প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আগামী রোববার (২১ জুলাই) দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বিশেষ চেম্বার জজ আদালত শুনানির জন্য এদিন ঠিক করেন। যদিও এর আগে গত ১০ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন ঠিক করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
এর আগে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড কপি পেয়ে ১৬ জুলাই আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলের অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্র লিভ টু আপিল করেছেন বলে সাংবদিকদের জানান অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মুহাম্মদ (এ এম) আমিন উদ্দিন।
গত রোববার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সে রায়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি, নাতনিদের জন্য কোটা পুনর্বহাল করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উপজাতি–ক্ষুদ্র নৃ জাতিগোষ্ঠীর জন্য কোটাসহ (যদি অন্যান্য থাকে) সব কোটা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, ‘প্রয়োজনে উল্লেখিত শ্রেণির ক্ষেত্রে কোটা পরিবর্তন ও হার কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে এ রায় বিবাদীদের জন্য কোনো বাধা তৈরি করবে না। যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কোটাপূরণ না হলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করায় বিবাদীদের স্বাধীনতা রয়েছে।’
এদিকে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া এই রায় স্থগিত চেয়ে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ কোটা নিয়ে আইনি বিরোধের বিষয়বস্তুর ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) দেন। সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল (সিপি) করেতে বলা হয় এবং পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের আন্দোলনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫ ও প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।
এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এই রায়ের পর সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে সরকার। অন্যদিকে চলমান আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রবর্তিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সরকার তিন পর্যায়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত নিবিড় নজরদারি রাখা হবে। এর ফলে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এই প্রকল্পের অগ্রাধিকার ভিত্তিক রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তালিকার শীর্ষে রাখা হবে দেশের হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে। কার্ডধারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে এবং সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধার মাঝেও ভিন্নতা থাকবে। মূলত সমাজের একদম নিচের তলার মানুষ যেন রাষ্ট্রের এই সহায়তা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সেই দিকটিই এখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। অতীতে এই ধরনের কর্মসূচিতে যেসব ত্রুটি ছিল, সেগুলো নিরসন করে একটি আধুনিক ও কার্যকর ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কেবল খাদ্য বা আর্থিক সহায়তা দেওয়াই নয়, বরং নারীদের ক্ষমতায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রতিটি পরিবারে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের এই মহতী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এই কর্মসূচি একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। অসাধু উপায়ে কার্ড দখল বা স্বজনপ্রীতির মতো যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা রাষ্ট্রের সুফল ভোগ করবেন।
দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে সব ইউনিটপ্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আইজিপি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকেরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি সরকার। এর মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এই তথ্য জানান এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক সৌদি সফরের কথাও তুলে ধরেন এবং মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৯ সালে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের সহায়তার বিষয়টি স্মরণ করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে মিয়ানমারে তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে সমর্থন কামনা করেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত পর্যায়ে উন্নীত করতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে দেশের অন্যান্য কোনো আন্দোলন বা সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। আজ রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং চেতনার এত বেশি অপব্যবহার হয়েছে, যার ফলে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানা থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। অসীম ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই আজ অজানা রয়ে গেছে। রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে সবসময় সমুন্নত রাখার প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এদিনের সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জামুকার সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই আগামী প্রজন্মের কাছে একাত্তরের প্রকৃত বীরত্বগাথা পৌঁছে দিতে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে বলে এই সভা থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ ১৮ মাস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের পর আবারও তাঁর পুরোনো কর্মস্থলে ফিরেছেন। আজ রোববার সকালে তিনি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত টেলিকম ভবনের ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে এক আবেগঘন ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং উপদেষ্টারা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেন। রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করে নিজের প্রিয় কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার এই খবরটি ড. ইউনূস নিজেই তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ছবিসহ দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছেন।
ইউনূস সেন্টারে পৌঁছানোর পর ড. ইউনূস তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তিনি গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। উপস্থিত কর্মীরা তাঁদের প্রিয় ‘স্যার’কে আবারও কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের পর দেশের এক কঠিন সময়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পায় এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি তাঁর রাষ্ট্রীয় মিশনের সফল সমাপ্তি ঘটান।
ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ড. ইউনূস তাঁর আবাসস্থলেও আমূল পরিবর্তন আনছেন। বর্তমানে তিনি সরকারি বাসভবন যমুনায় অবস্থান করলেও চলতি মাসের শেষ নাগাদ তিনি স্থায়ীভাবে তাঁর গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর আগে তিনি তাঁর ব্যবহৃত বিশেষ ‘লাল পাসপোর্ট’ বা কূটনৈতিক পাসপোর্টটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন, যা তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে আসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাঁকে সম্মুখ সারিতে উপস্থিত থেকে নতুন প্রশাসনকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে।
২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদের পুরোনো ঠিকানায় ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের এই প্রত্যাবর্তনে গ্রামীণ পরিবারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা কাটিয়ে এখন তিনি আবারও তাঁর বিশ্বজনীন ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব এবং সামাজিক ব্যবসার আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসারে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অসামান্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও আপন ভূুবনে ফিরলেন এই প্রবীণ পথপ্রদর্শক।
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ এপ্রিলের আগেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন তারেক রহমান। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্বের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কমিশনে ঘোষণাপত্র জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন থেকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিডনি রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটের শরিকদের তিনটি আসন যুক্ত হলে বিএনপি জোটের মোট আসন দাঁড়ায় ২১২। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে রয়েছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকবেন। সেই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত হবে। এর পাশাপাশি অন্তর্বতী সরকারের শাসনামলের অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না— সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার পরে চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে শনিবার রাতে রাজধানীর আদাবরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মেগা প্রকল্পটি জনস্বার্থে দ্রুত উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের আর্থিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। বৈঠকে থার্ড টার্মিনালের বর্তমান কারিগরি অবস্থা এবং এটি চালুর পথে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রকল্পটির ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও কেন এটি এতদিনেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়।
থার্ড টার্মিনাল চালুর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রী কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিলেও এখনই কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, টার্মিনালটি সচল করার জন্য বর্তমানে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা ও কারিগরি তদন্ত চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্পের কিছু অংশ সংস্কার বা পরিবর্তন এবং নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত যে সমস্ত কারিগরি জটিলতা ও সুপারিশ ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে, সেগুলো নিরসনে বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করেই এই টার্মিনালটি উন্মুক্ত করা হবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রকল্পের স্থবিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, সে সময়ে কেন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি সেই জবাবদিহিতা তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে চাওয়া সমীচীন। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের সরাসরি তদারকি করছেন এবং জনভোগান্তি কমাতে তিনি দ্রুত এটি কার্যকর করতে চান। প্রশাসনিকভাবে এখন মূল লক্ষ্য হলো আগের সময়কার সমন্বয়হীনতা দূর করে কারিগরি ত্রুটিগুলো দ্রুত সারিয়ে নেওয়া। থার্ড টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ সক্ষমতা ও সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিগত সরকারের সময় কেবল দুর্নীতির উদ্দেশ্যে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হবে। অন্যদিকে, যে প্রকল্পগুলো প্রকৃতপক্ষেই জনমুখী এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সহায়ক হবে, সেগুলো গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হবে। আজ রবিবার সকালে বরিশালের গৌরনদীতে ‘কাপলাতলী খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা এবং একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতি-নির্ধারকদের একটি অংশ আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের ইউএনও অফিস, এমনকি বিবাহ নিবন্ধন অফিস পর্যন্ত দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য চরম অবমাননাকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশের মতো জনবান্ধব একটি বাহিনীকে জনগণের কাছে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা ছিল বিগত সরকারের সবচেয়ে বড় অপরাধ। পুলিশের ইউনিফর্মকে একটি বিশেষ দলের স্বার্থে ব্যবহার করে এর নিরপেক্ষ মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একটি শক্তিশালী ও পেশাদার আমলাতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, সরকার পরিবর্তনশীল এবং এটি কেবল পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসে। কিন্তু রাষ্ট্র চিরস্থায়ী এবং এটি দেশের সকল মানুষের। তাই রাষ্ট্রের সেবা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক আমলাতন্ত্র থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই বিকৃত ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করে পুনরায় জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, ক্ষমতায় আসা বা না আসা জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, তবে স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া উচিত। নির্বাচনই ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র বৈধ পথ এবং সরকার এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর অনেক মহল থেকে বাঁকা পথে বা ভিন্ন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তবে বিএনপির অবস্থান ছিল স্বচ্ছ—নির্বাচন ছাড়া কোনোভাবেই ক্ষমতায় আরোহণ নয়। তারা জনগণের অধিকার ধ্বংস করে ক্ষমতায় যাওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। ধর্মীয় অপব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তবে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ আর ধর্ম ব্যবসায়ীদের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনো ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে না, কিন্তু ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের হীন স্বার্থে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দ্বিধা করে না।
সবশেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অতীতের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ পরিহার করে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রকল্প উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নতুন সরকার কোনোভাবেই দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেবে না। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে ইতিমধ্যে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত কর্মীদের উন্নত চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার বিষয়েও তিনি এ সময় আশ্বস্ত করেন।
নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে অভিযোগ তুলে ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুল হকের সরাসরি উপস্থিতিতে এবং তাঁর নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই হামলার বিচার আইনি পথেই নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি আহত কর্মীর পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অপরাধ দমনে ৫৫০টি আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া বসিলায় নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনসহ ওই এলাকায় ২০টি পুলিশ বক্স এবং টহল গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে অনেক চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ দল কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি দলীয় পরিচয়ে অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহত কর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন সরকারের এই প্রভাবশালী প্রতিনিধি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তাঁর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার সকালে তিনি সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের পদত্যাগপত্রটি হস্তান্তর করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, উপাচার্যের দেওয়া পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখন নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের এই খবরটি শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এমন এক সময়ে পদত্যাগ করলেন যখন বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি’ এখন অনেকাংশে দূর হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ এখন একটি সুশৃঙ্খল ও ভালো পর্যায়ে রয়েছে। তিনি মনে করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল, তা সফলভাবে মোকাবিলা করার পর এখন সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়। মূলত একটি নতুন রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায়, তারা যেন তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজানোর সুযোগ পায়, সেই গণতান্ত্রিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য পথ সুগম করে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি চান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের এই সময়োচিত ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, উপাচার্য পদত্যাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগের বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়। এখন সকলের দৃষ্টি পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের দিকে, যার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হবে।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। রোববার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে আবেদনের ক্ষেত্রে নিজ সরকারের কাছ থেকে তিনি যে সমর্থন প্রত্যাশা করেছিলেন, তা সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কারণে নস্যাৎ হয়ে গেছে। মুশফিক ফজল আনসারির ভাষ্যমতে, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদটি শূন্য হয় এবং এক বিদেশি সহকর্মীর উৎসাহে তিনি এই পদের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি তিনি তৎকালীন সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তাঁর পরামর্শেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি অভিযোগ করেন যে, তৌহিদ হোসেন শুরুতে মৌখিকভাবে আবেদনের অনুমতি দিলেও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর আকস্মিকভাবে তাঁকে 'অগ্রসর না হতে' (not to proceed) নির্দেশ দেন। এমনকি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা 'নোট ভারবাল' প্রদানেও অস্বীকৃতি জানানো হয়, যার ফলে তাঁর আবেদনটি আর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, এরপর থেকে তৌহিদ হোসেন তাঁর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং বারবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সমর্থন না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার একটি বড় সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি নিজ দেশের আনুষ্ঠানিক সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অসহযোগিতার কারণ জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছিল মুশফিক ফজল আনসারির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি। তবে রাষ্ট্রদূত এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, এ ধরনের পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না, বরং সদস্য রাষ্ট্রের মনোনয়নের পর জাতিসংঘ সচিবালয় সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত করে। এছাড়া রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন যে, দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে পোস্টিং এবং জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণের মতো স্বাভাবিক প্রশাসনিক বিষয়েও তাঁর পথে বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল।
বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলেও ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীকে কোনোভাবে বিব্রত করতে চাননি বলে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেননি। রাষ্ট্রদূত তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও পেশাগত বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক তথ্যই এই মুহূর্তে প্রকাশ করছেন না, তবে ভবিষ্যতে তাঁর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বিস্তারিত বই লেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন আচরণের পেছনে কী রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণ ছিল, তা নিয়ে এখন কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সেলিমা রহমানের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রবীণ এই নেত্রীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
বেগম সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর আশু রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নতুন সরকারের কর্মতৎপরতার মধ্যে দলের এই প্রবীণ নীতি নির্ধারকের অসুস্থতা নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারবেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মিত আপডেট তাঁর পরিবার ও দলকে অবহিত করা হচ্ছে।