শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
১৯ চৈত্র ১৪৩২

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক

দেশে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৪ আগস্ট, ২০২৪ ০০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ০০:০৫

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি, হামলায় কমপক্ষে দুই শতাধিক নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত সারা দেশ। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে দেশজুড়ে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে কারান্তরীণ সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার ও সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আন্দোলন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে বসতে চেয়ে গণভবনের দরজা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের জন্য গণভবনের দরজা খুলে দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। পরে বিকালে শহীদ মিনারে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষণাপত্র করে আজ রোববার থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় নাহিদ বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব।

গত শুক্রবার থেকেই রাজধানীর অবস্থা ছিল থমথমে। ছুটির দিন হলেও হঠাৎ করেই সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান হয়ে যায় সীমিত। ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারের মাত্র তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। বিপরীতে রাজধানীসহ সারা দেশে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষিত কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী ও অভিভাবকদের সরব উপস্থিতি। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার সকালে গণভবনে একদল পেশাজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে শিক্ষকদের জন্য ঘোষিত ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচি বাতিল, কারাগারে পাঠানো সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে তার বক্তব্যের পরপরই কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে, গতকালও শিক্ষার্থীদের ঘোষিত আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এমন অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া রাজধানীর সাইন্স ল্যাব, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, আফতাবনগর, প্রগতি সরণি, রামপুরা, শান্তিনগর, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে য়োগ দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে মহানগরী ঢাকা। সারা দেশেও চলে একই কর্মসূচি।

দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মানুষের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারে। এতে শহীদ মিনার এলাকা ছাপিয়ে চাঁনখারপুল মোড়, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল মোড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তারপরও এসেছে আন্দোলনকারীদের মিছিল।

শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলে দলে যোগ দিতে থাকেন রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ আন্দোলনে গতকালও সুশীল সমাজের বিপুল উপস্থিতির পাশাপাশি সাহিত্যিক, সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন শিল্পী এবং অভিনেতা-নির্দেশ-কলাকুশলীদের দেখা গেছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তি সমাবেশ শুরু করে শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ। তারা দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন সেখানে। বিকালে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা। শহীদ মিনারের আশপাশের সড়ক, ভবন ও দেওয়ালে বিভিন্ন দাবির কথা লিখতে থাকেন তারা। অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। তাদের সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরাও। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও বিক্ষোভ-স্লোগানে অংশ নিয়েছেন। অনেককে দেখা গেছে সন্তান-পরিবার নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে। সময় যত গড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসে অবস্থান নেন তারা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এর মধ্যে আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ডেকে ডেকে ফ্রিতে পেয়ারা ও আমড়া বিতরণ করছেন এক ফল বিক্রেতা। এ ছাড়া এক নারীকে পানি বিতরণ করতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সব ধরণের মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নেন।

শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে,’ ‘জাস্টিস জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস,’ ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত,’ ‘স্বৈরাচারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে,’ ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো,’ ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর,’ বলে স্লোগান দিয়েছেন।

পরে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, তাদের কাছে কী বিচার চাইব? তারাই তো খুনি। আমাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। আপনাদের আন্দোলনের কারণে আমরা ছাড়া পেয়েছি। আজকেও গুলি চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এক দফা ঘোষণা করছি। এই যে খুন-হত্যা হয়েছে, এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই সরকারের লুটপাট-দুর্নীতির বিচার করত হবে। শুধু শেখ হাসিনা নন, সব মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

যে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব। আগামীকাল (রোববার) থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন হবে।

এ সময় নাহিদ ইসলাম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রে তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। নারী-শিশু-ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক কেউ এই গণহত্যা থেকে রেহাই পাননি।

যেহেতু, সরকার এই হত্যাযজ্ঞের বিচার করার পরিবর্তে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে।

যেহেতু, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ সংঘটন করেছে।

যেহেতু, ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক-মজুরসহ আপামর জনগণ মনে করছে এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার এবং তদন্ত সম্ভব নয়।

সেহেতু, আমরা বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করছি।

একই সঙ্গে সবার নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবী, আগারগাঁও, মিরপুর ১ নম্বর ও ১৪ নম্বরগামী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১০ নম্বরে বন্ধ রয়েছে দোকান-পাট। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে সড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্রে করে সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করে 'আমার ভাই মরল কেন'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অনেকের মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। কারও কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।

১০ নম্বর গোলচত্বরের আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে আসার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। তবে দলে দলে শিক্ষার্থীরা আসতে থাকলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মিরপুর ২ নম্বরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান নেয়। শুরুতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও পরে তারা সরে যান।

এছাড়া সকাল থেকে মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। আশেপাশে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অবস্থান নিলেও তারা মিক্ষার্থীদের বাধা দেয়নি। বন্ধ হয়ে যায় টেকনিক্যাল থেকে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত যান চলাচল।

এদিক, বেলা ১২টা থেকে আন্দোলনের সমর্থনে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড় হয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ। সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার চান তারা। পুরো সায়েন্স ল্যাব এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থানে বন্ধ হয়ে যায় নিউ মার্কেট-সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর সড়ক।

আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে রওনা হন। আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁরা সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে শহীদ মিনারে যাবেন। আন্দোলনকারীদের শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ায় পুলিশ সদস্যরা। তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

সকাল থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কাউকে এ এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়নি।

অপরদিকে, আফতাবনগরে আন্দোলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইউআইটিএস ও সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নিয়েছেন। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর বাড্ডা রামপুরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বনশ্রী বি ব্ল‌কের সাম‌নে আইডিয়াল স্কু‌লের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগন দিতে থাকেন। এ সময় অর্ধশতাধিক পুলিশ রাস্তা থেকে সরে যায়।

এছাড়া বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। বসুন্ধরা গেটের পাশে বিপুল পুলিশ অবস্থান নেয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সারাদেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবিতে সারাদেশে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করবো। এরই অংশ হিসেবে আমরা একত্রিত হচ্ছি।

গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রগতি সরণি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা গেট এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সর্তক অবস্থান নিতে দেখা যায়।

এদিকে, ঢাকার খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে রাজপথ ছেড়ে দিয়েছেন। ফিরে গেছেন সম্মান আর শ্রদ্ধা নিয়ে। আন্দোলনকারীরা জানান, আমরা ছাত্ররা প্রতিশোধপরায়ণ নই, আমরা অধিকারের দাবিতেই আজ রাজপথে, কেউই আমাদের শত্রু নন, সবাই আমরা এক দেশের নাগরিক। বরং দেশের স্বার্থে আমাদের যে আন্দোলন, তাতে যেই মিলে যাবে, তাকেই আমরা সাদরে বরণ করব, স্যালুট জানাব। পুলিশ সদস্যদের জানাচ্ছি, আপনারা অস্ত্র ছেড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, জাতি আপনাদের আরও বেশি সম্মান করবে।


শিক্ষায় শৃঙ্খলা আনতে আসছে কঠোর আইন  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষাকেও এখন থেকে পাবলিক পরীক্ষা বলা হবে। পরীক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্রে ঘষামাজা অথবা টেম্পারিংয়ের পাশাপাশি যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ, হেডফোন ইত্যাদি) ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অন্তর্ভুক্ত করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত খসড়ায় যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ঘষামাজা ও জালিয়াতি করলে এক কোটি টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় ‘রিকগনাইজড অথরিটি’ বা ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন ধারণা যুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করার বিষয়টিকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আর পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং অপরাধীর অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়ার সারসংক্ষেপে বলা হয়, দেশে পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রায় ৪৫ বছর আগে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণীত হয়। তবে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা সময়োপযোগী নয়। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনে ‘ইউনিভার্সিটি বোর্ড’ পরিচালিত পরীক্ষাকে পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত পরীক্ষা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।

সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়, আগামী ২১ এপ্রিল হতে দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ এবং এর দণ্ড আইনের আওতায় আনার উদ্দেশে বিদ্যমান আইনের সংশোধন জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। এ জন্য বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের উদ্দেশে খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে।

এ ছাড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়া আইনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটেও সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দানসংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটিতে প্রস্তাবিত খসড়া উপস্থাপন করা হয়নি।


দেশে বাড়ছে হামের সংক্রমণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    # ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট # হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত  স্কুল বন্ধ রাখার আবেদন

দেশে হঠাৎই বাড়ছে হামের সংক্রমণ। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা। এদিকে, হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত দেশের সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লুৎেফে জাহান পূর্ণিমা এ রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে আদালতের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। যে প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা, সংক্রমণের পরিমাণ, টিকাদানের হার, টিকার প্রাপ্যতা, গৃহীত পদক্ষেপসমূহ উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিলম্বের কারণ নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত পরিচালনা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এছাড়াও টিকাদানে কেন সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তার ব্যাখ্যা এবং সেই তদন্তের ফলাফল আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া প্রদানে ঘাটতি—এসবই সংবিধানের ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। বিবাদীরা যেন শিগগিরই দেশব্যাপী একটি জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করে সে বিষেয়েও আদেশ চাওয়া হয়।

রিটে চলমান প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও স্কুলে সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণসহ তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা জননিরাপত্তার প্রতি বেপরোয়া অবহেলা এবং জীবনের জন্য আসন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি করে উল্লেখ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

হাম কী, কীভাবে ছড়ায়: মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ শিমুল বলেন, হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা মূলত ‘মিজেলস’ ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগটি বায়ুবাহিত, যা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত কারো সর্দি, হাঁচি, কাশি, কথা বলা বা শ্বাস নেওয়ার সময় হামের জীবাণু বা ভাইরাসযুক্ত কণা বাতাসে ছড়ায় এবং অন্যদের সংক্রমিত করে।

সাধারণত মিজেলস ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। র‌্যাশ বের হওয়ার ৪ দিন আগে থেকে পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিন পর পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্তের হাঁচি, কাশি, শ্বাস নেওয়া ও কথা বলার মাধ্যমে ছড়ানো জীবাণু বাতাসে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

কোন বয়সীরা আক্রান্ত হয়: যেকোনো বয়সেই হাম হতে পারে। তবে ৫ বছর বয়সের নিচে শিশু এবং ২০ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদের বেশি হয়।

লক্ষণ: মিজেলস ভাইরাস সংক্রমণে জ্বর হয়। জ্বর ১০০ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে খুব ছোট ছোট র‌্যাশ দেখা দেয় মুখে, কানের পেছন থেকে, গলা ও বুকের দিকে। নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় এবং কাশি হয়।

হাম হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অন্যান্য জটিলতা তৈরি হয়। এই রোগ হলে শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, কানে সংক্রমণ, অপুষ্টি দেখা দেয়। অর্থাৎ হামের পাশাপাশি এসব রোগের লক্ষণও প্রকাশ পায়, যা শিশুর জন্য জটিল পরিস্থিতির কারণ হয়ে হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এসময় হামের রোগী বাড়ছে কেন: ডা. আবু সাঈদ শিমুল বলেন, টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা।

দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৫ বছর বয়সি শিশুদের দুই বার এমএমআর, এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে।

শিশুর ৯ মাস বয়সে টিকা দেওয়ার কথা অনেক অভিভাবকই ভুলে যান। শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি বা অসুস্থতা থাকলে টিকা দেওয়া যায় না। সে কারণেও অনেক সময় দেরি হয়। আবার অনেকে ৯ মাস বয়সের টিকা শিশুকে দিলেও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা ভুলে যান। যে কারণে শিশু হামে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া গত একবছরে দেশের কিছু কিছু জায়গায় টিকার অপ্রতুলতা থাকার কারণেও অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত হয়েছে।

করণীয়: হাম আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরে অবস্থান করতে হবে। হাম যেহেতু ভাইরাসজনিত রোগ, তা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল ও সর্দির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে। শিশুকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। লোক সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। হাম হলে শিশুকে স্কুলে পাঠানো যাবে না। যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, বারবার বমি হয়, শিশু যদি নেতিয়ে পড়ে, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি থাকে—তাহলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।


নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার 

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎচুক্তি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সংসদ প্রতিবেদক

সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার অধীনে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সচল রয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২০৩১ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা আরো ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের এমপি জয়নাল আবেদিনের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ তথ্য তুলে ধরেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত আলোচিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য ও অসম শর্তের তথ্য সামনে আসায় এখন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত অথবা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে।

কমিটির পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এই চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে কমিটি আন্তর্দেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করেছে।

জাতীয় কমিটিকে উদ্ধৃত করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তিটি এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন এই সংকট সমাধানে দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বারস্থ হওয়া। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সাথে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তসমূহ সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।

জ্বালানি মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই কার্যকর পদক্ষেপই গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল।


দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, হার্ডলাইনে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    # দুইদিনে পৌনে চার লাখ লিটার তেল জব্দ # পর্যাপ্ত থাকলেও বাজারে কৃত্রিম চাহিদা # পাম্প থেকে চলে যাচ্ছে কারবারির গোপন আস্তানায়

দেশজুড়ে চলছে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও চুরির মহোৎসব। মধ্যপ্রাচ্য যুধের কারণে সরকার তেল ব্যবহারে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানানোর পর থেকেই গত এক মাসে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত। খোদ রাজধানীর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি কিনে চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় অবৈধভাবে বাসাবাড়ি, গ্যারেজ এবং গুদামে তেল সংরক্ষণ করছেন। এই অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উপস্থাপন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্মসচিব) মনির হোসেন চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বুধবার ৩৮১টি অভিযান চালানো হয়। মামলা হয় ১৬৯টি। মোট ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৫ হাজার ১৩২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন ও ৩৯৫ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে এসব অভিযানে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯টি মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা। কারাদণ্ড পেয়েছেন ২৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ডিজেল উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার। অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার। পেট্রল ৭০ হাজার ৫৪ লিটার।

জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুতের হিসাব দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত আছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন। অকটেন রয়েছে ৯ হাজার ২১ টন। পেট্রোল ১২ হাজার ১৯৪ টন। জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৭৬ টন।

আগারগাঁওয়ে ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ: রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তেল বিক্রির দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ১৫৮ লিটার অকটেন ও ১৩৮ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানদুটিতে এসব জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল।

র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক তেল মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন। তাদের দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিষ্ঠান দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেন।

তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধে গত ৩০ মার্চ দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত হয়। এ ব্যাপারে ১৯১টি মামলা করা হয়। তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

এছাড়া গত ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচালিত হয় ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান। এতে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা করা হয়। ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, উল্লিখিত পরিসংখ্যানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, যারা অবৈধ মজুতদারির তথ্য দিচ্ছে, তাদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সরকার যদি পাম্পগুলোতে যথাযথভাবে তেল সরবরাহ করেই থাকে তাহলে তো কোনোরকম তেল সংকট হওয়ার কথা না। তাহলে পাম্পগুলোতে তেল নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না এবং তেলের সরবরাহরে মধ্যে কোনো সমস্যা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।


হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের চিঠি আসেনি, এটা ভিত্তিহীন: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এমন চিঠি আদালত অবমাননাকর। এ রকম চিঠি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই, এটা ভিত্তিহীন। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের কাছে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি, এ রকম একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যখন অনেক শক্তিশালী মানুষের বিচার চলছে, তখন এ রকম কিংসলে ফিংসলে নাম দিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা, আমার মনে হয় এটা ভিত্তিহীন বিষয়।’

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে। আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। আমরা এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে চলবে। আমরা যারা প্রসিকিউশনে কাজ করছি, এগুলো নিয়ে কথা বলা বা চিন্তা করার সময় নেই।’ তবে ওই ল ফার্মের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া গেলে, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে গত ৩০ মার্চ ই-মেইলে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠায় লন্ডনের কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।


অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই, গণভোটসহ ১১টি বাতিলের সুপারিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সংসদ প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। প্রতিবেদনে গণভোটসহ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছেন বিশেষ কমিটির সরকার পক্ষের সংসদ সদস্যরা। তবে এই কমিটির বিরোধী দলীয় তিনজন সদস্য এসব অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।

এছাড়া, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদ এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বরিশাল -৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে, যেখানে বিরোধী দলের ৩ জন সংসদ সদস্য ছিলেন।

এই কমিটি তিনটি বৈঠক করে যাচাই-বাছাই করেছে। এক্ষেত্রে অধ্যাদেশগুলো কী প্রয়োজনে প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে তা জানার জন্য কমিটি অধ্যাদেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মতামত নিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কমিটির সরকার দলের সদস্য ও বিরোধী দলের সদস্যরা ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে একমত হতে পারেননি। ফলে বিরোধী দলের সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং গাজী নজরুল ইসলাম এই ১৩ টি অধ্যাদেশে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ সরকার পক্ষ বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।

এসব অধ্যাদেশে বিরোধী দলের সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫ পাশের বিষয়ে সরকার পক্ষ ভিন্ন নীতি অনুসরণ করতে চাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় তিনজন সংসদ সদস্য এই নীতি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সরকার পক্ষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ পাশ করার প্রস্তাব করেছে।


বিএমইউতে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) র‍্যালি, সেমিনার ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ‘অটিজম ও মানবতা-প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ইপনা (IPNA) ও শিশু নিউরোলজি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী এবং অটিজম স্কুলের শিক্ষকরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সেমিনারে বক্তারা জানান, বিশ্বে অটিজমে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আগে যেখানে শতকরা ১.৭ জন শিশু আক্রান্ত ছিল, বর্তমানে তা তিনজনে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গর্ভবতী মায়ের যত্ন ও শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটি একটি ভিন্ন সক্ষমতা। সঠিক রোগ নির্ণয়, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক ও শিক্ষাগত পুনর্বাসনের মাধ্যমে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাদের একাকিত্ব দূর করতে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং গণমাধ্যমের জোরালো প্রচারণার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।

এবারের দিবসের মূল বার্তা হলো অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্মান, অধিকার এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। ২০২৬ সালের এই প্রতিপাদ্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য (নিউরো-ইনক্লুসিভ) পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সঠিক ভালোবাসা ও সহায়তা পেলে অটিজম আক্রান্তরা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।


দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৩৬টি, উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াট: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে সরকার। বর্তমানে সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সচল রয়েছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেরই শক্তিশালী অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ৬৪টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ৮৫৩ মেগাওয়াট। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানায় রয়েছে ৩টি বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৬৮ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

মন্ত্রী জানান, সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত নির্ভর করে প্রতিদিনের চাহিদার ওপর। বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক) পদে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলেও জনস্বার্থে জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ রয়েছে।


অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার, অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার এবং পেট্রোল ৭ হাজার ৫৪ লিটার।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ২ হাজার ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শুধু গতকাল (১ এপ্রিল) পরিচালিত ৩৮১টি অভিযানে ১৬৯টি মামলা করা হয় এবং ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এদিন একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। একই দিনে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪ হাজার ৪৮২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন এবং ৩৯৫ লিটার পেট্রোল—মোট ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার জ্বালানি।

দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং পেট্রোল-অকটেন মিলিয়ে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১,২০০ টন। আমরা আসলে মান্থলি প্ল্যান বছরের প্ল্যানটা করতাম এবং মান্থলি এগুলো আনার কাজ করতাম। তো এখনো আমরা তাই করছি এবং কোনো সংকট ডিজেলের ক্ষেত্রেও নেই। এপ্রিল মাসটা আমরা পুরোপুরি নিরাপদ আছি। আমি আজকে সকালেও মিটিং করেছি। মিটিং করে আমরা দেখেছি যে আমাদের যে বর্তমান মজুত এবং আমাদের যেসব শিপ ইনকামিং আছে প্রত্যেকটাই অন টাইম। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সরবরাহ চুক্তিতে জটিলতা তৈরি হলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগত জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাম্পগুলো কেন তেল পাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পাম্পগুলোতে গত বছর যা সরবরাহ করছি এ বছরও তাই সরবরাহ করছি। এখন পেট্রোল পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে এটা আমিও দেখছি। কিন্তু এটা আসলে আপনারা জানেন যে মানুষের মধ্যে প্যানিক বায়িংটা এখনো বন্ধ হয়নি। যে কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোর সাপ্লাই চেইনটাতেই ইন্টারাপশন হচ্ছে মাঝে মাঝে।

ছয়টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের কি অবস্থা, এর পাশাপাশি ছয় থেকে সাত দিনের একটা মজুত আছে এই অবস্থায় এলে কীভাবে মোকাবিলা করবেন, আর তিন নাম্বার হচ্ছে বিএসসির একটা জাহাজ আছে বাংলার জয়যাত্রা সেটা আসলে কি অবস্থায় আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে যে ছয়টা জাহাজের কথা আপনি বলছেন, এটা সম্ভবত ইরানের রাষ্ট্রদূতের রেফারেন্স দিয়ে বলছেন আপনি। আমরা অফিসিয়াল চিঠি এখনো পাইনি। অফিসিয়াল চিঠি পেলে এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব। তবে আমিও জেনেছি আপনার মতো। এর মধ্যে পাঁচটা হচ্ছে এলএনজি আর একটা হচ্ছে ক্রুড যেটা আপনি নর্ডিক বললেন। তো দুটোর ব্যাপারে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আপনারা জানেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেকগুলো আমাদের যে জি টু জি চুক্তি ছিল সেগুলো ফোর্স মেজর হয়েছিল আগে কিন্তু যেগুলো আমরা চেষ্টা করছি যে সেই ইরানের যেহেতু একটা সবুজ সংকেত আছে, এটা যদি আমরা অফিসিয়ালি পেয়ে যাই তাহলে আমরা সেই উৎস থেকে আনতে সমর্থ হবো।


এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল ৩৮৭ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভোক্তাপর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। এপ্রিল মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৬১.৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি)। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়। পাশাপাশি ৩ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের দাম ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।


প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হচ্ছেন সাবেক সচিব বিজন কান্তি সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক সচিব ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকারকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীরসঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

তিনি বলেন, একটি ভালো খবর আপনাদের আমরা দিতে চাই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি দাবি উত্থাপন করেছিলাম, জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে। আজকেই উনি আমাদের একটি ভালো খবর দিয়েছেন; সেটি হচ্ছে আমাদের সম্প্রদায়ের একজন বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি বিজন কান্তি সরকার, এখানে আমাদের সঙ্গেই আছেন। ওনাকে আজকেই উনি (প্রধানমন্ত্রী) অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছেন, একটু পরেই আপনারা এই সুখবরটি জানতে পারবেন।


দেশের তেলের মজুত ১১ দিন, চলতি মাসে আসছে সাড়ে তিন লাখ টন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত দশ থেকে এগারো দিনের জন্য রয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে দেশে আসছে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন তেল। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আরও কিছু চালান আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার এপ্রিলে কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখছে না এবং আশা করা হচ্ছে, মাসের চাহিদা মেটানোর পর তেল কিছুটা উদ্বৃত্তও থাকবে।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পে-পাম্পে লম্বা সারি, গাড়ির চাকা থমকে আছে। এতে অনেকের দৈনন্দিন জীবিকাতেও প্রভাব পড়ছে। এটি এখন রাজধানীর নিত্যদিনের বাস্তবতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

রাইডশেয়ার চালকরা জানিয়েছেন, পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার পরও কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ অল্প পরিমাণ তেল নেওয়ার পর গাড়ি ঠিকমতো চালানো সম্ভব নয়। ফলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে চাকরিজীবী মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, তেলের সংকটের কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এতে অফিসের কাজ সময়মতো করা এবং ক্লায়েন্টের কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরাও জানিয়েছেন, পাঁচ লিটার তেলের জন্য সারাদিন পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে, যার ফলে তেল অপচয় হচ্ছে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে শুধু গ্রাহকই নয়, সরকারেরও ক্ষতি হচ্ছে।

ফিলিং স্টেশনের এই করুণ চিত্র জ্বালানি তেলের মজুত প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। মার্চের শেষে তেলের মজুত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিজেল আছে ১০-১১ দিন চলার মতো, অকটেন ৬-৭ দিন, আর পেট্রোল মজুত রয়েছে ৮-৯ দিনের চাহিদা মেটানোর জন্য।

তবে এর মানে এই নয় যে, ১০ দিনের মধ্যেই দেশ তেলশূন্য হয়ে যাবে। জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, সরবরাহ পাইপলাইনে এখনও বেশ কিছু চালান রয়েছে। এর মধ্যে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার টন এবং ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসবে।

এর পাশাপাশি, মধ্য এপ্রিলে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসার কথা রয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, “ক্রুড অয়েলের তিনটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে লোডেড অবস্থায় আছে। হরমুজ প্রণালির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলে সেগুলো দেশে আনা সম্ভব হবে। এজন্য সব বিকল্প পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এপ্রিল মাসে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “দেশীয় উৎস থেকে ৩০০ টন অকটেন সরবরাহ করা হবে এবং আমদানির মাধ্যমে আরও ৫০০ মেট্রিক টন যোগ হবে। এই মোট ৮০০ টন অকটেন দিয়ে দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। মনির হোসেন চৌধুরী যোগ করেন, “পর্যাপ্ত কাঁচামাল ফ্র্যাকশন প্লান্টে রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।”

তবে বাস্তব পরিস্থিতি এদের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। মাঠের চিত্র দেখাচ্ছে, পাম্পে সমস্যা, লম্বা সারি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন মন্তব্য করেছেন, জনগণ প্যানিক বাইং করছে, কিন্তু সরকার কেন তাদের আশ্বস্ত করতে পারছে না, সেটাই প্রশ্ন। সরকারের উচিত এমপিদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে জনগণকে বোঝানো যে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া, সংকটকে সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি ব্যবহার ও চাহিদা কমানোর আগাম সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।


banner close