বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, ট্রাভেল এজেন্টরা কানেক্টিভিটি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তারা মানুষের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাই ট্রাভেল এজেন্টদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আজ রোববার অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান কানেক্টিভিটির এই পৃথিবীতে ট্রাভেল এজেন্টদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গ্রাহক যাতে প্রতারিত না হয়, বিদেশে যেতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু নিজেরা সৎ থাকলেই হবে না অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্টও যাতে গ্রাহকদের কোনো প্রকার হয়রানি না করতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
পর্যটন খাতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা তৈরির পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি ট্যুরিজম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে নিয়ে প্রায়ই নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কথা শোনা যায়। সবাইকেই নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের মহাসচিব আসফিয়া জান্নাত সালেহের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, আটাবের প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম আরেফ প্রমুখ।
পূজামণ্ডপগুলোতে ঢাক ও কাসরের বাদ্যের শব্দের পাশাপাশি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ফুল, ধূপ এবং আগরবাতির সুবাস। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির আনন্দধারায় অবগাহন করছে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হওয়ার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। বিশুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ এবং দেবীর রূপ দর্শনের জন্য সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
দেবীর চরণে ভক্তদের প্রধান প্রার্থনা হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি, সংহতি, শক্তি এবং মানুষের কল্যাণ। তবে মহাসপ্তমীর গভীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানবীয় শুভবোধের পুনর্জাগরণ, প্রকৃতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ এবং একটি সাম্য ও সম্প্রীতিভিত্তিক সমাজ গঠন।
মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণীয় আনুষ্ঠানিকতা হলো ‘নবপত্রিকা’ স্থাপন, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। একটি কলাগাছের সঙ্গে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু এবং ধানগাছ একসঙ্গে বেঁধে পবিত্র জলে স্নান করানোর পর নতুন শাড়ি পরিয়ে তা মণ্ডপে স্থাপন করা হয়।
নবপত্রিকায় ব্যবহৃত এই নয়টি উদ্ভিদ মূলত দেবী দুর্গার নয়টি মহাশক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। পূজার মূল কেন্দ্রে প্রতিমা থাকলেও মহাসপ্তমীতে সরাসরি উদ্ভিদকে পূজার অংশ করার মাধ্যমে মূলত প্রকৃতির প্রতি মানুষের পরম কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করা হয়।
কারণ হিসেবে বলা যায়, এই গাছপালাগুলো মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, কৃষি এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, কেবল আনুষ্ঠানিক আচার পালনের মধ্যে প্রকৃতি পূজাকে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে গাছপালা সংরক্ষণ, জলাশয় দূষণমুক্ত রাখা এবং সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হওয়াই নবপত্রিকার প্রকৃত শিক্ষা।
সপ্তমীর অপর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হলো দেবীর ‘মহাস্নান’। আয়নার দর্পণে দেবীমূর্তির প্রতিফলন ঘটিয়ে গঙ্গার জল, দুধ, মধু ও নানা সুগন্ধি উপাচারে দেবীকে স্নান করানো হয়, যা বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আত্মিক শুদ্ধতারও প্রতীক। এই স্নানের আচার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যের অধিকার হরণ, অহংকার, বৈষম্য কিংবা হিংসা মনে পুষে রেখে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতার পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মাধ্যমেই মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধের সঠিক সামাজিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
পৌরাণিক কাহিনীর বর্ণনায় মহিষাসুর বধের আখ্যানটি শুভ ও অশুভ শক্তির মধ্যকার চিরন্তন দ্বন্দ্বকে নির্দেশ করে। দেবী দুর্গার দশটি হাত এবং বিভিন্ন অস্ত্র মূলত অন্যায়কে প্রতিহত করে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শক্তির প্রতীক। দেবীর দুই পাশে থাকা লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ যথাক্রমে সমৃদ্ধি, জ্ঞান, বীরত্ব ও বুদ্ধিমত্তার প্রতিনিধিত্ব করেন।
রূপক অর্থে বিচার করলে দেখা যায়, জ্ঞান ছাড়া সমৃদ্ধি সম্পূর্ণ অন্ধ, সাহস ছাড়া ন্যায়বিচার অর্জন অসম্ভব এবং বুদ্ধি ছাড়া শক্তির সঠিক প্রয়োগ করা যায় না।
বাঙালির চিরায়ত ঘরোয়া সংস্কৃতিতে দেবীর এই আগমন কেবল ঈশ্বর আরাধনার বিষয় নয়, বরং পিতৃগৃহে কন্যাসন্তানের ফিরে আসার এক গভীর পারিবারিক অনুভূতির প্রকাশ। এর পাশাপাশি প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, ঢাকি, আলোকসজ্জাশিল্পী এবং নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঘাম ঝরানো শ্রমে এই উৎসব রূপ নেয় এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধনে।
বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে মহাসপ্তমীর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের যথাযথ মর্যাদা এবং নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা। উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই তার পূর্ণতা পায়, যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।
ঢাকিদের বাদ্যের আওয়াজ একসময় থেমে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সাহস, প্রকৃতির প্রতি সুকোমল যত্ন এবং মানুষের প্রতি নিঃশর্ত সহমর্মিতা যেন প্রতিটি নাগরিকের আচরণে চিরঞ্জীব থাকে, সেটাই এই মহান দিনের মূল অঙ্গীকার।
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পরও রাষ্ট্রসংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে সংস্কারের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও সাহসের ঘাটতি, আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপস এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় স্বার্থ রাষ্ট্রসংস্কারের পথ সংকুচিত করেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে জয়ী দলের সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এতে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার বেশ কয়েকটি আইনে পরিণত করেছে। নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়ানো অধ্যাদেশগুলো পাস হলেও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এতে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে। দুদক সংশোধন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না করে ২০০৪ সালের পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়ায় সংস্থাটির প্রতি আস্থা ফেরানোর সুযোগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নকে স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সংস্থাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। র্যাব বিলুপ্তির পরিবর্তে নতুন নামে সংস্থাটিকে আরও ক্ষমতাশালী করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে ঐকমত্য থাকলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদের বিষয়েও অগ্রগতি নেই। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে জবাবদিহিহীন ক্ষমতাকাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের পরিণতি রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত ভুলে গেছে। ক্ষমতাসীন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একচ্ছত্র ক্ষমতা চর্চা করছে, অন্যদিকে বিরোধী জোটও দলীয় স্বার্থে ব্যস্ত।
বিবৃতিতে টিআইবি সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারি চাকরি পেতে বছরের পর বছর প্রস্তুতি, লাখো তরুণ-তরুণীর প্রতিযোগিতা আর পরিবারের আর্থিক ত্যাগ—এই বাস্তবতাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে প্রশ্নপত্র বাণিজ্যের চক্র। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর এমনই একটি চিত্র সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্ন দেওয়ার চুক্তিতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাঁচজনই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী। শুধু প্রশ্নপত্রের একটি সেট নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের চেক, স্ট্যাম্প ও মুঠোফোন। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশ্নের ছবি আদান-প্রদান, উত্তর তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রমাণও মিলেছে। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস কে বা কারা, কীভাবে তা চক্রটির হাতে পৌঁছাল এবং এই বাণিজ্যে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মুঠোফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত এখনো চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।
ভোরের প্রশ্ন, কয়েক ঘণ্টায় ছড়িয়ে পড়ল উত্তর: তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কর্মরত নূর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এনবিআরের আরেক কর্মচারী জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুল ইসলামকে পাঠান। পরে প্রশ্নপত্র ও উত্তর চক্রের সদস্য এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী আসাদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী রুবেল ইসলাম এবং চাকরিপ্রত্যাশী মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করত।
তবে প্রশ্নপত্রের প্রথম ছবি কার কাছ থেকে এসেছিল, সেটিই এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা বললেও তাদের দেওয়া তথ্য এখনো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে না তদন্ত দল। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপ ও আইডি যাচাই করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, ছাপাখানা, পরিবহন কিংবা পরীক্ষার নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে অনিয়ম ঘটেছে কি না, তা জানতে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
চেক-স্ট্যাম্পের ব্যবহার কী ছিল: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি ও ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা ও একটি ব্যাংক চেক, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মুঠোফোন এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা সনদপত্রের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
উদ্ধার করা এসব সামগ্রী প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা এখনো তদন্তের বিষয়। স্ট্যাম্প ও চেক অর্থ লেনদেনের নিশ্চয়তা, চুক্তি কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই প্রয়োজন। একইভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও সনদপত্র কেন একসঙ্গে রাখা হয়েছিল, সেগুলোর মালিক কারা এবং অন্য নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
এসআরবির সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চক্রের একজন সদস্যের কাছে প্রতারিত হওয়ার পর মফিজুল ইসলাম বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
২৪২ পদের বিপরীতে আবেদন ৩ লাখ ১৯ হাজার: সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় তাদের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক প্রার্থী ততক্ষণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে তাদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের খরচসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ক্ষুব্ধ প্রার্থীদের কেউ কেউ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
একটি নিয়োগ পরীক্ষায় লাখো প্রার্থীর অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও বিতরণে বড় ধরনের আয়োজন থাকে। সেই ব্যবস্থার মধ্যে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে নিরাপত্তা ভেঙেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এনবিআর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী রয়েছেন। তবে তাদের সরকারি পরিচয় থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস নির্ধারণ করা যায় না। তদন্তে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা, যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং প্রশ্নপত্র সংগ্রহের পথ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এসআরবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণে কমিটির তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে যেসব বিষয়ে নজর জরুরি: প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রতিরোধে শুধু গ্রেপ্তার অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কারা দায়িত্বে ছিলেন, তার নির্ভুল নথি থাকা প্রয়োজন। সীমিত ও অনুমোদিত প্রবেশাধিকার, দায়িত্ব বিভাজন, নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং প্রশ্নপত্র খোলা ও বিতরণের প্রতিটি ধাপের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত যাচাই, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পরীক্ষার আগে কোনো প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়লে সেটি আসল, নাকি প্রতারণার উদ্দেশ্যে তৈরি—তা দ্রুত যাচাই করার সক্ষমতাও প্রয়োজন।
আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রেও অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও অপরাধ প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ, অর্থ লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় দায় নির্ধারণ জরুরি।
এই ঘটনায় সাতজনের গ্রেপ্তার তদন্তে অগ্রগতি হলেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত—প্রশ্নপত্র প্রথমে কার হাতে ছিল এবং সেখান থেকে কীভাবে তা বাইরে গেল? এই উৎস শনাক্ত করা না গেলে চক্রের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও প্রশ্নফাঁসের পুরো নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হবে। লাখো চাকরিপ্রার্থীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে তাই শুধু গ্রেপ্তার নয়, প্রশ্নপত্রের উৎস, অর্থের প্রবাহ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে নতুন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড (ওকিউটি)। প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান চুক্তিতে নির্ধারিত দামের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করতে চায়। প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে চুক্তির আওতায় কেনা এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিদ্যমান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
২০২৭ সালের জন্য ওকিউটির কাছ থেকে ৩২টি এলএনজি কার্গো পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়ে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) চিঠি দেওয়ার পর ১৪ অক্টোবর ওকিউটি মাত্র ১৬টি কার্গো সরবরাহের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। তাও সব কার্গো কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে আগামী বছরের এলএনজি আমদানি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
চুক্তির দামের পরিবর্তে জেকেএমভিত্তিক মূল্য: বাংলাদেশের সঙ্গে ওকিউটির দুটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। চুক্তি দুটি অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে এলএনজির মূল্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু ওকিউটি এখন প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের চেয়ে ০.০৪ ডলার কম নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর জেকেএমের দর ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬.২৭৫ ডলার। সেই হিসাবে ওকিউটির প্রস্তাবিত দামে এলএনজির মূল্য দাঁড়ায় ২৬.২৩৫ ডলার।
অন্যদিকে, একই দিনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১০৬.৬৬ ডলার। এই দর ধরে বিদ্যমান চুক্তির ফর্মুলা অনুযায়ী প্রথম চুক্তির এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১৩.২০ ডলার এবং দ্বিতীয় চুক্তির দাম প্রায় ১৪.৬৯ ডলার। অর্থাৎ প্রস্তাবিত দাম প্রথম চুক্তির তুলনায় প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় চুক্তির তুলনায় ৭৯ শতাংশ বেশি।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরপিজিসিএলকে পাঠানো চিঠিতে প্রথমবারের মতো বিকল্প মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় ওকিউটি। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি, এলএনজি উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কথা উল্লেখ করে সরবরাহে ‘ফোর্স মেজার’ প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যমান চুক্তি মানার দাবি বাংলাদেশের: ৯ অক্টোবর ওকিউটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ায়েল আল জামালিকে পাঠানো চিঠিতে আরপিজিসিএল ২০২৭ সালের জন্য চুক্তিবদ্ধ ৩২টি কার্গোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিস্তারিত পরিকল্পনা চায়। বাংলাদেশের বার্ষিক এলএনজি আমদানি সূচি চূড়ান্ত করার জন্য এ নিশ্চয়তা প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
আরপিজিসিএলের অবস্থান, চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য ও সরবরাহের শর্ত একতরফাভাবে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সরবরাহ ক্রয় চুক্তির বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চুক্তিবদ্ধ পরিমাণ গ্যাস বিক্রি, পরিবহন, সরবরাহ ও খালাস করার দায়িত্ব বিক্রেতার।
চুক্তি অনুযায়ী, ওকিউটির কাছ থেকে বছরে ৫১ মিলিয়ন এমএমবিটিইউ করে এলএনজি পাওয়ার কথা প্রতিটি চুক্তির আওতায়। প্রতিটি পরিমাণ ১৬টি কার্গোর সমান। দুই চুক্তি মিলিয়ে বছরে ৩২টি কার্গো পাওয়ার কথা বাংলাদেশের।
আরপিজিসিএল আরও বলেছে, সরবরাহের জন্য কেবল কাতারের রাস লাফান বন্দরের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। চুক্তির শর্ত পূরণ করে অন্য উৎস থেকেও এলএনজি সরবরাহ করা যেতে পারে। অতীতে ওকিউটির মাধ্যমে আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, নিরক্ষীয় গিনি, মিসর, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, অ্যাঙ্গোলা ও নেদারল্যান্ডস থেকে এলএনজি সংগ্রহের নজির রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাই বিক্রেতার দায়িত্ব। মূল্য পুনর্মূল্যায়ন বা সম্মত মূল্য নতুন করে নির্ধারণের কোনো বিধান বিদ্যমান চুক্তিতে নেই।
সরবরাহ না দিলে আইনি পদক্ষেপের সুযোগ: ওকিউটি চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহে ব্যর্থ হলে বা অস্বীকৃতি জানালে সেটিকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করার অধিকার সংরক্ষণ করেছে আরপিজিসিএল। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে টিবিএস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহে অস্বীকৃতি অব্যাহত রাখলে পেট্রোবাংলা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
৯ অক্টোবরের চিঠিতে আরপিজিসিএল ২০২৭ সালের প্রতিটি প্রান্তিকে কত পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হবে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানানোর বাধ্যবাধকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে ওকিউটি জানিয়েছিল, রাস লাফানে এলএনজি উৎপাদন স্থাপনার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কর্মীদের সুরক্ষা এবং পরিচালনগত প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজিবাহী জাহাজের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল শুরুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ওকিউটির এলএনজি শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এরই মধ্যে ১৮ অক্টোবর নির্ধারিত একটি কার্গোর ক্ষেত্রেও ‘ফোর্স মেজার’ প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন।
২০২৭ সালে ১১৫ কার্গো আমদানির পরিকল্পনা: ২০২৭ সালে মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে পেট্রোবাংলা। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনায় তা কমে ১১২টিতে দাঁড়াতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওকিউটির কাছ থেকে ৩২টি কার্গো পাওয়ার কথা। বাকি এলএনজি অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হবে।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্পট মার্কেটের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে এই নির্ভরতা আমদানি ব্যয়েও চাপ তৈরি করতে পারে।
২০২৬ সালে কাতারএনার্জি ও এক্সিলারেট এনার্জির পক্ষ থেকেও সরবরাহে ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণার মুখে পড়েছে পেট্রোবাংলা। ফলে নির্ধারিত সময়ে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সংগ্রহ এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
ওকিউটির প্রস্তাব এবং চুক্তিবদ্ধ সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিদ্যমান চুক্তির অধিকার নিশ্চিত করা, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যঝুঁকি বিবেচনায় রেখে ২০২৭ সালের আমদানি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে এ অর্থ পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঋণের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকেও ঋণ, অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল বিস্তারিত আলোচনায় বসবে। এরপর ঋণ ও অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় কীভাবে চূড়ান্ত করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রস্তাবিত অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তির মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে সমন্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চুক্তির মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো সমস্যা নেই। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বৈঠকে যৌথ কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।
বার্ষিক সভার ফাঁকে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ, বিনিয়োগ এবং আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে কথা হয়।
রাজস্ব বাড়ানো ও ব্যাংক খাতের সংস্কার: রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর-জিডিপি অনুপাত উন্নত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অতীতে কর অব্যাহতি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির কারণে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
তিতুমীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। সরকারি আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা ও যাচাইযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্য যেসব ব্যাংকে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও রেজল্যুশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও ব্যাংক খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ইতিবাচক ইঙ্গিত।
কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসে নতুন উদ্যোগ: অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানি প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এ পরিকল্পনার লক্ষ্য।
দারিদ্র্য হ্রাসে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া মানুষকে সহায়তা দেওয়া এবং নতুন করে মানুষের দরিদ্র হয়ে পড়া ঠেকাতে সরকার কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, এসব সংকট বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়। তবে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির ব্যয়ের পাশাপাশি কৃষক, পরিবহন খাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ: বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বৈশ্বিক কর্মসংস্থান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন। বিপরীতে এ সময়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও নীতিগত সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আইএমএফের ঋণ প্রস্তাব এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি—দুটি উদ্যোগই বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঋণের চূড়ান্ত পরিমাণ, শর্ত ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি সংস্কার কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই এ সহযোগিতার সুফল অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকট। বিরোধী দল ডেঙ্গু প্রতিকারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি দেয়নি।
বিপরীতে তারা লং মার্চের মাধ্যমে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করি, অর্থের কোনো সমস্যা হবে না।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর এফডিসিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সরকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগ সবার দায়বদ্ধতা বাড়িয়েছে।
তবে এর প্রকোপ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের কোনো উদ্যোগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরিমানা আদায়ের অর্থ ডেঙ্গুতে মৃত দুস্থ নাগরিকদের পরিবারকে প্রদানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতা ছিল। তারা পার্শ্ববর্তী দেশকে অযাচিত সুযোগ-সুবিধা দিতে দেশের সংকটকে অবহেলা করেছে।’
আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরের মূল সমস্যা দুটি- হকার ও অটোরিকশা। হকার ও অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে আশা করি অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে ভোগান্তির নাম। ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ না করলেও হাসপাতালগুলোতে গেলে এর ভায়াবহতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষেরা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে, সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গুর কাছে যাতে আমরা অসহায় হয়ে না পড়ি।’
তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে আদায় করা অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ পরিবারকে প্রদান করা হোক। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর টিকায় বৈজ্ঞানিক তথ্য—প্রমাণ সঠিক হলেও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলে সরকারের ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বিগত শাসনামলে ডেঙ্গু চিকিৎসার নামে নানা ধরনের অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহে অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট, সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১৭০৫ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় দুই সিটি করপোরেশন মশার লার্ভা নিধনের জন্য অবিজ্ঞানসম্মতভাবে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁসের চাষের প্রকল্প গ্রহণ করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী সরকার। সেই সময়ে নানা অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবার্ত্মক চেষ্টা করছে।’
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল কবি নজরুল সরকারি কলেজকে পরাজিত করে সরকারি দল কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, সাংবাদিক প্রতীক ইজাজ, সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান ও সাংবাদিক জেনিয়া কবির সূচনা।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে ৪৪টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালামএয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে এসব ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠাতে সব ধরনের সহযোগিতা সরকার করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে সেখানে প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা অংশ নেবে। যারা চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হবে, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতি নিয়ে বিতর্কে অংশ নেবেন।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া-এই তিন ক্ষেত্রের এক অপূর্ব ত্রিভুজ সমন্বয়ের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তার এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এর অধীনে দেশজুড়ে আয়োজন করা হবে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, ক্বিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজ প্রতিযোগিতাসহ শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশমূলক সব আয়োজনে সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।’
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের তরুণদের মাঝ থেকেই আগামী দিনে অনেকে সংসদ সদস্য ও নীতি নির্ধারক হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন। তরুণদের মাঝ থেকেই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে, যারা শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, রাজনীতি, নীতি প্রণয়ন ও সাংবাদিকতাসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ দেখাবে। তরুণদের পাশে থেকে অভিভাবকত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানসহ সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তার সর্বাত্মক সহযোগিতার ব্যবস্থা করব।’
শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘তরুণদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে তাদের মধ্যে দেশ নিয়ে একটি সুন্দর স্বপ্ন ও ভিশন রয়েছে। তারা নিজেদের প্রজন্মের সেরা হিসেবে গড়ে তুলতে অদম্য প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে আসছে।’ একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণদের মাঝে সঠিক মূল্যবোধ, আদর্শ, মেধা, যোগ্যতা ও সততার চর্চা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই তরুণরাই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সে সময় তরুণরা একটি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক সমাজের ভিত রচনা করেছে, যেখানে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করবে।’
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার এমন এক বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর, যেখানে যেকোনো নাগরিকের সফল হওয়া কিংবা আত্মবিকাশের সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। সমাজে বজায় থাকবে ন্যায়বিচার ও সমতা, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে স্বচ্ছতা ও কার্যকর জবাবদিহিতা।’
অনুষ্ঠানে নিজের শিক্ষার্থী জীবনের স্মৃতিচারণ করে মাহ্দী আমিন জানান, ২০০৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বারুক কলেজে অধ্যয়নকালে তিনিও ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’-এ অংশ নিয়েছিলেন এবং বারুক কলেজের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও একাডেমিক দিক থেকে পূর্ণ ক্ষমতায়ন করতে হবে। নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে তরুণদের প্রত্যাশা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুগোপযোগী দক্ষতা তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য পলিসি মেকিং প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামত সরাসরি সম্পৃক্ত করা জরুরি।’ কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আয়োজকদের প্রতি আরও বেশি ‘নীতি সংলাপ’ আয়োজনের আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।
অনিয়ম, গাফিলতি এবং আইন অমান্য করার কারণে দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যথাযথ তদারকির অভাব, নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা না মানার ফলে সামান্য অসতর্কতাও অনেক সময় বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে। নগরায়ন ও শিল্পায়ন প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টিও চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে, যা একের পর এক বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ২০২৫ সালেই সারা দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে ভবন নির্মাণ করা এবং জরুরি প্রস্থানের পথ বন্ধ বা সরু রাখার কারণে ছোট অগ্নিকাণ্ড বড় ঘটনায় রূপ নেয়। আবার আবাসিক হিসেবে অনুমোদন নিয়ে ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক গুদাম, রেস্তোরাঁ বা কারখানা পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভবনগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না। ফলে অগ্নিকাণ্ড বেড়েই চলেছে। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তখন তারা নড়াচড়া শুরু করে। এরপর আর খবর থাকে না।
আগুন লাগলে বের হওয়ার নিরাপদ পথ থাকে না। কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও থাকে না। পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ ও জরুরি আলোর ব্যবস্থাও অনুপস্থিত থাকে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সর্বশেষ অগ্নিনিরাপত্তা জরিপে পরিদর্শন করা ভবনের ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশেই এমন ঘাটতি পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে পরিদর্শন করা ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবনের মধ্যে ৩ হাজার ৯৩৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এক বছরের ব্যবধানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের হার বেড়েছে। অন্যদিকে, পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম, প্লাস্টিক ও দাহ্য পদার্থের মজুত এবং সরু গলির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটের একটি দোকানে আগুন লাগে। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের ভয়াবহতা বাড়লে ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০টিতে। টানা প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে। পাশাপাশি দোকানে মজুত প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ এবং পানির সংকট আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব ঘটায়।
এই ঘটনা পুরান ঢাকার অগ্নিঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা আবারও সামনে এনেছে। ফায়ার সার্ভিসের সুপারিশের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের গুদাম সরানো, ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পানির উৎস বাড়ানো এবং সরু গলির সমস্যা সমাধানের মতো বিষয় থাকলেও সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন আটকে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে পরিদর্শন করা ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবনের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৫টি বা ৬২ দশমিক ৬২ শতাংশের অগ্নিনিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। বিপরীতে ৩ হাজার ৩১৬টি বা ৩১ দশমিক ৪৮ শতাংশ ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬২২টি বা ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৪ সালে পরিদর্শন করা ভবনের ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ অগ্নিঝুঁকিতে ছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। প্রতিবছর ভবন পরিদর্শন, নোটিস, সতর্কতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের হার না কমায় কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন, পোশাক কারখানা, হাসপাতাল-ক্লিনিক, শপিং মল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, কেমিক্যাল গুদাম ও ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব ভবনে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, মানুষ আটকে যাওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বিশেষ করে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৬২২টি ভবন বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বড় অংশ বহু বছর আগে নির্মিত। ভবনের কাঠামো ও ব্যবহারের ধরন বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে বর্তমান অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে এসব ভবন বছরের পর বছর ঝুঁকির তালিকায় থেকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নির্মিত কিছু ভবনও প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবহারে আসায় ঝুঁকি বাড়ছে। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন ভবন ও হাসপাতালের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
সবচেয়ে বেশি অগ্নিঝুঁকির চিত্র পাওয়া গেছে কেমিক্যাল গুদামে। ২০২৫ সালে পরিদর্শন করা ৯১টি কেমিক্যাল গুদামের মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ, ৮০টি গুদামই কোনও না কোনও মাত্রায় অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। হার হিসেবে তা প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরান ঢাকায় এই ঝুঁকি আরও প্রকট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেখানে প্রায় ২৫ হাজার রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র আড়াই হাজার গুদামকে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব গুদামের প্রায় ১৫ হাজারের অবস্থান আবাসিক বাসাবাড়িতে।
পুরান ঢাকার আরমানিটোলা, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাসায়নিক ও প্লাস্টিকের কাঁচামালে ঠাসা দোকান এবং গুদাম রয়েছে। কোথাও প্লাস্টিকের ড্রাম ও বস্তাভর্তি দাহ্য রাসায়নিক রাখা হয়েছে। এসব স্থাপনার ওপরের তলাতেই রয়েছে আবাসিক বাসাবাড়ি। দোকান ও গুদামের ওপর দিয়ে ঝুলে থাকা এলোমেলো বৈদ্যুতিক তারও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গুদামগুলোতে গ্লিসারিন, সোডিয়াম অ্যানহাইড্রোস, সোডিয়াম থায়োসালফেট, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, মিথাইল ইথাইল কিটোন, থিনার ও আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের মতো রাসায়নিক মজুত রাখা হয়। এসব দাহ্য পদার্থের উপস্থিতিতে আগুন দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে।
২০১০ সালের নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন এবং ২০১৯ সালের চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন নিহত হন। এসব ঘটনার পর পুরান ঢাকা থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিকের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাসায়নিক গুদাম সরানোর উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, চকবাজারের আগুনের ভয়াবহতার মূল কারণ ছিল সেখানে মজুত প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ। ধোঁয়ার কারণে শুরুতে ভেতরে প্রবেশ করা যায়নি। সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সমস্যা হয়েছে। এর সঙ্গে ছিল পানির তীব্র সংকট। সব মিলিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। পুরান ঢাকাকে নিরাপদ করতে ফায়ার সার্ভিসের বিস্তারিত সুপারিশ ছিল। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম সরানো সম্ভব হতো। সিটি করপোরেশন, রাজউক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার এবং ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বাণীতে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল ও উৎসবের আনন্দঘন আবহে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের মনে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগায়। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান।
তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। এটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ উৎসব সমাজের সব স্তরের মানুষকে সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয় এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে থাকার পথ দেখায়। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে মানবতার কল্যাণে সবাইকে নিবেদিত হতে হবে। ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রসহ সবার দায়িত্ব।
দুর্গোৎসবের আনন্দ অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং সব ভেদাভেদ ভুলে ঘরে ঘরে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে।
বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। যার যার ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল ও বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি।
‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। এতে তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বাণীতে তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্মমতে জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করছে এবং করবে। এটিই বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। এভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।
তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর এবার বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার। সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ।
ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদ্যাপন করুন। আপনাদেরকে আবারও শুভেচ্ছা।’
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব কাঠামো চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে। মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো সমস্যা না থাকলেও, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো কীভাবে চূড়ান্ত রূপ পাবে, তা যৌথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দিনের শুরুতে সিরিকিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, ঋণসংক্রান্ত বিষয়, আর্থিক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি তৈরি করা হচ্ছে।
সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বই সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকার হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে সব উন্নয়ন সহযোগীর আন্তরিক সমর্থন ও যৌথ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংস্থা দুটির প্রধানরা। সূত্র: বাসস
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
ড. তিতুমীর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এসব চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে।
ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। অন্যদিকে, যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়।
তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। সরকারের এসব কর্মসূচি কোনো কল্পনাপ্রসূত পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারও জরুরি। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে।
আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাসের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সেই প্রেক্ষাপটেও দেখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সংস্কারের মাধ্যমে তা দূর করতে চায়।
ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। আমানত উত্তোলনের পাশাপাশি অনেকেই অর্থ জমা রাখছেন, যা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও আর্থিক খাতে পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের হিসাব করলেই অর্থনীতির ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝা যাবে না। কৃষকদের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক খাতের সংস্কার সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ সভা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন ও নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সূত্র: বাসস