বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কোটাবিরোধী আন্দোলন: হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার!

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফাইল ছবি
আপডেটেড
১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০১

সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।

অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।

দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।

বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।

অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।

শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।

যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’

কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :

জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।

জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।

ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।


ডেঙ্গুর মহাবিপর্যয়ের মুখে দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক

* রাজধানীতে এডিসের লার্ভার উদ্বেগজনক ঘনত্ব * এ পর্যন্ত মৃত্যু ১৯, আক্রান্ত ৬২৬৭   * পুরুষ ৬২ দশমিক ২ শতাংশ, নারী ৩৭ দশমিক ৮ * এখনই লাগাম না টানলে আগস্টে ভয়াবহ সংক্রমণের শঙ্কা * ডেঙ্গুর চরিত্র অন্য বছরের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক * ঢাকার বাইরের জেলাগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিতে 
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

আষাঢ়ের রিমঝিম বৃষ্টির হাত ধরে দেশজুড়ে যখন স্বস্তির আবহ নামার কথা, ঠিক তখনই এক নিঃশব্দ ঘাতকের ডানার গুঞ্জনে ভারি হয়ে উঠছে দেশের বাতাস। সে ঘাতকের নাম-এডিস মশা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবার বর্ষার আগেই এ মশার লার্ভার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ওষুধ ছিটিয়ে নয়, নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকরা। আর ঝুঁকি কমাতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে যদি এখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ জুনের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। আর আগামী আগস্টে তা রূপ নিতে পারে এক প্রলয়ংকরী সুনামি-যা বর্তমানের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুবা সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়-ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী রেখাকে টেনে ধরার সময়ও ফুরিয়ে যাবে।

এদিকে, সারাদেশে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মুত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৩ জন।

বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন রয়েছেন।

এই সময়ে ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৩ জন।

এ বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। চলতি বছরে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, দায়সারা মশক নিধন অভিযান এবং বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক নজরদারির অভাব আজ পুরো দেশের জনস্বাস্থ্যকে এক ভয়াবহ ও নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবহাওয়া বা জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার চিরাচরিত চেষ্টা এবার আর খাটছে না; কীটতত্ত্ববিদরা আঙুল তুলে দেখিয়েছেন—প্রকৃতি নয়, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চরম অভাবই এই আসন্ন বিপর্যয়ের মূল কারিগর।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়বে। জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এবার ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসছেন। দীর্ঘ সময় যাতায়াতের কারণে রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা ও প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে সব রোগীকেই রাজধানীতে আসতে না হয়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে সেখানে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। এভিডেন্সভিত্তিক লক্ষ্য-নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে।

পরিসংখ্যানে রক্তের দাগ: মে মাস আক্রান্ত হয় ৭১৪ জন আর মারা যায় একজন। পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে। জুন মাস ৫,৯২৪ জন আক্রান্ত। এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে আট গুণেরও বেশি! এই গাণিতিক হারের বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার কতটা জ্যামিতিক গতিতে ছড়াচ্ছে। জুনের এই ভয়াবহতা জুলাই এবং আগস্টে আরও কতটা নৃশংস হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

আগস্টের মহাবিপদ সংকেত: ঢাকার বাইরে সংক্রমণের নতুন ফ্রন্টলাইন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার আগামী দুই মাসকে (জুলাই ও আগস্ট) ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত ‘সংকটাপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তার তৈরি করা গাণিতিক পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, এবারের ডেঙ্গুর চরিত্র অন্য বছরের চেয়ে আলাদা এবং আরও বেশি বিপজ্জনক। এতদিন ডেঙ্গুকে মূলত রাজধানী ঢাকার রোগ মনে করা হলেও, এবার ঢাকার বাইরের জেলাগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

হটস্পট জোন: পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের আরও কয়েকটি অববাহিকায় ডেঙ্গু এবার মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।

এই সম্ভাব্য সংক্রমণের বিস্ফোরণ রুখতে হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এখনই নড়েচড়ে বসতে হবে। প্রতিটি জেলা শহর ও পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রমকে জরুরি ভিত্তিতে বিকেন্দ্রীকরণ ও জোরদার করতে হবে।

অব্যবস্থাপনার ব্যবচ্ছেদ: যেখানে গলদজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ জিএম সাইফুর রহমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই লাগামহীন অবনতির পেছনের ভেতরের গল্পটি উন্মোচন করেছেন। উচ্চ আর্দ্রতা, তীব্র তাপমাত্রা আর ঘন ঘন বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে সত্য, কিন্তু কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতাই পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে গেছে।

আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের অনুপস্থিতি: উন্নত বিশ্বে মশার ঘনত্ব এবং ভাইরাসের উপস্থিতি দেখে আগেই বিপদ সংকেত বা ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ চালু করা হয়। বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।

সংক্রমণ ক্লাস্টার চিহ্নিত না করা: কোন এলাকায় ডেঙ্গুরোগী বেশি (হটস্পট বা ক্লাস্টার), তা সময়মতো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ করার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

পূর্বাভাসকে অবহেলা: বিশেষজ্ঞরা আগেই এই ভয়াবহ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতায় তা মাঠপর্যায়ে কোনো কাজে আসেনি।

ক্র্যাশ প্রোগ্রাম: বিজ্ঞানভিত্তিক নিধনে বিশেষজ্ঞদের ৪ দফা বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়েছেন, শুধু লোকদেখানো ড্রেন পরিষ্কার বা নালায় সামান্য লার্ভিসাইড (লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ) ছিটিয়ে ডেঙ্গুর এই সুনামি ঠেকানো যাবে না। উড়ন্ত ও সংক্রমিত পূর্ণবয়স্ক মশা বেঁচে থাকলে তারা প্রতিনিয়ত ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে। প্রাদুর্ভাবের এই শৃঙ্খল ভাঙতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অবিলম্বে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে- নিখুঁত হটস্পট ম্যানেজমেন্টযেসব বাড়ি বা এলাকায় ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হবে, তার চারপাশের ৫০০ গজ এলাকার মধ্যে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ফগিং এবং আলট্রা-লো-ভলিউম (ULV) স্প্রে করতে হবে, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশাটি অন্য কাউকে কামড়ানোর আগেই মারা যায়। সঠিক ও কার্যকর অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগপূর্ণবয়স্ক মশা মারার জন্য শুধু ডিজেলের ধোঁয়া নয়, বরং পরীক্ষিত ও ল্যাবে কার্যকর প্রমাণিত হওয়া মানসম্মত অ্যাডাল্টিসাইড কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। মশার ওষুধে ভেজাল বা অদক্ষতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সমন্বিত ও সর্বজনীন সামাজিক আন্দোলনশুধু সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি তিন দিনে একবার জমা পানি ফেলে দেওয়ার স্লোগান ‘৩ দিনে ১ দিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এটি প্রতিটি ঘরে ঘরে বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন, বহুতল ভবনের বেইজমেন্ট ও ছাদবাগানে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা কবচ নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষায় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এই মৌসুমে শরীর ভালোভাবে ঢাকা থাকে এমন লম্বা হাতাওয়ালা পোশাক পরা। এডিস মশার প্রধান কামড়ানোর সময়-অর্থাৎ ভোরে ও বিকেলে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখা। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মশার প্রতিরোধক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা।


রেমিট্যান্সে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, জুনে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এক বছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে শুধু ৩০ জুনই এসেছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ জুন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন ডলার।

সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরে (জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫) এ পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।


এলপিজির দাম বাড়বে কি না সিদ্ধান্ত কাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোক্তাপর্যায়ে জুলাই মাসে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে কি না, বৃহস্পতিবার জানানো হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী জুলাই মাসে ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।

আরও বলা হয়, ওই দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহিদ প্রকৌশলী ভবনের (ষষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করা হবে।

এ ছাড়া এলপিজির নতুন দর ঘোষণা-সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.berc.org.bd) পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সবশেষ গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সেই সঙ্গে ওই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।


২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৭ সালে হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য ১ জুলাই থেকে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। বুধবার (১ জুলাই) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আগ্রহী হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীদের হাতে রোডম্যাপ তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত থেকে রোডম্যাপ গ্রহণ করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে হবে। আগামী ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে ৮ এপ্রিল থেকে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে হজ হবে।


নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানার অনুমোদন দিয়েছে সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ৩টি নতুন উপজেলা ও ১টি নতুন থানা গঠনের অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠন করা হয়েছে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাংশের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। চট্টগ্রাম মহানগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে হাটহাজারী থানাকে দ্বিখণ্ডিত করে নতুন ‘হালদা’ থানা গঠনের প্রস্তাবও বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।

উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে রাজউকের ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ প্রকল্পের ভৌগোলিক বিভক্তি দূর করতে প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো স্থায়ীভাবে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এই নতুন উপজেলা ও থানাগুলো গঠনের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাও সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা নিকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূরণ হলো।


সিন্দুক পাহারা দেয়ার চেয়ে সাইবার নিরাপত্তা বেশি জরুরি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তার সনাতন ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে একটি বিশাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে তার কম্পিউটারকে হ্যাকারমুক্ত রাখা এবং দীর্ঘ সীমান্ত পাহারার চেয়েও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) খিলগাঁওস্থ আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, “যুদ্ধ কেবলই সমরাস্ত্রের বিষয় নয়, যোগাযোগ কেবলই মানুষের কণ্ঠস্বর বিনিময় করা নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কীভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।” তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাহিনীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। মন্ত্রী মনে করেন, ডিজিটাল লিডারশিপ গ্রহণ করার এই মানসিকতা বাহিনীকে আরও সময়োপযোগী করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএম সাজ্জাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সময়ের স্পন্দনে, আকাঙ্ক্ষা পূরণে’। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে জ্ঞান ও মনোজগৎকে স্থির রাখার কোনো অবকাশ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় জ্ঞান ও মনোজগতকে স্থিতিশীল রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের চিন্তার দিক থেকে গতিশীল থাকতে হবে এবং চলমান আপগ্রেডিং সিস্টেমের মধ্যে থাকতে হবে। তা না হলে আজকে যিনি আধুনিক, আগামীকালই তিনি অচল হয়ে যেতে পারেন।”

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে এই ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তিনি এই উদ্ভাবনী উদ্যোগকে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য একটি শিক্ষণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদও তাঁর বক্তব্যে বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি আনসার বাহিনীর ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজার নামাজ।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।

পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হলে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ অনেকে।

শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার জন্য। এরপর প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

গত সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শিল্প ও সংস্কৃতিকে মুক্তির সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী বাংলাদেশে পাপেট থিয়েটারকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি শিশুদের জন্য অসংখ্য কালজয়ী টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।


কোনো নামেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ আছে; ততদিন রিফাইন্ড বা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভারতে অবস্থান করা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে এবং সেসব বক্তব্যের অনুবাদ প্রচার করেছে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। তাই, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বক্তব্য প্রচারে কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা দেশের গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব উত্তরাঞ্চলের মানুষকে চরম সংকটে ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ করা। এই কাজে চীনের বিপুল দক্ষতা (এক্সপার্টিজ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকল্পটি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জনগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।

বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শুধু একটি নয়, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করব।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।


মুস্তাফা মনোয়ার বহুমুখী প্রতিভার অনন্য শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন দেশের বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী এবং তার অবদান শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভি প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী। দেশের সকল প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করা হলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারির অনন্য মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার জান্নাত প্রার্থনা করেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের কৈশোর থেকেই আমরা তার বহুমুখী প্রতিভা ও কাজের সাথে পরিচিত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জগতের বহু ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন। নিজে যেমন মেধার অবিরাম চর্চা করেছেন, ঠিক তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার কর্মের আন্তরিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি এক অনন্য মননশীলতার গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’

মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে পারাকে পরম সৌভাগ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বিটিভি পরিবার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন।


জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩, আহত বেড়েছে ৭৭ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    # দীর্ঘ হচ্ছে সহিংসতার শিকার মানুষের তালিকা # অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পুশ ইনের চেষ্টা # কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ # গভীর হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ

দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বা মব জাস্টিস কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে এই ধরনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হয়েছিলেন ৭১ জন। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মব সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি—এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত এবং দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে তিনজন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

এ মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫৩।

এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জুনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৬ জন নিহত এবং ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জুনে ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবন যাপন করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা একটি বড় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে ৯ জন মৃত ও ২ জন জীবিতসহ মোট ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে।


দেশের সব তেলের ডিপো বন্ধ থাকছে কাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বার্ষিক সমাপনী মজুত গণনা, পরিসম্পদ মূল্যায়ন ও বাস্তব যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বুধবার সারাদেশের সব তেল ডিপো ও প্রধান স্থাপনা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখার মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে যে, বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপোসমূহে বার্ষিক সমাপনী মজুদ গণনা ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে দেশের সব ডিপো এবং স্থাপনার বিপণন কার্যক্রম এদিন স্থগিত থাকবে।

তবে বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জেট-এ১ জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিপোর মজুদ ট্যাংকের বার্ষিক যাচাই কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে সরবরাহ সচল রাখতে হবে।

যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ২০টি রেলকোচ প্রস্তুত করেছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আসার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে ২০টি ভারতীয় রেলকোচ। জুলাই মাসেই কোচগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তারা।

২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রাইটসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সরকার। সেই চুক্তির শর্ত ছিল— বাংলাদেশে মোট ২০০ রেলকোচ রপ্তানি করবে ভারত। এসব কোচের মধ্যে ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রী কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই ২০০ কোচের মূল্য হিসেবে ভারতকে ৯১৫ কোটি রুপি প্রদান করবে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, ‘প্রথম চালান হিসেবে জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ। জুলাইয়ের যে কোনো দিন এই চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পরবর্তী চালানগুলো আগামী ৩৬ মাসে পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।’

প্রথম চালানের এই ২০টি কোচ তৈরি করা হয়েছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা এলাকায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়। পরবর্তী কোচগুলোও সেখানেই প্রস্তুত করা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কোচের ওয়ারেন্টির মেয়াদ হবে ১৪ বছর।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বুধবার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট-নির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।


banner close