইন জানেন, আপনারা সবাই জানেন- এটি স্পষ্ট। এরপরও এ ধরনের স্লোগান দেওয়া এবং আন্দোলন করা এবং কালকের স্লোগান, কালকের বক্তব্য একেবারে দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকেছে।


তারা পাকিস্তানি হানাদার-রাজাকার বাহিনীর অত্যাচার দেখেনি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার বাহিনী যেভাবে এদেশে অত্যাচার করেছে। তাদের সেই অত্যাচার, রাস্তায় লাশ পড়ে থাকা এরা (কোটা আন্দোলনকারীরা) দেখেনি তাই নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জা হয় না।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সমূহের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর’ এবং ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন জানানো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ স্লোগান দেওয়াকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে গেছেন, লাখো মা-বোন নির্যাতিতা, তাদের এই অবদান ভুললে চলবে না। এটা মনে রাখতে হবে। দুর্ভাগ্য এখন যখন শুনি মেয়েরাও স্লোগান দেয়, কোন দেশে আমরা আছি, এরা কী চেতনায় বিশ্বাস করে? কী শিক্ষা তারা নিলো? কী তারা শিখলো?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্বের, জাতির পিতার একটি ডাকে এই দেশের মানুষ, ঘর-বাড়ি, পরিবার সব কিছু ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধে গেছে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে। আর এই যারা বাহিনীতে (রাজাকার-আল বদর-আল শামস) ছিল তারা এদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। সেটা ভুলে গেলে চলবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সেই শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিয়ে; তাহলেই এদেশ এগিয়ে যাবে। ’৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় ছিল ২১ বছর, তারপর ৯ বছর দেশকে কী দিতে পেরেছে? কিচ্ছু দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি। যখন ক্ষমতায় এসেছি মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ আজ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। বিশ্বের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত বাংলাদেশ। সেই দলটাতো থাকতে হবে।’

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই, এই বাংলাদেশ কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। মাথা নত করে চলবে না। বিশ্ব দরবারে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলব। সেই বিশ্বাস নিয়ে আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

গতকাল রোববার (জুলাই ১৪) সন্ধ্যা রাত থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে থাকা এসব শিক্ষার্থীদের মিছিল থেকে ‘আমি কে? তুমি কে? রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।


কাল যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকেব

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি প্রতিস্থাপন কাজের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ১০টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট আট ঘণ্টা বনানী ডিওএইচএস, শহীদ মঈনুল রোড এবং স্বাধীনতা সরণি সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এছাড়া আশেপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি প্রতিস্থাপন কাজের জন্য রাজধানীর কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, পূর্ব রাজাবাজার, গ্রিন রোড ও পান্থপথ এলাকায় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। ১০ জুলাই বুধবার এক বার্তায় এ তথ্য জানায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।


কর্মীদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে হবে

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের দক্ষ করে জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠাতে হবে বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মতৎপরতায় বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীরা বিভিন্ন কারিগরি জ্ঞান ও ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। বৈধ পথে তাদের অর্জিত রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে হবে।’

ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (ডিটিটিটিআই) আজ রোববার হাউসকিপিং প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রস্তুতকৃত ম্যানুয়ালের ওপর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সালেহ আহমদ মোজাফফর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক যুগোপযোগী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু প্রবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেই হবে না, প্রশিক্ষকদেরও প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আমি আশা করছি, আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে কিছুদিনের মধ্যে আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো ঢেলে সাজাতে সক্ষম হবো।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে তথা বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন, এখন তিনি লক্ষ্য স্থির করেছেন স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার। আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করলে ২০৪১ সালের আগেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সমর্থ হবো।’

বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের ভাষা জ্ঞানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) কী ধরনের ট্রেড চালু আছে বা আমরা কোন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মীদের দিই- তা সবাইকে জানার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

হাউসকিপিং কোর্সের প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশিক্ষণার্থীদের নিজেদের পরিবারের সদস্য ভাবতে হবে। তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করতে সমর্থ হয়েছি। সব ধরনের বাধা দূর করে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক করতে পারব। প্রবাসীদের সব সমস্যা আমার জানা। প্রবাসীদের কষ্ট আমি অনুভব করি। প্রবাসীদের সব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমি আপনাদের একজন হিসেবে সর্বদা কাজ করব।’


বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০ শতাংশ কমাতে ইসির ৮ নির্দেশনা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের ব্যবহার ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে তা বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গঠিত কমিটির সুপারিশে বিদ্যুৎ অপচয়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সংস্থাটি। সম্প্রতি ইসির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সহিদ আব্দুস ছালাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

ইসির দেওয়া ৮ নির্দেশনা হলো-

১. দিনে কাঁচের দরজা বা জানালা দিয়ে আগত প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের মাধ্যমে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার যতটুকু সম্ভব কমাতে হবে।

২. প্রতিবার অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় এয়ার কন্ডিশনের থার্মোস্ট্যাট, কম্পিউটার, লাইটসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ করতে হবে।

৩. এয়ার কন্ডিশনের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখতে হবে।

৪. রুমের বাইরে অবস্থানকালীন সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।

৫. কম্পিউটার মনিটর এবং ফটোকপি মেশিন ব্যবহার শেষে স্লিপ মোডে রাখতে হবে। এতে প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়ে থাকে।

৬. ব্যাটারি চার্জার (যেমন- ল্যাপটপ, সেলফোন ইত্যাদি) প্ল্যাগ ইন করে রাখলে বিদ্যুতের অপচয় হয়। তাই চার্জিং শেষে বৈদ্যুতিক পয়েন্ট থেকে চার্জার খুলে রাখতে হবে।

৭. কমন স্পেস (যেমন- সিঁড়ি, ওয়াশরুম, ওয়েটিংরুম, করিডোর ইত্যাদি) প্রয়োজন ছাড়া লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

৮. বিদ্যুতের অপচয় রোধে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাঁচ সদস্যের মনিটরিং কমিটির প্রধান করা হয়েছে সংস্থাটির মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল জাভীদকে, আর সেবা শাখার উপসচিব জাকির মাহমুদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক নির্দেশনার আলোকে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


banner close