অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য নিরসনে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত ৬টি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম মোর্শেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল আলম, স্বাচিপ চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এসময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদ্রোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ১৪১ জন রোগী ও রোগীর স্বজনদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গত ১৬ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে সামাজিক নিরাপত্তায় এতো বেশি বরাদ্দ বিরল।
তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে আমরা বাংলাদেশ যেমন দেখেছিলাম, সেই বাংলাদেশ এখন অনেক বদলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সাথে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা সংবিধানে অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করে সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি ভূমি ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য আশ্রয়ণ, ঘরে ফেরা, একটি বাড়ি একটি খামার, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো চালু করেন।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী বিকেলে চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত 'ন্যাশনাল কার্টিং চ্যাম্পিয়নশীপ এন্ড ট্যালেন্ট হান্ট' প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।
সারাদেশে জেঁকে বসা শীতের প্রকোপের মধ্যে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় উত্তরের এই জনপদে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। আকাশে ঘন কুয়াশার দাপট খুব বেশি না থাকলেও ভোর থেকে বয়ে যাওয়া হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ থাকায় শীতের অনুভূতি অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে রাজশাহীর শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। আজ ভোর ৬টা ৪৭ মিনিটে সূর্যোদয় হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আকাশের কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের উষ্ণতা না পাওয়ায় শীতের দাপট আরও বেড়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশ কম লক্ষ্য করা গেছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এই আবহাওয়া চরম অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। সকালে পেটের তাগিদে বাইরে বের হওয়া রিকশাচালক ও কুলি-মজুরদের ঠান্ডায় কাহিল হতে দেখা গেছে। স্থানীয় রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন যে, ঠান্ডায় হাত-পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা হলেও জীবিকার তাগিদে তাঁদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। মাঘ মাস আসার আগেই এমন অস্বাভাবিক শীতের দাপট এবং কনকনে বাতাসে সড়কের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানিয়েছেন, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা সামান্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান পরিস্থিতিতে খড়কুটা জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে, তীব্র শীতের গ্রাসে রাজশাহী অঞ্চলের স্বাভাবিক ছন্দ এখন অনেকটাই থমকে গেছে।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৩ বার পেছানো হলো। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই দিন ধার্য করেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত এসপি মো. আজিজুল হক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তাই আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর ও রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তাদের ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়। পরে ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।
বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তকরণসহ ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন, সামরিকীকৃত সন্ত্রাসবিরোধী নীতি পরিত্যাগ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০০৯-এর ১৩ ধারা বাতিল এবং সব বাহিনীকে কঠোর আইনগত জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কমিশনের সুপারিশে আরও রয়েছে বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং সত্য, স্মৃতি ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে ‘আয়নাঘর’গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তর।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশান এভিনিউয়ের কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬-এর ধারা ৩ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিশনটি গঠিত হয়। কমিশনের ম্যান্ডেট ছিল ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত বলপূর্বক গুমের ঘটনাসমূহ অনুসন্ধান, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও শনাক্তকরণ এবং এসব ঘটনা সংঘটনের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ।
ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কমিশন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নথি ও তথ্য পর্যালোচনা, পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম গ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ায় ডিজিএফআই ও র্যাব পরিচালিত জেআইসি ও টিএফআইসি, র্যাব সদর দপ্তর ও ব্যাটালিয়ন, এনএসআই, ডিবি, সিটিটিসি, পুলিশ লাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় গোপন বন্দিশালার সন্ধান পাওয়া গেলে কমিশন সেগুলো পরিদর্শন করে স্থানগুলো অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশনা দেয়।
কমিশন গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিএফআইয়ের জেলখানা (আয়নাঘর) এবং র্যাব সদর দপ্তরের ডিটেনশন পরিদর্শন করে আটক রাখার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এই দুটি সহ মোট তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন।
কমিশনে দাখিল হওয়া ৯ হাজার ১৯১টি অভিযোগের মধ্যে একাধিকবার দাখিলকৃত ২ হাজার ৩১৩টি এবং প্রাথমিক যাচাইয়ে গুমের সংজ্ঞার বাইরে বিবেচনায় ১ হাজার ৩১০টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে ৫ হাজার ৫৬৮টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় আসে। এসব অভিযোগের মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৩৬ জনের ক্ষেত্রে গুমের পর লাশ উদ্ধার হয়েছে।
নিখোঁজদের অবস্থান নির্ধারণে কমিশন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সন্দেহভাজন ব্যক্তি, গুমভুক্ত পরিবারের সদস্য ও বেসামরিক সাক্ষীসহ মোট ১১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পাশাপাশি ৭৬৫ জন গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও সেখানে গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের বালিশার বাসিন্দা, গুমের শিকার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ চাপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে প্রত্যাবর্তনের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে আসে।
এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্রথম দফায় ১ হাজার ৫২ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩ হাজার ২৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা কমিশন পেলেও যাচাই শেষে গুমের শিকার কারও নাম পাওয়া যায়নি। তালিকার কিছু তথ্য অসম্পূর্ণ ও অস্পষ্ট হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও হালনাগাদ তথ্য চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।
বলপূর্বক গুম সংক্রান্ত অভিযোগে গণমাধ্যমে জবানবন্দি গ্রহণ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ পাওয়া গেলেও ভিকটিম ও তাদের পরিবারের জীবন, নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং অনুসন্ধানের স্বার্থে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড বিবেচনায় কমিশন গোপনীয়ভাবে জবানবন্দি গ্রহণকেই অধিকতর সমীচীন বলে মনে করে।
কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের ঘটনায় র্যাব জড়িত, ২৩ শতাংশ ঘটনায় পুলিশ, এবং বাকিগুলোতে ডিজিএফআই, সিটিটিসি, ডিবি, ডিটেনশন ও অন্যান্য ব্যাটালিয়ন সংশ্লিষ্ট। বহু ক্ষেত্রে র্যাবকে সমন্বয়কারী বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে পাওয়া গেছে। অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় সমর্থিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী, সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া গুমের অভিযোগগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চার ধাপে কিছু অভিযোগ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেই অগ্রগতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন দেশের বিভিন্ন জেলায় সন্দেহভাজন ক্রাইম সিন, পিক-আপ ভ্যান, আয়নাঘর ও ডাম্পিং গ্রাউন্ড পরিদর্শন করে। ময়মনসিংহে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থানের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রত্যাশা করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দেখা যায়, দাফনকৃত লাশগুলোর মাথায় গুলির চিহ্ন এবং দুই হাত পেছনে বাঁধা ছিল। এছাড়া বরিশালের বলেশ্বর নদী ও বরগুনার পাথরঘাটায় ডাম্পিং জোনের সন্ধান মেলে।
বরিশালে দুটি দেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন শনাক্তকরণ কার্যক্রমের সূচনা করে। অজ্ঞাত মরদেহের ছবি ব্যবহার করে অনুসন্ধান কার্যক্রম মিউনিসিপ্যাল ইমার্জেন্সি রেকর্ড ও অন্যান্য সূত্রের সঙ্গে সমন্বয়ে এগিয়ে নেওয়া হয়। কমিশন অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি ব্যাপক ডিএনএ ডাটাবেস গঠনের সুপারিশ করেছে।
কমিশন গুমের ভিকটিম ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিটি বিভাগে পরামর্শ সভা, ৩০০ জনের বেশি ভিকটিম ও ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য চারটি কর্মশালা এবং একাধিক প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মাধ্যমে গুম বিষয়ক একটি তথ্যচিত্রও প্রকাশ করা হয়। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কমিশন কাজ করেছে। এসব সংস্থা গুমের ব্যাপকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনের কাজের প্রশংসা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ দেয়।
কমিশন ইতোমধ্যে দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পুনরাবৃত্তি রোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে কমিশন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স প্রিভেনশন অ্যান্ড রিড্রেস অ্যাক্ট, ২০২৫ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নে সহায়তা করে।
চলতি ২০২৬ সালে সরস্বতী পূজা, ২১ ফেব্রুয়ারি, মে দিবস, বুদ্ধপূর্ণিমা, পবিত্র আশুরা, শুভ জন্মাষ্টমী, মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়ার ছুটি বাতিল করা হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস উইং ফ্যাক্টস এক পোস্টে বলেছে, ‘প্রকৃতপক্ষে, এসব দিবস সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় আলাদাভাবে ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।’
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এ বছরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) শবে মিরাজ, ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা, ২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১ মে (শুক্রবার) মে দিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), ২৬ জুন (শুক্রবার) পবিত্র আশুরা (মহররম), ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) শুভ জন্মাষ্টমী, ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) মধু পূর্ণিমা এবং ১০ অক্টোবর (শুক্রবার) শুভ মহালয়া- এই দিবসগুলোর বিপরীতে ছুটির দিন সংখ্যা ‘শূন্য’ উল্লেখ রয়েছে।
ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধান টিম জানায়, ‘যেসব সরকারি ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার)-এর সঙ্গে মিলেছে, সেগুলো নতুন করে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়নি। গত দুই বছরের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করেও একই চিত্র পাওয়া যায়। গত দুই বছরেও যেসব সরকারি ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে মিলেছে, সেগুলো নতুন করে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়নি।’
ছুটি বাতিলের দাবি সত্য নয়, বরং সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় নতুন করে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে দেখানো হয়নি বলে জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল বা থার্ড টার্মিনাল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। উপদেষ্টা জানান যে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই টার্মিনালটি সচল করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে জাপানের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দর কষাকষি করেছেন। তবে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও এই মেয়াদে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সরকার টার্মিনালটি সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও পদ্ধতিগত কাজগুলো গুছিয়ে রাখছে এবং এটি চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার গ্রহণ করবে।
২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই বিশাল মেগা প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার প্রদান করেছে এবং বাকি অর্থ জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা (JICA) থেকে ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর এই টার্মিনালের আংশিক বা প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং তৎকালীন সরকার ২০২৪ সালের শেষের দিকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে বারবার নেতৃত্বের পরিবর্তন, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতে বিলম্ব এবং ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে এই প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা বারবার পিছিয়ে গেছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে এই থার্ড টার্মিনাল একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালে যাত্রীসেবার জন্য ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন এবং তিনটি বিশেষ ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে এবং যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে তিনগুণ বেড়ে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়াবে। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পদ্ধতিগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে আপাতত এই বিশাল সুযোগের জন্য দেশবাসীকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের আগমনের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
সারা দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যখন চরমভাবে বিপর্যস্ত, তখন বিদ্যুৎ সেবার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবোর্ড)। এই মহতী উদ্যোগে বাপবিবোর্ডের সাথে সরাসরি একাত্ম হয়ে কাজ করছে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কল্যাণ পরিষদ’ (ক্রীসকপ)। শীতের প্রকোপ থেকে অসহায় ও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে তারা যৌথভাবে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত ‘কম্বল বিতরণ কর্মসূচি’ গ্রহণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই হাড়কাঁপানো শীতে প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘবে বাপবিবোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর এই নিরলস প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে সর্বস্তরে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
বাপবিবোর্ড প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো কেবল নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করাই নয় বরং যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করা। প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তীব্র শীতের এই কঠিন সময়ে এই ধরণের সরাসরি মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তি ও আশ্রয়ের স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সরকারি সেবার বাইরে গিয়ে এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনসেবার সংজ্ঞাকে আরও মহিমান্বিত করেছে।
পরিশেষে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়েছে। তারা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে যে, বর্তমান সংকটের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরনের জাতীয় দুর্যোগ বা জনকল্যাণমূলক কাজে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। জনগণের সার্বিক কল্যাণে বিদ্যুৎ খাতের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিরও উজ্জ্বল সাক্ষর রেখে চলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অব্যাহত থাকবে। মূলত মানুষের দুয়ারে কেবল আলো নয়, উষ্ণতা পৌঁছে দিতেই বাপবিবোর্ডের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি)-এর ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে তাৎপর্যপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে ‘ভিডিপি দিবস’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে ভিডিপি’র গৌরবময় ইতিহাস, বর্তমান অবদান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। মহাপরিচালক বলেন,
“গ্রাম ও নগরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ সদস্যের এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী পরিবারে। এই ঐতিহাসিক দিনে আমি ভিডিপি’র সকল সদস্য-সদস্যা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”
ভিডিপি’কে গণপ্রতিরক্ষার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন,
“স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে। আইন প্রয়োগে সহায়তা, সামাজিক অপরাধ দমন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজ এবং জরুরি মানবিক সহায়তাসহ নানাবিধ সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তারা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
ভিডিপি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদস্যদের সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন,
“আধুনিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং আনসার–ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় ভিডিপি সদস্যরা কৃষি, মৎস্য ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি তৃণমূল অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিটাক ও সহজ ডটকমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, বহুল প্রতীক্ষিত ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১২টি জেলার ১২টি উপজেলায় চালু হয়েছে। পরিকল্পিত ও টেকসই অর্থনৈতিক সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে এই প্রকল্প দেশব্যাপী ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ সুগম করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিডিপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সকল ভিডিপি সদস্যকে আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ AVMIS-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য সদস্যদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউলের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্ষম, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ভিডিপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।”
ভিডিপি প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক দিনে উপস্থিত সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বাহিনী প্রধান বলেন,
“অদম্য সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ভিডিপিকে আরও সুশৃঙ্খল, প্রশিক্ষিত ও সমৃদ্ধশালী বাহিনীতে পরিণত করা যায়। তাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি গড়ে উঠবে।”
শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো, কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে ভিডিপি’র গৌরবময় যাত্রা শুরু হয়।
উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক, উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক ভিডিপি সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ এবং ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে আলোচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল, মামলা-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মুখ খুলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান যে, সুরভীর পুরো বিষয়টির ওপর তিনি ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন। আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন যে, তিনি ইতিমধ্যে সুরভীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ইনশাআল্লাহ তিনি খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতির প্রতিকার পাবেন। উপদেষ্টার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সুরভীর সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছে।
অন্যদিকে, আজ সোমবারই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরভীকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার মতো গুরুতর সব অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সুরভীকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তাঁর অনুসারীদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন যে, সুরভীকে কোনো একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে তাঁর মতো একজন সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অনেকেই সহজে মেনে নিতে পারছেন না।
আইন উপদেষ্টার এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং রিমান্ড কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে, তবে আসিফ নজরুলের ‘প্রতিকার’ পাওয়ার আশ্বাস একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুরভীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তাকে ফাঁসানোর যে গুঞ্জন রয়েছে, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ও ছাত্র মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সকলে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা গ্রহণ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই শোকবার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে পাঠানো এই বার্তাটি গ্রহণের বিষয়টি বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এবং সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শোকবার্তাটি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সশরীরে গুলশানে আসেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের একান্ত সচিব–২ এস এম খাইরুল ইসলাম (সজীব)। তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে এক সংক্ষিপ্ত ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে তারেক রহমান সেই শোকবার্তাটি নিজ হাতে গ্রহণ করেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক পালন এবং পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করার মাধ্যমে সরকার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেছে। আজ প্রধান উপদেষ্টার এই আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রেরণের বিষয়টি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের একটি ইতিবাচক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমান এই শোকবার্তাটি গ্রহণ করার সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর্তমানে বিএনপি কার্যালয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত শোকবার্তা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি বড় অংশের মানুষের জন্য এবার সেই বন্ধ্যাত্বের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর, তাদের অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এই অবস্থার পরিবর্তনে সরকার আন্তরিক ও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আসন্ন নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক।”
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন—দেশের চাবি আপনার হাতে’ শীর্ষক ভোটের গাড়ি কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে।
কুমিল্লায় ভোটারদের মধ্যে গণভোট ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে এই ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সকালে টাউন হল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সচেতন ভোটার। ভোটের অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়াতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোটের গাড়িটি কুমিল্লার নগরীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিভ্রমণ করে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের গুরুত্ব, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত বা বানচালের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। নির্বাচনের প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। সরকার যথাসময়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ অটল রয়েছে।
নির্বাচনকালীন প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি প্রতিটি দলকে তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় যাতে ‘ফ্যাসিস্টের দোসররা’ ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। মূলত একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখাই বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ের শেষ অংশে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আদালতে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই যেন এই খুনের সুষ্ঠু বিচার ও প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও অপরাধীদের নাম দ্রুতই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। সামগ্রিকভাবে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং একটি টেকসই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার তাঁর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
রাজধানীর অদূরে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে পুলিশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণের এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কয়েক লাখ বাসিন্দার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বাচলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক নিরাপত্তা বলয়ে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পূর্বাচল এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। সেখানে ৪টি পূর্ণাঙ্গ থানা, ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য পুলিশের ইতিহাসে একক কোনো প্রকল্পে নজিরবিহীনভাবে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ভবিষ্যতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আধুনিক নগরীতে কেবল সরকারি আবাসনই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। উদ্ভূত জনবহুল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা থেকে এলাকাটিকে শুরু থেকেই ডিএমপির অধীনে এনে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, পূর্বাচলে অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে পুলিশের একটি স্বতন্ত্র অপরাধ বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগ এবং একটি সুসজ্জিত পরিবহন বিভাগ গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও আইনি ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে একটি পুলিশ লাইনস, তথ্যপ্রযুক্তি বা এমআইএস ইউনিট, দুটি অপরাধ জোন এবং চারটি ট্রাফিক জোন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই বিশাল কর্মীবাহিনীর জন্য বিপুল সংখ্যক যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রক্রিয়াও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে এই প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পূর্বাচলকে একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। যেহেতু এখানে ভবিষ্যতে বিপুল জনসংখ্যার সমাগম ঘটবে, তাই তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন শুরু থেকেই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ৬ হাজার ৫২৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যায়ে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই ধাপে ধাপে এই বিশাল পুলিশ কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এই মেগা প্রজেক্টটি সম্পন্ন হলে পূর্বাচল হবে দেশের অন্যতম আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ, যা রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল নাগরিক জীবন উপহার দেবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সোমবার সকালে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমিতে ভিডিপির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আনসার বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রশাসনের অন্যান্য সকল বিভাগের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছেন। বিশেষ করে নির্বাচনী ডিউটির জন্য আনসার সদস্যদের উন্নত ও দক্ষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে যাতে তাঁরা যেকোনো পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন।
মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে আনসার বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশ ও জাতির প্রতিটি সংকটে এই বাহিনী সবসময় সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে। মহামারি থেকে শুরু করে ভয়াবহ বন্যা কিংবা অন্যান্য জাতীয় দুর্যোগ—সব ক্ষেত্রেই আনসার সদস্যরা তাঁদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। এমনকি সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল, তখন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও কেপিআই স্থাপনার নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার বাহিনী অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে। দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই বাহিনী সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মেজর জেনারেল সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার এই বাহিনীর সদস্যদের মানোন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের আরও বেশি দক্ষ ও আধুনিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশে এবং বিদেশের মাটিতে উন্নত প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক রণকৌশল আয়ত্ত করার মাধ্যমে আনসার বাহিনীকে একটি যুগোপযোগী পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সরকারি সহায়তায় বাহিনীর সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে একটি সুসজ্জিত র্যালি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায় এবং বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে দেশসেবার শপথ গ্রহণ করেন।