রোববার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক ১৪৩৩

দ্য ইকোনমিস্টের দৃষ্টিতে ড. ইউনূসের ৩ চ্যালেঞ্জ

ফাইল ছবি
আপডেটেড
৯ আগস্ট, ২০২৪ ০২:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৯ আগস্ট, ২০২৪ ০২:৪১

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক খ্যাতি কুড়ালেও দেশে নানা সময়ে সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিলেন না তিনি। সফল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা আস্থা রেখেছেন তার ওপর। পুরো দেশই এ মুহূর্তে আস্থা রেখেছে তার ওপর। ফলে দেশে বিরাজমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে হকে ড. ইউনূসকে। তবে অস্থিতিশীল এই সময়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে তাকে। ড. ইউনূস সরকার গঠনের পর দেশ চালাতে গিয়ে প্রধান ৩টি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন বলে বিশ্লেষণে দাবি করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট।

বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি ও ঘটনাক্রম বর্ণনা করে ইকোনমিস্ট লিখেছে, ৫ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার হওয়ার কথা ছিল ঢাকায়। একটি দুর্নীতি মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারত। তবে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে নোবেল বিজয়ী, অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা ড. ইউনূস বাংলাদেশের সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নিযুক্ত হন। কয়েক সপ্তাহের ছাত্র আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সরকার পতনের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঘটেছে থানায় হামলাসহ লুটপাটের ব্যাপক ঘটনা। বাসা-বাড়িতে ডাকাতি বেড়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন নিজ দায়িত্বে সড়কে ট্রাফিক পরিচালনা করছে এবং সংসদসহ লুটপাটের শিকার ভবনগুলো পরিষ্কার করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি।

আশা কি পূরণ হবে?

বাংলাদেশে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করাটা অনেকাংশেই কঠিন হবে। এর একটি কারণ হতে পারে, শেখ হাসিনার আকস্মিক পলায়নের ফলে দেশে নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটি পূরণ করা। এই শূন্যতা কে পূরণ করবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার আওয়ামী লীগ দল এখন কুখ্যাত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। হাসিনার পদত্যাগের পরপরই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেত্রী খালেদা জিয়া। তবে ৭৮ বছর বয়সি এই নেত্রী বর্তমানে অসুস্থ এবং শেখ হাসিনার আমলে তার দল বিএনপি একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল বিএনপি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ববাদী শাসন বাংলাদেশে নতুন এবং আরও উদারপন্থি শক্তির উত্থানকে বাধা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামপন্থি দলগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারাও এখন নেতৃত্বের এই শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইতে পারে। তবে এই চ্যালেঞ্জটি আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, বাংলাদেশ এখন চীন, ভারত এবং পশ্চিমাদের মধ্যে একটি ভূ-রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

তবে প্রাথমিকভাবে আশাজাগানিয়া কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সংযম দেখিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ওই দিনই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। পরের দিন ড. ইউনূসকে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের দাবির কাছে মাথা নত করেন তিনি।

প্রথম চ্যালেঞ্জ

দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ৮ আগস্ট প্রত্যাশিতভাবে শপথ নেওয়ার পর ড. ইউনূসের প্রথম কাজ হবে দেশে আবার শান্তিপূর্ণ রাজনীতি নিশ্চিত করা। দেশের সরকারি চাকরিতে কোটার সংস্কার চেয়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ছাত্ররা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের সব ধরনের সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটার বিরোধিতা করেছিলেন। প্রতিবাদকারীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন, এই সিস্টেম মূলত আওয়ামী লীগের সদস্যদেরই উপকারে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের দমনের চেষ্টায় সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিল সরকার। এই আন্দোলনে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

আন্দোলনের তোপের মুখে অবশেষে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন আদালত। তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ইতোমধ্যেই কোটা সংস্কারের আন্দোলন বছরের পর বছর ধরে চলা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনে অতিষ্ঠ জনগণের হতাশাকে উস্কে দিয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার বাসভবনে ভাঙচুর এবং পুলিশ স্টেশন ও আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলার ঘটনাগুলো প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। অব্যাহত এই অশান্তির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ৭ আগস্ট দেশবাসীকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান ড. ইউনূস। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শান্ত থাকুন এবং আপনার চারপাশের মানুষদের শান্ত থাকতে সহযোগিতা করুন।’

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ

ড. ইউনূসের পরবর্তী কাজ হবে বাংলাদেশের রাজনীতির পুনর্গঠন করা। আর এর জন্য শুধু দ্রুত নতুন নির্বাচনের আয়োজনই যথেষ্ট নয়। তাকে আরও বেশি কিছু করতে হবে। দেশের আদালত ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেরামত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব কমাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলো অস্থিরতার উৎস হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত হওয়ার জন্য সময় ও সুযোগ দিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো ছাড়া একটি নতুন নির্বাচন সহজেই ইসলামপন্থি গোষ্ঠী বা একটি পুনর্গঠিত বিএনপির পক্ষে যেতে পারে। তবে এই শক্তিগুলোও দলকেন্দ্রিতায় ভুগছে।

তৃতীয় চ্যালেঞ্জ

ড. ইউনূসের জন্য তৃতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী দেশ ভারত সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সবচেয়ে বড় উৎস। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেশটির একটি ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগকে এই অঞ্চলে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে দেখে ভারত। গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব থেকে সতর্ক হয়ে ভারত শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সামরিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত করেছে। নির্বাসনে যাওয়া ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্বেষী বাংলাদেশি জনসাধারণের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। এই জনতার অনেকেই তাকে আর সমর্থন করেন না। এ ছাড়া নিজ দেশে ভারত বাংলাদেশে অবস্থান করা আনুমানিক ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক এবং সেই সঙ্গে সেখানে বসবাসকারী ১ কোটি ৪০ লাখ হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সহায়তা করার জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং যেকোনো উত্তরসূরি শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি চীনের দিকে ঝুঁকতে পারে। এমন না যে, তিনি চীনের প্রতি বিরূপ ছিলেন। তার শাসনামলে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী, তৃতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা এবং সামরিক প্রযুক্তির প্রধান উৎস হয়ে ওঠে। তবুও চীনের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল না হওয়ার জন্য ভারত ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন শেখ হাসিনা।


নির্বাচিত

বিচার বিভাগকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি : আইনমন্ত্রী

জজের নামের সঙ্গে সৎ জজ কথাটি অতিরঞ্জন। জজের কাজটাই সততা রক্ষা করা।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আর্থিক অনিয়মের চেয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি দেশের বিচার বিভাগকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিচারিক শুদ্ধাচার কর্মশালায় (জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপ) অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

কর্মশালায় বক্তব্য প্রদানকালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফসল হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগে অর্থনৈতিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি।’ এ সময় বিচারকদের নৈতিক মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘জজের নামের সঙ্গে সৎ জজ কথাটি অতিরঞ্জন। জজের কাজটাই সততা রক্ষা করা।’ একইসঙ্গে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখা ও স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সরকার বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অবলম্বন করবে।

অতীতের সংকটময় মুহূর্তে বিচারালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হলেন, বিচার বিভাগ তার পাশে দাঁড়ায়নি।’ এছাড়া ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার। এ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার তাকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করা দরকার, তা করা হয়েছে।’ এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতে আগামী ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার হওয়া জরুরি, তেমনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে প্রাণ হারানো শহীদ জাফর, জয়নাল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রউফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডা. মিলনসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ এক হাজার চার শতাধিক মানুষের আত্মত্যাগ এবং প্রায় তিন শতাধিক মানুষের পঙ্গুত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার সংস্কৃতি তৈরির আহ্বান জানান।

বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যকার বিভক্তি ও জুলাইয়ের হতাহতের ঘটনায় একটি অংশের নীরবতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি জানান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যখন বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার পর্যালোচনা করে, তখন কেবল আর্থিক দিকটিই প্রাধান্য পায়। কিন্তু সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতির বড় সংকটটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, যা মূলত দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা সুসংহত রাখা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার বিজিবির জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইলে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। একই সঙ্গে গাজীপুরের প্রধান শিল্প বলয় চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনাসহ বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকির অংশ হিসেবে বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত বিশেষ মনিটরিং সেল থেকে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ও সরাসরি ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীটি।

বিজিবি জানিয়েছে, সর্বসাধারণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুকূল কর্মপরিবেশ রক্ষা এবং মহাসড়কসহ স্থানীয় জনপদে যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তাদের এই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

দশ বছরে বিদেশি ঋণের বকেয়া বেড়েছে তিন গুণ

* ২০২৫ শেষে ঋণের স্থিতি ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলার * সবচেয়ে বেশি ঋণ বহুপক্ষীয় সংস্থার কাছে
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। ২০১৫ সালে বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬-এ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধির ধারায় বাংলাদেশেও বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।

বহুপক্ষীয় সংস্থার কাছে ঋণ বেশি: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের উৎসকে বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয়—এই দুই ভাগে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বিদেশি অর্থায়নের সবচেয়ে বড় উৎস বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলো।

বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) এসব সংস্থার কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২ হাজার ২৬৩ কোটি এবং এডিবির কাছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের ঋণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।

ঋণের স্থিতি হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের মোট অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ। অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে নেওয়া ঋণ থেকে যতটুকু পরিশোধ করা হয়েছে, তা বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ বকেয়া থাকে, সেটিই ঋণের স্থিতি।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো দেশ এক বছরে ১০০ কোটি ডলার এবং পরের বছর আরও ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিল। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করলে দ্বিতীয় বছরের শেষে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে ১২০ কোটি ডলার।

ঋণ পরিশোধের সক্ষমতায় ইতিবাচক চিত্র: বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এ অনুপাত বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ঋণ পরিশোধের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম।

অর্থাৎ রপ্তানি আয় থেকে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে মোট রপ্তানি আয়ের ১৬ শতাংশ। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৪ বছরে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে চার গুণের বেশি: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছিল ১১০ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০১ কোটি ডলারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পৌনে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

সর্বশেষ বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণের বেশি।

সামনে বাড়তে পারে ঋণ পরিশোধের চাপ: আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, বড় কয়েকটি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হচ্ছে বা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শিগগির শুরু হওয়ার কথা। এসব ঋণের অর্থ জাপানকে পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।


নির্বাচিত

কাজে যোগ দিয়েছেন ৮০ শতাংশ পোশাকশ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক    

টানা ৫ দিনের দীর্ঘ শ্রমিক আন্দোলন ও উত্তেজনার পর সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। খুলে দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বন্ধের দিনও বেশ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সাভার হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মৌর এবং আশুলিয়ার নরসিংহপুর,বাইপাইল, জিরাবো, পুকুরপাড় এলাকায় শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে কারখানায় যোগ দেন। এ সময় সিকিউরিটি গার্ড তাদের আইডি কার্ড চেক করে। পাশাপাশি পুলিশও শ্রমিদের নজরদারিতে ছিল। কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তবে বিভিন্ন কারখানার এইচআর ডিপার্টমেন্ট সূত্র জানা যায়, ৮০ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগদান করেছেন। তারা বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় এ উপস্থিত। শনিবার (৬ নভেম্বর) থেকে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়। উপস্থিতিও প্রায় শতভাগ। সকালে ঢাকা-আরিচা ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেশ কিছু পোশাক কারখানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল–আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন সদস্য। এছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিগত কয়কদিন যা ঘটেছে তা শ্রমিক আন্দোলন নয় বরং ফ্যাসিস্টরা তাদের ব্যর্থ শক্তি প্রদর্শন করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অতীতেও তারা পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এবং পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াসহ আশপাশের শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। টানা শ্রমিক অসন্তোষের পর শিল্পাঞ্চল এখন শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বেশ কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় নিরব পরিবেশ বিরাজ করছে আশুলিয়া ও সাভারে।

একজন গার্মেন্টস মালিক জানান, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছিল। পতিত সরকারের দোসরা আত্মগোপনে থেকে এ সব ষড়যন্ত্র করছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা তত্ত্বে উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসেই নতুন বেতন পাবেন শ্রমিকরা। মজুরি কমিশন বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার থেকেই অনেক গামের্ন্টসের উৎপাদন শুরু হয়েছে।

কয়েকদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ধাওয়া পালটা ধাওয়া ফলে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল থমথমে।

গত ৫ দিনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় ৭টি মামলায় কয়েক হাজার দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তাররা কেউ শ্রমিক নন বলে জানান সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন শিল্পী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় মজুরি কমিশন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির টাকা পাবেন।


নির্বাচিত

সামিটের টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে প্রায় চার দিন পর পুনরায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে টার্মিনালটিতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসকে (এলএনজি) গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।

পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ায় মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আগের মতো জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় সহযোগিতার জন্য গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

এর আগে সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্যাস রূপান্তরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল সংস্থাটি।

ওই সময় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

রক্ষণাবেক্ষণ শুরুর আগে চার দিন সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটিকে গুজব আখ্যা দেয় পেট্রোবাংলা।

সংস্থাটি জানিয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।

সামিটের টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা দিনে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।


নির্বাচিত

প্রয়োজনে টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণহত্যাকারী ও সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারীদের বিচার এই মাটিতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আপনি বাংলাদেশে আসবেন বলছেন, আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না, এখনই আসুন। প্রয়োজনে আমরাই টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন।’

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে যখনই বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে তখনি জিয়া পরিবারের আবির্ভাব হয়েছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিভাজনের রাজনীতি করে দেশটাকেও বিভাজনে পরিণত করেছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় রাজনীতি দেশে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আর এখন আবার ওই জিয়া পরিবারের কারণেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপির জন্য আজ আমরা গর্বিত। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সব সময় অরাজকতা করে যাচ্ছে।’ শেখ হাসিনার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে গণহত্যা চালিয়ে লাখ-কোটি টাকা লুটপাট করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

শিশু হত্যা, নারী হত্যা ও গণহত্যার বিচার এই মাটিতেই হবে। আপনারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুংকার দেন, বাস্তবে কিছুই হবে না। পালিয়েছেন, এবার হাইটা হাইটা হ্যান্ডকাফ পইরা আসতে হবে এবং বিচারের আওতায় আসতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৭ বছর আপনারা যে দুর্নীতি-লুটপাট করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, মানুষ তা ভুলে যায়নি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ পুনরায় স্বাধীন হয়েছে এবং এই স্বাধীনতা লুণ্ঠিত করতে কাউকে দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা দেশের জনগণ কোনোদিন ভুলবে না।’

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আজ তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি উন্নয়ন শুরু করেছেন। সেই উন্নয়নের ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আপনাদের আশপাশে যারাই এই উন্নয়নে বাধা দেবে বা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। লুটপাটের রাজনীতি যারা করেছে, তাদের আর আসতে দেওয়া হবে না।’

নান্দাইলের নিজস্ব আসনের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নান্দাইলের উন্নয়নে হাত দিয়েছি। ইতিমধ্যে এখানে ১৮৬টি রাস্তার ইটের সলিং করা হয়েছে এবং আরো ১০৪টি রাস্তা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া আরো সাড়ে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ এনে রাস্তা পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গৃহহীনদের জন্য ৩৬টি ঘর করে দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরো ১০৪টি ঘর করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। পারুখি ব্রিজসহ আরো অনেক ব্রিজের অনুদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার বাবা যেভাবে সংসদ সদস্য হয়ে এই অঞ্চলের মানুষের সেবা করেছিলেন, আমিও আপনাদের কর্মী হয়ে সেভাবেই কাজ করতে চাই।’

নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, নজরুল ইসলাম ফকির, রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনির, এডভোকেট আবদুস সালাম এবং আবুল খায়ের বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

চব্বিশের আন্দোলনকে একক দাবি করলে জুলাইয়ের চেতনা টিকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের আন্দোলনকে কেউ যদি শুধু নিজেদের একক অর্জন বা দাবি বলে মনে করেন, তবে তার সুফল বা জুলাইয়ের চেতনা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, নতুন রাজনীতিতে আসা নবীনরা যদি বারবার 'চব্বিশ আমাদের' বলে এর মালিকানা দাবি করতে থাকেন, তবে পরিশেষে এটি কারও জন্যই টিকবে না এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতারা 'জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি' গঠন করে ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মুখ্য সচিব ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক সচিব মো. মশিউর রহমান।


নির্বাচিত

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এই সময় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।

বিকেল ৩ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।

নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।'

প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন।


নির্বাচিত

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ২৩ হাজার ৮৫ জন যাত্রী আটকা পড়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ১০৩টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৫১টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ২১টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ২১টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

গ্রাম পুলিশের বেতন ও অবসর সুবিধা বৃদ্ধির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন এবং অবসরকালীন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন এ সিদ্ধান্তের আওতায় সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে তা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে সরকারপ্রধান এ ঘোষণা দেন।

বেতনের পাশাপাশি সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিকের পরিধিও বাড়িয়েছে সরকার। এতে সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের এককালীন অবসর ভাতা ৭০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকায় এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মহাসমাবেশে তৃণমূলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গ্রাম পুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন সুরক্ষিত রাখতে এই বাহিনীর অবদান অপরিসীম। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সুবাদে কোথায় কোন অপরাধমূলক অপতৎপরতা চলছে বা কোনো ধরনের উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সবচেয়ে আগে প্রত্যক্ষ করতে পারেন। এসব তথ্য দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছালে যেকোনো অপরাধ তৎপরতা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর শিকড় এখনো গ্রামে প্রোথিত উল্লেখ করে তিনি জানান, একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে গ্রামীণ জনপদের শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার ভিত্তিও গভীরভাবে বিনষ্ট হয়েছিল। রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিহিংসার বিষবাষ্প তৈরি করা হয়েছিল। এই সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা দূর করতে কেবল প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ দেন। স্থানীয় প্রশাসনের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে এ সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

সিপাহী-জনতার নেতা, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

-নূরুল ইসলাম মনি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৪

বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীনতাপরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, একদলীয় শাসনব্যবস্থা, দুর্ভিক্ষ ও রাষ্ট্রীয় সংকটের এক কঠিন সময়ে সিপাহী-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। তিনি শুধু একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না; ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্যতম প্রধান সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীনতার ঘোষক এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক।


১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অতর্কিত বর্বর ও নৃশংস হামলায় গোটা জাতি দিশেহারা হয়ে পড়ে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। এমন এক চরম সংকটময় মুহূর্তে মুক্তিকামী ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার মধ্যে আশার সঞ্চার করে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা। তাঁর এই ঘোষণা ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার এক উদ্দীপনামূলক আহ্বান। সেই আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে লাখো বীর বাঙালি স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।


পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
স্বাধীনতার পর দেশ যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে দেখা দেয় চরম অস্থিরতা। ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর বাসভবনে গৃহবন্দি করা হয়।

পরবর্তী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত ও ৭ নভেম্বরের প্রত্যুষে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত হয় সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান। মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। তাঁর মুক্তির মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতিতে নতুন মোড় সৃষ্টি হয়। রেডিওতে তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত ‘আমি জিয়া বলছি’—শুধু একটি পরিচয়বাচক ঘোষণা ছিল না; তা হয়ে উঠেছিল সংকটকালে নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

৭ নভেম্বরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সংহতির প্রকাশ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা সেদিন জনমনে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল। সিপাহী ও জনতার এই সম্মিলিত অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।


জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের বিশেষত্ব ছিল সংকটের মুহূর্তে দৃঢ়তা, বাস্তবতা অনুধাবন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পরও তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন।
জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষির উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ।


১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ক্ষত কাটিয়ে দেশকে খাদ্যনিরাপত্তার পথে এগিয়ে নিতে তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। খাল খনন কর্মসূচি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষকের অংশগ্রহণ এবং উৎপাদনমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকে তিনি জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করেছিলেন। তাঁর এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তাঁর উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন করতে হলে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তাঁর অবদানকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।
আমি মনে করি, জিয়াউর রহমানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হলে তাঁকে শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেখলে চলবে না; তাঁকে দেখতে হবে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে। তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে দেশপ্রেম, সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং সংকট মোকাবিলার শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জাতীয় জীবনে বিভাজন নয়, ঐক্যই হোক আমাদের অগ্রযাত্রার শক্তি। সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক সংহতির চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাশীল ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হোক আমাদের প্রত্যয়।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে ঐক্য, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করুক।


নির্বাচিত

আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।’

আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।’

দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী - জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়।’ স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশ যতবার ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।’

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। যে দেশের তরুণ প্রজন্ম জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা।

অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

দেশের জনগণের প্রতি প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক-‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নভেম্বর জাতীয় বিপ্লবও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেটকোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সহ উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধি শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে অংশ নেন তিনি।

আর্মি স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি ফাতেহা পাঠ ও দোয়া শেষে মরহুম নেতৃবৃন্দের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন।

বনানীর এই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি কূটনীতিকরা এ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রদর্শনী পরিবেশন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) তিন হাজার সদস্য এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের পাঁচ শত সদস্য সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ ও নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন।


নির্বাচিত

banner close