বিদ্রোহী গানের সুরে নজরুল যেমন মুক্তির পথ দেখাতেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তেমনি করে একই বিদ্রোহের সুরে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান।
আজ শুক্রবার কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ৬ নং পূর্ব বাঙ্গঁরা ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের বাংলাদেশ সম্মেলন ২০২৪ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।
৬ নং পূর্ব বাঙ্গঁরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শেখ জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে উদ্বোধক ছিলেন কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সরকার। এছাড়া মুরাদনগরের উপজেলা চেয়ারম্যান ড. আহসানুল আলম সরকার কিশোর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত উদ্দিন ও বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাধাকান্ত সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, নজরুলের বিদ্রোহের সুরে আন্দোলিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচবার সংগ্রামে সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তার কবিতায় মানুষ নিয়ে তার ভাবনা ছিল। বিদ্রোহী গানের সুরে নজরুল যেমন মুক্তির পথ দেখাতেন ঠিক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তেমন করে একই বিদ্রোহের সুরে ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নজরুল এক বিশাল সমুদ্র। নজরুল আমাদের বিদ্রোহের, আমাদের সাম্যের ও গণমানুষের কবি। নজরুলের সাম্যের গানের সুর মিলিয়ে দিয়েছিল সারা মানব জাতিকে। স্বাধীন চেতনায় মানুষ হয়ে বাঁচবার উৎসাহ দিয়েছিল বাঙালি জাতিকে। ব্রিটিশ শাসনের জিঞ্জির ভেঙে মুক্ত আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেই তিনি সেদিন বিদ্রোহী কবিতা রচনা করেছিলেন। তিনি শিকল ভাঙার যে প্রচেষ্টা কবিতার মাধ্যমে নিয়েছিলেন তার ফলেই তিনি আমাদের জাতীয় মহাকবি। এ জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়াবার উদাহরণ হিসেবেই তিনি সারাজীবন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, কবি নজরুলের পথ ধরে বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়ে গেলেন স্বাধীন সত্তায় বেঁচে থাকার অধিকার, স্বাধীনভাবে স্বপ্ন দেখার অধিকার। বঙ্গবন্ধু কবি নজরুলকে নিজের হৃদয়ে এমনভাবে ধারণ করেছিলেন যে, স্বাধীনতার পরে অবহেলায় পড়ে থাকা নজরুলকে খুঁজে বের করে স্বাধীন দেশে ফিরিয়ে আনলেন এবং জাতীয় কবির মর্যাদা দিলেন।
মন্ত্রী বলেন, নজরুলের যথার্থ মূল্যায়ন তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা আপাদমস্তক নজরুলকে চিনব, আমরা নজরুলকে চর্চা করব, আমাদের মননে, আমাদের সাধনায়, আমাদের মানসিকতায়, আমাদের কর্মপ্রেরণায় আমরা নজরুলকে ধারণ করব। তাহলেই তাঁর মূল্যায়ন আমরা সঠিকভাবে করতে পারব। তিনি নজরুল-নার্গিসের স্মৃতি বিজড়িত মুরাদনগরের এই স্থানকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে নজরুল নার্গিস গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রয়াস নেয়ার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
ইশরাক হোসেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুর্নবাসন করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকে বাদ পড়েছেন। তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কাউকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ দেয়া হবে না।
খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লব বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকায় ‘খাল-পুকুর-জলাশয় খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুভাঢ্যা খাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘খাল খনন একটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার। খাল খনন কর্মসূচি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি একটি বিপ্লব ও আন্দোলন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে মহাবিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের খাল খনন উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু কেরানীগঞ্জ নয়, সারা দেশে সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার; জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
খাল খনন কার্যক্রম টেকসই করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কেরানীগঞ্জবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
শুভাঢ্যা ও আটিবাজার খাল খনন বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠন নিয়ে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। গ্রেস মেং তার বিবৃতিতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং এদেশের সাধারণ মানুষকে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে গ্রেস মেং বলেন, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের জনগণকে তাদের সাম্প্রতিক নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানাই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি এই নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সুসংহত রূপ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, মানবাধিকার রক্ষা এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
অফিস করতে প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও অর্থবহ করতে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
গ্রেস মেং মতে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পাশাপাশি তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় বসবাসরত বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার রক্ষা ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই কংগ্রেস সদস্য।
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মাতৃভূমির অগ্রগতি নিয়ে সব সময়ই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান এবং মার্কিন আইনপ্রণেতা হিসেবে তিনি সেই সেতুবন্ধন আরও মজবুত করবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে একটি আধুনিক ‘গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক জনাব মোঃ আব্দুস সালাম।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নগর ভবনে কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় ঢাকাকে বাসযোগ্য ও সুন্দর নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চারটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে: ১. বৃক্ষরোপণ ও ব্যাপক সবুজায়ন ২. খালের প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও খনন ৩. আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ৪. কার্যকর মশক নিধন।
উক্ত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসি’র বিভিন্ন ওয়ার্ডকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘মনিটরিং টিম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই কার্যক্রমে স্থানীয় সিভিল সোসাইটিকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সভায় সতর্ক করে জানানো হয় যে, সচেতন করার পরেও কারো অবহেলায় মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বা পরিবেশ দূষিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক জনাব মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, "সিটি কর্পোরেশন একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই হবে প্রধান কাজ। ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার নিশ্চিত করা হবে, তেমনি অবহেলার জন্য তিরস্কার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।" তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে ডিএসসিসি’র সকল নাগরিক সেবা সম্পূর্ণভাবে সচল ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
এদিকে আজ সকালে এক পৃথক কর্মসূচিতে মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ধলপুরে ডিএসসিসি’র কেন্দ্রীয় মশার ঔষধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসক জনাব মোঃ আব্দুস সালাম তাঁর সাথে ছিলেন। মাননীয় মন্ত্রী সংরক্ষণাগারের সামগ্রিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখার তাগিদ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
এর আগে দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, হাবিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তা বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। এ কারণে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে হাবিবুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) জনগণের প্রচারমাধ্যম হিসেবে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিটিভি, বেতার ও সামাজিক মাধ্যমকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দফতর বণ্টন করা হয়েছে।
দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে হাবিবুর রশিদকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মো. রাজিব আহসানকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশটিতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপনের আলোকে তাদের এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এই অবস্থায় তাদের দফতর বণ্টনের আদেশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর বা ডিজিএফআই-এর নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। সামরিক বাহিনীতে অত্যন্ত মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত এই জেনারেল তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই গোয়েন্দা সংস্থার হাল ধরলেন। বুধবার এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর সামরিক জীবনের শুরু থেকেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আসছেন। তিনি ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন এবং কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজের মেধার প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণলব্ধ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুইবার অত্যন্ত সাফল্যের সাথে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র—সবখানেই দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) দীর্ঘ তিন বছর প্রশিক্ষক ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মের সামরিক কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই কর্মকর্তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে (UNHQ) কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে। তাঁর পুরো কার্যকালজুড়ে বাংলাদেশ এই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তাঁর ভূমিকা জাতিসংঘ মহাসচিবের সামরিক উপদেষ্টার কাছেও উচ্চ প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
সহকর্মীদের কাছে একজন আদর্শ ও মানবিক গুণসম্পন্ন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর এই নিয়োগকে সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও প্রশাসন—সবক্ষেত্রেই তাঁর অসামান্য পারদর্শিতা গোয়েন্দা সংস্থাটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেধা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে তাঁর এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। নবনিযুক্ত আইজিপির এই দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
এর আগে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আইজিপি হওয়ার আগে তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ বাহিনীতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তবে তাঁর কর্মজীবনে রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে প্রথমে চাকরিচ্যুত এবং পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেশাগত জীবন থেকে দূরে থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি প্রথমে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে চাকরিতে পুনর্বহাল হন। পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি ডিআইজি এবং সর্বশেষ দেশের পুলিশের সর্বোচ্চ পদ আইজিপি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। প্রশাসনের এই শীর্ষ পদে তাঁর আসীন হওয়াকে অনেকেই ন্যায়বিচার ও পেশাদারিত্বের বিজয় হিসেবে দেখছেন। সব মিলিয়ে, এক দীর্ঘ সংগ্রামের পর পুলিশের প্রধান হিসেবে তাঁর এই অভিষেক বাহিনীকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইনি জটিলতার কারণে গত বছর স্থগিত হয়ে যাওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলতি বছরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার জুনিয়র ও ইবতেদায়ি স্তরের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশকালে তিনি জানান, সরকার বছরের মাঝামাঝি সময়ে এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদের আগেই প্রশ্নপত্র তৈরির প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এবারের বৃত্তি পরীক্ষার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হচ্ছে এর অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি। গত বছর শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে নিয়ম করায় তা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এবং আইনি জটিলতায় পরীক্ষাটি স্থগিত হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, একই দেশের নাগরিক হিসেবে সব শিক্ষার্থীর এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সমান অধিকার রয়েছে, তাই এবার কোনো বৈষম্য রাখা হবে না।
বৃত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করেছে সরকার। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ পাবেন বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বৃত্তির আর্থিক সুবিধার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা করে পাবে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা হারে অর্থ পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছর থেকে বৃত্তির এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়ানোর বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি স্কুলের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রিট করা হয়েছিল। এর ফলে হাইকোর্ট পরীক্ষাটির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এবারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই আইনি জটিলতার অবসান ঘটবে এবং প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থী নিজেদের মেধা যাচাইয়ের সমান সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, পরীক্ষা আয়োজনে সরকার কঠোর নজরদারি করবে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অনিয়ম না ঘটে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন গুঞ্জন তীব্র হওয়ার পর তিনি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছাড়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয় ত্যাগ করেছেন। বুধবার সকালে তিনি তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে দিনের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর অপসারণ এবং নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি আকস্মিকভাবে অফিস ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গেই প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেননি। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।
ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তাঁকে নতুন গভর্নর নিয়োগ এবং তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। এর জবাবে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে জানান, "আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবরটি শুনেছি।" এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন করে তুলেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মোস্তাকুর রহমান কেবল একজন শিক্ষাবিদই নন, বরং তিনি বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সদস্য এবং হিরা সোয়েটারের মালিক হিসেবেও পরিচিত। তাঁর এই সম্ভাব্য নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত সরকারের উচ্চপর্যায় কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই অপসারণ বা নতুন নিয়োগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ এই পদটি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হয়েছে। সদ্য বিদায়ী বা বর্তমান গভর্নরের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশের আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অর্থনীতিবিদরা এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছেন, কারণ এই পদের রদবদল দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ বুধবার দুপুরে তিনি অব্যাহতির এই আনুষ্ঠানিক চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তরে প্রেরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনে চলমান রদবদলের মধ্যেই ঘটল, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গতকালই পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে পরিবর্তন এসেছে এবং নতুন আইজিপি হিসেবে আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শেখ মো. সাজ্জাত আলীর বর্তমান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ২১ নভেম্বর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ৯ মাস আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলোকে সামনে আনলেও, নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের যে গুঞ্জন চলছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আইজিপি বাহারুল আলমও পদত্যাগ করেছিলেন।
শেখ মো. সাজ্জাত আলী ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বর্তমানে তাঁর পদত্যাগপত্রটি পুলিশ সদর দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর তাঁর এই অব্যাহতি কার্যকর হবে। ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলে সরকার খুব শীঘ্রই নতুন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাজ্জাত আলীর এই সরে দাঁড়ানোর ফলে ডিএমপির নেতৃত্বে নতুন মুখ আসার পথ প্রশস্ত হলো।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত মোস্তাকুর রহমান বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
এর আগে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ড. মনসুর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।