বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রপ্তানি খাতে অবদান রাখার জন্য জাতীয় রপ্তানি ট্রফি দেওয়া হবে। আগামীকাল রোববার এ উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শনিবার টিসিবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
আরও জানা যায়, রপ্তানি ট্রফি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম।
২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পাবে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি পাবে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদান করবেন এই ট্রফি।
জাতীয় রপ্তানি ট্রফি নীতিমালা-২০১৩ অনুসরণে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত বাছাই কমিটির মাধ্যমে মোট ৩২টি খাতের রপ্তানিকারকদের মধ্য থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য রপ্তানি আয়, আয়গত প্রবৃদ্ধি, নতুন পণ্যের সংযোজন, নতুন বাজারে প্রবেশ, কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন ইত্যাদি মূল্যায়নপূর্বক ট্রফি বিজয়ী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছে। প্রতিটি খাতের জন্য কৃতি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ, রোপ্য ও ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করা হবে। এছাড়া সব খাতের মধ্যে হতে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি শিরোনামে ১টি বিশেষ ট্রফিসহ (স্বর্ণ) মোট ২৯টি স্বর্ণ, ২৭টি রৌপ্য এবং ২১টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
যারা ট্রফি পাবে
গত ফেব্রুয়ারিতে এ ট্রফির জন্য গেজেট প্রকাশ করা হয়। যেখানে মনোনীত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই গেজেটে বলা হয়, দেশের সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গবন্ধু রপ্তানি ট্রফি (স্বর্ণ) পাচ্ছে রিফাত গার্মেন্টস।
এছাড়া স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ এ তিন ক্যাটাগরিতে জাতীয় রপ্তানি ট্রফির জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তৈরি পোশাক খাতে (ওভেন) উইন্ডি অ্যাপারেলস স্বর্ণ, অ্যাপারেল গ্যালারি রৌপ্য এবং চিটাগাং এশিয়ান অ্যাপারেলস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে (নিটওয়্যার) লিবার্টি নিটওয়্যার স্বর্ণ, ডিভাইন ইন্টিমেটস রৌপ্য, ফ্লামিংগো ফ্যাশনস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
সব ধরনের সুতা খাতে বাদশা টেক্সটাইলস স্বর্ণ, স্কয়ার টেক্সটাইলস রৌপ্য এবং কামাল ইয়ার্ন ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। টেক্সটাইল ফেব্রিকস খাতে নাইস ডেনিম মিলস স্বর্ণ, হা-মীম ডেনিম রৌপ্য এবং ফোর এইচ ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস স্বর্ণ, মমটেক্স এক্সপো রৌপ্য এবং এসিএস টেক্সটাইলস (বাংলাদেশ) ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। টেরিটাওয়েল খাতে নোমান টেরিটাওয়েল মিলস স্বর্ণ এবং এসিএস টাওয়েল রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে। হিমায়িত খাদ্য খাতে ছবি ফিশ প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ স্বর্ণ, প্রিয়াম ফিশ এক্সপোর্ট রৌপ্য এবং এমইউসি ফুডস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। কাঁচা পাট খাতে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ স্বর্ণ, তাসফিয়া জুট ট্রেডিং রৌপ্য এবং ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
পাটজাত দ্রব্য খাতে জনতা জুট মিলস স্বর্ণ এবং আকিজ জুট মিলস রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে। চামড়াজাত পণ্য খাতে পিকার্ড বাংলাদেশ স্বর্ণ এবং এবিসি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে।
ফুটওয়্যার খাতে বে-ফুটওয়্যার স্বর্ণ, এডিসন ফুটওয়্যার রৌপ্য এবং এফবি ফুটওয়্যার ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। কৃষিজ পণ্য খাতে (তামাক ব্যতীত) ইনডিগো করপোরেশন স্বর্ণ, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং কোং রৌপ্য এবং সিএসএস ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
অ্যাগ্রো প্রসেসিং পণ্য খাতে (তামাকজাত পণ্য ব্যতীত) হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো স্বর্ণ, প্রাণ অ্যাগ্রো রৌপ্য এবং প্রাণ ফুডস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। হস্তশিল্পজাত পণ্য খাতে কারুপণ্য রংপুর স্বর্ণ, বিডি ক্রিয়েশন রৌপ্য এবং ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। মেলামাইন খাতে ডিউরেবল প্লাস্টিক স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য খাতে অলপ্লাস্ট বাংলাদেশ স্বর্ণ, আকিজ বায়াক্স ফিল্মস রৌপ্য এবং বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। সিরামিক সামগ্রী খাতে শাইনপুকুর সিরামিকস স্বর্ণ, আর্টিসান সিরামিকস রৌপ্য এবং প্রতীক সিরামিকস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে এমঅ্যান্ডইউ সাইকেলস স্বর্ণ, মেঘনা বাংলাদেশ রৌপ্য এবং রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য খাতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি স্বর্ণ এবং বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে।
অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য খাতে মেরিন সেফটি সিস্টেম স্বর্ণ, এশিয়া মেটাল মেরিন সার্ভিস রৌপ্য এবং তাসনিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস স্বর্ণ, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস রৌপ্য এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
কম্পিউটার সফটওয়্যার খাতে সার্ভিস ইঞ্জিন স্বর্ণ এবং গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে। ইপিজেডভুক্ত শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন (সি ক্যাটেগরি) তৈরি পোশাক শিল্প খাতে (নিট ও ওভেন) ইউনিভারসেল জিন্স স্বর্ণ, প্যাসিফিক জিন্স রৌপ্য এবং শাশা ডেনিমস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
প্যাকেজিং ও অ্যাকসেরিজ পণ্য খাতে স্বর্ণ, মনট্রিমস রৌপ্য এবং ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য খাতে হেয়ার স্টাইল ফ্যাক্টরি স্বর্ণ ট্রফি, রায় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল রৌপ্য ও ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে। অন্যান্য সেবা খাতে এক্সপো ফ্রেইট স্বর্ণ ট্রফি এবং মীর টেলিকম রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে।
এছাড়া নারী উদ্যোক্তা বা রপ্তানিকারকদের জন্য সংরক্ষিত খাতে পাইওনিয়ার নিটওয়্যার্স (বিডি) স্বর্ণ ট্রফি, বিকন নিটওয়্যার রৌপ্য ট্রফি এবং ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই আয়োজন করা হয়।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইফতারের আগে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয় প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই, এই সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, বিরোধীদলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান নেই। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। জামায়াতের উদারভাবে তা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।
সরকার আগামী ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ছুটির বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি মন্ত্রিপরিদ বিভাগ। তবে ছুটির তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আগামী ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত একটানা সাত দিন ছুটি থাকছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। চলতি বছর রমজান ৩০ দিন ধরে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদ হবে ২১ মার্চ।
চলতি বছরের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদের দিন সাধারণ ছুটি। ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ২২ ও ২৩ মার্চ ঈদের আগে-পরে দুই দিন করে মোট চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। সে হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ঈদের ছুটি আগে থেকেই মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। তবে ঈদের আগে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবেকদরের ছুটি রয়েছে।
এরপর ঈদের নির্ধারিত ছুটি শুরু হওয়ার আগে মাঝখানে এক দিন (১৮ মার্চ) অফিস খোলা ছিল। তাই ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটির মাধ্যমে টানা সাত দিনের ছুটির ব্যবস্থা করল সরকার। এখন ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ১৭ মার্চ, চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া ৪০৫ যাত্রীকে নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৬টা ৭ মিনিটে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরে স্থানীয় সময় রাতে দুবাই থেকে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ৩৭৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে। ওই ফ্লাইটে থাকা ৩৭৮ জনের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৭ জন ক্রুও ছিলেন।
জানা গেছে, ৪৩৬ আসনের এয়ারবাস-এ ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এই দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, এমিরেটস ও এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইনসকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। যেসব বাংলাদেশি যাত্রীর ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বা শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই ফ্লাইটগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আরও ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৭ দিনে ২২৮ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ- ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ করেছে।
এর ফলে বাংলাদেশের ফ্লাইটগুলোও সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে।
এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গত এক সপ্তাহে মোট ২৩০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার বাতিল হওয়া নতুন ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে- কুয়েত ৪টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৬টি এবং কাতার ৪টি ফ্লাইট।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
চাষীদের পাট চাষের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা উন্নত প্রযুক্তির উচ্চ ফলনশীল চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্য নতুন আধুনিক মানসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী স্বাস্থ্য পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসুন। অল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান থাকবে, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ ব্যান্ডিং ও বৈশ্বিক ইকমার্স প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে নতুন উন্মোচন করুন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পাট বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এই পাট। পাট একাধারে পণ্য, আবার শিল্পজাত ও রপ্তানি পণ্য। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসাবে পাটের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পাট ও পাটজাত পণ্য বাংলাদেশের সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত করে দিয়েছে। এই সুবর্ণ সুযোগকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতির ত্রাণ সঞ্চার এবং শিল্প বাণিজ্যের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে রুগ্ন বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার ইতিমধ্যে পাট খাতে প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও আধুনিকীকরণ গবেষণা সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল জাতের পাট উদ্ভাবন, পাটের ব্যবহারে নানান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান কৃষি এবং কৃষকবান্ধব সরকার আগামী পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমার সুবিধা, ন্যায্য মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্যসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে সক্ষম হবেন। সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের পাট পণ্যও বাড়তি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। এটি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার লক্ষ্যে দেশের সকল পাটকলের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঁচাপাটের চাহিদা ও যোগান এবং রপ্তানি বাজারের চ্যালেঞ্জ সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক কর্মসূচি ও একটি সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। বিশ্ব বাজারে কাঁচাপাট কিংবা পাটজাত পণ্যের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে সরকার পাট রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মূল্য সংযোজিত পাট পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার অবশ্যই গুরুত্ব দেবে। আমার বিশ্বাস এজন্য একটি লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ফল পাওয়া যাবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ পরিহার করুন। সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করুন। আমাদের বিশ্বাস বর্তমান জনবান্ধব সরকারের হাত ধরে পাটখাতে সোনালী দিন ফিরে আসবে। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
পাট খাতে বিশেষ অবদান রাখা ও এই খাতের সমৃদ্ধির ধারা চলমান রাখার জন্য এ বছর পাট দিবসে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের গুরুত্ব তুলে ধরতে উদ্যাপিত হচ্ছে জাতীয় পাট দিবস-২০২৬।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।
পাটক্ষেত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, প্রচলিত ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এই পুরষ্কার দেয়া হয়।
পুরষ্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হলো:
১. পাটবীজ, পাট ও পাটজাত পণ্যের গবেষণায় সেরা গবেষক/বিজ্ঞানী/ উদ্ভাবকে ড. মো. নুরুল ইসলাম।
২. সেরা পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষিতে মো. শাহানুর আলম সেন্টু।
৩. সেরা পাট উৎপাদনকারী চাষিতে মো. আব্দুস সামাদ মন্ডল।
৪. পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা পাটকলে জুট মিলস লিমিটেড।
৫. পাটজাত পণ্য রফতানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান জুট মিলস লিমিটেডের হেলাল আহমেদ।
৬.পাটের সুতা উৎপাদনকারী সেরা পাটকল আকিজ জুট মিলস।
৭.পাটের সুতা রফতানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান আকিজ জুট মিলসের পরিচালক গোলাম মুর্শিদ বাপ্পী।
৮. বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা পাটকল আকিজ জুট মিল।
৯. বহুমুখী পাটপণ্য রফতানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি।
১০.বহুমুখী পাটপণ্যের সেরা মহিলা উদ্যোক্তা সিইও তরঙ্গ।
১১. বহুমুখী পাটজাতপণ্য উৎপাদনকারী সেরা পুরুষ উদ্যোক্তা মো. রাশেদুল করিম মুন্না।
১২. সেরা চারকোল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যানসিয়া কার্বন লিমিটেড।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় রাজনীতিতে ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এদিন আরো ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনা ধারণ করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর আলোচনায় এসেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম।
রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা: ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৯১ সালে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালেও আবার সরকার গঠন করে তার নেতৃত্বাধীন জোট। এই সময়কালে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সংসদ ও রাজপথে দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তার ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বাংলাদেশে স্বাধীনতা পদক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, এই সম্মাননা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি। তারা বলছেন, দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা একজন নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান অস্বীকার করা কঠিন।
খালেদা জিয়া ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। এছাড়া বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এ সম্মাননা পাচ্ছেন।
পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই পদক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানী জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যান পল কাপুর। সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে সংস্কার কাজ চলায় তারা কবরের গেইটের সামনে পুস্পস্তবক অপর্ণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এদিকে, ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীতে এই বৈঠক হয়।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ডা. মাহবুবুর রহমান, নায়েবা ইউসূফ ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।
বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় এসে পৌঁছান পল কাপুর। এটিই তার প্রথম ঢাকা সফর।
দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় জাকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনীতিক এবং এতিম-আলেম-উলামাদের সন্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুটি ইফতার মাহফিলে থাকবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একথা জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে শুধু দুটি ইফতার মাহফিল যথাক্রমে (শুক্রবার) আজ কূটনীতিকদের সম্মানে এবং আগামীকাল ৭ মার্চ এতিম-আলেম-উলামা-মাশায়েক সন্মানে দুটি ইফতার আয়োজন করছেন। এই দুটি হবে যমুনায়।
প্রধানমন্ত্রী রাজনীবিদদের সম্মানে ৮ মার্চ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সন্মানের ১০ মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় ইফতার পার্টির সময়সূচি নির্ধারিত থাকলেও তার ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাতিল করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় খরচ সাশ্রয়ের জন্য একই ভেন্যু ও একই মঞ্চে দুইটি ইফতার মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি টাকাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে খরচ করতে চান না। তাই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন এড়িয়ে সীমিত পরিসরে দুইটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সম্মানের ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে তারেক রহমান নিজের বাসায় পরিবারের সঙ্গেই ইফতার করছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রথম রোজায় রাজধানীর ভাষানটেকসহ কয়েকটি এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।
রমজানজুড়ে তারা মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণও করছেন।
ঈদে সারা দেশে যানজটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ। যদিও গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৯। গতবারের চেয়ে এবার যানজটের স্পট বেড়েছে ৪৮টি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার সভার কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয় সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রী।
এদিকে যানজটের এসব স্পট ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে যানজটের ২০৭টি স্পটের মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আছে ১৪টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ৫৫, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪ ও যশোর-খুলনা মহাসড়কে ৬টি।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকার পাঁচটি টার্মিনালে সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং কর্ণফুলী টানেলে ইটিসি টোল বুথ চালু থাকবে। ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। যাত্রী পারাপারে পর্যাপ্ত ফেরির ব্যবস্থা রাখা হবে এবং রাজধানীর কাঞ্চন ব্রিজ ও বছিলা এলাকায় লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থাও করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারাসহ পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সুদসহ পুরো আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের কিছু আমানতকারী।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা একপর্যায়ে শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে জলকামান ব্যবহার করে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একীভূত করা ব্যাংক পাঁচটি হলো ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। এই ব্যাংকের আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ করে সুদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা ‘হেয়ার কাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে আমানতের ওপর গত দুই বছরের ৪ শতাংশ করে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক ও অন্যায্য। অনেক আমানতকারী এসব ব্যাংক থেকে মূলধন ও মুনাফা তুলতে পারছেন না। এতে অনেকেই কষ্টে জীবন যাপন করছেন।
তারা ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিল করে মুনাফাসহ পুরো আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমানতকারীদের জন্য অমানবিক ও অন্যায্য। দাবি মানা না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এবারের ঈদুল ফিতরে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষে আগে ঘোষিত ছুটির সঙ্গে আগামী ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করায় দীর্ঘ এই বন্ধ পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ঈদের আগে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরেই আগে পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণায় ঈদের আগে মিলছে চার দিনের ছুটি। আর ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা রয়েছে। ফলে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।