শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি, হামলায় কমপক্ষে দুই শতাধিক নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত সারা দেশ। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে দেশজুড়ে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে কারান্তরীণ সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার ও সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আন্দোলন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে বসতে চেয়ে গণভবনের দরজা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের জন্য গণভবনের দরজা খুলে দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। পরে বিকালে শহীদ মিনারে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষণাপত্র করে আজ রোববার থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
এ সময় নাহিদ বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব।
গত শুক্রবার থেকেই রাজধানীর অবস্থা ছিল থমথমে। ছুটির দিন হলেও হঠাৎ করেই সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান হয়ে যায় সীমিত। ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারের মাত্র তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। বিপরীতে রাজধানীসহ সারা দেশে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষিত কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী ও অভিভাবকদের সরব উপস্থিতি। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার সকালে গণভবনে একদল পেশাজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে শিক্ষকদের জন্য ঘোষিত ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচি বাতিল, কারাগারে পাঠানো সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে তার বক্তব্যের পরপরই কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে, গতকালও শিক্ষার্থীদের ঘোষিত আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এমন অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া রাজধানীর সাইন্স ল্যাব, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, আফতাবনগর, প্রগতি সরণি, রামপুরা, শান্তিনগর, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে য়োগ দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে মহানগরী ঢাকা। সারা দেশেও চলে একই কর্মসূচি।
দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মানুষের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারে। এতে শহীদ মিনার এলাকা ছাপিয়ে চাঁনখারপুল মোড়, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল মোড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তারপরও এসেছে আন্দোলনকারীদের মিছিল।
শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলে দলে যোগ দিতে থাকেন রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ আন্দোলনে গতকালও সুশীল সমাজের বিপুল উপস্থিতির পাশাপাশি সাহিত্যিক, সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন শিল্পী এবং অভিনেতা-নির্দেশ-কলাকুশলীদের দেখা গেছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তি সমাবেশ শুরু করে শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ। তারা দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন সেখানে। বিকালে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা। শহীদ মিনারের আশপাশের সড়ক, ভবন ও দেওয়ালে বিভিন্ন দাবির কথা লিখতে থাকেন তারা। অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। তাদের সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরাও। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও বিক্ষোভ-স্লোগানে অংশ নিয়েছেন। অনেককে দেখা গেছে সন্তান-পরিবার নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে। সময় যত গড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসে অবস্থান নেন তারা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এর মধ্যে আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ডেকে ডেকে ফ্রিতে পেয়ারা ও আমড়া বিতরণ করছেন এক ফল বিক্রেতা। এ ছাড়া এক নারীকে পানি বিতরণ করতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সব ধরণের মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নেন।
শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে,’ ‘জাস্টিস জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস,’ ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত,’ ‘স্বৈরাচারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে,’ ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো,’ ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর,’ বলে স্লোগান দিয়েছেন।
পরে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, তাদের কাছে কী বিচার চাইব? তারাই তো খুনি। আমাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। আপনাদের আন্দোলনের কারণে আমরা ছাড়া পেয়েছি। আজকেও গুলি চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এক দফা ঘোষণা করছি। এই যে খুন-হত্যা হয়েছে, এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই সরকারের লুটপাট-দুর্নীতির বিচার করত হবে। শুধু শেখ হাসিনা নন, সব মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
যে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব। আগামীকাল (রোববার) থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন হবে।
এ সময় নাহিদ ইসলাম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রে তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। নারী-শিশু-ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক কেউ এই গণহত্যা থেকে রেহাই পাননি।
যেহেতু, সরকার এই হত্যাযজ্ঞের বিচার করার পরিবর্তে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে।
যেহেতু, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ সংঘটন করেছে।
যেহেতু, ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক-মজুরসহ আপামর জনগণ মনে করছে এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার এবং তদন্ত সম্ভব নয়।
সেহেতু, আমরা বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করছি।
একই সঙ্গে সবার নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবী, আগারগাঁও, মিরপুর ১ নম্বর ও ১৪ নম্বরগামী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১০ নম্বরে বন্ধ রয়েছে দোকান-পাট। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে সড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্রে করে সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করে 'আমার ভাই মরল কেন'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অনেকের মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। কারও কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।
১০ নম্বর গোলচত্বরের আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে আসার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। তবে দলে দলে শিক্ষার্থীরা আসতে থাকলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মিরপুর ২ নম্বরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান নেয়। শুরুতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও পরে তারা সরে যান।
এছাড়া সকাল থেকে মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। আশেপাশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অবস্থান নিলেও তারা মিক্ষার্থীদের বাধা দেয়নি। বন্ধ হয়ে যায় টেকনিক্যাল থেকে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত যান চলাচল।
এদিক, বেলা ১২টা থেকে আন্দোলনের সমর্থনে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড় হয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ। সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার চান তারা। পুরো সায়েন্স ল্যাব এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থানে বন্ধ হয়ে যায় নিউ মার্কেট-সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর সড়ক।
আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে রওনা হন। আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁরা সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে শহীদ মিনারে যাবেন। আন্দোলনকারীদের শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ায় পুলিশ সদস্যরা। তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
সকাল থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কাউকে এ এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়নি।
অপরদিকে, আফতাবনগরে আন্দোলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইউআইটিএস ও সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নিয়েছেন। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর বাড্ডা রামপুরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বনশ্রী বি ব্লকের সামনে আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগন দিতে থাকেন। এ সময় অর্ধশতাধিক পুলিশ রাস্তা থেকে সরে যায়।
এছাড়া বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। বসুন্ধরা গেটের পাশে বিপুল পুলিশ অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সারাদেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবিতে সারাদেশে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করবো। এরই অংশ হিসেবে আমরা একত্রিত হচ্ছি।
গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রগতি সরণি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা গেট এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সর্তক অবস্থান নিতে দেখা যায়।
এদিকে, ঢাকার খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে রাজপথ ছেড়ে দিয়েছেন। ফিরে গেছেন সম্মান আর শ্রদ্ধা নিয়ে। আন্দোলনকারীরা জানান, আমরা ছাত্ররা প্রতিশোধপরায়ণ নই, আমরা অধিকারের দাবিতেই আজ রাজপথে, কেউই আমাদের শত্রু নন, সবাই আমরা এক দেশের নাগরিক। বরং দেশের স্বার্থে আমাদের যে আন্দোলন, তাতে যেই মিলে যাবে, তাকেই আমরা সাদরে বরণ করব, স্যালুট জানাব। পুলিশ সদস্যদের জানাচ্ছি, আপনারা অস্ত্র ছেড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, জাতি আপনাদের আরও বেশি সম্মান করবে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। এসব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে শঙ্কার কথাও বলেছে সংস্থাটি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে- পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে। এ যুদ্ধের সংকটে উদ্ভুত বেশি বেকায়দায় পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো, যারা জ্বালানি তেলের প্রায় পুরোটাই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে।
এরই প্রভাব পড়ছে আমাদের অর্থনীতিতে। দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে ৯ শতাংশ অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এতে পড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর নতুন করে চাপ বেড়েছে।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। টানা চার মাস মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মার্চে কিছুটা কমলেও এপ্রিল মাসে আবার তা বেড়েছে। ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। সে অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়।
আইএমএফ ও জাতিসংঘের তথ্যে জানা যায়- ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে সারের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এই উৎপাদন ঘাটতি খুব দ্রুতই কৃষিপণ্যের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যতদিন এই সংকটের সমাধান না হবে, সময়ের সাথে সাথে খাদ্য সংকটের এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত ও তীব্রতর হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং এর প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ে। এতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। আয় না বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
গত দুই সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও বেড়েছে, তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে এপ্রিল মাসে জাতীয় গড় মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে মানুষকে ধারদেনা করতে হয় কিংবা খাবার, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হতে হয়।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব বলছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আর্থিক ক্ষতির কারণ হিসেবে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইউএনডিপি পূর্বাভাস দিয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যার ৮৮ লাখই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।
ইউএনডিপি সতর্ক করে বলেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সরকারি ব্যয় ধরে রাখার চাপ দিন দিন বাড়বে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আলাদা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় খাদ্য সংকট বিপর্যয়কর পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সবশেষ পূর্বাভাস বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি চলতি ও আগামী বছরে হ্রাস পাবে নামতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে। সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।
তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলব, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।
বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।
তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাদের সমস্যা নিয়ে যান, তারা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।
একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ।
যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়। দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই এ খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে। তবে সরকার জনগণকে অবাধ ও সঠিক তথ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে এ কথা বলেছেন তিনি।
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের পলিসি হচ্ছে এনালগ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল। ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং ‘ফেসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সুস্থ ঐকমত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন আশা প্রকাশ করে বলেন, অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ এই কমিশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ, সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রাস্টি সদস্য রেজোয়ানুল হক, তালাত মামুন ও নূর সাফা জুলহাজ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিনিধি দলের নেতারা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংকটের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিক তুলে ধরেন।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তাদের ওই বছর ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গোলাবারুদসহ আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বলা হয়েছিল। এ অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এসব অস্ত্র দিতে বলা হলেও, তেমন একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে পারে-এমন শঙ্কার দিকটি উঠে এসেছে ডিসি সম্মেলনে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশে এখন বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা কমবেশি ৫০ হাজার। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র রয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতে। তাদের বেশির ভাগই আবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
নিয়ম অনুযায়ী, অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি করে ভয় দেখানো হলে থানা-পুলিশ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য জেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন দেবে। জেলা প্রশাসন লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাব মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে জমা নেওয়া অনেক অস্ত্র এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। এসব অস্ত্র দ্রুত ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা নীতিবহির্ভূতভাবে ইস্যু করা অস্ত্র ফেরত না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রাক-নির্বাচনী সময়ে যেসব লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা প্রদান করতে বলা হয়েছিল জনসাধারণকে, সেই অস্ত্রগুলো এখনো ফেরত প্রদান করা হয়নি। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে যথাশিগগিরই সেগুলো ফেরত প্রদান করা হয়।
চিঠিতে নিম্নলিখিত ৩ ক্যাটাগরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: এক. ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির পূর্বের লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র। দুই. ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র। তিন. ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি হতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ যাচাই-বাছাই এর লক্ষ্যে ইতোপূর্বে গঠিত কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই অন্তে যে সকল লাইসেন্স নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হবে সে সকল লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র।
মন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, অবকাঠামো প্রতিটি ক্ষেত্রে কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্য সমাধান হয়েছে।’
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো-ভিত্তিক স্বাধীন ও অরাজনৈতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাথে আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, আগামীর যে বাংলাদেশ আমরা প্রত্যাশা করি, সেখানে আমরা চাই পারস্পরিক সৌহার্দ্য থাকবে, সহাবস্থান থাকবে। এমন রাজনীতি থাকবে, যেখানে অপপ্রচার থাকবে না। অপপ্রচার কিন্তু অপরাজনীতি। সেটা কোনো রাজনীতির প্রচলন হওয়া উচিত না। আমরা চাই যা কিছু সত্য, যা কিছু সঠিক, যা কিছু ন্যায্য, যা কিছু ন্যায়সংগত সেটার পক্ষে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে অবস্থান নিই।
আলোচনা শেষে মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এসময় আরও বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পার্শ্ব দেশগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের কাজ করছে সরকার।
কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) বা নবী হোসেন গ্রুপের প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসীদের গুলিতে আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের (এআরও) প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম (৪০) নিহত হয়েছেন। এ সময় তার দুই সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার বালুখালী ৭ নম্বর ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। আর গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন একই ক্যাম্পের এ-৪ ব্লকের বাসিন্দা তোফায়েল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও জি-ব্লকের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান গোলাগুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সাইফুল ইসলাম জানান, ক্যাম্প থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ কামালকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসীদের গুলিতে আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের (এআরও) প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম (৪০) নিহত হয়েছেন। এ সময় তার দুই সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার বালুখালী ৭ নম্বর ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কেফায়েত উল্লাহ হালিম বালুখালী ৭ নম্বর ক্যাম্পের এফ-২ ব্লকের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। আর গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন একই ক্যাম্পের এ-৪ ব্লকের বাসিন্দা তোফায়েল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও জি-ব্লকের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, সন্ধ্যায় বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ইস্ট থেকে হালিমসহ তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে নিজ নিজ শেডে ফিরছিলেন।
মোটরসাইকেলটি ৭ ও ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংযোগ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে আরসা সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ তিনজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হালিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধ দুজন এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ছয়টি অবসায়নাধীন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শতাধিক ভুক্তভোগী এ মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, দেশের ছয়টি অবসায়নাধীন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১২ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীর প্রতিনিধিত্ব করছি আমরা। দীর্ঘ সাত বছর ধরে আমাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এসব প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকায় আমরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনেক আমানতকারী ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না অনেকে। চিকিৎসার অভাবে ইতোমধ্যে কয়েকজন আমানতকারীর মৃত্যুও হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তারা বলেন, দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে জনগণের আমানত সুরক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। এ প্রেক্ষাপটে আমানতকারীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য গভর্নর ঘোষিত জুলাই ২০২৬ সময়সীমা অনুযায়ী সুস্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর রোডম্যাপ অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আর্থিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের আমানত সুরক্ষায় দ্রুত, কার্যকর ও মানবিক ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তাই এ গভীর সংকট নিরসনে জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
দেশে গত এপ্রিল মাসে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন ৭০৯ জন। এর মধ্যে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এছাড়া ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন। গতকাল বুধবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬৮টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৫টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে ঘটেছে। দুর্ঘটনার মধ্যে ৯৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৯৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে এবং ৫২টি যানবাহনের পেছনে আঘাতের কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় মোট ৬৫৯টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ৮৪টি, ট্রাক ৯১টি, মোটরসাইকেল ১৫৩টি এবং থ্রি-হুইলার ১১২টি। সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে, ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং রাতে ঘটেছে ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১০৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, ১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছে।
সংগঠনটি দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ-বিআরটিসির সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরি এবং মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে।
দেশে বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে চাল ও গম মিলিয়ে মোট খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ১৪৬ মেট্রিক টন। ২০২৬ সালের ৫ মে পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে চালের মজুত রয়েছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুদ ২৬৫ মেট্রিক টন।
হিসাব অনুযায়ী, গুদামজাত মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন। তবে এর সঙ্গে ট্রানজিটে থাকা বা ফ্লোটিং (ভাসমান) মজুত যুক্ত করলে মোট মজুতের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ভাসমান মজুতের ক্ষেত্রে গমের পরিমাণ ৯০ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন এবং চালের পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে দেশে খাদ্যশস্যের মোট মজুতের (ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুদসহ) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুত আছে তা নিরাপদ।
জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এই মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। যা চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এসময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ মোট ১৮ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচিব আরও বলেন, আমদানিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে খাদ্য মজুত আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেন।
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার এই চুক্তি বাতিলের পথে না গিয়ে এর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই এগোতে চায়। একই সঙ্গে এই কাঠামোর অধীনেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো বিষয় থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ সব সময় খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।
ড. তিতুমীর বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্পে রপ্তানি বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো একক রাষ্ট্রের সঙ্গে একচেটিয়া সম্পর্কের পক্ষপাতী নয়; বরং সবার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম সেরা এডুকেশন হাবে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মেধা, সম্পদ এবং প্রয়োজনীয় কর্মসূচি রয়েছে যা এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে বাংলাদেশে আকৃষ্ট করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এক সময়ের মতো আবারও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে এদেশের শিক্ষাঙ্গন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা প্রসারে নিরলস প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অংশীজনদের মতামত অত্যন্ত জরুরি এবং সরকার দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং স্কলারশিপ ব্যবস্থার পর্যালোচনার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন আহমেদ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে এই সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে থাকা সব সেনা সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে সেনা সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে।
শুরুতে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানো হবে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠ পর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
প্রবল আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই থেকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দেয়।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আছে।
তারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’
সেনাবাহিনী নিজস্ব ক্ষমতায় গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারত, কিন্তু বর্তমানে তারা এসব কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৬ মে) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে।
পদ্মা ব্যারেজ সম্পর্কে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। একনেকে উপস্থাপন হবে। পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ১৮০ দিনে কী কী কাজ সম্পন্ন হবে সে বিষয়েও কথা হয়েছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী এমপিরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে। হয়তোবা আমরা এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ (চলমান) রাখতে পারবো। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা এই খাল খনন কর্মসূচি কন্টিনিউ করব।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইটি জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।’