বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

কোটাবিরোধী আন্দোলন: হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার!

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
ফাইল ছবি
আপডেটেড
১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৪ ০০:০১

সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বেশ বড় আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কার তথা কোটাবিরোধী আন্দোলনের টানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা অচল হয়ে পড়ে। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’- এর কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।

অন্যদিকে কোটাবিরোধী চলমান এই আন্দোলন নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে তা বোঝা গেছে।

দৈনিক বাংলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্করের দাবিতে হাইকোর্টের দেওয়া চার সপ্তাহের স্থিতাদেশ অমান্য করে গতকাল আবারও রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে নামেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে এ অঞ্চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটি মুখোমুখি অবস্থার তৈরি হয়।

বিকেল ৫টার আগ থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে শুরুতেই তাদের জমায়েতে পুলিশ কোনো বাধা না দিলেও একসময় তা একটি রোষানলে রূপ নেয়। পুলিশ এ সময় শাহবাগ হয়ে কারওয়ানবাজার সড়কে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

শাহবাগে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ চেয়েছে শিক্ষার্থীরা যেন শাহবাগ ছাড়া অন্য কোনো মোড় দখল নিতে না পারে। তাই তারা ব্যারিকেডও বসিয়ে রাখে। তবে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একসময় ধাক্কাধাক্কি হয়। জানা যায়, পুলিশের সাঁজোয়া যানে উঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পিছু হটে পুলিশের সাঁজোয়া যান।

অন্যদিকে নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল রাত নয়টায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছাড়েন। এরপর শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এক দাবিসহ গতকাল সারা দেশে আন্দোলনে যে হামলা এবং বাধা দেওয়া হয়েছে আর যারা এটি করেছে তাদের বিচারের দাবিতে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।

শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কৃষি, কুমিল্লা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খায়েশ পূর্ণ হতে দেব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না।’

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়। তাই আদালতেই এর সমাধান হোক।

যে বিষয়টি আদালতের, সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড, ভোগান্তি সৃষ্টি করা অযৌক্তিক কাজ বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে সরকারের ২০১৮ সালের পরিপত্র আবার বলবৎ হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আর কার্যকর থাকছে না। সুতরাং জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এই কার্যক্রম পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না।’

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, কোটা নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই আর কোটা নিয়ে আন্দোলনের কোনো অবকাশ নেই। আমরা অনুরোধ করব, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মসূচি দেবেন না; অন্তত এই চার সপ্তাহ। এরপরও যদি আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

এ ছাড়া কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।’ কোটা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো যা অংশগ্রহণ এবং লিঙ্গ ভারসাম্য নিশ্চিত করে। সরকার ও হাইকোর্ট এ সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।’

কুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৫০ : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী, ২ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ও ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা দিলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ :

জাবি প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এক দফা আদায়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ পালন করার কথা। মহাসড়কে শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার পর তাদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আব্দুলাহিল কাফি গণমাধ্যমকে বলেন, এ মহাসড়ক অবরোধ করলে অসুস্থ মানুষ, রোগী ছাড়াও উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ। কারণ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না আমরা।

জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত : জবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে মিছিল বের করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেশ কয়েকবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে ব্যারিকেড এবং বাধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে মিছিলটি জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয়।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা : চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী হামলা চালিয়েছেন পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন পুলিশি পাহারায় তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু হলে বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম হামলা করে পুলিশ। এ সময় দুইজন নারী শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা টাইগার পাস থেকে লং মার্চ করে দুই নম্বর গেট এলাকায় আসার সময় নগরীর ওয়াসা মোড়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের লং মার্চ নিয়ে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের পেছন থেকে অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন ও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরী দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেন ও আন্দোলন চালিয়ে যান।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা আগারগাঁও সড়ক দখলে নেয়।

ইবিতে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ : ইবি প্রতিনিধি জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ফটক খুলে পুলিশি বাধা অতিক্রম করেন আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধের পর পুনরায় মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে অবস্থান করে কোটাবিরোধীরা।


নির্বাচিত

শনিবার ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তারা এই আয়োজনকে একটি বর্ণাঢ্য মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর অধীনে দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। একই সঙ্গে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং একটি বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করবেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তাঁর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে ঢামেক ক্যাম্পাসে এখন সাজ সাজ রব। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে হাসপাতালের বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তারা মনে করেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় এই চিকিৎসালয় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয় সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের অবদান অবিস্মরণীয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।

অন্যদিকে, ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ডা. বেলাল হোসেন নাজিম মনে করেন, আধুনিক ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপে দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তার প্রতিফলন এই সফরে দেখা যাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের (ঢামেকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান বলেন, “আগামী ১১ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ানদের জন্য গৌরব, আবেগ ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসবে। এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করবে।”


নির্বাচিত

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি। বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ওই সফরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সমাজকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। এছাড়া দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতির পর এ বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়াকে তিনি দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনযোগাযোগের নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির “কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড” (সিএনআইসি) পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন, যার ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে তিনি পাকিস্তানের মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রধান শহরে বাস্তবায়িত “সেফ সিটি” উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটির এই আধুনিক প্রযুক্তির সফল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শহরগুলোকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য হতে পারে। এ বিষয়ে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যেভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের নিবিড় পরামর্শ ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফিরিয়ে নেয়, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো ও ধারাবাহিক সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এই বৈঠকে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি সুবিধাজনক সময়ে সফরের আশ্বাস দেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় কমিশন: ইসি সানাউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনাগত দিনে অধিকতর নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সংস্কার সংক্রান্ত এক সংলাপে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এক না হলেও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি সাজানো হচ্ছে।’

ইসি সানাউল্লাহ জানান, বর্তমান কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আইন সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি চলছে। ইসির দক্ষতা এবং পর্যবেক্ষকদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ভালোভাবে আমলে নিলে সামনের দিনগুলোতে ভালো কিছু সম্ভব।’ পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সুপারিশসমূহ গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার মূল্যায়ন ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।’ কমিশন বর্তমানে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের পৃথক আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা করছে এবং ইতোমধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনার কাজও শেষ করেছে বলে জানান তিনি।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে ইউরোপীয় জোটের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বিশেষ করে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে নির্বাচন কমিশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

ফের খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

* তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সফরে আসেনি কোনো সুফল * প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি এখনো কাজ করছে মালয়েশিয়ায় * সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে সরকার ও এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি * শ্রমিক পাঠাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে আবারও আসতে পারে ধাক্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধও করার দেশের বর্তমান নিট রিজার্ভ ২৭ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট (গ্রস) রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় আট হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)। রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান এবং প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার মধ্যেই মালয়েশিয়ায় নতুন করে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার সুখবর পাওয়া গেল। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আশা জেগেছে বাংলাদেশিদের মনে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পর বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিনা খরচে কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসে।

আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দুই দফায় উদ্যোগ নিয়েও সংকটের সমাধান করতে পারেনি। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে ১৩ মে তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধিদল দেশটি সফরে গেছে। সেখানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। তবে এ সফরের পরও কোনো সুফল আসেনি।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এপ্রিলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। সফর শেষে তিনি ঘোষণা করেন, দ্রুতই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।

জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ আছে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, বনায়ন, পরিষেবাসহ বিভিন্ন খাতে ৮ থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশি এখনো কাজ করছেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট পাঁচবার বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজার। এর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, দুর্নীতি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও শ্রম অধিকারের অবনতিসহ পরস্পর সম্পর্কিত কারণ।

১৯৭৮ সালে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে ২৩ জনকে পাঠিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানি শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ১৯৮৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ জন শ্রমিক পাঠানো হয় দেশটিতে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে শ্রমিক অভিবাসনবিষয়ক প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯২ সালে। কিন্তু তারপরও ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত শ্রমবাজারটি প্রায় বন্ধ ছিল।

তবে এবার মালয়েশিয়া নয়, বাংলাদেশই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। তাই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে সরকার ও এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালে শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। পরে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া আবারও বন্ধ করে মালয়েশিয়া।

এরপর আবার ২০২২ সালের আগস্ট থেকে আবার কর্মী যাওয়া শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন শর্ত শিথিল নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে।

এদিকে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন। বাকি কর্মীদের বিষয়েও দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২১ জুন দুদিনের সরকারি সফরে তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরেও দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দুই দেশের সরকারের আলোচনার মাধ্যমে আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে শ্রমবাজার আবারও চালুর ঘোষণা এলো।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত—শুধু শ্রমবাজার উন্মুক্ত করলেই হবে না, একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসনের পরিবেশই তৈরি করতে না পারলে, রক্ষিত হবে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার।

শ্রমবাজার বিষয়ক বিশ্লেষকরা জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে আবারও জনশক্তি রপ্তানিতে ধাক্কা আসতে পারে।


নির্বাচিত

জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা প্রশংসনীয়

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা প্রশংসিত। তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীন অষ্টম বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ‘ফার্ম বেস-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (ভার্বাল অর্ডার) শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন। তিনি সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জাতীয় জাদুঘরে জাপানি স্থপতির নকশায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বখ্যাত জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিশু গ্রন্থাগার বা বাংলাদেশ চিলড্রেন লাইব্রেরি তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে তার সচিবালয়স্থ অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। এ সময় বৈঠকে শিশু গ্রন্থাগার বিষয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনাকালে, দু’দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিষয়টি স্মরণ করে মন্ত্রী এই মহতী উদ্যোগের জন্য স্থপতি তাদাও আন্দো এবং জাপান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এই বিশেষ শিশু গ্রন্থাগারটি বাংলাদেশ ও জাপানের গভীর বন্ধুত্বের এক চিরস্থায়ী প্রতীক হিসেবে আমাদের শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন সম্পন্ন করতে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প এবং চারুকলার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে (এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল) জাপানের নিয়মিত ও গৌরবোজ্জ্বল অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সেই সাথে সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘরের আধুনিকায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল ও শিল্পী বিনিময় এবং গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।

সাক্ষাৎকারের শুরুতে সংস্কৃতিমন্ত্রী জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূতকে অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশে তার সফল কর্মকাল প্রত্যাশা করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান আমাদের এক বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু। বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দু’দেশের এই অমূল্য পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের অবিচল ও দৃঢ় সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান সরকারের কার্যপরিধি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিটি যুগোপযোগী ও নবায়ন করার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের, গুরুত্ব পেল স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে শিক্ষা, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুকের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় যুক্তরাজ্যকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশা করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

এদিকে, একইদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে United Nations Office for Project Services (UNOPS)-এর বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার Sudhir Muralidharan-এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় UNOPS প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া সশরীরে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকা পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন এবং সেনাবাহিনীর ‘রেইড’ (Raid) মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি সরাসরি সেনা বাঙ্কারে নেমে অফিসার ও সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের আড়ালে ছদ্মবেশে থাকা সেনাদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের জন্য তৈরি করা সাধারণ খাবার ও চা গ্রহণ করেন, যা উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। তিনি জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সমসাময়ীক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে এই নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোড ম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছে।

জনগণের বিভিন্ন ভোগান্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, গত জুনে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার ব্যাপারে গ্রাহকদের যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে উপদেষ্টা কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, চাষাবাদ ও সংরক্ষণ পর্যায়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এটি ঠেকাতে দেশের সকল খাদ্য ব্যবসায়ীদের একটি কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডার বা ডাটাবেজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সবশেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের বিষয়ে তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি করা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। যদিও বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি সরাসরি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না, তবুও এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকে ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো দেশের স্থিতিশীলতা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করবে।


নির্বাচিত

ডিএমপির উচ্চপর্যায়ে রদবদল, ৬ ডিসিকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রশাসনিক ও আভিযানিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের ছয়জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সোমবার (৬ জুলাই) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। এই রদবদল অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে কর্মরত মো. আমীর খসরুকে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগ থেকে দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরীকে সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের মো. শাহজাহান হোসেনকে ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বদলির তালিকায় আরও রয়েছেন ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগের মো. আনোয়ার সাঈদ, যাঁকে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গোয়েন্দা-গুলশান বিভাগের মো. শাহরিয়ার আলীকে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে এবং মো. রবিউল হাসানকে ডিএমপির লজিস্টিকস বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলায় এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাজের সমন্বয় বাড়াতে কমিশনারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনস্বার্থে জননিরাপত্তা বিধান করাই এই বদলির মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই রদবদল কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


নির্বাচিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সোমবারের এই বৈঠকে মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়নে বেইজিংয়ের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি ‘এনএসআই’ (NS1) পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সরকারি সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে কোনো খরচ ছাড়াই পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না। মূলত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং অকাল মৃত্যু রোধ করতেই সরকার এই ব্যয়বহুল পরীক্ষার ফি মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এনএসআই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই সরকারি পদক্ষেপের ফলে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন, যা ডেঙ্গুজনিত জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মনে করছেন এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সেবাটি যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।


নির্বাচিত

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এছাড়া 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজতর করার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের কার্যকর সহায়তার প্রশংসা করেন। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জাতিসংঘের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, বাংলাদেশ 'উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মিশন এলাকাগুলোতে নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে জাতিসংঘের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাইতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই ইউনিটগুলো সোয়াত, সাইবার ক্রাইম তদন্ত এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।

হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন এবং আগামী ১৫-১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ আলোচনার জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অবস্থান করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য আরও ত্বরান্বিত হবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।


নির্বাচিত

banner close