সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।
অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।
দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।
বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।
শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।
অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।
শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’
জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।
যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’
কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :
জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।
জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।
ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।
হৃদরোগের চিকিৎসার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ৯ মে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করবেন। দাপ্তরিক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই সফরের জন্য তিনি ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করেছেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে তাঁর এই সফর ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
৭৬ বছর বয়সি রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ এক সপ্তাহের এই সফর শেষে আগামী ১৭ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। মূলত সেই অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই লন্ডন সফরের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তত্ত্বাবধান করছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভাই এবং বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে বদলি করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বদলির পর তার চাকরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগে থাকার সময়েই চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান আবু নছর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত বছর তাকে কিছুদিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ অধিদফতরে কর্মরত শামীমা পারভীন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) হিসেবে সর্বশেষ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করা শামীমা পারভীন দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হাইতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৩৯ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ফিমেল ফরমড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন।
এছাড়া তিনি ডিএমপির ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এআইজি পদে থেকে পুলিশ সদস্যর সন্তানদের শিক্ষা ও ক্রীড়া বিষয়ক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ ২০২২’ অর্জন, সিডনির ম্যাকুয়ারি ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব কাউন্টার টেরোরিজম ও মাস্টার অব সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন শামীমা পারভীন।
তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজিতে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি ইতালির COESPU থেকে ‘প্রোটেকশন অব সিভিলিয়ান’ এবং সিডনি ইউনিভার্সিটি থেকে ‘উইমেন লিডারশিপ’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
নড়াইল জেলার সন্তান শামীমা পারভীন বর্তমানে ঢাকার অফিসার্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে আছেন।
এদিকে সম্প্রতি ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে নিয়োগ দিয়ে গত ২২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার ব্যবহার করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ধর্মকে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথাবলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।
এসময় বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে।
প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।
এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।
সরকারপ্রধান বলেন, যে কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।
বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।
রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট মোকাবিলায় ধাপে ধাপে প্রায় ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রিভেনশনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার দিকে এগোনোর প্রচেষ্টা চলছে, যাতে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে হামের প্রকোপ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে গাইবান্ধা জেলায় খাল খনন কর্মসূচির আওতায় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে কি না; হলে, তা কী?
জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন/পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান আছে।
তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় সারা দেশে ১২০৪ কিলোমিটার এবং আগামি ৫ বছরে নতুন ও চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে ২০,০০০ কি.মি. খাল খনন/পুনঃখনন করবে।
এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা-কাবিটা-টিআর এর মাধ্যমে ১৫০০ কি.মি. খাল পুনঃখনন/সংস্কার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় গাইবান্ধা জেলায় ৩টি খাল পুনঃখননের কাজ চলমান আছে এবং বৃহৎ পরিসরে খাল খননের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শাওগাতুল আলম। তিনি অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদা পাবেন।
গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ঢাকা নভোথিয়েটারের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন মো. শাওগাতুল আলম।
প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা আর আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইউনূস সরকারের আমলে কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য না থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা। তাদের অনেকেই এখন অপরাধ জগতে পুরো মাত্রায় সক্রিয়। তাদের কেউ কেউ সন্দেহ আর অবিশ্বাসের জগতে পুরনো হিসাব মেলাতে খাটাচ্ছেন মাথা। এতেই অস্থির হয়ে উঠেছে অপরাধ জগৎ। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তথ্য সামনে এসেছে।
পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। তেবে যারা টিটনের হত্যায় জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন ছিলেন। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত হন। মুক্তির পর তিনি ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট ও শহিদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে টিটনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। এতে অপরাধীদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। এরপর একই সরকারের আমলে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র্যাবের তৎপরতায় অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল, কেউ কেউ পালিয়েও গিয়েছিল। আবার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক সন্ত্রাসী প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ ঠিকানা হিসেবে কারাগারকেই বেছে নিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কারামুক্ত হয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কারামুক্ত হয় ৯০ দশকে তেজগাঁও এলাকার ত্রাস সুইডেন আসলাম, মিরপুরের আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগ এলাকার খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ও খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। এ ছাড়া কারামুক্ত হয়ে হাজারীবাগ ও ধানমন্ডি এলাকার আতঙ্ক সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন পাড়ি জমান বিদেশে। তাদের মধ্যে সুইডেন আসলাম নিষ্ক্রিয় থাকলেও অন্য সবাই সক্রিয়।
এর আগে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তকমা মুছে কারামুক্ত হয় জোসেফ আহমেদ। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকার অপরাধ জগতের একচ্ছত্র অধিপতি সেজে ছিলেন।
এসব সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই এক থেকে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ছিল কারাগারে। এখনো কারাগারে আছে— এমন সন্ত্রাসীর কেউ কেউ মুক্তির জন্য জোর তদবির চালাচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরনো ও নতুন গজিয়ে ওঠা অপরাধীদের হালনাগাদ তথ্য নেই তাদের কাছে। কাজ চলছে নতুন তালিকা তৈরির।
তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে বড় অংশই এখন দেশের বাইরে। মারা গেছে কেউ কেউ। তাদের বাইরে যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই দুয়েকটি মামলা ছাড়া অন্যগুলোয় খালাস পেয়ে কিংবা জামিন নিয়ে কারাগারে অবস্থান করছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন তারা জামিনে বের হয়ে আসছে।
২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম প্রকাশ করে। তাতে নাম ছিল আব্বাস, হেলাল, টিটন ও রাসুর। এই চারজনসহ জামিনে বের হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ আরও মামলা রয়েছে। কোনো কোনো মামলায় তাদের সাজাও হয়। আবার কোনো কোনো মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অব্যাহতিও পায় কেউ কেউ।
ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বড় অপরাধীদের মামলা, জামিন, গ্রেপ্তার ও সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর পুলিশের বিশেষ শাখাসহ অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সবসময় করত নজরদারি। তবে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাঠামোয় ভঙ্গুর অবস্থা তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা খুব সহজেই বের হয়ে আসে। তাদের ওপর কোনো নজরদারি ছিল না।
যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ যাতে নতুন করে অপরাধে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিতে সক্রিয় তারা। তিনি বলেন, জামিনে বের হয়ে কেউ যেন নতুন করে অপরাধমূলক কাজে জড়াতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী, গডফাদার বা যেকোনো পরিচয়েই হোক, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
কোনো অপরাধী কারামুক্ত হলে তাতে অপরাধের মাত্রা বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয় বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হকের মত, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগারে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করত বাইরের অপরাধ। তাই জামিনে মুক্ত হলে তাদের অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।’
বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই বাড়ছে। আগে যেখানে খুচরা দোকানগুলোতে থরে থরে সাজনো থাকতো বোতলজাত সয়াবিন তেল, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে অন্য পণ্য গ্রহণের শর্তে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যেই বাড়ল দাম। প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেলের মূ ল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নতুন এই মূল্য গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
এদিকে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সয়াবিন তেলের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী মাসে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তাই এখনই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সমস্যা দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও দেশে তা সমন্বয়ের জন্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র আমদানি পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছর একই সময়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এই বাস্তবতায় আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১ হাজার ২৮২ ডলার এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছায়। ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় আরো বেড়েছে।
সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে সরকারি দলের ৭ জন এবং স্বতন্ত্র ও অন্য দল থেকে থাকবেন ৫ জন সদস্য। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ঠিক করা হয়েছে ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্য দল থেকে রাখা হয়েছে পাঁচজনকে।
বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে,’ বলছিলেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এ সময় স্পিকার বলছিলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। এভাবে গঠন করা হবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সমান। এই অর্থ প্রদান করা হবে রেডক্রসের কাছে। যেসব পরিবারের সদস্য হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইইউ এ তথ্য জানিয়েছে।
তারা বলেছে, এ সহায়তা বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহের মানুষের উপকারে কাজে লাগবে।
রেডক্রস এই অর্থ দিয়ে চলমান ভ্যাকসিন কার্যক্রম আরও দৃঢ় করবে। এছাড়া হাম প্রতিরোধেও এগুলো ব্যয় করা হবে। যারমধ্যে থাকবে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
মূলত নগদ অর্থ দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত এবং অসুস্থের সেবা করতে গিয়ে যাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।
বিবৃতিতে ইইউ আরও জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের অন্যতম দাতা সংস্থা। এরমধ্যে শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই মানবিক সহায়তা হিসেবে ২৩ মিলিয়ন ইউরো বাংলাদেশের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাকে দিয়েছে তারা। যারমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ইউরো এবং ৭ মিলিয়ন ইউরো দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ সংক্রান্ত প্রস্তুতি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থিতিস্থাপকতা অর্জনে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের কৃষিমন্ত্রী ও দেশটির সরকারের বিশেষ দূত সুজুকি নরিকাজুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান জাপানের কৃষিমন্ত্রী।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দু’দেশের মধ্যে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সুজুকি নরিকাজু।
বিশেষ দূত বাংলাদেশে জাপানি খাদ্যপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে কৃষি খাত, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জাপানে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে দক্ষ জনবল পাঠানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নেন।
বৈঠকে জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মেট্রোরেল প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
জাপানি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৭ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানায়। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দেন।
এছাড়া জাপানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেশটিতে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে জাপানে সরকারি সফরের আশা ব্যক্ত করেন।