শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪ মাঘ ১৪৩২

আজ সারা দেশে কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৪ ১২:১৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের মারামারির পর আজ মঙ্গলবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে আন্দোলনকারীরা। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বাইরের সড়কে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা দেন।

কর্মসূচি ঘোষণা করে নাহিদ বলেন, আজকের (গতকাল) হামলা, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আমরা আগামীকাল সারা দেশে সকল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান থাকবে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে বড় ধরনের গণজমায়েত তৈরি করুন এবং বৃহত্তর গণআন্দোলনের দিকে আমাদের যেতে হবে।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নাই। এই আন্দোলন যখন সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করে, উস্কানি দিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে, সকল মানুষকে এই আন্দোলনে নেমে আসতে হবে। আগামীকাল (আজ) আমরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করব। এরপর আমরা সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করব।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে আসা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। যদিও ঘটনার সূত্রপাত বিজয় একাত্তর হলে, হল ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাবাত আল ইসলামের উপর হামলার মধ্য দিয়ে। এই ঘটনার পর থেকে শুরু হওয়া উভয় পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।


যমুনা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ দমনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন: ডিএমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেশ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে যমুনার দিকে যাওয়ার এই প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে এই অভিযানে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিছু অসাধু ব্যক্তি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।” পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান যে, দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডায় কান না দিয়ে এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে, বিক্ষোভকারীরা যমুনা ও সংলগ্ন নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সরকার দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, ‘এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।’

এই সংঘাতের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সরকার নিশ্চিত করেছে যে, আহতদের কারো শরীরেই আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত পাওয়া যায়নি। সরকার পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারে তারা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। এই লক্ষ্যে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার বিষয়টি বর্তমানে আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকার সবাইকে চরম ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ এবং বহু বিদেশি সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে দেশে অবস্থান করছেন। আসন্ন নির্বাচনকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।’ একটি উৎসবমুখর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের উসকানি বা বিচ্যুতি কাম্য নয় বলে সরকার মনে করে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় সব নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস পোষণ করে।


সুষ্ঠু নির্বাচন ও অপপ্রচার রোধে আনসার-ভিডিপির সমন্বিত প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ব্যাপক ও সুসংগঠিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে এখন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলায় বাহিনীর এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ায় সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও বাহিনীর সম্মান রক্ষায় সদস্যদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকা ও বাহিনীর পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে; পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের আমানত, জাতীয় পতাকা এবং বাহিনীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।”

নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক জানান যে, সততা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই হলো যেকোনো প্রোপাগান্ডার মোক্ষম জবাব। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, অতীতের অনিয়মকারী কুশীলবরা বর্তমানে তরুণদের স্বচ্ছ ডিজিটাল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে AVMIS ও STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় এবং আড়াই লক্ষ নবপ্রশিক্ষিত সদস্যের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। বিশেষ করে সদস্যদের ভাতা প্রদানে অটোমেশন ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের কল্যাণ ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণেও বাহিনী সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।”

সদস্যদের কল্যাণে আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে শক্তিশালী করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও সভায় আলোচনা করা হয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে জনআস্থা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় আনসার বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। মহাপরিচালক প্রত্যাশা করেন যে, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আগামীর গণতান্ত্রিক পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করবেন।


ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে। এ সময় উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সক্রিয়ভাবে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে কয়েক দফায় আলটিমেটাম প্রদান করেছিলেন এবং আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই কর্মসূচি ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে দেখা যায়।


ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘকে প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে (ওএইচসিএইচআর) প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল রয়েছে এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।”

প্রেস সচিব যখন এই ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনের সদস্যরা যমুনার দিকে অগ্রসর হয়ে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান। মূলত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এখন এই মামলার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।


অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার ৮ পুলিশ কর্মকর্তা বদলি

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন উপসচিব মাহবুবুর রহমান।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি এম এ জলিল এবং এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকীকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীর সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাবেদুর রহমানকে সিআইডিতে এবং একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম আশরাফুজ্জামানকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রাজশাহীতে সংযুক্ত রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসানকে রংপুরের পিটিসি-তে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহীর সারদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি এসপি) সাহেব আলী পাঠানকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূইয়ার অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটে (এটিইউ) পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির আগের আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।


স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে যমুনার সামনে ওসমান হাদির স্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিহতের স্ত্রী ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ডাকসুর সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে ফাতিমা তাসনিম জুমা গণমাধ্যমকে জানান, ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও শহিদের স্ত্রী।’ এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে ইনকিলাব মঞ্চ সবাইকে সহযোগিতা করলেও তাদের প্রয়োজনে অন্যদের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না।

কর্মসূচি চলাকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি আশ্বাস পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বিঘ্ন হতে পারে এই বিবেচনায় আমরা অল্প কয়েকজন মানুষ এসেছি। আমরা চাইলে আরও মানুষ আনতে পারতাম। প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। বিচারের পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’ তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ হাদি হত্যার ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এই কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে এই কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের পূর্বঘোষিত ১ ঘন্টা সময় শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতাকে যমুনার প্রবেশমুখগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মূলত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিতেই পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।


নির্বাচনী দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় আমানত: অনিয়ম প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর আনসার-ভিডিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সুসংগঠিত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সমাবেশে তিনি দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং সম্মিলিত শক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও আগ্রাসন প্রতিহত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, “মৌলিক প্রশিক্ষণের আলোকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনই একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রধান ভিত্তি।”

রাজশাহী, নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলায় সরাসরি সম্প্রচারিত এই সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যের সম্মিলিত প্রতিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, “বাহিনীর ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সচেতনতা আরও জোরদার করা। জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং; তবে সম্মিলিত প্রস্তুতি ও দায়িত্ববোধ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।” তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রস্তুতির মাধ্যমেই যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বাহিনী দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, “রাষ্ট্রসেবার মানসিকতায় গড়ে ওঠা এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের দিকে আজ সারা দেশের মানুষ প্রত্যাশাভরে তাকিয়ে আছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন। সেই স্বপ্নের গর্বিত বাহক হিসেবে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বাহিনীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।” তিনি সদস্যদের ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদির সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত পোশাক-পরিচ্ছদ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানান যাতে বাহিনীর জনআস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যে, অপশক্তির প্রভাবমুক্ত থেকে জাতিকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া একটি পবিত্র আমানত। জন্মভূমির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অতীতের মতোই অটল থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী ও গণতন্ত্রবান্ধব নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত আরও মজবুত হবে—এটিই বাহিনীর মূল অঙ্গীকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মূলত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।


কাস্টমসের কমিশনারসহ ৩৮ কর্মকর্তার একযোগে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কাস্টমস প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়ে কমিশনারসহ ৩৮ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩ জন কমিশনার, ৪ জন যুগ্ম কমিশনার, ৫ জন অতিরিক্ত কমিশনার, ৮ জন উপ-কমিশনার এবং ১৮ জন সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এসব আদেশের একটি গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এবং অপর চারটি বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় এই কর্মকর্তাদের ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউজে এবং বিভাগীয় শহরগুলো থেকে ঢাকায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

বদলির তালিকায় থাকা তিন কমিশনার হলেন—আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান, চলতি দায়িত্বে থাকা মো. মাহাফুজুর রহমান ও মো. জাকিন হোসেন। যুগ্ম কমিশনারদের মধ্যে রয়েছেন মো. আল আমিন, সুমন দাস, মাজেদুল হক ও মহিবুর রহমান ভুঞা। অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে বদলি হয়েছেন কামনাশীষ, মোহাম্মদ সেলিম শেখ, রাকিবুল হাসান, মিনহাজ উদ্দিন ও আব্দুল রশিদ মিয়া। উপ-কমিশনার পদে রদবদল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, প্রভাত কুমার সিংহ, নুরুন নাহার লিলি, তানজিলা ইয়াসমিন, জোবায়দা খানম, রবীন্দ্র কুমার সিংহ, মো. মশউর রহমান ও আলী রেজা হায়দার।

এছাড়া সহকারী কমিশনার হিসেবে শুভ্র দেব মণ্ডল, অপূর্ব সাহা, আবদুস সাত্তার, ফয়ছাল আহম্মদ, মো. শওকত হোসেন, দীপু রাম রায়, সামিয়া নিশাত, মো. আইয়ুব, ফিরোজ হোসেন বিশ্বাস, আসিবুল হক, রেবেকা সুলতানা রীমা, আবু সালেহ আব্দুন নূর, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ সৌরভ, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. আবদুল্লাহ, একেএম জামিউল আলম, আব্দুস সালাম ও মোস্তফা কামালকে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রয়োজনে কাস্টমসের এই শীর্ষ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের একযোগে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হলো।


এলপি গ্যাসের ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত, কমবে দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এলপি গ্যাসের ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার যার ফলে বাজারে এলপি গ্যাসের দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সরকারের নতুন এই পদক্ষেপে এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান কর কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, ‘এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতি প্রদানপূর্বক এলপি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

এর ফলে এলপি গ্যাসের ওপরে যে করভার, এ করভার একটু হলেও কমবে এবং এর ফলে লোকাল মার্কেটে এলপি গ্যাসের দাম আরও কমে আসবে।’ মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনতেই সরকার এই শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা ভোক্তা পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


একুশে পদক ২০২৬ ঘোষণা: ববিতা, শফিক রেহমান ও মরণোত্তর আইয়ুব বাচ্চুসহ মনোনীত ১০ গুণী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ ২০২৬-এর জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি জনপ্রিয় ব্যান্ড দলকে এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পদকপ্রাপ্তদের এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

এবারের পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। সাংবাদিকতা বিভাগে পদক পাচ্ছেন প্রবীণ ও প্রথিতযশা সাংবাদিক শফিক রেহমান। দেশের সাংবাদিকতা জগতে তাঁর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় পথচলার মূল্যায়ন হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে দেশের সংগীত জগতের অন্যতম নক্ষত্র ও এলআরবি’র প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চুকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। গিটার জাদুকর হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যুপরবর্তী এই সম্মাননা তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি করেছে।

শিল্পকলার অন্যান্য শাখায় পদকজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন স্থাপত্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার যস। শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং চারুকলায় প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে। লোকজ সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকার জন্য ইসলাম উদ্দিন পালাকার এবং নৃত্যে অর্থি আহমেদ সরকারের এই উচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন।

এ বছরের একুশে পদকের তালিকায় একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন হলো প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড দলকে দলীয়ভাবে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান। দেশের জনপ্রিয় ও দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ সংগীত বিভাগে এই অনন্য সম্মাননা পেতে যাচ্ছে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ব্রিফিংয়ে জানান, সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গুণী ব্যক্তিদের কাজ পর্যালোচনা করে এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অসামান্য মেধা ও দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রাখায় এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের হাতে এই পদক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হবে। মূলত গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমেই দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে সরকার মনে করছে।


রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন চেয়ারম্যানের প্রতিবেদন পেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হকের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল। দেশের বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বেতন কাঠামোর আধুনিকায়নে এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারকালে বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন এবং জুডিসিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যৌক্তিক বেতন-ভাতা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কমিশনের সুপারিশগুলো শোনেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিচারকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি বেতন স্কেল নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা আলোচনা চলমান রয়েছে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে প্রস্তাবিত বা নির্ধারিত এই পে-স্কেল পরবর্তী সময়ে কোনো নির্বাচিত সরকার চাইলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবর্তন বা বাতিল করার এখতিয়ার রাখবে। তবে বিচারকদের জন্য বিশেষ এই পে-কমিশনের সুপারিশগুলো কার্যকর হলে তা বিচারিক কাজে আরও গতিশীলতা ও সততা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। সরকার এখন এই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


ভোটের দিন ও ছুটির সময় সচল থাকবে মেট্রোরেল: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটারদের যাতায়াত এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ ছুটির দিনগুলোতেও রাজধানীতে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সাধারণ ছুটি এবং এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও যাত্রীদের সুবিধার্থে মেট্রোরেল তার নিয়মিত সূচি অনুযায়ী চলবে। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাজধানীর যানজটমুক্ত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই পরিষেবাটি সচল রাখার মাধ্যমে মূলত ভোটারদের কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে ট্রেন চলাচল এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) একেএম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রেন অপারেশন, লাইন অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত সবার ছুটি বাতিল থাকবে। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্রেন চলাচলে কোনো অসুবিধা থাকবে না এবং যাত্রীরা নিয়মিত সময়সূচী অনুযায়ী যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে নিরাপত্তার খাতিরে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের দিন সাধারণ কর্মদিবসের মতোই মেট্রো ট্রেন চললেও যে সমস্ত স্টেশনের প্রবেশপথ বা গেট সরাসরি কোনো ভোটকেন্দ্রের একদম সন্নিকটে অবস্থিত, নিরাপত্তার স্বার্থে সেই নির্দিষ্ট গেটগুলো বন্ধ রাখা হতে পারে। তবে যাত্রীদের ওঠানামার জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনের অন্যান্য বিকল্প গেটগুলো যথারীতি উন্মুক্ত থাকবে। এর ফলে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি যাত্রী সাধারণের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ডিএমটিসিএল।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সারা দেশে সব ধরনের যান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়কপথে সাধারণ যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মেট্রোরেল সচল থাকার সিদ্ধান্তটি রাজধানীর ভোটার ও নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের আয়োজন সম্পন্ন করতেই সরকার এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


banner close