সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।
অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।
দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।
বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।
শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।
অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।
শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’
জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।
যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’
কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :
জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।
জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।
ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় সংসদের আগামী সেপ্টেম্বরের অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এ জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন হবে না। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য নয়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত ৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তা প্রত্যাহার করা হবে।
এছাড়া মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সীমান্তে এক্সট্রা কিলিং শূন্যের কোটায়। এছাড়া যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোক না কেন, ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেছেন, মতামত, অনুমান কিংবা অ্যাক্টিভিজম দিয়ে সাংবাদিকতা হয় না। বরং বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও ডেটাভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রকৃত সাংবাদিকতা পরিচালিত হয়। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’ এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
‘দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যম কি ভিন্ন ভিন্ন রূপে একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়?’ শীর্ষক এ প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মণি দীক্ষিত, সাবেক প্রেস সচিব ও ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম এবং দ্য হিন্দু’র কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নেত্র নিউজের এক্সিকিউটিভ এডিটর নাজমুল আহসান।
প্যানেল আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা মূলত একজন স্বাধীন সাংবাদিকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে। সাংবাদিকরা তাদের নিজস্ব চোখ ও লেখনীর মাধ্যমে ঘটনাপ্রবাহ ফুটিয়ে তোলেন। তবে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।
দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর গণমাধ্যমের মূল সংকটগুলো প্রায় একই রকম। অতীতে কেবল বাকস্বাধীনতাই আলোচনার মূল বিষয় থাকলেও বর্তমান প্রযুক্তি ও মোবাইল সাংবাদিকতার যুগে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার কোনো একক সংজ্ঞা নেই। এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভাজিত। সমাজে কোনো একটি বিষয়ে মানুষের মতামত ভিন্ন হতে পারে। তবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাজ হলো আবেগ বা দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে আসল সত্য প্রকাশ করা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ হওয়া উচিত নয়। সাংবাদিকের মূল দায়িত্ব হলো উপাত্তের ওপর দাঁড়িয়ে সত্যকে উন্মোচন করা। ডেটা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো ধারণাই খবর হতে পারে না। সমাজকে সঠিকভাবে বুঝতে ও ফুটিয়ে তুলতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদচর্চার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্যানেল আলোচনায় সাবেক প্রেস সচিব ও ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, প্রিন্ট বা টেক্সট যুগের চেয়ে বর্তমান ডিজিটাল যুগে সমাজ ও সংবাদকক্ষগুলো সবচেয়ে বেশি বিভাজিত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও আনুগত্যের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সত্তর থেকে আশির দশকে সংবাদপত্র বন্ধ বা সেন্সরশিপের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা হতো। আর এখন পুরো নিউজ রুম বা সাংবাদিকদের নানা সুযোগ-সুবিধা ও প্রলোভনের মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয়।
প্রযুক্তির পরিবর্তন ও টেক্সট সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, টেক্সট বা প্রিন্ট সাংবাদিকতায় আর আগের মতো অর্থ বা অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নেই। মানুষ এখন আর দীর্ঘ লেখা পড়তে চায় না। নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরি ছাড়া টেক্সটভিত্তিক সাংবাদিকতা সংকুচিত হয়ে আসছে। আর এর জায়গা দখল করে নিচ্ছে ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মাধ্যম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘দ্য হিন্দু’র কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক। তবে সাংবাদিকদের মূলত তিনটি বিষয় থেকে দূরে থাকতে হয়। প্রথমত, তারা সরকার বা ক্ষমতার অংশীদারদের মুখপাত্র নন। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকরা ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ বা আন্দোলনকারী নন। তাদের কাজ কোনো পক্ষ নেওয়া নয়, বরং সত্যকে বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা। তৃতীয়ত, সাংবাদিকতা কোনো বিনোদন নয়। সংবাদের কাজ হচ্ছে মানুষকে অবহিত ও সচেতন করা।
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুহাসিনী হায়দার আরও বলেন, বিগত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ধারণার কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ কমে গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কেবল সীমান্ত, ভূ-রাজনীতিই মূল চ্যালেঞ্জ নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট, প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব, এআই এবং অপপ্রচারের মতো বিষয়গুলো এ অঞ্চলের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলভিত্তিক সমন্বিত সমাধান জরুরি।
এদিকে আজ দুপুরে রাজধানীর অন্য একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ অ্যান্ড ফ্ল্যাগশিপ প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারণ এআই নিয়ে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করাই এখন সময়ের দাবি।
সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদগণ এআই, ডিজিটাল নেতৃত্ব, সুশাসন, সাইবার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে এআই প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয় সফরে মালদ্বীপে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার (২৫ জুলাই) ম্যানিলা থেকে তিনি মালদ্বীপে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুতিশাম আদম এবং সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালদ্বীপে ড. খলিলুর রহমানের এটিই প্রথম সরকারি সফর। সফরসূচি অনুযায়ী ২৫ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত তিনি মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানকার স্বাধীনতা বার্ষিকীর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই তিন দিনের সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুতিশাম আদমের সঙ্গেও তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন নতুন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।
এর পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সাম্প্রতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করবেন। একই সাথে আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক মঞ্চগুলোতে উভয় দেশের বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিরাজমান দীর্ঘস্থায়ী সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে, যা আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যকার বহুমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির পথকে আরও প্রসারিত করবে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলীয় প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এবং দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক জ্যেষ্ঠ সদস্য এই নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁরা রাষ্ট্রপতির পদটিকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিষয় হিসেবে না দেখে সবসময় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই মূল্যায়ন করেছেন।
তিনি বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত মর্যাদা ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কাজ পরিচালনায় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সামগ্রিক ভূমিকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু তিনি তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের সময় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঠিক পূর্বে, অর্থাৎ ৫ থেকে ৮ আগস্টের সংবেদনশীল সময়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা ছিল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংকটের সেই চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি ধারায় বহাল রাখার ক্ষেত্রে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এর সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিও যোগ করেন যে, পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থেকে তাঁকে যথাযথভাবে ও পূর্ণ মর্যাদার সাথে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, যা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত ও যুক্তিযুক্ত কারণে পদত্যাগ করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। বিদায়ী রাষ্ট্রপতিও সেই স্বাভাবিক সাংবিধানিক সুযোগ অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এটি এখন সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে এবং পরবর্তী ধাপে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আর এই মধ্যবর্তী সময়ে দেশের প্রচলিত সংবিধান ও বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ায় এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন, কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন সূত্রে তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে। সে কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৭৯ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতা হিসেবে তার নামও রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় রয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান একাধিকবার সংসদ সদস্য এবং বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।
আলোচনায় নাসিমুল গনিও: রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু থামছেই না। হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া নতুন করে আরও ১ হাজার ১৩৭ শিশুর শরীরে হাম ও উপসর্গ দেখা গেছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, নতুন ১৮৭ জন নিয়ে নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ১৯৪ জন। সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৭১৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৫৬ জন। এসসয় সন্দেহজনক হামে মোট ৭১৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
কোটি কোটি শিশু এখনো ঝুঁকিতে: সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সরকার হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এবং পরে সারা দেশে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সরকারের দাবি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্যমাত্রাই প্রকৃত শিশুসংখ্যার তুলনায় কম ছিল।
জুনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে একই বয়সি প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ শিশু অংশ নেয়। সে হিসাবে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু হামের টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগপ্রতিরোধ ঘাটতির কারণেই জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পরও সংক্রমণ পুরোপুরি থামেনি। প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ শিশুই আগে হামের টিকা পায়নি।
আবার আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ১৯ গবেষকের আরেকটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিল-মে মাসে চিকিৎসা পাওয়া ৩৪১ শিশুর মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের ৫২ শতাংশের বয়স ছিল নয় মাসের কম। অর্থাৎ নিয়মিত টিকাদানের পূর্ণ সময়সূচি শেষ করার আগেই তারা আক্রান্ত হয়েছিল।
ডব্লিউএইচওর তথ্যেও দেখা গেছে, চলমান প্রাদুর্ভাবে প্রতি পাঁচজন আক্রান্তের চারজনই পাঁচ বছরের কম বয়সী।
চিকিৎসকদের মতে, টিকা না পাওয়া ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াই হামজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা সংগ্রহে জটিলতা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
এ বছর সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার নতুন পদ্ধতি চালুর পর সরবরাহে বিলম্ব হয় এবং সেটি হামের পুনরুত্থানে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রিয়াজ মোবারক বলেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতাই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। তিনি জানান, অনেক মা নিজেও হামের টিকা না পাওয়ায় তাদের নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃ-অ্যান্টিবডি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি নিয়মিত টিকাদানের আওতা দ্রুত বাড়ানো, রোগ নজরদারি জোরদার, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে রোগপ্রতিরোধ ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান। তার মতে, তা না হলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
১২টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদ ছাড়া বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে গ্রেড-২ মর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সালাহ্উদ্দিন সরকার।
একই গ্রেডে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান পদে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব পদে মো. কামরুজ্জামান (কামরুজ্জামান দুলাল) নিয়োগ পেয়েছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. শামসুজ্জামান (সুরুজ), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মো. জাকির সিদ্দিকি, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান পদে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. মামুন হাসানকে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সামসুল আলম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, যোগদানের আগে সেসব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তাদের এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে।
বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই। ২০২৫ সালে দেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বা প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে পারেননি। দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘হেলদি ডায়েট বাস্কেট’ (স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার) মূলে রয়েছে দৈনন্দিন মাথাপিছু অন্তত ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরির সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা। এর আওতায় শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শাকসবজি, ফলমূল, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও তেল-চর্বির মতো ছয়টি মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেবল পেট ভরানো নয়, বরং শরীরের সঠিক বিকাশ ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এসব উপাদানের উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় এই খাদ্যতালিকা জোগাড় করা দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
কেবল বাংলাদেশেই নয়, খাদ্য নিরাপত্তার এই বৈশ্বিক সংকট পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই দৃশ্যমান। এ অঞ্চলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক, যেখানে প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার ক্ষমতা নেই। পাকিস্তানের পরপরই দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য সংকটের বিচারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ সুষম খাবার জোগাড় করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, যার মধ্যে আফ্রিকায় এই হার সর্বোচ্চ ৬৬.৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের অযৌক্তিক ও আকাশছোঁয়া দামই এই সংকটকে নিয়মিত উসকে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস এবং ফলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত তা কার্যকর হলেও বিশ্ববাজারে দাম কমার সুফল স্থানীয় ভোক্তারা সহজে পান না। ফলে সাধারণ মানুষের আয় সামান্য বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার কেনা তাদের নাগালের বাইরেই রয়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে দেশে স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশে একজন মানুষের জন্য প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালে যেখানে ৩.০৯ ডলার পিপিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। খরচের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে মূলত প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে, আর শর্করাজাতীয় খাবারে ব্যয় হচ্ছে তুলনামূলক কম। এ অঞ্চলে খরচের বিচারে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পরই বাংলাদেশের অবস্থান হলেও পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবারের সার্বিক খরচ মাত্র ৩.৯৪ ডলার।
অবশ্য এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মধ্যেও আশার একটি আলো খুঁজে পাওয়া গেছে পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারার সক্ষমতার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে। ২০১৭ সালে যেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬২.৮ শতাংশ অর্থাৎ ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারতেন না, ২০২৫ সালে সেই হার কমে ৩৮.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে খাবারের দাম বৃদ্ধির হারের চেয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্য বাবদ বরাদ্দের আয় কিছুটা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই সামর্থ্যহীন মানুষের মোট সংখ্যায় এই ইতিবাচক পতন সম্ভব হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিসরেও স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ সাম্প্রতিক সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী দৈনিক সুষম খাবারের গড় খরচ ২.৯৪ ডলার থাকলেও ২০২১ সালে তা বেড়ে ৩.৪৪ ডলার এবং ২০২৫ সালে এসে দাঁড়ায় ৪.২৮ ডলারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই দৈনন্দিন খরচ ৪.৯১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পরও বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের মোট সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে নেমে এসেছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে নিয়ে আসতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত সংসংরক্ষণাগার নির্মাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির সার্বিক উন্নয়ন, নিখুঁত বাজার তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্যের যেকোনো ধরণের অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজাভাত ইসারাভাকদির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি ও পর্যটনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে সরকারি সফর শেষে ব্যাংককে যাত্রাবিরতিকালে তিনি এ বৈঠক করেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ বৈঠকে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর থাইল্যান্ডে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
উপদেষ্টা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন। থাই উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে দেশটির গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপদেষ্টা থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এর ফলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ওপর। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পেশ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের শপথের বিধিতে উল্লেখ রয়েছে—কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে গেলে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।” সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এখন থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে হাফিজ উদ্দিন জানান, মূলত শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তার পদত্যাগপত্রে বিস্তারিতভাবে অসুস্থতার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপতির নিজের স্বীকারোক্তির পর এ বিষয়ে আলাদা করে আর কোনো চিকিৎসকের সনদপত্রের প্রয়োজন নেই বলে স্পিকার মন্তব্য করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ধোঁয়াশা কেটে গেছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য রাখা যায় না এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইস্তফার কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ফলে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সর্বোচ্চ পদের এই পরিবর্তন নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।’ দায়িত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকারের শপথ নেওয়ার সময় আমি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়েছিলাম। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারি। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের শপথের সময় বলা হয়েছে, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের পদের দায়িত্ব পালন করবেন।’
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের সময়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর এই পদে বহাল থাকার কথা ছিল। গত কয়েকদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই শুক্রবার দুপুরে বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে আসেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগ ও রদবদল সম্পন্ন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে প্রেষণে ও বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ। অন্যদিকে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলামকে।
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মো. খয়বর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরগুলোতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি তাঁর দায়িত্বকাল এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ অসুস্থতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পত্রে দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল উল্লেখ করে বলেন, "আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।" পত্রে তিনি গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি বর্ণনা করে জানান, "৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।"
বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি পত্রে আরও উল্লেখ করেন যে, "নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।" দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।"
রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য স্পিকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনের একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।