শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি, হামলায় কমপক্ষে দুই শতাধিক নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত সারা দেশ। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে দেশজুড়ে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে কারান্তরীণ সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার ও সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আন্দোলন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে বসতে চেয়ে গণভবনের দরজা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের জন্য গণভবনের দরজা খুলে দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। পরে বিকালে শহীদ মিনারে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষণাপত্র করে আজ রোববার থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
এ সময় নাহিদ বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব।
গত শুক্রবার থেকেই রাজধানীর অবস্থা ছিল থমথমে। ছুটির দিন হলেও হঠাৎ করেই সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান হয়ে যায় সীমিত। ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারের মাত্র তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। বিপরীতে রাজধানীসহ সারা দেশে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষিত কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী ও অভিভাবকদের সরব উপস্থিতি। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার সকালে গণভবনে একদল পেশাজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে শিক্ষকদের জন্য ঘোষিত ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচি বাতিল, কারাগারে পাঠানো সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে তার বক্তব্যের পরপরই কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে, গতকালও শিক্ষার্থীদের ঘোষিত আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এমন অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া রাজধানীর সাইন্স ল্যাব, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, আফতাবনগর, প্রগতি সরণি, রামপুরা, শান্তিনগর, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে য়োগ দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে মহানগরী ঢাকা। সারা দেশেও চলে একই কর্মসূচি।
দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মানুষের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারে। এতে শহীদ মিনার এলাকা ছাপিয়ে চাঁনখারপুল মোড়, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল মোড় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তারপরও এসেছে আন্দোলনকারীদের মিছিল।
শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলে দলে যোগ দিতে থাকেন রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ আন্দোলনে গতকালও সুশীল সমাজের বিপুল উপস্থিতির পাশাপাশি সাহিত্যিক, সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন শিল্পী এবং অভিনেতা-নির্দেশ-কলাকুশলীদের দেখা গেছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তি সমাবেশ শুরু করে শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ। তারা দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন সেখানে। বিকালে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা। শহীদ মিনারের আশপাশের সড়ক, ভবন ও দেওয়ালে বিভিন্ন দাবির কথা লিখতে থাকেন তারা। অনেকের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। তাদের সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরাও। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও বিক্ষোভ-স্লোগানে অংশ নিয়েছেন। অনেককে দেখা গেছে সন্তান-পরিবার নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে। সময় যত গড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে এসে অবস্থান নেন তারা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এর মধ্যে আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ডেকে ডেকে ফ্রিতে পেয়ারা ও আমড়া বিতরণ করছেন এক ফল বিক্রেতা। এ ছাড়া এক নারীকে পানি বিতরণ করতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সব ধরণের মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নেন।
শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে,’ ‘জাস্টিস জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস,’ ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত,’ ‘স্বৈরাচারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে,’ ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো,’ ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর,’ বলে স্লোগান দিয়েছেন।
পরে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, তাদের কাছে কী বিচার চাইব? তারাই তো খুনি। আমাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। আপনাদের আন্দোলনের কারণে আমরা ছাড়া পেয়েছি। আজকেও গুলি চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এক দফা ঘোষণা করছি। এই যে খুন-হত্যা হয়েছে, এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই সরকারের লুটপাট-দুর্নীতির বিচার করত হবে। শুধু শেখ হাসিনা নন, সব মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
যে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব। আগামীকাল (রোববার) থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন হবে।
এ সময় নাহিদ ইসলাম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রে তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। নারী-শিশু-ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক কেউ এই গণহত্যা থেকে রেহাই পাননি।
যেহেতু, সরকার এই হত্যাযজ্ঞের বিচার করার পরিবর্তে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে।
যেহেতু, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ সংঘটন করেছে।
যেহেতু, ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক-মজুরসহ আপামর জনগণ মনে করছে এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার এবং তদন্ত সম্ভব নয়।
সেহেতু, আমরা বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করছি।
একই সঙ্গে সবার নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবী, আগারগাঁও, মিরপুর ১ নম্বর ও ১৪ নম্বরগামী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১০ নম্বরে বন্ধ রয়েছে দোকান-পাট। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে সড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্রে করে সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করে 'আমার ভাই মরল কেন'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অনেকের মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। কারও কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।
১০ নম্বর গোলচত্বরের আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে আসার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। তবে দলে দলে শিক্ষার্থীরা আসতে থাকলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মিরপুর ২ নম্বরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান নেয়। শুরুতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও পরে তারা সরে যান।
এছাড়া সকাল থেকে মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। আশেপাশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অবস্থান নিলেও তারা মিক্ষার্থীদের বাধা দেয়নি। বন্ধ হয়ে যায় টেকনিক্যাল থেকে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত যান চলাচল।
এদিক, বেলা ১২টা থেকে আন্দোলনের সমর্থনে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড় হয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ। সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার চান তারা। পুরো সায়েন্স ল্যাব এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থানে বন্ধ হয়ে যায় নিউ মার্কেট-সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর সড়ক।
আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে রওনা হন। আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁরা সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে শহীদ মিনারে যাবেন। আন্দোলনকারীদের শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ায় পুলিশ সদস্যরা। তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
সকাল থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কাউকে এ এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়নি।
অপরদিকে, আফতাবনগরে আন্দোলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইউআইটিএস ও সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নিয়েছেন। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর বাড্ডা রামপুরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বনশ্রী বি ব্লকের সামনে আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগন দিতে থাকেন। এ সময় অর্ধশতাধিক পুলিশ রাস্তা থেকে সরে যায়।
এছাড়া বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। বসুন্ধরা গেটের পাশে বিপুল পুলিশ অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সারাদেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবিতে সারাদেশে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করবো। এরই অংশ হিসেবে আমরা একত্রিত হচ্ছি।
গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রগতি সরণি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা গেট এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সর্তক অবস্থান নিতে দেখা যায়।
এদিকে, ঢাকার খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে রাজপথ ছেড়ে দিয়েছেন। ফিরে গেছেন সম্মান আর শ্রদ্ধা নিয়ে। আন্দোলনকারীরা জানান, আমরা ছাত্ররা প্রতিশোধপরায়ণ নই, আমরা অধিকারের দাবিতেই আজ রাজপথে, কেউই আমাদের শত্রু নন, সবাই আমরা এক দেশের নাগরিক। বরং দেশের স্বার্থে আমাদের যে আন্দোলন, তাতে যেই মিলে যাবে, তাকেই আমরা সাদরে বরণ করব, স্যালুট জানাব। পুলিশ সদস্যদের জানাচ্ছি, আপনারা অস্ত্র ছেড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, জাতি আপনাদের আরও বেশি সম্মান করবে।
হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়াও একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ১৭০টি শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত হামে ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৩১টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৩৮ হাজার ৩০১টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬ হাজার ১০০ শিশু। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৬ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৬৫০।
জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামকে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র–সরঞ্জামসহ দুজনকে আটকের পর এ তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া। তবে কোন থানার সেটি নির্দিষ্ট করতে পারেনি তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন—চক্রের ‘হোতা’ মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন ও তাঁর সহযোগী মো. রায়হান।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, দুজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া নম্বরপ্লেট, র্যাবের জ্যাকেট, হাতকড়া, ওয়াকিটকি, স্টিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি ও পিস্তল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। তারা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে আসছিল। কখনো র্যাব, পুলিশ আবার কখনো যৌথবাহিনীর পরিচয়ে অভিযানের নামে ডাকাতি করত তারা।
কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘আলামিন এই চক্রের অন্যতম নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায়ও সে আসামি।’
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে ডাকাতি মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়ায় আলামিন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি এবং অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলার তথ্য পেয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাত দলের ‘গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তিনি ডাকাতির জন্য যানবাহন সরবরাহ, রুট নির্ধারণ এবং পালানোর পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতেন বলে জানায় র্যাব।
রাজধানীর মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৮৩টি ল্যাপটপ গায়েব হয়েছে বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা বোরকা পরা এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বরত আনসার সদস্য আনোয়ারুল হঠাৎ নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের ধোঁয়া দেখে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আইয়ুব আলীকে খবর দেন। আইয়ুব আলী ঘটনাটি মোবাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী এমাম হোসেনকে জানালে তিনি ৯৯৯ এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এক পর্যায়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেন ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে বোরকা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার অস্থায়ী স্টোররুমের তালা কৌশলে খুলে কিছু মালামাল ও ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি ৫ বার ওই কক্ষটিতে প্রবেশ করে। যাওয়ার সময় তিনি কক্ষটিতে আগুন ধরিয়ে সটকে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করে দেখা যায়, ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি।
বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় গেলেও দেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে চলছে বলে দাবি করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় বলছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। এটা বলেই তিনি শুরু করেছেন, বাংলাদেশে এসে প্রথম দিনই বলেছেন ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি, সেই চুক্তিটা দেখাচ্ছে যে সরকার “সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র” এই নীতি অনুযায়ী চলছে।’
বিএনপি সরকারের আড়াই মাসের কাজের মূল্যায়নে শনিবার গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক সভায় এ কথা বলেন আনু মুহাম্মদ।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভাপ্রধান ছিলেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এবং তার ধারাবাহিকতায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি দিকে ইঙ্গিত করে দুটি সরকারেরই সমালোচনা করেন আনু মুহাম্মদ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘এই চুক্তি স্বাক্ষরের অনেক আগে থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি আমদানির চুক্তি হলো। পত্রপত্রিকায় খবর এসেছিল, এলএনজি আমদানির বিষয়ে পেট্রোবাংলা কিছু জানে না। এই চুক্তি করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। তখন বিমান কেনার ব্যাপারেও একটা বোঝাপড়া হয়েছিল, যা বিমান জানত না। এখন নির্বাচিত সরকারের সময়ও একই ঘটনাই ঘটছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী অবিশ্বাস্য চুক্তি’ আখ্যা দেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি সইয়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি উৎসাহী ছিলেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
খলিলুর রহমানকে বিএনপির সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা এবং বিডায় আশিক চৌধুরীকে রেখে দেওয়া নিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই চুক্তির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। অথচ তাদের রেখে দিয়ে আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে ৬ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পারে নয়াদিল্লি। এমনটা হলে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।
শনিবার (০২ এপ্রিল) দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের এক প্রশাসনিক কর্তার বরাতে এমনটা জানা গেছে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্তা জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই চালু হতে পারে পর্যটক ভিসা। তবে এই ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং এ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ওই কমিটির নেতৃত্বে। তিনি দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের প্রতিবেদনের ওপরও সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে।
এ সম্ভাবনার খবরে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ফিরে এলে আবারও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে।
এর আগে ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সফরে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ শুরু হবে আগামীকাল রবিবার (৩ মে) থেকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।
এবারের সম্মেলনে ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ মে থেকে ৬ মে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজনের সার্বিক বিষয় নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাছিমুল গনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম এই ডিসি সম্মেলন এবার অধিক গুরুত্ব পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, সরকার কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবছর সম্মেলনে ৭১ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে, যা গত বছরও এক কোটির বেশি খরচ হয়েছিলো।
এবারের সম্মেলনে এক হাজার ৭২৯টি বিষয়ে প্রস্তাবনা থাকলেও ৪৯৮টি প্রস্তাবনা কার্য তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে জানান তিনি।
চার দিনের নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির ও স্পিকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক সেশন ও সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান থাকবে।
আর পাঁচটা দিনের থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের আজকের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সুনসান স্টেডিয়াম যেন হঠাৎই জেগে উঠেছে। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠে খুদে ক্রীড়াবিদদের চমকপ্রদ ক্রীড়া প্রদর্শনী; নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক পাহাড়া আর সংবাদকর্মীদের অবিরাম ব্যস্ততা। সব আয়োজন এক উপলক্ষ্য ঘিরে—নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা।
আজ বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।
আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি–কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে এসেছেন তারা।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।
আজ সিলেটে গণমাধ্যমকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যেমনটা বলছিলেন, নির্বাচনের আগেই ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল স্পোর্টস। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সরকার ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।
উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বললেন, ‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাহিরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।”
প্রসঙ্গত, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।
পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-২৬ এপ্রিল ডেডলাইন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আট ইভেন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন, মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। সেখানে ৭ হাজার ৯৬৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত সংসদ সদস্যদের শপথ রোববার (৩ মে) অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২ মে) এই তথ্য জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
জানা গেছে, রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী সংরক্ষিত আসনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ৩৬ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে মনোনীত হয়েছে ১৩ জন এবং স্বতন্ত্র থেকে ১ জন মনোনীত হয়েছেন।
বিএনপি জোটের বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন—মহিলা জামায়াত সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, মানবসম্পদ ও আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নাহার নিলু এবং প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বে চট্টগ্রাম থেকে মেরিনা সুলতানা, সিলেট থেকে মাহফুজা খানম এবং বগুড়া থেকে সাজেদা সামাদ রয়েছেন। এছাড়া জুলাই শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর মা রোকেয়া বেগমকেও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের তালিকায় রাখা হয়েছে।
অপরদিকে জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া তিনটি আসনে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।
রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। শনিবার (২ মে) দুপুরে কারওয়ান বাজার এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, আগের মতো বড় শীর্ষ সন্ত্রাসী না থাকলেও তাদের সহযোগী ও নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশনার বলেন, ‘কারওয়ান বাজার এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নতুন পুলিশ ক্যাম্পটি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে। এখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সদস্য বাড়ানো হবে।’
তিনি আরো জানান, রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গোপন নজরদারি বাড়ানোসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি থানাকে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার কড়া নির্দেশনা প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা মডেল থানা সরজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বান জানান।
থানা পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাজতখানা, বিভিন্ন কক্ষ এবং থানার সার্বিক পরিবেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কাজের চ্যালেঞ্জ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সর্তক করে দিয়ে জানান যে, দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো হয়রানি ছাড়া থানায় আইনি সেবা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন বলে জানা গেছে।
সিলেটের সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
আজ শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী এসময় প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
সিসিক জানায়, সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে একদিকে যেমন নদীভাঙন রোধ হবে, অন্যদিকে নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি সুধী সমাবেশে যোগদান করেন।
এর আগে সিলেটে পৌঁছে সুফিসাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিলেটের সুরমা নদীর পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
একই দিন দুপুর ১২টার পর সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৫টায় দলীয় এক সভায় যোগ দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো এবং প্রয়োজনীয় সাজসজ্জা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ও অন্যতম প্রধান বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইেন্স করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। পরে তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
এছাড়া নগরীতে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরের অংশ হিসেবে, বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচি ও বিকেলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন টানাতেও দেখা গেছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের এই প্রথম সিলেট সফর ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তার আগমন উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপি অঙ্গসংগঠনগুলকে মিছিল করতে দেখা যায়।
গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরের দিন ২২ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদ্রসা মাঠ থেকে এয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন তিনি।