শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীসহ সকলের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৪ ২০:৩৮

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি, সকল ধর্মের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

আজ সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ‘হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের মিশনের সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে সব ধর্মের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে এবং নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করছে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে তারা শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী এবং প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন উপস্থিত ছিলেন।


শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালঙ্কার, নিষিদ্ধ ক্রিম ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্ক-করসহ এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট এ-শিফটের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

সংস্থাটি জানায়, দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ গ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সময় ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে ব্যাগগুলো তল্লাশি করে ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একই সময়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে আরও ১১১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

কাস্টমসের হিসাবে, উদ্ধার হওয়া সিগারেটগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রযোজ্য শুল্ক-কর এবং ৬২১ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স যোগ করলে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।

অভিযানে একই ফ্লাইটের যাত্রী মো. তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। তার পাসপোর্ট যাচাই করে কাস্টমস জানতে পারে, তিনি চলতি বছরের ১০ জুন শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার দেশে এনেছিলেন।

ব্যাগেজ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণালঙ্কার শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ না থাকায় নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়। এসব স্বর্ণালঙ্কারের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৫ টাকা এবং শুল্ক-করসহ মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া অভিযানে ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে কলকাতা থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১ লিটার বিদেশি মদ বা হুইস্কিও জব্দ করা হয়েছে। এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে ৬১০ দশমিক ৩০ শতাংশ শুল্ক-করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে বিদেশি সিগারেটের মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য ৩০ লাখ টাকা, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিমের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বিদেশি মদের মূল্য ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শুল্ক-করসহ জব্দ করা পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস আইন, ব্যাগেজ বিধিমালা ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে চোরাচালান, শুল্ক-কর ফাঁকি ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


নতুন দায়িত্ব পেলেন ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী, চার সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটি ট্রাস্ট আইন, বিধিমালা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অর্পিত দায়িত্ব ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, অধীনস্থ বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, হিসাব নিরীক্ষা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বও পালন করবে।

সরকারের আশা, নতুন এই নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের উন্নয়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে।

পুনর্গঠিত কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

* বাজারে দাম আকাশছোঁয়া * আড়তে বেচাকেনার উৎসবের বদলে নিস্তব্ধতা * মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি গভীর সংকটে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

ভরা মৌসুমেও দেশের নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের। চাঁদপুরের মেঘনা, রাজবাড়ীর পদ্মা কিংবা সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ—সর্বত্রই এখন ইলিশের তীব্র আকাল। আড়তগুলোতে বেচাকেনার উৎসবের বদলে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা, বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া, আর জেলেদের জালে উঠছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের পুরো মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি আজ এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।

উৎপাদন চিত্রে আশঙ্কাজনক ধস: মৎস্য অধিদপ্তরের জরিপ ও তথ্যানুযায়ী, দেশে ইলিশের উৎপাদনে এক উদ্বেগজনক নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন ছিল ৫,২৯,৪৮৭ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫,০০,২৮৮ টনে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৫.৫ শতাংশ। চলতি মৌসুমে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী উৎপাদন এখন পর্যন্ত ৪ লাখ টনের কাছাকাছি, যা কোনোভাবেই বিগত বছরের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংকটের নেপথ্যে চার কারণ: বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মানবসৃষ্ট নানা আচরণের প্রভাবেই মূলত ইলিশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

নদী-মোহনায় ডুবোচর ও নাব্যতা হ্রাস: পদ্মা-মেঘনাসহ প্রধান নদীগুলোতে পলি জমে বিশাল চর জেগে উঠেছে। ফলে পানির গভীরতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে মিষ্টি পানিতে মা-ইলিশের অবাধ যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অনিয়ন্ত্রিত ট্রলিং ও অবৈধ জাল: গভীর সমুদ্রে শিল্প ট্রলারগুলো নির্ধারিত সীমার বাইরে এসে তলদেশঘেঁষে ছোট ফাঁসের জালে মা-ইলিশ ও জাটকা নিধন করছে। পাশাপাশি নদী ও মোহনায় কারেন্ট জাল, সুতি জাল, বেহুন্দি এবং ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে রেনু ইলিশ ধ্বংস হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়া: সাগরে একের পর এক লঘুচাপ ও নিম্নচাপের কারণে দীর্ঘ সময় সমুদ্র উত্তাল থাকছে, ফলে ট্রলারগুলো গভীর সাগরে যেতে পারছে না। প্রজনন মৌসুমে পর্যাপ্ত ‘ইলশা বৃষ্টি’ না হওয়া এবং পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ইলিশ দিক পরিবর্তন করছে।

প্লাস্টিক ও পরিবেশ দূষণ: নদী ও সমুদ্রে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও শিল্প বর্জ্যের কারণে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রের পাশাপাশি এদের প্রধান খাদ্য ‘প্ল্যাঙ্কটন’-এর উৎস ধ্বংস হচ্ছে।

বিপন্ন উপকূলীয় অর্থনীতি ও মানবেতর জেলেজীবন: উপকূলীয় অববাহিকার সামগ্রিক অর্থনীতি ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল। চাঁদপুরের মেঘনায় আষাঢ়-শ্রাবণে হাজার হাজার নৌকার সমাগম ও মণ মণ ইলিশ বেচাকেনার যে দৃশ্য থাকত, তা এখন উধাও। ট্রলারের তেলের খরচই না ওঠায় সাধারণ জেলেরা অলস সময় পার করছেন। রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দে প্রমত্তা পদ্মা শুকিয়ে নালায় পরিণত হওয়ায় মাঝনদীতে জেগে উঠেছে বালুচর। দৈনন্দিন খরচ না ওঠায় পদ্মাপাড়ের এক-তৃতীয়াংশ জেলে পরিবার জাল গুটিয়ে ঘরে তুলে রাখছেন।

অন্যদিকে ভোলা ও পাথরঘাটার মতো উপকূলীয় সমুদ্রবন্দরগুলোতে মহাজন ও আড়তদারদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের বড় বোঝা চেপে বসেছে। বিগত বছরগুলোতে যেখানে ৫-১০ দিনে ৫০ থেকে ১০০ মণ মাছ পাওয়া যেত, সেখানে এখন একই সময়ে ৫ মণ মাছও মিলছে না। একটি নৌকায় দৈনিক গড় খরচ ১,০০০ টাকা হলেও মাছ বিক্রি করে মিলছে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। ফলে ট্রলারপ্রতি ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার দেনার বোঝা তৈরি হয়েছে। ঋণের জালে পিষ্ট হয়ে এবং বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ আজ চরম অনিশ্চয়তা ও অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

উত্তরণের কার্যকর রূপরেখা: প্রথাগত নীতি বা কেবল সাময়িক সামাজিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। ইলিশের ঐতিহ্য ও রূপালি সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনতে গবেষকরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এগুলো হলো- সাগরে শিল্প ট্রলারগুলোর চলাচলের জন্য জিপিএস (GPS) ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা এবং নির্দিষ্ট সীমার নিচে ট্রলিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। মা-ইলিশের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইলিশের প্রজনন পথ ও নদীর মোহনা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং নিশ্চিত করা। চায়না দুয়ারি ও বেহুন্দি জালের কারখানা এবং পাইকারি বাজারে সরাসরি অভিযান চালিয়ে বাজারে এগুলোর সরবরাহ বন্ধ করা। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর (যেমন: ভারত ও মিয়ানমার) সাথে সমন্বিতভাবে ইলিশ সংরক্ষণ ও নিষিদ্ধকালীন সময়সূচি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। নদীর মোহনায় প্লাস্টিক ও শিল্প বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা এবং সংকটকালীন সময়ে প্রকৃত জেলেদের কাছে দুর্নীতিমুক্তভাবে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা।

ইলিশ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ট্রলিং বোট নিয়ন্ত্রণ। এসব ট্রলারের ৪০ মিটারের বেশি গভীরতায় মাছ ধরার কথা থাকলেও অনেক সময় তারা কম গভীরতায় চলে আসে। সেখানে ছোট মাছ ও জাটকা বেশি থাকায় বিপুল ক্ষতি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সমুদ্রে অতিরিক্ত আহরণ হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও কমবে। সংরক্ষণ কার্যক্রমের সুফল আছে। তবে আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে, সেই সুফল টেকসই হয় না।’

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘কেবল স্বল্পমেয়াদি সামাজিক কর্মসূচি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ইলিশের জীববিজ্ঞান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে সমন্বিত গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’


গণিতের আন্তর্জাতিক আসরে ববি শিক্ষক ড. হেনা রানী 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হেনা রানী বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গণিত সম্মেলন ‘International Congress of Mathematicians (ICM)-2026’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জুলাই ২৩ থেকে ৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

‘ICM 2026’-এ বিশ্বের ৭৮টি দেশের গণিতবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে ৩ হাজার ৭৪২ জন নিবন্ধনকারীর মধ্যে ৩ হাজার ১৭০ জন অংশ নেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় গণিত বিভাগের ড. হেনা রানী বিশ্বাস সম্মানজনক ‘ICM-2026’ Travel Support Program Award অর্জন করেন। এই অ্যাওয়ার্ডের আওতায় তার বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, কনফারেন্স রেজিস্ট্রেশন ফি, আবাসন, স্থানীয় খাবার, স্থানীয় পরিবহন এবং হোটেলসংক্রান্ত পরিবহন ব্যয় বহন করা হয়।

সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ‘World Meeting for Women in Mathematics (WM²)’-এ ড. হেনা রানী তার গবেষণা উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট গণিতবিদ ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘এটা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আনন্দের বিষয়। গণিতের আন্তর্জাতিক একটি কনফারেন্সে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। শিক্ষকের এই অর্জন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্যও একটি গর্বের বিষয়।’


বাংলাদেশে বিভেদ-বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

আজ বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।’

আজ শুক্রবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।’

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সূত্র: বাসস


নতুন দায়িত্ব পেলেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি এই নতুন কমিটি গঠন করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ১৩ ধারার ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। এছাড়াও পদাধিকারবলে অর্থ সচিব, শিল্প সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই নির্বাহী কমিটির ওপর ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, অধীনস্থ বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম তদারকি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা। এছাড়া ট্রাস্টের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে হিসাব নিরীক্ষা ও সার্বিক প্রশাসনিক তদারকিতেও এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে।


তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ভারত, চীন নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছে, যা সম্প্রতি দেশটির লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করার পাশাপাশি অমীমাংসিত বিষয়গুলো পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সমাধান করার এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণপত্র ও সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

তবে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। প্রতিবেদনে বিশেষ করে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি সংস্কার এবং পেকুয়ায় নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটিতে চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কমিটি মনে করে, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য শঙ্কা তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদেশি শক্তির গতিবিধি গভীর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের নিজস্ব অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এই অবস্থান ‘মানবিক বিবেচনা ও ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে। পানিবণ্টন ইস্যুতে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ এ বছর শেষ হওয়ায় এর নবায়নকে দুই দেশের ‘অন্যতম অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তিস্তা চুক্তির বিষয়েও একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় নয়াদিল্লি।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিবেদনে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে যার বড় অংশই চিকিৎসার জন্য। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন বলে মনে করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছে ভারতের এই সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়াও লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ১২টি প্রকল্প বাতিল করে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।


বাড়ছে জনভোগান্তি, শিল্পে অস্থিরতা

* প্রেশার না থাকায় ঢাকার ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে * খোলা পাম্পগুলোতেও ২-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক   

বর্তমানে দেশে দেখা দেওয়া তীব্র গ্যাস সংকট এবং এর প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে তৈরি হওয়া অস্থিরতা জাতীয় অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পোশাক খাত, টেক্সটাইল, সিরামিক, ইস্পাত এবং ওষুধসহ বিভিন্ন প্রধান উৎপাদনমুখী শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, রাজধানীর একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাসাবাড়িতে লাইনে গ্যাস না থাকার ফলে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে।

অবশ্য এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি ত্রুটি মেরামত, আমদানিকৃত গ্যাসের গতি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় অনুসন্ধানের মতো সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দ্রুতগতিতে চলমান মেরামত কাজ শেষ হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সার্বিক চাহিদা ও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প চাহিদা রয়েছে, সেখানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে গড়ে মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এই বড় ধরনের ঘাটতি একদিনে তৈরি হয়নি; বরং স্থানীয় ক্ষেত্রগুলোর স্বাভাবিক অবক্ষয় এবং অতিসম্প্রতি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সম্মিলিত ফল এটি।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পরিচালিত এক্সিলারেট এনার্জির একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (FSRU) সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। টার্মিনালটি বন্ধ রাখতে হওয়ায় সেখান থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (RLNG) সরবরাহ হঠাৎ করেই দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট) কমে যায়। জাতীয় গ্রিডে এলএনজির এই হঠাৎ সরবরাহের অভাবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও আশুলিয়াসহ প্রধান প্রধান শিল্প এলাকায় মারাত্মক চাপহীনতা বা লো-প্রেশার তৈরি হয়।

পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের প্রথাগত ২২টি গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদন প্রাকৃতিকভাবেই দিনে দিনে কমে আসছে। ষাটের দশক থেকে এ পর্যন্ত দেশের ২৯.৭৪ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) আবিষ্কৃত মজুতের মধ্যে ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস ইতোপূর্বে উত্তোলন ও ব্যবহার করা হয়ে গেছে।

বর্তমানে দেশে অবশিষ্ট রিজার্ভ মাত্র ৭.৬৩ টিসিএফ। নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এই মজুত দিয়ে বড়জোর ১২ থেকে ১৩ বছর চলা সম্ভব হবে। প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে—

তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র: একসময় দৈনিক ৫৪ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করলেও বর্তমানে তা কমে ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ ঘনফুটে নেমে এসেছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ক্ষেত্র: পূর্বে দৈনিক ৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১ কোটি ৮৬ লাখ ঘনফুট।

বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র: যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন পরিচালিত এই বৃহৎ ক্ষেত্রটিতে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও তা বর্তমানে ৭৫ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুটে সংকুচিত হয়েছে।

উৎপাদন বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র: মজুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার রূপগঞ্জ ক্ষেত্রের উৎপাদন ইতোমধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সুন্দলপুর ক্ষেত্রের উৎপাদন যেকোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

গ্যাস সংকট ও সাথে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (REB) আওতাধীন এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টার অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ বা লোডশেডিংয়ের দরুন দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিল্পের চাকা মন্থর হয়ে পড়ায় পণ্য উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে।

প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের মূলধন থাকা টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাত দেশের তৈরি পোশাকের কাঁচামাল সরবরাহের প্রধান উৎস। আশুলিয়া, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের মিলগুলো প্রেশার না থাকায় ক্যাপটিভ জেনারেটর চালাতে পারছে না।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৩ লাখ স্পিন্ডলবিশিষ্ট একটি স্পিনিং মিলে যেখানে প্রতিদিন গ্যাসের বিল হতো প্রায় ২০ লাখ টাকা, সেখানে কারখানা সচল রাখতে কেবল বিকল্প ডিজেল কিনতেই দিনে প্রায় ৯০ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

সাভারের আশুলিয়ার লিটল স্টার স্পিনিং মিলসের অনুমোদিত গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই (PSI) থাকার কথা থাকলেও তারা পাচ্ছে মাত্র ০.৫ থেকে ১.৫ পিএসআই। এর ফলে কারখানাটি তার মোট ক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ সচল রাখতে পারছে।

সক্ষমতা কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের মাসিক বেতন, ইউটিলিটি বিল এবং ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার বায়ারদের কাছে পোশাকের শিপমেন্ট পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতারা সরবরাহকারীদের কাছে সার্বিক গ্যাস পরিস্থিতির খবরাখবর নিচ্ছেন এবং অর্ডার বাতিল বা অন্য প্রতিযোগী দেশে সরিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশের সার্বিক রপ্তানি আদেশের একটি বড় অংশ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রসেস ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে গ্যাস প্রেশার ওঠানামা করলে পুরো ব্যাচের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।

সিরামিক: বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, সদস্যভুক্ত ৭০টি কারখানার মধ্যে ২৫টি কারখানা গ্যাসের অভাবে ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

ইস্পাত: দেশের প্রায় ৪০টি স্বয়ংক্রিয় ইস্পাত কারখানায় গ্যাসে চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে কাজ চলে। উচ্চচাপের গ্যাস লাইনে টান পড়ায় বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। ফার্নেস একবার বন্ধ হলে নতুন করে চালুর জন্য অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি অপচয় হয়।

চামড়া: বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্যানারিগুলোতে চাহিদার তুলনায় মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ গ্যাস পৌঁছাচ্ছে। ফলে মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে নির্ধারিত ওভারহেড কস্ট বা পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের প্রায় ৩০০টি কারখানার অধিকাংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার ব্যবহার করে। ঢাকার বাইরের কারখানাগুলোতে বর্তমানে দিনে গড়ে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের অপ্রতুলতা দেখা যাচ্ছে। ফলে স্বয়ংক্রিয় প্রোডাকশন লাইনে ব্যঘাত ঘটছে, যা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির ওপর প্রভাব ফেলছে।

শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় গ্যাস সংকটের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে।

লাইনে গ্যাসের প্রেশার ৩ থেকে ৪ পিএসআইয়ের নিচে নেমে যাওয়ায় ঢাকার নিউমার্কেট, আজিমপুর, শাহবাগ ও ধানমন্ডি এলাকার অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাব চালকদের প্রতিদিনের কাজ শুরুর আগেই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

চালকরা জানান, আগে দিনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হলেও সিএনজি পাম্পের দীর্ঘ সারিতে দিনের সিংহভাগ সময় নষ্ট হওয়ায় আয় কমে ১ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। অনেকে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে ট্রিপ বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গৃহস্থালি জীবন ও পারিবারিক বাজেট: রাজধানীর মিরপুর, মগবাজার, চানখাঁরপুলসহ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ থাকছে। সকালে কিংবা দুপুরে পরিবারের জন্য খাবার রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে নগরবাসী বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা অথবা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার কিনে ব্যবহার করছেন। এটি সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক সংসার খরচের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ: উদ্ভূত জ্বালানি সংকটকে অত্যন্ত অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিবেচনা করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে নীতিগত এবং প্রকৌশলগত পর্যায়ে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির মেরামতের কাজ দিনরাত দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রকৌশলীদের মতে, এই সাময়িক ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে গ্যাসের চাপ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফিরে আসবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ দূর করতে এবং শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে সরকার সরাসরি শিল্পনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রী শিল্পখাতের সার্বিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকারের স্পষ্ট সদিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের কৌশল নির্ধারণে বিটিএমএ নেতাদের আশ্বস্ত করেন।

আমদানির ওপর একমুখী নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্যে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা বিস্তৃত অনুসন্ধান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতিপূর্বে ঘোষিত ১০০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রাকে সম্প্রসারিত করে বর্তমানে ১৫০টি কূপ খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি কূপ খনন করা হয়েছে, যা থেকে দৈনিক ১২ কোটি ৫৩ লাখ ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এই কর্মসূচি সম্পন্ন হলে দেশীয় ক্ষেত্রগুলোর স্বাভাবিক হ্রাস কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতে একক টার্মিনাল দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এবং গ্যাসের ধারণক্ষমতা বাড়াতে মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। এটি চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি বা জিটুজি (G2G) কাঠামোর আওতায় ‘চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (CNEE) কর্তৃক নির্মিত হবে। এই টার্মিনালটি চালু হলে দেশে গ্যাস আমদানির রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সমুদ্রভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর ব্লকে প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধানে সরকার ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডেকেছে। মার্কিন কোম্পানি শেভরনসহ একাধিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিতে এবং নতুন ব্লকে কূপ খনন করতে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

ভোলা ক্ষেত্র: বাপেক্স এর হিসাব অনুযায়ী ভোলার ক্ষেত্রে থাকা ২ থেকে ৩ টিসিএফ গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসতে পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়ে সমীক্ষা ও পরিকল্পনা জোরদার করা হয়েছে।


ঢাকায় সার্জিও গোর, বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ‘অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি’ হওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারা এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করাটা ছিল দারুণ। “অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি।”

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আস গোর ঢাকায় পা রাখেন বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে। পরে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এই মার্কিন কূটনীতিক। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে দুপুরে এক পোস্টে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালী করবে।’

সফরে সার্জিও গোর আজ শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সেখান থেকে ফিরে আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এ ছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের আগস্টের শেষে সার্জিও গরকে ভারতে যুক্তরাষ্ট্র মিশনের দায়িত্বে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় তাকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বর্ণনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গেল সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেখা বই প্রকাশের পাশাপাশি তার ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে কোটি কোটি ডলার তুলেছেন সার্জিও গোর।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মনে করা হয়।

বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গোর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।

সার্জিও গোর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এ সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গোরের চলমান সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও এ সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন।


মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিন্যালিটি’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কাউন্টার ট্রাফিকিং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন ক্রমেই পরিবর্তনশীল ও জটিল হয়ে উঠছে। অপরাধী চক্রগুলো এখন শুধু প্রচলিত পদ্ধতি নয়, ডিজিটাল মাধ্যম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে।

তিনি বলেন, আকর্ষণীয় চাকরি ও উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন, ভয়ভীতি এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মানবপাচার চক্র ডিজিটাল প্রযুক্তিকে অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই হুমকি মোকাবিলায় শুধু প্রথাগত আইনশৃঙ্খলা-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সচেতন নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন বা ইউএনটিওসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইনটি করা হয়েছে। এতে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রলোভন এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। আইনের বাস্তবায়ন দ্রুত করতে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এতে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, অপরাধীর বিচার এবং অংশীদারত্ব— এই চারটি প্রধান স্তম্ভকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মর্যাদা, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভুক্তভোগী প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম বা এনআরএম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার করে আইনি, শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং মানবপাচারসংক্রান্ত মামলার কার্যকর অনুসরণ নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তরুণ, নারী ও বিদেশগমনেচ্ছু মানুষের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং ভুয়া নিয়োগ চক্রের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা চান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘ অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ডে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। দিবসটির প্রতিপাদ্যের ওপর বক্তব্য দেন ইউএনওডিসির প্রোগ্রাম অফিস বাংলাদেশের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান। উদ্বোধনী পর্বে মানবপাচারবিষয়ক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান।

পরে ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দি: জোরপূর্বক অপরাধে নিয়োজিত করতে মানবপাচার, প্রতারণামূলক নিয়োগ ও অনলাইন শোষণ মোকাবিলা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা হয়।

ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনিম বিনতে করিমের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সিআইডির প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি আলী আকবর খান, ঢাকায় ইতালি দূতাবাসের ইতালিয়ান স্টেট পুলিশের প্রতিনিধি জুসেপ্পে দি জিওভানি, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান এবং কম্বোডিয়ার অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরা নাহিদ আরমান।

এরপর মুক্ত আলোচনা এবং ‘ট্র্যাপড ইন পারস্যুইট অব আ বেটার লাইফ’ শীর্ষক সচেতনতামূলক পুতুলনাচ প্রদর্শিত হয়।

জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে ঢাকা: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে, এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্য ঠিক করেছি। আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করায় মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান মাহদী আমিন। ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলের সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।’

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে বেশ কিছু শ্রমিক ভাই-বোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সকলে ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।’

দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন মন্তব্য করেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সাথে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রবাসে কর্মসংস্থানের সূচনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যাত্রা শুরুর কথা স্মরণ করে তিনি বলছিলেন, ‘প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারেও তাদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপি সবসময় একটি প্রবাসীবান্ধব দল হিসেবে প্রবাসীদের স্বার্থ, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।’

মালয়েশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।’

মাহদী আমিনের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।’


এডিপি বাস্তবায়নে টানা অবনতি, পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আওতায় মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকার উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়িত হয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। ফলে টানা দ্বিতীয় অর্থবছরের মতো এডিপি বাস্তবায়নের হার ৭০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।

আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের বছর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও কমে হয় ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশে এবং সর্বশেষ অর্থবছরে আরও কমে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে।


জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে লাভজনক চেতনা বানাবেন না: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সমাজে যখনই অন্যায় ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।

আওয়ামী লীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করেছে, জুলাইয়ের চেতনাকে সেভাবে বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনির্বাণ চেতনা জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে মুক্তিযুদ্ধের অবদান ভুলে যাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করতে দলের চেয়ারপার্সন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অসীম শ্রদ্ধায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে দেশবাসী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করে সফল হয়েছে। এখন দেশ গড়ার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন।


banner close