অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক খ্যাতি কুড়ালেও দেশে নানা সময়ে সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিলেন না তিনি। সফল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা আস্থা রেখেছেন তার ওপর। পুরো দেশই এ মুহূর্তে আস্থা রেখেছে তার ওপর। ফলে দেশে বিরাজমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে হকে ড. ইউনূসকে। তবে অস্থিতিশীল এই সময়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে তাকে। ড. ইউনূস সরকার গঠনের পর দেশ চালাতে গিয়ে প্রধান ৩টি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন বলে বিশ্লেষণে দাবি করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট।
বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি ও ঘটনাক্রম বর্ণনা করে ইকোনমিস্ট লিখেছে, ৫ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার হওয়ার কথা ছিল ঢাকায়। একটি দুর্নীতি মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারত। তবে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে নোবেল বিজয়ী, অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা ড. ইউনূস বাংলাদেশের সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নিযুক্ত হন। কয়েক সপ্তাহের ছাত্র আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সরকার পতনের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঘটেছে থানায় হামলাসহ লুটপাটের ব্যাপক ঘটনা। বাসা-বাড়িতে ডাকাতি বেড়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন নিজ দায়িত্বে সড়কে ট্রাফিক পরিচালনা করছে এবং সংসদসহ লুটপাটের শিকার ভবনগুলো পরিষ্কার করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি।
আশা কি পূরণ হবে?
বাংলাদেশে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করাটা অনেকাংশেই কঠিন হবে। এর একটি কারণ হতে পারে, শেখ হাসিনার আকস্মিক পলায়নের ফলে দেশে নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটি পূরণ করা। এই শূন্যতা কে পূরণ করবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার আওয়ামী লীগ দল এখন কুখ্যাত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। হাসিনার পদত্যাগের পরপরই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেত্রী খালেদা জিয়া। তবে ৭৮ বছর বয়সি এই নেত্রী বর্তমানে অসুস্থ এবং শেখ হাসিনার আমলে তার দল বিএনপি একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল বিএনপি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ববাদী শাসন বাংলাদেশে নতুন এবং আরও উদারপন্থি শক্তির উত্থানকে বাধা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামপন্থি দলগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারাও এখন নেতৃত্বের এই শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইতে পারে। তবে এই চ্যালেঞ্জটি আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, বাংলাদেশ এখন চীন, ভারত এবং পশ্চিমাদের মধ্যে একটি ভূ-রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে আশাজাগানিয়া কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সংযম দেখিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ওই দিনই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। পরের দিন ড. ইউনূসকে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের দাবির কাছে মাথা নত করেন তিনি।
প্রথম চ্যালেঞ্জ
দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ৮ আগস্ট প্রত্যাশিতভাবে শপথ নেওয়ার পর ড. ইউনূসের প্রথম কাজ হবে দেশে আবার শান্তিপূর্ণ রাজনীতি নিশ্চিত করা। দেশের সরকারি চাকরিতে কোটার সংস্কার চেয়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ছাত্ররা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের সব ধরনের সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটার বিরোধিতা করেছিলেন। প্রতিবাদকারীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন, এই সিস্টেম মূলত আওয়ামী লীগের সদস্যদেরই উপকারে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের দমনের চেষ্টায় সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিল সরকার। এই আন্দোলনে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
আন্দোলনের তোপের মুখে অবশেষে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন আদালত। তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ইতোমধ্যেই কোটা সংস্কারের আন্দোলন বছরের পর বছর ধরে চলা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনে অতিষ্ঠ জনগণের হতাশাকে উস্কে দিয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার বাসভবনে ভাঙচুর এবং পুলিশ স্টেশন ও আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলার ঘটনাগুলো প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। অব্যাহত এই অশান্তির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ৭ আগস্ট দেশবাসীকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান ড. ইউনূস। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শান্ত থাকুন এবং আপনার চারপাশের মানুষদের শান্ত থাকতে সহযোগিতা করুন।’
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ
ড. ইউনূসের পরবর্তী কাজ হবে বাংলাদেশের রাজনীতির পুনর্গঠন করা। আর এর জন্য শুধু দ্রুত নতুন নির্বাচনের আয়োজনই যথেষ্ট নয়। তাকে আরও বেশি কিছু করতে হবে। দেশের আদালত ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেরামত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব কমাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলো অস্থিরতার উৎস হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত হওয়ার জন্য সময় ও সুযোগ দিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো ছাড়া একটি নতুন নির্বাচন সহজেই ইসলামপন্থি গোষ্ঠী বা একটি পুনর্গঠিত বিএনপির পক্ষে যেতে পারে। তবে এই শক্তিগুলোও দলকেন্দ্রিতায় ভুগছে।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ
ড. ইউনূসের জন্য তৃতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী দেশ ভারত সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সবচেয়ে বড় উৎস। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেশটির একটি ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগকে এই অঞ্চলে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে দেখে ভারত। গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব থেকে সতর্ক হয়ে ভারত শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সামরিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত করেছে। নির্বাসনে যাওয়া ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্বেষী বাংলাদেশি জনসাধারণের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। এই জনতার অনেকেই তাকে আর সমর্থন করেন না। এ ছাড়া নিজ দেশে ভারত বাংলাদেশে অবস্থান করা আনুমানিক ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক এবং সেই সঙ্গে সেখানে বসবাসকারী ১ কোটি ৪০ লাখ হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সহায়তা করার জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং যেকোনো উত্তরসূরি শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি চীনের দিকে ঝুঁকতে পারে। এমন না যে, তিনি চীনের প্রতি বিরূপ ছিলেন। তার শাসনামলে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী, তৃতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা এবং সামরিক প্রযুক্তির প্রধান উৎস হয়ে ওঠে। তবুও চীনের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল না হওয়ার জন্য ভারত ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন শেখ হাসিনা।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন।
আজ রোববার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি সস্ত্রীক সৌদি আরব থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
উল্লেখ্য, পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি সস্ত্রীক ঢাকা ত্যাগ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৈশ্বিক এই সর্বোচ্চ সম্মেলনে তিনি মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেবেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। সফর উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তাঁর পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দিয়েছিলেন। ফলে এবারের অংশগ্রহণটিকে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের এটিই প্রথম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়া এবং একই সঙ্গে এবারের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, যা এই সফরকে বিশেষ কূটনৈতিক তাৎপর্য এনে দিয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিন তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত বিশ্বনেতাদের স্বাগত প্রাতঃরাশ ও অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্ব ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় উপস্থিত থাকবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা ও মানবিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক এক বিশেষ সভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ‘Climate Action and the Just Transition’-এ যোগ দেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এক পার্শ্ববৈঠকে অংশ নিয়ে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা আহ্বান করবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধিজনিত হুমকি মোকাবিলা শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অভিযোজন এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নিশ্চিতের মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। এদিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলায় জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। যেখানে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, জলবায়ু সংকট, আন্তর্জাতিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো প্রাধান্য পাবে। এর বাইরে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক অপর একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
অধিবেশনের ফাঁকে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির অংশ হিসেবে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সূচি রয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন। সফর শেষে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদলসহ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতোই কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করতে পারবো। বিচার করবে আদালত, আমরা সব সহযোগিতা করবো।”
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান যে, ঘটনার পর নিহতের মায়ের ব্যবহৃত যে মোবাইল ফোনটি নিখোঁজ ছিল, তা সন্দেহভাজন অভিযুক্ত তুহিনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিন তরুণকে ইতোমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতীম। নিখোঁজের এক দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের গভীর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে রবিবার সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে অপ্রতীমকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নিয়ে কিশোর অপ্রতীমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অনতিবিলম্বে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর সফলভাবে বাস্তবায়নে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইয়াও ওয়েনের কার্যকালেই বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘শেয়ার্ড কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এবং একই সময়ে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ সহযোগিতাসহ বেশ কিছু কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সূচনা হয়েছে।
বিদায়ী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের একটি অভিজ্ঞতা। এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি একে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবময় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীনের অংশীদারত্ব এবং সহযোগিতা আগামীতেও সমানভাবে বজায় থাকবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও অবহিত করেন যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী চলতি বছরের শেষ ভাগে বাংলাদেশ সফরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক সংযোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, উক্ত মন্ত্রীর পিতা অতীতে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছিলেন।
বৈঠক শেষে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত ও সম্প্রসারিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
বিজিএফসিএল কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পরপরই তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় চলতি বছরের ১৯ জুন। কূপটির গভীরতা প্রায় ৩ হাজার ৬০১ মিটার বা ১৩ হাজার ফুট। কূপসহ তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়েই চলমান সংকট মোকাবিলা করতে হবে। দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতার চাপ কমাতে সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তিতাস-২৮ থেকে জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপের কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, এসব কূপের কাজ শেষ হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মধ্যে তিতাস-২৯ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট, তিতাস-৩০ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং তিতাস-৩১ থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ সফল হলে সেখান থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। কোনো ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। সফল হলে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিতাস-৩১ অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় সেখানে নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত মজুতের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও খনন ও পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হক, অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল আলমসহ মন্ত্রণালয় ও বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ কথা জানিয়েছেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনএসডিএ’র গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এনএসডিএ’র প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও ছিলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি বেতন পাবেন।
গত ৩০ জুন যে মূল বেতন আহরিত বা প্রাপ্য ছিল, তার সঙ্গে এই বাড়তি অর্থ যুক্ত করে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে বেতন পাবেন।
এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া বেতনও পাবেন।
এছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সব সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতনকাঠামোয় ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আনুপাতিকহারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরই আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটি এ-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করে।
অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালু করা হলো।
২০২৯ সাল নাগাদ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন উন্নীতকরণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় মহাসড়কের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ছয় লেন প্রকল্পটি অনেক আগে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ৪ বছর হয়ে গেলেও অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ৬ মাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ এখন প্রায় ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি। আশা করছি দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ হয়ে যাবে। ভৌত কাজের অগ্রগতিও প্রায় ২৭ শতাংশ।’
তিনি আরও জানান, ‘এ প্রকল্পের কাজে যেখানে বিচ্যুতি আছে, সেগুলো অতিক্রম করে আমরা এই সড়কটি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। সড়কের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে ৫টি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি অসন্তোষজনক। বাকি ৮টি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনক। আমরা ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটি দরপত্র অনুসারে নির্মাণ কাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই।’
শেখ রবিউল আলম জানান, ‘বর্তামানে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে কিছুটা জনদুর্ভোগ হচ্ছে, যেহেতু ৪ বছর কাজের তেমন অগ্রগতি ছিল না। বিগত সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি মনযোগী ছিল না এই প্রকল্প নিয়ে। ভূমি অধিগ্রহণ বড় সমস্যা ছিল, সেটা থেকে উত্তরণ হতে চলেছি আমরা। ভৌত কাজ যেখানে সন্তোষজনক নয়, সেটা কীভাবে আরও জোরালো করা যায় সেই চেষ্টা করছি আমরা।’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতর ৪ কেজি ২০৪ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ পেস্ট মিলেছে। মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা পলিথিন মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেটে থেকে পাওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা।
শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্টসংলগ্ন ওয়াশরুমে অভিযান চালিয়ে এসব পেস্ট উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
কাস্টমস গোয়েন্দা এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট দেখতে পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো ছিল মালিকবিহীন। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হলের ইনভেন্ট্রি টেবিলে খোলা হয়। প্যাকেট খুলে প্রাথমিকভাবে ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, উদ্ধার করা পেস্টের প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও বিশুদ্ধতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এজন্য রেজিস্টার্ড স্বর্ণকারের মাধ্যমে পেস্ট থেকে স্বর্ণ পৃথক করার কার্যক্রম চলছে। পৃথকীকরণ শেষে স্বর্ণের প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণেরবাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারে।
মালিকবিহীন অবস্থায় বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসদৃশ পেস্টের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই স্মার্টফোন পাওয়া যাবে। এর ফলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ হবে।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক গ্রুপ ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কম দামে স্মার্টফোন পাওয়ার ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সহজেই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারবেন। তারা মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া, সারের প্রয়োজনীয় মাত্রা ও কৃষিপণ্যের বাজারদর সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চালু করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক মূলধারায় আনতে শক্তিশালী ইন্টারনেট, ‘এক নাগরিক এক ওয়ালেট’ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি পরস্পরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট অপরিহার্য। শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভাবনের গতি ধরে রাখতে সাইবার নিরাপত্তা ও নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘সম্ভাবনাময় স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পণ্যকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধারণাটি বাস্তবায়নে ব্যাংক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়ে শনিবার রংপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে রংপুর অঞ্চলের অংশীজনদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর কার্যালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাংকার, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, কৃষক প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অন্যান্য অংশীজন এবং সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, স্থানীয় উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।
সভায় ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধারণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে সম্ভাবনাময় স্থানীয় পণ্য ও উদ্যোক্তা চিহ্নিতকরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়।
এছাড়া, ব্যাপকভাবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় স্থানীয় পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিং ও বিপণন এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
বিবি গভর্নর বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধারণাটি বাস্তবায়নে সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি গ্রাহক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ১৬২৩৬ হটলাইন নম্বরটি ব্যবহারের পরামর্শও দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা যাতে প্রকৃত ও যোগ্য উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে, তিনি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, অর্থায়নের সুযোগ সহজতর করা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় রংপুর অঞ্চলে হিমাগার স্থাপন, নবায়নযোগ্য শক্তির উন্নয়ন, রপ্তানিমুখী কৃষি ও শিল্পপণ্যের প্রসার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপটির খনন ও আনুষঙ্গিক উন্নয়নকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ থেকে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটি উদ্বোধন করা হয়।
বিজিএফসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে জ্বালানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৫টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি খনন করা হয়েছে। চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এর খননকাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় ছয় মাসের ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞের পর ২০২৬ সালের ১১ জুন খনন কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার (এমডি) বা ৩ হাজার ৪৭১ মিটার (টিভিডি)। খনন পরবর্তী কমপ্লিশন কাজের পর ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) এবং প্রোডাকশন টেস্টিং সম্পন্ন করে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিএফসিএলের মতে, নতুন এ কূপটি থেকে উত্তোলিত গ্যাস যুক্ত হলে দেশে চলমান জ্বালানি ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে, যা বিশেষ করে শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মহাপরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১১টি কূপ খনন করে দৈনিক প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ কথা জানিয়েছেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনএসডিএ’র গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এনএসডিএ’র প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও ছিলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস