বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোটাবিরোধী আন্দোলন: হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার!

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফাইল ছবি
আপডেটেড
১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০১

সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।

অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।

দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।

বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।

অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।

শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।

যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’

কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :

জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।

জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।

ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।


সিন্ডিকেটে জিম্মি চামড়ার বাজার, শিল্প ভাসে পানিতে 

* সিইটিপি সংকটে কমেছে রপ্তানি * চরম লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা   * কেউ ফেলেছেন নদীতে, কেউ ময়লার ভাগাড়ে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারও কোরবানির ঈদ ঘিরে চামড়াশিল্প নিয়ে পুরনো সংকটের পুনরাবৃত্তি দেখল দেশবাসী। লবণযুক্ত চামড়ার দাম এ বছর প্রতি বর্গফুট দুই টাকা বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে সেই দাম পাননি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ কারণে চরম লোকসানের মুখে দেশের কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা চামড়া সড়কে ফেলে দিয়েছেন। কেউ ফেলেছেন নদীতে। কেউ আবার রাগে-ক্ষোভে ময়লার ভাগাড়ে ফেলেছেন। অথচ একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে, ট্যানারিগুলো লাখ লাখ চামড়া সংগ্রহ করছে। এরপরও কাঁচা চামড়ার বাজারে ধস। ফলে পুরো চামড়া শিল্প সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

এদিকে, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থাপিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্মিত না হওয়ায় ট্যানারিগুলো আন্তর্জাতিক সনদ পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে একের পর এক হারাচ্ছে বৈশ্বিক বাজার। বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চামড়ার দামও নেমে এসেছে তলানিতে।

পবিত্র ঈদুল আজহা বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় মৌসুম। সারা বছরের কাঁচামালের প্রায় অর্ধেক আসে এই ঈদে। অথচ প্রতি বছরই দেখা যায় একই চিত্র। সরকারি দাম ঘোষণা, মাঠপর্যায়ে দাম না পাওয়া, সিন্ডিকেট, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হতাশা এবং কোথাও কোথাও চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনা। এবারের কোরবানির ঈদেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। এবার দেশে প্রায় ৯০ লাখ গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। সরকারি হিসাবে গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। তবে বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ কম হবে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা শুরু থেকেই ৭৫ থেকে ৮০ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কোরবানির সংখ্যা কমতে পারে।

এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়. যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। এই হিসাবে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোরবানির দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেই চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। ছোট আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। জামিয়া কারীমিয়া আরাবিয়া (রামপুরা) মাদ্রাসার চামড়া সংগ্রহকারী ও সুলতান ভূঁইয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর কোরবানি কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত হারে চামড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও পোস্তার আড়ত ব্যবসায়ীরাও কারসাজি করে পানির দরে চামড়া কিনেছেন। ঢাকার কোথাও সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি। ফলে মুষ্টিমেয় কিছু ট্যানারি ও আড়ত ব্যবসায়ী মুনাফা পেলেও বাকি সবাইকে লোকসান গুনতে হবে। তিনি জানান, চামড়ার দাম না পাওয়ায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হতাশা বিরাজ করছে। কারণ চামড়া বিক্রিত অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্য, বস্ত্র ও বেতনভাতা হয়ে থাকে।

খিলগাঁও গোড়ান বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, গত বছর যে মানের চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন, এবার সেখানে ৬৫০ টাকার বেশি দাম পাননি। পুরান ঢাকা ওয়ারীর ব্যবসায়ী সালাম মিয়ার ক্ষোভ আরও তীব্র। তিনি ২৫০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু পোস্তার ক্রেতারা এমন দাম প্রস্তাব করেন, যা থেকে পরিবহন খরচও ওঠে না। শেষ পর্যন্ত লোকসানে চামড়া বিক্রি করে এক বুক হতাশা নিয়ে বাসায় ফেরেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

লালবাগের পোস্তার কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, ভালোমানের চামড়া সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের মধ্যেই বেচাকেনা হয়েছে। তবে ত্রুটিযুক্ত চামড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে দাম কমে যেতে পারে।

কারা লাভবান হলো : বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত ছিল। অনেক ছোট ব্যবসায়ী ও আড়তদার ঋণ না পাওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে ট্যানারিগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে ঈদের তৃতীয় দিন রাত পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার পিছ কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি গরু ও মহিষের চামড়া। ১ হাজার ৭২৫টি ট্রাকে এসব চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে। এ থেকে বোঝা যায়, বাজারে কাঁচামালের ঘাটতি ছিল না। বরং সংগ্রহ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। তবে দাম নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের দিন বিকাল পর্যন্ত এক ধরনের দাম থাকলেও সন্ধ্যার পর যোগসাজশ করে আড়তদাররা একযোগে দাম কমিয়ে দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুরান ঢাকার পোস্তা আড়ত মালিক ও সাভারের ট্যানারি মালিকদের কারসাজির কারণেই চামড়ার বাজারে পতন হয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া এবার চামড়া কেনার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো মাত্র ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অনেক ট্যানারি পুরনো ঋণে খেলাপি হওয়ায় নতুন করে ঋণ পায়নি। ফলে অনেক আড়তদার ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাজারে সক্রিয় হতে পারেননি। এতে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং দামও নেমে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রায় ৯৯ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। কিন্তু কাঁচা চামড়ার দাম বাড়ছে না।

এ বছর এখন পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে প্রায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার পিস এসে পৌঁছেছে। ট্যানারি মালিকদের ভাষ্যমতে, এসব চামড়া তারা সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা পিস দরে কিনেছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন অনেক ক্ষেত্রে। একটি গরুর চামড়া মাত্র ২০০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ২০১৭ সালে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ১৬০টি ট্যানারি সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, সব ট্যানারির কঠিন ও তরল বর্জ্য পাইপলাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারে গিয়ে পরিশোধিত হবে। এর মাধ্যমে ট্যানারিগুলো সহজেই আন্তর্জাতিক মানের ‘লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, সিইটিপি নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে শিল্পনগরীর বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ বেড়েছে এবং পাশের ধলেশ্বরী নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়েছে রপ্তানি বাজারে। বর্তমানে শিল্প নগরীর শতাধিক ট্যানারির মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বড় ক্রেতারা বাংলাদেশি চামড়া কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে প্রধানত চীনই বাংলাদেশের চামড়ার অন্যতম ক্রেতা হিসেবে রয়েছে।

ট্যানারি মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। একটি চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, রাসায়নিক ব্যবহার, শ্রমিকের মজুরি ও প্রক্রিয়া জাতকরণসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট চামড়া সর্বোচ্চ ৭০ সেন্ট দরে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচই উঠে আসছে না, লাভ তো দূরের কথা।

আজমির লেদারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহ বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ট্যানারি পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা না থাকায় চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। সিইটিপির সমস্যার সমাধান না হলে এই সংকট কাটবে না।

চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার নতুন করে আধুনিক সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের নিজস্ব উদ্যোগে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয়টি ট্যানারিকে ইটিপি স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সদর ট্যানারি ও বে ট্যানারি নিজস্ব ইটিপি স্থাপন করেছে। তবে বাকি চারটি ট্যানারি এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তবে ট্যানারি মালিকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সিইটিপির সমস্যা সমাধান ছাড়া পৃথক ইটিপি স্থাপন খুব বেশি সুফল বয়ে আনবে না। কারণ ইটিপিতে শুধু তরল বর্জ্য (ওয়াটার ওয়েস্ট) শোধন হয় কিন্তু কঠিন বর্জ্য (সলিড ওয়েস্ট) শোধনের জন্য সিইটিপিতেই পাঠাতে হবে। এছাড়া একটি ইটিপি স্থাপনে শত কোটি টাকার বেশি ব্যয় প্রয়োজন হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগ নিতে পারছে না।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, চামড়াশিল্পকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সিইটিপি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রপ্তানি বাজার পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা চামড়ার মান কমে যাওয়াও দরপতনের অন্যতম কারণ। ইদানীং পশুর শরীরে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (স্থানীয় ভাষায় করোনা) এর কারণে সংগৃহীত চামড়ার প্রায় ২৫ শতাংশই রপ্তানি অনুপযোগী। এছাড়া পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলা হয়। এতে চামড়ার পুরুত্ব ও মান নষ্ট হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমিয়ে দেয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিইটিপি প্রকল্প। এখন নতুন সিইটিপি নির্মাণ এবং পৃথক ইটিপি স্থাপনের মাধ্যমে চামড়া শিল্পে কতটা সুদিন ফিরে আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।


চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে বিএমইটির সেবাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ডের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। এতগুলো আলাদা কার্ডের প্রয়োজন নেই। আমরা চাই, একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন।’

মন্ত্রী জানান, শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই নয়; ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসী কার্ডটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত সুবিধাগুলো নির্ধারণ করিনি। তবে কীভাবে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়, ব্যাংকিং গেটওয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং কারেন্সি-সংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।’

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ভূমিসংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা যেন ভূমি অফিসে বা হাসপাতালে গিয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার পান, সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’

এদিকে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (০১ জুন) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার (০২ জুন) থেকেই এই সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। শিগগিরই অভিযোগ পাঠানোর পদ্ধতি প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে। এতে আইন, কল্যাণ, সেবা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মীর শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দুর্ভোগ, বিমানের টিকিট সংকট এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ তদন্তে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব এজেন্সি কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েও টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণা করেছে, তদন্ত শেষে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও কতজন কর্মী আটকা পড়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে, যাতে বিশেষ বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পুনরায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় অথবা সময়সীমা বাড়ানো যায়। কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্রের কাছে সরকার মাথা নত করবে না। অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএমইটির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।

চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহসভাপতি পদে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলসি) সহসভাপতি হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সম্মেলনের সভাপতি উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো এবং অন্য দুই সহসভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান ও আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজের পাশাপাশি তিনি এ দায়িত্ব সামলাবেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রতি বছর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।

গত ১ জুন এই নির্বাচনে আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মত সমর্থন জানান। এটি বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।

জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আইএলওর গণতন্ত্রায়ণ, শোভন কর্মসংসথান, সামাজিক ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়া এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।

মিশন আরও জানায়, বিশ্বজুড়ে শ্রমশক্তির নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অবদান, এটি তারই এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

সম্মেলনের সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আইএলও’র সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে (আইএলসি) বিশ্বের ‘শ্রম সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যা আইএলওর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম।

কাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে সরকার, শ্রমিক সংগঠন এবং নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।


তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে, গত ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশ খেলাপি থাকলেও মার্চ শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (০২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মার্চ ২০২৬ ভিত্তিক ‘শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন’–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত বা মন্দ ঋণ। ডিসেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে উঠেছে।

এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।

ব্যাংকভেদে খেলাপি ঋণের চিত্রে দেখা যায়, সব ধরনের ব্যাংকেই শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের হার ডিসেম্বরের ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে মার্চে বেড়ে ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ দশমিক ১১ শতাংশে, বিদেশি ব্যাংকে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৮২ শতাংশে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশে উঠেছে।

মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

পরিমাণের দিক থেকেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৭ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি বাড়তে থাকায় ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও নতুন ঋণ বিতরণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে আরও সময় দিতে রাজি ইউএনসিডিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন বছর সময় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সরকারের আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)।

ইউএনসিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে একমত ইউএনসিডিপি। ফলে কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতিবাচক সুপারিশ করার পথ তৈরি হয়েছে।

ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন যৌক্তিক। তবে এই অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের একটি সুযোগ।

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইউএনসিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ করেছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্য মেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণ প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারিত হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে প্রস্তুতি পর্ব ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কমিটি বিশেষভাবে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দিয়েছে।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ২২:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ৯৯টি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই জয়ের ফলে আগামী এক বছর মেয়াদে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। এটি বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাব ও সক্ষমতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সাইপ্রাস। ভোটগণনা শেষে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। ফল ঘোষণার পরপরই সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসার গৌরব। এর আগে দীর্ঘ ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে সংস্থাটির ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর পুনরায় এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এখন থেকে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নানা এজেন্ডা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী চলমান নানা সংকট নিরসনে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় সাধারণ পরিষদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আগামী এক বছরের এই মেয়াদে তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবেন। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


৭ অতিরিক্ত সচিবকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে সাতজন অতিরিক্ত সচিবকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার (০১ জুন) রাতে দেওয়া এসব প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম ও সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষর করেছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব জিন্নাত রেহানাকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান।

এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশিদা ফেরদৌসকে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম হুমায়ুন কবির সরকারকে।


যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকা মহানগরীর বাহিরে নেওয়ার চিন্তা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে মেট্রো এলাকার বাইরে পাঠিয়ে পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (০২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কথা বলেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন করে কেউ বেকার হবে না, আবার একই সাথে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। দেশে রাতারাতি বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা রাস্তায় নেমে আসায় বেকারত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের হুট করে উচ্ছেদ করা কঠিন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও চালকদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখে তাদের মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে।

একই সাথে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের যৌথ সমন্বয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা ও জনসচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, এমনকি রাতের বেলাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাম্প্রতিক নৃশংস শিশু হত্যার বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান থাকায় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে যথাসময়ে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটিকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচারসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হবে।


২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্পোরেট ডেস্ক

আজ দেশব্যপী উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) অন্যান্য পরিচালকদের ও ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠাবার্র্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান। আরও বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম. এ. খান বেলাল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, উদ্যোক্তা পরিচালক এ.এস.এম. ফিরোজ আলম, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর নাসরিন সুলতানা, পিএইচডি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ মোঃ জাকির হোসাইন, শামীম আহম্মদ, অসীম কুমার সাহা, ড. মোঃ জাহিদ হোসেন ও ড. তাপস চন্দ্র পাল, এসইভিপিবৃন্দ মোহাম্মদ ইকবাল রেজওয়ান, মোঃ আব্দুল হালিম ও মেইন শাখার প্রধান মোঃ আব্দুল আউয়াল সহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যপী ব্যাংকের সকল শাখা, উপশাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয় এবং গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।

ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা, শাখা, আমানত সংগ্রহসহ ব্যাংকের সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ”বাংলার ব্যাংক” খ্যাত মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১৯৯৯ সালের ২ জুন যাত্রা শুরু করে গত ২৭ বছরের কঠোর পরিশ্রমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক একটি গ্রাহকবান্ধব, বিশ^স্ত ও টেকসই ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও করপোরেট সুশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবার প্রতিশ্রুতি দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বলেন, গ্রাহকদের চাহিদার বাস্তবায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত করাসহ চলতি বছর খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, এসএমই ও রিটেইল খাতকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে দেশের প্রত্যন্ত জনপদে শাখা-উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট স্থাপন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।


চীন সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ১৯:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ২টায় চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীন সফরের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, চীন সরকার ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় এক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এই প্রতিনিধি দলটি চীন সফরে গিয়েছেন।

তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণ হবে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে এবং তা চলবে ৮ জুন পর্যন্ত।

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ মামুন শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, আনোয়ার উল হালিম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার, মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহর একান্ত সচিব তারিখ হাসান। অন্য কর্মকর্তারা হলেন, জুলিয়া মঈন, জেসমিন আক্তার ও মোহাম্মদ জাব্বার।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে সোমবার (০১ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা চীনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে।


সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলি আকবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আলি আকবর খান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে ১৫ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলি আকবর খান। তিনি ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে রেঞ্জ পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অকৃত্রিম সততার সঙ্গে কর্মসম্পাদন করে সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছেন।

পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ইতালিতে ও মালদ্বীপে দুটি কর্মশালায় অংশ নেন তিনি। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি তাঁর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা সমৃদ্ধ করেছেন।

আলি আকবর খান সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় সিআইডি পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।


ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি'র সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সোশ্যাল পলিসি চিফ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার বলেন, আমাদের সবার সন্তান থাকলেও তাদের সুরক্ষা বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন নই। সংসদীয় ককাস গঠনের পূর্ব থেকেই শিশুবান্ধব বাজেট ও নীতি প্রণয়নে ইউনিসেফের প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেন, যে সকল সংসদ সদস্যগণ শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়নের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন, তাঁদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করা সম্ভব।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অ্যাডভোকেসির অংশ হিসেবে প্রাক-বাজেট ব্রিফিং ও গোলটেবিল আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুরা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। তিনি আরও বলেন, শুধু বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং তার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাক্ষাৎকালে শিশু অধিকার, শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিক স্পেশালিস্ট মো. আশিক ইকবাল, কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ফারিয়া সেলিম, কমিউনিকেশন অফিসার কারিশমা আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


banner close