আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। আজ শুক্রবার সংস্থাটির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এখনো মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
তিনি বলেন, যেসব সঞ্চালন লাইন এবং ডেটা সেন্টার রিপেয়ার করা হয়েছে, ইমপ্যাক্টটা কেমন পড়ছে এবং মোবাইল ইন্টারনেটে প্রেশার যেহেতু আরেকটু বেশি পড়বে, সে জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রবি-সোমবারে চালু করার পরিকল্পনা আছে।
এদিকে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিন বিকেল ৩টার দিকে বিটিআরসির এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ডিরেক্টরেট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সচল করা হয়েছে। এখন ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে একমত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ও বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সে নির্দেশনা আইআইজি অপারেটরদের জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি গুগলের ক্যাশ সার্ভার চালুর নির্দেশনাও দিয়েছে বিটিআরসি। ফলে এখন থেকে ইউটিউব ও গুগলে সার্ভিস পেতে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না ব্যবহারকারীদের।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গত ১৮ জুলাই রাত থেকে দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল। পাঁচ দিন পর ২৩ জুলাই রাতে সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু করে সরকার। গত বুধবার রাত থেকে সব জায়গায় ব্রডব্যান্ড চালু করা হয়। তবে ব্রডব্যান্ড চালু হলেও ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের স্বাভাবিক গতি পাচ্ছিলেন না। এরপর গুগলের ক্যাশ চালু ও ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আপাতত বন্ধই থাকছে। তবে ভিপিএন ব্যবহার করে বহু ব্যবহারকারী এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে যৌথভাবে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে নতুন র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে আগামী ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নবনিযুক্ত নৌপ্রধানের এই দায়িত্ব গ্রহণ ও র্যাংক ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান অংশ নেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বিদ্যুৎ খাতের লোকসান ও আর্থিক ঝুঁকি কমাতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)-সহ বিদ্যুৎ বিতরণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতে ছাড়তে চায় সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সম্মতি দেন।
এদিন মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প- ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২)’ (প্রথম সংশোধন), ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’।
এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ (তৃতীয় সংশোধন), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প’ (দ্বিতীয় সংশোধন), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ (তৃতীয় সংশোধন) এবং ‘একটি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) ও দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন’ (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্পও সভায় অনুমোদন পায়।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১১টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়।
সেগুলো হলো- ১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প ২. বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট, গৌরনদী বরিশাল স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) (৩) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল মোবাইলে নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প (৪) নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হতে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) ৪ লেন উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ ২ লেনে উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং (৫) পিরোজপুর-নাজিরপুর-মাটিভাঙ্গা-পাটগাতী-ঘোনাপাড়া (জেড-৭৭০৪) জেলা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া হতে পাটগাতী সেতু অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত অংশসহ জেড-৮৫০৪, জেড-৮৫০৭ ও জেড-৮৪২৯ জেলা সহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ সংশোধিত)।
এছাড়া (৬) ভুয়াপুর লিংক সড়ক (জেড-৪৮০২) নির্মাণ (২য় সংশোধিত) (৭) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধন) (৮) পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবন্ধন (২য় সংশোধিত) (৯) গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ৬টি কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জবি শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধু ধর্ম দিয়ে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়নি, যার ঐতিহাসিক পরিণতি ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা, স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য। তবে স্বাধীনতার পরও কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পরিচয়গত সংকট থেকেই যায়। এই বাস্তবতায় শহীদ জিয়া নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে কোনো চাকমা, মারমা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের পরিচয়গত সংকট নেই। কোনো একটি সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য সংস্কৃতিকে অস্বীকার করারও সুযোগ নেই। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’Ñ এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে আমরা বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দর্শন থেকে বিচ্যুত যেকোনো চিন্তা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর দায়িত্ব নিয়ে তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন।
ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
বাংলাদেশ ও নেপালের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিউইয়র্কে ইকোসকের বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ সুপারিশ অনুমোদন করে। বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) দুই দেশের আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয়, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা উচিত। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেদিনই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণ হওয়ার কথা।
সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘সাধারণ পরিষদ প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তা একদিকে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, অন্যদিকে এলডিসি-উত্তর সময়ের জন্য দেশের প্রস্তুতিও আরও ভালো হবে।
কেন পেছানোর আবেদন: বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে।
সরকারের যুক্তি, সময়সীমা বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কার সংহত করা ও স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীন অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ পাওয়া যাবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময় একের পর এক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটে ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ হয়েছে।
বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কড়াকড়ি, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা। দেশি সংকটের মধ্যে আছে আর্থিক খাতে অনিয়ম, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া।
বাংলাদেশের অবস্থান কী: ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে। এলডিসি থেকে কোনো দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে সিডিপি।
তিন বছর অন্তর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উত্তরণের যোগ্য কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয়, অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। সেগুলো হলো মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই)। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। করোনার কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়েছে, তা না হলে আরও দুই বছর আগেই উত্তরণ হয়ে যেত।
জানা গেছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পেছানোর আবেদন করে সফল হয়েছে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ। ২০২৩ সালে দেশটির সরকার গৃহযুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে বাড়তি সময় চেয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে আবেদন করে। তা মূল্যায়ন করে দেশটিকে তিন বছর সময় বাড়িয়ে দেয় সিডিপি। এ ছাড়া সুনামির কারণে মালদ্বীপ ও ভূমিকম্পের কারণে নেপালের এলডিসি উত্তরণও নির্ধারিত সময়ে হয়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই পরিচালনা করবে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বুধবার (২২ জুলাই) আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে খলিলুর রহমান চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও সংযুক্তিসহ (কানেক্টিভিটি) দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় পক্ষ একযোগে যৌথ ভবিষ্যতের জন্য ‘চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সমবায় অংশীদারত্বকে এগিয়ে নেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন, মাল্টি-মোডাল পরিবহন করিডোর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। উভয় পক্ষ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়।
পরে বিকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও খলিলুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ মার্কিন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। খলিলুর রহমান রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন’-এর ৫০তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
একসময়ের বিলুপ্তপ্রায় সংক্রামক রোগ ‘হাম’ বাংলাদেশে এখন এক অতিভয়াবহ ও প্রাণঘাতী মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) বিশ্বব্যাপী হাম পরিস্থিতি বিষয়ক সর্বশেষ নজরদারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশ্বজুড়ে ১৬৫টি দেশের মধ্যে গত ৬ মাসে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যায় শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশে হাম ও এর উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশে জনস্বাস্থ্য খাতে এক নজিরবিহীন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮০৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৭০৮ জন শিশু। বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫২৮ জনে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার নিশ্চিত সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির নজরদারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬ মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা এর উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বে এ সময়ে আর কোনো দেশে এত রোগী পাওয়া যায়নি। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (২৬,৬০৭ জন) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন (১৪,৫২১ জন)। যেখানে গত চার বছর (২০২২–২০২৫) দেশে বছরে গড়ে মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী পাওয়া যেত, সেখানে এই বছর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিয়েছে।
কারণ অনুসন্ধানে টিকার ঘাটতি ও ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ বিগত বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, হাম সংক্রমণ পুরোপুরি রুখে দিতে বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বজায় রাখতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে কমে মাত্র ৫৯ শতাংশে নেমে আসে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করায় টিকা সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় যে টিকা সংকট তৈরি হয়েছিল, এটি তারই মাসুল।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, “হার্ড ইমিউনিটি একদিনে ভাঙে না। টানা দুই বছর টিকাদানের কভারেজে বড় ফাঁক তৈরি হওয়ায় আজ এই বড় আকারের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।’
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা: হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও মৃতদের একটি বিরাট অংশই শিশু। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ৮০ শতাংশ শিশুই কোনো টিকার ডোজ পায়নি। এমনকি হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৫২ শতাংশেরই বয়স ছিল ৯ মাসের কম।
আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই এক থেকে নয় বছর বয়সী, যাদের অর্ধেকই টিকার একটি ডোজও পায়নি। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু টিকাদানের আওতার বাইরে থেকে যায়, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ রোগ ছড়ানোর ঘটনা নয়; বরং দেশের সার্বিক টিকাদান কর্মসূচির ভয়াবহ ধস ও নীতিগত দীর্ঘসূত্রতার চরম পরিণতি।
বিশ্ব পরিসংখ্যান: শীর্ষ ১০ আক্রান্ত দেশের চিত্রবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদর দপ্তর জেনেভায় জমা হওয়া প্রাথমিক উপাত্ত অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত—এই ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম ও এর উপসর্গযুক্ত রোগী পাওয়া যায়। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ—৪২,১৭৪ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক তথ্যে হামের এই চিত্র উঠে আসার পর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশকে নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইইডিসিআর ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্ত বলছে, গত বছরের তুলনায় এবারের সংক্রমণ বহু গুণ বেশি। ২০২৫ সালে পুরো বছরে সারা দেশে নিশ্চিত আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭ জন এবং ২০২৩ সালে ২৮২ জন। অথচ এ বছরের কেবল মার্চ মাসেই রোগী পাওয়া যায় ৫ হাজার, এপ্রিলে তা হঠাৎ লাফ দিয়ে ২০ হাজার ছাড়ায় এবং মে মাসে নতুন করে ১৫ হাজার রোগী যুক্ত হয়। সংক্রমণের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলো (যেমন: কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর)। পাশাপাশি সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগেও রোগটির বিস্তার তীব্র।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির নজরদারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬ মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা এর উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বে এ সময়ে আর কোনো দেশে এত রোগী পাওয়া যায়নি। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (২৬,৬০৭ জন) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন (১৪,৫২১ জন)। যেখানে গত চার বছর (২০২২–২০২৫) দেশে বছরে গড়ে মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী পাওয়া যেত, সেখানে এই বছর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিয়েছে।
দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, বাংলাদেশে এবার হামে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বৈশ্বিক বিচারে সম্ভবত সর্বোচ্চ। টিকাদানে বাংলাদেশের যে ঐতিহাসিক অর্জন ছিল, সমন্বয়হীনতার কারণে তা বড় ধাক্কা খেল।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতে, জরুরি ভিত্তিতে টিকা থেকে বাদ পড়া কোটি শিশুকে চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনতে না পারলে এই মহামারি রূপ নেওয়া হাম সংকট নিকট ভবিষ্যতে আরও বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় তৈরি করবে।
প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টিকায় বাংলাদেশের যে উজ্জ্বল অতীত ইতিহাস ছিল, তা আমরা অবহেলার কারণে হারিয়েছি। ডব্লিউএইচওর প্রাথমিক ডেটা নিশ্চিত করছে যে আক্রান্তের দিক দিয়ে আমরা বিশ্বে শীর্ষে। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এবার বাংলাদেশে হামে মৃত্যুর হারও সম্ভবত বিশ্বে সর্বোচ্চ। টিকা নেওয়ার পরও যদি শিশুরা মারা যায় বা লক্ষাধিক বাদ পড়ে যায়, তবে আমাদের পুরো নজরদারি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা জরুরি।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হার্ড ইমিউনিটি এক দিনে ভেঙে পড়ে না। বিগত দুই বছরের ঘাটতি আজ দেশের শিশুদের বিপদগ্রস্ত করেছে। অবিলম্বে বাদ পড়ে যাওয়া প্রতিটা শিশুকে চিহ্নিত করে ‘ক্যাচ-আপ’ ক্যাম্পেইন না করলে, এই বিপর্যয় শুধু এ বছর নয়—আগামী বছরগুলোতেও প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত। বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তার সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেনো আবাসন খাতে অনিয়ম করতে না পারে, সে লক্ষে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে দেশের আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ, ড্যাপ (DAP) বাস্তবায়নের ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা এবং এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধিদল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
যৌক্তিকভাবে FAR (Floor Area Ratio) বৃদ্ধি এবং রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উল্লম্ব (Vertical) নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, রিহ্যাবের সহ-সভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) নাসির মজুমদার, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান এবং স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম।
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জনগণকে সঠিক তথ্য দিতে সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে ডিজেলের মজুত আছে ৩১ দিনের। এ ছাড়া ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২৫ দিনের ফার্নেস ওয়েল ও ২০ দিনের জেট ফুয়েল মজুত আছে।
জ্বালানির এই মজুত স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি দাবি করে মনির হোসেন বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আসবে। আগামী আগস্টে ডিজেল আসবে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার টন। আগামী ৪৮ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না।
তেলের সংকট না থাকার কথা জানানো হলেও গ্যাস–সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহে চাপ কমেছে। কোথাও কোথাও সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন আশা দিয়েছেন, এটি সাময়িক সমস্যা এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও বলেন, দুটি এফএসআরইউর একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কিছু সিএনজি স্টেশন প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না এবং কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাময়িক সমস্যা। মেরামতের কাজ চলছে এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুগ্ম সচিব জানান, পরিবহনে এই সংকট শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ, জ্বালানি তেল সরবরাহে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে সারা বিশ্বে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আবার তেমন সংকটের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়।
মনির হোসেন বলেন, দুয়েকটি মিডিয়ায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জনগণকে জানানো উচিত। অনেক সময় গুজব পীড়াদায়ক হয়। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। দেশে গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট জানিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিছু ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা। সরকার চেষ্টা করছে ঘাটতি কমাতে।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অতীতে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ যথেষ্ট না হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়ছে।
এই নির্ভরতা কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান যুগ্ম সচিব মনির হোসেন। তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একনেক সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি নতুন কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আধুনিক জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোনো নির্দিষ্ট গোত্র, ভাষা, বর্ণ কিংবা ধর্ম আর জাতীয় পরিচয়ের একক নির্ধারক নয়। বরং একটি ভূখণ্ডের বহুমাত্রিকতা, অভিন্ন স্বার্থ ও যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই এই আধুনিক জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বুধবার (২২ জুলাই) বলেছেন, বাংলাদেশ যখনই কোনো দুর্যোগ বা মানবিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, চীন বরাবরই তার পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রয়োজনের সময়ে ঢাকার প্রতি বেইজিংয়ের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এখানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে সংস্থাটিকে (বিডিআরসিএস) জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ লাখ মার্কিন ডলার হস্তান্তরকালে তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে চীনের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছে।’
রাষ্ট্রদূত চীনের রেড ক্রস সোসাইটির পক্ষ থেকে দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য বিডিআরসিএস-এর চলমান জরুরি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এই অর্থ দান করেন।
বিডিআরসিএস-এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম সংস্থার পক্ষ থেকে এই সহায়তা গ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে ইয়াও বলেন, ‘ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখ লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই অনুদান বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীন সরকার ও জনগণের আন্তরিক উদ্বেগ এবং সংহতির প্রতিফলন।’ ইয়াও বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই কোনো দুর্যোগ বা মানবিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, চীন বরাবরই সহায়তা প্রদান করেছে।’
তিনি বলেন, ‘জরুরি সহায়তার বাইরেও চীন বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে আসছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর চীন বিডিআরসিএস-কে জরুরি সরঞ্জাম দান করেছিল, যা এখন চলমান বন্যা মোকাবিলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনে বিডিআরসিএস স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যাপারে চীনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিআরসিএস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম চীন সরকার ও জনগণ এবং রেড ক্রস সোসাইটি অফ চায়নার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা চীন সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্গম কিছু এলাকায় কাজ করছেন।’
সালাম বলেন, ‘চীনের এই সহায়তা বিডিআরসিএস-কে তার জরুরি কার্যক্রম আরও প্রসারিত করতে সক্ষম করবে, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য সহায়তা, নিরাপদ পানীয় জল, অস্থায়ী আশ্রয় ও স্বাস্থ্যবিধি কিট বিতরণ এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান।’
বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরে সালাম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে। অনুষ্ঠানে বিডিআরসিএস গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিচালিত তাদের জরুরি কার্যক্রমের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জানায়, জরুরি কার্যক্রমের জন্য এ পর্যন্ত ৩.৩৯ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিডিআরসিএস ২,৫০০-এর বেশি খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ করেছে, ২২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে, ২ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে এবং ৩৭ হাজার লিটারের বেশি নিরাপদ পানি বিতরণ করেছে।
এ ছাড়াও, জরুরি কার্যক্রমের জন্য সংস্থাটি ১২টি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট সক্রিয় করেছে এবং ৩,৫০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিডিআরসিএস-এর ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল কবির, কোষাধ্যক্ষ ড. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা এবং মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম (এনডিসি) উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি), চীনা দূতাবাস এবং রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি দেশের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন তার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর ও ক্ষমতাবান হয়। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ পয়গাম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, বিচার, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে সেই কাঙ্ক্ষিত শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন সময় এসেছে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়নের।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। জনগণের সমস্যা, চাহিদা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের মতো আর কেউ এতটা জানেন না। তাই দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কল্যাণে ট্রাস্ট ও তহবিল গঠনের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনসহ আগামীতে সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ভোটেই চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।
মন্ত্রী সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সব বিভাগ ও জেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিটি গঠন করতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, দেশের স্বার্থে বিশ্বাসী সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, তৃণমূলের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মাধ্যমেই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণসহ সব ধরনের কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে এটি বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তাঁর সদয় সম্মতি দিয়েছেন এবং এই খাতে বিনিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখনই প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘বণিক বার্তা’ আয়োজিত "বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর" শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারণী সম্মেলনে (পলিসি কনক্লেভ) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
বক্তব্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে পরিচালিত হলে সেখানে স্বচ্ছতা অনেক বেশি বজায় থাকে এবং এতে রাষ্ট্রীয় কোশাগারের ওপর অযথা চাপ ও দায় অনেকটাই কমে আসে।
তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় বিপুল বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া উচিত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বিভিন্ন বৃহৎ সিটি ও অঞ্চলে পৃথক পৃথক বেসরকারি কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে গ্রাহকসেবার মান বহুগুণ বাড়বে এবং বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও সিস্টেম লস উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত পলিসি কনক্লেভে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিনিধিরাও তাঁদের দিকনির্দেশনামূলক মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ট্রানজিশন ও ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম রিজওয়ান খান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইডিকল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হক এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সংস্থান করা হয়েছে।
একনেক চেয়ারপারসন হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি বড় উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো হলো ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (১ম সংশোধন)’, ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় নতুন কূপ খননের প্রকল্পগুলো সভায় সবুজ সংকেত পেয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার সংক্রান্ত সংশোধিত প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়।
একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ১১টি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট নির্মাণ, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়ক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালীকরণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও বরিশালসহ ছয়টি জেলায় বিটাকের কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটিও সভায় আলোচিত হয়।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী "চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার)" গঠনের লক্ষ্যে দুই দেশের সার্বিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি পরিবহন করিডোর উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এছাড়া জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়েও উভয় নেতা মতবিনিময় করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।