কোটা আন্দোলন চলার সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানাসহ আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগনর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানানা। তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুদের নেতৃত্বে গত ১৯ ও ২০ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শনিরআখড়া এলাকায় পুলিশের দুই সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যায় শিবিরের সক্রিয় কর্মীরাও অংশ নেয়।
ডিএমপি ডিবিপ্রধান বলেন, হামলার সময় বাড়িবাড়ি তল্লাশি করেছে তারা। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, পুলিশকে ডিমরালাইজড করা। পুলিশকে ডিমরালাইজড করতে পারলে তারা হয়ত মনে করেছিল আন্দোলন সফল হবে। পুলিশ দুর্বল হলে পিছিয়ে যাবে। তখন তারা এই রাষ্ট্রকে অকার্যকর এবং সরকারের পতন ঘটাতে পারবে বলে মনে করেছিল।
হারুন বলেন, যারা পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, স্বপ্নের মেট্রোরেলসহ সরকারি স্থাপনায় নাশকতা চালিয়েছে, যারা এসবের নেতৃত্ব দিয়েছে, অর্থ আদান-প্রদান করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানেই থাকুক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা ও পুলিশকে টার্গেট করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া ও রায়েরবাগ এলাকায় গিয়ে তারা পুলিশকে টার্গেট করেছে। পুলিশ মারতে ১০ হাজার টাকাও তারা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
হারুন জানান, ছয় জনের মধ্যে আবু বকর নামে এক শিবির কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানা (৩২), মো. ইরফান (২৭), মো. আবু বক্কর (২৩), রবিউল ইসলাম (১৯), সৌরভ মিয়া (১৯), মো. তারেক (২০)।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন সময় জীবন দিয়েছে। কোটা আন্দোলনের সময় আমরা তিন পুলিশ সদস্যকে হারিয়েছি। কিন্তু পুলিশের মনোবল মোটেও ভাঙেনি।
ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও ময়লার বিন প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মন্ত্রী বলেন, ‘দিনের বেলায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে তা নগরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই রাতের বেলায় বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নে রাস্তার দুই পাশে বারোমাসি ফুলের চারা রোপণের পরামর্শ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘নগরকে শুধু পরিচ্ছন্ন নয়, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশন দ্রুত বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় ঢাকা মহানগরীর চলমান উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খালগুলোর সীমানা চিহ্নিতকরণও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উভয় সিটি করপোরেশনে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ঢাকার মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে ইতোমধ্যে রাতে জোনাকির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা পরিবেশ উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সবার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে কাজে আরও গতি আনার তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন উল্লেখ করে তিনি বাস্তবভিত্তিক সমাধান, আগে-পরের তুলনামূলক চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দেন, যা পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।
সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কারিগরি শিক্ষাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, একটি আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন এবং তিনটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম চালুর মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক ৩ দিনের চীন সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে’ এ তথ্য জানান তিনি।
ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত কার্যকর ও স্বল্প খরচে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা প্রদানে চীনের সুখ্যাতি রয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে আমাদের এই স্বল্পসময়ের সফরে চীনের ৫০টিরও বেশি প্রথম সারির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ও শিল্প খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সফরের মূল অর্জনকথা হলো বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রচিত হয়েছে।’
তিনি জানান, সফরকালে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল অ্যাডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ’ সেন্টার শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক ছাড়াও ‘চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড অ্যাডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি যৌথ সহযোগিতা জোরদারে আরও তিনটি প্ল্যাটফর্মের সূচনা হয়েছে, যা হলো ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল অ্যাডুকেশন রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের তরুণদের দক্ষতায় উন্নীত করে দ্রুত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন চীনা ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহজে কর্মসংস্থান পেতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষতাকে সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা। শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুকরণ এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ শেখার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এ দেশের তরুণরা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। চীন থেকে আগত কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতেও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গৌরবোজ্জ্বল ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি দেশে রুদ্ধ হওয়া গণতন্ত্র পুনরায় ফিরিয়ে এনেছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক রাজনীতির নতুন পথচলা শুরু হয়।
বিএনপির প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় 'বাকশাল' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।’
শহীদ জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়। বিএনপির গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।’
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ ক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।’
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি কেবল সুশাসন নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে, করছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, আমি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।’
বিগত বছরগুলোতে বিএনপির জনপ্রিয়তা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে জনগণের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম- একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আবারও গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।’
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সফরকালে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ বলেছেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আইপিইউ’র পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ।
আজ জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।
নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা মোকাবিলায় আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে।
তিনি সংসদে নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউ’র নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, সংসদ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থান, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে ঘটনাগুলো সরাসরি দেখার এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ অন্যান্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
স্পিকার পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন এবং আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে প্রতিবেদনটি পড়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটি জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ প্রতিবেদন প্রণয়ন বা প্রকাশে কোনো ভূমিকা ছিল না।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ এ সময় আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মোছা. তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ফ্যাসিস্ট আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ বাসস
সীমান্তে মাদকপাচার, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত হত্যা নিরসনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আজ বঙ্গভবনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালে বিজিবি মহাপরিচালক নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। সীমান্তে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে বিজিবিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।
বিজিবির ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা জোরদার, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জরুরি সাড়াদান সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলো অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা সেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রতিফলন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইং-১-এর সংকলিত প্রকল্প-তথ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মধ্যে পুলিশ অবকাঠামো, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমন, সাইবার অপরাধ তদন্ত, ই-পাসপোর্ট, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামুদ্রিক কার্যক্রম, মাদকাসক্তি নিরাময়, কারা অবকাঠামো এবং অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।
চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ হলো দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ভবন কাম ব্যারাক নির্মাণ প্রকল্প। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ১৬ হাজার ২৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
পুলিশ অবকাঠামোসংক্রান্ত আরেকটি বড় প্রকল্পের আওতায় থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ স্থাপনা, পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র এবং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ হাজার ৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং এটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষায়িত পুলিশিং ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সরকার বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
এছাড়া সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পৃথক একটি প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
ডিজিটাল নিরাপত্তাও মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ: এনহ্যান্সিং ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ক্যাপাসিটি অব বাংলাদেশ পুলিশ’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়ন ও প্রকল্প সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের লক্ষ্য সাইবার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো।
র্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড
উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও বড় বিনিয়োগ রয়েছে। র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
র্যাবের পরিচালন, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৃথক কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ৭৩টি কম্পোজিট ও আধুনিক বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এছাড়া গাজীপুরে নবগঠিত ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো উন্নয়নে আরেকটি প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ২৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে। লজিস্টিকস ও নৌযান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং প্রতিস্থাপনযোগ্য নৌযান সংগ্রহের দুটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং ২৩ হাজার ১৪৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
বড় প্রকল্পগুলোর একটি ই-পাসপোর্ট
মন্ত্রণালয়ের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অ্যান্ড অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৯ হাজার ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং এটি ২০২৮ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবা আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি আধুনিক ও কার্যকর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাদকাসক্তি নিরাময় ও কারা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার মোকাবিলা এবং পুনর্বাসন সেবা উন্নয়নেও মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং জেলা কার্যালয় নির্মাণের মতো প্রকল্প রয়েছে।
সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৪১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে।
এদিকে কারা অধিদপ্তর কয়েকটি কারাগারের সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এসবের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, জামালপুর ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুনর্নির্মাণ, নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন।
ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ, নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, বিদ্যমান স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের একটি বড় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৫০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১২টি নতুন করে এবং ৮টি পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে পৃথক একটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।
ব্যাপক নিরাপত্তা আধুনিকায়ন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান ২৫টি প্রকল্পের সম্মিলিত চিত্রে দেখা যায়, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এখন শুধু প্রচলিত অবকাঠামো সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ভৌত নিরাপত্তা অবকাঠামোর সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধ তদন্ত, স্বয়ংক্রিয় অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার দিকে এগোচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং অন্যগুলো ২০২৮ সাল ও তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত চলবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে জননিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা আরও কার্যকরভাবে দেওয়ার সক্ষমতা জোরদার হবে বলে সরকার আশা করছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল সচল করতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, প্রায় ২.১ বিলিয়ন (২১০ কোটি) ডলার মূল্যের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ দ্রুত চালু করতে কাজ চূড়ান্ত করা, ঠিকাদারের কিছু বকেয়া এবং অন্যান্য সংস্থার পাওনা পরিশোধে এই অর্থ প্রয়োজন।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
হান্নান মাসউদ প্রশ্নে বলেন, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কয়েক দফায় বেড়ে ২১,৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তর তদন্ত করে প্রায় ৪,৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করেছে।
এ অবস্থায় কাজের প্রায় ৯৯.৯১ শতাংশ শেষ হওয়ার পর— শেষ মুহূর্তে আরও ৯০২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো ঠিকাদারকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়ার শামিল কি না, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শুধু ভবন উদ্বোধন করেই কাজ শেষ বলে চালিয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা ছিল। কিন্তু থার্ড টার্মিনালের মেশিনারিজ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকেত বা সংযোজন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, টার্মিনালে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ফলে একদিকে সরকার এটি ব্যবহার করতে পারছিল না, অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা– জাইকার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বড় অংকের কিস্তি পরিশোধ শুরু হলেও, অবকাঠামো সচল না থাকায় কোনো আয় হচ্ছিল না।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে দেখে যে, কাজ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা, ঠিকাদারের পূর্বের কিছু বকেয়া পরিশোধ এবং অন্যান্য সংস্থার বকেয়া মেটানোর মাধ্যমে অবকাঠামো চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন’ –জানান তিনি।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই এই অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদন না হলে সুবিশাল টার্মিনালটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকত, যা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতো।
বিমানমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা অনুমোদন হলে খুব দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে। এতে বর্তমানে ১.২ মিলিয়ন যাত্রীর জায়গায় দ্বিগুণ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সেখান থেকে পাওয়া আয় দিয়ে জাইকার ঋণ সহজেই পরিশোধ করা যাবে বলেও জানান তিনি। এই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে, তার দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। রোববার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বাংলাদেশকে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ ছাড় করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।
ইআরডি’র প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণের ছাড় হয়েছিল ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি জুলাইয়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম অর্থছাড় হয়েছে।
অন্যদিকে, গত অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছিল ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধ প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের বিভাগীয় প্রধান (যুগ্মসচিব) মো. নাজমুল আলম।
রোববার (৩০ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপপরিচালক মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলমকে বদলিপূর্বক প্রেষণে দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হলো।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
খুলনায় অর্থাভাবে চিকিৎসা থমকে যাওয়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তার চিকিৎসায় গঠিত হচ্ছে মেডিকেল বোর্ড।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিবারের আকুতির একটি ভিডিও দেখে ডা. জুবাইদা রহমান অনতিবিলম্বে চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনা বাস্তবায়নে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে খুমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন জান্নাতুলকে দেখতে যান খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জেডআরএফ সদস্য ডা. এমআর হাসানের সঙ্গে পরিবারটির ভিডিও কলে কথোপকথনের ব্যবস্থা করেন।
জান্নাতুলের মা আজমিরা বেগম বলেন, তাদের বাড়ি কয়রা উপজেলায়। অভাব-অনটনের সংসার, তার ওপর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে। ৮ বছরের একটি ছোট ছেলেসহ দুই সন্তান নিয়ে চরম সংকটে আছেন তিনি। জান্নাতুল দৌলতপুরের দেয়ানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে কয়রার একটি হেফজখানায় ভর্তি হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র দুই মাস বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার দুটি পা নিস্তেজ হতে শুরু করে। এর মধ্যে তার নার্ভের জটিলতা ও বেড সোর (শয্যাক্ষত) দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দুই দিন আগে এক ভদ্রলোক ভিডিও পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে তারা দেখতে আসেন এবং সুস্থ করে তোলার সব আশ্বাস দিয়েছেন।
সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জেডআরএফ সদস্য ডা. এমআর হাসান বলেন, ভিডিওটি নজরে আসার পরই ডা. জুবাইদা রহমান সহায়তার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে তদারকির নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী হাসপাতালে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে এবং সোমবারই জান্নাতুলের সুচিকিৎসায় একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে।
খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আমাকে ফোন করা হয়। এটি জানার পরপরই সরেজমিন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং শিশুর সাথে ও তার মায়ের সাথে কথা বলেছি। জান্নাতুলের দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে থাকবে।
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ‘এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।’
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে সংসদে জানান, বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে ফোনালাপের ভিত্তিতে তিনি আশা করেছিলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে থাকবে। এ বোঝাপড়ার কারণে রোববার কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে বিরোধী দলের উপনেতা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিতে চান না বলে জানান।
এরপর ফ্লোর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার নির্বাচনের আগে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কথা প্রসঙ্গে আমাদের কথা উঠলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমরা এখন থেকেই জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন শুরু করি। চলুন, আপনি ডেপুটি স্পিকারের একজনের নাম দিন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার একজন, ডেপুটি স্পিকার একজন। সেই ডেপুটি স্পিকার আমরা বিরোধী দলকেই অফার করেছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হবে ততদিন আমরা অপেক্ষা করিনি।’ তবে বিরোধী দল তখন ডেপুটি স্পিকারের পদ নিতে রাজি হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘তখন আমরা ভাবলাম, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে, অর্থাৎ সংবিধান সংশোধিত হলে সেই অনুযায়ী আমরা যাব। আমরা আমাদের উদারতা এবং আমাদের উইলিংনেস জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সংবিধান সংশোধনের আগে থেকেই ব্যক্ত করেছি।’
সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেজন্য আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি আন্ডার রুলস ২২৬ আমরা গঠন করেছি। পাঁচজন সদস্যের জায়গা রাখা হয়েছে বিরোধী দলের জন্য।’
তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল অন্যান্য রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র সদস্যসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্বও কমিটিতে রাখা হয়েছে। বিরোধী দল নীতিগতভাবে কমিটিতে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হতেই পারে। যদি সংবিধান সংশোধিত না হয়, জুলাই জাতীয় সনদ তো বাস্তবায়িত হলো না। হওয়ার পরে হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি, সেই কমিটি গঠিত হয়েছে।’
তিনি জানান, তাঁর সভাপতিত্বে কমিটির একটি বৈঠক ইতোমধ্যে হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তার মধ্যে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আছে, সাবেক প্রধান বিচারপতিগণ আছেন, বিচারপতিগণ আছেন, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আছেন। এবং প্রেসের বন্ধুরা আছেন, এডিটরস আছেন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যারা কাজ করেছেন, জড়িত, তাদেরকেও আমরা আহ্বান জানাব।’
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এভাবে আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলব। তাদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা রিপোর্টটা প্রণয়ন করব।’
পরে আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরেও সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আমাদের নির্বাচন ইশতেহার অনুযায়ী এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আর যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু ধারণ করে আমরা একটা সমৃদ্ধ সংবিধান সংশোধনী বিল আনবো।’
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসুন। আপনাদের যা বক্তব্য আছে, আমরা সেটা লিপিবদ্ধ করব। আপনাদের সমস্ত রিপোর্ট, বক্তব্য সেই রিপোর্টে থাকবে। আপনাদের বক্তব্য জাতি জানবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দ্বিমত হবেন, ভিন্নমত হবেন এবং কিছু কিছু প্রস্তাবে অবশ্যই একমত হবেন। আমরা তো আরও কিছু জিনিস এখানে অন্তর্ভুক্ত করব এই সংবিধানে। যেগুলো আপনারা দেন বা অন্য পেশার মানুষ দিক, সেটা নতুনত্ব আসতে পারে। সেটা আমরা গ্রহণ করব। আমরা ভেরি ওপেন এই বিষয়ে।’
তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়টিও জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ভাষ্য, সনদে সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলকে দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সকল দাবি মানতে হবে, তারপরও আমরা আপনাদের এই সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসবো না—এটা সহযোগিতা হলো না। আপনারা সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের যখনই অংশগ্রহণ করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। তখন জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে। তার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান বিধান অনুসারে আমরা যাই।’
সবশেষে বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।’
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব পদমর্যাদার ২৭ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার। তাদের দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে ‘উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদায়নকৃত এই কর্মকর্তাদের চাকরি এখন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ন্যস্ত থাকবে। বদলি হওয়া এই কর্মকর্তাদের আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। যদি কেউ নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানে ব্যর্থ হন, তবে ওইদিন বিকেল থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজড’ হিসেবে গণ্য হবেন।
জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ২৭ জন কর্মকর্তার বর্তমান পদ এবং নতুন পদায়নের স্থান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেছেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।
রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রতিমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।