বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
জাতিসংঘের প্রতিবেদন

২০৭১ সালে দেশের জনসংখ্যা হতে পারে সাড়ে ২৭ কোটি!

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
১৩ জুলাই, ২০২৪ ০০:০১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৪ ০০:০১

উষ্মমণ্ডলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এমনিতেই বেশি। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্পায়তন এ ভূখণ্ডে বর্তমান বাস করছে ১৭ কোটি ৩৪ লাখ মানুষ। জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যাপক সহজলভ্যতা ও প্রয়োগের পরও এ দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশের চেয়ে বেশি।

জাতিসংঘ বলছে, জনমিতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ হার থাকতে পারে আরও ৪৭ বছর। আর বাংলাদেশিদের প্রজনন উর্বরতার হার স্বাভাবিক থাকলে স্বাধীনতার ১০০ বছর পর্যন্ত জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে। তারপর আস্তে আস্তে কমতে থাকবে এ দেশের জনসংখ্যা। রোগ-প্রতিরোধে সাফল্য ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বাড়ায় দেশে মৃত্যুহার কমানোতে সাফল্য এসেছে। এ ধারা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে। আর তাতেই ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশিদের প্রজনন উর্বরতার হার স্বাভাবিক থাকলে ২০৭১ সালে দেশের জনসংখ্যা হবে ২২ কোটি ৬১ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৯ জন। এ সময় দেশের জনসংখ্যা ঘনত্ব হবে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৭৩৭ জনের বেশি। আর যদি প্রজনন উর্বরতার হার আরও উচ্চ হয় তাহলে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৭ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজারে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগের জনসংখ্যা বিভাগ (ইউএনডিইএসএ) এই প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদন অনুসারে, সরকারের নানা ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রচারণা এবং নিকট ভবিষ্যৎ থেকেই বৈশ্বিক গতিময় জীবনযাত্রার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশে জনসংখ্যার গড় হার বৃদ্ধি মোটামুটি স্বাভাবিকই থাকতে পারে। প্রজনন উর্বরতার এ হার এই শতাব্দীজুড়েই বহমান থাকবে। তবে যদি কোনো কারণে বাংলাদেশে প্রজনন হার স্বাভাবিকের চেয়ে কমেও যায় তবুও জনসংখ্যা বাড়বে ২০৭১ সাল পর্যন্ত। সে ক্ষেত্রে ২০৭১ সালে এ দেশে জনসংখ্যা হবে ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৫২ হাজারের বেশি। এ সময় দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব থাকবে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২০৭৪ জনের বেশি।

এ ছাড়া চলতি শতক তথা ২১ শতকের শেষ বছর অর্থাৎ ২০৯৯ সালে বাংলাদেশিদের স্বাভাবিক প্রজনন উর্বরতা বজায় থাকলে জনসংখ্যা হবে ২০ কোটি ৯৬ লাখ ৪২ হাজারের বেশি। প্রজনন উর্বরতা বৃদ্ধি পেলে জনসংখ্যা হবে ৩০ কোটি ৮ লাখের বেশি এবং প্রজনন উর্বরতা কমে একই বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা থাকতে পারে ১৩ কোটি ৭৪ লাখের কিছু বেশি।

তবে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রজনন হার যদি বজায় থাকে তবে ২০৩৭ সালেই বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ কোটিতে। একই হারে ২০৭১ সাল নাগাদ অর্থাৎ স্বাধীনতার ১০০ বছর পর বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২৫ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি এবং এই শতকের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ২৭ কোটি ৪২ লাখে।

জনসংখ্যাসংক্রান্ত কোনো শর্ত যেমন- জন্ম ও মৃত্যুহার, অভিবাসন, প্রজনন উর্বরতা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না হয় তবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রথম ২০ কোটির মার্জিন পার করবে ২০৩৮ সালে। ২০৭১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২৩ কোটি ৩২ লাখে এবং চলতি শতকের শেষ বছর অর্থাৎ ২০৯৯ সালে দেশের জনসংখ্যা হবে ২৩ কোটি ২০ লাখে।


নির্বাচিত

ফেরদৌসী মিষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র (এমসিএইচ-এফপি সেন্টার) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দলীয় ব্যবস্থা হলে তা দলের সাংগঠনিক বিষয়; আর আইনি ব্যবস্থা হলে অভিযোগপত্রের পর বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে।

রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তদন্তে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার সব ধরনের অপরাধ দমনে কাজ করছে। কোথাও অপরাধের ঘটনা ঘটলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, মামলা করছে, তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করছে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে ১২ বা ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি অল্প সময়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ার উদাহরণও রয়েছে।

রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নতুন নাম ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোয় বিদ্যমান অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’ (এসআরইউ) করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখা থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তানভীর-আল-নাসীফ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ কর্তৃক জি.ও. পৃষ্ঠাঙ্কনের তারিখ থেকে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, এটিইউর নাম পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে অনুমোদিত পদের কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ বিদ্যমান অনুমোদিত পদ ও জনবল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।

সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রযোজ্য সব বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০ আগস্ট, অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখার ৩১ আগস্ট এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয়-১ শাখার ২ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্ট স্মারকের উল্লেখ করা হয়েছে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জনআস্থা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, দেশগঠন ও জনস্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে দেশের ব্রডকাস্ট সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের কঠিন সময়ে সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাহচর্য, সমর্থন ও ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সম্প্রচারের গুণগত মানও বজায় রাখতে হবে। গণমাধ্যমের সমস্যাগুলো সমাধানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন এবং নীতিনির্ধারকদের বড় পরিসরে, দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্নভাবে বিষয়গুলো বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতন্ত্রচর্চা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারত। দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

ডিজিটালাইজেশন ও স্বনির্ভরতার মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে টেকসই করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

বিজেসির নেতারা জানান, সংগঠনটি মূলত সম্প্রচার সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে। পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সহায়তা, বীমাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি বিজেসির কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের আয় বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেন।

সাক্ষাৎকালে বিজেসি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ফাহিম আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন, তালাত মামুন, মাহমুদ হাসান, শরিফুল ইসলাম খান, শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, জামানুল ফেরদৌস মানু, বেলায়েত হোসেন, নায়লা পারভীন পিয়া ও সাইফুল শাকিল উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব ও সহকারী সামরিক সচিব উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আনসার বাহিনী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠান শেষে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।


নিয়মিত–অনিয়মিত মিলিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) দেশের সর্ববৃহৎ ‘ফোর্স’ বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বাহিনীর আর্থিকসহ অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবিদাওয়া পূরণে আশ্বাসও তিনি দেন।


অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের আলাদা কোনো যৌথবাহিনী বা ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’র মতো কোনো অভিযান গঠনের পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে দেশব্যাপী অপরাধ দমনে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যৌথবাহিনী গঠনের কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেইনি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অপারেশন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অভিযানে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য ফোর্সের পাশাপাশি আনসার ব্যাটালিয়নও থাকবে।


তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’র মতো কোনো বিশেষ অভিযান চালানোর চিন্তাভাবনা সরকারের নেই। মূলত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ রয়েছে, সেটিই বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের দায়িত্ব অবহেলা আমাদের নজরে আসছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা (ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং) এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি অপরাধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই বার্তা আমরা সব জায়গায় পৌঁছে দিয়েছি।


এ সময় তিনি ডিসেম্বর মাস নিয়ে বিভিন্ন মহলের গুঞ্জনের বিষয়ে বলেন, আপনারা ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।


গত ছয়-সাত মাসে ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমে দৃশ্যমান উন্নতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন, পুলিশ, রোড ডিভিশন ও অন্যান্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ট্রাফিকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সড়ক খনন কাজের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে একসাথে পুরো রাস্তা না খুঁড়ে নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে কাজ শেষ করে পুনর্নির্মাণ করার পর নতুন অংশে হাত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করা হচ্ছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যেন যানজট না হয়, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে তা অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার’ ডকট্রিনের আদলে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দর্শনের বিকাশ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আনসার ও ভিডিপি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন এবং ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা হয়।


তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সদিচ্ছা ও আধুনিকায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন এই আধুনিক অবকাঠামো ও সমন্বিত আইনি সংস্কারের পথে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।


দেশের অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’-র মতো বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে।


সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গঠন হচ্ছে পুলিশের সাইবার ইউনিট, থাকবে ক্রিপ্টো ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট

পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ৪ হাজার ৫৯২ জনবলের একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। নতুন এই ইউনিটে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে সাইবার পুলিশ ইউনিটের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ইউনিটের প্রধান থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। বিভাগীয় ও সদর দপ্তর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় এই ইউনিটের জন্য আলাদা সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে।’

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই ইউনিটের মোট জনবল সংখ্যা আমরা এখন পর্যন্ত অর্গানোগ্রামে ৪ হাজার ৫৯২ জন নির্ধারণ করেছি। বিদ্যমান জনবল থেকে প্রয়োজনীয় সদস্য পূরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গঠন করা হবে।’

নতুন ইউনিটে আধুনিক সাইবার-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর একটি সংগঠন হিসেবে ইউনিটটি গড়ে তোলা হবে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ফরেনসিক ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। আগে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় অসংগঠিতভাবে কাজ করা হতো। এতে কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।’

সাইবার পুলিশ ইউনিটে প্রচলিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে।’

এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁদের বেতন-ভাতার কাঠামোও নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় আলাদা হবে। তবে পুলিশের মধ্যে যারা এ বিষয়ে দক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, তাঁদেরও ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিটে অবদান রাখা বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’

সাইবার সিকিউরিটি আইন আরও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনটি সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁদের মতামত নেওয়া হবে।’

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নতুন আইনে সাইবার-সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’ একই সঙ্গে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ বা সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কার্যকর : স্পিকার

জাতীয় সংসদের টানেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, পদত্যাগপত্রটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের টানেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্পিকার হাফিজ।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের ২৩ নম্বর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে গেছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পত্রটি পাওয়ার পরই তার পদ শূন্য হয়ে গেছে। আমরা এটি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেব। আজ থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।’

পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘সংসদের বিধান হলো, এমপির যখন পদত্যাগ করেন তখন কোনো কারণ উল্লেখ করেন না।’


নির্বাচিত

সংখ্যা নয়, বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারলে লাভ নেই: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনে আধুনিক ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারলে শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাখ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে দেশের প্রকৃত লাভ হবে না। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনে আধুনিক ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন চাহিদা ও ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। ইতিমধ্যে চিকিৎসাকেন্দ্রের স্থান নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্লাইট বিলম্ব ও সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে প্রবাসী যাত্রীদের নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আরো জানান, বিমানবন্দরটি শহর থেকে দূরে হওয়ায় অনেক সময় যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার সমস্যা পোহাতে হয়। এই সমস্যা চিরতরে সমাধানে বিমানবন্দরের পাশেই একটি মানসম্মত রেস্টহাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাচ্ছন্দ্যে সেখানে অবস্থান করতে পারবেন।

পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে আমাদের শ্রমবাজারে আরো ভালো ফলাফল দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের আইনি সহায়তা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মন্ত্রী প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, বিসিএস বা এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোন ক্ষেত্রে কোন বৈষম্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি, গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছি। এই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোন ক্ষেত্রে সেই কারণে কোন বৈষম্য করা হবে না।

তিনি বলেন, এখানে কয়েকটি উদাহরণ আমি আপনাদের দিতে পারি। সোশ্যাল মিডিয়াতে—মনে হয় ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন, গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন। প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম ছিল, কিন্তু ভেরিফিকেশনের কারণে পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি; সেজন্য গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন! প্রজ্ঞাপন তো একবার হয় না, কয়েকবার হতে পারে। সার্ভিসে যোগদানের তারিখ সম্ভবত ১২ তারিখ, আজকে ১ তারিখ, মাঝে আরো ১১টি দিন আছে। যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। তিনি তাঁদের একজন।

মন্ত্রী বলেন, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চয়ই আপনারা জেনেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে—তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদ-পদবীধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর সেই রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন যে তাঁকে চাকরির নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। আমি এখন ঘোষণা করছি, আগেও বলেছি—কোন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি কোন বৈষম্য করা হবে না।

তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারো বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোন অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজনের সেই অপরাধের কারণে বাদ পড়তে পারে। কারো বিরুদ্ধে যদি কোন কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেরকম কিছু কিছু আইনি বিধান থাকে। তা না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিসে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, যেমন অতীতে অনেক বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে আমরা দেখেছি। ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করব।

মন্ত্রী বলেন, আরো একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন—আমি নাম নেব না, তিনিও একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বিভিন্ন রকমের স্ট্যাটাস দিয়েছেন যে, 'ভেরিফিকেশনের নামে সমস্ত অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হোক'। ভেরিফিকেশন একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া; সেটা সবসময়, সব সরকারের সময় বিধি মোতাবেক করা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি গুরুতর কোনো অভিযোগের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনের দরুন নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটা অভিযোগ বা আবেদন দাখিল করা যায়, যা তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এখনো সেই সময়টা আসেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ সমস্ত অপপ্রচার বা অপতথ্য দিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নাই। আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করব, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যেন উত্তেজিত না করা হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি কোন বৈষম্য করা হবে না।

তিনি বলেন, নিয়োগপত্র ইস্যু করার জন্য প্রজ্ঞাপনের আরো সময় আছে। আগামী সোমবারে ৪৬ জনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির দিন নির্ধারিত আছে। তার আগে কিছু প্রক্রিয়া আছে, প্রজ্ঞাপনের ফাইলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। আমি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করব। আর যারা এ সমস্ত অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদেরকে এসব থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

এয়ার এশিয়ার সরাসরি ফ্লাইটে পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার: বিমান পরিবহনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার ও পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’ প্রস্তাবিত এই ফ্লাইট কক্সবাজারকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যেই এ অগ্রগতি হলো। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সকে আকৃষ্ট করে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একই সঙ্গে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থলবেষ্টিত নগরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুরও পরিকল্পনা করছি। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য।

কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও পর্যটক আকর্ষণের সুযোগ সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল একটি গন্তব্যের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রস্তাবিত এসব রুটকে।

তবে এয়ার এশিয়া কবে থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে, কিংবা সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনই জানাননি মন্ত্রী।

এয়ার এশিয়ার এই আগ্রহকে কক্সবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিমান পরিবহন ও পযর্টনমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে সরকার বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে।

এর আগেও মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য সরকার আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

সর্বশেষ এই উদ্যোগে সেই প্রচেষ্টায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এয়ার এশিয়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্ভাব্য বিদেশি অপারেটর হিসেবে সামনে এসেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি শেষে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত যাত্রী টার্মিনাল গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বাসস’কে বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরে এটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন নতুন টার্মিনাল দিয়ে হবে। তবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন বর্তমান টার্মিনাল দিয়েই হবে । অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে বিমানে উঠবেন।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন সুবিধা, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি সরঞ্জাম, লিফট, এসকেলেটর এবং বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা রয়েছে।

টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বেবিচক রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করেছে।

বর্ধিত রানওয়েটি বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। এটি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

সরকার আশা করছে, মালয়েশিয়া, নেপাল, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে হোটেল ও রিসোর্টে বিনিয়োগ বাড়বে এবং পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বাসস’কে বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম, যৌক্তিক বিমানবন্দর ফি এবং পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে সামনে রেখে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রহকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে রূপ দেওয়া।


নির্বাচিত

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৪
বাসস

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন।

এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা অনুমিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া একটার দিকে তিনি ফেনীতে এসে পৌঁছান। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন । এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ছাদ ভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন।

ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে। রাজধানী ঢাকায় ফেরার আগে ওই স্থানে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িত। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।


নির্বাচিত

বিশ্ব কফি দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকালের ব্যস্ততা, কর্মস্থলের ক্লান্ত দুপুর কিংবা সন্ধ্যার আড্ডা—এক কাপ কফি যেন মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে চারপাশের আবহ। কারও কাছে এটি দিনের শুরু করার অনুষঙ্গ, আবার কারও কাছে সৃজনশীলতা ও ভাবনার সঙ্গী। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই পানীয়কে ঘিরেই আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস।

প্রতি বছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা (আইসিও) ২০১৪ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০১৫ সালে ইতালিতে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয় এ দিবস।

তবে দিনটি শুধু কফি পান করার উপলক্ষ নয়। কফি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, উৎপাদক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়। কফি উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানুষের প্রতি সম্মান জানানোও এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কাজের ব্যস্ততার মাঝে এক কাপ কফি অনেকের কাছেই যেন ছোট্ট এক বিরতি। হাতে কফির কাপ নিয়ে বই পড়া, কবিতা লেখা কিংবা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ—সবকিছুর সঙ্গেই সহজেই মিশে যায় এই পানীয়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীর ও মনকে সাময়িকভাবে চাঙা করে তোলে, কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণে। আপনি ভাবেন, কফি আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

পানীয় হিসেবে বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে কফি। উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বেশ কিছু উপকারী উপাদানের জন্য কফি অনেক রোগের ঝুঁকি কমাতেও সক্ষম। এ ছাড়াও কফি পানে রয়েছে আরও কিছু উপকারিতা।

কফি যেকোনো জায়গায় মানানসই পানীয়। কর্মস্থলে রুক্ষ দিন থেকে শুরু করে সন্ধ্যার ক্লান্তি অবধি রয়েছে কফির চাহিদা। তাই দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত যুক্ত করা যেতেই পারে এক কাপ কফি।

তবে গবেষকরা বলছেন, দুধ এবং চিনি মেশানো অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত কফির তুলনায় ব্ল্যাক কফি অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ক্যাফেইন গ্রহণ অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে অতিমাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষত যাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।


নির্বাচিত

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে তাঁকে অবিলম্বে জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সম্প্রতি একটি জনকল্যাণমূলক মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে সামনে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে, যখন রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) আকস্মিক হামলা চালানো হয়। একদল হামলাকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত তাণ্ডব চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। স্পর্শকাতর এই চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে সর্বমহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মিরপুরের সাম্প্রতিক এই ঘটনার পাশাপাশি সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ছিল। অতীতে স্থানীয় সরকারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং সাধারণ মানুষের জমি দখলসহ নানাবিধ অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল। এসব গুরুতর অভিযোগের কারণে তাঁর রাজনৈতিক নৈতিকতা ও ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দলীয় কাঠামোর ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

দলীয় ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার স্বার্থেই শীর্ষ পর্যায় থেকে এই কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতের নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার মতো অপরাধে নাম জড়িয়ে পড়ার দায় এড়াতে না পারার কারণেই শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্যের পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রদান করা হলো।


নির্বাচিত

যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা নিয়মিত প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং তা ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের "শুভারম্ভ ফলক" উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩.৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লক্ষ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে এখানে ডরমেটরি এবং ব্যারাকে স্থান সংকুলানের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, "ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।"

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণ কাজের ফলে যেন যানজট না হয়, সেজন্য পুরো রাস্তা একসাথে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close