সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।
অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।
দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।
বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।
শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।
অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।
শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’
জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।
যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’
কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :
জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।
জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।
ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় তিনি শহীদ মিনারে উপস্থিত হবেন এবং সে সময় তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেবেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
শহীদ মিনার পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং-শহীদ মিনার রুট অনুসরণ করতে হবে। অন্য কোনো রাস্তা ব্যবহার করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। শ্রদ্ধা শেষে শহীদ মিনার থেকে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চাঁনখারপুল হয়ে স্থান ত্যাগ করা যাবে। কেউ কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য সঙ্গে আনবেন না।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিছু প্রবেশপথে ডাইভারশন চালু থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে সহযোগিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
ফোনালাপে দুই নেতা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান।
শহিদুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে র্যাব সতর্ক অবস্থানে থাকবে। গত দেড় বছরে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে স্থিতিশীলতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতির উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনের নামে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে র্যাব আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘিরে র্যাব বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র্যাবের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহীদ মিনার এলাকায় ইনার ও আউটার পেরিমিটারভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। পুরো এলাকা কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে ফুট পেট্রল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ মোতায়েন থাকবে। বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
মহাপরিচালক বলেন, নিরাপত্তাজনিত কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই। তবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
দেশব্যাপী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা দেশে বিভিন্ন আয়োজন হবে। এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না করায় ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে না।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে পড়েছে। একাধিক ফ্লাইট এখন বিকল্প করিডোর ব্যবহার করায় দূরত্ব ও সময় বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের বিপরীতে স্পাইসজেটের কাছে বড় অঙ্কের ‘ওভারফ্লাইট চার্জ’ বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংস্থাটি।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলো এখন বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলছে।
সাধারণত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে যেতে বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়। তবে বর্তমান নিষেধাজ্ঞায় প্রতিটি ফ্লাইটে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে এবং খরচও বেড়েছে।
ইতোমধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা স্পাইসজেটের জন্য এটি নতুন চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হিসাবে সংস্থাটি ২৬৯ কোটি রুপির বেশি লোকসান করেছে। অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা।
বকেয়া পরিশোধ করে পুনরায় অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রুটে স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা সংস্থাটির জন্য কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রমজানের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে বসতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ কথা জানা গেছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর উপধারা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি, তবে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতেই তা করা হয়। প্রথম বৈঠকের তারিখ ও সময় রাষ্ট্রপতির আদেশেই নির্ধারিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফল সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যেই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসা বাধ্যতামূলক। তবে সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিগত ১২টি জাতীয় সংসদের মধ্যে মাত্র তিনটির প্রথম অধিবেশন রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারির মাধ্যমে জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন আর মাঠ পর্যায়ে নয়, সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এ নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নাগরিক সেবা সচল রাখা এবং জমে থাকা আবেদন দ্রুত শেষ করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে ইসি জানিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনগুলো ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হবে এবং সেগুলো এনআইডি মহাপরিচালকের অধীনে ন্যস্ত থাকবে। ফলে এসব আবেদন এখন থেকে মহাপরিচালক পর্যায়েই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে।
জরুরি তিন নির্দেশনা
১. জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২. প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
বিএনপির বহুল আলোচিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ঈদের আগেই বিতরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর-রশীদ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কথা বলেন।
এদিকে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ২ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের 'ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি' গঠন করা হয়েছে।
দেশের ৮ বিভাগের ৮ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিংয়ের লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে কোন উপজেলায় পাইলটিং হবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।
প্রথম দিকে প্রান্তিক ও নিম্ন-আয়ের পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবদের সমন্বয়ে এ কমিটি করা হয়েছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন—মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। এছাড়া আছেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ৭টি মন্ত্রণালয়ের সচিব।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে—‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাপনার একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের আওতায় প্রয়োজনীয় ডিজিটাল এমআইএস প্রস্তুত করা।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রিসভার বৈঠকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেশের মায়েদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ছোট মন্ত্রিসভা উপকমিটি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই কমিটিতে রয়েছে। ঈদের আগে এটা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।’
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘এই কার্ড হবে সর্বজনীন। কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য হবে না। কোনো ভায়া না হয়ে সরাসরি কীভাবে উপকার ভোগীর হাতে টাকা পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। এখন যেসব কার্ড প্রচলিত আছে, সেগুলো চলমান থাকবে। এখন যা পাচ্ছে, প্রতি কার্ডে তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি টাকা পাবে।’
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। কীভাবে এটি কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে এবং কার্ড দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
কতো পরিবার এ সুবিধা পাবে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এটি মূলত সার্বজনীন উদ্যোগ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। কোনো কঠোর বিধিনিষেধ থাকছে না। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথমে যারা হতদরিদ্র, এরপর পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে এই সুবিধার আওতায় আসবে।
এই রমজানেই কি কার্যক্রম শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী চান, অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে হলেও রমজানেই এর সূচনা হোক।
পরিবেশমন্ত্রী মিন্টু বলেন, এটি তো চালু হবেই, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা এখন কেবল মেকানিজম ঠিক করছি—কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে শুরু করা যায়।
কৃষিমিন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া বড় সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। ফলে নতুন সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এগুতে হবে ভেবে-চিন্তে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন নতুন সরকারকে হয় নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে, নয়তো বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হবে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
সূত্র বলছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল শুধু রুটিন কাজ ও নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু ২৫ দিনে (১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি) তড়িঘড়ি করে এক লাখ ছয় হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ৬৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার ৪০টি প্রকল্পই সম্পূর্ণ নতুন। দেড় বছর মেয়াদে এই সরকার ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা।
এদিকে, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা এবং বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড় বাড়াতে গিয়ে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বিদেশি ঋণের পথে হেঁটেছে অন্তর্বর্তী সরকার, ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হিসাব মতে, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই ঋণের বোঝা প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে আইএমএফ ও সরকারের গ্যারান্টি দেওয়া ঋণ অন্তর্ভুক্ত করলে প্রকৃত দায়ের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় আর্থিক দায় রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল। এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে গত অন্তর্বর্তী সরকার। তবে আপাতত বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।
বিমান ও সরকারি উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানায়, উড়োজাহাজবহর আধুনিকীকরণ জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় হলেও ভোটের ঠিক আগে এমন তাড়াহুড়া ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের সময়ে এর কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
অন্তর্বর্তী সরকার চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই করেছে। নৌসদর দপ্তরে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে একটি ‘অফ দ্য শেলফ’ হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ঢাকার চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। এর মোট ব্যয় ২৪ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকারের জন্য ব্যয় হবে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। আর দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার কেনায় ব্যয় হবে আট কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
সাবেক একজন অর্থসচিবের মতে, মেয়াদের শেষ সপ্তাহে এসে এক লাখ কোটি টাকার বেশি আর্থিক দায় তৈরি করা প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহিভর্ভূত। বিশেষ করে পে স্কেল বা মেগাবিমান ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেট হওয়া উচিত ছিল। এখন পরবর্তী সরকারকে হয়তো শুরুতেই বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি ও আইএমএফের কঠিন শর্তের মুখে পড়তে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, যে চুক্তিগুলো জরুরি নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল। বড় কোনো অর্থনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়নি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারত।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে. মুজেরি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আয়ু মাত্র কয়েক দিন ছিল, শেষ সময়ে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল অযৌক্তিক। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করেছে গত অন্তর্বর্তী সরকার।
তিনি আরো বলেছেন, গত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতিতে সফলতা নেই বললেই চলে। তাদের নেওয়া অর্থনৈতিক নীতিগুলোর একটি সাধারণ ধরন, ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকার আগের চেয়ে ঋণ পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক করে রেখে গেছে বলে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিল, তার চেয়েও তা আরও নাজুক অবস্থায় রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরসহ যে সব বৈদেশিক চুক্তি করেছে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নতুন সরকারের টাকা ছাপানোর চিন্তা স্বপ্নেও করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোজার প্রথমদিনেই বাজার চড়া। এই সময় নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দামও। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকেও স্বস্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত মোকাবিলা, ঋণের বোঝা কমানো এবং কর ও ব্যাংক সংস্কার—এই পাঁচ চাপ সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়াই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাফল্য পেতে হলে শুধু সঠিক নীতিই নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক দৃঢ়তা। সরকার যদি এই চাপ সামলাতে পারে, তবেই ভিত্তি মজবুত হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা মূল্যস্ফীতি কমার সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত ডিসেম্বরের ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি অর্থমন্ত্রীকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর জনআস্থা ওঠানামা করে মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ওপর নির্ভর করেই। ফলে নতুন সরকারের সামনে দীর্ঘ অগ্রাধিকারের তালিকা—রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি। তবে তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ—মূল্যস্ফীতি। কারণ, কোটি কোটি পরিবারের কাছে নতুন সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি একটাই—খাদ্যপণ্যের দাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছাতে হবে। এ জন্য অর্থ, বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতীতে সরকারগুলো এখানেই হোঁচট খেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের রাজনৈতিক ‘হানিমুন পিরিয়ড’ ছয় মাসের বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে। এরপরই মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এমন এক অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছে, যা ভঙ্গুর এবং এখনো বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে প্রবেশ করে। এরপর থেকে আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে।
আগের অন্তর্বর্তী সরকার আশা করেছিল, আন্তর্জাতিক সদিচ্ছায় হয়তো ঋণ আলোচনা সহজ হবে। কিন্তু ঋণদাতারা তাদের শর্তে অনড় ছিল। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কিস্তি আটকে গিয়েছিল, আবার কঠোর শর্ত মানার পর তা ছাড় হয়েছে।
আগামী মাসে আইএমএফের আরেকটি মিশন ঢাকায় আসছে। সেখানে রাজনৈতিক কোনো অজুহাত টিকবে না। আইএমএফ মূলত রাজস্ব আদায়ে শৃঙ্খলা, মুদ্রানীতির সংকোচন এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের অগ্রগতির ওপর জোর দেবে। আইএমএফের সমর্থন শুধু অর্থের জন্য নয়, অন্য দাতা সংস্থাগুলোর আস্থা অর্জনের জন্যও জরুরি।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রীকে প্রথমেই সম্পদের সঠিক হিসাব-নিকাশ করতে হবে। আইএমএফ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বা সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের জন্য এভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সরকার কি কঠোর নীতি বজায় রেখে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করবে, নাকি প্রবৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে শর্ত শিথিলের জন্য দর-কষাকষি করবে?
রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকলেও তা স্বস্তির কোনো কারণ নয়। বর্তমান রিজার্ভের স্থিতিশীলতা মূলত অর্থনীতির শ্লথগতির ফল। বিনিয়োগ কমেছে, আমদানি কমেছে এবং ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সরকার যদি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সফল হয়, তবে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আবারও বাড়বে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। অতীতে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার নজির রয়েছে।
রাজস্ব পরিস্থিতিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। বেতন বাড়াতে হলে বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে, যা দেশের পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের আড়াই গুণের সমান। মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি এখনই শুরু করতে হবে। প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিচালন ব্যয় যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তবে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যখন বিনিয়োগ নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই সরকারকে ঋণ করতে হবে।
সরকারি ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে মোট সরকারি ঋণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঋণের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমেছে, কিন্তু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০২২ সাল থেকে ব্যাংক খাতের ঋণ ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে তারল্য তুলে নেওয়ায় সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করে ফেলছে।
প্রবৃদ্ধি ঠিক রেখে সরকারি অর্থের জোগান দিতে হলে সরকারকে কর আদায় বাড়াতে হবে। অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের লিকেজ বা ফাঁকির কথা বলেন। কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ফাঁকি কমানো এবং আদায় ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করলে করহার না বাড়িয়েও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।
অবশ্য কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া এবং এনবিআরকে ঢেলে সাজানোর কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও বাস্তবায়নে গতি কম।
এদিকে ব্যাংকিং খাতেও গভীর সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, বিশেষ করে ব্যাংক পর্ষদে পারিবারিক প্রতিনিধিত্বের নিয়ম পরিবর্তন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আর্থিক খাতের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি, যাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হন।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বাইরে ভূ-রাজনীতির একটি সময়সীমাও ঘনিয়ে আসছে। নভেম্বরে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হওয়ার কথা। এটি অগ্রগতির মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে, যা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ অন্তত তিন বছর পেছানোর চেষ্টা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো বিএনপির নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আবারও ফিরে আসছে রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এখন সাজ-সাজ রব। ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কর্মীরা। মূল বেদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে আলপনা আঁকা– সব মিলিয়ে এক কর্মমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।
শুক্রবার রাত থেকেই ফুল হাতে জনতার ঢল নামবে শহীদ মিনারে। মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হবেন মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেদীর আলপনার কাজ চলছে পুরোদমে। মূল চত্বরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও রাস্তার আলপনার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে। এ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে।
প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা ইতি বলেন, ‘আমরা চারুকলা অনুষদের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে লাইন টানার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আজ এবং আগামীকাল রং করার কাজ চলবে। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো আয়োজনটি সুন্দরভাবে শেষ করা যায়।’
একই অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিবেক কুমার বলেন, ‘আমরা সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। চারুকলা অনুষদের শিক্ষকরা এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করছি আগামীকালের মধ্যেই আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হবে এবং সবকিছু যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’
কেবল মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংবলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চারটা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বসে আলোচনা করে খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ওনার জীবদ্দশায় এ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশে একটি মহাবিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। তো দীর্ঘদিন থেকে আমরা দেশবাসী ভুক্তভোগী যে খাল খননও নেই এবং এই যে পানি জলাবদ্ধতা অথবা জলাশয়ে কোনো পানি নেই, সেচের ব্যবস্থা নেই—সবকিছু থেকে দেশবাসী আমরা বঞ্চিত।’
তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগ থেকেই বারবার এই কথাটা উল্লেখ করেছেন এবং খাল খনন প্রক্রিয়াটাকে পুনঃখনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে নিয়ে আসবেন, আমরা যেন দেশের মানুষ সুবিধাটা পাই।’
শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আজকে আমরা মিটিং করেছি। সিদ্ধান্ত হয়েছে চারটা মন্ত্রণালয় আমরা বসে—বিশেষ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়সহ আমরা এই চারটা মন্ত্রণালয় বসবো। আলোচনা করবো এবং পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কীভাবে খাল খননের এই কর্মসূচি এবং বিপ্লব আকারে নিয়ে এটাকে সাকসেস করতে পারি, সেই সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাব। আমাদের কার্যক্রম ১৮০ দিন যেটা, সেই কার্যক্রম আমাদের শুরু হবে।’
১৮০ দিনের মধ্যে কি এটা শুরু হবে- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরু করবো এবং ম্যাক্সিমামটা করার চেষ্টা করব ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান করার। শুরু হবে খুব শিগগিরই। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কবে থেকে শুরু হবে।’
জানুয়ারিতে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যানবাহনভিত্তিক নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ৯, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন রয়েছে।
দুর্ঘটনায় ৮৮৫টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ২১৭টি মোটরসাইকেল, ১৬৪টি থ্রি-হুইলার, ১৪৪টি ট্রাক, ১০৮টি বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫৬টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরনে ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি পেছন থেকে আঘাতে এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালে ২৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে, রাতে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং দুপুরে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তারেক রহমানকে এই অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চিঠিটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল।
চিঠিটি শেয়ার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্যাপশনে লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিজ এক্সিলেন্সি জনাব তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দনবার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার চিঠিতে তারেক রহমানকে ‘প্রিয় জনাব প্রধানমন্ত্রী’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে আপনাকে আপনার ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার মেয়াদ সফল হোক—এই কামনা করি।’
ট্রাম্প আরও লিখেন, ‘আমাদের দুই দেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও একটি অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আমরা একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শক্তিশালী ও সার্বভৌম দেশগুলো সমৃদ্ধ হতে পারে। আপনি যখন আপনার দায়িত্বের মেয়াদ শুরু করছেন, তখন আমি আশা করি আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আপনি আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কের অসাধারণ অগ্রগতি ধরে রাখতে আমাকে সহায়তা করবেন। এই চুক্তি আমাদের দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য উপকারী।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আরও আশা করি, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সম্পন্ন করার জন্য আপনি দৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন। এর ফলে, আপনার সামরিক বাহিনী উচ্চমানের, আমেরিকায় তৈরি সরঞ্জাম—যা বিশ্বের সেরা—ব্যবহারের সুযোগ পাবে।’
চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। বাংলাদেশে আমার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা একসঙ্গে আমাদের দুই দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করার সুযোগ পেয়েছি। আগামী দিনগুলোর জন্য আপনাকে শুভকামনা।’