শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন ড. ইউনূস

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ আগস্ট, ২০২৪ ২২:৫৪

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথ নেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান। শপথ শুরুর আগে ছাত্রদের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বঙ্গভবনে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

পরে অনুষ্ঠানে শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩ উপদেষ্টা। বাকি ৩ উপদেষ্টা ঢাকার বাইরে থাকায় আজ শপথ নিতে পারেননি। তারা পরে শপথ নেবেন।

উপদেষ্টা পরিষদের ১৬ সদস্য

১. সালেহ উদ্দিন আহমেদ

২. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন

৩. ড. আসিফ নজরুল

৪. হাসান আরিফ

৫. তৌহিদ হোসেন

৬. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

৭. শারমিন মুরশিদ

৮. ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক)

৯. আদিলুর রহমান খান

১০. সুপ্রদীপ চাকমা

১১. ফরিদা আখতার

১২. বিধান রঞ্জন রায়

১৩. আ.ফ.ম খালিদ হাসান

১৪. নুরজাহান বেগম

১৫. মো. নাহিদ ইসলাম

১৬. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চান ইউনূস

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ড. ইউনূসকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে এসে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশ একটা বড় পরিবার। এই পরিবারে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। আমাদের সঙ্গে দ্বিধাদ্বন্দ্ব যা আছে সরিয়ে ফেলতে চাই। যারা বিপথে গেছে তাদের পথে আনতে চাই। যাতে করে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

থাকবেন যমুনায়

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় থাকবেন। তার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনটি। ভেতরে আসবাবপত্র নতুনভাবে বসানো হয়েছে।

তবে যমুনা ভবনের সামনে এখনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বসানো হয়নি। সেনাবাহিনী, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদ যমুনায় ছিলেন।

এর আগে, ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানও তাদের দায়িত্বের দিনগুলোতে এই অতিথি ভবনে ছিলেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলীয় প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এবং দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক জ্যেষ্ঠ সদস্য এই নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁরা রাষ্ট্রপতির পদটিকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিষয় হিসেবে না দেখে সবসময় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই মূল্যায়ন করেছেন।

তিনি বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত মর্যাদা ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কাজ পরিচালনায় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সামগ্রিক ভূমিকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু তিনি তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের সময় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সমালোচনা থাকা স্বাভাবিক। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঠিক পূর্বে, অর্থাৎ ৫ থেকে ৮ আগস্টের সংবেদনশীল সময়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা ছিল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংকটের সেই চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি ধারায় বহাল রাখার ক্ষেত্রে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এর সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিও যোগ করেন যে, পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থেকে তাঁকে যথাযথভাবে ও পূর্ণ মর্যাদার সাথে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, যা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত ও যুক্তিযুক্ত কারণে পদত্যাগ করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। বিদায়ী রাষ্ট্রপতিও সেই স্বাভাবিক সাংবিধানিক সুযোগ অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এটি এখন সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে এবং পরবর্তী ধাপে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আর এই মধ্যবর্তী সময়ে দেশের প্রচলিত সংবিধান ও বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।


নির্বাচিত

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় তিন নাম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ায় এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন, কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন সূত্রে তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে। সে কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৭৯ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতা হিসেবে তার নামও রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় রয়েছে।

ড. আবদুল মঈন খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান একাধিকবার সংসদ সদস্য এবং বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় নাসিমুল গনিও: রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গে মৃত্যু আরও ৫, রোগী প্রায় সোয়া লাখ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু থামছেই না। হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া নতুন করে আরও ১ হাজার ১৩৭ শিশুর শরীরে হাম ও উপসর্গ দেখা গেছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, নতুন ১৮৭ জন নিয়ে নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ১৯৪ জন। সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৭১৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৫৬ জন। এসসয় সন্দেহজনক হামে মোট ৭১৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কোটি কোটি শিশু এখনো ঝুঁকিতে: সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সরকার হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এবং পরে সারা দেশে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সরকারের দাবি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্যমাত্রাই প্রকৃত শিশুসংখ্যার তুলনায় কম ছিল।

জুনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে একই বয়সি প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ শিশু অংশ নেয়। সে হিসাবে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু হামের টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগপ্রতিরোধ ঘাটতির কারণেই জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পরও সংক্রমণ পুরোপুরি থামেনি। প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ শিশুই আগে হামের টিকা পায়নি।

আবার আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ১৯ গবেষকের আরেকটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিল-মে মাসে চিকিৎসা পাওয়া ৩৪১ শিশুর মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের ৫২ শতাংশের বয়স ছিল নয় মাসের কম। অর্থাৎ নিয়মিত টিকাদানের পূর্ণ সময়সূচি শেষ করার আগেই তারা আক্রান্ত হয়েছিল।

ডব্লিউএইচওর তথ্যেও দেখা গেছে, চলমান প্রাদুর্ভাবে প্রতি পাঁচজন আক্রান্তের চারজনই পাঁচ বছরের কম বয়সী।

চিকিৎসকদের মতে, টিকা না পাওয়া ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াই হামজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা সংগ্রহে জটিলতা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

এ বছর সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার নতুন পদ্ধতি চালুর পর সরবরাহে বিলম্ব হয় এবং সেটি হামের পুনরুত্থানে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রিয়াজ মোবারক বলেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতাই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। তিনি জানান, অনেক মা নিজেও হামের টিকা না পাওয়ায় তাদের নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃ-অ্যান্টিবডি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি নিয়মিত টিকাদানের আওতা দ্রুত বাড়ানো, রোগ নজরদারি জোরদার, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে রোগপ্রতিরোধ ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান। তার মতে, তা না হলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা কঠিন হবে।


নির্বাচিত

১২ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল সরকার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

১২টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদ ছাড়া বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে গ্রেড-২ মর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সালাহ্উদ্দিন সরকার।

একই গ্রেডে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান পদে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব পদে মো. কামরুজ্জামান (কামরুজ্জামান দুলাল) নিয়োগ পেয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. শামসুজ্জামান (সুরুজ), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মো. জাকির সিদ্দিকি, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান পদে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. মামুন হাসানকে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সামসুল আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, যোগদানের আগে সেসব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তাদের এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে।


নির্বাচিত

দেশের ৫ জনের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ২ জনের

* এশিয়ায় খাদ্য সংকটের বিচারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থানে বাংলাদেশ * পাকিস্তানের ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার ক্ষমতা নেই * সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে নিয়ে আসতে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই। ২০২৫ সালে দেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ বা প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে পারেননি। দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত ‘হেলদি ডায়েট বাস্কেট’ (স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার) মূলে রয়েছে দৈনন্দিন মাথাপিছু অন্তত ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরির সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা। এর আওতায় শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শাকসবজি, ফলমূল, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও তেল-চর্বির মতো ছয়টি মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেবল পেট ভরানো নয়, বরং শরীরের সঠিক বিকাশ ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এসব উপাদানের উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় এই খাদ্যতালিকা জোগাড় করা দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

কেবল বাংলাদেশেই নয়, খাদ্য নিরাপত্তার এই বৈশ্বিক সংকট পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই দৃশ্যমান। এ অঞ্চলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক, যেখানে প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার ক্ষমতা নেই। পাকিস্তানের পরপরই দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য সংকটের বিচারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ সুষম খাবার জোগাড় করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, যার মধ্যে আফ্রিকায় এই হার সর্বোচ্চ ৬৬.৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের অযৌক্তিক ও আকাশছোঁয়া দামই এই সংকটকে নিয়মিত উসকে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস এবং ফলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত তা কার্যকর হলেও বিশ্ববাজারে দাম কমার সুফল স্থানীয় ভোক্তারা সহজে পান না। ফলে সাধারণ মানুষের আয় সামান্য বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার কেনা তাদের নাগালের বাইরেই রয়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে দেশে স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশে একজন মানুষের জন্য প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালে যেখানে ৩.০৯ ডলার পিপিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। খরচের বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে মূলত প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে, আর শর্করাজাতীয় খাবারে ব্যয় হচ্ছে তুলনামূলক কম। এ অঞ্চলে খরচের বিচারে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পরই বাংলাদেশের অবস্থান হলেও পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবারের সার্বিক খরচ মাত্র ৩.৯৪ ডলার।

অবশ্য এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মধ্যেও আশার একটি আলো খুঁজে পাওয়া গেছে পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারার সক্ষমতার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে। ২০১৭ সালে যেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬২.৮ শতাংশ অর্থাৎ ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারতেন না, ২০২৫ সালে সেই হার কমে ৩৮.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে খাবারের দাম বৃদ্ধির হারের চেয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্য বাবদ বরাদ্দের আয় কিছুটা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই সামর্থ্যহীন মানুষের মোট সংখ্যায় এই ইতিবাচক পতন সম্ভব হয়েছে।

বৈশ্বিক পরিসরেও স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ সাম্প্রতিক সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী দৈনিক সুষম খাবারের গড় খরচ ২.৯৪ ডলার থাকলেও ২০২১ সালে তা বেড়ে ৩.৪৪ ডলার এবং ২০২৫ সালে এসে দাঁড়ায় ৪.২৮ ডলারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই দৈনন্দিন খরচ ৪.৯১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পরও বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের মোট সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে নেমে এসেছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে নিয়ে আসতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত সংসংরক্ষণাগার নির্মাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির সার্বিক উন্নয়ন, নিখুঁত বাজার তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্যের যেকোনো ধরণের অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

থাইল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং থাইল্যান্ডের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজাভাত ইসারাভাকদির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি ও পর্যটনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে সরকারি সফর শেষে ব্যাংককে যাত্রাবিরতিকালে তিনি এ বৈঠক করেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ বৈঠকে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর থাইল্যান্ডে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

উপদেষ্টা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন। থাই উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে দেশ‌টির গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপদেষ্টা থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।


নির্বাচিত

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্বে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এর ফলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ওপর। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পেশ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের শপথের বিধিতে উল্লেখ রয়েছে—কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে গেলে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।” সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এখন থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে হাফিজ উদ্দিন জানান, মূলত শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তার পদত্যাগপত্রে বিস্তারিতভাবে অসুস্থতার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপতির নিজের স্বীকারোক্তির পর এ বিষয়ে আলাদা করে আর কোনো চিকিৎসকের সনদপত্রের প্রয়োজন নেই বলে স্পিকার মন্তব্য করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ধোঁয়াশা কেটে গেছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য রাখা যায় না এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: সাংবাদ সম্মেলনে স্পিকার

সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ব্রিফিংয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইস্তফার কারণ হিসেবে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ফলে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সর্বোচ্চ পদের এই পরিবর্তন নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।’ দায়িত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকারের শপথ নেওয়ার সময় আমি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়েছিলাম। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারি। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের শপথের সময় বলা হয়েছে, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের পদের দায়িত্ব পালন করবেন।’

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের সময়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর এই পদে বহাল থাকার কথা ছিল। গত কয়েকদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই শুক্রবার দুপুরে বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে আসেন।


নির্বাচিত

দুদক, ভোক্তা অধিদপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫ প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগ ও রদবদল সম্পন্ন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে প্রেষণে ও বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ। অন্যদিকে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলামকে।

বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মো. খয়বর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরগুলোতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি তাঁর দায়িত্বকাল এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ অসুস্থতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পত্রে দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল উল্লেখ করে বলেন, "আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।" পত্রে তিনি গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি বর্ণনা করে জানান, "৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।"

বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি পত্রে আরও উল্লেখ করেন যে, "নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।" দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।"

রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য স্পিকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনের একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।


নির্বাচিত

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা জল্পনা ও আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক চাপের মুখে নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত কারণেই তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


রাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগের প্রেক্ষিতে বিকাল ৫টার দিকে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে ব্রিফিং করার উদ্দেশ্যেই এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এবং পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে সোচ্চার ছিল। আন্দোলনকারীরা তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে তৎকালীন পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক জটিলতা এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাঁকে অপসারণের বিষয়ে একমত হয়নি। ফলে সেই সময় তাঁর পদ বহাল থাকলেও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আচার ও অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। এমনকি জাতীয় ঈদগাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ‘রয়টার্স’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চলে যেতে চাই। এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই আমি আগ্রহী।’ ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে নিজের জন্য অবমাননাকর উল্লেখ করে তিনি ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেছিলেন, ‘মানুষের কাছে এর মাধ্যমে একটি ভুল বার্তা যায় যে হয়তো রাষ্ট্রপতিকেই সরিয়ে দেওয়া হতে যাচ্ছে। এটি আমাকে গভীরভাবে অপমানিত করেছে।’


চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। এর পরপরই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যদিও শুরুতে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি, তবে গত কয়েক মাস ধরে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত শপথ গ্রহণের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আজ পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।


নির্বাচিত

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রবল আকাঙ্ক্ষা দেশে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই পর্যায়ে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র রক্ষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নিজেকে মাঠের রাজনীতির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনার মতো বৈশ্বিক সংকটগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং আর্থিক অনিয়মকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান চাপের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও নতুন সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সাংবিধানিক কাঠামো ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নের জন্য বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

শিখা অনির্বাণে বীর শহীদদের প্রতি নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা নিবেদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি শিখা অনির্বাণের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। মহান স্বাধীনতার লড়াইয়ে শহীদদের প্রতি এই আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর নবনিযুক্ত দায়িত্বের প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।

পরবর্তীতে নৌবাহিনী প্রধান নৌসদর দপ্তরে পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় নৌসদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ ঊর্ধ্বতন নৌ-কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য যে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

নৌবাহিনী প্রধান দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা এবং সুনীল অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, সাবমেরিন, অত্যাধুনিক সোনার ও রাডার সিস্টেমসহ সর্বশেষ প্রযুক্তির সংযোজন ঘটিয়ে দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা আরও সুসংহত করার বিষয়ে তিনি নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানান।


নির্বাচিত

banner close