শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও বিচার হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পুরোনো ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ আগস্ট, ২০২৪ ১৮:০২

কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য আইন ভেঙেছেন তদন্ত করে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

আরাফাত বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য যারা আছেন, কাউকেই গুলি করার পারমিশন ছিল না। সংবিধান ও আইনের অধীনে তাদের কাজ করতে হয়েছে। তাই বলে আমি এটা অস্বীকার করছি না, ক্ষেত্র বিশেষে কেউ কেউ আইন ভাঙেননি, অন দ্যা গ্রাউন্ডে। আমরা এটা তদন্ত করে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনব।

পুরো পৃথিবীতে এই ধরনের ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমেরিকাতেও ঘটেছে আপনারা দেখেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকেই আইন ভেঙে ফেলে। সরকার থেকে তো তাদের আইন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয় না। কিন্তু তারা এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। আমাদের দায়িত্ব হলো যারা আইন ভেঙেছে, যারা অন্যায় করেছে, সে যেই হোক আমরা তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করব।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহিংসতায় যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেটা দেশ জাতির জন্য বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই হতাহতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, গভীর নিন্দা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। তারা স্বাধীনভাবে প্রতিটি হতাহতের ঘটনার তদন্ত করে এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে আমরা বিদেশি এক্সপার্টদের সম্পৃক্ত করব। কারণ হচ্ছে আমরা এখানে পুরোপুরি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতায় থাকতে চাই।

তিনি বলেন, সহিংসতা প্রতিটি মৃত্যুর জন্য আমরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত তেমনি দেশ ও দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। হয়ত কোনো একটি তৃতীয় পক্ষ এটার সুবিধা নিচ্ছে। আর এই মৃত্যু নিয়ে প্রথম থেকেই অপপ্রচার করা হচ্ছে। এই ক্ষতির যেমন আপনারা একটা অংশ আমরাও একটা অংশ। আপনারা যেমন এটার বিচার চান আমরাও এটার বিচার চাই। একই সঙ্গে প্রতিটি দায়ী ব্যক্তিকে আমরা বিচারের মুখোমুখি করব। একটি মৃত্যুও আমাদের কাম্য ছিল না। প্রতিটি মৃত্যু আমাদের বুকের ওপরে ভারী হয়ে আটকে আছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, শিক্ষার্থী আন্দোলনকারী যারা তাদের যে দাবি ছিল, তার মধ্যে তৃতীয়পক্ষ ঢুকে অন্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তা আপনাদের চোখের সামনে প্রমাণ রয়েছে। জেল ভেঙে জঙ্গিদের নিয়ে যাওয়াসহ যত ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এগুলো কি শিক্ষার্থীরা করেছে? করেছে তৃতীয় পক্ষ অনুপ্রবেশকারী। তারা কিন্তু এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। যাতে তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে পারে। কিন্তু তারা সরাসরি মুখোমুখি হয়নি, শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

তথ্য প্রতিমমন্ত্রী আরও বলেন, আইনের প্রয়োগ ঘটবে শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের ওপরে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হয়। আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, যেসব শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে, পানি বিতরণ করেছে তাদের পরিবারের কোনো সদস্য যেন কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, আবেগ অনুভূতিকে আমরা শ্রদ্ধা করি, সেগুলোতে আমাদের সমর্থন আছে। কিন্তু তাদের আবেগকে পুঁজি করে যারা ধ্বংস চালিয়েছে, সেটা-তো পরিষ্কার। আমরা নিশ্চিত করতে চাই কোনো শিক্ষার্থী যাতে নাজেহাল না হয়। আর সন্ত্রাসীদের যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।


বাংলাদেশের কাছে যুদ্ধবিমানের সিমুলেটর হস্তান্তর করল পাকিস্তান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তান তাদের সেরা যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি’ সিমুলেটর বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে ধারণা করছেন। গভীরভাবে ঢাকা-ইসলামাবাদের এই সামরিক সহযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের এই ঘটনাকে শুধুমাত্র সাধারণ উপহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি হতে পারে দুই দেশের মধ্যে বিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তির আগের একটি বড় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। এতে ভূ-রাজনৈতিক সময়কালও বাড়তি পর্যালোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ ক্রমবর্ধমান পাকিস্তান-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন পরিবর্তিত ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশ ও দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক প্রতিযোগিতার নতুন ধারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

যুদ্ধবিমান আসার আগেই প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে সিমুলেটর হস্তান্ত করা হয়েছে। পাকিস্তান শুধু সাধারণ প্রশিক্ষণের জন্য কোনো সরল সিস্টেম নয়, বরং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী পূর্ণাঙ্গ জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি সিমুলেটর দিয়েছে। এই সিমুলেটরের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন, কৌশলগত মিশন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনায় পাইলটদের প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন বিমান বাহিনীর সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও সহজ হবে।

পাকিস্তান যে সিমুলেটরটি বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, সেটি সাধারণ বা প্রাথমিক স্তরের কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নয়। বরং সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন মান বজায় রেখে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি’ সিমুলেটর। এই সিস্টেমটির মাধ্যমে পাইলটরা আসল যুদ্ধবিমানে ওঠার আগেই যে কোনো মিশন বা অভিযানের বাস্তবসম্মত মহড়া দিতে পারবেন।

এ ছাড়াও পাকিস্তান তাদের মুশাফ বিমান ঘাঁটি ও পাকিস্তান অ্যারোনোটিক্যাল কমপ্লেক্সে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রশিক্ষণ শুধু নতুন বিমানে অভ্যস্ত হওয়ার সাধারণ কোর্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রস্তাবিত পাঠ্যক্রমে দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ বা ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর)’ যুদ্ধ কৌশলকেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মে মাসে ঢাকা সফরে পাকিস্তানের প্রথম আনুষ্ঠানিক এয়ার স্টাফ টকসে দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এয়ার ভাইস মার্শালে আওরঙ্গজেব আহমেদ। তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব এয়ার স্টাফ (অপারেশন্স), স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার ও জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মাহমুদ আলী খান, উইং কমান্ডার হাসান তারিক আজিজ, এয়ার কমোডর শাহ খালিদ ও আব্দুল গফুর বাজদুর। এতে বোঝা যায়, সফরটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সামরিক অভিযান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেও সাজানো হয়েছিল।

ওই বৈঠকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা ‘জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি’ বিমানের বহুমুখী যুদ্ধ সক্ষমতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া সংঘাতে ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের তুলনায় জেএফ-১৭-এর কার্যকারিতা কেমন ছিল, সেই তুলনামূলক চিত্রও তারা বাংলাদেশের সামনে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও নতুন বিমানে অভ্যস্ত করে তোলার প্রক্রিয়াই সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ ধাপগুলোর একটি। তাই আগেভাগে সিমুলেটর হস্তান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।

এর আগে, গত জানুয়ারিতে সিকিউরিটি ডিফেন্স জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৪৮টি জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সের সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ে আলোচনা করছে। ৪.৫ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ পরিকল্পনার অধীনে কেনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে।


প্রাথমিকের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জরুরি নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্পের খাবার বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা শৈথিল্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের গত ১৩ মে জারি করা এক অফিস আদেশের সূত্র ধরে এই নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। এতে বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা খাবার কঠোরভাবে যাচাই করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পচা বনরুটি, পচা ডিম এবং আকারে ছোট ও পচা কলা বিতরণ করা হচ্ছে বলে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে এমন ঘাটতির কারণে এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে খাবারের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের আগে সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পরিমাণ নির্ধারিত শর্তানুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে খাবার গ্রহণ ও বিতরণ করতে হবে। খাবার যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরবরাহ করা বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। প্যাকেজিং অক্ষত ও ফাঙ্গাসমুক্ত হতে হবে এবং প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ১২০ গ্রাম ওজন উল্লেখ থাকতে হবে। ডিমের ক্ষেত্রে তা ফাটা বা দুর্গন্ধযুক্ত কিনা তা দেখতে হবে। কলা অবশ্যই দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে এবং কোনোভাবেই বেশি পাকা বা পচা কলা গ্রহণ করা যাবে না।

এছাড়া ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের প্যাকেট অক্ষত থাকা এবং মেয়াদ উল্লেখ থাকার বিষয়টি যাচাই করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কোনোক্রমেই নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এমন খাবার সরবরাহ করে, তবে তা গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই কর্মসূচিতে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।


পে-স্কেল নিয়ে আলটিমেটাম সরকারি চাকরিজীবীদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন নতুন বাজেটে নবম পে স্কেলের বরাদ্দ না রাখা হলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে নবম জাতীয় পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত মৌন মিছিল ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক।

আবদুল মালেক বলেন, দ্রুত সচিব পর্যায়ের সুপারিশ চূড়ান্ত করে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। বর্তমান বেতনে একটি পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করতে গিয়ে কর্মচারীরা মানবিক সংকটে পড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন বাজেটে নবম পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। অন্যথায় কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।


দক্ষিণের ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহ উত্তরে ভারি বৃষ্টি, সাগরে লঘুচাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগে ঝরছে ভারি বৃষ্টি, সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখী। আর দক্ষিণে পুরো খুলনা বিভাগসহ ১৩টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার সকালের পূর্বাভাস থেকে জানা গেছে, গত শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোর জেলায় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাদারীপুর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। অপর একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এদিকে রংপুর বিভাগসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায়। এ ছাড়া রংপুরে ৫১, নরসিংদীতে ৪৬, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২১, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ২৭ এবং কুমিল্লায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আগামী পাঁচ দিন দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।


কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে আসছে কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (৩১) গত শুক্রবার রাতে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কারিনার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কথা হয় তার বাবা কায়সার হামিদ জানান, কারিনার মরদেহ চেন্নাই থেকে আজ রোববার দুপুরে দেশে আসবে। এরপর বনানী ডিওএইচএস মসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। আগামীকাল সোমবার কারিনার মরদেহ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় তার নানাবাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, গত শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ করে কারিনার রক্তচাপ কমে যায়। এরপর গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কারিনা মারা যান।

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারিনা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট বানিয়ে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিলেন কানিরা কায়সার। ওটিটি ও নাটকের জগতেও ভালো অবস্থান তৈরি করেন তিনি। এর পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।


টাকা ছাপানোর অভিযোগ গালগল্প: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকার- সব জায়গায়ই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।

সরকার টাকা ছাপাচ্ছে এমন প্রচারকে ‘গালগল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকার এখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকার- সব জায়গায়ই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো খাতকে ‘সিন্ডিকেটের কাছে ইজারা’ দিতে চায় না; বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়।

তিনি আরো বলেন, অতীতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল ঋণ নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাজেট যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ায় এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরেন।

প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বিজয়ী হয় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার)। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।


চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ড্রাই ডক ঘুরে দেখলেন তিন প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের শিল্প ও নৌখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ড্রাই ডক অ্যান্ড জেটি লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন প্রতিমন্ত্রী। তারা হলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

শনিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলার সফরসূচির অংশ হিসেবে তারা কর্ণফুলী ড্রাই ডকে পরিদর্শনে আসেন।

এসময় তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা, চলমান কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘুরে দেখেন। এছাড়া ড্রাই ডকের জেটি, নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এবং অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (হারবার ও মেরিন) সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদসহ সংশ্লিষ্টরা।


শাহরাস্তির সমাবেশস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি

চাঁদপুরের শাহরাস্তির সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

এর আগে, একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে সকাল ৮টার পরে তিনি রওনা হন। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত একটি পথসভায় অংশ নেন তিনি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাট-সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।

এরপর চাঁদপুর সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি শেষে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেলে চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।

সরকারি এই সফর শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং রাত সাড়ে ৯টায় তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ ২২ বছর আগে ২০০৪ সালে চাঁদপুরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান।

দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে যারপরনাই উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মঞ্চে উপস্থিত আছেন বিএনপির জাতীয় ও স্থানীয় মন্ত্রী ও নেতা-কর্মীরা।


কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি পূরণের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লাকে বিভাগে রূপান্তর এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দীর্ঘদিনের গণদাবি নিয়ে ইতিবাচক ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক জনাকীর্ণ পথসভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’ একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে সেখানে একটি উচ্চতর কৃষি গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের বিষয়েও জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে তিনি এই সফরে যান।

দলীয় অঙ্গীকার ও বিশ্বস্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, ‘বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে সেই ওয়াদা পূরণ করে।’ তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁর সরকার ইতিমধ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর ব্যবস্থা চালু করেছে। সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে আগামী জুনের জাতীয় বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন।

বিগত দিনের স্বৈরশাসন ও জনরোষের প্রেক্ষাপট টেনে তারেক রহমান বলেন যে, ফ্যাসিবাদী সময়ে সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আজ সেই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র স্বৈরাচারমুক্ত হওয়া চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং প্রকৃত লক্ষ্য হতে হবে রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলা। তিনি বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত অংশীদার এবং যখন সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার দায়িত্ব নেয়, তখনই দেশ প্রকৃত অগ্রগতির পথে ধাবিত হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরে পাশে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এখন প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।


ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রসারে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু কর‌তে চায় বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হলেও দুই দেশের প্রকৃত সম্ভাবনার তুলনায় এটি এখনো যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা। এই বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করতে সরাসরি জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা চালু, বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উভয় পক্ষ। শুক্রবার ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি ও কৃষিপণ্যসহ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক ও পাটজাত পণ্য ব্রাজিলে রপ্তানির বিশাল ক্ষেত্র পড়ে আছে। তিনি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য কমিয়ে সরাসরি লেনদেনের ওপর জোর দেন।

প্রেসিডেন্ট লুলার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে সেলসো আমোরিম বলেন, "বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান কণ্ঠস্বর" হিসেবে দেখে ব্রাজিল। আলোচনায় উঠে আসে যে, ব্রাজিলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের পরপরই দুই দেশের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশনস (এফওসি) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্রীড়া, জ্বালানি ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (১৬ মে) সকালে সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাঁদপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এই সফরে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর তিনি রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন।

সফরের পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে একটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নে পৌঁছাবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকার ওয়ারুক বাজারে খোর্দ্দ খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব খালের পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেটিও উদ্বোধন করবেন তিনি।

ব্যস্ততম এই সফরের মাঝে দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে ক্ষণিকের বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিরতি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন তিনি। এছাড়া বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে তাঁর। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এই সফর সমাপ্ত করবেন বলে জানা গেছে।


হামের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

* নতুন ১২ শিশুসহ হামে মোট প্রাণ হারাল ৪৫১ জন * এন্টিবায়োটিক ও অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিতের তাগিদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়াবহ আকার ধারণ করেই যাচ্ছে হাম। টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পরও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না রোগটিকে। প্রতিদিনই প্রাণ যাচ্ছে একের পর এক কোমলমতি শিশু, খালি হচ্ছে মায়ের কোল। হামের রোগীদের ৫ থেকে ৮ শতাংশ আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়, যাদের ৮০ শতাংশের রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি। মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি এন্টিবায়োটিক ও অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আলোচনা সভায় এসব কথা জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

এদিকে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে (গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে প্রাণ হারাল আরও ১২ শিশুসহ মোট ৪৫১ জন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশজুড়ে চলছে হামের প্রকোপ। এতে ২ মাসে প্রাণ গেছে সাড়ে চারশ শিশুর। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬২ হাজার। শিশুদের সুরক্ষায় দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু হয়েছে গত ২০ এপ্রিল থেকে। তবে টিকাদানের পর শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে বিধায় দেশে হামের প্রকোপ এখনো কমেনি। এ পরিস্থিতিতে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনতে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন (বএলএফ)

এতে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুরা রাতকানা রোগ, নিউরোলজিক্যালসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।

শিশু বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রুহুল আমীন বলেন, (হাম) অতিমাত্রায় সংক্রমণযোগ্য রোগ, যা খুব দ্রুতমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে শতকরা ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠে। শিশুরা জাতির অনাগত ভবিষ্যৎ। প্রতিটি শিশু অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। যেকোনো শিশুর মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমাদের যত রকম সাপোর্ট বলেন সবই আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু অনেক সময় এই একটা জিনিস অ্যান্টিবায়োটিক, তারপর অক্সিজেন- এগুলো যদি আমরা সঠিক সময়ে দিতে পারি তাহলে কিন্তু অনেক কেস ভালো হয়ে যায়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, সেজন্য আমার যে মেসেজটা হলো, রোগী হাম কর্নারে আসলে ইনিশিয়াল স্ক্রিনিংয়ের পরে যে কনসার্ন মেডিকেল অফিসার উনি যদি একেবারে শুরুতেই হাম চিহ্নিত করে রেফারেল সেন্টারে পাঠিয়ে দেন তাহলে খুব দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। শুরুতেই যদি অ্যান্টিবায়োটিক এবং অক্সিজেনসহ অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রতি বছর ৫ বছরের নিচে মারা যাওয়া ২৪ হাজার শিশুর মধ্যে প্রতি ৪ জনের ১ জন নিউমোনিয়াজনিত কারণে মারা যায়। দেরিতে হাসপাতালে নেওয়া, বুকের দুধ কম পাওয়া, অপুষ্টিতে ভোগা, হামের ভ্যাকসিন না পাওয়া এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের আওতাধীন না থাকায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা আরও বলেন, বিভিন্ন এভিডেন্স বলছে, ৫ থেকে ৮ শতাংশ নিউমোনিয়া হয়। কিন্তু এই নিউমোনিয়ায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কিন্তু মৃত্যু হতে পারে। হামে মৃত্যুহার কমাতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গে ৮ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ৪ শিশু মারা গেছে। এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১১ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৪ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৭৭ শিশু।

একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৪১৬ শিশু। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশু।


পুরনো দায়ে চিড়েচ্যাপ্টা অর্থনীতি, ভারি হচ্ছে করের বোঝা

* ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা * প্রথম ছয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৬৫ হাজার কোটি * বাড়ছে ঋণের কিস্তির চাপ
আপডেটেড ১৬ মে, ২০২৬ ০০:১০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশি ও বিদেশি ঋণের এক নিদারুণ আবর্তে পড়ে হাঁসফাঁস করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের মোট ঋণের স্থিতি আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ওপরে। এই বিপুল ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল রাজস্ব ঘাটতি—চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই যা ৬৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রপ্তানি আয়েও নেই কোনো আশাবাজির আলো। একদিকে পুঞ্জীভূত ঋণের কিস্তি পরিশোধের রূঢ় বাস্তবতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের পিঠে চড়তে থাকা করের চাবুক—সব মিলিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে অর্থনীতি ঋণের ফাঁদে পড়ে যেন চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল আকৃতির বাজেট প্রণয়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। একদিকে ঋণের জোয়াল, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিক ও মধ্যবিত্তের ক্ষোভ প্রশমন- এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকবিলায় গলদঘর্ম প্রশাসন। ফলে রাজস্বের নতুন উৎস সন্ধানে কর কাঠামোতে আনা হচ্ছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

কর কাঠামোতে রূপান্তর: সাধারণের স্বস্তি বনাম বিলাসের মাশুলজাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক খসড়া পর্যালোচনা বৈঠক থেকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য বেশ কিছু যুগান্তকারী ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির তীব্র চাপের মধ্যেও মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে এই নীতিমালায়।

মধ্যবিত্তের পকেটে স্বস্তির হাওয়া মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়তে থাকা সাধারণ মানুষকে কিছুটা নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিতে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের উৎসাহিত করতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আবগারি শুল্ক না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো—চাল, ডাল, চিনি ও খেজুরসহ দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর বাড়ানো হচ্ছে না; তা আগের মতোই দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকছে।

বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় কঠোর নজরদারিবাজেট ঘাটতি মেটাতে ও সামাজিক সমতা ফেরাতে বিত্তশালীদের ওপর করের বোঝা আরও সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছর থেকেই দেশে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ হারে সম্পদ কর ব্যবস্থা চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তরুণ প্রজন্ম ও ডিজিটাল অর্থনীতির একটি বড় অংশকে করের আওতায় আনতে অনলাইন গেমিংয়ের ওপর ২৫ শতাংশ উৎসে কর বসানো হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসছে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবহারকারীদের ওপর।

পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকে উৎসাহিত করতে দামি বৈদ্যুতিক গাড়ি বাদে সব ধরনের সাধারণ বৈদ্যুতিক প্রাইভেট কারের কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ৩ হাজার ৫০০ সিসির বেশি বা সমমানের বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মধ্যবিত্তের ব্যবহার্য ১ হাজার ৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে এই কর ২৫ হাজার টাকাই থাকছে।

নতুন রাজস্বের খোঁজে ডিজিটাল ও অপ্রচলিত খাতরাজস্বের পরিধি বাড়াতে এবার কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপর নতুন করে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বসানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি করের জাল সম্প্রসারণে এখন থেকে যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিআইএন। তবে এই প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে কোনো ভ্যাট কর্মকর্তার অনুমোদনের প্রয়োজন রাখা হয়নি; আবেদন করলেই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে বিআইএন। এছাড়া দেশের সড়ক ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে দাপিয়ে বেড়ানো মোটরবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশাকেও এবার নতুন ট্যাক্সের আওতায় আনার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

ঘাটতি বাজেটের সমীকরণ: ঋণ দিয়ে ঋণ শোধের বিপজ্জনক খেলা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বিশাল অংকের ঘাটতি রয়ে গেছে। এই বাজেটে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আবারো সেই চড়া সুদের দেশি-বিদেশি ঋণের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাটতি পূরণের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ও অ-ব্যাংকিং উৎস থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজস্ব আদায়ের চেনা স্থবিরতা ও সম্ভাব্য ঘাটতির শঙ্কা মাথায় রেখে বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার আগাম প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে।

ইতিহাসের দায় ও বর্তমানের ক্ষত : রকেট গতিতে বাড়ল ঋণ। এই অর্থনৈতিক চোরাবালির সূত্রপাত কিন্তু হঠাৎ করে হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত দেড় দশকের শাসন আমলে দেশের ঋণের গ্রাফ রকেট গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরে মেগা প্রকল্পের আড়ালে অপরিকল্পিত ব্যয় ও দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘ হতে হতে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুতির সময় সেই ঋণের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ১৯ লাখ কোটি টাকার পাহাড়সম ঘরে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও মাত্র এক অর্থবছরে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এই ঋণের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলছে—এই অর্থ কোনো নতুন আড়ম্বরপূর্ণ দৃশ্যমান উন্নয়নে খরচ হচ্ছে না, বরং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া গভীর ক্ষত ও বকেয়া সারাতে এই ঋণ নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশাল অঙ্কের আন্তর্জাতিক বকেয়া পরিশোধ এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের আশঙ্কাজনক পতন ঠেকাতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতো দাতা সংস্থা থেকে দ্রুত বাজেট সহায়তা নিতে হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এই প্রসঙ্গে তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘জনগণের জন্য সরকারের আসল ব্যয় করার ক্ষমতাই তো লোপ পেয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রতি বছর ঋণের কিস্তি আর সুদ শোধ করতেই যদি বাজেটের সিংহভাগ টাকা চলে যায়, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতগুলোতে সরকার বিনিয়োগ করবে কীভাবে? এই করের টাকা তো জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে লাগতে পারত।

২০২৯-৩০: অর্থনীতির সামনে অপেক্ষমাণ এক মহাক্রান্তিকাল: বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অশনি সংকেতটি লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক বছরের ঋণ পরিশোধের সূচিতে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অভ্যন্তরীণ তথ্য বিশ্লেষণ করলে গা শিউরে ওঠার মতো এক পরিসংখ্যান বেরিয়ে আসে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশকে মোট ২৫.৯৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে আসল হিসেবে যাবে ১৮.৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং কেবল সুদ বাবদ গুণতে হবে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসবে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে, যা হবে বাংলাদেশের ঋণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ চাপের বছর। শুধু ওই একটি বছরেই দেশকে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিগত সরকারের নেওয়া বড় বড় মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা ঋণের কিস্তি মওকুফের সময়সীমা আগামী বছরগুলোতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এখন থেকে আসল টাকা পরিশোধের মূল পর্ব শুরু হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই প্রকল্পগুলোর সিংহভাগই নির্ধারিত সময়ে শেষ হতে পারেনি এবং বিলম্বের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও এগুলো থেকে এখনো কোনো অর্থনৈতিক সুফল বা রিটার্ন আসা শুরু হয়নি। ফলে এই অনুৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পগুলো এখন জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক একটি শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। গ্লোবাল মার্কেটে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরেও বাংলাদেশকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০৯ কোটি ডলার ঋণ শোধ করতে হয়েছে, যা চলতি বছর ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের প্রেসক্রিপশন: কাঠামোগত সংস্কারই একমাত্র পরিত্রাণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে এক ধরণের কাঠামোগত পক্ষাঘাত তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট এনবিআরের আট মাসের হিসাবে। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার, ৮৬২ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি ঢাকতে সরকার যখনই ব্যাংকিং খাত থেকে দেদারসে টাকা ধার করছে, তখন বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ বা ক্রেডিট ফ্লো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হচ্ছে, কলকারখানার চাকা শ্লথ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান থমকে গিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।এই মহাসংকট থেকে উত্তরণের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা একযোগে আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

এনবিআরের সাবেক প্রধান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থনীতিতে টাকা নেই—এ কথা সত্য নয়। টাকা আছে, কিন্তু ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে না বা অনেকে দিচ্ছেন না। এই কর ফাঁকি ও খেলাপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরকারকে অত্যন্ত স্বচ্ছ, কঠোর ও নির্মম পদক্ষেপ নিতে হবে।

সিপিডির পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের কস্ট অব বরোয়িং বা অর্থ ধার করার খরচ বহুগুণ বেড়েছে। আগে আমরা যেসব সহজ শর্তে ও রেয়াতি সুদে ঋণ পেতাম, তা বন্ধ হয়ে এখন মিক্সড এপ্রোচ বা বাণিজ্যিক শর্তে কঠিন ঋণ নিতে হচ্ছে। যেসব প্রকল্প থেকে রিটার্ন আসবে না, সেখানে ঋণ নেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানের মূল এজেন্ডা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই দেউলিয়া হওয়ার বা ঋণ ফাঁদে পড়ার সীমানায় না যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারকে সমস্ত রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও রাজস্ব আদায়ের দিকেই পুরো শক্তি উজাড় করে দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, টুকরো টুকরো জোড়াতালি দিয়ে এই ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি বৃদ্ধি, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা—এই সবগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক চাপ কোথায় তা মূল্যায়ন করতে হবে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে শুধু টাকা নেওয়া নয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত ও কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।


banner close