শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল

পুরোনো ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৪ ১৫:৪৯

প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, কাল রোববার বিকেল ৪টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনে চীন সফর নিয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনের রাজধানী বেইজিং সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটি ছিল তার প্রথম চীন সফর। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয় ও শেখ হাসিনার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে ২১ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও চীন। এছাড়া সাতটি ঘোষণাপত্র সই করে দুই দেশ।

এ সফরে দুই দেশের সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ থেকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বুধবার (জুলাই ১০) রাতে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরদিন ১১ জুলাই তার ফেরার কথা থাকলেও পারিবারিক কারণে প্রধানমন্ত্রী একদিন আগেই দেশে ফিরে আসেন।


বিরোধীদলের ছোট বন্ধুরা আসলে মাদকাসক্ত কি না, সন্দেহ হয়: আলাল

আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ২০:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী রাজনৈতিক দলের কনিষ্ঠ নেতাদের আচরণ দেখে তারা মাদকাসক্ত কি না, এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। শনিবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক সমাজের ভূমিকা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

'অপরাজেয় বাংলাদেশ' আয়োজিত এই সভায় আলাল বলেন, 'মতপার্থক্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং বিএনপি সমালোচনাকে সবসময় ভালোভাবে গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের ছোট বন্ধুরা যেভাবে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক আচরণ করে যাচ্ছে, তা কোনো সুস্থ ধারার রাজনীতি হতে পারে না।'

রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় সমালোচনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আলাল বলেন, 'যারা এই ধরনের নোংরা সমালোচনা করছে, তাদের মুখের ভাষা ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে আমাদের সন্দেহ হয়—এরা আসলে মাদকাসক্ত কি না।'

একই সভায় দেশে মাদক চোরাচালান ও বিস্তারের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেন আলাল। তার অভিযোগ, 'শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির কারণেই দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা যাচ্ছে না।' পাশাপাশি সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার পেছনে মাদককে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।


পিরোজপুরে এলজিআরডির মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে শুধু পিরোজপুর জেলাতেই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। বিগত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় দেশের এই অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৩ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে দেশের প্রকৌশলীরা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করবেন।

বক্তব্যে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অধিকার আদায়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির ভূয়সী প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন সানজিদা ইসলাম তুলি। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি গুম হওয়া পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশা ও ন্যায়বিচারের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলী, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


হাম রোগ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের অন্যান্য সরকারি দপ্তরে ছুটি থাকলেও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবাতে কোনো ডাক্তারের, নার্সের ছুটি হবে না। থাকতে হবে।” এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, শুধুমাত্র ভ্যাকসিন নিলেই কোনো শিশু শতভাগ নিরাপদ—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তিনি কলেরার উদাহরণ টেনে বলেন, যদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তবে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাঁর মতে, “যদি বেশিভাবে ভাইরাসটা ছড়িয়ে যায়, ক্ষেত্র বিশেষে হতেও পারে। এটা কতটুকু গ্যারান্টি আমি জানি না, আই অ্যাম নট এ সায়েন্টিস্ট, যার কারণে আমি জানি না।” মূলত বর্তমানের প্রাদুর্ভাবের মাত্রা বিবেচনা করে তিনি এই সতর্কতা দিয়েছেন।

ঈদের সময় সংক্রমণের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মায়েরা যেন আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা কোনো জনাকীর্ণ স্থানে ভ্রমণ না করেন। হামকে ‘হাইলি ছোঁয়াচে রোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সতর্ক করেন যে শ্বাস-প্রশ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ঈদের ছুটিতে বাসে বা ট্রেনে যাতায়াত এবং সামাজিক মেলামেশার ফলে যদি সুস্থ শিশুরা রোগীদের সংস্পর্শে আসে, তবে দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ১১:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রাজধানী ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি ময়মনসিংহের পথে রওনা হন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানের এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল ৩টায় ত্রিশালের ঐতিহাসিক নজরুল একাডেমি মাঠে আয়োজিত কবির জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করবেন তিনি। সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টায় স্থানীয় নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জনসভা ও বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। কবির স্মৃতিধন্য ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্পোর্টস কার এবং ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) গাড়ির একটি বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন মডেলের পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


ঈদ উপলক্ষে আজও ব্যাংক খোলা, চলবে স্বাভাবিক লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সাত দিনের ছুটির কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এবং আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ ২৩ মে এবং আগামীকাল ২৪ মে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, এই দুই দিন ‘সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রাহকরা নিয়মিত লেনদেন করতে পারবেন’ এবং আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যাংক বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মূলত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যাংক সচল রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) গত ১৮ মে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার জারি করে। তবে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি থাকলেও তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে শিল্পাঞ্চল ও বন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সমৃদ্ধ এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ওই দিনগুলোতে দাপ্তরিক সময়সীমা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও ‘গ্রাহক লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।’

এর পাশাপাশি দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন ব্যতীত ছুটির অন্য দিনগুলোতেও এসব স্থানে সীমিত আকারে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এই বিশেষ ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যথাযথ আর্থিক ভাতা প্রাপ্ত হবেন। সাধারণ মানুষের কোরবানির কেনাকাটা ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই ব্যাংকিং খাতে এই বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।


বাংলাদেশ থেকে শেষ হলো হজ ফ্লাইট, ২৪ হজযাত্রীর প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছরের হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সকল নির্ধারিত ফ্লাইট সম্পন্ন হয়েছে এবং নিবন্ধিত সকল হজযাত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। শুক্রবার (২২ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এবারের হজ যাত্রায় মোট ২০১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৬ জন যাত্রী পবিত্র ভূমিতে গমন করেছেন।

হজের যাবতীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল হজযাত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তবে এবারের হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মৃতদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, মক্কায় ১৫ জন এবং মদিনায় ৯ জন হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ গত ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) নামের এক ব্যক্তি সৌদি আরবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মৃতদের দাফন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


স্মার্টফোনে বন্দি শৈশব, ঝুঁকিতে মানসিক স্বাস্থ্য

* ঢাকার ৮৩ শতাংশ শিশুই দিনে ২ ঘণ্টার বেশি থাকছে স্ক্রিনে * ভুগছে নানা সমস্যায়, অল্প বয়সেই চোখে উঠছে চশমা * কমে যাচ্ছে শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষমতা * ৮০ শতাংশ ভুগছে তীব্র মাথাব্যথায় * ব্যাহত হচ্ছে ঘুম, বাড়ছে স্থূলতা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

সাত বছর বয়সি তামিমের চোখ দুটো জোনাকির মতো জ্বলছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা মোবাইল স্ক্রিনের ওপর ঝড়ের গতিতে কাঁপছে। সে এখন চার দেয়ালের ঘরে নেই; এক রক্তক্ষয়ী কাল্পনিক যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাপতি যেন!

সামনে ঠাণ্ডা হয়ে আসা ভাতের থালা নিয়ে পাথর হয়ে বসে আছেন মা। পরম স্নেহে এক লোকমা ভাত তামিমের মুখের কাছে নিতেই রুমের বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল সে—উফ আম্মু! ডিস্টার্ব কোরো না তো! আর একটা শট দিলেই এনিমি খতম! গেম ওভার হয়ে যাবে!

মায়ের হাতটা মাঝপথেই থমকে যায়। তামিমের মুখের সেই অদ্ভুত হিংস্রতা দেখে মায়ের বুকটা কেঁপে ওঠে। এই দৃশ্যটি কেবল তামিমের একার নয়; এটি আজ দেশের নতুন ‘মহামারি’।

রাজধানীর বনশ্রীর একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর দিন শুরু হয় ডিজিটাল স্ক্রিন দিয়ে, শেষও হয় স্ক্রিনেই। সকালে স্কুল থেকে ফেরার পর তামিমের আর কোনো ব্যস্ততা নেই। এলাকায় একটা খেলার মাঠ আছে ঠিকই, কিন্তু কর্মব্যস্ত বাবা-মায়ের তাকে নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় নেই! আবার একা ছাড়তেও ভরসা পান না তারা। ফলে তামিমের বিনোদন, অবসর আর একাকিত্বের একমাত্র সঙ্গী এখন স্মার্টফোনটি। তবে শুধু, তামিম নয়; ড্রয়িংরুমের সোফা থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল, এমনকি রাতের বিছানা—শিশুদের শৈশবের সিংহভাগই এখন গ্রাস করে নিয়েছে এই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের নীল আলো। নিজেদের অজান্তেই এই কৃত্রিম স্ক্রিন কেড়ে নিচ্ছে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ, হাসি আর প্রাণচাঞ্চল্য, ঝুঁকিতে মানসিক স্বাস্থ্য।

গবেষণার ভয়াবহ পরিসংখ্যান: এক অদৃশ্য মহামারি: অনেক মা-বাবা মনে করেন, সন্তান ঘরে চোখের সামনে ফোন নিয়ে বসে আছে, মানে সে নিরাপদ আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই ধারণার মুখে এক বড় চপেটাঘাত করেছে। ঢাকার শিশুদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তাকে গবেষকরা সরাসরি অদৃশ্য মহামারি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ঢাকার ছয়টি (তিনটি বাংলা ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম) স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি ৪২০ জন শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাই করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে-

নিরাপদ সীমার লঙ্ঘন: আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিশুর জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ নিরাপদ ‘স্ক্রিন টাইম’ বা স্ক্রিন দেখার সময় হলো ২ ঘণ্টা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮৩ শতাংশ শিশুই দৈনিক ২ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করছে।

সাড়ে চার ঘণ্টার ডিজিটাল বন্দিত্ব: গড়ে ঢাকার শিশুরা স্মার্টফোন, টিভি বা কম্পিউটারের পেছনে দিনে সাড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করছে। অর্থাৎ, তাদের দিনের একটা বড় অংশই কাটছে অবাস্তব এক ডিজিটাল জগতে।

শরীর ও মনে ডিজিটাল বিষক্রিয়া; অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা গবেষণার শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার উপাত্তগুলো দেখলেই স্পষ্ট হয়:

১. শারীরিক বিপর্যয় : গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই ইতোমধ্যে চোখের নানা সমস্যায় ভুগছে। অল্প বয়সেই তাদের চোখে উঠছে চশমা। এছাড়া ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই তীব্র মাথাব্যথার কথা জানায়। মাঠে না যাওয়া এবং সারাক্ষণ বসে ফোন গোঁতার কারণে শিশুদের শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ঘুম আর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ওজন (স্থূলতা)।

২. মানসিক ও আচরণগত জটিলতা: শারীরিক ক্ষতির চেয়েও ভয়ঙ্কর ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের মনে।

তথ্য বলছে, প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ২ জনই (৪০ শতাংশ) ভুগছে তীব্র দুশ্চিন্তা,অতি চঞ্চলতা কিংবা আচরণগত নানা মানসিক সমস্যায়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, আমার ছেলেটা আগে কত শান্ত ছিল। এখন ফোন ছাড়া সে খেতেই চায় না। ফোন কেড়ে নিলে বা ওয়াইফাই বন্ধ করে দিলে সে আমাদের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠে, জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। স্ক্রিনের আসক্তি আমাদের পরিবারের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।

গোঁড়ায় গলদ: দায় কার: এই পরিস্থিতির জন্য আমরা খুব সহজেই শিশুদের দোষ দিয়ে দিই। কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যাবে, এর জন্য দায়ী আমরা বড়রাই।

রামপুরার এক বাসিন্দা অকপটে স্বীকার করলেন সেই সত্য, ‘আমরা বাবা-মায়েরাই এর জন্য দায়ী। ছোটবেলায় বাচ্চা একটু কাঁদলে বা ঠিকমতো না খেতে চাইলে আমরাই তো শান্ত রাখার জন্য তাদের হাতে ইউটিউব চালিয়ে মোবাইল তুলে দিই। আমরা নিজেদের সাময়িক শান্তির জন্য শিশুকে বিষ খাওয়াচ্ছি, পরে সেটাই তাদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।’

আবার বাড্ডার এক অভিভাবক জানান সামাজিক প্রতিযোগিতার কথা। তার দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া সন্তান বন্ধুদের দেখাদেখি ট্যাবের জন্য কান্না করত। বাধ্য হয়ে ট্যাব কিনে দেওয়ার পর এখন সেই সন্তান সারাক্ষণ এক কোণায় মুখ গুঁজে বসে থাকে। পড়াশোনা, গল্পগাছা—সব উধাও।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও মতামত: শিক্ষাবিদদের মতে, অতিরিক্ত গুগল-ইউটিউব নির্ভরতার কারণে শিশুরা বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এতে তাদের মেধাচর্চা কমছে এবং ভুল তথ্য শেখার বা নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। স্মার্টফোন এখন শিশুদের জন্য এক প্রকার ‘মারণাস্ত্রের’ মতো কাজ করছে।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, এই সংকটের জন্য শুধু বাবা-মাকে দায়ী করা যাবে না। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন এবং ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। মাঠ ও পার্ক দখল হয়ে যাওয়ার কারণে শিশুরা ঘরে বন্দি হয়ে পড়ছে।

সমাধানের পথ: প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে ও বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি খেলার মাঠ ও পাবলিক স্পেসগুলো উদ্ধার করে শিশুদের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। একে গবেষকরা ‘অদৃশ্য মহামারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এখনই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষাবিদদের মতে, এই গুগল-ইউটিউব নির্ভরতা শিশুদের মৌলিক শিক্ষার ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখন বইয়ের পাতা উল্টানোর চেয়ে স্ক্রিন স্ক্রল করতে বেশি পছন্দ করে। এতে তাদের গভীর চিন্তার ক্ষমতা বা মেধাচর্চা কমছে। একই সাথে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ভুল তথ্য বা অনোপযুক্ত কনটেন্ট দেখার কারণে আশঙ্কাজনকভাবে নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। একজন অধ্যাপক তো স্পষ্টই বলেছেন, ‘প্রযুক্তি ভালো, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্মার্টফোন শিশুদের জন্য এক প্রকার মারণাস্ত্রের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তবে এই সংকটের দায় কেবল পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার সুযোগ নেই সমাজ বা রাষ্ট্রের।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ‘সামাজিকভাবে যদি একটা কালচার তৈরি হয়ে যায়, তবে একা বাবা-মায়ের পক্ষে সন্তানকে আটকে রাখা কঠিন। এর জন্য আমাদের সামাজিক পরিবেশ বদলাতে হবে।’

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী একটি অত্যন্ত জরুরি দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘যে দেশে শিশুদের খেলার মাঠ আর বিনোদনের পার্ক যত কমতে থাকে, সে দেশে কারাগার আর হাসপাতালের সংখ্যা তত বাড়তে থাকে।’ তিনি অবিলম্বে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ ও পাবলিক স্পেসগুলো উদ্ধার করে শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং প্রতিটি অভিভাবককে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টার জন্য সন্তানকে নিয়ে বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিববুল্লা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে এই প্রথম কোনো পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমামকে প্রশাসনিক উচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লা হিল বাকীকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী মধ্যমপন্থি আলেম ও ইসলামী গবেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি কওমি, আলিয়া ও প্রচলিত শিক্ষাধারায় সমানভাবে শিক্ষিত একজন আলেম।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার থাকছে না: ইসি মাছউদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করাসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কোনো পোস্টার থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য হলো, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে এরমধ্যে একটি হলো এই নির্বাচনে পোস্টার থাকবে না। আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পোস্টার না রাখার পক্ষে।’ এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনি প্রচারের ধরনে একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশোধিত বিধিমালার কারিগরি ও কৌশলগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আসন্ন ভোটগুলোতে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার থাকবে না এবং অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধানটিও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। এছাড়া নির্দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনমূলক স্বাক্ষরের যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিও সহজ করার লক্ষ্যে বাতিল করা হচ্ছে। তবে উপজেলা নির্বাচন ব্যতীত অন্যান্য স্তরে প্রার্থীর জামানতের অঙ্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। আইনি কড়াকড়ির বিষয়ে তিনি বলেন যে, প্রবাসী বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না এবং আইসিটি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা পলাতক আসামি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ঈদের ছুটির পরপরই সংশোধিত এই বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হবে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনি ডামাডোল শুরু হতে পারে। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন—সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ও সংঘাতমুক্ত আচরণ, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন ভূমিকা এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সততা ও সক্ষমতা। তিনি বিশ্বাস করেন, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার জন্য ইসিকে নীতিগত জায়গা থেকে ‘হুংকার’ দিতে হবে।

নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার যদি আন্তরিকভাবে বলেন- জাল ভোট আমি করতে দেব না, বা দুই নম্বর কাজ হবে না-তাহলে তা তার সততা, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর নির্ভর করে।’ তাঁর মতে, কেবল ব্যক্তিগত সততা থাকলেই চলবে না, বরং মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও একজন কর্মকর্তার জন্য অপরিহার্য। এই সকল নিয়ামকের যথাযথ সমন্বয় ঘটলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


আসামি সোহেল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল: ডিবিপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আদালতে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরবর্তীতে তার নিথর দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা দীর্ঘকাল ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল এবং ‘তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না’। ঘাতকের চারিত্রিক স্খলন ও মাদকাসক্তিই এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে বলে পুলিশ মনে করছে।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, একই ভবনের পাশাপাশি কক্ষে থাকা রামিসাকে দেখে ঘটনার দিন সকালে ইয়াবাসক্ত সোহেলের মধ্যে ‘বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে’। সে শিশুটিকে কৌশলে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে বাথরুমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে সোহেল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ‘গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে’। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গুম করার অমানবিক পরিকল্পনায় যোগ দেন। তাঁরা একটি ধারালো চাকুর সাহায্যে শিশুটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন এবং তার দুই হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। রামিসার মা যখন তাঁর মেয়ের সন্ধানে দরজায় নক করছিলেন, তখন সোহেলকে জানালা দিয়ে পালানোর সুযোগ করে দিতে স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন।

এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে রামিসার পল্লবীর বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান যে, পুলিশ দ্রুততম সময়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং ‘আসামি ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ​এখন চার্জশিট দেওয়ার পালা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার কাজ সিআইডি ল্যাবে চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ‘ডিএনএ টেস্টের নিয়ম হচ্ছে যে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, যেহেতু এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়। সেটা শেষ হবে রোববারের দুপুরের মধ্যে। রোববারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারবো এবং তারপর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে বিচার কার্য নিষ্পন্ন হয় সে চেষ্টা করবো। যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায় সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে, দেশের অন্তত ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এই ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত বর্ষা পূর্ববর্তী আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে এই ধরণের আকস্মিক ঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে।


রামিসাদের আর্তচিৎকারে আকাশ ভারি হলেও গলে না ঘাতকের মন

# কোমলমতি শিশুর পৃথিবী আজ রক্তাক্ত বধ্যভূমি # বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না : রামিসার বাবা # চিৎকার শুনেছিলাম তবে বুঝতে পারিনি যে সেটি আমার মেয়ের : রামিসার মা # পরিবারও শাস্তি চায় খুনি সোহেলের # নিরাপত্তাহীনতায় শৈশব # ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা
ছবি: রামিসা।খুন হওয়ার আগে পরে।
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৬ ০১:৪১
শাহিনুর রহমান

যে বাতাস একটু আগেও স্নিগ্ধতার চাদরে জড়িয়ে রাখছিল চারপাশ; তা আচমকাই ভারি হয়ে উঠল এক আদিম, পৈশাচিক উন্মাদনায়। নিষ্প্রাণ বাতাস যেন সহসা জীবন্ত হয়ে কেঁদে উঠল এক মরণোন্মুখ লাশের শেষ আকুতিতে। অথচ ঘাতকের পাথুরে চোখে তখনো কেবলই বিকৃত উল্লাসের নাচ। তার হাতের ধারালো অস্ত্রের ডগা বেয়ে টপটপ করে ঝরছিল তাজা, উষ্ণ রক্ত। ঠিক তখনই, দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসছিল মায়ের ডাক—মেয়েকে ডাকছেন স্কুলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মা জানেন না, ভেতরে তখন মেয়ের রক্ত দিয়ে পৈশাচিকতার এক নতুন ইশতেহার লিখছে নরপিশাচ। চারদিকের আলোও যেন এই চরম নির্মমতার সাক্ষী হতে না পেরে বারবার শিউরে উঠছিল, ম্লান হয়ে আসছিল ভয়ে। আছিয়া, লামিয়া এবং সবশেষ রামিসা—একের পর এক নিষ্পাপ ফুলকে ছিঁড়ে ফেলছে এই নরপিশাচরা। যে সকাল শিশুর হাসিতে আলোকিত হওয়ার কথা ছিল; আজ সেই সকালই যেন হয়ে উঠছে বেদনার কালরাত, লাশের মিছিল। চারদিকে নিষ্পাপ শিশুদের আর্তচিৎকার। ফেটে যাচ্ছে আকাশ, নিষ্প্রাণ বাতাস। তবু গলছে না ঘাতকের হৃদয়ের পাথর।
আট বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে ছোট্ট রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময়ে রামিসার মা সোহেলের বাসার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল তাৎক্ষণিক রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।
এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, ছুরি দিয়ে শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। আর খণ্ডিত মাথাটি রেখে দেওয়া হয় একটি বালতির ভেতর। এই পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না একই রুমে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা। তখন ফ্ল্যাটের কক্ষে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত দেহ ও বালতিতে মাথা দেখতে পান তারা।
জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় মূল ঘাতক সোহেল রানা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রথমে স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণে উত্তাল চট্টগ্রাম, ঘটনাস্থল ঘেরাও: চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের দাবিতে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি ঘটনাস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশও অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটায় একটি ভবনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ঢাকার পল্লবীর এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও দিনভর বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে নতুন এই ঘটনায় নগরজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধার করে ওসিসিতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে।’
কবির ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ জনতা যে ভবনে অভিযুক্ত অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে, সেটি ঘেরাও করে রেখেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তাকে উদ্ধার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।
আট বছরের শিশু আছিয়াকেও ধর্ষণের পর হত্যা : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রাম। দুপুরে রোদের তীব্রতা থাকলেও, আয়েশা খাতুনের জীর্ণ টিনের ঘরে যেন এক জমাট অন্ধকার। এই ঘরেই থাকত আট বছরের আছিয়া। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বোনের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সে লালসার শিকার হয়। হাসপাতালে প্রায় আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সে মারা যায়। তার মা আজও প্রতি রাতে চমকে ওঠেন। আয়েশা খাতুনের বিলাপ, ‘সবাই কথা দিছিল। এক বছর আগে আসামির ফাঁসি হইছে, কিন্তু কার্যকর হয় না। আমি কার কাছে বিচার চাইব?’
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামির করা আপিল বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত শুনানি শেষ করে রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত কার্যকরের পথে অগ্রগতি হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এমন স্পর্শকাতর মামলার বিচার দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। তারা দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন।
আছিয়ার বিচার থমকে আছে হাইকোর্টের আপিলের টেবিলে। অন্যদিকে, দেশের মানচিত্রজুড়ে গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক শিশুর নিথর দেহ মিলছে। সিরাজদিখান, রানীশংকৈল, রাজশাহী থেকে রাজধানীর পল্লবী—সর্বত্রই যেন এক পৈশাচিক উৎসব চলছে।
নিখোঁজ হুমায়রা জান্নাতের লাশ: গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। বাড়িতে না ফেরায় মেয়ের খোঁজ করেন মা তোষী খাতুন। খবর দেওয়া হয় বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্তকে।
শান্ত কানপাড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালান। খবর পেয়ে ছুটে যান বাড়িতে। সারারাত এখানে সেখানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশু হুমায়রার সন্ধান না পেয়ে অজানা আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার। জানানো হয় পুলিশকে। এদিকে নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী একটি খেজুরগাছের নিচ থেকে শিশু হুমায়রার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকায়। চার বছরের ফুটফুটে সন্তান হুমায়রাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। শিশু হুমায়রার হত্যাকাণ্ডে পাড়া-প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসীর মাঝে শোকের সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর রোববার বিকেলে শিশু হুমায়রাকে সমাহিত করা হয়।
শিশু হুমায়রার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী শিশুটির শরীরে ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন ছিল। পেট ফোলা ছিল এবং বাম হাতে ছোট কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির সৎ মামাকে আটক করেছে পুলিশ।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু ওই এলাকার কাতারপ্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। আটক সৎ মামা রাজা মিয়া (৪৫) খুলনার মোড়লগঞ্জের মৃত আকবর হাওলাদারের ছেলে। তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নিজ ঘরের খাটের ওপর ওই শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সৎ মামা রাজা মিয়াকে আটক করে।
সিরাজদিখান থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ মামাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভুট্টাক্ষেতে পড়ে ছিল চার বছরের লামিয়ার মরদেহ: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর লামিয়া আক্তার নামে চার বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। গত ১৪ মে সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের আনসারডাঙ্গী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত লামিয়া ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বেলা ১১টার দিকে লামিয়া বাড়ির পাশে খেলছিল। একপর্যায়ে সে সেখান থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর মেয়েটির পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। এমন কি লামিয়ার সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তাতেও ওইদিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। পরদিন সকালে গ্রামবাসী গ্রামের পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতে লামিয়ার মরদেহ দেখতে পায়। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভুট্টাক্ষেত থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কিশোরকে তার বাড়িতে আটকে রাখে।
ওসি আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আটক কিশোরের স্বীকারোক্তি অনুসারে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে নিহতের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত মার্চ মাসে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একটি গুদামে তার লাশ ফেলে রাখে ঘাতক। এ ঘটনার প্রায় তিন মাস পর মূল অভিযুক্ত ও হত্যা মামলার আসামি মো. ফয়সালকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফয়সাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ মার্চ ১১ বছর বয়সী ওই কন্যাশিশু নিখোঁজ হয়। এর দুই দিন পর ২৬ মার্চ ওই শিশুর বাড়ির পাশের একটি তুলার গুদাম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুদামের ভেতরে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ওই ভবনের পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটিকে নিয়ে গুদামের ভেতর ঢোকেন। পরে তিনি একা বেরিয়ে যান। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ ফয়সালকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন ওই শিশুর মা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা প্রতিবন্ধী। মা স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক। অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটির সঙ্গে একই কলোনিতে বসবাস করতেন। ফয়সালের বাড়ি বরিশালে। তিনি পেশায় দিনমজুর।
তিন বছরের ফুটফুটে হাবিবকে গলাটিপে হত্যা: রাজধানীর বাড্ডার এই শিশু জন্মদাতার চরম নিষ্ঠুরতায় পৃথিবী ছেড়েছে। যে হাত তাকে পরম নির্ভরতায় আগলে রাখার কথা, সেই হাত তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। গত ২৭ এপ্রিল স্ত্রী শিল্পী খাতুনের কাছে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে তার সামনে সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করেন শাহিন মিয়া। একইদিন গাজীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে গলা কেটে ও পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। তবে শুধু শিশু রামিসা, ইরা কিংবা তিন বছরের হাবিবই শুধু নয়, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৬ মাসে (২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল) হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৫২২ শিশুকে। গড়ে মাসে ৩২ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে। এ সময়ে ধর্ষণসহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২২৩ শিশু। গড়ে মাসে ৭৬ জনের বেশি শিশু ধর্ষণসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
মাদকাসক্তের বলি শিশুরা: মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি পুরো পরিবার ও সমাজের জন্য হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অবাধ বিস্তারে শিশুদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সম্প্রতি মাদকাসক্ত বাবার হাতে সন্তান হত্যা, প্রতিবেশীর শিশুসন্তানকে নির্যাতনের পর হত্যা এবং মাদক কেনার টাকার জন্য অপহরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। মাদকের প্রভাবে চেনা মানুষ হয়ে উঠছে অচেনা। নির্ভরতা হাত হয়ে উঠছে ঘাতকের হাত।
গত ১৮ মার্চ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের অর্থ সংগ্রহে মরিয়ম আক্তার (৪) নামে এক কন্যাশিশুর গলায় থাকা রুপার একটি চেইন ছিনতাই করে মাদকাসক্ত ইয়াছিন মিয়া (১৬) ও আকাশ (১৫)। ছিনতাইকালে ইয়াছিন ও আকাশকে চিনে ফেলায় শ্বাসরোধে শিশু মরিয়মকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলার ভেতর লাশ ভরে রাখে। শিশু মরিয়ম আক্তার একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা।
সম্প্রতি ঢাকার সাভারে মাদকের টাকা জোগাতে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে একটি চক্র। এ ঘটনায় রাব্বানী মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৪ এপ্রিল ফরিদপুর বাখুন্ডা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সাত বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল মৃধা। হত্যার পর শিশুটিকে পাশের বাড়ির শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে মাদকের টাকার জন্য তিন বছর শিশু ফাতেমাকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই আপন চাচা নরুল হাকিম।
বড়দের দ্বন্দ্বে প্রাণ যাচ্ছে শিশুর: গত ৯ মে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাবার সঙ্গে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। নিহত শিশুটির নাম আন্দালিব সাদমান ওরফে রাফি (৯)। হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী নূর মুহাম্মদ খোকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শিশুটির পিতা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে অনলাইন জুয়া খেলা নিয়ে প্রতিবেশী খোকনের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জহিরুলের ছেলেকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে খোকন। একই দিন চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় হাসান রাজু (৩২) নামে এক যুবককে। একই ঘটনায় ১১ বছরের রেশমি আক্তার চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নরপিশাসদের নখের আঁচড়ে রচিত হচ্ছে মানবতার নির্মম ও কলঙ্কিত অধ্যায়—এই রক্তাক্ত উপাখ্যানের শেষ কোথায়?


খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১.২৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

কারিগরি কমিটির এই সুপারিশ অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা নিট রাজস্ব প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম লস বা বিতরণ লোকসান ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭.৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৩৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে টিইসি জানিয়েছে, লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) পরবর্তী ধাপগুলোর বিদ্যমান ‘স্ল্যাব’ বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্তরে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের দাম হিসাব করা হয়, তা অপরিবর্তিত থাকবে।

কমিটির সদস্যরা জানান, বিদ্যুতের বর্তমান স্ল্যাব কাঠামোতে কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হবে না। এর আগে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাবটি বাতিল করে তার পরিবর্তে ০-২০০ ইউনিটের একটি নতুন স্ল্যাব করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে কারিগরি কমিটি মনে করে, হঠাৎ স্ল্যাব পরিবর্তন করলে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়বেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামোই বহাল রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।


banner close