শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোটাবিরোধী আন্দোলন: হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার!

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফাইল ছবি
আপডেটেড
১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০১

সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।

অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।

দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।

বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।

অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।

শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।

যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’

কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :

জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।

জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।

ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।


তিন মাসে ১৯৮ কোটি টাকা আয় করল নতুন এটিসি টাওয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার এবং অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম চালুর পর বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) এ খাত থেকে সরকারের আয় হয়েছে ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা। এটি গত দুই বছরের মধ্যে একই সময়ে আদায়কৃত সর্বোচ্চ রাজস্ব। মূলত আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দুই বছরে ফ্লাইং ওভার চার্জ থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরের ব্যবধানে একই সময়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই টাওয়ারটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই এর ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

নতুন এই এটিসি টাওয়ারে সংযুক্ত রাডার সিস্টেমের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে থাকা এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি রাডার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দেশের আকাশসীমা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী প্রতিটি উড়োজাহাজকে শনাক্ত করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ২০ এপ্রিল এই আধুনিক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, আগে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বাংলাদেশের আকাশসীমার একটি বড় অংশ নজরদারির বাইরে থাকত। এর সুযোগ নিয়ে অনেক বিদেশি উড়োজাহাজ আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করলেও তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি আদায় করা সম্ভব হতো না। নতুন ও আধুনিক রাডার সিস্টেম স্থাপনের ফলে এখন সেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা নজরদারিহীন এলাকাগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন কোনো ফাঁকফোকর ছাড়াই সব উড্ডয়নকালীন চার্জ যথাযথভাবে আদায় করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের বিখ্যাত থ্যালেস কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশালাকার প্রকল্পের পুরো অর্থই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তির সংযোজন কেবল রাজস্বই বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করবে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে এসব বস্ত্র তুলে দেন। মূলত প্রয়াত নেতার স্মৃতি ও আদর্শকে স্মরণ করে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে মাসব্যাপী সমাজসেবামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।

বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এদিন অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের একটি বিশেষ প্রকল্পেরও যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন।

এই মানবিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ১৬টি পৃথক স্থানে আয়োজিত বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কর্মসূচির শুরুতেই সকাল সোয়া ১১টার দিকে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রার্থনা করেন।

পরিশেষে বলা যায়, দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাৎবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক জনসেবামূলক কাজ পরিচালনা করছে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দুস্থদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণকর দর্শনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩০ মে) বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং ফাতেহা পাঠের পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

এদিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে খাদ্য ও উপহারসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এসব কর্মসূচির কয়েকটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। অন্য স্থানগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও জাতি গঠনে সততার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সততা ছাড়া কোনোভাবেই একটি আদর্শ ও উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়।

তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত এলাকা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘যতদিন আমি আপনাদের সংসদ সদস্য হিসেবে থাকব, আমি কথা দিচ্ছি, কোনো ধরনের দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করবে না।’

গতকাল শুক্রবার জেলার কলমাকান্দা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এক মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই এই মাদরাসা প্রাঙ্গণেও স্থানীয় এলাকার সঙ্গে নিজের গভীর পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, এই স্থানটি আমার অত্যন্ত স্মৃতি বিজড়িত এবং আমার প্রয়াত বাবার অত্যন্ত প্রিয় স্থান ছিল। পাশেই এতিমখানা ও আমাদের জমি রয়েছে।

এই প্রিয় স্থানে এসে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার প্রয়াত বাবার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি তার দাদার নামের সঙ্গে মিল রেখে নেত্রকোনায় প্রতিষ্ঠিত ‘এন আকন্দ কামিল মাদরাসা’র কথাও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ন্যায়পরায়ণতার কথাই বলছি না, আমরা দেখাতে চাই আমরা বাস্তবে ন্যায়ের ও ইনসাফের পথে আছি।

আমি মহান আল্লাহ তায়ালাকে হাজির-নাজির রেখে বলতে পারি, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে এক সেকেন্ডের জন্য, এক টাকা বা এক দানা চাল পরিমাণ দুর্নীতিও এখানে হয়নি।’

সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাচালান ও অবৈধ উপার্জনের দিকে ইঙ্গিত করে দুর্নীতিবাজদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, অবৈধভাবে যে পয়সা ইনকাম করে স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়াচ্ছেন, দিনের পর দিন বিল্ডিং তুলছেন, সব কিন্তু মহান রব দেখছেন। এক মুহূর্তে আপনার সব চলে যেতে পারে। দিনশেষে আমাদের আসল আশ্রয় ও শেষ ঠিকানা ওই সাড়ে তিন হাত মাটি। তাই সততার সাথে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

এ সময় তিনি প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) এর একটি ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি স্মরণ করিয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ভালো কাজ করলে আপনারা সহযোগিতা করবেন, আর ভুল করলে তা শুধরে দেবেন।’

এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও শিক্ষক মো. আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মিলনমেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে এই নারী সংসদ সদস্যকে এলাকার ‘পুত্রবধূ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে উপস্থিত জনতাকে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিদর্শক-১ মো. আকরাম, কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, কলমাকান্দা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুকুমার চন্দ্র বনিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেম এবং আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতিরিক্ত কমিশনার (কাস্টমস) মো. মিজানুর রহমান, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী চাঁন মিয়া এবং এন আকন্দ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন প্রমুখ।

সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই আয়োজনটি এক আবেগঘন ও পারিবারিক আবহের সৃষ্টি করে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল কাস্টমস কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের মতো সাবেক সফল শিক্ষার্থীদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পরিশেষে সততা ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও সুশাসিত কলমাকান্দা-দুর্গাপুর গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্য শেষ করেন।


হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ব্যতিরেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যথাযথ তদারকি ও নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে লাখো মুসল্লি নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পেরেছেন। শুক্রবার তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের প্রধান কার্যাবলি সমাপ্ত হয় এবং এরপর থেকেই বাংলাদেশি হাজিরা নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের প্রথম দলটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। প্রথম দিনেই ১৩টি বিমানে করে পাঁচ হাজার চারশ’র বেশি হাজি বাংলাদেশে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন এবং ২১ মে সর্বশেষ ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছান। আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল হাজির প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর আবাসন, পরিবহন ও ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি ধর্ম মন্ত্রণালয় সময়মতো সম্পন্ন করায় নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই পবিত্র ভূমি সফর করতে পেরেছেন। হজের সার্বিক সফলতা সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ার কারণেই এবারের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফলতার কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ।'

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় হাজিদের সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং ও পানীয় সরবরাহের মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল। আগামীতে হজের খরচ কমানো এবং বেসরকারি এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম নতুন করে মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে এবারের হজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশ সরকার, সৌদি সরকার, হজ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, এজেন্সি এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের হজ সফল হয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে মহান আল্লাহর রহমত।'

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারও হজ ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফল। কোনো ধরনের বড় অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।' তাঁর মতে, সরকার ও সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার চমৎকার সমন্বয় এবং এজেন্সিগুলোর নিষ্ঠার কারণেই হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন করতে সক্ষম হয়েছেন।


জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ১০:৫৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (২৯ মে) শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে ও নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা জনগণের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, জিয়ার কর্মময় জীবন, গভীর দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার অটল অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহিদ হন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান, যা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনমুখী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি ভূমিকা রাখেন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, স্বল্প সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের অগ্রগতিতে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং রণাঙ্গনের বীর সেক্টর কমান্ডার শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে শনিবার (৩০ মে)। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক চক্রান্তের শিকার হয়ে একদল পথভ্রষ্ট সেনাসদস্যের হাতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। রণাঙ্গনের এই বীর সেনানী এবং জেড ফোর্সের অধিনায়কের প্রয়াণ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে শুরু করে আগামী ১ জুন পর্যন্ত টানা আট দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা শোকের প্রতীক হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে এই বীর সেনানীকে নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় অফিসগুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিন বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে ওলামা দলের উদ্যোগে একটি বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলে অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, বস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) মিলনায়তনে দলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়গুলোতেও সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শনের প্রবক্তা। বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের কারণে তাঁকে এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দর্শন ও দল আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ এই রাষ্ট্রনায়কের সততা, দেশপ্রেম এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতি আজও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করার শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুসারীরা।


চামড়া খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব:শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির জানিয়েছেন,চামড়া খাতকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব।

শুক্রবার (২৯ মে) সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্ন হওয়া ট্যানারি শিল্প এমন স্থানে হওয়া প্রয়োজন, যেখানে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারের সুবিধা রয়েছে। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ। ফলে চামড়া খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং মাঝপথে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কার্যক্রমে ইতালিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, ট্যানারিগুলোর তরল বর্জ্য শোধনের জন্য স্থাপিত সিইটিপির দৈনিক শোধন সক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার। অথচ পিক সময়ে উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার, যা বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিইটিপিকে পরিকল্পিত সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন। পাশাপাশি ঋণ সংকটে থাকা ও ঝরে পড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে ঘুরে দাঁড় করানো যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে।

পরে মন্ত্রী শিল্পনগরীর সদর ও বে-ট্যানারি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক অভিযান: সীমান্ত পেরিয়ে আতঙ্কিত মানুষ বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকারের নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও বহিষ্কারের ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান এবং ডিটেনশন সেন্টারে বা আটক কেন্দ্রে বন্দি হওয়ার ভয়ে শত শত মানুষ পরিবারসহ ভারতের হাকিমপুর সীমান্তচৌকিতে এসে জড়ো হয়েছেন।

বিশেষ করে গত সপ্তাহে নথিপত্রহীনদের জন্য বড় আটক কেন্দ্র নির্মাণের সরকারি নির্দেশের পর রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামগ্রিক উদ্বেগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমানে এক চরম প্রশাসনিক ও আইনি দোটানার মধ্যে পড়েছেন। একদিকে স্থানীয় প্রশাসন তাদের দ্রুত ভারত ছাড়ার জন্য মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ আইনি প্রমাণ বা নাগরিকত্বের নথিপত্র ছাড়া বাংলাদেশ সরকার তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। উপায়ান্তর না দেখে অনেক পরিবারই এখন রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তের নদী পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢোকার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালাচ্ছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে দিশেহারা মানুষ দল বেঁধে সীমান্ত এলাকায় আসছেন, যার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে বাস করা শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রিরাও রয়েছেন।

সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের একটি আটক কেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে রাখা হচ্ছে, যেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে কেবল ধর্মীয় ও জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের ভিত্তিতে আসাম থেকে শত শত মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীদের মধ্যে এই আতঙ্ক আরও প্রকট হয়েছে। অনেক তরুণ, যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতেই কিন্তু বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা ওপারে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করা নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জানিয়েছে, রাতের আঁধারে দীর্ঘ নদীপথ ব্যবহার করে মানুষের এই পারাপারের চেষ্টা ঠেকানো বর্তমানে তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার সড়কে কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই দুই কর্মকর্তা হলেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চালকের আসনে বসে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বের হন। গুলশানের বাসভবন থেকে শুরু করে তিনি রামপুরা, মালিবাগ ও বাসাবো হয়ে কমলাপুর এলাকার দিকে এগিয়ে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাই খাল ও নারিন্দা হয়ে বংশাল, গুলিস্তান, শাহবাগ ও নিউ মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সেখান থেকে তিনি জিগাতলা, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে বেরিয়েছিলেন। পরিদর্শনকালে বেশ কিছু স্থানে বর্জ্য পরিষ্কার না হওয়ায় তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় রাস্তায় ময়লার স্তূপ দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতির দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের বিষয়ে তথ্য দিয়ে জানান যে, ঢাকা পরিভ্রমণের সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ অ্যাডভোকেট মেহেদুল ইসলাম।


সরেজমিনে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকার পশুবর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে রাজপথে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে মহানগরের বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ও ভালোভাবে হচ্ছে কি না, তা দেখতেই মূলত প্রধানমন্ত্রী আজ রাস্তায় বেরিয়েছেন। তিনি নিজেই নিজের গাড়ি ড্রাইভ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছেন।’

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ নাগরিকের মতো প্রচলিত ট্রাফিক আইন ও সংকেত মেনে গাড়ি চালিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরের পথপরিক্রমা ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর গাড়িটি গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগের আবুল হোটেল এবং তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবো ও কমলাপুর এলাকা অতিক্রম করে। এরপর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, শহীদ ফারুক সড়ক ও দয়াগঞ্জ হয়ে তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দা ও রায়সাহেব বাজার এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

সেখান থেকে আদালত সড়ক, নয়াবাজার ও বংশাল হয়ে তাঁর গাড়িটি গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে নিউ মার্কেট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে অগ্রসর হয়। যাত্রাপথে তিনি কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার ও জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড ও ২৭ নম্বর সড়কের বর্জ্য অপসারণের কাজও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি দিয়ে মহাখালী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের তদারকি করতেই তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামানের ইন্তেকাল

আপডেটেড ২৯ মে, ২০২৬ ১২:৫৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এম. মুনির-উজ-জামান, ১৯৫৮ ব্যাচের প্রাক্তন সিএসপি এবং বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত, গতকাল ১০ই জিলহজ, ২৮শে মে, দুপুর ২:০০ ঘটিকায় বার্ধক্যজনিত জটিলতায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

তাঁর দুঃখজনক মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, কৃতি গুণী শীর্ষ আমলা, কূটনীতিক এবং মাটির এক যোগ্য সন্তানকে হারালো। দেশের আমলাতন্ত্র তাঁর জীবনব্যাপী অবদানকে সর্বদা স্মরণ করবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আপসহীন অবদানের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ ব্যাচের একজন গর্বিত বাঙালি হিসেবে পাকিস্তানের তৎকালীন অভিজাত সিভিল সার্ভিসে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেন। স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশে তিনি কিশোরগঞ্জের এসডিও, কুমিল্লার এডিসি, বগুড়ার ডিসি, পাকিস্তান সরকারের বৈদেশিক অর্থ বিভাগের উপ-সচিব, ইপিএসসিআইসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশে তিনি শীর্ষ পর্যায়ে উন্নীত হয়ে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক সম্পদ বিভাগ (বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সহ অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, তিনি সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হোয়াইট পেপার সেলের প্রধান পরামর্শক এবং সবশেষে পূর্ণ অবসরে যাওয়ার আগে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মরহুম এম. তোফাজ্জল হোসেন এবং যশোরের চৌগাছার কলকাতায় শিক্ষিত এক প্রখ্যাত জমিদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র, পাঁচ নাতি-নাতনি এবং পাঁচ প্রপৌত্র -প্রপৌত্রী রেখে গেছেন।

তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার, ২৯শে মে, বাদ জুম্মা গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।


ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে পশু কোরবানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা কেবল প্রথম দিনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পশু কোরবানি। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর, বাংলামোটর ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পরিবার আজ ত্যাগের এই মহান ইবাদতে শরিক হচ্ছেন। ভোর থেকেই পাড়া-মহল্লার নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং মাংস প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। যদিও প্রথম দিনের তুলনায় আজ পশু কোরবানির সংখ্যা অনেক কম, তবুও উৎসবের আমেজ এখনো বজায় রয়েছে।

ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ ঈদের দিন ছাড়াও ১১ এবং ১২ তারিখেও পশু কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। এই বিধানকে কেন্দ্র করেই মূলত অনেকে দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিয়ে থাকেন। আজ যারা পশু জবাই করছেন, তাদের একটি বড় অংশই কসাই সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঈদের প্রথম দিন কসাইদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং অতিরিক্ত মজুরি দাবির কারণে অনেক সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনা এড়াতে এক দিন পিছিয়ে আজ কোরবানি সম্পন্ন করছেন।

মিরপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ঈদের দিন কসাই পাওয়া যেমন দুষ্কর ছিল, তেমনি যারা আসতে চেয়েছিলেন তারা সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পারিশ্রমিক দাবি করেছিলেন। তাই ঝক্কি এড়াতে তিনি আজ দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া অনেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি যারা একাধিক পশু কোরবানি করেন, তারা প্রথম দিনে বড় পশুর কাজ শেষ করে আজ বাকি কোরবানি সম্পন্ন করছেন। আবার অনেক পরিবারে বংশপরম্পরায় দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার একটি পারিবারিক ঐতিহ্যও লক্ষ্য করা গেছে।

সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে মাংস কাটার সরঞ্জাম নিয়ে কসাই ও মৌসুমি শ্রমিকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। প্রথম দিনের চেয়ে আজ চাপ কম থাকায় তারা বেশ শান্তিতে কাজ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। তবে মাংস প্রস্তুতের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন, যাতে কোরবানির পরবর্তী পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।

পরিশেষে বলা যায়, ত্যাগের এই মহিমা ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। কেবল শহর নয়, গ্রামগঞ্জেও আজ উৎসবমুখর পরিবেশে পশু কোরবানি হচ্ছে। যারা আজ কোরবানি দিচ্ছেন, তারা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ধর্মীয় বিধানের এই নমনীয়তা সাধারণ মানুষকে একদিকে যেমন ইবাদত পালনে সহজতর সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি মাংস সংরক্ষণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রেও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। আগামীকাল শনিবারও কিছু স্থানে পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


banner close