রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

কানেক্টিভিটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ট্রাভেল এজেন্টদের: পর্যটন মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৪ ২০:২২

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, ট্রাভেল এজেন্টরা কানেক্টিভিটি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তারা মানুষের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাই ট্রাভেল এজেন্টদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আজ রোববার অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান কানেক্টিভিটির এই পৃথিবীতে ট্রাভেল এজেন্টদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গ্রাহক যাতে প্রতারিত না হয়, বিদেশে যেতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু নিজেরা সৎ থাকলেই হবে না অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্টও যাতে গ্রাহকদের কোনো প্রকার হয়রানি না করতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

পর্যটন খাতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা তৈরির পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি ট্যুরিজম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে নিয়ে প্রায়ই নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কথা শোনা যায়। সবাইকেই নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের মহাসচিব আসফিয়া জান্নাত সালেহের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, আটাবের প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম আরেফ প্রমুখ।


সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের সম্পদ যাচাই করবে দুদক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য দুজনের সম্পদ যাচাই ও অনুসন্ধানের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে সংস্থাটি।

দুদক জানিয়েছে, তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকের সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, মিরপুর ডিওএইচএসের ঠিকানায় বসবাসকারী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য কমিশন অনুসন্ধান কর্মকর্তা এবং তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিধি অনুযায়ী যাচাই ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেন এক আইনজীবী। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে জেনারেল আজিজ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনা এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে আলিশান বাংলো নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাংলো নির্মাণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

এছাড়া মিরপুর ডিওএইচএসে বাড়ি এবং ঢাকার নিকুঞ্জ-১-এর ৬ নম্বর সড়কে ‘আজিজ রেসিডেন্স’ নামে একটি বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দুই ভাইয়ের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি কেনার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ২০২১ সালের ২৩ জুন সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরে যান। অবসরের প্রায় তিন বছর পর, ২০২৪ সালের মে মাসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।


র‍্যাবের বদলে ‌‘এসআরবি’ পুরনো প্রতিষ্ঠানের খোলস বদলানোর শামিল: টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে সংসদে উত্থাপিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’- এর মাধ্যমে বাস্তবে নতুন নামে অধিকতর ক্ষমতায়িত ও কার্যত জবাবদিহিহীন র‍্যাবের আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে। এ অভিযোগ এনে বিলটির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিলটিতে ‘এসআরবি’কে ব্যাপক ও অস্পষ্ট ক্ষমতা প্রদান, অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অনুপস্থিতি, সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ, স্বার্থের দ্বন্দ্বযুক্ত অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, র‍্যাবের জনবলকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের ঝুঁকি এবং প্রেষণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বহাল থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বহু প্রতীক্ষিত এবং এটিকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয় না। র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের যে গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন বাহিনীর কাঠামো, জনবল, ক্ষমতা, বলপ্রয়োগের বিধান এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যথায় র‍্যাবের বদলে ‌‘এসআরবি’ নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির একটি বাহিনী গড়ে উঠলে তা হবে কেবলই পুরনো প্রতিষ্ঠানের খোলস বদলানোর শামিল। কেবল একটি ‘কসমেটিক মেকওভার’ এর মাধ্যমে দেশের নাগরিক বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

বিলে একাধিক ধারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর বাইরে সশস্ত্র বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে ‘এসআরবি’তে অন্তর্ভুক্তির পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। কারণ এই বিধান অভ্যন্তরীণ পুলিশিংয়ে সামরিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি জিইয়ে রাখবে যা প্রকারান্তে প্রতিপক্ষকে হত‍্যাসহ নির্মূল করতে দীক্ষা দেয়। এর পাশাপাশি, র‍্যাবের জনবল কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া ঢালাওভাবে ‘এসআরবি’তে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর মানদণ্ড অনুযায়ী, অতীতে র‍্যাবে দায়িত্ব পালনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন বা গুমের মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা জড়িত কোনো সদস্য যেন নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে, সেজন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।

খসড়ায় বাহিনীটির ওপর অবারিত ক্ষমতা অর্পণ ও বিচারিক সুরক্ষার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিলে এই বিশেষায়িত ইউনিটকে গোয়েন্দা নজরদারি থেকে শুরু করে অভিযান, তল্লাশি ও সাধারণ তদন্তের মতো বহুমুখী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এরপরও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা’ বা ‘সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব’ -এর মতো অস্পষ্ট শব্দবন্ধের উপস্থিতি রাজনৈতিক উদ্দেশে ভিন্নমত দমন ও বলপ্রয়োগের সুযোগ ও অতীতের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। একইভাবে বিলটিতে কেবল সন্দেহের বশে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তার এবং বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ২২ ধারায় প্রস্তাবিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ সুস্পষ্টভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্বে দুষ্ট। কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাদেরই সহকর্মীদের দিয়ে তদন্ত করানোর ব্যবস্থা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এই অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পরিবর্তে সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে পুলিশ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত, মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত এবং দলীয় ও নির্বাহী বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রভাবমুক্ত তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার আইনি সুরক্ষার বিধান অন্তর্ভুক্তির দাবি রাখছি।’

টিআইবি মনে করে, র‍্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ্ব সদস্য যাচাই প্রক্রিয়া, বিচারিক সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত না হলে র‍্যাব বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। র‍্যাবের বিলুপ্তি শুধু একটি বাহিনীর নাম ও খোলস পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন, নাগরিকের অধিকার এবং কার্যকর জবাবদিহির ভিত্তিতে একটি নতুন আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়- এটাই টিআইবির প্রত্যাশা।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ধারা-ওয়ারি বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত পলিসি ব্রিফ টিআইবির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে বিলটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।


তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের

# ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ # ১৫০ শয্যায় উন্নীত হবে উপজেলা হাসপাতাল # বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায়ও সম্প্রসারণ #বিনামূল্যে রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজি ল্যাব # অ্যাম্বুলেন্স সেবায়ও পরিবর্তন # ডিজিটাল হবে স্বাস্থ্যসেবা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট দূর করা, রোগ নির্ণয়ের সুবিধা সম্প্রসারণ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশের সীমা অতিক্রম করেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু নতুন চিকিৎসক নিয়োগ নয়, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বিদ্যমান ৩০ বা ৫০ শয্যা থেকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ থেকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে নতুন ভবন, অতিরিক্ত ওয়ার্ড, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত করা হবে।

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম বড় সমস্যা চিকিৎসক ও জনবল সংকট। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ থেকে আটজন করে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যা এখনও অপ্রতুল।

এ কারণে আরও ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৯০০ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্স, টেকনিশিয়ান, মেডিকেল সহকারীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতিও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন প্রায় দেড় লাখ। ফলে পর্যায়ক্রমে আরও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ স্বাস্থ্য কিটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং অন্যান্য সাধারণ পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। এর ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের পরিকল্পনায় উপজেলা হাসপাতালগুলোর সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে যাতে সামান্য চিকিৎসার জন্য জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি উপজেলার জমি, বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন এবং সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ‘নিড অ্যাসেসমেন্ট’ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে হাসপাতালের জন্য চার ধরনের নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে শুধু হাসপাতালের ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হবে না—চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকারের পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে একই কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার বড় দুর্বলতা রোগ নির্ণয়ের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব। অনেক উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের জেলা শহর কিংবা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি দরিদ্র ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ চিকিৎসা থেকে পিছিয়ে পড়েন। এই সমস্যা কমাতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাধারণ রোগ নির্ণয়ের অধিকাংশ পরীক্ষা যাতে স্থানীয় হাসপাতালেই করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, হাসপাতাল শুধু ভবননির্ভর হলে হবে না। কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। তাই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রোগ নির্ণয় সুবিধা সম্প্রসারণে বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেগুলো অকেজো, পুরোনো অথবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা যায় না।

এই পরিস্থিতি বদলাতে ভেঙে পড়া অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনর্গঠনে আলাদা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে একটি জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে দ্রুত রোগীকে প্রয়োজনীয় হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ই-হেলথ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইউনিক স্বাস্থ্য আইডি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এই আইডির মাধ্যমে একজন রোগী দেশের যে হাসপাতালেই চিকিৎসা নিন না কেন, তার পূর্ববর্তী চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য দেখার সুযোগ তৈরি হবে। এতে একই পরীক্ষা বারবার করার প্রবণতা কমবে এবং চিকিৎসক রোগীর আগের চিকিৎসার ইতিহাস দ্রুত জানতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে খুলনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলায় ই-হেলথের পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রোটোটাইপ প্রস্তুতের আশা করা হচ্ছে। এরপর এক থেকে দেড় বছর পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ এবং বহির্বিভাগের টিকিট অনলাইনে বুকিংয়ের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা কমার পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবার জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নতুন ভবন ও শয্যা বাড়ানো এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নতুন একাডেমিক ও গবেষণা বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে সাভারে প্রতিষ্ঠিত নতুন হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনায় শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা কার্যকর হলে জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার এই বরাদ্দকে পাঁচ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য সংস্কার কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, নতুন বাজেটকে শুধু অর্থের পরিমাণ হিসেবে দেখলে হবে না; সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ মনে করেন, নতুন অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান হাসপাতালের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করাই জরুরি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে নষ্ট ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি, রিএজেন্ট সংকট, জনবল ঘাটতি, ওষুধ সরবরাহের দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনায় নমনীয় অর্থের অভাব এখনও স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা।

তার মতে, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা গেলে রোগীদের বেসরকারি খাতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার চাপ কমবে এবং সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে।

স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাখা ২৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি অংশ দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল গঠনেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, জরুরি রোগের প্রাদুর্ভাব, ওষুধ বা স্যালাইনের সংকট কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্র নষ্ট হলে এ ধরনের তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলা। তবে এই পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে শুধু বাজেট ও অবকাঠামোর ওপর নয়; সময়মতো চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও।


হজের খরচ কমায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন ৪৩৪১ হাজি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। সৌদি আরবে বাড়িভাড়া ও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ নির্ধারিত খরচের চেয়ে কম হওয়ায় মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এসব তথ্য জানান। এ সময় ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। বাকি হাজিদের অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম খরচে বাসা ভাড়া নেওয়া সম্ভব হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জেও নির্ধারিত অর্থের তুলনায় কম ব্যয় হয়েছে। এসব খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ হাজিদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন এই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে ২৩ জন হাজির ক্ষেত্রে রিফান্ড প্রযোজ্য হবে না। তাদের চিকিৎসা ব্যয় স্বাস্থ্যবিমার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জানান, হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সরকার বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আগের বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল।

আগামী ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে হজযাত্রীদের সামগ্রিক ব্যয় আরও কমবে বলে আশা করছে সরকার।

হজের রিফান্ডের অর্থ পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্র যাতে হাজিদের কাছ থেকে গোপন তথ্য নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিফান্ডের অর্থ পেতে কোনো হাজির ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন বা ওটিপি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব তথ্য চেয়ে কেউ ফোন করলে তা প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের ফোন বা বার্তায় সাড়া না দেওয়ার জন্য হাজিদের সতর্ক করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


টাকা দেখে ফেলেন বাসের সুপারভাইজার, তারপরই খুনের ছক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়ির জমি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন। যে বাসে তিনি উঠেছিলেন, সেই বাসের সুপারভাইজার দেখে ফেলেন সেই টাকা। তারপর বাসচালকসহ তিন পরিবহনকর্মী মিলে এই অর্থ লুটের জন্যই ইসমাইলকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রাজ ক্লাসিক পরিবহনের চালক সোহেল রানা (৪১), বাসটির সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)।

রাজ ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসেই ইসমাইল গত বৃহস্পতিবার বিকালে জামালপুর থেকে গাজীপুরে রওনা হয়েছিলেন। রাত ১১টার পর তার ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরদিন শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় ইসমাইলের লাশ পাওয়া যায়।

ইসমাইলের (৪৯) বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে। তবে তিনি একসময় গাজীপুরের ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। সে কারণে গাজীপুরের কাশিমপুরে বাসা নিয়ে স্ত্রী আসমা বেগম, দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। তবে কিছুদিন আগে চাকরি ছাড়ার পর তিনি একাই জামালপুরে ফিরে গিয়েছিলেন।

স্বজনরা জানিয়েছে, মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতে জামালপুর থেকে গাজীপুরে আসছিলেন ইসমাইল। সঙ্গে ছিল জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেছেন, বাসের ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কাছে থাকা টাকা দেখে ফেলেছিলেন ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের সুপারভাইজার সাজু। সেই টাকা হাতিয়ে নিতে চালক ও হেলপারের সঙ্গে করেন পরিকল্পনা। পরে ইসমাইলকে শ্বাসরোধ হত্যা করে টাকা লুটের পর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে।

ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান এর আগে জানিয়েছিলেন, বাস থেকে নামার পর বাবাকে নিতে তিনি ভোরে গাজীপুরের জিরানী বাজারে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাবার ফোন বন্ধ পাচ্ছিলেন।

ইসমাইলের নামার কথা ছিল জিরানীতে। তাহলে কেন তিনি সেখানে নামলেন না— সেই প্রশ্নে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেছেন, পরিকল্পনা আঁটার পর ইসমাইলকে ঘুমিয়ে যেতে বলেছিলেন বাসের সুপারভাইজার। বলেছিলেন, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে তাকে ঘুম থেকে তুলে দেওয়া হবে। ইসমাইল ঘুমিয়ে গেলে বাসের অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। ইসমাইলকে নামানো হয়নি। তাকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসতে থাকে। একপর্যায়ে সুপারভাইজার এবং হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ এবং হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেছেন, ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বনানীতে আসেন। সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে ফের এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় ইসমাইলের মরদেহ ফেলে রেখে যান।

বাসটি কীভাবে শনাক্ত করা হলো, এই প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার খবর জানার পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বনানী থানা পুলিশ। একপর্যায়ে রাজ ক্লাসিক নামে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।

তখন বাসটির সুপারভাইজার সাজু এবং হেলপার মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় চালক সোহেল রানাকে।

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনজন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে বলেছেন, জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইল উঠেছিলেন বাসে। একপর্যায়ে সাজু ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কাছে থাকা টাকা দেখে ফেলেন। বিষয়টি তিনি বাসচালককে জানান। পরে বাসচালক ইসমাইলের কাছ থেকে টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

ইসমাইলের কাছে ৫ লাখ টাকা থাকলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি বলে জানান ফারুক হোসেন। তারা পুলিশকে বলেছেন, আড়াই লাখ টাকার মতো তারা নিয়েছেন।

ইসমাইল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বনানী থানায় মামলা করেছেন তার ছেলে হাসান। সেই মামলায় তিন পরিবহনকর্মীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


কয়েকজন আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতা ঘটাতে পারেন: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কয়েকজন আসামির গতিবিধি, তৎপরতা সন্দেহজনক লেগেছে। তাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে যারা নিরাপত্তার কাজ করেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তারা তাদের সতর্ক করেছেন। কিছু কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা তাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু কিছু গোপন তথ্য তাদের (প্রসিকিউশন) কাছে আছে যে তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটেজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে কাজ করছেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এই আইনের মাধ্যমে সারা দেশে গুমের বিচার হয়তো অন্য মাত্রার একটা গতি পাবে। যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তারা অত্যন্ত শক্তিশালী। সেটা মাথায় রেখেই তারা (প্রসিকিউশন) নিজেরা সতর্ক আছেন। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য তারা অনুরোধ জানাচ্ছেন। সরকারের কাছে তারা এই বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এক সপ্তাহ ধরে ‘স্যাবোটাজ’ শব্দটা একটু বেশি আসছে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে প্রতিটা কর্মকাণ্ড, প্রতিটা জিনিস তাদের নজরদারিতে আছে। সে কারণে কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে। এ রকম কোনো দুষ্টুচিন্তা কারও মনের মধ্যে যদি থাকে, কোনো অপরাধী যদি অন্য কোনো বিষয় চিন্তা করেন, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী বিষয় হবে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আজ গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা আসেন। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত সংস্থা। আজ চিফ প্রসিকিউটর ব্রিফিং করার সময় এই ৫৫ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই পরিবারগুলোর অভিযোগের তদন্ত যখনই শুরু হয়েছে, কিছু কিছু অপরাধীদের তৎপরতাও কিন্তু বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার চলছে, যাদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের লক্ষ রাখার প্রয়োজন আছে। গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের প্রতি লক্ষ রাখার বিষয় আছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা (অপরাধী) তাদের মতো করেই কিন্তু যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারেন।

সরকারকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবার যারা আছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে বলছেন তারা। বিশেষ করে এই তদন্ত যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। কোনোভাবে যাতে কোনো ‘স্যাবোটাজ’ করে তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা কেউ সৃষ্টি করতে না পারে।


ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিআইডি

ঠাকুরগাঁও, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ (রোববার) বিকেলে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কোনো কলকারখানা নাই। তাই লোকের কাজও পায় না। বিমানবন্দর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য খুব শিগগিরই কিছু বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে সক্ষম হব।’

এসময় তিনি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং মূল্যও পরিশোধ করা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে। স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও জানান, জেলায় একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত শিবগঞ্জ বিমানবন্দর চালুর আশা ব্যক্ত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষির অনেক উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা সততার সঙ্গে মানুষের সেবা এবং কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদেরকে আমরা সাহস জোগাতে চাই এবং সমর্থন করতে চাই।’

এসময় তিনি তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন।

তরুণ সমাজের প্রতি মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার এবং জেলাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়তে তিনি জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন, সংঘাত, সংঘর্ষ, কিংবা প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকারের একটা সমাজ গড়ে তুলি। যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁয়ে কোন সংঘাত কোন সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলে প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, দলের মতবাদ প্রচার করবেন কিন্তু সংঘাতে জড়াবেন না।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষদের ওপর হওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করেন এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সমঝতার রাজনীতি’ বা ‘পলিটিক্স অফ রিকনসলেশন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এসময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর পিতা-মাতা, স্থানীয় মুরুব্বি, শিক্ষকসহ তাঁর জীবনের পথচলায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনে আমার সহধর্মিনী সাহস জুগিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ লড়াই করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।


দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে হবে: চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা জনমিতিক লভ্যাংশ (পপুলেশন ডিভিডেন্ট) কাজে লাগাতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।

আজ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়্যালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্টস, এসডিজিস এন্ড আইসিপিডিস কমিটমেন্টস' শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

স্ট্রেনদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেশন অব পপুলেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুস (এসপিসিপিডি) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং।

চিফ হুইপ বলেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না; দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে তার বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি।

চিফ হুইপ বলেন, আগামী প্রায় এক দশক বাংলাদেশের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। দক্ষতা, শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতাই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হওয়ায় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু মানুষ পাঠানোই যথেষ্ট নয়; দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করে তাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠাতে হবে। দক্ষ কর্মীরা বিদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো কার্যকর সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীলতা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।


সংঘাত নয়, সমঝোতার রাজনীতি করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত পরিহার করে সমঝোতা এবং সহিষ্ণুতার রাজনীতি করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা অনেক রক্তপাতের মধ্য দিয়ে এ দেশ পেয়েছি, আর কোনো রক্তপাত দেখতে চাই না। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্র রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।” আজ রবিবার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকতে পারে না। বাংলাদেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করবে, এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিজস্ব রাজনীতি ও মতবাদ প্রচার করুন; কিন্তু হানাহানি বা সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকুন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক চর্চা চালানো উচিত। কারণ গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তিই হলো সহিষ্ণুতা।”

সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে দারিদ্র্য বিমোচন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নিজ জন্মভূমির প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার জন্ম ও শৈশব এখানে। এ মাটির শিক্ষকরাই আমাকে গড়ে তুলেছেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের পাশে থাকব।” পরিশেষে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জীবন বাজি রেখে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে আইজিসিএফ কর্তৃক আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

আজ (রোববার) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্নভাবে মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করবে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আশ্রয় পাওয়া প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর-এর হিসাবে ১.২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।’

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে।

এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পূনর্বাসন নিয়ে সরকার আশাবাদী। বাংলাদেশ মানবিক সহযোগিতা বহাল রাখবে। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সেখানে পৌছাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আইজিসিএফ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি’র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাব-এর সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।


হাজার হাজার লিটার তেল পুড়িয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ অযৌক্তিক: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বক্তব্য দিচ্ছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের এই মুহূর্তে হাজার হাজার লিটার তেল খরচ করে বিরোধী জোটের লংমার্চ আয়োজনকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘বিশ্বের নানা জায়গায় যুদ্ধের কারণে বর্তমানে চলমান তেল সংকটের মধ্যে হাজার হাজার লিটার তেল পুড়িয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি অযৌক্তিক।’ তিনি অভিযোগ করেন যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব হঠকারী কর্মসূচি পালন করছে।

বিরোধী জোটের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘জামাত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এতদিন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আজ তারাই আবার তেল, বিদ্যুৎ, সার-সহ বিভিন্ন সংকটের কথা বলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দেশের উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত করতেই কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা এবং পানিতে ডুবে শিশুদের অকাল মৃত্যু রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি শিশুকে সাঁতার শেখানো জরুরি এবং সেই সঙ্গে যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম আব্দুল হালিম এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পরিবেশ রক্ষায় চিনিশিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আখ রোপন কার্যক্রম উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চিনিশিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ ও সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সরকারের ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারের জমিতে উন্নত জাতের আখের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মোঃ শামছুজ্জামান সুরুজ বৃক্ষরোপণ ও মাড়াই মৌসুমের আখ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএসএফআইসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিটি চিনি কারখানায় ১ হাজার করে মোট ১৫ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আখ চাষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ কার্বন শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ফসল বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় জমিতে অবস্থান করায় আখ মাটির ক্ষয় রোধ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।

তিনি বলেন, আখের বিভিন্ন উপজাত, বিশেষ করে ছোবড়া ও চিটাগুড় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে আখ চাষ চিনি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, পাহাড়, শহর, গ্রাম, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা, চরাঞ্চল ও সরকারি বনভূমিতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি বন্যা ও খরার মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আখের সঙ্গে সাথী ফসল চাষের সুযোগ থাকায় একই জমি থেকে কৃষকের বাড়তি আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি চিনি শিল্পকে কেন্দ্র করে আখ চাষ সম্প্রসারিত হলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি টেকসই কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগও জরুরি। শিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ এবং কান্তা কৃষি খামারে আখ রোপণের মতো কর্মসূচি দেশের সবুজায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত H.E. Mr. Ghanshyam Bhandari সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ (রবিবার) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

মন্ত্রী নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেন, এ শোকাবহ সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হলেও দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। হিমালয় অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, নদী অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্য, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলে। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত H.E. Ghanshyam Bhandari বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত নেপালের দুর্ঘটনার পর দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে বাংলাদেশের এই সহমর্মিতা দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন; নেপালের সরকার ও জনগণ এ সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষ মনে করেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী হলে তা উভয় দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ দক্ষিণ এশিয়ায় সবুজ ও টেকসই উন্নয়ন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন।

এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।


banner close