শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
অ্যাটর্নি জেনারেল

কোটা নিয়ে আনা লিভ টু আপিলের আবেদন আগামী রোববার

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৪ ১৮:৫৪

কোটা নিয়ে আনা হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানির জন্য আগামী রোববার আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কোটা নিয়ে হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে আনা লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানি করতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা রোববার সকালেই বিষয়টি আপিল বিভাগে মেনশন করব। আশা করছি, জনগুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করবেন। শুনানিতে আমরা হাইকোর্ট রায় বাতিল চাইবো। কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে পৃথক লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীর পক্ষে আজ লিভ টু আপিল (আপিল দায়েরে আবেদন) করা হয়েছে।

দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। এতে হাইকোর্টের রায় বাতিল বা সংশোধন চাওয়া হয়েছে।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কোন সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে রাস্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করেছে। সর্বোচ্চ আদালত শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গত ১০ জুলাই আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেয়।

ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগ বিষয়টি নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন। অর্থাৎ, যেমন আছে, তেমন থাকবে। কোটা বাতিল-সংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্রের ভিত্তিতে যে সব সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে কোটা থাকছে না। আগামী ৭ আগষ্ট বিষয়টি শুনানির জন্য থাকবে।

সরকারি চাকরিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর আনা আবেদনের শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত ১০ জুলাই আদেশ দেয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে আহ্বান জানানো হয়।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে।

সেখানে বলা হয়েছিল, নবম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি ৫ ও প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট।

গত সোমবার হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়। এরপর সংক্ষুব্ধরা লিভ টু আপিল দায়েরের উদ্যোগ নেন।


হামের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

* নতুন ১২ শিশুসহ হামে মোট প্রাণ হারাল ৪৫১ জন * এন্টিবায়োটিক ও অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিতের তাগিদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়াবহ আকার ধারণ করেই যাচ্ছে হাম। টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পরও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না রোগটিকে। প্রতিদিনই প্রাণ যাচ্ছে একের পর এক কোমলমতি শিশু, খালি হচ্ছে মায়ের কোল। হামের রোগীদের ৫ থেকে ৮ শতাংশ আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়, যাদের ৮০ শতাংশের রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি। মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি এন্টিবায়োটিক ও অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আলোচনা সভায় এসব কথা জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

এদিকে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে (গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে প্রাণ হারাল আরও ১২ শিশুসহ মোট ৪৫১ জন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশজুড়ে চলছে হামের প্রকোপ। এতে ২ মাসে প্রাণ গেছে সাড়ে চারশ শিশুর। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬২ হাজার। শিশুদের সুরক্ষায় দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু হয়েছে গত ২০ এপ্রিল থেকে। তবে টিকাদানের পর শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে বিধায় দেশে হামের প্রকোপ এখনো কমেনি। এ পরিস্থিতিতে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনতে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন (বএলএফ)

এতে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুরা রাতকানা রোগ, নিউরোলজিক্যালসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।

শিশু বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রুহুল আমীন বলেন, (হাম) অতিমাত্রায় সংক্রমণযোগ্য রোগ, যা খুব দ্রুতমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে শতকরা ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠে। শিশুরা জাতির অনাগত ভবিষ্যৎ। প্রতিটি শিশু অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। যেকোনো শিশুর মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমাদের যত রকম সাপোর্ট বলেন সবই আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু অনেক সময় এই একটা জিনিস অ্যান্টিবায়োটিক, তারপর অক্সিজেন- এগুলো যদি আমরা সঠিক সময়ে দিতে পারি তাহলে কিন্তু অনেক কেস ভালো হয়ে যায়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, সেজন্য আমার যে মেসেজটা হলো, রোগী হাম কর্নারে আসলে ইনিশিয়াল স্ক্রিনিংয়ের পরে যে কনসার্ন মেডিকেল অফিসার উনি যদি একেবারে শুরুতেই হাম চিহ্নিত করে রেফারেল সেন্টারে পাঠিয়ে দেন তাহলে খুব দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। শুরুতেই যদি অ্যান্টিবায়োটিক এবং অক্সিজেনসহ অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রতি বছর ৫ বছরের নিচে মারা যাওয়া ২৪ হাজার শিশুর মধ্যে প্রতি ৪ জনের ১ জন নিউমোনিয়াজনিত কারণে মারা যায়। দেরিতে হাসপাতালে নেওয়া, বুকের দুধ কম পাওয়া, অপুষ্টিতে ভোগা, হামের ভ্যাকসিন না পাওয়া এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের আওতাধীন না থাকায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা আরও বলেন, বিভিন্ন এভিডেন্স বলছে, ৫ থেকে ৮ শতাংশ নিউমোনিয়া হয়। কিন্তু এই নিউমোনিয়ায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কিন্তু মৃত্যু হতে পারে। হামে মৃত্যুহার কমাতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গে ৮ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ৪ শিশু মারা গেছে। এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১১ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৪ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৭৭ শিশু।

একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৪১৬ শিশু। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশু।


পুরনো দায়ে চিড়েচ্যাপ্টা অর্থনীতি, ভারি হচ্ছে করের বোঝা

* ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা * প্রথম ছয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৬৫ হাজার কোটি * বাড়ছে ঋণের কিস্তির চাপ
আপডেটেড ১৬ মে, ২০২৬ ০০:১০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশি ও বিদেশি ঋণের এক নিদারুণ আবর্তে পড়ে হাঁসফাঁস করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের মোট ঋণের স্থিতি আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ওপরে। এই বিপুল ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল রাজস্ব ঘাটতি—চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই যা ৬৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রপ্তানি আয়েও নেই কোনো আশাবাজির আলো। একদিকে পুঞ্জীভূত ঋণের কিস্তি পরিশোধের রূঢ় বাস্তবতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের পিঠে চড়তে থাকা করের চাবুক—সব মিলিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে অর্থনীতি ঋণের ফাঁদে পড়ে যেন চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল আকৃতির বাজেট প্রণয়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। একদিকে ঋণের জোয়াল, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিক ও মধ্যবিত্তের ক্ষোভ প্রশমন- এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকবিলায় গলদঘর্ম প্রশাসন। ফলে রাজস্বের নতুন উৎস সন্ধানে কর কাঠামোতে আনা হচ্ছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

কর কাঠামোতে রূপান্তর: সাধারণের স্বস্তি বনাম বিলাসের মাশুলজাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক খসড়া পর্যালোচনা বৈঠক থেকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য বেশ কিছু যুগান্তকারী ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির তীব্র চাপের মধ্যেও মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে এই নীতিমালায়।

মধ্যবিত্তের পকেটে স্বস্তির হাওয়া মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়তে থাকা সাধারণ মানুষকে কিছুটা নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিতে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের উৎসাহিত করতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আবগারি শুল্ক না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো—চাল, ডাল, চিনি ও খেজুরসহ দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর বাড়ানো হচ্ছে না; তা আগের মতোই দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকছে।

বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় কঠোর নজরদারিবাজেট ঘাটতি মেটাতে ও সামাজিক সমতা ফেরাতে বিত্তশালীদের ওপর করের বোঝা আরও সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছর থেকেই দেশে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ হারে সম্পদ কর ব্যবস্থা চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তরুণ প্রজন্ম ও ডিজিটাল অর্থনীতির একটি বড় অংশকে করের আওতায় আনতে অনলাইন গেমিংয়ের ওপর ২৫ শতাংশ উৎসে কর বসানো হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসছে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবহারকারীদের ওপর।

পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকে উৎসাহিত করতে দামি বৈদ্যুতিক গাড়ি বাদে সব ধরনের সাধারণ বৈদ্যুতিক প্রাইভেট কারের কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ৩ হাজার ৫০০ সিসির বেশি বা সমমানের বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মধ্যবিত্তের ব্যবহার্য ১ হাজার ৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে এই কর ২৫ হাজার টাকাই থাকছে।

নতুন রাজস্বের খোঁজে ডিজিটাল ও অপ্রচলিত খাতরাজস্বের পরিধি বাড়াতে এবার কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বসানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি করের জাল সম্প্রসারণে এখন থেকে যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিআইএন। তবে এই প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে কোনো ভ্যাট কর্মকর্তার অনুমোদনের প্রয়োজন রাখা হয়নি; আবেদন করলেই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে বিআইএন। এছাড়া দেশের সড়ক ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে দাপিয়ে বেড়ানো মোটরবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশাকেও এবার নতুন ট্যাক্সের আওতায় আনার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

ঘাটতি বাজেটের সমীকরণ: ঋণ দিয়ে ঋণ শোধের বিপজ্জনক খেলা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বিশাল অংকের ঘাটতি রয়ে গেছে। এই বাজেটে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারো সেই চড়া সুদের দেশি-বিদেশি ঋণের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাটতি পূরণের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ও অ-ব্যাংকিং উৎস থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজস্ব আদায়ের চেনা স্থবিরতা ও সম্ভাব্য ঘাটতির শঙ্কা মাথায় রেখে বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার আগাম প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে।

ইতিহাসের দায় ও বর্তমানের ক্ষত : রকেট গতিতে বাড়ল ঋণ। এই অর্থনৈতিক চোরাবালির সূত্রপাত কিন্তু হঠাৎ করে হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত দেড় দশকের শাসন আমলে দেশের ঋণের গ্রাফ রকেট গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরে মেগা প্রকল্পের আড়ালে অপরিকল্পিত ব্যয় ও দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘ হতে হতে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুতির সময় সেই ঋণের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ১৯ লাখ কোটি টাকার পাহাড়সম ঘরে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও মাত্র এক অর্থবছরে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এই ঋণের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলছে—এই অর্থ কোনো নতুন আড়ম্বরপূর্ণ দৃশ্যমান উন্নয়নে খরচ হচ্ছে না, বরং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া গভীর ক্ষত ও বকেয়া সারাতে এই ঋণ নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশাল অঙ্কের আন্তর্জাতিক বকেয়া পরিশোধ এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের আশঙ্কাজনক পতন ঠেকাতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতো দাতা সংস্থা থেকে দ্রুত বাজেট সহায়তা নিতে হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘জনগণের জন্য সরকারের আসল ব্যয় করার ক্ষমতাই তো লোপ পেয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রতি বছর ঋণের কিস্তি আর সুদ শোধ করতেই যদি বাজেটের সিংহভাগ টাকা চলে যায়, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতগুলোতে সরকার বিনিয়োগ করবে কীভাবে? এই করের টাকা তো জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে লাগতে পারত।

২০২৯-৩০: অর্থনীতির সামনে অপেক্ষমাণ এক মহাক্রান্তিকাল: বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অশনি সংকেতটি লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক বছরের ঋণ পরিশোধের সূচিতে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অভ্যন্তরীণ তথ্য বিশ্লেষণ করলে গা শিউরে ওঠার মতো এক পরিসংখ্যান বেরিয়ে আসে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশকে মোট ২৫.৯৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে আসল হিসেবে যাবে ১৮.৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং কেবল সুদ বাবদ গুণতে হবে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসবে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে, যা হবে বাংলাদেশের ঋণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ চাপের বছর। শুধু ওই একটি বছরেই দেশকে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিগত সরকারের নেওয়া বড় বড় মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা ঋণের কিস্তি মওকুফের সময়সীমা আগামী বছরগুলোতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এখন থেকে আসল টাকা পরিশোধের মূল পর্ব শুরু হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই প্রকল্পগুলোর সিংহভাগই নির্ধারিত সময়ে শেষ হতে পারেনি এবং বিলম্বের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও এগুলো থেকে এখনো কোনো অর্থনৈতিক সুফল বা রিটার্ন আসা শুরু হয়নি। ফলে এই অনুৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পগুলো এখন জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক একটি শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। গ্লোবাল মার্কেটে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরেও বাংলাদেশকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০৯ কোটি ডলার ঋণ শোধ করতে হয়েছে, যা চলতি বছর ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের প্রেসক্রিপশন: কাঠামোগত সংস্কারই একমাত্র পরিত্রাণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে এক ধরণের কাঠামোগত পক্ষাঘাত তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট এনবিআরের আট মাসের হিসাবে। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার, ৮৬২ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি ঢাকতে সরকার যখনই ব্যাংকিং খাত থেকে দেদারসে টাকা ধার করছে, তখন বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ বা ক্রেডিট ফ্লো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হচ্ছে, কলকারখানার চাকা শ্লথ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান থমকে গিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।এই মহাসংকট থেকে উত্তরণের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা একযোগে আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

এনবিআরের সাবেক প্রধান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থনীতিতে টাকা নেই—এ কথা সত্য নয়। টাকা আছে, কিন্তু ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে না বা অনেকে দিচ্ছেন না। এই কর ফাঁকি ও খেলাপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরকারকে অত্যন্ত স্বচ্ছ, কঠোর ও নির্মম পদক্ষেপ নিতে হবে।

সিপিডির পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের কস্ট অব বরোয়িং বা অর্থ ধার করার খরচ বহুগুণ বেড়েছে। আগে আমরা যেসব সহজ শর্তে ও রেয়াতি সুদে ঋণ পেতাম, তা বন্ধ হয়ে এখন মিক্সড এপ্রোচ বা বাণিজ্যিক শর্তে কঠিন ঋণ নিতে হচ্ছে। যেসব প্রকল্প থেকে রিটার্ন আসবে না, সেখানে ঋণ নেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানের মূল এজেন্ডা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই দেউলিয়া হওয়ার বা ঋণ ফাঁদে পড়ার সীমানায় না যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারকে সমস্ত রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও রাজস্ব আদায়ের দিকেই পুরো শক্তি উজাড় করে দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, টুকরো টুকরো জোড়াতালি দিয়ে এই ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি বৃদ্ধি, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা—এই সবগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক চাপ কোথায় তা মূল্যায়ন করতে হবে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে শুধু টাকা নেওয়া নয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত ও কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।


হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৩০৩ জন রোগী। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত একদিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১৯২ জন এবং ল্যাবে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১১ জন। সব মিলিয়ে একদিনে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩০৩ জনে। গত দুই মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জনে পৌঁছেছে এবং এর মধ্যে সাত হাজার ৪১৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।

চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সংক্রমণের ভয়াবহতায় ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।


ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটেড ১৫ মে, ২০২৬ ১৫:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি এড়াতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি কিছু অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান সাধারণ প্লাস্টিক কার্ডকে আকর্ষণীয় মেটাল কার্ডে বদলে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে, যাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে এক বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকদের এই বিষয়ে সচেতন করা হয়। কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কার্ডের রূপ পরিবর্তন করা নিরাপত্তাগতভাবে চরম বিপদজনক হতে পারে।

সতর্কবার্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ‘কিছু অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের (থার্ড-পার্টি) প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ডেবিট ও ক্রেডিট প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভন দেখাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, সিভিভি (CVV)-সহ সংবেদনশীল তথ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’ যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা অনুমোদিত নয়, তাই এর মাধ্যমে কার্ডের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে জালিয়াতির আশঙ্কা প্রবল হয়। এছাড়া এতে অননুমোদিত লেনদেনের সম্ভাবনা বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সামগ্রিক কার্ড ব্যবস্থাপনাকেও সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সকলকে এই ধরনের ‘অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে কার্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রদানসহ প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করা থেকে সব গ্রাহককে বিরত থাকার অনুরোধ’ জানিয়েছে। যেকোনো কার্ড সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেও ব্যবহারকারীদের অসতর্কতার ফলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই ‘কোনো অবস্থাতেই ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (011) কিংবা কার্ডের কোনো তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার’ না করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কিছু পরিলক্ষিত হলে দেরি না করে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গ্রাহকদের বিশেষভাবে বলা হয়েছে।


ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: ৫ জনেরই মৃত্যু, নিভে গেল পুরো একটি পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে একে একে একই পরিবারের পাঁচজনই মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সর্বশেষ সদস্য মা সায়মা (৩২) মারা যাওয়ার মাধ্যমে একটি সাজানো সংসার পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেল। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা এই মর্মান্তিক পরিণতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

বিস্ফোরণের সেই ভয়াল ঘটনার পর গত সোমবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে এই ট্র্যাজেডি সম্পন্ন হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত সোমবার সকালে গৃহকর্তা মো. কালাম (৩৫) দগ্ধ হয়ে প্রথম প্রাণ হারান, যার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় সাত বছর বয়সী শিশু কথা এবং বৃহস্পতিবার সকালে মুন্না ও দুপুরে মুন্নি (১০) মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের প্রত্যেকের শরীরের শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হয়েছিল। সর্বশেষ আজ শুক্রবার সকালে মা সায়মার মৃত্যুতে পরিবারটি অভিভাবক ও সন্তানহীন হয়ে পড়ল।

উল্লেখ্য, গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাস ফ্ল্যাটের ভেতরে জমে ছিল, যা পরবর্তীতে কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরিত হয়। অবহেলা ও গ্যাস লিকেজের কারণে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।


ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার অবসরে, দায়িত্বে এস এন নজরুল ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার অবসরে গেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ডিএমপির নতুন ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এস এন নজরুল ইসলাম। চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান মো. সরওয়ার।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকার নতুন কোনো কমিশনার নিয়োগ দেয়নি। ফলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মো. সরওয়ার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার ছিল মো. সরওয়ারের চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এস এন নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, নতুন সরকার গঠনের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।


সিটি করপোরেশন হিসেবে বগুড়া অন্তর্ভুক্ত, গেজেট প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বগুড়া পৌরসভা এবং এর সংলগ্ন সম্প্রসারিত এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ইতোমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই নতুন সিটি করপোরেশনকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের প্রথম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর এক সভায় গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। নবগঠিত এই সিটি করপোরেশনের সীমানা উত্তর দিকে নিশিন্দারা, রাজাপুর (অংশ) ও শাখারিয়া ইউনিয়ন; দক্ষিণে আশেকপুর, মাদলা ও মাঝিড়া ইউনিয়ন; পূর্ব দিকে সাবগ্রাম, রাজাপুর ও মাদলা ইউনিয়ন এবং পশ্চিম দিকে ফাঁপোড় ও এরুলিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে জনমতামত যাচাইয়ের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসক নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে নতুন এই সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার স্বপক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেন। সরকার সেই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন পূরণের ফলে এলাকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ মে, ২০২৬ ১০:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি দপ্তরে (ডিওই) এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ রক্ষাকবচ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই এমওইউ দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখবে।
চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো তেল, গ্যাস, ভূ-তাপীয় শক্তি এবং জৈব জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় করা। এর আওতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথ গবেষণার নতুন নতুন পথ উন্মোচিত হবে। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই সমঝোতা স্মারককে “ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের আরেকটি মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করেন। এই বিশেষ উদ্যোগ সফল করতে দিকনির্দেশনা ও সমর্থনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে, মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই চুক্তিকে বাংলাদেশ-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং এবং মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা বাংলাদেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


হাত বাড়ালেই মাদক, বাড়ছে নৃশংস অপরাধ

* নেশায় ও কারবারে জড়িত কিশোর-তরুণরা, বাড়ছে কিশোর গাংয়ের দৌরাত্ম্য * আসক্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম * এলাকার বড়ভাই, একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এই সব কিশোর গ্যাংদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
আপডেটেড ১৫ মে, ২০২৬ ১৮:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় হাত বাড়ালেই মাদক। যেমন- মদ, গাঁজা, ইয়াবা, আইস, হিরোইনসহ নানা নেশাদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে হাত বাড়ালেই। এসব মাদকের কারবার ঘিরে দেশে গড়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের মূলে রয়েছে এসব মাদক। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোররা মাদকের ছোবলে পড়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।

সারাদেশে মাদক কারবারের ফলে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন গড়ে দেশে ১০-১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুনের সংখ্যা প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। এসব নৃশংস খুনের সঙ্গে মাদক জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। দেশে ব্যাপকহারে আসছে মাদক এবং একইভাবে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তদের মধ্যে কিশোর-তরুণদের সংখ্যা বেশি।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের সংখ্যাই সর্বাধিক। তারা ইয়াবা ও গাজায় আসক্ত। রাজধানীসহ দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লায় ও গ্রামে গ্রামে কিশোর গ্যাং তৈরির মূলেও এই মাদক। নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে মাদকই অন্যতম কারণ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ও রায়েরবাজার বধ্যভূমি এবং কবরস্থানের আশপাশে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং রয়েছে। রামদা, চাপাতি, ছুরি, নানা ধরনের অস্ত্র তাদের সঙ্গে থাকে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, পুরান ঢাকাসহ রাজধানী জুড়ে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে লোকজনকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে তারা। অনেক সময় দেহ থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এমন নির্মম, নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা করে আসছে।

এছাড়া খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে কিশোর গ্যাং। ভাড়ায় খুন, দখলবাজি ও এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ সকল অপরাধ করে আসছে। রাজধানীসহ দেশব্যাপী একটি আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং। এলাকার বড়ভাই, একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা, ভূমিদস্যুসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এই সব কিশোর গ্যাংদের তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মাদক হলো কিশোর গ্যাং, পেশাদার কিলারসহ নিষ্ঠুর অপরাধী হওয়ার অন্যতম কারণ। কিশোর বয়সে যাদের থাকার কথা স্কুলে-কলেজে, যাদের হাতে থাকার কথা বই, তাদের বৃহৎ অংশ এখন মাদক বেচাকেনা ও ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের পাড়া-মহল্লা ও এলাকাভিত্তিক তৎপরতা বেড়েই চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশব্যাপী মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করতে। পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর গ্যাং সদস্যসহ সকল ধরনের অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় রাজধানী ও ঢাকার বাইরে সকল মেট্রোপলিটন এবং সকল জেলার থানা এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী দৃশ্যমান ফলাফল ততটা দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর (তেজগাঁও) বিভাগসহ কিছু এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক কিশোর, তরুণ গ্রেপ্তার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। তবে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, নীরব চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ কমেনি। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কিশোর গ্যাংকে মাদক ব্যবসা, মার্কেটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও জমি দখলে একশ্রেণির ‘বড়ভাই’ ব্যবহার করে আসছে। কিশোর গ্যাং সদস্যসহ অপরাধীদের অনেকে ধরা পড়লেও ‘বড় ভাইদের’ সহযোগিতায় তারা সহজে বের হয়ে আসে এবং পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন-খারাবি শুরু করে দেয়।

পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আইজিজ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র-মাদক উদ্ধারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক আমাদের যুব সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আমরা আশাতিরিক্ত ফল পেয়েছি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে মাদক কারবারিদের অনেকেই আইনের আওতায় এসেছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী র‍্যাবের অভিযান চলমান। অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে, খুনিরাও গ্রেপ্তার হচ্ছে। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ মাদকের চালান আসা বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে না, মাদকাসক্তও কমবে না এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বন্ধ হবে না।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ সকল ধরনের মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে, শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষে সীমিত জনবল দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সব রাজনৈতিক দল, সমাজ ও অভিভাবকদের মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সিংগাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রি ও ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর সব আইন রয়েছে। এ আইন প্রয়োগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সব দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. নূরুল হুদা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে রাজধানী থেকে শুরু করে মাঠ পর্যন্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করা ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের মাদক যেন প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, তার চেম্বারে আসা রোগীদের মধ্যে মাদকাসক্ত কিশোর ও তরুণদের সংখ্যা সর্বাধিক। তারা ফ্রি মাদক পায় এবং সেবন করে। চিকিৎসায় এই আসক্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। নিয়মিত ইয়াবা খেয়ে এই তরুণরা চরম নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কোন আবেগ কাজ করে না। তারা আচরণ রূঢ় হয়ে যায়। তাদের পক্ষে খুনসহ সব ধরনের অপরাধই করা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমাজে মাদকের যত বেশি সহজলভ্যতা থাকবে, মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যাও তত বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে অপরাধ প্রবণতা।


তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে সন্দেহ তৈরি হয়: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে অযথা সন্দেহ তৈরি হয়। তাই মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।’ সরকার ও রাষ্ট্রকে এক করে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কল্যাণে জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেছেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সংবিধান, আইন ও বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা সব আইন ও বিধির মূল ভিত্তি। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে সেই আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে থাকা সক্ষমতাকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত করতে পারলে প্রশাসনের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী কর্মকর্তাদের মুক্তভাবে মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক দূরত্ব কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। সভায় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দেশে ভোটার এখন ১২ কোটি ৮৩ লাখ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয় উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম জানান, এখন দেশের ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন; নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৪৩ জন।

১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। দেড় মাসের মধ্যে ৬ লাখ ২৮ হাজার ভোটার বাড়ল।

সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে হালনাগাদে নভেম্বর পর্যন্ত যারা ভোটারযোগ্য ছিল তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভোটের পরে চলমান হালনাগাদ অব্যাহত থাকে।

৩১ মার্চ পর্যন্ত যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা ১৪ মে প্রকাশের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বরের পরে যারা ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন এবং যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তারাই তালিকায় যুক্ত হন।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০ এপ্রিল। ভুল সংশোধন বা স্থানান্তরের আবেদন চলে ৩ মে পর্যন্ত। আবেদন নিষ্পত্তির সময় শেষ হয় ৬ মে।


ওমানে চট্টগ্রামের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত বুধবার (১৩ মে) ওমানের মুলাদ্দা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা আবদুল মজিদের ছেলে এবং চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওমান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।


ঢাকার শিশুরা দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে, ঘুম কমছে: আইসিডিডিআর,বি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বড় অংশ দিনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন সময়ের জন্য তাদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পেয়েছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষকরা।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ শিশুর ওপর চালানো এই গবেষণার ফলাফল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

সেখানে বলা হয়, তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিশুদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছিল। গবেষণার ফল সম্প্রতি জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ, জেএমআইআর হিউম্যান ফ্যাক্টরসে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে। শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা। অথচ ঢাকায় শিশুরা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে দিনে গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছে।

গবেষকরা শিশুদের সাক্ষাৎকার, শারীরিক পরীক্ষা, ঘুম, আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্য যাচাইয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশ্নপত্র ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ছিল ‘পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স’, ‘স্ট্রেংদস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিস কোয়েশ্চেনেয়ার’ এবং ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অ্যাসেসমেন্ট’।

গবেষণায় দেখা যায়, বেশিক্ষণ স্ক্রিনে থাকা এক তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে। ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথাব্যথার কথা বলেছে।

যারা দিনে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন থাকে, তারা গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমায়। অথচ ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের সুস্থ বিকাশে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার প্রায় ১৪ শতাংশ শিশুর অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পাওয়া গেছে, এ হার সবচেয়ে বেশি স্ক্রিনে বেশিক্ষণ সময় কাটানোদের মধ্যে।

একইভাবে প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতি চঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যার মতো এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, রাতে স্ক্রিনে সময় কাটানো মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম কমে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত স্ক্রিন সময় চোখের ওপর চাপ, মাথাব্যথা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট শাহরিয়া হাফিজ বলেন, ‘বাবা-মায়ের উচিত শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা বা চোখের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজ বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, বাইরে খেলাধুলার প্রতি অনীহা অথবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মত লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা না করা। কারণ এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে; যা তাদের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’

শিশুদের চোখের যত্নে গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মানার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে।

গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়, বরং বাড়ি ও স্কুলে শিশুদের স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সহজ নির্দেশিকা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের সুস্থতার জন্য সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে ২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য বাইরের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিজিটাল ডিভাইসমুক্ত পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করা। শিশুদের বিতর্ক, দলবদ্ধভাবে পড়াশোনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া এবং গাছের যত্ন নেওয়ার মত ভালো ও সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।


banner close