শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি, হামলায় কমপক্ষে দুই শতাধিক নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত সারা দেশ। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে দেশজুড়ে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে কারান্তরীণ সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার ও সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আন্দোলন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে বসতে চেয়ে গণভবনের দরজা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের জন্য গণভবনের দরজা খুলে দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। পরে বিকালে শহীদ মিনারে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষণাপত্র করে আজ রোববার থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
এ সময় নাহিদ বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব।
গত শুক্রবার থেকেই রাজধানীর অবস্থা ছিল থমথমে। ছুটির দিন হলেও হঠাৎ করেই সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান হয়ে যায় সীমিত। ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারের মাত্র তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। বিপরীতে রাজধানীসহ সারা দেশে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষিত কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী ও অভিভাবকদের সরব উপস্থিতি। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার সকালে গণভবনে একদল পেশাজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে শিক্ষকদের জন্য ঘোষিত ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচি বাতিল, কারাগারে পাঠানো সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে তার বক্তব্যের পরপরই কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে, গতকালও শিক্ষার্থীদের ঘোষিত আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এমন অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া রাজধানীর সাইন্স ল্যাব, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, আফতাবনগর, প্রগতি সরণি, রামপুরা, শান্তিনগর, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে য়োগ দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে মহানগরী ঢাকা। সারা দেশেও চলে একই কর্মসূচি।
দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মানুষের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারে। এতে শহীদ মিনার এলাকা ছাপিয়ে চাঁনখারপুল মোড়, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল মোড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তারপরও এসেছে আন্দোলনকারীদের মিছিল।
শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলে দলে যোগ দিতে থাকেন রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ আন্দোলনে গতকালও সুশীল সমাজের বিপুল উপস্থিতির পাশাপাশি সাহিত্যিক, সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন শিল্পী এবং অভিনেতা-নির্দেশ-কলাকুশলীদের দেখা গেছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তি সমাবেশ শুরু করে শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ। তারা দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন সেখানে। বিকালে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা। শহীদ মিনারের আশপাশের সড়ক, ভবন ও দেওয়ালে বিভিন্ন দাবির কথা লিখতে থাকেন তারা। অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। তাদের সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরাও। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও বিক্ষোভ-স্লোগানে অংশ নিয়েছেন। অনেককে দেখা গেছে সন্তান-পরিবার নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে। সময় যত গড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসে অবস্থান নেন তারা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এর মধ্যে আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ডেকে ডেকে ফ্রিতে পেয়ারা ও আমড়া বিতরণ করছেন এক ফল বিক্রেতা। এ ছাড়া এক নারীকে পানি বিতরণ করতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সব ধরণের মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নেন।
শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে,’ ‘জাস্টিস জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস,’ ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত,’ ‘স্বৈরাচারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে,’ ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো,’ ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর,’ বলে স্লোগান দিয়েছেন।
পরে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, তাদের কাছে কী বিচার চাইব? তারাই তো খুনি। আমাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। আপনাদের আন্দোলনের কারণে আমরা ছাড়া পেয়েছি। আজকেও গুলি চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এক দফা ঘোষণা করছি। এই যে খুন-হত্যা হয়েছে, এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই সরকারের লুটপাট-দুর্নীতির বিচার করত হবে। শুধু শেখ হাসিনা নন, সব মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
যে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব। আগামীকাল (রোববার) থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন হবে।
এ সময় নাহিদ ইসলাম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রে তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। নারী-শিশু-ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক কেউ এই গণহত্যা থেকে রেহাই পাননি।
যেহেতু, সরকার এই হত্যাযজ্ঞের বিচার করার পরিবর্তে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে।
যেহেতু, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ সংঘটন করেছে।
যেহেতু, ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক-মজুরসহ আপামর জনগণ মনে করছে এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার এবং তদন্ত সম্ভব নয়।
সেহেতু, আমরা বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করছি।
একই সঙ্গে সবার নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবী, আগারগাঁও, মিরপুর ১ নম্বর ও ১৪ নম্বরগামী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১০ নম্বরে বন্ধ রয়েছে দোকান-পাট। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে সড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্রে করে সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করে 'আমার ভাই মরল কেন'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অনেকের মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। কারও কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।
১০ নম্বর গোলচত্বরের আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে আসার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। তবে দলে দলে শিক্ষার্থীরা আসতে থাকলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মিরপুর ২ নম্বরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান নেয়। শুরুতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও পরে তারা সরে যান।
এছাড়া সকাল থেকে মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। আশেপাশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অবস্থান নিলেও তারা মিক্ষার্থীদের বাধা দেয়নি। বন্ধ হয়ে যায় টেকনিক্যাল থেকে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত যান চলাচল।
এদিক, বেলা ১২টা থেকে আন্দোলনের সমর্থনে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড় হয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ। সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার চান তারা। পুরো সায়েন্স ল্যাব এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থানে বন্ধ হয়ে যায় নিউ মার্কেট-সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর সড়ক।
আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে রওনা হন। আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁরা সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে শহীদ মিনারে যাবেন। আন্দোলনকারীদের শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ায় পুলিশ সদস্যরা। তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
সকাল থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কাউকে এ এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়নি।
অপরদিকে, আফতাবনগরে আন্দোলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইউআইটিএস ও সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নিয়েছেন। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর বাড্ডা রামপুরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বনশ্রী বি ব্লকের সামনে আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগন দিতে থাকেন। এ সময় অর্ধশতাধিক পুলিশ রাস্তা থেকে সরে যায়।
এছাড়া বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। বসুন্ধরা গেটের পাশে বিপুল পুলিশ অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সারাদেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবিতে সারাদেশে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করবো। এরই অংশ হিসেবে আমরা একত্রিত হচ্ছি।
গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রগতি সরণি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা গেট এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সর্তক অবস্থান নিতে দেখা যায়।
এদিকে, ঢাকার খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে রাজপথ ছেড়ে দিয়েছেন। ফিরে গেছেন সম্মান আর শ্রদ্ধা নিয়ে। আন্দোলনকারীরা জানান, আমরা ছাত্ররা প্রতিশোধপরায়ণ নই, আমরা অধিকারের দাবিতেই আজ রাজপথে, কেউই আমাদের শত্রু নন, সবাই আমরা এক দেশের নাগরিক। বরং দেশের স্বার্থে আমাদের যে আন্দোলন, তাতে যেই মিলে যাবে, তাকেই আমরা সাদরে বরণ করব, স্যালুট জানাব। পুলিশ সদস্যদের জানাচ্ছি, আপনারা অস্ত্র ছেড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, জাতি আপনাদের আরও বেশি সম্মান করবে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, আমরা হজযাত্রীদের খাদেম। তাদের সেবা না করতে পারলে আমাদের পদত্যাগ করা উচিত। হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পবিত্র এই সফরে যেতে পারেন সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি হজযাত্রীদের সেবায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।
আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।
এবারের প্রথম ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪১৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলছে শেষ প্রস্তুতি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, আজ মোট ১৪টি ফ্লাইট যাবে।
এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬টি, তিনটি সাউদিয়া ও তিনটি ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস। ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী এ বছর হজ পালনে যাবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে যাবেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। এরই মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছে ১৭১ জনের মেডিক্যাল টিম।
ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ‘বট বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি তার।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায় এবং ট্রল করে। এমনকি আমি নাকি পরীক্ষার দিন পরীক্ষার রুটিন দেব—এমন হাস্যকর অপপ্রচারও তারা চালাচ্ছে।’
আজ শুক্রবার দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নবীনবরণ (ওরিয়েন্টেশন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘নকল বন্ধে পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত, কোন বিষয়ে পরীক্ষা জানা যাবে পরীক্ষার হলে’-মর্মে একটি অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন পোর্টালগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গুজব।
‘ফেল করলেই এমপিও বাতিল’—এমন গুজবও ফেসবুকে বট বাহিনী ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এবার কোনো প্রতিষ্ঠানে জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না। কিন্তু বট বাহিনী লিখে দিল এবার ফেল করলেই এমপিও বাতিল। এখন দেখা যাচ্ছে দেশ ফেসবুকেই চলে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল যে তাকে এভাবে আটক রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি যথাযথ জায়গায় আজ-কালের মধ্যেই কথা বলব এবং তার দ্রুত মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘মহানগর পরিবার দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, উপজাতি, জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ নানা সম্প্রদায় রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে দেশে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।
রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক হলেও এসব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এটাই সরকারের নীতি এবং সেই নীতিতেই আমরা কাজ করছি।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পালসহ অনেকে।
রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি সবুজ সংকেত দিয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া এখনো শুরু না হলেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার মতে, গত ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়টি ৯ই জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরআগে, গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়ে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সে সময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ আরও নানা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ আগামী ৩ মাসের জন্য তেল ছাড়ের (ওয়েভার) অনুরোধ করেছিল। কূটনীতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে সম্মতি চাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি কূটনীতিকরা দেশটির ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে রাশিয়ার কিছু তেল কোম্পানির নামও দিয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তেল আমদানি করা যাবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে এমন ধরনের তেল আমদানি করতে চায়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। সেটি না হলে বাংলাদেশকে তৃতীয় কোনো দেশে তেলটি প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে। বর্তমান রিফাইনারির সক্ষমতা অনুযায়ী রাশিয়া থেকে অবশ্যই বিশেষ ধরনের হালকা অপরিশোধিত তেল আনতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী চারটি ট্যাংকার (জাহাজ) আসছে। এর মধ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি এবং আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল) আরো একটি ট্যাংকার আসার কথা রয়েছে। ৪টি ট্যাংকারে করে সর্বমোট আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল যা দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন ৪টি ট্যাংকারের ডিজেল খালাস হলে তা ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায়। মোট মজুদ ডিজেল দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু -এই তিনটি ট্যাংকার বন্দরে ভিড়বে। আর এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার রবিবারে পৌঁছানোর কথা আছে।
চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যেই সব কটা ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে।চলতি মাসে ডিজেল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সরবরাহ বাড়ায় তা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন।
এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আর বছরে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন পাওয়া যায় অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে। জ্বালানি তেলের মধ্যে বহুমুখী খাতে ডিজেলের ব্যবহার হয়। সড়ক পরিবহনের বড় অংশ যেমন বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন মূলত ডিজেলচালিত। কৃষিতে সেচযন্ত্র চালানো, নদীপথে নৌযান পরিচালনা এবং অনেক শিল্পকারখানার জেনারেটর চালাতেও ডিজেল ব্যবহৃত হয়।
দেশে ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ যায় কৃষি খাতে। বিদ্যুৎঘাটতির সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেই ডিজেলের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া ও চারটি ফ্লাইনাস পরিবহন করবে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য যাবেন।
সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ ভাগের মধ্যে সৌদি আরবের সাউদিয়া শতকরা ৩৫ ভাগ ও ফ্লাইনাস ১৫ ভাগ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
২১ মে প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫ টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে হতে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা পহেলা জুলাই শেষ হবে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ এবার ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ ভূষিত করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ গ্রহণ করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেগম খালেদা জিয়ার (মরণোত্তর) পক্ষে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করছেন তার নাতনি জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বুঝে নেন। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার খালেদা জিয়াকে এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেকে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, পাঁচ লাখ টাকার চেক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র পেয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ক্যাটাগরিতে এবার মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম এবং সাহিত্যে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আশরাফ সিদ্দিকী।
সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন টেবিল টেনিস কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু।
সমাজসেবায় এবার তিনজনকে পদক দেয়া হয়েছে। তারা হলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক এবং যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর)। এ ছাড়া জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এই সম্মাননা লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এ ছাড়া চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। আজ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হলো।
চলতি ও আগামী মাসে আরো ১৬ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। বর্তমানে এলএনজি সরবরাহে কোনো সংকট নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সরকার নিয়মিত এলএনজি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তুতি থাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পুরো এপ্রিল মাসে ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি করা ৯টির মধ্যে ৪টি কার্গো দেশে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মে মাসে ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যা সংস্থার নির্ধারিত আমদানি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭টি কার্গো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪টি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলমান।
পেট্রোবাংলার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্র জানায়, চলতি মাসে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে ৪ কার্গো এসেছে। এসব কার্গো অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি করে এবং আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা থেকে কেনা হয়েছে। বাকি ৫টি কার্গোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি করে এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি আসার কথা রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, আগামী মে মাসের জন্য ৭টি কার্গো এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি স্পট মার্কেট থেকে এবং দু’টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ সীমিত থাকায় সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। এজন্য ভর্তুকি দিয়ে হলেও আমদানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে, যাতে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমেই আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধির ফলে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্বস্তি ফিরতে পারে, অন্যথায় এই চাপ অব্যাহত থাকবে।
বিকল্প সরবরাহ উৎসের ব্যাপারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো থেকে এলএনজি কেনা যেতে পারে। কারণ, এসব দেশ ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের কাছাকাছি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বরাবরই ভালো।
ড. বদরুল ইমাম বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানিতে বাংলাদেশের বড় কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক বাধা নেই। সুতরাং এসব উৎস থেকে জ্বালানি কিনলে একটি বড় বিকল্প উৎস তৈরি হবে। এসব দেশ থেকে কম খরচে ও সহজে এলএনজি আমদানি করা যায়। এসব উৎসকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাতে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে নাসিমুল গণি বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের মতো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা। এটা একটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হবে।
‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হওয়ার কারণে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আগে ছিল, এখন আবার ফেরত আনা হয়েছে। গত ১৬ বছর এটি করা হয়নি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান হলে জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি হন।
৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। বিএনপি এই দিনকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় এই দিবসটি আর পালন করেনি। বিএনপি সরকার গঠনের দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা কিংবা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলতেন–জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের সাহসী ভূমিকা আজও প্রেরণার উৎস।’
ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘হীন দলীয় স্বার্থে জাতীয় নেতাদের শ্রদ্ধায় কার্পণ্য করা হীনম্মন্যতার পরিচায়ক। ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধা থাকা উচিত নয়।’ এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন।
এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার পাশাপাশি অন্যান্য গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই অবিস্মরণীয় অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্যদিয়ে বর্তমান সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ফেরানোই আমাদের অগ্রাধিকার। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার বিকল্প নেই। সরকার এরইমধ্যে প্রতিটি সেক্টর চিহ্নিত করে জুলাই সনদ ও দলীয় ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
বৈশ্বিক সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখছে। জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।’ তবে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিলাসিতা ও অমিতব্যয়িতা পরিহার করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত গুণিজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের দীর্ঘায়ু ও বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সম্মান আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এবার ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পুনর্গঠন করে পৃথক দুইজন পুলিশ কমিশনার নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ রিট করেছেন।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে দুইটি সিটি কর্পোরেশনে বিভক্ত। একটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং অন্যটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ বিভাজনের পরও পুরো মহানগরের পুলিশিং কার্যক্রম এককভাবে ডিএমপির অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা একজন পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, দ্রুত নগরায়ন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অপরাধ বৃদ্ধি, যানজট ও জননিরাপত্তা সংকটের কারণে বর্তমান একক পুলিশ প্রশাসন কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
রিটে ডিএমপিকে দুটি পৃথক ইউনিটে বিভক্ত করা, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক দুইজন পুলিশ কমিশনার নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বর্তমান অকার্যকর কাঠামোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) ছিল, তারা জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। প্রফেসর ইউনূস ভালো ছিলেন, পৃথিবী বিখ্যাত লোক। তাদের পক্ষে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির সূচক নিচের দিকে নেমে গিয়েছে। এই যে হামের টিকা নেই, বহু লোক জীবন দিয়েছে। এভাবে অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে তখন জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়।
তিনি বলেন, তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সফল হতে পারেনি। তাদেরকে একটা কৃতিত্ব দেই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের ট্র্যাকে উঠেছে। আশা করব এ রাষ্ট্র সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হবে, জাতি সমৃদ্ধ হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তিন দিনের সরকারি সফরে ভোলায় এসে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের লিগেসি হিসেবে কতোগুলো বিষয় এখানে রয়ে গেছে, একটা হলো জুলাই সনদ। কয়েকজন ব্যক্তি তো রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না, সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে গণপ্রতিনিধিরা। আপনারা জনগণ যাদেরকে ভোট দিয়ে বানাবেন তারা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু তারা কিছু উদ্ভট নিয়মও করে গিয়েছে যে- ব্যক্তির নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায় অটোমেটিকলি।
তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি। তারা জুলাই সনদে সই করেছে, সংসদেও তারা বলেছে যে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তবে কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, জনগণ তাদেরকে রায় দিয়েছে। জুলাই সনদেও লেখা আছে যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা যদি জনগণের ম্যান্ডেট পায় তারা নোট অব ডিসেন্টকে কার্যকর করতে পারবে। মূলত আমি দেখতে পাই সরকার এবং বিরোধীদলের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। অল্প কিছুটা আছে। রাজনৈতিক চাল কিছুটা আছে। আমার মনে হয় সরকার এবং বিরোধী মিলে একটা সমঝোতায় উপনীত হতে পারবে।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পরই দেখা গেল গণতন্ত্র বিদায় নিলো, এদেশে একদলীয় শাসন ও আমরা দেখেছি। গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচনের নামে কতগুলো প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। আমি নিজেই ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা থেকে যখন আমার নির্বাচনী এলাকায় (ভোলা-৩ লালমোহন-তজুমদ্দিন) গেলাম। যাওয়ার পর আমার বাড়িটা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল, ১৬ দিন ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। সেখান থেকে সন্ত্রাসী নির্বাচিত হয়ে গেল। এভাবেই বাংলাদেশে থেকে গণতন্ত্রকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। অবশেষে জনগণের ত্যাগ তিতিক্ষা বিশেষ করে ছাত্র-যুবক তাদের অভিভাবকরা রাজপথে নেমে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আবু সাঈদ মুগ্ধ ওয়াসিমদের মতো তরুণরা জীবন দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মাফিয়া নেত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্পিকারের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় দেশে এখনো এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।"
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, "আমি আশ্বস্ত করতে চাই জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।"