সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এসময় কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
আজ সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে মল চত্বর, ফুলার রোড, নীলক্ষেত এলাকায়ও তা ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আন্দোলনকারীরা সমাবেশ ডাকেন। আড়াইটার দিকে সমাবেশস্থলে খবর ছড়ায়, বিজয় একাত্তর হলে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে এবং হামলা হয়েছে। এতে উত্তেজিত কতিপয় শিক্ষার্থী সেখান থেকে বিজয় একাত্তর হলের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে থাকেন।
এক পর্যায়ে বিজয় একাত্তর হলের গেইট থেকে ভেতরের দিকে ঢিল ছোড়া হতে থাকে। পাল্টা ভেতর থেকেও বাইরে ঢিল মারা হতে থাকে। তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয়পক্ষ পরস্পরকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
এদিকে বিজয় একাত্তর হলের পর মল চত্বরেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়ায় পিছু হটেন আন্দোলনকারীরা। তাদের কেউ ছুটতে থাকেন ফুলার রোডের দিকে, কেউ চলে যান নীলক্ষেতের দিকে। ওই সময় আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ পিটুনিরও শিকার হন।
বর্তমানে গোটা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি থমথমে। তবে বিজয় একাত্তর হল, জিয়া হল, বঙ্গবন্ধু হল ও মাস্টার দা সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দখলে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মতবিনিময় করেছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।
বৈঠকে এনসিপি নেতৃবৃন্দ নির্বাচন নিয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগের কথা জানান এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে তাঁদের নেতাকর্মীরা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলটির প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মাঠ প্রশাসনের রদবদল প্রসঙ্গে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জন্যই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এ নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে।’ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরার ব্যবহারসহ কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
একইসাথে গণভোটে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট কেন দেওয়া প্রয়োজন, “হ্যাঁ” ভোট দিলে কী হবে আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সকলের- সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি’। উক্ত বৈঠকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার অফিসার্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, এই সম্মেলনে উপস্থিত বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিমান বাহিনী প্রধান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আকাশসীমা সুরক্ষার পাশাপাশি দেশমাতৃকার সেবায় বাহিনীর অনবদ্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমান বাহিনীর সকল সদস্যবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিমান বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।" মূলত বাহিনীর সক্ষমতা ও দেশপ্রেমের সংমিশ্রণে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণই ছিল এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহাদী আমিন ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এই সৌজন্য সাক্ষাতে যোগ দেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়েও নেতারা মতবিনিময় করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দুর্গম কেন্দ্রসমূহে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপদে পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই তথ্য জানান। নির্বাচনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ আকাশপথ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনের চার দিন আগে থেকেই নিবিড় টহল পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে এই টহল কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চলমান বিশেষ অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানের আওতায় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজ, ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। এই সময়কালে মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ সর্বমোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানের অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা পার না পেতে পারে এবং অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়।
নির্বাচন কমিশনের নিকট রাজনৈতিক দলের আকারগত কোনো ভেদাভেদ নেই এবং কমিশন বর্তমানে কোনো ধরনের চাপের মুখে নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "নির্বাচন কমিশনের কাছে ছোট দল বা বড় দল বলে কোনো ভেদাভেদ নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল ও প্রার্থী কমিশনের কাছে সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন।" কমিশন কোনো চাপের মুখে কাজ করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও যোগ করেন, "নির্বাচন কমিশন একদমই কোনো চাপে নেই। সবার চাওয়া যেমন একটি ভালো নির্বাচন, কমিশনের লক্ষ্যও ঠিক তাই।"
রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ কমিশনকে সমৃদ্ধ করছে উল্লেখ করে এই কমিশনার জানান যে, বর্তমানে তারা বড় কোনো সংকটের সম্মুখীন হননি। তিনি বলেন, "সবাই ইসিতে এসে নিজেদের অভিযোগ ও পরামর্শ জানাচ্ছেন। এতে কমিশন সমৃদ্ধ হচ্ছে। ছোট-খাটো যেসব সমস্যা সামনে আসছে, কমিশন তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করছে। ইসি এখনো বড়ো কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বক্তব্য দিচ্ছে, আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।"
সাম্প্রতিক আপিল শুনানির অভিজ্ঞতা থেকে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, "শুনানিতে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও কথা বলার ধরন দেখে মনে হয়েছে, একটি ভালো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রার্থীরা যেভাবে শুনানিতে নিজেদের যুক্তি ও বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, ভোটের মাঠেও তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে কমিশন প্রত্যাশা করে।" একটি জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব ও কমিশনের দায়বদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "একটি কমিশনের জীবনে একটিই জাতীয় নির্বাচন করার সুযোগ থাকে। কেউ আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই।"
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা রোধ করার অংশ হিসেবে লাইসেন্স করা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুসরণ করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্বাচনের সময় যাতে কেউ অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন করতে না পারে বা নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে কারণেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এই নির্দেশনার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপি এবং আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া প্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনাররাও তাদের বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে সাধারণ লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে এই আদেশ অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেওয়া এবং বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার রোধ করা গেলে ভোটের মাঠের সহিংসতা ও উত্তেজনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য প্রণীত অধ্যাদেশ বা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যাবতীয় দাপ্তরিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) এই চূড়ান্ত খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার আগে দীর্ঘ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই চূড়ান্তকরণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত নেওয়া হয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী একটি কাঠামো দাঁড় করাতেই সবার যৌক্তিক প্রত্যাশা ও উদ্বেগের বিষয়গুলোকে খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সকলের ধৈর্যশীল সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই এই জটিল প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে।
একটি টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য অবকাঠামোগত ও মৌলিক সংস্কার কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যেকোনো পর্যায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা পুরো উদ্যোগটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যেহেতু অধ্যাদেশটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করে, কোনো ধরনের আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জন ও শ্রমকে নসাৎ করে দিতে পারে।
পরিশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, দীর্ঘদিনের ধৈর্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত থাকলে অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে ও মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্বীকার করেছেন যে, সরকার যেভাবে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করতে চেয়েছিল, নানাবিধ কারণে তা সেভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংস্কার হয়নি বলে যে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথা বলাটা এক ধরনের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি ভিউ বা জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, সংস্কার কিছুই হয়নি এমন ধারণা ঠিক নয়, বরং যথেষ্ট কাজ হয়েছে। নিজের মূল্যায়নে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা যদি ১০ থাকে, তবে অন্তত ৪ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সরকার সংস্কারের পথে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যে পরিমাণ পরামর্শ বা কনসালটেশন করেছে, তা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সরকার প্রণয়ন করেছে। তবে দেশে পরিপূর্ণ আইনের শাসন বা রুল অব ল প্রতিষ্ঠা করতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান সরকার সংস্কারের যে ভিত্তি স্থাপন করেছে, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যদি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবেই জনগণ এই সংস্কারের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে।
বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অতীতে যেভাবে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে পদায়ন পাওয়া যেত, সেই সংস্কৃতি আর থাকবে না। শুধুমাত্র ১০ বছর ধরে জয় বাংলা কিংবা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিলেই কেউ বিচারক হতে পারবেন না। বিচারক হওয়ার জন্য যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিই এখন প্রধান বিবেচ্য হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতেও কিছু অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সংস্কার উচ্চ আদালতের ভেতর থেকেই আসতে হবে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতু এবং উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ বা সাসেক-২ প্রকল্পের নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি যমুনা সেতু এলাকা এবং সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধে চলমান নদীশাসন কাজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক এবং সাইট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সচিব মহোদয় যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে চলমান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং সেতুর স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং যানচলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে টোল প্লাজায় যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন সিস্টেম বা ইটিসি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে সেতু সচিব টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়নাধীন সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাসেক-২ প্রকল্পটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং এটি পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সচিব প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন, যাতে প্রকল্পের সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষায় নির্মাণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে নির্মাণকাজ চলাকালীন মহাসড়কে যেন যানজট বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পর্যাপ্ত ডাইভারশন ও রোড সাইন স্থাপন করতে এবং ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে কোনো সংস্কার হয়নি বলে যারা প্রচার করছেন, তাদের দাবি সঠিক নয়। বরং বিগত সময়ে যথেষ্ট সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথাবার্তা বলাটা উদ্দীপকের মতো কাজ করে এবং এতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি ভিউ বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা সংস্কারের অগ্রগতির বিষয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা যদি ১০ থাকে, তবে অন্তত চার ভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার যেভাবে করার পরিকল্পনা বা ইচ্ছা সরকারের ছিল, বাস্তবে নানাবিধ কারণে তা সেভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবুও সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইন প্রণয়ন ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আসিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে শুধুমাত্র ১০ বছর ধরে জয় বাংলা কিংবা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিলেই কেউ বিচারক হতে পারবেন না। বিচারক হওয়ার জন্য যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিই প্রধান বিবেচ্য হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে সেই সংস্কার উচ্চ আদালতের ভেতর থেকেই আসতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা করণীয়, তার সবই করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ড. আসিফ নজরুল বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ব্যাপকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যতটা পরামর্শ বা কনসালটেশন করেছেন, তা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশে পূর্ণাঙ্গ আইনের শাসন বা রুল অব ল প্রতিষ্ঠা করতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান সরকার সংস্কারের পথে যে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যদি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবেই জনগণ এই সংস্কারের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, পুলিশের লুট হওয়া কোনো অস্ত্র আসন্ন নির্বাচনকালে ব্যবহার হবে না। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো যাতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই অস্ত্রগুলো ব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্তপথে কিছু অস্ত্র আসার চেষ্টা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো উদ্ধার করছে এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি কোনো প্রার্থীর প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করাও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তারা যদি সঠিক পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন, তবে এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে গণ্য হবে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে জঙ্গি ও চরমপন্থি তৎপরতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং জঙ্গিবাদ এখন নেই বললেই চলে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি বিদেশে অবস্থান করছে। সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে।
সারদায় অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জনসহ বিভিন্ন ব্যাচের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তারা আজ থেকে বাস্তবিক কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।
প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য অনুষ্ঠানে সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। এবার বেস্ট প্রবেশনার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডে সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজে সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপে সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। নবীন এই কর্মকর্তারা এখন মাঠ পর্যায়ে ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় যোগ দেবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয় বরং তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। রবিবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে যদি কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি তথ্য প্রকাশ করেন।
মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষার বিষয়টি মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা আলোচিত দ্বীপ ভাসানচরের প্রশাসনিক সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হতে যাচ্ছে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দ্বীপটিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি টিমের পর্যালোচনায় ভাসানচরসহ মোট ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপ উপজেলার ভৌগোলিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই প্রতিবেদনের আলোকে এই মৌজাগুলোকে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, বিরোধপূর্ণ ছয়টি মৌজা—ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কাউয়ারচরের সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) এবং আরএস ম্যাপের পেন্টাগ্রাফ ও আর্কাইভ জিআইএস পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো মূলত সন্দ্বীপ উপজেলার অংশ। যদিও দিয়ারা জরিপে ভুলবশত এগুলোকে হাতিয়ার অংশ করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবিক পর্যালোচনায় তা সন্দ্বীপের সীমানায় পড়ে।
ভাসানচরের মালিকানা নিয়ে এই বিরোধের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ২০১০ সালে জেগে ওঠা এই দ্বীপটি ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্বীপটিকে তার নিজ জেলা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের দাবি ও ক্ষোভ থাকলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সন্দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষ দ্বীপটিকে নিজেদের মানচিত্রে ফিরে পেতে সরব হন।
জনগণের দাবির মুখে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সীমানা জটিলতা নিরসনে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির একাধিক সভার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই ভূমি মন্ত্রণালয় ভাসানচরকে সন্দ্বীপে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।