বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, ট্রাভেল এজেন্টরা কানেক্টিভিটি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তারা মানুষের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাই ট্রাভেল এজেন্টদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আজ রোববার অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান কানেক্টিভিটির এই পৃথিবীতে ট্রাভেল এজেন্টদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গ্রাহক যাতে প্রতারিত না হয়, বিদেশে যেতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু নিজেরা সৎ থাকলেই হবে না অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্টও যাতে গ্রাহকদের কোনো প্রকার হয়রানি না করতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
পর্যটন খাতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা তৈরির পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি ট্যুরিজম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে নিয়ে প্রায়ই নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কথা শোনা যায়। সবাইকেই নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের মহাসচিব আসফিয়া জান্নাত সালেহের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, আটাবের প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম আরেফ প্রমুখ।
সিলেট সফরকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ, বৈদেশিক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তিনি সিলেট সফরে এসে কোম্পানীগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত তাকে নগরের আখালিয়াস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সফর সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকালে তিনি সিলেটে এসে কোম্পানীগঞ্জে যাওয়ার পর হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
এ অবস্থায় পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি বাতিল করে দ্রুত তাকে সিলেট নগরের আখালিয়ায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকা জুরেজ আব্দুল্লাহ জুলজার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় মন্ত্রীকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থতাবোধ করলেও চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা সফর বাতিল করেছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।’
শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারীদের (শিক্ষানবিশ চালক) জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে বিআরটিএ’র ফেসবুক পেজে এ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ্য ছিল, মূল লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় মোটরযান চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারী কেবল বৈধ প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সময় চালাতে পারবেন এবং গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘খ’ চিহ্ন থাকতে হবে। বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগে যখন কেউ গাড়ি চালানো শেখেন, তখন গাড়ি চালনাকারীকে শিক্ষানবিশ চালক বা লার্নার বলা হয়।
মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, একজন শিক্ষানবিশ চালক যখন রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হবেন, তখন গাড়ির সামনে এবং পেছনে দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের একটি বড় ‘খ’ চিহ্ন লিখে বা বোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে হয়।
রাস্তায় চলাচলকারী অন্যান্য গাড়ির চালকরা যেন দূর থেকে ‘খ’ চিহ্ন দেখে বুঝতে পারেন যে, এই গাড়িটি একজন নতুন চালক চালাচ্ছেন এবং তারা যেন পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব না দিলে বাংলাদেশ তার বর্তমান অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকতে পারত না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্বন্ধে তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে ঘিরেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। তিনি ছিলেন একজন স্বাভাবিক নেতা। তার সততা, সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ ও জাতীয়তাবোধ তাকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ‘জাতীয় ঐক্য: ৭ নভেম্বরের চেতনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি স্টাডিজ সেন্টার (ভিপিএসএসসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৭ নভেম্বর নিয়ে অনেক ধরনের বর্ণনা রয়েছে। তবে ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে সংশ্লিষ্টদের বইপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গবেষণা করা প্রয়োজন।
তিনি নিজের লেখা দুটি বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সে সময় তিনি ৪৬ ব্রিগেডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিলেন টু ফিল্ড আর্টিলারির সৈনিকরা। এ সময় ফোর বেঙ্গলের সৈনিকরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তাকে মুক্ত করে টু ফিল্ড আর্টিলারির সিইওর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কর্নেল তাহেরের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত বর্ণনাকে তিনি ভুল বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করেই সেনাবাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল। তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি; পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্বের জায়গায় চলে এসেছিলেন। কর্নেল তাহের ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কর্নেল তাহের সেনাবাহিনী থেকে বের হওয়ার পর জাসদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও গণবাহিনী গড়ে তোলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সরকারকে উৎখাত করা। ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে জিয়াউর রহমানকে শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সেখানে গেলে জিয়াউর রহমানের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধাদের বিভাজন দূর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন সেনাবাহিনীর সদস্যদের পোশাক, জুতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট ছিল। তিনি সেনাবাহিনীর কাঠামো ও সক্ষমতা পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এমনকি জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে আওয়ামী লীগকেও আলোচনায় ডেকেছিলেন।
সেমিনারে অধ্যাপক শাফিউল হক বলেন, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলেও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ১৪০০ শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২০ হাজার মানুষের আহত, পঙগুত্ব ও নির্যাতনের বিনিময়ে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি হতে হবে জুলাই বিপ্লব ও জুলাই সনদ। শাফিউল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এটি দেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। যেকোনো মূল্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও তা রক্ষা করতে হবে।
উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, রোগনির্ণয় সুবিধার আধুনিকায়ন ও ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার।
আমূল পরিবর্তনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, যা জাতীয় বাজেটের মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা একটি ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছি। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর পর্যাপ্ত সংস্কার হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি এক বা দু’টি প্রকল্পের বিষয় নয়, একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে।
উপজেলা হাসপাতালের ব্যাপক উন্নয়ন :
জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়ন এবং সেখানে বিশেষায়িত ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার ৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করেছে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর আওতায় ১৮টি হাসপাতালকে ৫১ শয্যায়, ৩০৫টি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায়, ৮৩টি হাসপাতালকে ১৩২ শয্যায়, ১৩টি হাসপাতালকে ১২০ শয্যায়, ৯টি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় এবং আরও ১৫টি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এতে ৪৪৩টি উপজেলায় সমন্বিত বহুতল সেবাভবন নির্মাণ এবং ১৫টি উপজেলায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য আবাসন সুবিধা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ড. মুহিত বলেন, ‘জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার বিদ্যমান ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আর পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে কিছু উপজেলা ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, এ কারণে সরকার দেশের সবমিলিয়ে ৫০৩টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের একটি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।
উন্নীত এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিবিড় পরিচর্যা ও করোনারি কেয়ার, ওয়ান-স্টপ জরুরি সেবা, মেডিসিন, সার্জারি, নাক-কান-গলা, চক্ষু, শিশু, মাতৃস্বাস্থ্য, কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার স্ক্রিনিং এবং ফিজিওথেরাপি সেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্ট্রোক ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য সেবার পাশাপাশি প্যাথলজিক্যাল ও অন্যান্য রোগনির্ণয় সুবিধাও থাকবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে মানুষের আরও কাছে :
সরকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হাব এবং ১ হাজার ৬৩১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত এ প্রকল্পটিও বর্তমানে চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে রয়েছে। এর আওতায় হাবের জন্য ৫ হাজার ৯৩৬টি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, ৮ হাজার ৩৪৮টি স্থাপনা মেরামত বা পুনর্বিন্যাস এবং ৩৫০টি নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে ৪২৮টি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, ৬০৫টি স্থাপনা মেরামত বা পুনর্বিন্যাস ও ৫৯৮টি নতুন স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ প্রকল্পে ৬ হাজার ২৮৬টি নতুন বা পুনর্নির্মিত হাব ও ১ হাজার ২৬টি নতুন বা পুনর্নির্মিত কেন্দ্রের জন্য আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি ১ হাজার ২৬টি কেন্দ্রের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সহায়ক অবকাঠামোর মধ্যে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা ও সহজে প্রবেশযোগ্য প্রবেশপথ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ড. মুহিত বলেন, সরকার তার সংস্কার পরিকল্পনার কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে রেখে এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে প্রশিক্ষিত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসমৃদ্ধ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন।
তারা নিয়মিতভাবে অন্তত প্রতি দুই মাসে একবার মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবেন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরামর্শ ও সেবা দেবেন। তারা রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারবেন, যাতে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীদের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন।
ড. মুহিত বলেন, ‘আমরা শুধু মানুষের দোরগোড়ায় নয়, বরং তাদের ঘরের ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই।’
চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগ :
দেশে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের তীব্র সংকট থাকায় সরকার চিকিৎসক, প্যারামেডিকস, নার্স, মিডওয়াইফ ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
ড. মুহিতের তথ্যমতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা সংখ্যার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নার্স রয়েছে বাংলাদেশে। অন্যদিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীরও সংকট রয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণে সরকার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ ছাড়া সরকারের প্রথম আট মাসে কয়েক হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে।
আরও ২ হাজার ৫০০ নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও নিরাপদ সন্তান প্রসব নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হবে।
এছাড়া বিদ্যমান ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর পাশাপাশি আরও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে মোট স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারে। তারা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন।
ড. মুহিত বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ :
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও চালুর পরিকল্পনা নিয়ে ক্যানসার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
এছাড়া সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও কিশোরগঞ্জের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পাঁচটি ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (আইএনএমএএস) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া দেশব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ১৭টি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর কেনার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো পাঁচটি অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জারি মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড. মুহিত বলেন, বিশেষায়িত ক্যান্সার চিকিৎসা ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরে কেন্দ্রীভূত থাকায় ক্যান্সার রোগী ও তাদের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছে। এতে অনেককে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এবং যাতায়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে রোগীদের বাড়ির কাছাকাছি ক্যান্সার চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ :
সরকার সাভারে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করছে, যেটিকে বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেছেন ড. মুহিত।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সাধারণত ক্লিনিক্যাল সেবা প্রদানের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা দেওয়া হয় না। অথচ পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অথবা সিভিল সার্জন হিসেবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ কারণে ইনস্টিটিউটটি আগামী ১ জানুয়ারি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ পাবেন।
এছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ও অকেজো যন্ত্রপাতি শনাক্ত করতে সরকার দেশব্যাপী চিকিৎসা সরঞ্জামের নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
ড. মুহিত বলেন, অনেক উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় সরঞ্জামও নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নে শিগগিরই ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি দরপত্র আহ্বান করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ ও উন্নয়ন, ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে।
জরুরি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বিশেষ করে সচল এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে উপজেলা পর্যায়েই রোগীরা বিলম্ব ছাড়াই প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় সেবা পেতে পারেন।
স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগকে এ দেশের মানুষ আর রাজনীতি করার কোনো সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যারা সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা ও জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে সে জন্য কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, সেই রাজনৈতিক দলকে আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
বিগত দেড় দশকের শাসন এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষকে বিভিন্নভাবে হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছে। নিজেও দীর্ঘ সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান আল্লাহর রহমত ও সাধারণ মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন। দেশের লাখ লাখ মানুষ গায়েবি মামলা ও হামলায় নিষ্পেষিত হয়েছে জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরাগমনের ক্ষেত্র কারা তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৈরি পোশাক খাতে সম্প্রতি যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে, তার পেছনেও এই ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে।
বক্তব্যে ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা কিছু মহলের কড়া সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কিছু গোষ্ঠী মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের দলীয় ইশতেহারে ইসলামের মৌলিক নীতি ‘আকিমুদ্দিন’ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তারা শরিয়াহভিত্তিক আইনের স্পষ্ট বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পরিচয় সৃষ্টির মাধ্যমে এ দেশে বিভেদহীন সমাজ গঠনের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আন্দোলনের দিনগুলোতে আলেম-ওলামাদের অবদানের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম ইসলামবিদ্বেষী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বাবুনগর মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা।
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগামী ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সভায় বসছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শিল্প শাখা থেকে জারি করা এক নোটিশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ স্বাক্ষরিত নোটিশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ৪০ নম্বর ভবনে বোর্ডের নিজস্ব সভাকক্ষে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় সভাপতিত্ব করবেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারার আলোকে এই সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভার মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে নতুন নিম্নতম মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেবেন। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশের প্রধান এই রপ্তানিমুখী খাতের সব স্তরের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি হারের সুপারিশ চূড়ান্ত করার প্রাথমিক দিকগুলো নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে।
উক্ত সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলে উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মালিকপক্ষের অন্যতম প্রতিনিধি ও বোর্ডের সদস্য বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে পোশাকশিল্পের মালিকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জুমার দিনে জোহরের পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্ক, মানসিকভাবে সুস্থ, স্বাধীন ও স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সুস্থ মুসলিম পুরুষদের ওপর জামাতে জুমার নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। যাঁদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো গ্রহণযোগ্য শারীরিক বাধা, গুরুতর অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা নেই, তাঁদের জন্য এই নামাজ পরিত্যাগ করার সুযোগ নেই। সুনান আবু দাউদের ১০৬৭ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য; তবে ক্রীতদাস, নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তি—এই চার শ্রেণির মানুষের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব নয়।
যাঁদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ বা ওয়াজিব করা হয়েছে, কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া তাঁদের এই নামাজ আদায়ে অবহেলা করার ব্যাপারে বিভিন্ন হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অলসতা বা অবহেলার কারণে ধারাবাহিকভাবে তিনটি জুমার জামাতে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তরে স্থায়ী মোহর পড়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন মহানবী (সা.)। সুনানে নাসাঈর ১৩৭২ নম্বর হাদিসে হজরত আবুল জা’দ জুমায়রি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অলসতা করে ধারাবাহিকভাবে তিনটি জুমার নামাজে অনুপস্থিত থাকে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন; যার ফলে সেই অন্তর হেদায়াত লাভের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
অহেতুক ও ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ বর্জনকারীকে মুনাফিকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়েও হাদিসে স্পষ্ট সতর্কবার্তা রয়েছে। তাবারানি গ্রন্থে হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কোনো শরিয়তসম্মত ওজর বা কারণ ছাড়া যে ব্যক্তি তিনটি জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, তার নাম মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। জুমার মতো বরকতময় দিনে সামান্য অবহেলার কারণে নিজের অন্তরে মোহর লেগে যাওয়া কিংবা আল্লাহর দরবারে মুনাফিক হিসেবে লিপিবদ্ধ হওয়ার এই মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে প্রতিটি মুমিনের সতর্ক থাকা আবশ্যক।
শুধু নামাজ আদায়ই নয়, জুমার দিন খুতবা শুরুর আগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নামাজের আহ্বান বা আজান শোনার পর যাবতীয় পার্থিব কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সুরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন পার্থিব বেচাকেনা বর্জন করে আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হতে হবে এবং এটিই মানুষের জন্য সর্বোত্তম। ফলে জুমার আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও দুনিয়াবি সব ধরনের ব্যস্ততা স্থগিত রেখে অবিলম্বে মসজিদের উদ্দেশে যাত্রা করা কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বা ওয়াজিব।
আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮ নভেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনে দেশের সার্বিক তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। এ সময়ে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দেশের অন্যত্র রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া শনিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
পরবর্তী দিনগুলোর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সোমবার (৯ নভেম্বর) বৃষ্টির আওতা বেড়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; ফলে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এরপর মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যার প্রভাবে ওই দিন সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা উভয়েই কিছুটা কমবে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে দেশের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এদিকে রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৬টায় নগরীতে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৮ শতাংশ এবং সে সময় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল।
দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি ও নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
শিল্পমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
বিসিআইসি জানিয়েছে, বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া দুইটি নন-ইউরিয়া কারখানা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।
বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা, ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় সরকার নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা
দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি বাস্তবায়নের পর উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারখানাটি স্থাপিত হলে দেশের ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’
চট্টগ্রামে বছরে চার লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ
ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’
পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা
নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা
নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ পর্বে ও উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে। আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাই।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি এ সময়ের ব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করবে তারা।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে হামের টিকা কেনা ও বিতরণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে কমিশন। তদন্ত শেষে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।
টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান: কমিশনের মূল কাজ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করা। টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোথাও ব্যর্থতা ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব কী ছিল, তা চিহ্নিত করবে কমিশন।
টিকা কেনার উদ্যোগ, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে তা বিতরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।
বাংলাদেশ একসময় হামের টিকাদানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।
২০১০ সালের ফলোআপ ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১ কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যও পূরণ হয়। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি ৫ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় টিকাদানের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
পরবর্তী বছরগুলোতেও টিকাদানের কভারেজ ধারাবাহিকভাবে ১০০ শতাংশ কিংবা তার বেশি ছিল। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হামের টিকাদানের হার হঠাৎ কমে ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকার স্বল্পতা দেখা দেয়।
ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে ইউনিসেফ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে ভ্যাকসিন সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হবে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
তিনি জানান, ইউনিসেফ একাধিক বৈঠক করেছে, প্রতিটি বৈঠকের পর সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে এবং সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সংকট, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
অর্থাৎ, টিকা সংকটের ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্কবার্তা ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই সতর্কবার্তার প্রতি যথাসময়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কি না।
টিকা সংকটের সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবের সম্পর্ক: বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। গত আড়াই দশকে দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর সংক্রমণের সংখ্যা কমতে থাকে।
২০২৫ সালে দেশে মাত্র ১৩২ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরে, অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। ওই সময়ে হামে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না।
তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানের স্বল্পতা এবার হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ।
গত ২০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা সংকটের কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। এ ছাড়া ১০টি সভায় সরকারের কর্মকর্তাদের একই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।
ইউনিসেফের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ মাস বয়সী শিশু মাহাজবির মৃত্যু হয়। তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলেও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, নজরদারি ও গণটিকাদান কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। পরবর্তীকালে বর্তমান সরকার জাতীয় এমআর টিকাদান কর্মসূচি চালু করে।
এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। অথচ একই বয়সি শিশুদের জন্য ২৮ জুন পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে অংশ নেয় ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি শিশু। অর্থাৎ, দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুর সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখের ব্যবধান রয়েছে।
এ ব্যবধানের কারণে দেশে এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু হামের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গণটিকাদানের দুই মাসেরও বেশি সময় পরও প্রতিদিন নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও পুরোপুরি থামেনি। এ পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা, সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব তদন্তের আওতায়: হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা কমিশনের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কমিশন গঠন করা হয়েছে। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল প্রথম আলো প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই দশকের মধ্যে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং বেশি মৃত্যুহারের তথ্য উঠে আসে।
এ ছাড়া ১৩ জুলাই প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদনে হামে সাড়ে সাতশ শিশুর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমে বিলম্বের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে কমিশন।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে টিকা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নিশ্চিত করা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা: তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন দেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাও থাকবে তাদের।
টিকা কেনা, সরবরাহ ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারবে কমিশন। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার সুযোগ থাকবে তাদের।
কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সাচিবিক সহায়তা দেবে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে এ বিভাগ।
ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধে সুপারিশ: তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করাও কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব।
টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমের সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়গুলোও সুপারিশে গুরুত্ব পেতে পারে।
কমিশনকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশের মাধ্যমে টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত আট মাসে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। তারপরও চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকে বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী বছরের গ্রীষ্ম শুরুর আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রকট হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত আট মাসেই এ খাতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় সরকার।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সভায় উপস্থিত সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা সহজ হবে, অন্যদিকে কৃষিনির্ভন অর্থনীতির অগ্রগতিও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু যারা অতীতে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, তারা উন্নয়নপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। শিল্পকারখানা ও শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৪ সালের মতো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি: কাটাখালী মোড়ের পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিরা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মিল-কারখানা ধ্বংসের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের জীবিকার উৎস। এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক, তাদের সন্তান ও পরিবার। তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেব। আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ জবাব দেব। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
দুই-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন মজুরি: শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের দাবিদাওয়া বিবেচনায় সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে। একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্ধ মিল-কারখানা চালু এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।
গতকাল সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এ সময় বন্দরপ্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল ও প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অগ্নিনিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী বাংলাদেশ: কাটাখালী মোড়ে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
বিকেল পৌনে ৪টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় দ্বিতীয় আসরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’
তারেক রহমান বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’
১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে সারাদেশ থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। আগের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।
বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না।’
তিনি বলেন, একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রথম আসর গত ২ মে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় আসরের চূড়ান্ত পর্ব আগামী জুনে হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ জাতীয় ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও দেখেন তিনি। গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
খুলনা সফর শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যান। সেখানে সমবেত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান তিনি। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি নিয়ে সারা বিশ্বেই টালমাটাল অবস্থা। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিগত ছয় মাসে জ্বালানি খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। এই কারণে দেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’
বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বিকালে নাটোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয় সংক্রান্ত সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
সোলার প্যানেলের জন্য আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘যেন কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া যায়, যেখানে কৃষি জমি আছে সেখানে সোলার দিয়ে সেচ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, আগামী মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচে যাতে অসুবিধা না হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরে গ্যাস ফিল্ডগুলো খনন করছি। খনন করে পজিটিভ দুইটা রেজাল্ট এসেছে। এই গ্যাসগুলো যদি উত্তোলন করা হয় তাহলে নাটোরে অবশ্যই সুষমভাবে শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস বিতরণ করা হবে।’
দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সন্তানের জন্য অভিভাবকদের বাড়ি থেকেই কাজ করতে হবে। থানার ওসিদের এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসমা খাতুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন।