বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

কোটাবিরোধী আন্দোলন: হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার!

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফাইল ছবি
আপডেটেড
১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০১

সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।

অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।

দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।

বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।

অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।

শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।

যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’

কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :

জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।

জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।

ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।


ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি: মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়। এ সময় তারা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে এবং নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।’

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে কবির বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো হলে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।

এছাড়া শিল্প ও অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

কেশাপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের আগ্রহের কথাও জানান।

দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশি ও মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও অংশীদারত্ব গভীর করার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।


বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে মনজুর আলম প্রধান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মনজুর আলম প্রধানকে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।

সিনিয়র সহকারী সচিব মিল্টন রায় সই করা আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিপিসির দাপ্তরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মনজুর আলম প্রধানকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এরপর গত ৬ আগস্ট জিয়াউল হককে পদোন্নতি দিয়ে একই বিভাগের সচিব করা হয়। ফলে বিপিসির চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়ে যায়।

এর আগে গত ২৬ জুলাই বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।


বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। দেশটির বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট মোকাবেলায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, ভিসা এবং মানবপাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে বাংলাদেশ গভীরভাবে প্রশংসা করে।

নৈতিক ও দায়িত্বশীল শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি, ন্যায্য মজুরি, আবাসন, চিকিৎসা বীমা ও কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে, আর বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল জনশক্তি। তিনি সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য থাই প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ চাকরির পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ চাকরির জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনায় থাইল্যান্ড বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য হতে পারে। তবে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী পাঠানো এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন বলেন, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটির নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সৃষ্ট কর্মী সংকট মোকাবিলায় পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী থাইল্যান্ড।

তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান থাই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দ্রুত সমাধান করে অচিরেই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।

বৈঠকে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক, শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপনসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এম এম এইচ গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মো. মেহেদী সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।


জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’, যেখানে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আমরা ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নিয়ে বেশ কয়েকটি ডায়ালগ ও কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের একটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থাকলেও, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমন্বয় নিয়ে সরাসরি কাজ করার কাঠামো এতদিন ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন করা।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মাহদী আমিন একথা বলেন।

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাব এবং সেখানকার স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং যারা কাজ খুঁজছেন উভয় পক্ষকে একটি মেলবন্ধনে আবদ্ধ করব। অফলাইন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেব। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে (প্রাইভেট সেক্টর) সরাসরি যুক্ত করা হবে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় প্রসারিত হবে।

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুফল পাওয়ার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয় ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) এবং এসডিজি।

দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক ভাগ্য পরিবর্তন ও টেকসই নাগরিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত ও ভোটাধিকারের ভিত্তি করে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনী এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে সর্বস্তরের জনগণের অসামান্য অবদান রয়েছে। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাগ্যোন্নয়ন ঘটে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।

প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ সাতটিরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারেনি।

তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেন নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারেন।

সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কিছুটা সাময়িক সংকট তৈরি হলেও তা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কাঠামোর কারণে জ্বালানি খাত বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাস্তবিক অর্থেই দীর্ঘদিনের এই স্থবির সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে অত্যন্ত আশার কথা হলো প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীদাররা যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে এই খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত হবে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতের আওতায় ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদেই অগ্রাধিকার পাবেন নারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, সরকারের প্রথম বাজেট ছিল অত্যন্ত ব্যাবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাই নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধ দিয়ে গড়ে তোলা হবে, যেন তারা সফল উদ্যোক্তা ও দক্ষ কর্মী হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে 'মিড-ডে মিল' চালু এবং অভিন্ন পোশাকের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরের উন্নত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পাঠদান ম্যানুয়াল যেন গ্রামের স্কুলেও পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাম্য আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও তাঁদের সম্মান বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় খাল খনন কর্মসূচির মতো সর্বজনীন উদ্যোগের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রমুখ।


বিপ্লব-রুহানীসহ পুলিশের ছয় কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ কার্যকর করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় বিপ্লব কুমার সরকার ছাড়াও রয়েছেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইন, উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, কক্সবাজার এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী। উল্লেখ্য, বরখাস্ত হওয়ার আগে বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন।

একইভাবে মো. ইকবাল হোসাইন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এবং কাজী আশরাফুল আজীম চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং পলাতক রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে ডিএমপির অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।

পুলিশ বাহিনীর সাবেক এই প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও সরকারি বিধিমালু লঙ্ঘনের কারণেই এই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই কর্মকর্তারা আইনের দৃষ্টিতে পলাতক বা বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হবেন।


ওমানে শ্রমবাজার খোলার খবর গুজব, মাস্কা‌টে বাংলাদেশ দূতাবাসের সতর্কতা

ওমানের মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:০৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ওমানের শ্রমবাজার খোলা নি‌য়ে একটি চক্র বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে জানিয়ে মাস্কা‌টের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে একটি চক্রের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিশ্বাস ক‌রে কোনো ব্যক্তি, সুবিধাভোগী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ ক‌রে‌ছে মাস্কা‌টের বাংলাদেশ দূতাবাস।

বুধবার (১২ আগস্ট) মাস্কা‌টের বাংলা‌দেশ দূতাবাস ভিসাসংক্রান্ত এক সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ ক‌রে‌ছে।

বিজ্ঞপ্তি‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে, সম্প্রতি ওমানি অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে’, ‘ব্যাপক ভিসা চালু হয়েছে’ বা ‘ফ্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে’— এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, উক্ত বিজ্ঞপ্তিটি ওমান সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ঘোষণা নয়।

উক্ত বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য হলো— আল ধাহিরাহ অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণপূর্বক প্রয়োজন হলে কেবলমাত্র দাহিরাহ এলাকার কৃষি কাজের জন্য সীমিত পরিসরে ভিসার অনুমোদন দেওয়া। এ পর্যায়ে কর্মী নিয়োগ, ভিসা ইস্যু বা শ্রমবাজার উন্মুক্ত এ রকম কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দূতাবাস জা‌নি‌য়ে‌ছে, বর্তমানে ওমান সরকার শ্রমবাজার পুনর্বিন্যাস ও ওমানাইজেশন নীতির আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ কার্যকর রেখেছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে’, ‘ব্যাপক ভিসা চালু হয়েছে’ বা ‘ফ্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে’— এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিশ্বাস করে কোনো ব্যক্তি, সুবিধাভোগী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

ওমানে কর্মসংস্থান ও ভিসা-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য শুধুমাত্র বাংলাদেশ দূতাবাস, মাস্কাট, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি এবং ওমান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে যাচাই করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে যে কোনো অগ্রগতি দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে যথাসময়ে জানানো হবে।


নতুন সভ্যতার বিনির্মাণে তরুণরাই প্রধান চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে তরুণ সমাজকে নতুন সভ্যতার মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘২০২৬- ডিফরেন্ট কনটেক্সটস, কমন অ্যাসপিরেশনস’।

প্রযুক্তির বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আবির্ভাবসহ চলমান নতুন ইকোসিস্টেমে প্রতিদিন যে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, পুরোনো দিনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় তা মোকাবিলা করা কঠিন। তাই তরুণদের হাতে সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা তুলে দেওয়া প্রতিটি রাষ্ট্রের কর্তব্য।” তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ যেমন মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ, তেমনি তা নতুন সব জটিলতাও বয়ে এনেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন মানব সভ্যতার জন্য যেমন এক বড় আশীর্বাদ, তেমনি এটি নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তি ও জ্ঞানের বিবর্তন এত দ্রুত ঘটছে যে আগামীকালের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা আগে থেকে ধারণা করা মুশকিল।”

তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জ্ঞানের পরিবর্তনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে জ্ঞান কোনো স্থির বিষয় নয়। তিনি মনে করেন, নতুন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি বিদ্যমান। কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চিরাচরিত সমস্যার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে প্রমাণ করেছেন যে তিনি তরুণ সমাজের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ক্রীড়া, সৃজনশীলতা এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানাবিধ ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ফরেন সার্ভিস একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, তরুণ উদ্যোক্তা এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।


বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে আসছে অত্যাধুনিক এলএইচবি কোচ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা ও যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে ভারতের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের সমন্বয়ে গঠিত প্রথম রেক তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) এই বিশেষ রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোল আউট বা কারখানা থেকে বের করার কথা রয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম পিআইবি-এর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রথম দফার এই রেকে তিনটি এসি স্লিপার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলত বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী চাহিদা ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই এসব কোচের নকশা ও অভ্যন্তরীণ সুবিধাগুলো সাজানো হয়েছে। যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এতে উন্নতমানের রিক্লাইনিং চেয়ার এবং স্টেইনলেস স্টিলের বিশেষ আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট যুক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধার অংশ হিসেবে এসি কোচগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, যাত্রী অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা এবং শিশুদের পরিচর্যা কক্ষের পাশাপাশি বিশেষ নামাজের কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ ভৌগোলিক ও পরিচালন পরিস্থিতি মাথায় রেখে কোচের ছাদকেও বিশেষভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এই কোচগুলোতে ইউরোপীয় সুরক্ষা মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করা হয়েছে, যা কোনো ধরনের সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এ লক্ষ্যে কোচের মূল কাঠামোর নকশায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারিগরি দিক থেকেও এতে বিশেষত্ব রয়েছে; ভারতীয় রেলের প্রথাগত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী এসব কোচে ৪১৫ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও ২০১৫-১৬ সালে আরসিএফ বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে মোট ২০০টি ব্রডগেজ কোচ তৈরির জন্য নতুন করে কার্যাদেশ প্রদান করে। বর্তমানের এই ১৯টি কোচের চালানটি সেই বিশাল অর্ডারেরই প্রথম কিস্তি। এই নতুন কোচগুলো রেল বহরে যুক্ত হলে বাংলাদেশের যাত্রী পরিবহনে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


চার ফাঁদে বন্দি বিদ্যুৎ 

* বকেয়া বিল, গ্যাস-কয়লা সংকট ও আমদানি নির্ভরতা * জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পখাতে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে জ্বালানি খাতের তীব্র সংকট। জুন মাসেই পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। তবে দাম বাড়ানোর পর দুই মাস পার হতে চললেও বিদ্যুৎ সরবরাহের চিত্র এতটুকু বদলায়নি; বরং প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙছে লোডশেডিং। জ্বালানির মারাত্মক ঘাটতি, আমদানিনির্ভর এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে পাহাড়সম বকেয়া বিল জমে থাকা—সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাত আজ এক জটিল ও ত্রিমুখী সংকটে এসে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান এই মহাবিপর্যয় একদিনে তৈরি হয়নি। একাধিক অবকাঠামোগত, অর্থনৈতিক এবং জ্বালানি সরবরাহজনিত কারণে পুরো ব্যবস্থাটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে সংকটটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার মেগাওয়াট। অথচ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে যেখানে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়েছে মাত্র সাড় ১২ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি অভাবে কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। জ্বালানি সংকট ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে বর্তমানে দেশের ৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর অধিকাংশও পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় চালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। গত রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, যা রাত ১টায় দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের রেকর্ড। এর আগে ৩ আগস্ট লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট এবং ২০২৩ সালের ২৭ জুন ছিল ৩ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার এবং খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা হয়নি। উৎপাদন না করলেও কেন্দ্রগুলোকে বিপুল পরিমাণ ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া দিতে হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি ও বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে পিডিবির দেনা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

প্রাথমিক জ্বালানি খাতের প্রতিটি উৎস একযোগে সংকটে পড়ায় মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রতিদিনের গ্যাসের চাহিদা ২৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পেট্রোবাংলা দিতে পারছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে কমে ৩,৫০০-৪,০০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। ২১ জুলাই মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরবরাহ ৬০ কোটি ঘনফুট কমে যায়। পরবর্তীতে মেরামত শেষে ২৫ কোটি ঘনফুট যোগ হলেও বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি কার্গো ভিড়তে না পারায় সরবরাহ ফের ২৫ কোটি ঘনফুট কমে মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসে।

৭,৯৪৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে কয়লা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি পাওনা নিয়ে ধুঁকতে থাকা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছিল। আদানির ১,৬০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রে বন্যায় কয়লা ভিজে যাওয়া এবং পটুয়াখালী উপকূলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস না হওয়ায় সরবরাহ কমে ৮০০-১,০০০০ মেগাওয়াটে নেমেছে। রামপাল ও বড়পুকুরিয়াতেও উৎপাদন কমেছে; বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের দুটিই কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ।

এছাড়া ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো সারা দিন চালানো অসম্ভব ব্যয়বহুল। তাই কেবল সন্ধ্যার পর ‘পিক আওয়ারে’ লোডশেডিং সহনীয় রাখতে সীমিত সময়ের জন্য তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখা হচ্ছে।

জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে নগর ও গ্রামের চরম অসম চিত্র ফুটে উঠেছে। ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা (ডেসকো ও ডিপিডিসি) জানিয়েছে তাদের বড় ঘাটতি নেই, ফলে রাজধানীতে সরবরাহ প্রায় নিরবচ্ছিন্ন। কিন্তু বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন গ্রামীণ জনপদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না।

প্রচণ্ড উত্তাপ আর বিদ্যুৎহীনতার ডাবল-চাপে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

নেত্রকোনার পূর্বধলার বাঘবেড় গ্রামের আক্কাস আলী জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না।

কেরানীগঞ্জের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম ও নীলফামারীর টুপামারীর সাদ্দাম আলী জানান, তীব্র গরমে দিন-রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজ ও স্বাভাবিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান না করে আমদানিনির্ভর এলএনজির দিকে ঝোঁকার খেসারত দিচ্ছে পুরো দেশ। সাগরে সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আন্তর্জাতিক বাজারের সামান্য দোলাচলেই দেশের পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জোড়া সংকটে রপ্তানিমুখী খাত, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কৃষিতে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বস্ত্র, পোশাক ও ভারী শিল্পকারখানায় ব্যাকআপ জেনারেটর চালাতে গিয়ে ডিজেল ও গ্যাসের পেছনে বিপুল বাড়তি খরচ হচ্ছে, ফলে লাফিয়ে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও ফেনীর শিল্পমালিকরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে কারখানার বিশাল উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যায় এবং তা পুনরায় চালু করতে দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়। ফেনীর স্টারলাইন ফুড প্রডাক্টসের পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩৫ শতাংশ সময় লোডশেডিং হওয়ায় উৎপাদন খরচ অহেতুক বেড়ে যাচ্ছে। চুনারুঘাটের দেউন্দি চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে সংগৃহীত চা-পাতা পচে নষ্ট হয়ে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে সেচ পাম্প চালানো বিঘ্নিত হওয়ায় মৌসুমী ফসল উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে অতিরিক্ত উৎপাদন করা হলেও মধ্যরাতের পর আবার তা কমাতে হচ্ছে। পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শোয়েব আশা প্রকাশ করে জানান, এলএনজি টার্মিনাল মেরামত শেষ হলে এবং কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

অন্যদিকে নেত্রকোনা, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এবং ডোমার নেসকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প কোনো পথ নেই।

সংকট সমাধানে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দেশের মোট গ্যাসের ৫৮ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যায়, অথচ ৮ শতাংশই নষ্ট হয় সিস্টেম লসে—যা গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্প খাতে গ্যাস দিলে উৎপাদন বাড়ে ও ডলার আসে, সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, সাময়িক এলএনজি আমদানির পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে এবং অপচয় ও অন্যায্য ব্যয় বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ মো. মজিবুল হক জানান, দেশের জ্বালানি মজুতের স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়াতে হবে ও ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল শক্তিশালী করতে হবে, তা না হলে কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাত বড় হুমকির মুখে পড়বে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে: চিফ হুইপ

সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত। সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমকে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের কার্যক্রমও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।

তিনি বলেন, সংসদে মোট ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হলে গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে কোনো ভোট বাকি থাকলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

চিফ হুইপ জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ সচিবালয় তাদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর থাকবে।’

নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।

এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন বলেই বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিরোধী দল নির্বাচনটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চায়নি। সে কারণেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে চারটি ক্ষেত্রে ঐকমত্য রয়েছে এবং এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। যাতে দেশের মানুষ ভবিষ্যতে নির্বাচনমুখী হয় এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এ ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।

ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান গ্রহণের পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিবারই সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে, নতুন করে সংবিধান রচনা বা সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করা হয়নি।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি দাঁড়ি, কমা ও সেমিকোলন যেভাবে আছে, সেভাবেই আমরা বাস্তবায়ন করবো। সবাই মিলে যে সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেটিই বাস্তবায়ন করা আমাদের কমিটমেন্ট।

চিফ হুইপ জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি নতুন বিল আনা হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সরকার করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলাতে নানা উদ্যোগ  

* দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ * টানাপোড়েনের কেন্দ্রে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসান ও শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ঢাকা-দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক গভীর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। একদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আবেগ, বিচারিক মর্যাদা ও ভূরাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা; অন্যদিকে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন আস্থার সংকট। জমাট বাঁধা এই বরফ গলাতে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিনই দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির বর্তমান টানাপোড়েনের কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লির এফসিসি সাউথ এশিয়ার অনলাইনে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। যদিও ভারত সরকার দাবি করেছে—এই আয়োজনের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, তবুও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই দায় এড়ানোর অবস্থান ঢাকার ক্ষোভ কমাতে পারেনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি স্পষ্ট: দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণ ও আস্থার ঘাটতি পূরণ না করে কূটনৈতিক সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, ভারত যদি তাদের পুরোনো মিত্রকে বারবার রাজনৈতিক স্পেস ও সুরক্ষার বার্তা দেয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সঙ্গে নয়াদিল্লির সুসম্পর্ককে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

উত্তেজনা প্রশমন ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে ঢাকার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ সৃষ্টি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতি থমকে থাকবে। তবে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক হলে বহু সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এদিন, দুপুরে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় দূত। এর আগে, রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

একই ধারাবাহিকতায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর প্রধান পরাগ জৈনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ঢাকা সফর করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম ও ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ‘র’ প্রধানের এই সফর চীন থেকে ঢাকায় আসার নিয়মিত একটি কার্যক্রমের অংশ, এটি নিয়ে নতুন করে জল্পনা-কল্পনার কিছু নেই।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানী নয়াদিল্লিতে তিনি মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে সাক্ষাতে তারা কী নিয়ে আলোচনা করেছে সেটি জানা যায়নি।

একইদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গত এপ্রিলে ভারত সরকার তাদের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় নিয়োগ দিয়েছে সাবেক রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে ভারত এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার করে পাঠিয়েছে। নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে দীনেশ ত্রিবেদী ৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গভীর ভূরাজনৈতিক হিসাব। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা কোনো বাহ্যিক শক্তির দান ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ফসল। তবে কৌশলগত কারণে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল, যাতে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত ও ‘চিকেন নেক’ (শিলিগুড়ি করিডর)-এর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের আড়াই-ফ্রন্ট সামরিক চ্যালেঞ্জ কমে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর বর্তমানে এসে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল ও বাংলাদেশের ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বড় রূপান্তর এনেছে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, কিন্তু তা হতে হবে কোনো আধিপত্যবাদী বা একপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে সমমর্যাদার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বর্তমানে এক ঐতিহাসিক পরীক্ষায় দাঁড়িয়ে। একদিকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জনগণের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিচার বিভাগীয় মর্যাদা রক্ষা করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব; অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক প্রয়োজন অক্ষুণ্ন রাখা ভারতের জন্য জরুরি। ভারত সরকার নিজেদের পুরোনো রাজনৈতিক মিত্রের মোহ কাটিয়ে গণআকাঙ্ক্ষাকে কতটুকু মর্যাদা দেবে—তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের আসল রূপ।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন হতে যাচ্ছে। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরটি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বরফ সম্পূর্ণ গলাতে এবং সরাসরি আলোচনায় বসার একটি মোক্ষম সুযোগ হতে পারে।

তবে এই সফর এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সফলতা পুরোপুরি নির্ভর করছে এর আগে ভারত সরকার ‘হাসিনা ফ্যাক্টর’ এবং দণ্ডিত আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে কতটা দৃশ্যমান ও আন্তরিক পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের একটি সতর্কবার্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন— ভারত যদি বারবার তাদের পুরোনো মিত্রকে রাজনৈতিক স্পেস ও সুরক্ষার বার্তা দিতে থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সাথে নয়াদিল্লির আস্থাকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তবে দেশের বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ মনে করেন, সরকারের উচিত অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া।

তবে হুমায়ুন কবিরের মতে, সরকারের বর্তমান অবস্থান দেশের সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষা ও আবেগেরই সঠিক প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তবে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জনগণের আবেগ, বিচারিক মর্যাদা এবং ভূরাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই দুই দেশের কূটনীতির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুতের ঘাটতি: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা আছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। মূলত অর্থের জোগানের অভাবেই জ্বালানি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছি না। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তো অর্থের জোগান থাকতে হবে। সেই জোগানের জায়গাটি আসলে আমাদের হাতে নেই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যেসব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, সেগুলো যদি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে পারতাম, তাহলে আজ বিদ্যুৎ সংকটে মানুষকে এই কষ্ট করতে হতো না।

গ্যাসের চাহিদার ঘাটতি তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদায় প্রায় ১ হাজার ২০০ এমএমসিএফডির (মিলিয়ন ঘনফুট) ঘাটতি রয়ে গেছে। কারণ, আমাদের দেশীয় কূপগুলো থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, আপনার কাছে যদি টাকা থাকেও, তবু আপনি রাতারাতি এলএনজি আমদানি বাড়াতে পারবেন না। কারণ আপনার সেই অবকাঠামো নেই। আমাদের দেশে এলএনজির কোনো ল্যান্ড বেইজড টার্মিনাল নেই। আমাদের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আছে মাত্র দুটি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩০ থেকে ৩৬ মাসের আগে নতুন এফএসআরইউ কার্যকর করা আসলেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে এটি কীভাবে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এটি জনগণের সরকার। এসব কাজ করতে গিয়ে আমরা কোনো জায়গায় দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করব না। সরকারের ক্রয় নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপন নিয়ে কথা হচ্ছে। গ্যাস পাইপলাইনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এসব নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শুধু যন্ত্রপাতি দিয়ে নয়, বরং তাদের কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহে সম্প্রতি সংকট দেখা দেয়। এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের এনে আংশিকভাবে এটির কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, একটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে, তবে অপর বয়লারটি এখনো চালু হয়নি। এটি চালু করতে গেলে সাময়িকভাবে প্রথম বয়লারের কার্যক্রম অন্তত ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হবে, যা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন সময়টাতে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে কম হবে এবং আমরা এই এফএসআরইউ পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে পারব, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি।


শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে পানি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনা ও যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে এসডিজি গোল অর্জন সম্ভব নয়; এর মূল ভিত্তি হতে হবে রোগ প্রতিরোধ, যার ওপর প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন।’

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনাবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ বিষয় কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও জেন্ডার বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি এসডিজি-৩ অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে পানি, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণের মত খাতগুলোকে একত্র করতে হবে।

গ্রামাঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে ও রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বাজারঘাট বা সব জায়গায় ময়লা হাত দিয়ে ধরার পর সেই হাত ও টাকা দিয়েই আবার লেনদেন করা হচ্ছে। আমাদের এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট ও লবণাক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে মানুষ হলুদ পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। গত মাসে প্যারিস কনফারেন্সে আমি বিষয়টি তুলে ধরেছি, যেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে।

একই সঙ্গে শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিনে আসক্তি এবং জাঙ্ক ফুডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর একা দায়িত্ব চাপালে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়। পানি, স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। অন্তত প্রতি দুই মাসে একবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বৈঠকে বসে যৌথভাবে তা বাস্তবায়ন করলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মায়েদের সচেতনতা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শাকসবজি ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো উদ্যোগ নয়, সব মন্ত্রণালয়ের যৌথ কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এসডিজি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বক্তব্য দেন।

এছাড়া স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনীমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


banner close