বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে মেনে নেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৪ ১৮:৪৭

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর আন্দোলন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে প্রেসক্লাবে প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আলোচনা শেষে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে আদালতে যেতে পারতেন। তাদের সব ধরনের আলোচনার সুযোগ ছিল।

তিনি বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার থাকে না। সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বলেও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শেখ হাসিনার সরকার আদর্শচ্যুত হবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ অসম্মান করলে মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন এবং জননেত্রীর কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে ‘বিচারহীনতায় বাংলাদেশ: বেআইনি আইন ইনডেমনিটি ও কারারুদ্ধ জননেত্রী’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড বিশ্বজিৎ চন্দ।

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী, বঙ্গবন্ধু গবেষক মো. আফিজুর রহমান ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন তাবিয়া রহমান তাসনিয়া।


৯৮ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ, সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থিদের

ফাইল ছবি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
আপডেটেড ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কমিটিগুলো থেকে আওয়ামীপন্থিদের সরিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিগুলোতে তিনজন করে গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে রাখতে বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন হবেন নারী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে।

চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। অধিকাংশ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছে। আবার কিছু কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই চিঠির ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি কমিটিতে তাদের মনোভাবের ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর অনেকে আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে গেছেন। কমিটির সভায় তারা থাকতে পারছেন না। আবার কোথাও কোথাও কমিটির বৈঠতে তাদের ডাকা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব কারণে পুরোনো কমিটি বহাল রেখে সরকারি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কাজেই নতুন বাস্তবতায় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এসব কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের মনোভাবের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মেলে না। তাদেরকেও এখন এসব কমিটি থেকে সরানো হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তাতে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এসব কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটাই হয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন টানা ক্ষমতায় ছিল। তাই বিভিন্ন কমিটি অনেক দিন পুনর্গঠন করা হয়নি। আগের সরকারের প্রতিনিধিরাও রয়ে গেছেন। এখন সেসব কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন করে গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এ তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করার কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

আগের সরকারের আমলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধির বাইরেও পাঁচজন সদস্য রাখা হতো। তাদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং বাকি তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রেখে কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ৯৮টি কমিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরা। এসব কমিটিও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্‌যাপন কমিটি, আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ–সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন ডিসিরা।

জেলা প্রশাসকেরা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি, ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি। জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও ডিসিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন এসব কমিটি পুনর্গঠনে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এমন অনেক কমিটি আছে, দীর্ঘদিন সভা অনুষ্ঠিত হয় না। দ্বিতীয়ত, অনেক কমিটি আছে, যেখানে আওয়ামীপন্থিরা রয়ে গেছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।


রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।

সহকারী প্রেস সচিব বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার আশপাশের উপশহর এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ ও শক্তিশালী করতে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য এলাকা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও সহনশীলতা বাড়ানো হবে।

‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ বা বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (বিআরইবি) সহায়তা করবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরাঞ্চলে সেবা দেওয়া ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে।

এডিবির সহায়তায় পরিচালিত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন সমস্যা যেমন- ওভারলোড হওয়া সাবস্টেশন, পুরোনো অবকাঠামো, সিস্টেম লস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করবে।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, সহনশীল ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি হয়ে ওঠার ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও বর্ধিত সহনশীলতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রকল্প ঢাকার চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী করে তুলতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষ যেন তাদের প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২টি সাবস্টেশনে ১,১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার যুক্ত করা হবে এবং বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে। এছাড়া ২,৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড বিতরণ লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে এবং নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।

সিস্টেম অপারেশন আধুনিকীকরণে নদী পারাপারের ট্রান্সমিশন স্ট্রাকচার ও সুইচিং স্টেশন তৈরি করা হবে এবং দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ ও পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ‘ফল্ট লোকেটর সেট’ স্থাপন করা হবে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, যা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রকল্পটি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সহায়তা করবে।

এই প্রকল্পের জন্য এডিবির বিশেষ ‘রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং’ বা দুর্যোগ-সহনশীলতা বিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪৬.৫২ মিলিয়ন ডলার। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব ‘গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার’ প্রযুক্তির মতো অভিযোজন-সহায়ক ব্যবস্থার জন্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি অপচয় হ্রাসের মাধ্যমে বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রায় ২,০৩,৭৫১ টন (কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমতুল্য) কমাতে সহায়তা করবে।

প্রকল্পটি ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিআরইবি ও পিবিএস -গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পিবিএস-গুলোর আর্থিক স্থায়িত্ব জোরদার করার মাধ্যমে এটি বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রকল্পটি নারী ও মেয়েদের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল বিভিন্ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের উন্নয়ন।

এডিবির এই সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবি ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলার সহ-অর্থায়ন করবে। এছাড়া এডিবির পরিচালিত ‘রিপাবলিক অব কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে পাওয়া ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থায়িত্ব পরিকল্পনা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।


পোশাক খাতের সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিল্প মালিকদের সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সঙ্গে যুক্ত সবাই যেন সমানভাবে উপকৃত হতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে সরকার ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। বিকাশমান অর্থনীতিতে শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিনিয়োগ ও শিল্পের বিকাশে অর্থায়নের সুযোগ সহজ করা জরুরি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি শিল্প মালিকদের সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দেশের অর্থনীতির গতি সচল রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নিটওয়্যার শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের ধন্যবাদ জানান।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সমস্যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংসদে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিকেএমইএর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


দফায় দফায় নোটিশ দিয়েও সংসদে সংকট নিয়ে আলোচনার সুযোগ মেলেনি: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের মানুষ নানা সংকটে থাকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল সংসদে একাধিক নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু এসব নোটিশ আলোচনায় আনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গোটা সমাজ একটা সংকটের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর আমরা সংসদ সদস্যরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াব—এটা প্রশ্নই ওঠে না।’ সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে জামায়াতে ইসলামী তার বিরোধিতা করবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রয়োজনেই সংসদে গেছেন, আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, তারা জাতীয় সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। সরকারি ও বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যের মধ্যে ‘সেবকের মানসিকতা’ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, বিরোধী দল সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় না। বরং জনগণের সমস্যা সংসদে তুলে ধরার সুযোগ না থাকলে তারা জনগণের কাছে যাওয়ার পথ বেছে নেবেন।

দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পমালিকেরা সংকটে পড়বেন এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। এর প্রভাব শুধু শ্রমিকের ওপর নয়, পুরো পরিবারের ওপর পড়বে।

তিনি বলেন, একজন মানুষ বিপদে পড়লে তার সন্তানদের লেখাপড়া, খাবার ও চিকিৎসাসহ পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই জনগণের স্বার্থে সমস্যাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জামায়াতের সাম্প্রতিক লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান দাবি করেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। কর্মসূচি বানচাল করতে কেউ আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে থাকলে তার দায় তাদের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজের কর্মসূচি সফল করতে চাওয়া কোনো সংগঠন একই সময়ে কর্মসূচি বানচালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা কারা করেছে, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, এক লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়লে এর প্রভাব শুধু যানবাহনের মালিক বা চালকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত বাজারদরেও এর প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ওপর পড়ে।

গণমাধ্যমে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্য চাইলেন

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্যও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি এবং বিরোধী দলের চিন্তাভাবনা জানতে দেশ-বিদেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাশাপাশি বিরোধী দলের বক্তব্যও মানুষের শোনা প্রয়োজন।

গণমাধ্যমে বক্তব্যের অংশবিশেষ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কোনো অংশ প্রচার করলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সংবাদমাধ্যম কার্যকরভাবে কাজ করলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও জবাবদিহির মধ্যে থাকে। এ কারণে গণমাধ্যমকে দেশের স্বার্থে সত্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।


১৭তমে স্বামী, ১৮তমে স্ত্রী—বিজেএসে দুজনই তৃতীয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মালিক ফারিহা মেহনাজ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ১৮তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি মেধাক্রমে তৃতীয় হয়েছেন।

এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তার স্বামী আল জাদিদ ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় তৃতীয় হয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এবার ফারিহার সাফল্যে পরিবারে যুক্ত হলো নতুন আনন্দ।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ফল প্রকাশের পর ফারিহার সাফল্যের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তার স্বামী আল জাদিদ। স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার স্ত্রীকে সিভিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। মেধাক্রম ৩য় (আমার মতোই)।’

অন্যদিকে, মালিক ফারিহা মেহনাজ নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। সিভিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত। মেধাক্রম ৩য়। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা।’


বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাস-মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলাগুলোর—নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা—অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসনসংখ্যা কমিয়ে বাস বা মিনিবাসের আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অথবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির কাছ থেকে আনুপাতিক ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

তবে নতুন নির্ধারিত ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস বা মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

জনস্বার্থে নির্ধারিত এ ভাড়ার হার গত মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম, আমদানিতে কৌশল বদলাচ্ছে বাংলাদেশ

* মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয় * ৬.৯৫ লাখ টন অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি * চীন-ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি থেকে ক্রয় বাড়ছে * অপরিশোধিত তেলের নতুন উৎস খুঁজছে বিপিসি * যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নজর ঢাকার
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা ছয় সেশন কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। আগের দিনও ব্রেন্ট ১০০ ডলারের নিচে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশাকে দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক স্বস্তির মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরবরাহের ঝুঁকি কমাতে একদিকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করছে সরকার, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর অপরিশোধিত তেলের উৎসের বাইরে নতুন বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি জ্বালানি কেনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

চীন-ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬.৯৫ লাখ টন: সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর—এই চার মাসে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল রয়েছে। মূল বরাদ্দের তুলনায় অতিরিক্ত এই আমদানি বছরের শেষ চার মাসে সরবরাহের নিরাপত্তা ও মজুত বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেয়। জ্বালানি আসবে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বিএসপি থেকে।

তবে প্রকাশিত সরকারি সিদ্ধান্তে ৬ লাখ ৯৫ হাজার টনের পুরো পরিমাণকে দেশভিত্তিক বা কোম্পানিভিত্তিক আলাদা করে দেখানো হয়নি। ফলে চীন থেকে ঠিক কত টন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কত টন আসছে—এ তথ্য নিশ্চিতভাবে আলাদা করে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।

৫০:৫০ কাঠামোতে পরিবর্তন: বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ক্রয়পদ্ধতিতে। সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি ক্রয় (G2G) এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের ৫০:৫০ অনুপাত শিথিল করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি থেকে সরাসরি বেশি জ্বালানি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক দরপত্রে কয়েকটি কোম্পানির প্রস্তাবও তুলনামূলক বেশি দামের কারণে আটকে যায়। সেপ্টেম্বরে ট্রাফিগুরা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট এ-১ সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। ভিটল এশিয়া ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট এ-১ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। দুটি প্রস্তাবের মূল্য ছিল যথাক্রমে প্রায় ৪ হাজার ৮০৩ কোটি ও ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

এর আগে আরও কয়েকটি প্যাকেজের প্রস্তাবও অনুমোদন না দিয়ে কম প্রিমিয়াম ও ভালো দামে পুনরায় দরকষাকষির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্যাকেজে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার থেকে ৭ লাখ ৫ হাজার টন ডিজেল, ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ছিল।

আমদানির সময়ও কমেছে: সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু উৎস বা ক্রয়পদ্ধতি নয়, আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রস্তুতি ও জমা দেওয়ার সময় ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করার নীতিগত অনুমোদন দেয়। দ্রুত দরপত্র শেষ করে সরবরাহ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।

অর্থাৎ, আগের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির কৌশলে তিনটি পরিবর্তন স্পষ্ট—বিকল্প সরবরাহকারী, সরাসরি G2G ক্রয় এবং দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়া।

অপরিশোধিত তেলে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজছে বিপিসি: সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের জায়গা অপরিশোধিত তেল। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুরবান ক্রুড প্রক্রিয়াজাত করে। ফলে অপরিশোধিত তেলের উৎস পরিশোধিত জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার পর বিপিসি বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরীক্ষার পর নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার অপরিশোধিত তেল বিদ্যমান পরিশোধন ব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য বলে শনাক্ত হয়েছে। বিপিসি এসব দেশের সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

এখানে অবশ্য একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—এখন পর্যন্ত এসব দেশ থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং এগুলোকে সম্ভাব্য বিকল্প উৎস হিসেবে যাচাই ও আলোচনার পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়: বিকল্প উৎস খোঁজার পেছনে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারদর নয়, সরবরাহপথের নিরাপত্তাও বড় কারণ। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ‘এমটি নিনেমিয়া’ প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাব-এল-মান্দেব এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চট্টগ্রামে আসে। এতে সময় লাগে প্রায় ৫০ দিন এবং অতিরিক্ত ব্যয় হয় ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। স্বাভাবিক পথে সময় লাগত প্রায় ১৩-১৫ দিন।

এই অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের বার্ষিক পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা প্রায় ৭২ লাখ টন, আর ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে।

পরিশোধিত জ্বালানিতে উৎস আগে থেকেই বৈচিত্র্যময়: বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে পরিবর্তনটি পুরোপুরি নতুন নয়। পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশটি ইতিমধ্যে চীন, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও ওমানসহ বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করছে। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য ছয়টি রাষ্ট্রীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রায় ১৬ হাজার ৮৯ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। সরবরাহকারীদের মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের এনক, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল, থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি।

অর্থাৎ পরিবর্তনটি মূলত পরিশোধিত জ্বালানিতে নতুন দেশ যুক্ত করার চেয়ে G2G ক্রয়ের পরিমাণ, সরবরাহের গতি ও বিকল্প উৎস ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে।

দাম কমলেও দেশের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব নেই: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ২৩ সেপ্টেম্বর ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে গেলেও বাংলাদেশের খুচরা বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং ২১ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ১৩৫, অকটেন ১৬৫, পেট্রোল ১৬০ এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।

এর কারণ, বাংলাদেশের জ্বালানি মূল্যে শুধু আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম নয়—আমদানি ব্যয়, পরিবহন ও জাহাজভাড়া, পরিশোধিত পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য এবং আগের উচ্চমূল্যে করা ক্রয়ের প্রভাবও রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমার পরও স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়তে সময় লাগতে পারে।

সামনে বাংলাদেশের কৌশল: সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বর্তমান কৌশলকে তিনটি স্তরে দেখা যায়—মজুত বাড়ানো, সরবরাহের উৎস ও পথ বৈচিত্র্য করা এবং সরাসরি সরকারি পর্যায়ে দ্রুত জ্বালানি কেনা। এর সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার মতো উৎস যাচাই করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও বাজারের গতিপথ এখনো ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু দাম কমানোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সরবরাহ ঝুঁকি ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখা যায়।


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন।

বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করা, আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখা এবং মিয়ানমারের ওপর প্রত্যাবাসনের জন্য চাপ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন এবং তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।

এর আগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। তাই শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করছেন তিনি।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ে অশনিসংকেত এডিবির

* মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা * প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা * প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমছে * চাপ সৃষ্টি করছে জ্বালানিসংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একাধিক সংঘাতসহ নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি। সেইসঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে মূল্যস্ফীতি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও কিছুটা গতি পাবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ বা এশিয়ার উন্নয়নবিষয়ক পূর্বাভাসে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এডিবির হিসাবে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে, এই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছিল, যদিও এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে। এর ফলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

তবে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও ঝুঁকিমুক্ত পর্যায়ে নেই দেশের অর্থনীতি। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি এখনো বাহ্যিক অভিঘাত ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এই সংস্কারগুলো অপরিহার্য।

এডিবি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আনুমানিক ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সংস্থাটির মতে, জ্বালানিসংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুমানিক ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। জোরালো রেমিট্যান্স ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে; তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহ, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষিখাত প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ ঋণ গ্রহণের ব্যয়, ঋণ প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা এবং অন্যান্য কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত সীমিত পরিসরে থাকতে পারে। রেমিট্যান্স-নির্ভর বেসরকারি ভোগ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে থাকবে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বেশ কিছু ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে এডিবি। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকা এবং ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, উন্নয়ন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।


পরিবার পরিকল্পনায় নতুন গতি, এক বছরে ২৩ কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে গতি আনতে বছরব্যাপী ২৩টি কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান মানুষ এবং বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিও কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ‘মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এক বছরের এ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র‌্যালি ও সমন্বয় সভা ছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করা হবে। একই মাসে দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, ২০২২ সালে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার পর আবার তা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে অধিদপ্তরের যে অপারেশনাল পরিকল্পনা ছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে অধিদপ্তর।

তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

মহাপরিচালক বলেন, শুধু মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিলেই হবে না; সেই তথ্যকে মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, গবেষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগানো হবে।

নতুন কর্মপরিকল্পনায় নবদম্পতি ও পুরুষদের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি বস্তি, ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সেবা ও তথ্য পৌঁছে দিতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হবে।

মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করে গ্রুপ ওয়ার্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়, প্রচার কৌশল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা ও তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।

এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে এক বছরের কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী। সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এবং পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আমিনুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রায় ৫০ প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

নভেম্বর ২০২৬ থেকে অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত পরিকল্পিত এ ২৩ কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের বৈঠক

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক সুজম্যান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলে উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জনস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি, সাশ্রয়ী ভ্যাকসিন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষিত এসব স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বিত ‘ডিজিটাল পাবলিক হেলথ কেয়ার সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েও ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।

সূত্র: বাসস


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ইউএনজিএ সফরের কর্মসূচিতে বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়।

বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।

ইউএনজিএ অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বৈশ্বিক মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মতো বিষয় আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে এ ধরনের বৈঠককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রাতরাশ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেন। ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথে’ টেকসই সমাধানের আহ্বানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

নিউইয়র্ক সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কর্মসূচিতে রয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয় বাংলাদেশের অবস্থান থেকে গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ইউএনজিএর বিভিন্ন আলোচনায়ও এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও উঠে আসার কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টেও তিনি অংশ নেবেন।

ইউএনজিএর সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে মানবিক সংকট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।


banner close