শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী: অর্থ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৪ ১৯:২৭

অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য নিরসনে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত ৬টি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম মোর্শেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল আলম, স্বাচিপ চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এসময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদ্‌রোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ১৪১ জন রোগী ও রোগীর স্বজনদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গত ১৬ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে সামাজিক নিরাপত্তায় এতো বেশি বরাদ্দ বিরল।

তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে আমরা বাংলাদেশ যেমন দেখেছিলাম, সেই বাংলাদেশ এখন অনেক বদলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সাথে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। বেড়েছে গড় আয়ু, কমেছে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা সংবিধানে অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করে সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি ভূমি ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য আশ্রয়ণ, ঘরে ফেরা, একটি বাড়ি একটি খামার, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো চালু করেন।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বিকেলে চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত 'ন্যাশনাল কার্টিং চ্যাম্পিয়নশীপ এন্ড ট্যালেন্ট হান্ট' প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।


অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে লিগ্যাল এইড

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ১৫৩ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য এ আইনি সেবা প্রদান করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা ও চট্টগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং দেশের কারাগারগুলোতে এ সেবা চালু করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে প্রি ও পোস্ট-কেইসে ৩৬৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ১৫৩ টাকা টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩৫৬ কোটি ৮৬ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৭ কোটি ৩ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার অধীনে (লিগ্যাল এইড) সরকারি খরচে আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগী ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ জন।

দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল, সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারে (টোল ফ্রি-১৬৬৯৯) এই আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচায় এ সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনের হুয়ারান টেক্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ জুলাই, ২০২৬ ২০:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।

সম্প্রতি ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে এ বিষয়ে ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তিতে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিন ওয়াং নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন| অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ৩৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর কারখানাটি স্থাপন করা হবে| পূর্ণ উৎপাদনে গেলে কারখানাটি বছরে ২৪ হাজার টন সুতা এবং ২০ মিলিয়ন মিটার গ্রে ওভেন ফেব্রিক উৎপাদনে সক্ষম হবে| এছাড়া প্রকল্পটিতে ৫৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ তথা বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে বেপজা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ| পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সফল ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে তিনি এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি পর্ব তিন বছর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ (শনিবার) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে ইকোসকের সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং ইকোসকের সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামার কাছে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব এবং অন্যান্য বাহ্যিক প্রতিকূলতার কারণে বাংলাদেশ নির্ধারিত প্রস্তুতি পর্বের পুরো সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ উত্তরণ বিলম্বিত করার জন্য নয়। বরং উত্তরণকে আরও মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল করাই এর উদ্দেশ্য।

মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত এই সময় কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করা, সুশাসন জোরদার করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী ও টেকসই মসৃণ উত্তরণ কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি এলডিসি থেকে উত্তরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সূত্র: বাসস


লোভনীয় চাকরির টোপ, কম্বোডিয়ায় ‘মানুষ বিক্রির’ হাটে বন্দি বাংলাদেশিরাও

* স্বপ্নের আড়ালে ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ * বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, নেপালি, ভারতীয় ও ভুটানি যুবকদেরও দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয় * প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা টানা কাজ করতে বাধ্য করা হয় * টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলেই চলে মধ্যযুগীয় বর্বরতা * ফিরে আসাদের মুখে মৃত্যুর আতঙ্ক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

যে তরুণের চোখে ছিল পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানোর স্বপ্ন, যার হাতে থাকার কথা ছিল একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশার ল্যাপটপ কিংবা মাউস; আজ তার শরীরে শোভা পাচ্ছে বৈদ্যুতিক শকের কালচে দাগ। কম্বোডিয়ার গহীন জঙ্গল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কিংবা সিহানুকভিলের কড়া পাহারায় থাকা বহুতল ভবনগুলো এখন পরিণত হয়েছে আধুনিক যুগের দাসত্বখানায়। সেখানে ‘কম্পিউটার অপারেটর’ কিংবা ‘ডেটা এন্ট্রি কর্মীর’ লোভনীয় চাকরির আড়ালে বন্দি রয়েছেন শত শত বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী। এটি কেবল সাধারণ কোনো মানবপাচার নয়; বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর ‘সাইবার দাসত্ব’ যেখানে নিজের দেশের মানুষকে জিম্মি করে বাধ্য করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক স্তরের ডিজিটাল জালিয়াতি বা স্ক্যামিং করতে।

সম্প্রতি কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। তাদের চোখে-মুখে এখনো লেপ্টে আছে মৃত্যুর আতঙ্ক। তাদের দেওয়া লোমহর্ষক জবানবন্দি এবং পুলিশ ও অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের তথ্য বিশ্লেষণ করে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চক্রের হাড়ির খবর।

স্বপ্নের আড়ালে পাতা মরণফাঁদ: এই চক্রের শিকার সিংহভাগই দেশের শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার তরুণ। সিরাজগঞ্জের ২৬ বছর বয়সি তোফায়েল আহমেদের গল্পটি দিয়েই শুরু করা যাক। স্নাতক শেষ করে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি ও পাশাপাশি ইন্স্যুরেন্সের কাজ করেও যখন পরিবারের হাল ধরতে পারছিলেন না, তখন তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের অতি ঘনিষ্ঠ, রক্ত সম্পর্কের এক বন্ধু—যিনি নিজে চীন থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসেছেন—তাকে কম্বোডিয়ায় দ্রুত ও ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখায়।

দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ঢাকার এক চায়ের দোকানে। কম্পিউটার অপারেটর পদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাবি করা হয় ৭ লাখ টাকা। তোফায়েল ফকিরাপুলের একটি এজেন্সির মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু হাতে যে ভিসা আসে, তা ছিল মূলত ‘কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার’ বা নির্মাণ শ্রমিকের। দালালরা সান্ত্বনা দেয়, ‘সেখানে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

২০২৫ সালের ৩০ জুন ঢাকা থেকে রওনা হন তোফায়েল। ব্যাংককে ট্রানজিট নেওয়ার সময় ট্রানজিট ভিসার জটিলতা দেখা দিলে দালালের চক্র বিমানবন্দরের ভেতরেই বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে তাকে বোর্ডিং পাস করিয়ে দেয়। বিমানে ওঠার ঠিক আগে দালালের এক লোক তার হাতে ধরিয়ে দেয় নগদ ২ হাজার ডলার। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি হয়তো কোনো দয়ালু এজেন্সির কাজ; কিন্তু মূলত এটিই ছিল তাকে কিনে নেওয়ার প্রথম কিস্তি।

রিসিভ থেকে বন্দিশালা: কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন বিমানবন্দরে নামার পর প্রথম দুই দিন বাংলাদেশিদের রাখা হয় বেশ ভালো মানের হোটেলে। চমৎকার খাওয়া-দাওয়া আর ভালো ব্যবহার দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে সামনে কী ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।

তৃতীয় দিন ইন্টারভিউ বা কাজের কথা বলে যখন তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সেই গন্তব্য হয় শহর থেকে প্রায় ১২০ থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরের কোনো নির্জন পাহাড়ি এলাকা কিংবা থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের কাছাকাছি কোনো কড়া পাহারাবেষ্টিত ভবন। তোফায়েল ও মানিকগঞ্জের তালাত মাহমুদের মতো ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা হুবহু এক।

স্ক্যাম সেন্টারের প্রবেশদ্বারে পৌঁছানো মাত্রই ছবি তুলে ভেতরে পাঠানো হয়। সবুজ সংকেত মিললেই বিশাল গেট পার করে তাদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ভেতরে ঢোকা মাত্রই কেড়ে নেওয়া হয় তাদের মূল পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন এবং বিমানবন্দর থেকে দেওয়া সেই ২ হাজার ডলার।

সেখানেই প্রথম প্রকাশ পায় নির্মম সত্য: তোমাকে এখানে কোনো চাকরির জন্য আনা হয়নি। তোমাকে ৩ হাজার বা ২ হাজার ডলারের বিনিময়ে আমরা কিনে নিয়েছি। এখন আমরা যা বলব, তোমাকে তাই করতে হবে।

আধুনিক সাইবার দাসত্বের ভেতরের গল্প: ‘লাভ স্ক্যাম’ ও ডিজিটাল প্রতারণা

স্ক্যাম সেন্টারের বহুতল ভবনগুলো একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দুর্গের মতো। চারদিকে কাঁটাতার, সশস্ত্র প্রহরী এবং সিসিটিভি ক্যামেরা। ভবনের এক তলায় হয়তো স্পা, সুপারমার্কেট বা খাবারের দোকান রয়েছে; কিন্তু কর্মীদের বাইরে যাওয়ার কোনো অধিকার নেই। জানালাগুলো লোহার গ্রিল দিয়ে শক্তভাবে আটকানো।

সেখানে বাধ্য করা হয় মূলত ‘লাভ স্ক্যাম’ বা রোমান্টিক প্রতারণার কাজে যুক্ত হতে। ফরিদপুরের আল আমিনের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় এই প্রতারণার ভেতরের সুসংগঠিত রূপ।

পরিচয় চুরি ও প্রোফাইল তৈরি: প্রতিটি কর্মীকে সুন্দরী মেয়েদের নাম ও ভুয়া ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেওয়া হয়।

টার্গেট নির্ধারণ: মূলত আমেরিকা, ইউরোপ বা উন্নত দেশের বয়স্ক ও একাকী অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের টার্গেট করা হয়।

সম্পর্ক স্থাপন: দিনের পর দিন চ্যাটিং করে তাদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। আস্থা অর্জনের জন্য মাঝেমধ্যে কিছু নারীকে দিয়ে ভিডিও কলও দেওয়ানো হয়।

বিনিয়োগের ফাঁদ ও হ্যাকিং: সম্পর্ক যখন গভীর হয়, তখন তাদের কোনো ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ইনভেস্টমেন্ট স্কিমে টাকা লাগাতে প্রলুব্ধ করা হয়। সবশেষে হ্যাকারদের সহায়তায় ভুক্তভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়া হয়।

এখানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, নেপালি, দক্ষিণ ভারতীয়, তামিল ও ভুটানি যুবকদেরও দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা টানা কাজ করতে বাধ্য করা হয় তাদের।

টার্গেট পূরণে ব্যর্থতা ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা: স্ক্যাম সেন্টারে প্রতিদিনের কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ‘টার্গেট’ দেওয়া থাকে। এই টার্গেট পূরণ করতে না পারলে কিংবা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।

তোফায়েল ও তালাত জানান, তাদের একটি নির্জন অন্ধকার ঘরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে হাত-পা বেঁধে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো, হকিস্টিক দিয়ে অনবরত পেটানো হতো। দিনের পর দিন কেবল শুকনো নুডলস খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে তাদের, মাঝেমধ্যে তাও মিলত না। এমনকি পানি পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হতো। তালাত এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের মুখে কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন। নারীদের অবস্থাও এর চেয়ে ভিন্ন নয়। মাইমুনা আক্তার মিলির মতো অনেক নারীও উচ্চ বেতনের লোভে গিয়ে সেখানে বছরের পর বছর বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন।

মুক্তি ও দেশে ফেরার চড়া মূল্য: এই নরককুণ্ড থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। তোফায়েল নিজের বুদ্ধিমত্তায় ও যেকোনো উপায়ে বাংলাদেশ থেকে টাকা আনিয়ে সেই স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্তি পান। কিন্তু মুক্তি পেলেও মেলেনি পাসপোর্ট বা বৈধ ভিসা।

কম্বোডিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে প্রতিদিন ১০ ডলার করে জরিমানা দিতে হয়। আড়াই মাসের বেশি অবৈধভাবে থাকায় বিশাল জরিমানা জমে তোফায়েলের। পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ সহযোগিতায় জরিমানা মওকুফ করিয়ে এবং দেশ থেকে আরও ৮২ হাজার টাকা দিয়ে বিমানের টিকিট কেটে চলতি বছরের ১৪ জুন তিনি দেশে ফেরেন।

একইভাবে ১ জুলাই সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় ১০ জন নারীসহ ১০৯ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, সম্প্রতি সর্বমোট ৫৮৩ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে ফেরত এসেছেন। তবে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশে কম্বোডিয়ায় গেছেন। এই বিশাল সংখ্যার কতজন এখন স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি, তার সঠিক পরিসংখ্যান মেলা ভার।

প্রশাসনের ভূমিকা এবং আইনি সীমাবদ্ধতা: কম্বোডিয়া থেকে শত শত তরুণ সর্বস্ব হারিয়ে ফিরলেও সেই অনুপাতে মামলার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

সিআইডির মানবপাচার ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মানুষ নিঃস্ব হয়ে ফিরলেও আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দ্বিধাবোধ করেন। অনেকেই ভাবেন মামলা করলে হয়রানি বাড়বে, তার চেয়ে দালালের পা ধরে যদি কিছু টাকা উদ্ধার করা যায়।

পাচারকারী চক্রও প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার কম্বোডিয়া, লাউস ও ভিয়েতনামে যাতায়াতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর পাচারকারীরা এখন জাল BMET কার্ড ব্যবহার করছে অথবা কর্মীদের ট্যুরিস্ট হিসেবে প্রথমে থাইল্যান্ডে পাঠাচ্ছে এবং সেখান থেকে সড়কপথে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে চালান করে দিচ্ছে।

সচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার দাবি: কম্বোডিয়ার এই ‘সাইবার দাসত্ব’ কেবল একটি অভিবাসন সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের এক সংঘবদ্ধ নীলনকশা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও লাওসে যাওয়ার ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর করেছে।

তবে কেবল নীতিমালাই যথেষ্ট নয়। দালালরা যখন খোদ বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট পিলারের পাশে দাঁড় করিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় বোর্ডিং পাস পাইয়ে দেয়, তখন ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদগুলোকেও চিহ্নিত করা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, সরকারি স্মার্ট কার্ড বা BMET ক্লিয়ারেন্স থাকলেই চাকরিটি বৈধ—এমন অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তথাকথিত ‘আইটি সেক্টর’ বা ‘কম্পিউটার অপারেটর’ পদের লোভনীয় প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষকে শতভাগ সচেতন হতে হবে। তা না হলে, জীবিকার তাগিদে দেশ ছাড়া তরুণদের জীবনের গল্পগুলো এভাবেই ট্র্যাজেডি হয়েই থেকে যাবে।


এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ ও জি-৭৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকার ব্যাপারে আবারও আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭)।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।’

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত প্রস্তুতিকাল সংস্কার কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করতে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় করতে সহায়ক হবে।

সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণে ইইউর অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে। সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রতি জি-৭৭ এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল বিষয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।

বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।


এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধিতে ইইউ ও জি-৭৭ এর সমর্থন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা হতে বাংলাদেশের টেকসই, স্থিতিশীল ও মসৃণ উত্তরণের পথে পাশে থাকার বিষয়ে পুনরায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭)। গত শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ইতিবাচক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের পৃথক বৈঠকে এই বৈশ্বিক সমর্থনের বিষয়টি উঠে আসে।

আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বৃদ্ধি করার পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি প্রতিনিধিদের জানান যে, “চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।” মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত এই অতিরিক্ত সময় এলডিসি পরবর্তী সময়ে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং উত্তরণ প্রক্রিয়াকে অপরিবর্তনীয় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশের সুশাসন ও উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের এই ক্রান্তিকালে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে চলমান আলোচনাকে স্বাগত জানান এবং এই উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর স্বপক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি জোটের পক্ষ হতে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করার পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল বিষয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সানন্দে গ্রহণ করেছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বিজিএমইএ ও লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ইআরডি সচিব এই সংলাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেন। এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক এই সংহতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক।


শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকার এসব কর্মকাণ্ডকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ঢাকা ও দু-একটি জেলায় কিছু স্পটে দেখেছি, আন্দোলনকারীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু মিডিয়াতে আসায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।

সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজেদের পরিচয় গোপন করে কিছু মহল সবসময়ই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেটিই দৃশ্যমান হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যারা আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে অনেকেই আসলে ছাত্র নয়, এমনকি পরীক্ষার্থীও নয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি ইতোমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে, তবে তাদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আমরাও তাগাদা দিয়েছি। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরে আসুক এবং বিচারের মুখোমুখি হোন।’

তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু তিনি (শেখ হাসিনা) ইতোমধ্যেই সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাই তার আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ আছে কি না সেটি আইনজ্ঞরা বলবেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী রায় কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া বিদেশের মাটিতে পলাতক বাংলাদেশের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাদের ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।


বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অধীর আগ্রহে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।

উপপ্রেস সচিব জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে, আগামীতে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সুজন মাহমুদ জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাউকে আলাদা মনে করেন না।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্র ভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থ পাচার না হতো তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।

দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে এত এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে এখনো বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছর তো এগুলো এড্রেস হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো যদি এড্রেস করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেছেন, আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ টা এসেছে আমাদের সরকারের ওপরে। এই সরকারের ওপরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে দিয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওরা একটা জেনারেশকে ধবংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে। তারপর আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০১ বেডে উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোন কার্যক্রম নেই।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিং প্রভৃতি জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপরে আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


অনলাইন জুয়ায় দিনে লেনদেন ৫ কোটি টাকা

* ৬৬০০ সিমসহ গ্রেপ্তার ৬ * সাইবার নজরদারি জোরদারে চাঞ্চল্যকর তথ্য * কারবারের পেছনে বড় আন্তর্জাতিক চক্র * পেমেন্ট গেটওয়ে ও সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করছেন চীনা নাগরিকেরা * ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এড়াতে হিসাব রাখা হয় হাতে লিখে * দেশে মোবাইল অ্যাপে চলে আন্তর্জাতিক জুয়ার ওয়েবসাইট * টাকাকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার * টাকা জমা ও উত্তোলনে বিকাশ, নগদ ও রকেট ব্যবহার
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০০:১৮
বিশেষ প্রতিবেদক  

গাজীপুরের টঙ্গীর একটি অভিজাত রিসোর্টের চার তলার একটি বিলাসবহুল কক্ষ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কয়েকজন তরুণ হয়তো ছুটি কাটাতে এসেছেন। কিন্তু সেই কক্ষের ভেতরে নিস্তব্ধতার আড়ালে চলছিল এক ভিন্ন কর্মযজ্ঞ। টেবিলজুড়ে সাজানো সত্তরটিরও বেশি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ আর থরে থরে সাজানো হাজার হাজার সিম কার্ড। কোনো প্রথাগত জুয়ার আসরের মতো এখানে তাসের বোর্ডে টাকা উড়ছিল না, কিংবা ছিল না কোনো ক্যাসিনো চিপস। অথচ, প্রতি মুহূর্তে এই ঘরের ভেতরে থাকা কয়েকটি ডিভাইসের মাধ্যমে হাতবদল হচ্ছিল কোটি কোটি টাকা। গাজীপুর ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ সময় মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ৬ হাজার ৬০০টি সিম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করত। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, টঙ্গীর একটি রিসোর্ট এবং কুমিল্লার একটি হোটেলে আলাদা অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আবদুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

যেভাবে শুরু হলো ‘অপারেশন টঙ্গী টু কুমিল্লা’: গত কয়েক মাস ধরেই ডিবির সাইবার ক্রাইম অ্যান্ড নজরদারি ইউনিটের রাডারে আসছিল কিছু সন্দেহজনক আইপি অ্যাড্রেস এবং অস্বাভাবিক মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য। সাধারণ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা এমন কিছু নম্বরে যাচ্ছিল, যেগুলোর কোনো বৈধ ব্যবসায়িক ভিত্তি নেই।

সাইবার নজরদারি জোরদার করতেই গোয়েন্দারা দেখতে পান, বাংলাদেশে বসে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এই জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে টাকা জমা দেওয়ার (ডিপোজিট) এবং তোলার (উইথড্র) জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল দেশীয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাকাউন্ট।

গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিবির দল প্রথমে হানা দেয় টঙ্গীর একটি রিসোর্টে। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরিফুল ইসলাম রিফাতসহ তিনজনকে। তাদের ল্যাপটপ এবং মোবাইল স্ক্রিন তখনো সচল ছিল এবং লাইভ ট্রানজেকশন চলছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকটি দল রওনা দেয় কুমিল্লার একটি হোটেলের উদ্দেশ্যে। সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিনজনকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, হোতা রিফাত অত্যন্ত চতুর। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন থানায় চারটি সাইবার ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করতেন এবং বিলাসবহুল রিসোর্টে একাধিক রুম ভাড়া নিয়ে সাময়িকভাবে তার ‘কন্ট্রোল রুম’ স্থাপন করতেন।

৬৬০০ সিমের সমান্তরাল ব্যাংকিং সাম্রাজ্য: এই অভিযানের সবচেয়ে চোখ কপালে তোলার মতো আবিষ্কার ছিল বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড। একজন সাধারণ নাগরিকের নামে যেখানে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কার্ড তোলার নিয়ম, সেখানে এই চক্রের কাছে পাওয়া গেছে ৬,৬০০টি সচল সিম কার্ড, যেগুলো সচল এমএফএস অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত ছিল। এছাড়া আরও ৬৭টি অতিরিক্ত সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

এত সিম তারা পেল কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করত: তদন্তে জানা যায়, এই চক্রটি মূলত গ্রাম ও শহরের নিম্নবিত্ত বা অসচেতন মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে কিংবা কিছু অসাধু সিম বিক্রেতার সহায়তায় ভুয়া বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে এই সিমগুলো সংগ্রহ করেছিল।

সিম ব্যবহারের কৌশল ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল: ৬৬০০টি সিমকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছিল। কিছু সিম ব্যবহার করা হতো শুধুমাত্র জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য (ক্যাশ-ইন), কিছু সিম ব্যবহার করা হতো টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের জন্য, আর কিছু সিম নির্দিষ্ট রাখা হতো চূড়ান্ত ক্যাশ-আউটের জন্য।

হাতে লেখা খাতার রহস্য: প্রযুক্তির চরম শিখরে থেকেও এই চক্রটি তাদের দৈনিক হিসাবের খাতা রাখত অ্যানালগ পদ্ধতিতে। জব্দ করা নথির মধ্যে পাওয়া গেছে বড় বড় রেজিস্টার খাতা। সেখানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিদিনের হাজার হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের নম্বর এবং লেনদেনের পরিমাণ লিখে রাখা হতো। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা ট্রেইল এড়াতেই তারা এই সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করত।

কোটি কোটি টাকা পাচারের রুট: ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, জব্দ ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে—এই চক্রটি দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করত। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা! কিন্তু এই বিশাল অঙ্কের টাকা বাংলাদেশে থাকত না। স্থানীয় মুদ্রা বা টাকাকে তারা অভিনব উপায়ে পাচার করে দিত। জুয়াড়িরা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়। এই টাকা ৬৬০০টি এমএফএস সিমের মাধ্যমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জমা হয়। মাঠ পর্যায়ের এজেন্টরা এই টাকা ক্যাশ-আউট করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে। সেই টাকা দিয়ে দেশের অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট বা পিটুপি (P2P) প্ল্যাটফর্ম থেকে USDT বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে এই অর্থ চলে যায় আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায়, খুব সহজেই দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছিল এবং দেশের রিজার্ভে বড় ধরনের ধাক্কা লাগছিল।

নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড: এই অভিযানের সবচেয়ে বড় উন্মোচন হলো এর আন্তর্জাতিক সংযোগ। ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি আসলে এ দেশের কেউ নয়।

বাংলাদেশে যে সমস্ত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ (যেমন ১এক্সবেট, মেলবেট ইত্যাদি) সক্রিয় রয়েছে, সেগুলোর পেছনে রয়েছে বড় বড় আন্তর্জাতিক চক্র। এই পেমেন্ট গেটওয়ে ও মূল সার্ভারগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন চীনা নাগরিকেরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা ‘নাতান’ নামের এক চীনা নাগরিক। সে মূলত নেপথ্যে থেকে পুরো নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করত। এই দেশীয় এজেন্টদেরকে সে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ বা কমিশনের লোভ দেখিয়ে কাজে লাগাত। আমরা নাতানকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন সংস্থার সহযোগিতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি। চীনা চক্রটি মূলত বাংলাদেশিদের সরলতা এবং সহজ উপায়ে ধনী হওয়ার লোভকে পুঁজি করে এই জাল বিস্তার করেছে। তারা দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে স্থানীয় এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করত, যাতে জুয়াড়িদের মনে কোনো সন্দেহ না জাগে।

তারুণ্যের অবক্ষয় ও সামাজিক ঝুঁকি: এই চক্রের সদস্যদের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—গ্রেপ্তারদের বয়স ২০ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। এই বয়সে যখন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বা ক্যারিয়ার গড়ার কথা, তখন তারা জড়িয়ে পড়েছেন আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও জুয়া সিন্ডিকেটের সাথে।

সহজে বড়লোক হওয়ার নেশা, বিলাসবহুল জীবনযাপনের লোভ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এই তরুণদের অপরাধের চোরাবালিতে টেনে নামিয়েছে। শুধু এই তরুণরাই নয়, এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ নিঃস্ব হচ্ছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই বা পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধে।

নীতিগত দুর্বলতা ও করণীয়: এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাত, টেলিকম সেক্টর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

সিম কার্ডের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কি ব্যর্থ? একজন ব্যক্তির নামে যেখানে ১৫টি সিমের সীমা রয়েছে, সেখানে একটি চক্রের কাছে ৬৬০০টি সচল সিম থাকা প্রমাণ করে যে বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ফাঁকফোকর রয়েছে। রিটেইলার বা সিম বিক্রেতাদের কঠোর নজরদারির আওতায় না আনলে এই জালিয়াতি বন্ধ করা অসম্ভব।

এমএফএস নজরদারির অভাব: একসাথে এতগুলো সিম থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কেন এগুলো আগে ব্লক করা গেল না? মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রানজেকশন মনিটরিং সিস্টেমকে আরও আধুনিক ও কঠোর করতে হবে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ হলেও অনলাইনের মাধ্যমে এর বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। পিটুপি (P2P) ট্রেডিং বা ক্রিপ্টো কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্লক বা কঠোর নজরদারিতে না রাখলে টাকা পাচার রোধ করা কঠিন হবে।

টঙ্গী ও কুমিল্লার এই অভিযানটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। ডিবির এই সফলতা প্রশংসনীয় হলেও, এটি আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে যে অপরাধের ধরন এখন আর অ্যানালগ নেই। অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির ঢাল ব্যবহার করে ঘরে বসেই দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।

যতক্ষণ না পর্যন্ত অবৈধ সিম বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে, এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে—ততক্ষণ পর্যন্ত এই অদৃশ্য ক্যাসিনোর থাবা থেকে দেশের তরুণ সমাজ ও অর্থনীতিকে পুরোপুরি মুক্ত করা কঠিন হবে। নাতানের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের দেশীয় দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এখন সময়ের বড় দাবি।


বাংলাদেশ বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক: চিফ হুইপ

ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রা-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ধামরাইয়ের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। এ ধরনের আয়োজন দেশের সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার কায়েতপাড়াস্থ ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দিরের মাধব অঙ্গনে আয়োজিত ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রা-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে পায়রা উড়িয়ে রথযাত্রা ও রথমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চিফ হুইপ।

ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রা-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি । ছবি: দৈনিক বাংলা

তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগণ জুলাইয়ে একটি নতুন সূর্যের উদয় প্রত্যক্ষ করেছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় থেকেই জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই; এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার, সমান মর্যাদা ও সমান সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রাপ্ত নাগরিক। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও অবদানের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রাষ্ট্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন, বৈষম্য কিংবা বিদ্বেষের স্থান নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন নীতি অনুসরণ করছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয় না। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

চিফ হুইপ বলেন, অতীতে সংখ্যালঘু ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হতো। দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালানো হতো। বর্তমান বাস্তবতায় এ ধরনের অপতৎপরতার কোনো স্থান নেই। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপিতে উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা কিংবা ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন এবং সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ এবং ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে চিফ হুইপ ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রা ও রথমেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে নির্ঝর আবাসিক এলাকায় গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন।

একই সাথে দেশের অন্যান্য সেনানিবাস, ডিওএইচএস এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকাগুলোতেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ সকল সেনানিবাস, ডিওএইচএস এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকার উপযুক্ত স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষসহ সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ কর্মসূচি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

দেশের বনজ সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সকলকে স্বপ্রণোদিত হয়ে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে সেনাসদর ও ঢাকা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক ও অসামরিক সদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর: মাহদী আমিন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও নির্বাচনি ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো ধরে-ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি স্মরণ করে অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের বয়স প্রায় পাঁচ মাস হতে চললো। এই স্বল্প সময়েই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান-প্রধান বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সবাই কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক মত, পথ বা আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একসাথে কাজ করে যেতে হবে। এই নতুন বাংলাদেশে সরকারের মূলনীতিই হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার ভিত্তি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের পাশে থাকা এই দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিক।’

সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির দর্পণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে আপনারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সত্য, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’

বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশে সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমের পথচলা শুরু হয় এবং কোনো বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়নি।’

ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংগঠনটির নতুন ভবনের জন্য দ্রুত জায়গা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন।

তিনি বলেন, ‘ডিআরইউর পক্ষ থেকে নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত জায়গা বরাদ্দ না পাওয়ায় পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’ এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ‘গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের কল্যাণে রাষ্ট্র কখনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করেনি।’

ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতি বছর ডিআরইউ এই আয়োজন করে, যার মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় ফলগুলোকে পরিচিত করানো।’

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতা এবং সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


তিন সংস্থার বিলুপ্তিতে হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’

* মূল লক্ষ্য—ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শতভাগ কার্যকর করা এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি শূন্যে নামিয়ে আনা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন খাতে এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগ সেবায় নিয়োজিত দেশের শীর্ষ তিন জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)-কে বিলুপ্ত করে একটি একক ও শক্তিশালী মেগা সংস্থা গঠন করা হচ্ছে। নতুন এই সমন্বিত ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’।

এতদিন ভিন্ন ভিন্ন আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত এই তিন সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনার মূল উদ্দেশ্য হলো—বিনিয়োগকারীদের জন্য সত্যিকারের একটি ‘ওয়ান-স্টপ হাব’ তৈরি করা। এই মহাপরিকল্পনার ফলে ফাইল চালাচালির চিরাচরিত লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেমন কমবে, তেমনই গতি আসবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ব্র্যান্ডিং করতে এবং বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণে এই একীভূতকরণ দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বহুল আলোচিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে এই নতুন যুগের সূচনা হলো। নতুন এই আইনি কাঠামোর মূল লক্ষ্য—একক জানালার (Single Window) মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে শতভাগ কার্যকর করা এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

একক ছাতার নিচে তিন শক্তির সমন্বয়: নতুন আইনের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ ও সমন্বয়হীনতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিশেষ শিল্পাঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠা এবং পিপিপি (PPP) প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম আলাদা আলাদা সংস্থার পরিবর্তে একক এই কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হবে। এর ফলে পূর্বের ২০১০, ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালের সংশ্লিষ্ট আইনগুলো রহিত করা হয়েছে।

শক্তিশালী ও উচ্চপর্যায়ের গভর্নিং বোর্ড: ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে, যার দৈনন্দিন চালিকাশক্তি হবেন একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য। তবে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গঠিত গভর্নিং বোর্ডের কাঠামোতে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া:

নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী: গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বা তার মনোনীত ব্যক্তি।

মন্ত্রিসভার অংশগ্রহণ: অর্থ, বিদ্যুৎ, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিল্প, বাণিজ্য ও আইন মন্ত্রীরা থাকছেন এই বোর্ডে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও বেসরকারি খাত: বেসরকারি খাত থেকে ৪ জন প্রতিনিধি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন, যার মধ্যে ২ জন নারী প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

‘সিঙ্গেল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’: বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো—সব ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন, ভিসা সুপারিশ, কাজের অনুমতি ও ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য একটি বাধ্যতামূলক ‘সিঙ্গেল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে।

বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি: বর্তমানে চালু থাকা সব ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা পৃথক পোর্টাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে একীভূত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সংস্থা আর নিজস্ব পোর্টাল ব্যবহার করতে পারবে না। কোনো দপ্তর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেরি করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই কর্তৃপক্ষকে।

শিল্পাঞ্চল ও পরিবেশবান্ধব ‘ব্লু ইকোনমি’: নতুন আইনে শিল্পাঞ্চল স্থাপনের ধারণায় আধুনিক বৈশ্বিক এজেন্ডাকে যুক্ত করা হয়েছে। রপ্তানি ও বাণিজ্যিক এলাকার পাশাপাশি এখন থেকে পৃথক জোন করা যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ শিল্প, জলবায়ু সহনশীলতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা. ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি) ও উপকূলীয় শিল্প।

প্রকল্পের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমি অধিগ্রহণকে ‘জনস্বার্থে’ বিবেচনা করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বা অব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া যাবে।

জাতীয় অগ্রাধিকার ও পিপিপি প্রকল্প: আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বা জরুরি জাতীয় প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যেকোনো প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প’ ঘোষণা করা যাবে। পিপিপি প্রকল্পের দরপত্র ও দরকষাকষির নথিগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। যেকোনো চুক্তিভিত্তিক বিরোধের ক্ষেত্রে ঢাকাতেই সালিশের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার ও শ্রমিক অধিকার: সরকারের বন্ধ বা লোকসানি শিল্প প্রতিষ্ঠান, অব্যবহৃত জমি ও শেয়ার এখন থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয় (Strategic Sale) করা যাবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়েছে—বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে সর্বাগ্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

সমৃদ্ধির নতুন মহাসড়ক: ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পষ্ট বার্তা দিল—বিশ্বায়নের এই যুগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পেছনে ফেলে স্মার্ট ইকোনমি গড়ে তুলতে দেশ প্রস্তুত। বিলুপ্ত তিন সংস্থার সমস্ত সম্পদ ও জনবল নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে স্থানান্তরিত হচ্ছে, ফলে কাজের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হবে না। একটি সমন্বিত, ডিজিটাল এবং নারীবান্ধব নীতিনির্ধারণী কাঠামোর মাধ্যমে এই নতুন আইনটি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হতে যাচ্ছে।


banner close