অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক খ্যাতি কুড়ালেও দেশে নানা সময়ে সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিলেন না তিনি। সফল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা আস্থা রেখেছেন তার ওপর। পুরো দেশই এ মুহূর্তে আস্থা রেখেছে তার ওপর। ফলে দেশে বিরাজমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে হকে ড. ইউনূসকে। তবে অস্থিতিশীল এই সময়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে তাকে। ড. ইউনূস সরকার গঠনের পর দেশ চালাতে গিয়ে প্রধান ৩টি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন বলে বিশ্লেষণে দাবি করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট।
বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি ও ঘটনাক্রম বর্ণনা করে ইকোনমিস্ট লিখেছে, ৫ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার হওয়ার কথা ছিল ঢাকায়। একটি দুর্নীতি মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারত। তবে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে নোবেল বিজয়ী, অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা ড. ইউনূস বাংলাদেশের সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নিযুক্ত হন। কয়েক সপ্তাহের ছাত্র আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সরকার পতনের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঘটেছে থানায় হামলাসহ লুটপাটের ব্যাপক ঘটনা। বাসা-বাড়িতে ডাকাতি বেড়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন নিজ দায়িত্বে সড়কে ট্রাফিক পরিচালনা করছে এবং সংসদসহ লুটপাটের শিকার ভবনগুলো পরিষ্কার করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি।
আশা কি পূরণ হবে?
বাংলাদেশে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করাটা অনেকাংশেই কঠিন হবে। এর একটি কারণ হতে পারে, শেখ হাসিনার আকস্মিক পলায়নের ফলে দেশে নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটি পূরণ করা। এই শূন্যতা কে পূরণ করবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার আওয়ামী লীগ দল এখন কুখ্যাত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। হাসিনার পদত্যাগের পরপরই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেত্রী খালেদা জিয়া। তবে ৭৮ বছর বয়সি এই নেত্রী বর্তমানে অসুস্থ এবং শেখ হাসিনার আমলে তার দল বিএনপি একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল বিএনপি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ববাদী শাসন বাংলাদেশে নতুন এবং আরও উদারপন্থি শক্তির উত্থানকে বাধা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামপন্থি দলগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারাও এখন নেতৃত্বের এই শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইতে পারে। তবে এই চ্যালেঞ্জটি আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, বাংলাদেশ এখন চীন, ভারত এবং পশ্চিমাদের মধ্যে একটি ভূ-রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে আশাজাগানিয়া কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সংযম দেখিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ওই দিনই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। পরের দিন ড. ইউনূসকে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের দাবির কাছে মাথা নত করেন তিনি।
প্রথম চ্যালেঞ্জ
দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ৮ আগস্ট প্রত্যাশিতভাবে শপথ নেওয়ার পর ড. ইউনূসের প্রথম কাজ হবে দেশে আবার শান্তিপূর্ণ রাজনীতি নিশ্চিত করা। দেশের সরকারি চাকরিতে কোটার সংস্কার চেয়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ছাত্ররা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের সব ধরনের সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটার বিরোধিতা করেছিলেন। প্রতিবাদকারীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন, এই সিস্টেম মূলত আওয়ামী লীগের সদস্যদেরই উপকারে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের দমনের চেষ্টায় সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিল সরকার। এই আন্দোলনে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
আন্দোলনের তোপের মুখে অবশেষে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন আদালত। তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ইতোমধ্যেই কোটা সংস্কারের আন্দোলন বছরের পর বছর ধরে চলা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনে অতিষ্ঠ জনগণের হতাশাকে উস্কে দিয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার বাসভবনে ভাঙচুর এবং পুলিশ স্টেশন ও আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলার ঘটনাগুলো প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। অব্যাহত এই অশান্তির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ৭ আগস্ট দেশবাসীকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান ড. ইউনূস। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শান্ত থাকুন এবং আপনার চারপাশের মানুষদের শান্ত থাকতে সহযোগিতা করুন।’
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ
ড. ইউনূসের পরবর্তী কাজ হবে বাংলাদেশের রাজনীতির পুনর্গঠন করা। আর এর জন্য শুধু দ্রুত নতুন নির্বাচনের আয়োজনই যথেষ্ট নয়। তাকে আরও বেশি কিছু করতে হবে। দেশের আদালত ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেরামত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব কমাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলো অস্থিরতার উৎস হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত হওয়ার জন্য সময় ও সুযোগ দিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো ছাড়া একটি নতুন নির্বাচন সহজেই ইসলামপন্থি গোষ্ঠী বা একটি পুনর্গঠিত বিএনপির পক্ষে যেতে পারে। তবে এই শক্তিগুলোও দলকেন্দ্রিতায় ভুগছে।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ
ড. ইউনূসের জন্য তৃতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী দেশ ভারত সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সবচেয়ে বড় উৎস। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেশটির একটি ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগকে এই অঞ্চলে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে দেখে ভারত। গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব থেকে সতর্ক হয়ে ভারত শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সামরিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত করেছে। নির্বাসনে যাওয়া ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্বেষী বাংলাদেশি জনসাধারণের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। এই জনতার অনেকেই তাকে আর সমর্থন করেন না। এ ছাড়া নিজ দেশে ভারত বাংলাদেশে অবস্থান করা আনুমানিক ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক এবং সেই সঙ্গে সেখানে বসবাসকারী ১ কোটি ৪০ লাখ হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সহায়তা করার জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং যেকোনো উত্তরসূরি শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি চীনের দিকে ঝুঁকতে পারে। এমন না যে, তিনি চীনের প্রতি বিরূপ ছিলেন। তার শাসনামলে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী, তৃতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা এবং সামরিক প্রযুক্তির প্রধান উৎস হয়ে ওঠে। তবুও চীনের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল না হওয়ার জন্য ভারত ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন শেখ হাসিনা।
আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনসহ আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
আগামী রবিবার (৮ নভেম্বর) রাত ১২টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
সোমবার (৫ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে চলা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো— ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরোনো বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত।
এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরোনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরোনো নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব রাস্তা ও গলিপথ এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
এ সময় এসব এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রন্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫৫০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৫ জন, খুলনা বিভাগে ২২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬৭ জন, বরিশাল বিভাগের ২১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজকে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭১ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৫ হাজার ৮৩৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গিয়েছে ৪৫২ জন।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যু করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামি হওয়ায় তাঁর জন্য কোনো প্রকার প্রচলিত ভ্রমণ ছাড়পত্র প্রযোজ্য হবে না। দুই দেশের মধ্যকার বন্দি বিনিময় চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার আলোকে দিল্লি থেকে তাঁকে সরাসরি ফিরিয়ে এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর সংক্রান্ত বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামোগত সংযোগ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো ভূরাজনৈতিক দ্বিধা বা শঙ্কা নেই। বরং এই পথ বাস্তবায়িত হলে পুরো ভূখণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক নতুন প্রাণকেন্দ্রে রূপ নেবে এবং এ আঞ্চলিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে ঢাকার পূর্ণ আগ্রহ রয়েছে। তবে এ করিডোরের সফল বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে চীনা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করে হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, লিউ হাইশিংয়ের এ সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও বেগবান এবং বহুমাত্রিক রূপ লাভ করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়।
আজ মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আজ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এ সময়ে বন্দরপ্রাঙ্গণে তিনি একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে একটি পরিপূরক বন্দর হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং সারা দেশের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল, তার ওপরই প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব সেবা ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।পাশাপাশি বিপজ্জনক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ও আশপাশের এলাকায় অনেক মিল-কারখানা ছিল। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চায়।
তিনি বলেন, আজকের এ উদ্যোগ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থসামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।
বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে।এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
একইসাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ও চীন একসাথে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আজ বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এ উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এসব কথা জানিয়েছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসায় চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাটের মোংলায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
প্রকল্পটির আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এর লক্ষ্য মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বন্দরসেবার আধুনিকায়ন।
এর আগে সকালে একদিনের সরকারি সফরে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে হেলিকপ্টারে করে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে মোংলায় এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
মোংলায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনস বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনা পক্ষে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এমওইউ অনুযায়ী, দুই পক্ষ জ্বালানি, শিল্প অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করবে। সূত্র: বাসস
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মোংলায় আরো শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।’ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যকার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং দেশে ব্যাপক বিদেশি পুঁজির প্রবাহ নিশ্চিত করার স্বার্থে একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বন্দরকেন্দ্রিক এই অঞ্চলকে আধুনিক শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে এর ভূমিকা আরও বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন হয়। এতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের পক্ষ থেকে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, বৃহৎ লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক, বিশেষায়িত শিল্প পরিকাঠামো, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি বিনির্মাণসহ বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে ইনভেস্ট বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী সংস্থা চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং স্বাক্ষর করেন। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদনকালে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় পরিবহন ও যোগাযোগ পরিকাঠামো, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, ভারী শিল্পায়ন, টেকসই জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাবিধ কৌশলগত খাতে বৃহৎ আকারে কোর ও বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষর পর্বের পর প্রধানমন্ত্রী সফররত উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
এদিকে সরকারি এ সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ সংলগ্ন সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
সাম্প্রতিক তীব্র শ্রমিক অসন্তোষের ধাক্কা কাটিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ (ডিইপিজেড) আশপাশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই শ্রমিকেরা নিজস্ব পরিবহন কিংবা পায়ে হেঁটে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করে কাজে যোগ দেন।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে হাতে গোনা দু-একটি কারখানায় শ্রমিকেরা সকালে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে কাজে অংশ না নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের গুরুত্বপূর্ণ কারখানাসমূহের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও যেকোনো ধরনের ভাঙচুর প্রতিহত করতে শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিজিবির বিশেষ দল সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মোংলা বন্দরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
মোংলায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি এবং খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
তিনি বলেন, মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর দুটি কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে খুলনায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম অরিকুল আলম, প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এডিসি স্কোয়াড্রন লিডার সৈয়দ নাজমুল হোসেন। সূত্র: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলায় (মামলা নাম্বার ২৩) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ২৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখের একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। সে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে মহাখালীর ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে তুলে আনেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, নতুন মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণাঙ্গ আস্থা রয়েছে। বোর্ড শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মাহদী আমিন বলেন, আগে পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার তিন বছর অন্তর নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠকও স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠক দ্রুত আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ডিসেম্বরেই নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে। মাহদী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সেখানে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।’
পোশাকশিল্পের স্বার্থে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং তৈরি পোশাকশিল্পের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে এ খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে চায়।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আন্তরিকতা দেখা গেছে, তা কারখানাগুলোতেও বজায় রাখা প্রয়োজন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে ফিরবেন বলে সরকার প্রত্যাশা করে। তবে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে সংলাপ, পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
পোশাক শিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মধ্যে কিছু বহিরাগত ঢুকে উসকানি দিচ্ছেন এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের রক্ত ঝরছে।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে বলে সরকার আশা করে।
শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ নিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকবে। মজুরি বোর্ডও নিরপেক্ষভাবে মজুরি ঘোষণা করবে বলে সরকারের বিশ্বাস।
এ উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনেও শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও তাদের বড় অবদান ছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, সবাই বাংলাদেশি। তাই সবাইকে একসঙ্গে দেশের পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মেট্রোরেল, সেতু ও রেলকোচ কেনার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির সঙ্গে ২০২৩–২০২৭ মেয়াদে ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে এসব প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে গত মঙ্গলবার দেশটির এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি), শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পায়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থায়ন চাওয়া তিন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনা। এসব প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিল থেকে ৩০টি প্রকল্পে ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কেক্সিম জানায়, তহবিলের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানান তিনি।
বৈঠকে কোরীয় পক্ষ এআই, ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন এবং ভবিষ্যতে ইডিসিএফ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। আইজিএনডি উদ্যোগে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানায় দেশটি।
বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও কেআইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে সম্ভাব্য বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে দুই পক্ষ।
প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে এআইকে নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। কোরীয় কোম্পানিগুলোকে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের এ সফর চলছে।