বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
২৫ চৈত্র ১৪৩২

সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৪ ১৯:৫৩

ব্লু ইকোনমিকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সিফুড শো-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় মাছের রপ্তানি বাড়াতে মাছ সংগ্রহ, বিতরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে যথাযথ মান বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিনিয়োগকারী তাদেরকেও আমরা আহবান জানাব, কারণ আমাদের যে সমুদ্র সম্পদকে ব্যবহার করে আমাদের ব্লু ইকোনমিকে আরও সমৃদ্ধশালী আমরা করতে পারব। সিউইড, শামুক, ঝিনুক, মুক্তা প্রভৃতি আহরণ এবং সমুদ্রের পানি থেকে লবন উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের পানি থেকে বিদ্যুৎ হাইড্রো-ইলেকট্রিসিটি উৎপাদনেও গবেষণা চলছে। ইনশাল্লাহ আমরা সেটাও করতে পারব।

সরকারপ্রধান বলেন, সেক্ষেত্রে আমি আশা করি যারা বিনিয়োগকারী, যারা বাংলাদেশে এসেছেন বা যারা আমাদের দেশি বিনিয়োগকারী, আপনারা যৌথভাবে এই বিনিয়োগের ক্ষেত্র আবিস্কার করে এখানে আরও বিনিয়োগ করতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিডা একটা বিরাট ভূমিকা রাখে। আপনারা তাদের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেতে পারেন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অনেক বেশি সুবিধা দিয়ে থাকি। সেখানে যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারেন। তার যে লভ্যাংশ সেটা খুব সহজেই তারা নিয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি ব্যাংকের লেনদেনটাও আমরা অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছি। সেখানে আপনি অর্থ জমা করে প্রয়োজনে সেটাও নিয়ে যেতে পারেন।

অফশোর অ্যাকাউন্ট খোলারও সুযোগ আছে। সেই সুবিধাও সরকার করে দিয়েছে। সেখানে উচ্চহারে সুদও পেতে পারেন। আবার এখানে বিনিয়োগও করতে পারেন। কাজেই আমি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সবাইকে আহবান করব আপনারা আসেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন। এই সম্পদ আমাদের আরও কাজে লাগান। এটাকে যাতে আমরা আরও বেশি কাজে লাগাতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকের এই অ্যাকুয়া কালচার ও ‍সিফুড শো নীতি নির্ধারক, রপ্তানিকারক, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারষ্পরিক ব্যবসায়ী সংলাপ এবং নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার একটি প্রাণবন্ত প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। যা পারষ্পরিক বোঝাপড়া, অংশীদারিত্ব, জ্ঞান প্রভৃতি আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখবে বলেই আমি মনেকরি এবং আশা করি আমাদের যুব সমাজও আরও বেশি এগিয়ে আসবে।

প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাছ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে আমাদের যুব সমাজ যতবেশি যুক্ত হবে ততই এই খাতটি আরও এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানেরও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অ্যাকুয়াকালচার ও সিফুড রপ্তানির সম্ভাবনার আলোকে একটি প্রামান্য চিত্রও প্রদর্শিত হয়। মৎসও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শ ম রেজাউল করিম ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মাহমুদ বেলাল হায়দার স্বাগত বক্তৃতা করেন। জার্মান ভিত্তিক প্লানকোয়াডর‌্যাট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্টিন গেসকেস এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

আলোচনা পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘অ্যাকুয়া কালচার ও সিফুড শো’ এর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ১৭জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ঢাকার বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সিফুড শো শুরু হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে অ্যাকুয়াকালচার ও সিফুড সম্পর্কিত বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হবে যেখানে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। এই আয়োজনে ১২টি দেশের ৫৪ টি স্টল রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), মৎস্য অধিদপ্তর, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সীফুড শো-২০২৪’ এর আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন সহযোগিতা করছে।


আজ দিল্লিতে বৈঠকে বসছেন খলিলুর-জয়শঙ্কর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এ বৈঠক শুরুর কথা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ থাক‌বেন।

বৈঠকে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে আলোচনার টেবিলে থাকবে ব্যাবসা-বাণিজ্য, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু, জ্বালানি নিরাপত্তা, গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা চালু করা, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকারীদের দেশে প্রত্যর্পণ, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশটিতে পলাতক মানবতাবিরোধী অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফেরানো, শীর্ষ নেতাদের সফর বিনিময়সহ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন।

এ ছাড়া, আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এদিন, বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি-এর স‌ঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ কর‌বেন।

মূলত, ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লি গে‌ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলা‌দেশ সরকার তার এই সফর‌কে শু‌ভেচ্ছা সফর হি‌সে‌বে আখ্যায়িত ক‌রে‌ছেন। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী দিল্লি সফরে গে‌লেন।

দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিল্লি থেকে মরিশাসগামী একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে একই সঙ্গে যাত্রা করার কথা। ওইদিন সকাল ৮টার এয়ার মরিশাসের সেই ফ্লাইটে সাত থেকে আট ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রাকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দুই দেশের মন্ত্রী একান্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এ কারণে দিল্লির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে মরিশাসেও দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তাদের মধ্যে এটি ছিল সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ।


কয়লা সংকটে দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধের পথে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়লার অভাবে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশের আরেক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ি কয়লা সংকটে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ারপ্ল্যান্ট পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

প্রসঙ্গত, সরকার জ্বালানি সংকট কাটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর জোর দিচ্ছে। এ অবস্থায় রামপাল, পায়রাসহ অন্য কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি ভালো হলেও এই দুই বড় কেন্দ্র উৎপাদন করতে না পারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজারের এই সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও আজকে দেখা গেছে তারা ৩১৫ মেগাওয়াটে উৎপাদন সীমিত রেখেছে। গত কয়েক দিন ধরে তারা উৎপাদন সীমিত করেছে।

অপরদিকে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক কে. এম. নঈম খান বলেন, “কয়লার সংকটের কারণেই তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। তবে কত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি।”

আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, কয়লার দরপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত নভেম্বর থেকে তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যায়। তবে জটিলতা কেটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কেন্দ্রটি ফের চালু হতে পারে।”

প্রসঙ্গত, নভেম্বরে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও গ্রীষ্ম আসায় তা বেড়েছে। তখন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোনও জটিলতা সৃষ্টি না হলেও এখন কেন্দ্রটি চালু হলে গ্রাহক স্বস্তি পেতো।

তবে এই দুই ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একই সময়ে একই দেশের কোনও কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি একই উৎস থেকে কয়লা আমদানি করে চলতে পারে, তাহলে তারা কেন পারছে না—এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

সাধারণত বাংলাদেশে বেশিরভাগ কয়লা আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কয়লারও বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে ইন্দোনেশিয়া তাদের কয়লা রফতানি না বন্ধ করলেও সীমিত করেছে। দেশটি আগে নিজেদের চাহিদা পূরণের পর বাইরে বিক্রি করছে এবং স্পট মার্কেটে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে যাদের কয়লা আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নেই, তারা বিপাকে পড়েছে। এতে পটুয়াখালীর তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটিও জটিলতায় পড়েছে। যেহেতু স্পট মার্কেট থেকে কয়লা কেনা বন্ধ এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও নেই, তাই তারা প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, এই পরিস্থিতি তৈরি হবে—এটা আগাম ধারণা করা হয়েছিল। যারা পরিস্থিতি অনুধাবন করে অগ্রিম ব্যবস্থা নিয়েছে, তারা সংকটে পড়েনি। আমরা সংকটে পড়েছি মানেই আমাদের কোনও না কোনও ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের আরেকজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, তারা কয়লার সংকটে রয়েছেন। প্রতিদিন কেন্দ্রটি চালাতে কমপক্ষে সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাদের কাছে ফুল লোডে কেন্দ্র পরিচালনার মতো কয়লার সংকট রয়েছে। কেন্দ্রটি গত ৫ এপ্রিলও সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আরেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ব্যতিক্রম নেই দেশের অন্য বড় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রেও—রামপাল ১৩২০ মেগাওয়াট, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট, পটুয়াখালী ৩৪০ মেগাওয়াট।

যদিও ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে আদানি উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। তারা একটি ইউনিটের কারিগরি ত্রুটির কথা জানিয়েছে। অন্য ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকা ছাড়া সব জায়গা থেকে লোডশেডিংয়ের খবর আসছে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে লোডশেডিং আরও বাড়বে। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জটিলতা নিরসন সম্ভব না হলে ভুগতে হবে গ্রাহককে।


বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে মালয়েশিয়ায় মন্ত্রী-উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে শুরু হওয়া মন্ত্রী পর্যায়ের এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার দ্রুত চালু করাই এবারের সফরের মূল লক্ষ্য। শ্রমবাজার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালু হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর।

কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে গুরুত্ব পাবে।

এর আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে।

মাহাদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন রোধ এবং বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই স্থবিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দাতো আমিন নুরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠে, যারা কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করেছিল।

যদিও মালয়েশিয়া সরকার ১৪টি সোর্স দেশ থেকে কোনো সিন্ডিকেট ছাড়াই শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগও সম্পন্ন করেছে।

জনশক্তি রফতানিকারকদের আশঙ্কা, নতুন করে শ্রমবাজার চালু হলে পুরোনো চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি এ ক্ষেত্রে আরও প্রায় ৪০০ নতুন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যে প্রক্রিয়াতেই শ্রমবাজার খোলা হোক না কেন, সরকারের কঠোর মনিটরিং না থাকলে একজন কর্মীর বিদেশযাত্রায় ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে একজন শ্রমিকের আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে।


অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতিতে শিশুরা মৃত্যুঝুঁকিতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় গাফিলতির কারণেই শিশুদের মৃত্যু বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনার যে গাফিলতিটি হয়, সেই গাফিলতির কারণেই ওই সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুরা আজ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে। অর্থাৎ এটি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে যিনি নির্বাহী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তার অদূরদর্শিতা, অবহেলা অথবা অক্ষমতা।

ডা. লেলিন চৌধুরী আরো বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের দেশে কমবেশি ৩০ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরে-আগে এদের প্রায় ৯৮ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা হতো। কিন্তু তিনি আরো বলেন, পুরো বিষয়টির একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার এবং কেন এটি ঘটল সেই দায়ী ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।


১৮ এপ্রিল শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, পবিত্র হজ পালনে খরচ কমাতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না। জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সৌদি সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদার ভিত্তিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শী পদক্ষেপে বিঘ্নিত টিকা কর্মসূচি

ডা. মুশতাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতের সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের সিস্টেমে একটা পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগটি ভালো, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই। তাদের এমন অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে টিকা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতে অবধারিতভাবে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে হামের মহামারি চলছে। মহামারি বললে সরকার ভয় পায়। অন্তর্বর্তী সরকারও একই কাজ করেছে। মহামারির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো রোগের বিস্তার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, এবং দেশের স্বাস্থ্য এটা সামাল দিতে না পারে, তখন এটাকেই মহামারি বলা হয়। সরকার রোগটির বিস্তারের তথ্য আগে জানলেও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হবে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি নীতি ও কৌশল এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। কমিশন পুনর্গঠিত হলে এসব কাজ তাদের মাধ্যমেই শুরু হবে। দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কিনা- সেটিও দেখা হবে।

অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং এ যান নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়; সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।

তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান সড়কেও চলাচল করছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।

ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে; তবে পুনর্গঠনের কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করলেও সরকার বলছে, ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ বড় পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত ঠিক করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি—যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে না—তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।


গুম অধ্যাদেশ অপ্রয়োজনীয় ছিল, ট্রাইব্যুনালের আইনেই বিচার সম্ভব

আপডেটেড ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট সংসদে পাস হয়েছে। গুমের অংশটা ট্রাইব্যুনালের আইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আমি শুকরিয়া জানাচ্ছি। গুম অধ্যাদেশ একটা অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল, ট্রাইব্যুনালের আইনেই গুমের বিচার সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশ যদি বাতিল হয়ে থাকে এবং এটাকে যদি আমাদের এই ট্রাইব্যুনালে অ্যাক্টের সঙ্গে যদি ট্যাগ করে দেয়া হয়, তাহলে আমি এটা আইনমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ এই গুম অধ্যাদেশটা একটা অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশের আওতাধীন যে অপরাধটা ছিল, সেটা ইতোমধ্যেই আমাদের আইনে সেটা সংবিধিবদ্ধ ছিল। আমাদের আইনে যে গুমের অভিযোগ বিচারের এখতিয়ার ছিলো, সেখানে আবার আরেকটা আইন করে, আরেকটা ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে আমার কাছে মনেই হয়নি। সেই কারণে অন্ততপক্ষে ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, এই গুম অধ্যাদেশ যেটা করা হয়েছিল এটা অপ্রয়োজনীয়। এখন ট্রাইব্যুনালের অ্যাক্টের সঙ্গে একীভূত হওয়াটাকে একটা ভালো কাজ হয়েছে এবং এটা সঠিক হয়েছে, যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মায়ের ডাকের দাবি হচ্ছে তারা গুমের ১০১টা অভিযোগ প্রসিকিউশনে দাখিল করেছে, কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৭১টা অবেদন পেয়েছি। ১০১টা অ্যাপ্লিকেশন মানে কমপক্ষে ১০১টা ভিকটিম। খুব সঙ্গত কারণেই এত বৃহৎ সংখ্যক ভিকটিমদের ইনভেস্টিগেশন একটা সময় সাপেক্ষ।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন এই প্রসিকিউশনের দায়িত্বে আসিনি তখনও আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, মায়ের ডাকের যে অভিযোগগুলো, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো ইনভেস্টিগেশন হবে। যেকোনো কারণেই করা যায়নি। তো আমি মায়ের ডাকের যারা ভিকটিম পরিবারগুলো সঙ্গে দেখা করেছে। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি এইভাবে যে, অন্তত আগামী এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা অগ্রগতি ইনশাল্লাহ আমরা তাদের দেখাতে পারব।’


৬ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব দরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বাজেটে ভ্যাট ও আমদানি শুল্কে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, গতবার থেকে ৫০ শতাংশ আয় বাড়াতে বলা হয়েছে। ৪ থেকে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় দরকার। বিশাল রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। সামনে নানা খাতের কর অব্যাহতি সুবিধা তুলে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় রাজস্ব বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে পরিবহন খাতের সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেছেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সর্বোচ্চ ছাড় দেবে সরকার। টার্নওভার ট্যাক্স কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর ফাঁকির কারণে নানাক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।


এক দশকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে অর্থনৈতিক ইউনিট, কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫%

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি, যা শতাংশের হিসেবে ৪৯.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে বর্তমানে মোট ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন মানুষ কর্মরত রয়েছেন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। অর্থাৎ এক দশকে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫.০৩ শতাংশ। মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে পুরুষের অংশগ্রহণ ৮৩.২৮ শতাংশ, নারীর অংশগ্রহণ ১৬.৭১ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ০.০১ শতাংশ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির একটি সূচক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ ২৭.০৮ শতাংশই ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ১৭.৫১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে, এবং রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ১৪.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে, যার হার ৪.৬৭ শতাংশ। এছাড়া খুলনায় ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুরে ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.৬৩ শতাংশ এবং বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে যে দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের আধিপত্য অত্যন্ত বেশি। মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি। বিপরীতে শিল্প খাতের ইউনিটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, যা মোটের মাত্র ৯.৯৮ শতাংশ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত’ খাত সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে, যার হার ৪১.৮২ শতাংশ।

শিল্পের আকার অনুযায়ী দেখা যায়, দেশের অর্থনীতিতে মাইক্রো ও কুটির শিল্পের প্রাধান্য রয়েছে। মোট ইউনিটের মধ্যে মাইক্রো শিল্পের সংখ্যা ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি, যা ৫৬.৬৭ শতাংশ। কুটির শিল্প রয়েছে ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি বা ৩৮.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ক্ষুদ্র শিল্প ৪.২০ শতাংশ, মাঝারি শিল্প ০.৩১ শতাংশ এবং বৃহৎ শিল্প মাত্র ০.০৮ শতাংশ, যা শিল্প কাঠামোর বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে।

মালিকানার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের হার ৮৭.৩৬ শতাংশ। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির হার ১.৮২ শতাংশ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ১.৪৪ শতাংশ।

এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা শহরের তুলনায় বেশি। বর্তমানে পল্লী এলাকায় ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি ইউনিট রয়েছে, যেখানে শহর এলাকায় রয়েছে ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি ইউনিট। ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় এলাকাতেই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী, মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী, ৪.৯১ শতাংশ অস্থায়ী এবং ৪১.৫২ শতাংশ খানা-ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক শুমারির এই চিত্র দেশের অর্থনীতিতে গত এক দশকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও সেবা খাতনির্ভর কাঠামোর বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।


বেবিচকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য এসএসপিবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা জোরদার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বিভাগ তিন দিনব্যাপী Supplementary Station Procedure (SSP) প্রস্তুতিবিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করেছে।

৫ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে পরিচালনাকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম করে তোলা এবং বেবিচকের বিধিমালা অনুযায়ী SSP প্রস্তুত, জমা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা। এ সময় CAAB-এর প্রণীত ‘মডেল SSP’-এর প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক (চিফ এভসেক ইন্সপেক্টর), ICAO অডিটর ও সার্টিফায়েড ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগীর।

এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (এভসেক পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন) ইফতেখার জাহান হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খান শাহীনুল বারি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।

কর্মশালায় বাংলাদেশে পরিচালনাকারী ৩৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের মোট ৬৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রোগ্রাম (NCASP) অনুযায়ী, প্রতিটি বিদেশি অপারেটরের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের ভিত্তিতে SSP প্রণয়ন এবং তা বেবিচকের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

মো. আসিফ ইকবাল বলেন, SSP বাস্তবায়নের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলোর অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে এবং বেবিচক, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অডিটে কমপ্লায়েন্স অর্জন সহজ হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিমান নিরাপত্তাবিষয়ক অডিট পরিচালনা করবে। ২০১৮ সালের পর এই অডিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে, যা দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই কর্মশালাকে আসন্ন ICAO অডিটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এমন উদ্যোগ দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ৯টি অধ্যাদেশ সংসদে পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আরও নয়টিকে আইনে রূপ দিতে বিল আকারে পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। বিলগুলোতে দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া ৯টি বিলের বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, যেন এগুলো হুবহু পাস করা হয়।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ যারা বলছে, সরকার গুমের আইন করতে চাচ্ছে তাদের তিনি এ আইনটি ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।’

বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।’

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে অনেকে গুমের বিচার নিয়ে, সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে ক্লিয়ার করেছেন যে গুমের বিচারে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাইরে কতজন কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। স্পিকার বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী যেটা গৃহীত হবে সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’ পরে অন্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এরপর পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। মূলত নাম পরিবর্তনে আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেগুলোকে অনুমোদন করতে বিল পাস করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেগুলো হলো—ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদ মজা করে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার। এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে!’

পরে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করা হয়। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।


banner close