সহিংসতা ঠেকাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) হেলিকপ্টার থেকে কোনো গুলি করেনি বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, হেলিকপ্টার থেকে সাউন্ড গ্রেনেড ও গ্যাস শেল ফায়ার করা হয়েছে। কোনো গুলি করা হয়নি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ বুধবার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
র্যাব ডিজি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংসতায় পরিণত হয়, শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। এর ভয়াবহতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। পুলিশ ও তাদের স্থাপনাকে টার্গেট করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানার সামনে এক র্যাব কনস্টেবলকে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তিনি সিএমএইচে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমাদের গাড়িও সেখানে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাদে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আশ্রয় নেন। আমরা তাদের হেলিকপ্টার দিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করি।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে হাইওয়ে পুলিশের অফিসে আগুন দেওয়া হয়। আমরা সেখান থেকেও পুলিশ সদস্যদের হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করি। দুর্বৃত্তদের আগুনে দুজন শ্রমিক সেখানে পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছে। সেতু ভবনের ৫০টিরও বেশি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দুর্বৃত্তরা আন্দোলনের নামে রাস্তা বন্ধ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের সামনে বসিয়ে দিয়েছিল। ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সরকার ও দেশকে অকার্যকর করে দিতে চেয়েছিল তারা। যখন আমরা রাস্তা ব্যবহার করতে পারছিলাম না, তখন হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কাজ করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি মানুষের জীবন যাতে বাঁচানো যায় এবং ক্ষতিটা কমানো যায়।
হেলিকপ্টার না থাকলে র্যাব কীভাবে অভিযান পরিচালনা করত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা এবারই প্রথম নয়। এর আগে অনেক সহিংসতা-নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেগুলো হেলিকপ্টার ছাড়াই মোকাবিলা করেছি। ছাত্ররা যখন আন্দোলন করছিল, তখন কোনো সহিংসতা ছিল না। ছাত্ররা আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। সাধারণ মানুষও আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। আমরা তাদেরই প্রতিপক্ষ, যারা হামলা করেছে; দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর তারা আর কোনো আন্দোলন করেনি। স্বাধীনতাবিরোধীরা সবসময়ই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
র্যাব সতর্ক ছিল কি না, সতর্ক থাকলে নিয়ন্ত্রণ করতে এত সময় কেন লেগেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশিদ বলেন, ১৯ জুলাই থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর খুব দ্রুতই সিচুয়েশন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা জাতিসংঘ মিশনেও দেখেছি এত দ্রুত করা হয় না। সময় নেওয়া হয়।
ছাত্রদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেবে, এ তথ্য র্যাব আগে থেকে জানতে পারেনি? এ ক্ষেত্রে ইন্টেলিজেন্স (গোয়েন্দা) ব্যর্থতা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সেটি বলছি না। পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টেছে। সন্ত্রাসী, জঙ্গি, হামলাকারীরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সুযোগ পেলেই হামলা, নাশকতা করে। যারা নাশকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের আমরা ধরব। বিভিন্ন জায়গায় যারা নাশকতা করেছে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। আমাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী ও সুবিস্তৃত। প্রত্যেককে শনাক্ত করা হবে। আইনের আওতায় আনা হবে।
আন্দোলনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। দুজন পুলিশ সদস্য স্নাইপার রাইফেলের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কারা স্নাইপার দিয়ে গুলি করল? তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে র্যাব ডিজি বলেন, অবশ্যই আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। তবে স্নাইপার ব্যবহার হয়েছে কি না, জানি না।
খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি খরা মোকাবিলায় কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিতভাবে খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসের ক্ষতি করছে। বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। সেখানে প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (BAMIS)-এর মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করে কৃষকদের এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ন্যাশনাল গ্রিন মিশন-এর আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। বাংলাদেশ এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য পানিসংকটপ্রবণ দেশের কাজে লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে প্রবেশ করছে, যা লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে। এ সংকট মোকাবিলায় ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা ভূমি অবক্ষয় মোকাবিলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। খরা সহনশীলতা গড়ে তুলতে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনকে মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (National Adaptation Plan)-এ ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি International Drought Resilience Observatory চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের BAMIS-এর তথ্য এ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি। তিনি একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তুলতে UNCCD-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া FAO, ESCAP, IOM, UNICEF, UNDRR, UNDP, IFAD, AIIB, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, ‘যিনি মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন। মহানবী (সা.)-এর ওপর মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং তাঁর মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন ‘সমগ্র জগতের জন্য রহমত’ হিসেবে। পবিত্র কুরআনে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে মহান আল্লাহ বলে ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’(সুরা আল-কলম, ৪)। মানবমুক্তির এই দিশারি তাঁর অনুপম চরিত্র, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের চিরন্তন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তাঁর জীবন ও আদর্শ চিরকাল মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। নারী, শিশু, প্রতিবেশী, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দিয়ে গেছেন সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে তিনি মানবিক মার্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সর্বজনীন ও সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বদা অনুসরণীয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসিহষ্ণুতায় বিপর্যন্ত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ ততোধিক প্রাসঙ্গিক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর এই পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়ে আসুন, আমরা তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।’
তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। কায়মনোবাক্যে দোয়া করি, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সকল মানুষের উপর আল্লাহর রহমত, বরকত, অপার শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক।’
সূত্র: বাসস
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা আলোচনার জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সংবিধান ও আইন মেনেই তাঁর নিয়োগ ও শপথ পরিচালনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী একথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে যা রয়েছে সেটির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই করা হয়েছে এবং এই শপথ বিধানের সাংবিধানিক মূল নীতি বা 'ডিমিং ক্লজ' মেনেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
সম্প্রতি টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে এর পূর্বে নিজ অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য না করে প্রশ্নটিকে এড়িয়ে যান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জনগণের সমস্যার প্রতি সমব্যথী, কিন্তু এই সংকটটা বহু বছরের পুঞ্জীভূত। দুই বছরের মতো সময় অন্তর্বর্তী সরকার ছিল, তারাও স্থলভাগে গ্যাস খোঁজার চেষ্টা করেনি।’
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভাগ্য ভালো, তাদের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হয়নি।’
তিনি জানান, গত বছর গ্যাসের দাম যেখানে ১২ থেকে ১৪ ডলার ছিল, এ বছর তা বেড়ে ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।
গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এফএসআরইউ যেটা নষ্ট হয়েছিল, সেটা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে গ্যাসের যে কার্গো আছে, সেই কার্গো সাপ্লাই আসতে একটু সমস্যা হচ্ছে। সেটা হলে সংকট অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে।
এ সময় উপদেষ্টা গ্যাসসংকট সমাধানে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কারখানা টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন না দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস বাঁচাতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন সর্বোচ্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে দ্রুত গ্যাস যুক্ত করতে ৫০০ কোটি টাকায় একটি জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাবতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
দেশে সারের সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারের সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, অতিরিক্ত সার রক্ষিত আছে। কোনো কোনো জায়গায় সার বিতরণের কিছু অনিয়ম হয়তো এসেছে। অনিয়মগুলো সরকার আমলে নিয়ে সেটার জন্য খুব দ্রুত ব্যবস্থাও নিচ্ছে।’
সরকার সার বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনটা কৃষক এবং জনগণের স্বার্থে। সেটা নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রসেসের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে সমস্যাগুলো হচ্ছে।’
এ সার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, সারের যেন কোনো ঘাটতি না হয়, সে জন্য প্রচুর সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া এবং সৌদি আরব থেকে আরো ১ লাখ ১৫ হাজার টন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
দেশে ইউরিয়ার মজুদ আছে ৪ দশমিক ৮২২ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ দশমিক ৬৯, ডিএপি ৩ দশমিক ৬৮, এমওপি ১ দশমিক ৪৬- অর্থাৎ মোট ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন মজুদ আছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রার প্রবণতা রোধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘দালালরা বাইরের কেউ নন, তারা এলাকারই মানুষ। কেউ কেউ বিদেশে বসে স্থানীয়দের প্ররোচিত করে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে বিদেশ যাওয়ার পর লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসা কারও জন্যই কাম্য নয়। এতে পরিবারের পাশাপাশি এলাকার সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশ যাব না—এই বার্তা গ্রামগঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে।’ একই সঙ্গে সবাইকে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বৈধ পথে প্রায় এক কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
এর আগে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এ সময় সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ, কলিমউদ্দিন মিলন, কামরুজ্জামান কামরুল, নূরুল ইসলামসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।
মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
সূত্র: বাসস
যারা ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে ফ্যাসিজমকে সমর্থন ও প্রচার করেন, তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো এবং বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যেসব গণমাধ্যম বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট করে বা প্রমোট করে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা ছাড়া সরকারের সরাসরি কিছু করার নেই। যারা মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিগত ১৭ বছরের মতো সমালোচনার মুখ বন্ধ করার কোনো মানসিকতা এই সরকারের নেই।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, “গণতন্ত্র একটি মানসিকতার বিষয়। আমরা আপনাদের কাছ থেকে গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা আশা করি, যাতে আমরা নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৭ বছরে দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলা সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান বলেন, বিষয়টি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সকল অপরাধের ন্যায়বিচারের স্বার্থে যাদের নামে মামলা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা (সার্কুলেশন) দেখানোর অনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধে মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা জনগণের রয়েছে। তিনি জানান যে, এখন থেকে বিটিভি এবং অন্যান্য সরকারি গণমাধ্যমে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও গুরুত্বের সাথে প্রচার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং অসুস্থ সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যেই এক কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের ৬ মাসের অর্জনের ওপর ভিত্তি করে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। মূলত গণমাধ্যমের সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধান। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে পৃথকভাবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন।
সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বর্তমান কার্যক্রমে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও দক্ষ চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।" রাষ্ট্রপতি আরও আশ্বাস দেন যে, তাঁর কার্যকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিন বাহিনীর প্রধানের সাথে এই বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ।
রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই নীতিমালায় রিকশা চলাচলের সুনির্দিষ্ট এলাকা, যানবাহনের কারিগরি মান এবং চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য দেখা গেছে। এতে যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা হলেও তীব্র যানজট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রিকশাগুলোর ব্রেকিং সিস্টেমসহ কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীতে মৎস্য সপ্তাহের সফল উদ্বোধন করা হয়েছে এবং দেশের মৎস্য উৎপাদনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়ন থেকে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে, যার জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।
উপদেষ্টা এই বিশাল ব্যয়ের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা বাজারে চাহিদা তৈরি করবে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রবাহ অর্থনীতিতে কয়েক গুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ডেনমার্কের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেন ব্রিক্স মোলারের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের পথে ডেনমার্ক একটি দীর্ঘকালীন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পানি সরবরাহ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মতো উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোতে ডেনমার্কের বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের (ফেজ-৩) অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই মেগা প্রকল্পে ডেনমার্ক সরকার মোট সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের নিশ্চয়তা দিয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরাসরি অনুদান এবং বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা অত্যন্ত সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হিসেবে প্রদান করা হবে।
বৈঠক পরবর্তী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বিশাল জনসংখ্যার বিশুদ্ধ পানির সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে। তিনি একে সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেন ব্রিক্স মোলার মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) একটি বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক এবং জনআস্থার গণমাধ্যম হিসেবে পুনর্গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিটিভির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কাজী জেসিন। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিটিভিকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।
কাজী জেসিন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে বিটিভিকে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের এবং ফ্যাসিবাদের প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি তার দর্শকপ্রিয়তা হারিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এমনকি ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরেও প্রতিষ্ঠানটিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিটিভিকে একটি ‘ক্রেডিবল’ বা নির্ভরযোগ্য চ্যানেল হিসেবে পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে চান।
মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্ববর্তী কোনো সরকার গণমাধ্যমের উন্নয়নে যে বিষয়টি এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। জেসিনের মতে, অনেকেই ‘নয়া বন্দোবস্ত’-এর কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী মুখে বড় কথা না বলেও নীরবে বিটিভির গুণগত পরিবর্তনের কাজটি করে যাচ্ছেন।
কাজী জেসিন দৃঢ়তার সাথে জানান, বিটিভি কেবল তার হারানো গৌরবই ফিরে পাবে না, বরং প্রধানমন্ত্রী একে আরও অনন্য, অত্যাধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দেখতে চান। তিনি স্বীকার করেন যে, একটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং স্থবির হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানো অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকা আনন্দের।
সবশেষে সকলের শুভকামনা ও দোয়া চেয়ে বিটিভির মহাপরিচালক বলেন, "আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছি।"
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার (২৪ আগস্ট) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। পৃথক অভিনন্দন বার্তায় তাঁরা নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের সুখ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করেছেন।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর গত রবিবার (২৩ আগস্ট) তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী নিজের সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেন এবং দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত সরাসরি ভোটে ২৫৫টি ভোট পেয়ে তিনি জয়লাভ করেন।
এদিকে, গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন।
বৈঠকে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের উন্নয়নে সৌদি আরবের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি আগামীতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।