ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজত থেকেই সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ক। আজ রোববার (২৮ জুলাই) রাতে সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের এ ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা লিখিত বার্তায় এ ঘোষণা দেন।
সমন্বয়করা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও তার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকেই অপ্রত্যাশিতভাবে আহত-নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।
আরও বলেন, আমাদের প্রধান দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার, যা ইতোমধ্যে সরকার পূরণ করেছে। এখন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাই।
সার্বিক স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি, বলেন সমন্বয়করা। লিখিত বার্তায় স্বাক্ষর করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, মো. আবু বাকের, আসিফ মাহমুদ, নুসরাত তাবাসসুম।
সাবেক সচিব ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকারকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীরসঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
তিনি বলেন, একটি ভালো খবর আপনাদের আমরা দিতে চাই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি দাবি উত্থাপন করেছিলাম, জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে। আজকেই উনি আমাদের একটি ভালো খবর দিয়েছেন; সেটি হচ্ছে আমাদের সম্প্রদায়ের একজন বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি বিজন কান্তি সরকার, এখানে আমাদের সঙ্গেই আছেন। ওনাকে আজকেই উনি (প্রধানমন্ত্রী) অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছেন, একটু পরেই আপনারা এই সুখবরটি জানতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত দশ থেকে এগারো দিনের জন্য রয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে দেশে আসছে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন তেল। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আরও কিছু চালান আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার এপ্রিলে কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখছে না এবং আশা করা হচ্ছে, মাসের চাহিদা মেটানোর পর তেল কিছুটা উদ্বৃত্তও থাকবে।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পে-পাম্পে লম্বা সারি, গাড়ির চাকা থমকে আছে। এতে অনেকের দৈনন্দিন জীবিকাতেও প্রভাব পড়ছে। এটি এখন রাজধানীর নিত্যদিনের বাস্তবতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
রাইডশেয়ার চালকরা জানিয়েছেন, পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার পরও কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ অল্প পরিমাণ তেল নেওয়ার পর গাড়ি ঠিকমতো চালানো সম্ভব নয়। ফলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে চাকরিজীবী মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, তেলের সংকটের কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এতে অফিসের কাজ সময়মতো করা এবং ক্লায়েন্টের কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরাও জানিয়েছেন, পাঁচ লিটার তেলের জন্য সারাদিন পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে, যার ফলে তেল অপচয় হচ্ছে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে শুধু গ্রাহকই নয়, সরকারেরও ক্ষতি হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের এই করুণ চিত্র জ্বালানি তেলের মজুত প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। মার্চের শেষে তেলের মজুত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিজেল আছে ১০-১১ দিন চলার মতো, অকটেন ৬-৭ দিন, আর পেট্রোল মজুত রয়েছে ৮-৯ দিনের চাহিদা মেটানোর জন্য।
তবে এর মানে এই নয় যে, ১০ দিনের মধ্যেই দেশ তেলশূন্য হয়ে যাবে। জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, সরবরাহ পাইপলাইনে এখনও বেশ কিছু চালান রয়েছে। এর মধ্যে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার টন এবং ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসবে।
এর পাশাপাশি, মধ্য এপ্রিলে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসার কথা রয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, “ক্রুড অয়েলের তিনটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে লোডেড অবস্থায় আছে। হরমুজ প্রণালির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলে সেগুলো দেশে আনা সম্ভব হবে। এজন্য সব বিকল্প পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এপ্রিল মাসে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “দেশীয় উৎস থেকে ৩০০ টন অকটেন সরবরাহ করা হবে এবং আমদানির মাধ্যমে আরও ৫০০ মেট্রিক টন যোগ হবে। এই মোট ৮০০ টন অকটেন দিয়ে দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। মনির হোসেন চৌধুরী যোগ করেন, “পর্যাপ্ত কাঁচামাল ফ্র্যাকশন প্লান্টে রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।”
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এদের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। মাঠের চিত্র দেখাচ্ছে, পাম্পে সমস্যা, লম্বা সারি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন মন্তব্য করেছেন, জনগণ প্যানিক বাইং করছে, কিন্তু সরকার কেন তাদের আশ্বস্ত করতে পারছে না, সেটাই প্রশ্ন। সরকারের উচিত এমপিদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে জনগণকে বোঝানো যে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া, সংকটকে সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি ব্যবহার ও চাহিদা কমানোর আগাম সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
দেশে হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়াকে বজ্রপাতের সঙ্গে তুলনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন যে, এই পরিস্থিতির জন্য তাদের পূর্ব কোনো প্রস্তুতি ছিল না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের কথা স্বীকার করেন। এর আগে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে এই ‘ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন’ বা জাতীয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে।
ইতিহাসে এর আগে এত অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এমন বড় কোনো টিকাদান অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে আগামী শুক্র ও শনিবারের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় টিকা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহের বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বর্তমানে টিকার যে ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে। জরুরি এই পরিস্থিতিতে সরকারি সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আকস্মিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের এই তড়িৎ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সেই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যদিও এই মহামারিটি হঠাৎ করে এসেছে, তবুও সরকার তার সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
আগামী রোববারের মধ্যে ফিল্ড লেভেলে ভ্যাকসিন পুশ বা টিকা প্রদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার মাধ্যমে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ আশা প্রকাশ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা চলমান থাকায় দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রচেষ্টায় সরকারকে সহযোগিতা করতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টা মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে হোটেল, ফার্মেসি এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান, কাঁচাবাজার এর আওতা বহির্ভূত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বুধবার (১ এপ্রিল) সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর কাছে পাঠানো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর একটি ব্যক্তিগত পত্র হস্তান্তর করেন।
পত্রে প্রধানমন্ত্রী চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব, সরকার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতি ব্যক্ত করেন।
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক হামলা, প্রাণহানি, আহতের ঘটনা এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একইসঙ্গে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীকে নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠককালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই যুদ্ধে তাদের দেশে ইরানের আক্রমনে দুইজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ায় তার সরকারের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের সরকার সেদেশে অবস্থিত সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধ পরিকর। তিনি এই যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময়ে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় এবং উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সফর করছেন, যার লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট দেশের নেতৃত্বের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এ অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ৪টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহমান সানি চারটি মন্দিরে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চেক বিতরণ করা মন্দিরগুলো হলো- ভাষানটেক বিআরপি সার্বজনীন মন্দির, শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির (মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সংলগ্ন), আইডি হাসপাতাল সার্বজনীন পূজা মন্দির এবং শ্রী শ্রী শিবকালী পূজা মন্দির (টেম্পো মোড়, মহাখালী)।
চেক বিতরণের সময় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্দিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পুরোহিত ও পূজারিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে চলমান জ্বালানি তেল সংকট সামাল দিতে সিএনজি ও এলপিজি কনভারশনের দিকে ঝুঁকছেন ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা। আমদানিকৃত অকটেন ও ডিজেলের দামের বিপরীতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির পরিচালন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের বিচারে বর্তমানে সিএনজির চেয়ে এলপিজিই (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) গ্রাহকদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এক সময় সিএনজি কনভারশন জনপ্রিয় থাকলেও এখন ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ এলপিজি বেছে নিচ্ছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইঞ্জিনের সুরক্ষা। সিএনজির তুলনায় এলপিজিতে ইঞ্জিনের ক্ষতি কম হয়, সিলিন্ডারের ওজন হালকা এবং গাড়ি চালানোর অনুভূতি প্রায় অকটেনের মতোই আরামদায়ক। এছাড়া সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের বিড়ম্বনা না থাকা এবং দেশজুড়ে এলপিজি স্টেশনের সহজলভ্যতা এই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ১ লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা হলেও সমপরিমাণ এলপিজি মিলছে মাত্র ৬২ টাকায়। সাউদার্ন অটোমোবাইলসের তথ্যমতে, অকটেনের তুলনায় সিএনজিতে খরচ ৭০ শতাংশ এবং এলপিজিতে প্রায় ৪০ শতাংশ সাশ্রয় হয়। দীর্ঘ মেয়াদে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকলেও যারা দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গাড়ি চালান, তাদের জন্য এই কনভারশন পদ্ধতি অত্যন্ত লাভজনক।
রাজধানীর তেজগাঁও ও এর আশপাশের মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ, এইচএনএস অটো সলিউশন এবং সাউদার্ন অটোমোবাইলসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কনভারশন সেবা দিচ্ছে। জানা যায়, এলপিজি কনভারশনে মানভেদে খরচ পড়ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অপরদিকে সিএনজি কনভারশনে ধরনভেদে ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল-এর মাধ্যমে ২৯ হাজার থেকে ৬৯ হাজার টাকায় এই সেবা পাওয়া সম্ভব। কনভারশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
এইচএনএস অটো সলিউশনের অপারেশন ম্যানেজার দীপক কুমার সরকার বলেন, দেশে চলমান গাড়ির প্রায় ৭০ শতাংশই টয়োটা ব্র্যান্ডের, যা এলপিজি ও সিএনজি উভয় মাধ্যমেই সহজে রূপান্তরযোগ্য। বর্তমানে জ্বালানি সাশ্রয়ের এই প্রবণতা পূর্বের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শত শত ছোট-বড় কনভারশন সেন্টার গড়ে উঠলেও নিরাপত্তার স্বার্থে মানহীন সিলিন্ডার এড়িয়ে ব্র্যান্ডের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদী লাভের আশায় স্বল্পমেয়াদী সাশ্রয় যেন বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এদেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশ্বাস করে— এদেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে।’
সংসদে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ যাদের নির্বাচিত করেছেন, সেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সকল কর্মসূচি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর ফাঁকা প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কেউ কেউ তো টিকিটও বিলি করেছিল। তবে গত নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষ বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’সহ অন্যান্য কল্যাণমুখী পরিকল্পনার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়েছে।’
শেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের এই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে। তাদের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পালন করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)।
পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
সংসদ নেতা তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আদালত কর্তৃক দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ হাজার ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের (রংপুর ৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে প্রশ্নটি করেছেন-কতজন মানুষের কাছে আমরা কার্ড পৌঁছে দেব, মূল্যস্ফীতি হবে কি না, বাজেট কত, স্বাভাবিকভাবে বাজেট কত, এটি আমরা এখনই বলছি না। অর্থাৎ আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে বিষয়গুলো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আমরা যেহেতু প্রতি মাসে এটি সম্প্রসারণ করতে থাকব, অর্থাৎ অধিক সংখ্যক নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং অধিক সংখ্যক পুরুষ কৃষক কার্ড পাবেন-একবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই একবারে এটি করা সম্ভব নয়। সেজন্য প্রতি বছর আমরা বাজেটের পরিমাণ বাড়াব এবং প্রতি বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে।
তিনি বলেন, এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে আমরা এগোব এবং অবশ্যই এটি বাজেটে প্রাধান্য পাবে। আর আপনি যেটা বলেছেন মূল্যস্ফীতি হবে কিনা-আমরা তো টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না। কাজেই মূল্যস্ফীতি হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বরং আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন বাজারে যাবে, তখন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও নারীরা তা দেশের ভেতরেই ব্যয় করবেন। তারা এই টাকা বিদেশে পাচার করবেন না; বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে খরচ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন নারী এই টাকা দিয়ে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের খাদ্যব্যবস্থা বা ছোট কোনো ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ফলে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।’
উদাহরণ হিসেবে তারেক রহমান বলেন, ‘কোনো নারী যদি এই টাকা দিয়ে স্থানীয় মুদির দোকান থেকে পণ্য কেনেন, তাহলে ওই দোকানের বিক্রি বাড়বে। এতে দোকানির আয় বাড়বে এবং প্রয়োজনে তিনি নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে। দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ স্থানীয় শিল্পের পণ্য ব্যবহার করে। ফলে এসব উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি না যে এতে মূল্যস্ফীতি হবে। বরং অর্থনীতি আরও সচল ও শক্তিশালী হবে। হয়তো আগামী ছয় মাসে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে না, তবে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে অধিক সংক্রমণপ্রবণ উপজেলাগুলোতে এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ছয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সি সব শিশুকে এই টিকাদানের আওতায় আনা হবে।
টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরে তাদের এই টিকা ফেরত দেওয়া হবে। প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে অর্ধশতাধিক শিশু মারা গেছে।
এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শিশু; বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫; চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪; রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে এবং বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮ শিশু মারা গেছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী (৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রংপুর বিভাগ।
ইপিআই সারা বছর যে ১২টি রোগের জন্য ১০টি টিকা দেয়, সেগুলোর মধ্যে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকাও রয়েছে। হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের অধীনে ৯-১৫ মাস বয়সি শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছেন, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোয় মোট শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। বুধবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মরত আছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৫৭ এবং অন্যান্য শ্রেণিতে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৯৮০।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য শ্রেণিতে শূন্য পদ ৮ হাজার ১৩৬টি।
সদ্যবিদায়ী মার্চের পুরো সময়ে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্বাধীনতার পর এটিই দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, মার্চের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে (মার্চ ২০২৫) ৪৬ কোটি ডলার বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স আসে ৩০২ কোটি ডলার আর গত বছরের মার্চে এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের (২০২৫ সালের) মার্চে। ওই মাসটিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন)। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে, যার পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি বা ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টরা তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী মার্চে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটির (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। তবে এ সময়ে ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে-বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক, বিদেশি খাতের ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বলছেন, মার্চে ঈদ ঘিরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, এটি স্বাভাবিক একটি প্রবণতা। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এখনো কাজের সুযোগ বজায় আছে এবং বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও খুব বেশি না বাড়ায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সামনের মাসগুলোতে এই প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে, হুন্ডি কমে আসায় বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এখন স্বাভাবিক পর্যায় মনে হলেও এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষত, নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার পথ এখনো সীমিত থাকায় ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখনো সামষ্টিকভাবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর খুব বেশি পড়েনি। তবে ভবিষ্যতে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের মহানগর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়েও (সরকারি ও বেসরকারি) অনলাইন ও অফলাইন (সশরীর) মিলিয়ে (ব্লেন্ডেড) শ্রেণি কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান, প্রাথমিকের একাধিক সংগঠনের শিক্ষক নেতা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) প্রাথমিকেও তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সূত্র আরও বলছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জোড়-বিজোড় তারিখের ভিত্তিতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস পরিচালনা করা হতে পারে। শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস নেবেন এবং প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো অফলাইনে (সশরীরে) হবে।
এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে ক্লাস চালুর বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়েছিল।
জানতে চাইলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, সভায় প্রাথমিকেও সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষামন্ত্রী বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ‘অনলাইন ও সশরীরে’—দুই পদ্ধতি মিলিয়ে ক্লাস নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান। তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবেন। এরপর এটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত আসবে।
অনলাইনে ক্লাস চালুর ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটা যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা, শুধু বাংলাদেশের নয়; আমরা জানি না, এ সংকট কত দিন চলবে; সে কারণে আমরা ভাবছি, অনলাইন-অফলাইন দুভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা যায় কি না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা একটি জরিপ করেছি। সেই জরিপে ৮৫ শতাংশ মানুষ চাচ্ছে, তারা যেন অনলাইনে যায়। কিন্তু পুরোপুরি অনলাইনে যদি যাওয়া হয়, তাহলে আমরা আবার অসামাজিক হয়ে যাব। এটা নিয়ে আমরা ভাবছি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে দুটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
খালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নদী খাল জলাশয় যাতে কেউ দখল করতে না পারে সেজন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া সরকারে পূর্ব প্রতিশ্রুতি ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করছেন বলেও জানান মন্ত্রী।