দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জানমাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। আজ বুধবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় বলা হয়েছে, যে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, হানাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হলে নিকটস্থ সেনাবাহিনী ক্যাম্পে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। এক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও গুজবে আতঙ্কিত হয়ে সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন।
সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে নিম্নলিখিত নম্বরসমূহে যোগাযোগ করুন:
বরিশাল বিভাগ
১। বরিশাল
০১৭৬৯০৭২৫৫৬
০১৭৬৯০৭২৪৫৬
২। পটুয়াখালী
০১৭৬৯০৭৩১২০
০১৭৬৯০৭৩১২২
৩। ঝালকাঠি
০১৭৬৯০৭২১০৮
০১৭৬৯০৭২১২২
৪। পিরোজপুর
০১৭৬৯০৭৮২৯৮
০১৭৬৯০৭৮৩০৮
চট্টগ্রাম বিভাগ
১। নোয়াখালী
০১৬৪৪-৪৬৬০৫১
০১৭২৫-০৩৮৬৭৭
২। চাঁদপুর
০১৮১৫-৪৪০৫৪৩
০১৫৬৮-৭৩৪৯৭৬
৩। ফেনী
০১৭৬৯-৩৩৫৪৬১
০১৭৬৯-৩৩৫৪৩৪
৪। লক্ষীপুর
০১৭২১-৮২১০৯৬
০১৭০৮৭৬২১১০
৫। কুমিল্লা
০১৩৩৪-৬১৬১৫৯
০১৩৩৪-৬১৬১৬০
৬। ব্রাক্ষণবাড়িয়া
০১৭৬৯-৩২২৪৯১
০১৭৬৯-৩৩২৬০৯
৭। কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী এবং সাতকানিয়া উপজেলা
০১৭৬৯১০৭২৩১
০১৭৬৯১০৭২৩২
৮। চট্টগ্রাম (লোহাগড়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী এবং সাতকানিয়া উপজেলা ছাড়া)
০১৭৬৯২৪২০১২
০১৭৬৯২৪২০১৪
ঢাকা বিভাগ
১। মাদারীপুর
০১৭৬৯০৭২১০২
০১৭৬৯০৭২১০৩
২। কিশোরগঞ্জ
০১৭৬৯১৯২৩৮২
০১৭৬৯২০২৩৬৬
৩। টাঙ্গাইল
০১৭৬৯২১২৬৫১
০১৭৬৯২১০৮৭০
৪। গোপালগঞ্জ
০১৭৬৯-৫৫২৪৩৬
০১৭৬৯-৫৫২৪৪৮
৫। রাজবাড়ী
০১৭৬৯-৫৫২৫১৪
০১৭৬৯-৫৫২৫২৮
৬। গাজীপুর
০১৭৮৫৩৪৯৮৪২
০১৭৬৯০৯২১০৬
৭। মুন্সিগঞ্জ
০১৭৬৯০৮২৭৯৮
০১৭৬৯০৮২৭৮৪
৮। মানিকগঞ্জ
০১৭৬৯০৯২৫৪০
০১৭৬৯০৯২৫৪২
৯। নারায়ণগঞ্জ
০১৭৩২০৫১৮৫৮
১০। নরসিংদী
০১৭৬৯০৮২৭৬৬
০১৭৬৯০৮২৭৭৮
১১। শরীয়তপুর
০১৭৬৯০৯৭৬৬০
০১৭৬৯০৯৭৬৫৫
১২। ফরিদপুর
০১৭৬৯০৯২১০২
০১৭৪২৯৬৬১৬২
ঢাকা মহানগর
১। ঢাকার লালবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আগারগাঁও, মহাখালী, তেজগাঁও, এলিফ্যান্ট রোড এবং কাঁটাবন
০১৭৬৯০৫১৮৩৮
০১৭৬৯০৫১৮৩৯
২। ঢাকার গুলশান, বারিধারা, বনানী, বসুন্ধরা, বাড্ডা, রামপুরা, শাহজাহানপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান এবং বনশ্রী
০১৭৬৯০১৩১০২
০১৭৬৯০৫৩১৫৪
৩। ঢাকার মিরপুর-১ হতে মিরপুর-১৪, খিলক্ষেত, উত্তরা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
০১৭৬৯০২৪২১০
০১৭৬৯০২৪২১১
৪। ঢাকার মতিঝিল, সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, শান্তিনগর, ইস্কাটন, রাজারবাগ, পল্টন, গুলিস্তান এবং পুরান ঢাকা
০১৭৬৯০৯২৪২৮
০১৭৬৯০৯৫৪১৯
ময়মনসিংহ বিভাগ
১। শেরপুর
০১৭৬৯২০২৫১৬
০১৭৬৯২০২৫২৪
২। নেত্রকোণা
০১৭৬৯২০২৪৭৮
০১৭৬৯২০২৪৪৮
৩। জামালপুর
০১৭৬৯১৯২৫৪৫
০১৭৬৯১৯২৫৫০
৪। ময়মনসিংহ
০১৭৬৯২০৮১৫১
০১৭৬৯২০৮১৬৫
খুলনা বিভাগ
১। বাগেরহাট
০১৭৬৯০৭২৫১৪
০১৭৬৯০৭২৫৩৬
২। কুষ্টিয়া
০১৭৬৯-৫৫২৩৬২
০১৭৬৯-৫৫২৩৬৬
৩। চুয়াডাঙ্গা
০১৭৬৯-৫৫২৩৮০
০১৭৬৯-৫৫২৩৮২
৪। মেহেরপুর
০১৭৬৯-৫৫২৩৯৮
০২৪৭৯৯২১১৫৩
৫। নড়াইল
০১৭৬৯-৫৫২৪৫৬
০১৭৬৯-৫৫২৪৫৭
৬। মাগুরা
০১৭৬৯-৫৫৪৫০৫
০১৭৬৯-৫৫৪৫০৬
৭। ঝিনাইদহ
০১৭৬৯-৫৫২১৫৮
০১৭৬৯-৫৫২১৭২
৮। যশোর
০১৭৬৯-৫৫২৬১০
০১৭৬৯-০০৯২৪৫
৯। খুলনা
০১৭৬৯-৫৫২৬১৬
০১৭৬৯-৫৫২৬১৮
১০। সাতক্ষীরা
০১৭৬৯-৫৫২৫৩৬
০১৭৬৯-৫৫২৫৪৮
রাজশাহী বিভাগ
১। রাজশাহী
০১৭৬৯১১২৩৮৬
০১৭৬৯১১২৩৮৮
২। চাঁপাইনবাবগঞ্জ
০১৭৬৯১১২০৭০
০১৭৬৯১১২৩৭২
৩। পাবনা
০১৭৬৯১২২৪৭৮
০১৭৬৯১১২৪৮০
৪। সিরাজগঞ্জ
০১৭৬৯১২২৪৬২
০১৭৬৯১২২২৬৪
৫। নাটোর
০১৭৬৯১১২৪৪৬
০১৭৬৯১১২৪৪৮
৬। নওগাঁ
০১৭৬৯১২২১১৫
০১৭৬৯১২২১০৮
৭। জয়পুরহাট
০১৭৬৯১১২৬৩৪
৮। বগুড়া
০১৭৬৯১১২৫৯৪
০১৭৬৯১১২১৭০
রংপুর বিভাগ
১। রংপুর
০১৭৬৯৬৬২৫৫৪
০১৭৬৯৬৬২৫১৬
২। দিনাজপুর
০২৫৮৯৯২১৪০০
০২৫৮৯৬৮২৪১৪
৩। নীলফামারী
০১৭৬৯৬৮২৫০২
০১৭৬৯৬৮২৫১২
৪। লালমনিরহাট
০১৭৬৯৬৮২৩৬৬
০১৭৬৯৬৮২৩৬২
৫। কুড়িগ্রাম
০১৭৬৯৬৬২৫৩৪
০১৭৬৯৬৬২৫৩৬
৬। ঠাকুরগাঁও
০১৭৬৯৬৬৬০৬২
০১৭৬৯৬৭২৬১৬
৭। পঞ্চগড়
০১৯৭৩০০০৬৬২
০১৭৬৯৬৬২৬৬১
৮। গাইবান্ধা
০১৬১০৬৫২৫২৫
০১৭৫৪৫৮৫৪৮৬
সিলেট বিভাগ
১। সিলেট
০১৭৬৯১৭৭২৬৮
০১৯৮৭৮৩৩৩০১
২। হবিগঞ্জ
০১৭৬৯১৭২৫৯৬
০১৭৬৯১৭২৬১৬
৩। সুনামগঞ্জ
০১৭৬৯১৭২৪২০
০১৭৬৯১৭২৪৩০
৪। মৌলভীবাজার
০১৭৬৯১৭৫৬৮০
০১৭৬৯১৭২৪০০
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি পরিচালকের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যও করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বললেও প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। তবে পরবর্তীতে পাওয়া প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই সঠিক প্রমাণিত হয়। সরকারি প্রক্রিয়ায় সময় লাগায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের পরিচালক ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেননি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সহায়তায় ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও দুটি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এসব ভেন্টিলেটর সরকারি অর্থে নয়, বেসরকারি সহায়তায় আনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর গভীর আস্থা রাখেন। তাই, তাদের আচরণ ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও ক্লান্তির কারণে চিকিৎসায় ভুল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান অর্জন এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিজের চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক পরামর্শ ও বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের নিশ্চয়তা শতভাগ নয়। একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলি নির্ধারণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। অর্থাৎ, ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।
দূতাবাস আরও সতর্ক করে জানায়, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করা (যেমন পর্যটক ভিসায় চাকরি করা) গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বার্তায় বলা হয়, ভিসার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর দায়িত্ব। নিয়ম মেনে অবস্থান এবং সময়মতো দেশে ফিরে আসার ওপরই ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।
সম্প্রতি অতিরিক্ত সময় অবস্থান ও ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দূতাবাস নিয়মিত এমন বার্তা দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১২তম মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
র্যাব সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মো. আহসান হাবীব পলাশ ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘ ও বর্ণিল কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে আহসান হাবীব পলাশ ৪ এপিবিএন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ছাড়াও রাঙামাটি, শরীয়তপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সে প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রমে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন তিনি। পদোন্নতি সূত্রে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার কাজের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় কসোভো, লাইবেরিয়া, সুদান ও দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশে অনন্য সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ (বিপিএম-সেবা) পদকে ভূষিত হন।
শিক্ষাজীবনে মো. আহসান হাবীব পলাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (সম্মান) এবং এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগী বাড়ছে। এই দুই হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ড থেকে হামে আক্রান্ত যে চার শিশুকে গত বৃহস্পতিবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের তিনজনই মারা গেছে। বেঁচে থাকা শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে শনিবার বিকেলে আইসিইউয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিন শিশুকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ দিনে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর।
রাজশাহী: রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হাম রাজশাহী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, শনিবার থেকে ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন কর্নার করা হয়েছে। সেই কর্নারে রেখে হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি পরিস্থিতি দেখতে পাবনায় গিয়েছিলেন। পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি খারাপ। পাবনা সদর হাসপাতালে ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। আলাদা ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বিভাগের সব জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোয় তিনি আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে গত ২৪ মার্চ হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষ করা হয় হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে শিশুদের। তবে কক্ষগুলোতেও রোগী সংকুলান হচ্ছে না।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে তিনটি ভাগে ভাগ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুটি ওয়ার্ডকেই শিশু ওয়ার্ড বলা হয়। এই শিশু ওয়ার্ডে সব ধরনের শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে শিশু রোগীদের ভিড় দেখা যায়। শয্যা, মেঝে ও বরান্দা—সর্বত্র রোগী। ৬০ রোগীর শয্যার বিপরীতে এখানে তিনশ–চারশর বেশি রোগী ভর্তি থাকে সব সময়, এমনটি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এই হাসপাতালে ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরের কিছু অংশ থেকে রোগী ভর্তি করা হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬ জন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে ২৩ জন চিকিৎসাধীন। চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১০৫ জন শিশু।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৪৬ জন শিশু রোগী হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। নির্ধারিত একটি কক্ষে ১০ জন হাম আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার কথা থাকলেও তাতে ধরছে না রোগী। এক বিছানায় দুই রোগীর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, ধারণক্ষমতার বেশি রোগী থাকায় অন্য রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।
শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মাজহারুল আমিন বলেন, ‘হামের টিকা নিয়েছে এবং নেয়নি, দুই ধরনের রোগীই আমরা পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো রোগীকে আইসিইউতে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। কয়েক মাস ধরে দুয়েকজন রোগী পাওয়া গেলেও এ মাসেই বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তিনটি পৃথক কর্নার করা হলেও সেখানে রোগী না ধরায় হাম আক্রান্ত রোগীদের শতভাগ আইসোলেশনে রাখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া অন্য রোগীদেরও চাপ রয়েছে।’
শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান জানান, হাসপাতাল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ রোগী থেকে হাম আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম আক্রান্ত রোগী সাধারণ রোগীদের মধ্যে আছে, এমন সংখ্যা কম। খোঁজ করে পেলে সেই রোগীকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। আপাতত তিনটি কক্ষে রোগীদের রাখা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে আর কী করা যায়।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) লোকজন এই হাসপাতালে এসে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ হাম আক্রান্ত বেড়ে গেল, তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে শিশুদের টিকাদানে সমস্যা হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে ও সাবধানে থাকতে হবে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে।
হাম আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানান ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহ্মেদ। তিনি বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক’ চালুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভাষাসৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমেনা আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আমেনা আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে একমাত্র কন্যা আইভি রহমান, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের রেখে গেছেন তিনি।
জানা যায়, ভাষাসৈনিক আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আজ বাদ মাগরিব স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শন শেষে স্বামী মোজাফফর আহমেদের কবরের পাশে আমেনা আহমেদকে সমাহিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ভাষাসৈনিক আমেনা আহমেদ ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজপথের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। তিনি ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও আমেনা আহমেদ ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বর্তমান কার্যকরী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটি।
শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। সভায় কমিটির সদস্যবৃন্দ-রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়ার ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সাইফুল আলম এবং মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বিশেষ করে কার্ডিয়াক চিকিৎসা জোরদারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুল্যান্স সংযোজন, লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ক্রয় এবং মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ২৫০ ও ২৫১ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবনের সংস্কার কাজের অগ্রগতি, শেরেবাংলানগরের এমপি হোস্টেলের ১৫৬টি অফিস কক্ষ সংস্কার এবং সিভিল, ই/এম ও কাঠের কারখানা বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সংসদ সদস্যদের জন্য ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবাসন এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নির্ধারিত জনবল পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী পদায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) এমপির সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া সংসদ সদস্যদের আবাসন ভবনের আসবাবপত্র দ্রুত প্রস্তুত ও সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং প্রতিটি আসবাবের মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সংসদ অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা নির্ণয়ে গঠিত কমিটিকে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ায় সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।”
ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে বৃহস্পতিবার ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের চতুর্দশ সম্মেলনে (এমসি১৪) তিনি এ মন্তব্য করেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের ‘ডব্লিউটিও রিফর্ম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুজ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন, ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ বা এমএফএন সুবিধা, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বা ডিএফকিউএফ বাজার প্রবেশাধিকার এবং স্পেশাল অ্যান্ড ডিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্ট বা এসঅ্যান্ডডিটি সুবিধা বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড মহামারীর সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্দেশ করে। তবে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।”
সংস্কার প্রক্রিয়া ‘অত্যন্ত সতর্কতার’ সঙ্গে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় রাখা, পূর্বের অর্জন সংরক্ষণ এবং সব সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফল নিশ্চিত করা জরুরি। এবারের সম্মেলনে ডব্লিউটিও সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলো জেনিভায় আলোচনার পর একটি রূপরেখা প্রস্তুত করেছে, যা এমসি১৪-তে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি, উন্নয়ন ইস্যু, বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা, সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উদ্বোধনী দিনে ডব্লিউটিও মহাপরিচালক এনগোজি ওকনজো ইওয়েলা বলেন, বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা বর্তমানে বড় চাপের মুখে রয়েছে। তার ভাষায়, সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য ১৬৬ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৬৪টি দেশ ভর্তুকি নোটিফিকেশন জমা দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ডব্লিউটিওর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এলডিসি হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কিছু নীতিগত নমনীয়তা উত্তরণের পর আংশিকভাবে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি, ট্রিমস, ভর্তুকি, ট্রিপস, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ও সেবা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। এ কারণে ডব্লিউটিও সংস্কার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং বিশেষ সুবিধা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বিপিসি। এখন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে সরবরাহ কার্যক্রম।
বিপিসির বিভিন্ন কোম্পানির ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পেট্রোল পাম্পে সরবরাহের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সময়সূচিতে ২ ঘণ্টা এগিয়ে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপণন কোম্পানিসমূহের মাধ্যমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে, দেশব্যাপী ফিলিং স্টেশন, প্যান্ড পয়েন্ট ডিলার ও পাম্পসমূহে জ্বালানি পণ্য সঠিকভাবে সরবরাহ কার্যক্রম নিশ্চিতে বিপিসির অধীনের কোম্পানিসমূহের প্রধান স্থাপনা/ডিপো হতে জ্বালানি পণ্য সরবরাহের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধান স্থাপনা/ডিপো হতে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৭টায়। আর প্রধান স্থাপনা/ডিপো হতে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম শেষ হবে বেলা ৩টায়।
এদিকে দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সব পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গুরুত্ব পেয়েছে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ বিষয়ক আলোচনাসহ সংসদে অধিবেশন চলাকালীন অডিও তথা শব্দ বিভ্রাট ইস্যু। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের আবাসন বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ তাহেরসহ কমিটির ১১ সদস্য।
বৈঠক শেষে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, 'বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন এবং চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের কাজের সুবিধার জন্য কাছাকাছি থাকা দরকার, সেজন্য তাদের সংসদের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা হচ্ছে। সব সদস্যকে আবাসনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করি। ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা। আগামী ৩০ মার্চ হাউজ কমিটির আরেকটি বৈঠক আছে। বাসা বরাদ্দ নিয়ে সংসদ সদস্যরা সে বাসা নিজেরাই ব্যবহার করবেন বলে প্রত্যাশা, কারণ সেটিই সঙ্গত।'
তিনি আরও জানান, 'সংসদ অধিবেশনে অডিও বিভ্রাট এবং কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ৩ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দিবে।'
এদিকে, বিকাল ৪টায় সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সভাকক্ষে ওই বৈঠক হবে। বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর থেকেই সংসদীয় কার্যক্রমকে নিয়মিত ও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছিল। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৮ মার্চ) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মরহুমা দিলারা হাফিজ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সজ্জন শিক্ষাবিদকে হারালো।
উল্লেখ্য, দিলারা হাফিজ আজ (শনিবার) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমা দিলারা হাফিজ তার দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশে শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন মেয়াদে ইডেন মহিলা কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। প্রথমে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হবে।
আজ শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আমিনুল হক বলেন, ‘যারা জাতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে।
তাদেরকে সম্মানিত করতে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হবে।
যারা বিভিন্ন পদক পেয়েছে তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে আমিনুল হক জানান, ৪৯৫ উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় দখল হয়ে থাকা মাঠ উদ্ধারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জ্বালানি তেল মজুদ প্রতিরোধ, বিপননে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি তেল মজুদের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এতে আরো জানানো হয়, ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। গত ২৫ মার্চ থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোতে সর্বমোট ০৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি।
এছাড়াও, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।
চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশে সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, দেশের সব পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ব্যতীত জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন। ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগপূর্বক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে তথ্য পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর/সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে।