ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে চান বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাত মন্ত্রী, চার সচিব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা জননিরাপত্তা এবং ঝুঁকি বিবেচনা নিয়ে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে চাই।
এর আগে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কারফিউ, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ, চলমান বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনায় বসেন সাত মন্ত্রী, চার সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা।
বৈঠকে মন্ত্রীদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব, বাণিজ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা বিভাগের দুই সচিবও ছিলেন বৈঠকে।
এ ছাড়া আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং র্যাব, বিজিবি ও আনসার প্রধানসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীর অন্য দেশগুলো সুন্দর। জিন-ভূত নয়—মানুষই সেই সব দেশ সুন্দর করেছে। এ দেশের মানুষ একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ২০২৪–এর আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছে। এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে, প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা, যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের থেকে সজাগ থাকতে হবে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন তিনি।
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাল কাটা জরুরি। দেশের সব খাল ভরাট হয়ে গেছে। এমনকি বর্ষার মৌসুমেও খরা হয়, অনেক জায়গায় পানি অভাবে চাষাবাদ করা যায় না। আমরা এই বর্ষার পানিটাকে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাই। উজানের সময় যে পানি পাওয়া যাবে সেটাকে ধরে রাখতে চাই, যাতে শুষ্ক মৌসুম এবং বর্ষা মৌসুম দুইভাবেই কৃষকরা উপকৃত হয়। আগামী ৫ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এটা আজ সাহাপাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এই খালটির সঙ্গে পুনর্ভবা নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এই নদীর জলস্রোত ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে, যা পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সেই কাজগুলো করা যে কাজগুলো করলে মানুষের উপকার হয়। যে কাজগুলো করলে মানুষ খুশি হবে। আমরা চেষ্টা করি সেই কাজগুলো করতে এবং সেই কারণেই আজ আমরা একত্রিত হয়েছি এই সাহাপাড়া খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই খালটি প্রায় ১২ কিলোমিটার লম্বা। যখন সম্পূর্ণভাবে কাজ শেষ করতে পারব, তখন ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি নিয়ে ১২০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনতে পারবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবে। শুধু তাই নয়, এই এলাকার কৃষক ভাইবোনের এখন যা ফসল উৎপাদন হচ্ছে তার থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিকটন বেশি ফসল উৎপাদন হবে।’
কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষকের পাশে থাকতে চাই। আমরা নির্বাচনী ওয়াদা করেছিলাম ভোটে জয়লাভ করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেবার ওয়াদা করেছিলাম। সরকার গঠনের পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিএনপি কৃষকের কথা মনে রেখেছে। সেই বৈঠকে কৃষিঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি।’
কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিরাট দেশ। ২০ কোটি মানুষের বসবাস এই দেশে। এত মানুষের জন্য খাবার দাবার বিদেশ থেকে কি আনা সম্ভব? এই খাবার আমাদের এই দেশেই উৎপাদন করতে হবে। বিশেষ করে ধান-চালসহ মৌলিক খাবারগুলো এই দেশে উৎপাদন করতে হবে। আমাদের দেশের মাটি উর্বর। শুধু খাল নয়, খালের দুইপাশে ৬০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। সেইসঙ্গে খালের দুই পাশে চলাচলের জন্য রাস্তা করে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালে পানি না থাকায় আমাদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে হয়। আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে যতটুকু গভীরতায় পানি পাওয়া যায় এখন পানি পেতে আরও বেশি গভীরতা প্রয়োজন হয়। ওই পানি কমে গেলে আমাদের বিপদে পড়তে হবে। এজন্য মাটির উপরের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য মাটির গভীরের পানি রেখে দেওয়া যায়। খাল-নদী খনন করে আমাদের সেই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী ওয়াদায় আমরা ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। আমরা এরইমধ্যে সেই কাজটি শুরু করেছি। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এরইমধ্যে ৩৭ হাজার মা-বোনের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। ধীরে ধীরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম সেই কাজগুলো শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের জন্য যেভাবে সুদ মওকুফ করেছি, মা-বোনদেরকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি একইভাবে কৃষকভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব। যা আগামী মাস থেকে চালু হবে। ক্ষুদ্র-প্রান্তিক ও মধ্যম চাষীদের কাছে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। যাতে করে এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।’
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার হচ্ছে কৃষকের বন্ধু। কৃষক ভালো থাকলে কৃষাণী ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। বাংলাদেশের কৃষিকে আমরা শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে চাই।’
উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে যারা কৃষি সংক্রান্ত দ্রব্য নিয়ে মিল-কারখানা করেছে। আমরা এরইমধ্যে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, এই এলাকায় কি কি কৃষি নির্ভর মিল-কারখানা গড়ে তোলা যায়। যাতে করে এখানকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের মানুষই ৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ২০২৪ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছিল। কাজেই এই দেশের মানুষই শহীদ জিয়ার সময়ে খাল খননের মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিদেশে রপ্তানি করেছিল। এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা। আর সজাগ থাকতে হবে। যারা বিভিন্ন রকম কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা করতে চায়। মিষ্টি কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদেরকে সাবলম্বী করে তোলা, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে দেশের মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, ভবিষৎ প্রজন্মকে মানুষ করে গড়ে তোলা। মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে আজকে দেশ গড়ার কর্মসূচি শুরু হলো। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেই বাংলাদেশের মানুষ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এই কর্মসূচি কতটুকু সফল হলো তার খোঁজ রাখব এবং খাল খনন সম্পন্ন হলে দেখতে আবার আসব।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বোচাগঞ্জ-বিরল আসনের এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, প্রকল্প এলাকার বীরগঞ্জ-কাহারোল আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা প্রমুখ।
এর আগে, কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে যান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর শহরে ফরিদপুর কবরস্থানে নানা-নানীসহ নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করেন। বিকেল ৫টায় শহরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দিনাজপুরের সুধী সমাবেশ ও ইফতার এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দিনাজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে এখনো স্বাভাবিক রয়েছে বাস চলাচল। তবে তেলের জন্য ভোগান্তি এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করার অভিযোগ করেছেন পরিবহনকর্মীরা।
সোমবার বিকেলেও মহাখালী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় নেই। এখনো ঈদের চাপ পড়েনি। কাউন্টার থেকে সহজেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সড়কে যানজট না থাকায় বাস পেতেও সমস্যা হচ্ছে না।
এসি বাসের অপেক্ষায় থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘আজকে ঝামেলা কম। আমি এসির জন্য চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এখনো এসি বাস আসেনি। তাই নন-এসির টিকিট কাটলাম। আমার খুব বেশি সময় লাগেনি। আমি দুই-তিন মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। গাড়ি থাকলেই সিট পাওয়া যাচ্ছে।’
তবে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান পরিবহনকর্মীরা। বেতন-ভাতা নিয়েও অসন্তুষ্ট তাঁরা। এক বাসচালক বলেন, ‘আসার রাস্তা পুরোই যানজটমুক্ত ছিল। তবে বনানী থেকে মহাখালী আসতেই বেশি সময় লেগেছে। এটুকু রাস্তা এসেছি দুই ঘণ্টায়। রাস্তায় যতগুলো তেলের পাম্প আছে, সবাই বলছে তেল শেষ। আমরা যে ঈদের যাত্রীদের নিয়ে যাব, সেই সুযোগটা পাচ্ছি না।’
গাবতলীর চিত্রও প্রায় একই রকম। এই বাস টার্মিনালে কোনো অনিয়ম না পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএ চার্টের বাইরে কোনো ভাড়া নেওয়া যাবে না। এই জিনিসটা আমরা সবার কাছে অনুরোধ করেছি। আমরা আশা করি, সবাই এটা মেনে চলবে। কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো আমাদের উদ্দেশ্য না।’
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, ‘ছোটখাটো কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করছি। তারাও এটি প্রতিপালন করছে।’
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও বাড়তি ভাড়া রোধে মঙ্গলবার থেকে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এসব দেশের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ৪ মার্চ ৩২টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি এবং ১৫ মার্চ ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১২টার পরও ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এদিন কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এদিন বাতিল হয়েছে ২৮টি ফ্লাইট।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কানেক্টিভিটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়েও উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বরেছেন।
ক্রস-বর্ডার এনার্জি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি একটি বড় পরিসরের এবং চলমান আলোচনা। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
ভিসা প্রক্রিয়া কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের ভিসা চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম আজ সোমবার দুপুরে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্থাপিত একটি নতুন কম্পোস্ট প্ল্যান্টের শুভ উদ্বোধন করেন। পরিদর্শনকালে তার সাথে সাবেক ডেপুটি মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক উপস্থিত এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের জানান যে, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকো-পার্ক ও খেলার মাঠে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডফিল এলাকার চিরচেনা দুর্গন্ধ ও দূষণ দূর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একে নাগরিক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
বর্জ্য থেকে সম্পদ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাঃ
প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন সংগৃহীত ৩২০০-৩৫০০ টন বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি কোরিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ আগামী ঈদুল আযহার পর শুরু হবে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ডাম্পিং করার পরিবর্তে তা প্রক্রিয়াকরণ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া আজ উদ্বোধন হওয়া কম্পোস্ট প্ল্যান্টে প্রতিদিন ১০০ টন গৃহস্থালী পচনশীল বর্জ্য থেকে ২০ টন জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সফল হলে এর পরিসর আরও বৃদ্ধি করা হবে, যা গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে এবং সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষাঃ
ল্যান্ডফিলে প্রায়ই ঘটা অগ্নিকাণ্ড রোধে ১৮১ একর জায়গাজুড়ে ৪০টি পয়েন্টে পানির হাইড্রেন্ট স্থাপন এবং পানির লাইনসহ স্থায়ী জলাধার নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আগুন নেভানোর জন্য নতুন ৬টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে। প্রশাসক জানান, ময়লার স্তূপ থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণেই মূলত এখানে আগুন লাগে। বর্তমানে ময়লার উপরে মাটির আচ্ছাদন দেওয়ার কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা দুর্গন্ধ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুতই এই এলাকা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হবে।"
রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে বিপণিবিতানে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত রোববার রাত ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কথা–কাটাকাটির জেরে ওই বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা এক রিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে রিকশাচালকেরা এ ভাঙচুর চালান। এমনকি তারা বিপণিবিতানের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। পরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে যান।
রাতেই সেখানে যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। গতকাল সকালেও ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, একটি বিপণিবিতানের সামনে রিকশা দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকদের মধ্যে গত সোমবার রাতে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একজন রিকশাচালকের সঙ্গে বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীদের কথা–কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রিকশাচালক চলে যান।
ওসি বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। বিপণিবিতানের মালিকেরা আরেকটি মামলা করবেন। এখনো সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের অভিযোগ, বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে এক রিকশাচালককে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে ওই রিকশাচালকের পরিচয় কেউ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
নাগরিকদের সব ধরনের তথ্য ও সুযোগকে একটি কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলার পর তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে, দেশেও ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর বিষয়ে চিন্তা করছে সরকার।
এছাড়া ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চীন ও ভারতের সঙ্গে ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। ঋণ নয়, এখন থেকে বিনিয়োগে জোর দেবে সরকার।
জ্বালানি বিষয়ে হওয়া চুক্তি বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের সরকার জ্বালানি বিষয়ে যেসব চুক্তি করেছিল সেগুলো অসম চুক্তি ছিল। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিষয়ে কী ধরনের চুক্তি করলে সেটি লাভজনক হয়, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
আগের সরকারের চুক্তিগুলোর পুনরাবৃত্তি না করে, বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমনভাবেই চুক্তি করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে ঈদের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। জানা গেছে, আগামী ২৪ বা ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক হতে পারে।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আসার আগে রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাক্সিম ক্রিশকো। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও সৌজন্য বৈঠক করেন।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঋণ কর্মসূচির আকার বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।
সংস্থাটি থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ঋণসহায়তা পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি বা চেয়ারম্যান হতে হলে স্নাতক পাস হতে হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিগ্রি কলেজ ছাড়া ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, প্রাইমারি স্কুলসহ সব স্কুল মাদরাসায় ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতিকে স্নাতক পাস হতে হবে।’
লটারিতে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামনের বছর থেকে ভর্তিতে লটারি তুলে দেয়া হলো। খুবই সাধারণ উপায়ে পরীক্ষা হবে। কোনো প্রতিযোগিতা থাকবে না। লটারি কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় থাকতে পারে না। বহুদিন ধরে গবেষণা করে এ সিদ্ধান্ত। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, সামনেও আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, ভর্তিতে লটারি কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। সরকার ইনহাউজ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করবে।
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার, তাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের সার্কিট হাউস মাঠে সুধীসমাজের সম্মানে ইফতারে অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গেল ১৭ বছরের ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ গঠনে সময়ের প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটা দল করি, যে দলের কাজ হচ্ছে মানুষের উপকার করা। সেই কাজ করা, যেগুলো করলে মানুষের উপকার হবে। তাই আজকে আমরা এখানে এসেছি। সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহাপাড়ায় খাল খনন শেষ হলে এ এলাকার ৩১ হাজার কৃষক পানি পাবে এবং ১২শ হেক্টর জমি সেচের সুবিধা হবে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এই খাল থেকে সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার নীতি গ্রহণ করছে। বন্যা ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও সরকার কাজ করছে। মৌলিক খাদ্য উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খননের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
কৃষকদের জন্য আগামী মাস থেকেই চালু করা হবে কৃষক কার্ড উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে ঈদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
স্কুল ভর্তিতে লটারি চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে স্কুলে ভর্তির বিদ্যমান লটারি প্রথা থাকবে না। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীরা চায়, সে অনুযায়ী হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, ভর্তিতে লটারি কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। সরকার ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা করবে।
উল্লেখ্য, প্রথমে শুধু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পদ্ধতি চালু করা হয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় (যেসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি রয়েছে) প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো।
ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রইস উদ্দিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মো. আল ফোরকান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং উচ্চশিক্ষার তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) বর্তমান উপাচার্য ও ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অন্যদিকে, ইউজিসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে। অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দেশের প্রাচীনতম এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইউজিসির শীর্ষ পদে অধ্যাপক মামুন আহমেদের নিয়োগ উচ্চশিক্ষা খাতের তদারকি ও সমন্বয় সাধনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এই নিয়োগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে পূর্ববর্তী শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের মাধ্যমে। ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে আজ সোমবারই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি চেয়েছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তিনি তাঁর মূল কর্মস্থল অর্থাৎ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। মূলত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তিনি পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন।