বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

শিক্ষার্থীদের ভুল পথে নেওয়ার লোকের অভাব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৪ ১৬:০৩

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উস্কানিদাতারা বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভুল পথে নেওয়ার লোকের অভাব নেই। সেই ধরনের ঘটনাই ঘটছে।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কারা উস্কানি দিয়েছে, কার দায়ী সবগুলো বিষয় তদন্তের পর বলা যাবে। যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে সেটি তদন্ত হবে। তদন্তের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। তদন্তের আগে আমি কিছু বলতে পারছি না।

মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে কোটা আন্দলোনকারীরা, সেক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে মামলা করতে পারে। মামলা তদন্তের পর যদি এটার মেরিড না থাকে তাহলে অটোমেটিক বাতিল হয়ে যাবে। এখানে ২৪ ঘণ্টা, ১০ দিন, ২৪ দিন এগুলোর কোনো প্রশ্ন আসে না। তদন্তে যদি মামলার মেরিড থাকে তবে বিচার শুরু হবে।

পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙে আজও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে, এ পরিস্থিতিতে কী ব্যবস্থা নেবেন? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যা করছে আমার মনে হয় তারা না বুঝেই করছে। এটা পরিষ্কার যে আদালত বলেছে এ বিষয়ে আগামী ৮ আগস্ট শুনানি হবে। আদালত তাদেরও (শিক্ষার্থীদের) অংশগ্রহণ করতে বলেছেন। কিন্তু এগুলো না করে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করছে। এ বিষয়ে সব কিছুই এখন বিচারবিভাগের হাতে, আমাদের হাতে কিছু নেই, কিছু থাকলে আমরা সেটার ব্যবস্থা করবো।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত মোস্তাকুর রহমান বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এর আগে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।

ড. মনসুর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।


বাংলাদেশের ডিম-মুরগিতে নিষেধাজ্ঞা দিলো সৌদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে ডিম এবং মুরগির মাংস আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আজ বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। একই সাথে আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মাধ্যমে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, মূলত ‘এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (বার্ড ফ্লু) এবং ‘নিউ ক্যাসল’ রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা মূলত কাঁচা মুরগির মাংস এবং কাঁচা ডিমের ওপর কার্যকর থাকবে। তবে যেসব পোল্ট্রি পণ্য তাপের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে, সেগুলো আমদানিতে কোনো বাধা নেই। আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী দেশগুলো যদি অনুমোদিত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করে, তবে প্রক্রিয়াজাত পণ্যগুলো সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবে।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে ভারত, নেপাল, আফগানিস্তান, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিয়ানমারের মতো রাষ্ট্র। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি এবং মালয়েশিয়াসহ ১৬টি দেশের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ বলবৎ করা হয়েছে। এসব দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে পোল্ট্রি পণ্য আমদানিতে বিশেষ নজরদারি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পোল্ট্রি বাণিজ্যে বড় ধরণের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের এখন আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্য সনদ নিশ্চিত করার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই নিষেধাজ্ঞাটি অস্থায়ী এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। বিশ্বব্যাপী পোল্ট্রি খাতের নিরাপত্তা ও মান বজায় রাখতে এমন উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মনে করছে সৌদি সরকার। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


ওআইসির জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক বিশেষ জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। আজ বুধবার ভোরে তারা সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমানের এটিই প্রথম বিদেশ সফর। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অবৈধ ভূমি দখল এবং সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসি এই জরুরি সভার ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জেদ্দায় মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরকে নিজেদের সার্বভৌম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার যে বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানানো ও কার্যকর প্রতিরোধের উপায় খুঁজবে এই সম্মেলন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলও এই বৈঠকে নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফরের ফাঁকে ওআইসিভুক্ত বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতির গতিপ্রকৃতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফরকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ওআইসির অধিবেশন এবং নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে আগামী শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জঘন্য হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের সাজার ব্যবস্থা করা হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে সাজার ব্যবস্থা করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনের কলঙ্কময় দিন। বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুযোগ পেয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি একথা বলেন। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআরের চৌকস ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যা করা হয়। এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার ও কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল এই দিনে। একইসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দেশের জনগণ।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার বড় সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অতীতের মতো দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য বলে বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করাও দায়িত্ব।

সবশেষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাদের পরিবার-পরিজনদের সমবেদনা জানান তিনি।


জয়নুল আবদিন ফারুকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা আর নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সহধর্মিণী কানিজ ফাতেমা ইন্তেকাল করেছেন। আজ বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৩ বছর বয়সী এই নারী। জয়নুল আবদিন ফারুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বার্তার মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কানিজ ফাতেমাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেছিলেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকলেও আজ সকালে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মরহুমার শেষ বিদায়ে দুই পর্যায়ে জানাজা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর পরিবার। আজ বাদ জোহর রাজধানীর নিকুঞ্জ-১ এলাকার লেক রোডে ৪৩ নম্বর বাসার সামনে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নোয়াখালীর সেনবাগের ইয়ারপুরস্থ নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

কানিজ ফাতেমার মৃত্যুতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও পরোপকারী এই নারী দীর্ঘকাল তাঁর স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাইয়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আগের তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলোই সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো রিপোর্টটি না দেখে এর আগে দেওয়া তার একটি বক্তব্য তিনি সংশোধন করতে চান।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আজ তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এ (অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া) রিপোর্টটি না পড়েই আমি কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। সেদিন কথা বলার প্রয়োজনে তিনি সেই প্রতিবেদনের ওপর কেবল চোখ বুলিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদনে প্রায় ৭০ জনের বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিষয় এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, সরকার শহীদ পরিবার এবং জাতিকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদেরকে জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয়।

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’

তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার, কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এ জন্য মনে করি, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, প্রচেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার। চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।’

‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।


দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মো. আলী হোসেন ফকির। আজ বুধবার সকালে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে পৌঁছে তাঁর নতুন পদের কার্যভার বুঝে নেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত আইজিপি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তার কর্মজীবন অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের এক দীর্ঘ চিত্র। বাগেরহাট জেলার এই কৃতি সন্তান তাঁর পেশাদার জীবনে একাধিকবার রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রথমবার চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর হারানো চাকরি ফিরে পান এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে অত্যন্ত সফল ছিলেন।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার পর তিনি আবারও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের সময় তাঁকে দীর্ঘদিন গুরুত্বহীন পদে ফেলে রাখা হয় এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে তাঁকে রাজশাহী ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের ধারায় তিনি আবারও আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। প্রথমে এসপি হিসেবে ফিরলেও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি পদে উন্নীত হন।

নতুন আইজিপি হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকিরের নিয়োগকে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতার জন্য বাহিনীর ভেতরে তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে। সদরদপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে অভিবাদন জানান এবং নতুন পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে বাহিনী আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


স্বরাষ্ট্র সচিব হলেন মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদটি এক সপ্তাহ শূন্য থাকার পর অবশেষে নতুন অভিভাবক পেল মন্ত্রণালয়টি। বিসিএস অষ্টম ব্যাচের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে নবনির্বাচিত সরকার। গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্বরত নাসিমুল গনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় পদটি গত কয়েকদিন ধরে খালি ছিল।

মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর প্রশাসনিক ক্যারিয়ার বেশ বর্ণাঢ্য হলেও তিনি দীর্ঘ সময় পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি নিয়মিত অবসরে যান। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতিবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরিতে গঠিত জাকির আহমেদ খান কমিটির সুপারিশে তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। ওই কমিটির বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাঁকে সচিব হিসেবে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করেছিল।

বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতার প্রতি আস্থা রেখে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করল। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের যোগ্য আসনে বসানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, মনজুর মোর্শেদের এই নিয়োগ তারই একটি প্রতিফলন। নিয়োগপ্রাপ্তির পর তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক মতবিনিময় করেছেন এবং দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গুরুত্বারোপ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।


পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানা সদরদপ্তরে সংগঠিত নৃশংস সেনা হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর পূর্তিতে আজ বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা এই শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় শোকের এই আবহে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডি বা জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নাগরিক হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা সবার উপলব্ধিতে থাকা একান্ত জরুরি। বর্তমানের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের পেছনের ষড়যন্ত্র এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, সেই সময়ে নানামুখী মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি গভীর চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি মনে করেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের মান-মর্যাদা, বীরত্ব এবং গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সেই শপথে দেশবাসীকে নতুন করে বলীয়ান হতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বাণীর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে। এই শোকাবহ দিনটি আমাদের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের নতুন এক শপথের কথা মনে করিয়ে দেয়।


বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে ঢাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আবারও শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ বুধবার সাতসকালেই ঢাকার বাতাস অত্যন্ত দূষিত অবস্থায় রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মেগাসিটি ঢাকা এই দূষণের কবলে থাকলেও আজকের স্কোর জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম সূচকে দেখা যায়, বুধবার সকালে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ২৯৪, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের তীব্র প্রতিযোগিতা আজ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। ঢাকার পরপরই ২৪৪ স্কোর নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি বৈশ্বিক তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ২২০-এর বেশি স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর তৃতীয় এবং ১৮০ স্কোর নিয়ে করাচি চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৭৩। ঢাকা ও দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনজীবনের ওপর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

বায়ুমান সূচক বা একিউআই (AQI) অনুযায়ী, বাতাসের মানের বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত স্কোর শূন্য থেকে ৫০ থাকলে সেই বাতাসকে ‘ভালো’ বলা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ এর ঠিক নিচে অবস্থান করায় তা নগরবাসীর জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই বিষাক্ত বাতাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে ঢাকার বাতাস এই ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়ায় ধূলিকণা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকায় দূষণের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঢাকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই নগর পরিকল্পনা ও কঠোর পরিবেশ আইনের প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় দীর্ঘস্থায়ী দূষণ নগরবাসীর গড় আয়ু কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।


পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে বীর শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হয় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এই নৃশংস ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা ও মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকে দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

পিলখানায় সেদিন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পর অত্যন্ত অমানবিক কায়দায় তাঁদের লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও করা হয়েছিল অবর্ণনীয় নির্যাতন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই নারকীয় ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ফলে দেশের সুরক্ষা কবচ হিসেবে পরিচিত সেনাবাহিনী তাদের অনেক যোগ্য ও মেধাবী সদস্যকে হারায়। এই ঘটনা সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল এবং জাতীয় নিরাপত্তায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিলখানার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় দিনটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিবসটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটি গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও একটি বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। নাগরিকদের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেজন্য সমগ্র দেশবাসীকে নতুন করে শপথে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিবসটি পালনে রাজধানীসহ দেশব্যাপী সেনাবাহিনী ও বিজিবির পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


রাজধানীতে মশার রাজত্ব, দুর্ভোগে নগরবাসী

* ফেব্রুয়ারিতেই বেড়েছে ৪০ শতাংশ, মার্চে তীব্র হওয়ার শঙ্কা * মশার ভয়াবহ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি * মশক নিধনে নবনিযুক্ত প্রশাসকদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা শহরে মশার তীব্র উপদ্রব জনজীবন বিপর্যস্ত করছে। শহরের ঘরবাড়ি, রোড ও আবাসিক এলাকার প্রতিটি জায়গায় মশার ঘনত্ব বেড়ে গেছে। গত জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। পদক্ষেপ না নিলে মার্চে আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বরে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসনিক কাঠামো নড়বড়ে থাকায় মশক নিধন কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্থবির হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার এসব কর্মসূচি গতিশীল করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ বাস্তবতা অনুধাবন করেই এরই মধ্যে নতুন নির্বাচিত সরকার ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে মশা নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণসহ ছয়টি সিটির নবনিযুক্ত প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। গবেষণায় আরও জানা যায়, এক ঘণ্টায় কামড়াতে আসা মশার সংখ্যা এক মাসে বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই সেটি বিশ্বমান অনুযায়ী, বেশ ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়। সেখানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা ৮৫০।

গবেষকদের মতে, এ বছর মশার প্রকোপ বাড়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, শীতের তীব্রতা কম ছিল এবং স্বাভাবিক সময়ের আগেই শীত বিদায় নেওয়ায় মশার বংশবিস্তার দ্রুত শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তদারকি ও সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে- শুধু ওষুধ ছিটিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কার্যকর ড্রেনেজ ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। বিভিন্ন খাল-নালায় জমে থাকা নোংরা পানি মশার প্রজনন বাড়াচ্ছে। একটি খাল পরিষ্কার করলে অন্যটি আবার নোংরা হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানো পূর্ণবয়স্ক মশা কমাতে কিছুটা কার্যকর হলেও লার্ভা ধ্বংস হচ্ছে না।

করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত মশক নিধন কার্যক্রম ঠিকমতোই চলছিল। তবে তার পর থেকে মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকায় এই কার্যক্রম স্থবির পড়ে। এখন যারা মশার ওষুধ ছিটান, তাদের তেমন কোনো জবাবদিহি নেই। ফলে মশাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা শিল্পী আক্তার বলেন, ‘আগে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করতেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। তবে গত ৫ আগস্টের পর সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় এখন মশার উপদ্রব নিয়ে কারও কোনো জবাবদিহি নেই।’

বাড্ডায় বসবাসকারী জুনায়েদ বলেন, ‘আগে মশারি ছাড়া ঘুমাতে পারতাম। কিন্তু এখন স্প্রে করেও মশার দূর করা যাচ্ছে না। মশা নিধনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখছি না। মশানিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ।’

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা পারভিন তালুকদার বলেন, ‘আগে সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণা বেশি থাকত। এখন দিনভরই মশার উপদ্রব। বাসার দরজা-জানালা খোলা রাখার সুযোগ নেই।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং নয়, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্মীয়মাণ ভবন ও ছাদে জমে থাকা পানির নজরদারি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীতে মশার ভয়াবহ বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিনই থেকে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ, দুর্বল তদারকি এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি অব্যাহত থাকলে মার্চে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মশক নিধন, বনায়ন এবং পরিচ্ছন্ন সিটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। নবনিযুক্ত ছয় সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গতকাল জানিয়েছেন, মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে।

তিনি জানান, মশা নিধনের ওষুধ কার্যকর হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বুধবার সিটি করপোরেশনের দুটি ডিপো পরিদর্শন করবেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সরকার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।


ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে এ কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেসমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ১৪টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি ইউনিয়ন ও একটি ওয়ার্ডে ‘ইউনিভার্সেল ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে আগামী ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য রাখা হবে না। এটি হবে সম্পূর্ণ ‘ইউনিভার্সেল’ কার্ড ব্যবস্থা। এ বিষয়ের সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলটিং কার্যক্রম চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। প্রথমে একটি ওয়ার্ড, পরে একটি ইউনিয়ন এবং পরবর্তী সময়ে আরও এলাকা এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এভাবেই সারা বাংলাদেশ এটার সেবা পাবে এবং সুবিধাভোগী হবে।


banner close