মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীসহ সকলের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৪ ২০:৩৮

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি, সকল ধর্মের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

আজ সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ‘হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের মিশনের সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে সব ধর্মের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে এবং নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করছে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে তারা শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী এবং প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজশাহীতে আখচাষীদের প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষীকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ রাজশাহীতে আখচাষীদের প্রণোদনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর মাঝে ১২ কোটি প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আখচাষীদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষীদের মোবাইল একাউন্টে প্রদান করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেব। চাপটা দেওয়ার সাথে সাথে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষী ভাইদের একাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আখচাষীদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’

প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষীকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরা হলেন, আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা ছিলেন।

এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক: প্রধানমন্ত্রী

ঐক্য ধরে রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। আগামী হাজার বছরও যেন তারা একইভাবে সম্প্রীতি ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।’

আজ রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্য ধরে রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেমন সব ধর্মের মানুষ মিলে এ দেশকে স্বাধীন করেছি, তেমনি সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

বর্তমান সরকার সব মানুষের সরকার হতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করতে চায়। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদেরও সরকার হতে চাই; যারা ভোট দেননি, তাদেরও সরকার হতে চাই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে একনেক সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের আওতায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই— দয়া করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা বক্তব্য থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে। জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণ যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অতীতের রাজনীতির পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি। এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

সম্প্রীতি ও উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান :
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান।

বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় শিশুরা নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পূজারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার তাঁকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল ও নিপুণ রায় চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া ছাত্রদলের পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভট্টাচার্যসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।

মন্দিরের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে সৈয়দপুর থেকে রংপুরে আসার পথে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দু’টি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে একটি সামরিক বিমানে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রওনা দিয়ে ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ পিপিএম, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির পিপিএম, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন।

এরপর রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী এক অভিযানে উপস্থিত হয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

পরিস্থিতির জেরে রবিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের সেই নির্দেশনার পরই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।


নির্বাচিত

রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী

রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পূজামণ্ডপে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দির কমিটির সভাপতি বাবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ রংপুর জেলার সভাপতি রাম জীবন কুন্ড, রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়, মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ।

সকাল সাড়ে ৯টায় একটি সামরিক বিমানে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রউক) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ,বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী রংপুর যাত্রা পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ সড়কের দুই পাশে শত শত নেতা-কর্মী দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়।

এরপর রংপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা পূজামণ্ডপে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত নেড়ে সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।

সৈয়দপুর থেকে রংপুর সড়ক পথে দুই ধারে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। গাড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দিতে দেখা গেছে।

রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।

পূজার সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে এসআরবির তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিন স্তরের সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিন স্তরের সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিহত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চ পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে এসব কথা তুলে ধরেন এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা এসআরবি-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার আওতাভুক্ত। এসব অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যাতে কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়া ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেজন্য পুরো এলাকাকে নিশ্ছিদ্র তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

এসআরবি-১ অধিনায়ক আরও জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা প্রতিকূল পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

‘বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীরে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

আজ মঙ্গলবার সকালে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশে সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীরে সড়কের দুই পাশে সমবেত হাজারো মানুষের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।'

তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড; কৃষক কার্ড চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সরকারের পক্ষ থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা কি আমার সঙ্গে আছেন? এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানান।

এ সময় তিনি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে দেশ গড়ার কাজে একযোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।

রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে তিনি রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা প্রমুখ।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

আজ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী। আগামীকাল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বর্তমানের দেশ পুনর্গঠনেও সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সব সম্প্রদায়ের মানুষের রক্ত ও ত্যাগ মিশে রয়েছে; ফলে বর্তমানের দেশ পুনর্গঠনেও সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সবার মেধা ও শ্রমে ভর করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই জাতীয় প্রত্যাশা।

মঙ্গলবার রংপুরের পাগলাপীর এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশ পরিচালনার যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও খেটে খাওয়া প্রতিটি শ্রেণির প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের কল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক বোঝা লাঘবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সমাজের প্রবীণ গুরুজনদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে সরকারের এ ধরনের মানবিক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

চলমান শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রেক্ষাপট টেনে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান এবং সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি অটুট রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের মতো দেশ গড়ার লড়াইয়েও সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অবদান অপরিহার্য। এই ভূখণ্ডের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের সমান। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য এবং অবিচল পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।


নির্বাচিত

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী

শারদীয়া দুর্গা পূজার মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজা মন্ডপসমূহ পরিদর্শন করবেন।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শারদীয়া দুর্গা উৎসবের মহা নবমীতে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ঢাকা থেকে রংপুরের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে প্রধানমন্ত্রী রংপুর রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রংপুর রওনা হয়েছেন। সেখানে রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং পূণ্যার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।’

শারদীয়া দুর্গা পূজার মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজা মন্ডপসমূহ পরিদর্শন করবেন।

প্রেস সচিব বলেন, ‘তিন মহানগরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের পর রাতে ঢাকা ফেরবেন প্রধানমন্ত্রী।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের নীতি ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। এবার সরকার সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ব্যবস্থা নিয়েছে। বরাদ্ধ বেড়েছে, ছুটি বেড়েছে এবং পূজা মন্ডপগুলোতে সব ধরনের সহযোগিদতা করছে সরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিমানে রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের সহসভাপতি সংসদ সদস্য নিপুল রায় চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমূখ।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি : সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমান বন্দরের থেকে নীলফামারী সৈয়দপুর বিমাবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা, ১০টায় সৈয়দপুর বিমান বন্দর থেকে রংপুর রাধা গোবিন্দ মন্দিরে ধর্মসভা পূজামন্ডপ পরিদর্শন সাড়ে ১২টায় সৈয়দপুর বিমান বন্দর থেকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা, বেলা ১টা ১৫ মিনিটে শাহ মখুদুম বিমান বন্দর থেকে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দির পুজামন্ডপ পরিদর্শন, ২টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি।

বিকাল তিনটায় রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় যোগদান, বিকাল ৪টায় ১৫ মিনিটে শাহ মখদুম বিমান বন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা।

বিকাল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে জেএম সেন হল রহমতগঞ্জ পুজামন্ডপ পরিদর্শন, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি, রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমান বন্দরের অবতরণ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার মহাখালী ও বনানী পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানও ছিলেন।

মঙ্গলবার দুর্গাপূজার মহানবমী। পরের দিনই বিসর্জেনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয়া দূর্গা উৎসব। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র-চীন-কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও নতুন তিন থেকে চারটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর ছাড় ও প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাংলাদেশে বিনিয়োগের চালিকাশক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গ্যাস সংকট নিরসনে তিনটি থেকে চারটি নতুন এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।

নতুন জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাস করার সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে, সেখানে জ্বালানি হাব।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগের সরকারের আমল থেকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে’ পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার ‘কাজ করছে’ বলে তার ভাষ্য।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারে সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে রাজস্ব প্রশাসন পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতি প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। তিনি বলেন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক।


নির্বাচিত

সৌদির বন্দি তালিকায় নাম, শিরচ্ছেদের খবর জানত না ঢাকা

* সৌদির কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় * বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম দেশটির দেওয়া বন্দি তালিকায় ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় বা সাজা কার্যকরের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না ওই তালিকায়। গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অঞ্চলে বন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল। জবাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে তালিকা পাঠায়, তাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নামও ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বা সাজার বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না।

তালিকায় একজনের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে শুধু ওই তালিকার তথ্যের ভিত্তিতে তাদের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক কর্মকর্তা জানান, বন্দিদের তালিকা পাওয়ার পর প্রত্যেকের মামলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সবার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা কঠিন। তবে বাংলাদেশ মিশন নিয়মিত সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগার পরিদর্শন করে বন্দিদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করে। এসব উদ্যোগে কিছু ক্ষেত্রে বন্দিদের সাজা কমানোও সম্ভব হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির কেউ কনস্যুলার সহায়তা চেয়ে তাদের কাছে আবেদন করেননি।

পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং সাজা কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এ জন্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠানো কূটনৈতিক চিঠি বা নোট ভারবালের অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রমকল্যাণ উইং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক বার্তায় জানায়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাদের বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং গত ১৪ অক্টোবর সেই সাজা কার্যকর করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষ এর আগে বাংলাদেশকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বন্দির একটি তালিকা দিয়েছিল। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নামও ছিল। তবে এত বিপুলসংখ্যক বন্দির প্রতিটি মামলার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা একটি মিশনের পক্ষে কঠিন। তালিকা পাওয়ার পর ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি ও জরুরি মামলাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে, পুরো ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি ছিল, তা চিহ্নিত করতে সৌদি আরবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশনকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই বাংলাদেশির মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, রায় এবং সাজা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।


নির্বাচিত

জাপানের শ্রমবাজারে বড় সুযোগ, দক্ষ কর্মী তৈরিই চ্যালেঞ্জ

* কর্মসংস্থানে চুক্তি, কর্মী নিয়োগ শুরু ১ এপ্রিল * বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা * কর্মীদের সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। দেশটির ক্রমবর্ধমান শ্রমিকসংকটের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ ও তাদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন চুক্তি করেছে দুই দেশ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হওয়ার কথা। পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর বিধান থাকায় দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ কর্মী তৈরি, জাপানি ভাষা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (ইএসডিপি-এমওসি) চুক্তিটি গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সই হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায় সোমবার (১৯ অক্টোবর)। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে সই করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের সহযোগিতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। জাপানের স্থানীয় কর্মীদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা এবং নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও চুক্তিতে গুরুত্ব পেয়েছে। গর্ভধারণ বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণ করার সুযোগ থাকবে না।

শ্রমিকসংকটে জাপান, বাড়ছে বিদেশি কর্মীর চাহিদা: বাংলাদেশের জন্য জাপানের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের অন্যতম কারণ দেশটির জনমিতিক পরিবর্তন ও শ্রমিকসংকট। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকুচিত হওয়ায় বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে জাপান।

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর শেষে দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৭। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বিদেশি কর্মী নিয়োগের হিসাব সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, জাপানের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় বাজার হলেও প্রতিযোগিতাও তীব্র। কারণ, জাপানের নিয়োগদাতারা শুধু কর্মীসংখ্যা নয়, কাজের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, শৃঙ্খলা ও পেশাগত যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেন।

বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জাপান সেলের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। জাপানে কর্মসংস্থানের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিআইটিপি), স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডব্লিউ) এবং প্রকৌশলী ও বিশেষায়িত পেশাজীবীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা। তবে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নতুন চুক্তির আওতায় নিশ্চিত নিয়োগসংখ্যা নয়। কতজন কর্মী নেওয়া হবে, কোন কোন পেশায় নিয়োগ হবে এবং নিয়োগের শর্ত কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও বাস্তবায়ন কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থাও এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে জাপানে গিয়েছিলেন ৩ হাজার ৫৭৪ কর্মী। একই সময়ে নেপাল থেকে গিয়েছিলেন ৫৬ হাজার ৭০৭ জন। অর্থাৎ, জাপানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় নেপালের অবস্থান অনেক এগিয়ে ছিল। দক্ষ কর্মীর ঘাটতিকে এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভাষা ও দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি: জাপানে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু শারীরিক শ্রম দেওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। কাজের ধরন অনুযায়ী কারিগরি দক্ষতা, জাপানি ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতা, কর্মক্ষেত্রের নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

এ কারণে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণব্যবস্থাকে জাপানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি। প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যবহারিক কাজের অভিজ্ঞতা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং জাপানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

জাপানে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সরকার ইতিমধ্যে আলাদা ‘জাপান সেল’ গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সেলের কাজের মধ্যে রয়েছে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা নিয়ে সমন্বয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য প্রচার। এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সম্ভাব্য কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

নিয়োগব্যয় ও প্রতারণা ঠেকানো জরুরি: বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে নিয়োগের আগে চাকরির ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা, বিমা এবং অন্যান্য শর্ত স্পষ্ট করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা ভুয়া চাকরির প্রলোভন ঠেকাতে কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।

জাপানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, নিয়োগদাতার চাহিদা যাচাই এবং কর্মীদের চুক্তিপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংও নিয়োগের চাহিদা যাচাই, কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে।

নতুন চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন, তার ওপর নয়; বরং তারা কতটা নিরাপদে কাজ করতে পারলেন, ন্যায্য পারিশ্রমিক পেলেন কি না এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পেশাগত উন্নতির সুযোগ পেলেন কি না, তার ওপরও।

নারী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা: চুক্তিতে নারী কর্মীদের সমান সুযোগ এবং গর্ভধারণ বা সন্তান জন্মদানের কারণে বৈষম্য না করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিদেশে কর্মরত নারীদের নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকার এবং মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। তবে এসব অধিকার বাস্তবে কার্যকর করতে কর্মীদের চুক্তির শর্ত সম্পর্কে সচেতন করা, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা সহজ করা এবং প্রয়োজনের সময় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগদাতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জবাবদিহিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পরীক্ষা: বাংলাদেশের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ নতুন নয়; বরং নতুন চুক্তি বিদ্যমান সুযোগকে আরও সুসংগঠিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন জাপানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি, প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা, নিয়োগব্যয় স্বচ্ছ রাখা এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সরকারের বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাপানের নিয়োগদাতাদের প্রকৃত চাহিদা, পেশাভিত্তিক যোগ্যতা এবং নিয়োগের বাস্তব সক্ষমতার সঙ্গে পরিকল্পনার সমন্বয় করতে হবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে কর্মী নিয়োগ শুরুর উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা গেলে এই সুযোগ কর্মীদের আয় বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


নির্বাচিত

রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ১৯ হাজারেরও বেশি যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকায় নয় দিনে ঢাকা থেকে ১২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ১৯ হাজার ৩৭৭ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত ৫৯টি সরাসরি ফ্লাইট ও ৬৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই রুটে বিমান বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আগামী ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের।

অপরদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের; ভারতীয় এই এয়ারলাইন্সের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে দফায়-দফায় হামলা চালিয়েছে। এরপর থেকেই এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

১০ অক্টোবর দুপুরে রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে হামলা চালানো হয়েছে, তা সৌদিতে নিকট অতীতে চালানো সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা। এতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এবং আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি।

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে আরও হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তারা বলছে, জায়গাগুলো তাদের জন্য সঠিক লক্ষ্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার বদলা নিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা বলছে গোষ্ঠীটি।


নির্বাচিত

banner close