মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২

স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৯ আগস্ট, ২০২৪ ১১:৪৮

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে অন্য উপদেষ্টারাও ছিলেন।

এ সময় সেখানে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন সবাই। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে। পরে সরকারপ্রধান হিসেবে অন্য উপদেষ্টাসহ আরও একবার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গণপূর্ত বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩ উপদেষ্টা সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন। পরে ৯টা ৫০ মিনিটে তারা জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এরপর ১০টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টার করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বলে জানান তিনি।

এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন প্রমুখ।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব নেওয়ার পর এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।


তারেক রহমানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকালে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির ধারাবাহিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক। এছাড়া বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আগামী নির্বাচনের আগে পরাশক্তি দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বৈঠকগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারেক রহমান, যার ধারাবাহিকতায় আজ রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো।


ভারতে যাবে না বাংলাদেশ: ক্রীড়া উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব ও ক্রীড়া এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি চাইলেই অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করতে পারবে না। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং ভারতের ভেন্যু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তার অজুহাত বা কূটনৈতিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের নজির ক্রিকেট বিশ্বে নতুন নয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অতীতে পাকিস্তানের দাবির মুখে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। ভারতের চাপে নতি স্বীকার না করে বাংলাদেশ নিজেদের যৌক্তিক দাবিতে অটল থাকবে এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, বাংলাদেশ যদি ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হয়, তবে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হচ্ছে—এমন কোনো দাপ্তরিক তথ্য বা বার্তা তারা পাননি। তিনি বিষয়টিকে ভিত্তিহীন জল্পনা হিসেবে উড়িয়ে দেন এবং এ ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের পক্ষ থেকে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সাভারের সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’-এর আসল পরিচয় মিলল: ৭ মাসে ৬ খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারের বহুল আলোচিত সিরিয়াল কিলার সম্রাট নাম ও পরিচয় গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে নিয়ে যেত এবং পরবর্তীতে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করত। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই ভয়ংকর অপরাধীর আসল নাম সম্রাট নয়, বরং সবুজ শেখ। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর সত্যতা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সবুজের বাবার নাম পান্না শেখ এবং তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। তিন ভাই ও চার বোনের পরিবারে সে দ্বিতীয় সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে সাভারে অবস্থান করা সবুজ নিজেকে কখনো ‘কিং সম্রাট’ আবার কখনো স্থানীয় এক কাউন্সিলরের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ হিসেবে পরিচয় দিত। সে মূলত সাভার মডেল থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং পাকিজা মোড় এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে জীবনযাপন করত এবং রাত কাটাত।

হত্যাকাণ্ডের ধরণ সম্পর্কে তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক তথ্য। সবুজ স্বীকার করেছে যে, সে নারীদের শারীরিক সম্পর্কের কথা বলে নির্জন ও পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসত। ওই নারীরা যদি অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়াত বা অনৈতিক কাজ করত, তবে ক্ষোভ থেকেই সে তাদের হত্যা করত। সর্বশেষ ঘটনার কয়েক দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামের এক তরুণীকে সে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এনে রেখেছিল। ওই তরুণীর সঙ্গে অপর এক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ প্রথমে যুবকটিকে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে তরুণীকে খুন করে দুজনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে। গত রোববার সিসিটিভি ফুটেজে তাকে লাশ সরাতে দেখা যাওয়ার পরই পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সবুজ শেখ গত সাত মাসে সাভার এলাকায় সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারসহ আগস্ট, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী জানিয়েছেন, আসামি মানসিকভাবে বিকৃত এবং সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা সবুজকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভবঘুরে হিসেবেই দেখতেন। অপরিচ্ছন্ন পোশাকে থাকা এবং মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা নেওয়াই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। মাঝেমধ্যে তার আচরণে উগ্রতা দেখা যেত এবং সে উচ্চস্বরে গালাগাল করত। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মীদের অনেকে তাকে মাঝেমধ্যে চা-সিগারেটও খাওয়াতেন। কিন্তু এই সাধারণ ভবঘুরে বেশের আড়ালে যে একজন ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার লুকিয়ে ছিল, তা স্থানীয়দের কল্পনারও বাইরে ছিল। পুলিশ বর্তমানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।


পে স্কেলে বৈশাখী ভাতা বাড়ছে ৫০ শতাংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলে বড় ধরনের সুখবর আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন বাংলা নববর্ষ বা বৈশাখ উদযাপনকে আরও আনন্দমুখর ও উৎসবমখর করার লক্ষ্যে বৈশাখী ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশের পরিবর্তে ৫০ শতাংশ হারে এই ভাতা প্রাপ্য হবেন।

আগামী বুধবার ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রতিবেদন প্রস্তুতের যাবতীয় কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য তা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নতুন এই সুপারিশ কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও উৎসবের সার্বজনীন আমেজ বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে কমিশন এই হার বাড়িয়ে মূল বেতনের অর্ধেক করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। তবে কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন যে, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার উৎসব বোনাসের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ঈদের বোনাস পূর্বের নিয়মেই বহাল থাকবে বলে সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


ফের গ্রেফতার ইভ্যালির রাসেল-শামীমা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে আবারও গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) মধ্যরাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ ও পণ্য বুঝিয়ে না দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় জমেছিল তাদের বিরুদ্ধে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেফতারের পর ডিবির পক্ষ থেকে ধানমন্ডি থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন বাসা থেকে বা কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতির বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায়, বিশেষ করে ধানমন্ডি, কাফরুল ও সাভার থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা আছে। এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ধানমন্ডি থানাতেই শতাধিক পরোয়ানা ঝুলে আছে। মূলত এই বিপুল সংখ্যক পরোয়ানার ভিত্তিতেই ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, এর আগেও গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর শামীমা নাসরিন ২০২২ সালের এপ্রিলে এবং মোহাম্মদ রাসেল পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। জামিনে বের হওয়ার পর তারা আবারও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করলেও পুরোনো মামলা ও নতুন পরোয়ানার জেরে তাদের আবারও আইনের মুখোমুখি হতে হলো।


গুম–নির্যাতনের বিবরণ দিলেন হুম্মাম কাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাকে গুম করে রাখার সময় তিনি বারবার নির্যাতনের শিকার হতেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল সোমবার এই জবানবন্দি দেন হুম্মাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার বাবা বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিলেন হুম্মাম।

এর আগে এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির বিচার শুরু হলো। সূচনা বক্তব্যের পর হুম্মামের সাক্ষ্যগ্রহণ (জবানবন্দি) শুরু হয়।

জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তাকে গুম করা হয়। গুম থাকা অবস্থায় তিনি দিন–রাতে পার্থক্য বুঝতে পারতেন না। তিনি দিন গুনতেন খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আনলে বুঝতে পারতেন, নতুন দিন শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতের খাবারে থাকত ভাত, এক পিস মাছ অথবা এক পিস মুরগি, সঙ্গে কিছু সবজি। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ঈদের দিন ছিল।

জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, প্রথম দুই মাস তিনি একটি পেরেক দিয়ে দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতেন। দুই মাস পর তিনি হিসাব রাখা বন্ধ করে দেন। পেরেকটি তিনি জানালার কোনায় পেয়েছিলেন।

কক্ষের ভেতর দেয়ালে অনেক কিছু লেখা ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন হুম্মাম। হুম্মাম বলেন, তিনি বুঝতে পারেন, তার আগে যারা এই কক্ষে বন্দী ছিলেন, সেগুলো তাদের লেখা। একজন লিখেছিলেন, ‘আপনাকে কত দিন এখানে রাখা হবে, তা কেউ আপনাকে বলবে না।’

অন্য পাশের দেয়ালে বাংলাদেশের পতাকা আঁকা ছিল বলে উল্লেখ করেন হুম্মাম। হুম্মাম বলেন, তিনি যে কক্ষে ছিলেন, তার দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ১৮ ফুট। প্রস্থ ৮ থেকে ১০ ফুট। তিনি দেয়ালের এক কোনায় তার ইনিশিয়াল (এইচকিউসি) ও তার গুম হওয়ার তারিখ পেরেক দিয়ে লিখে রেখেছিলেন।

জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, গুম থাকাকালে মাঝেমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে মারধর করা হতো। তার বাবার রাজনীতির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। তিনি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেন কি না, বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কি না, এসব বিষয়ে তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হতো।

এই মামলার আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে ১২ জনই বর্তমান–সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

আসামিদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এই মামলার আসামি।


বায়ুদূষণের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বায়ুদূষণের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের গতকাল সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, ২৭২ স্কোর নিয়ে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ছিল ঢাকার বাতাস।

একই সময়ে ৫৪১ স্কোর নিয়ে বায়ু দূষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। এছাড়া ৩১২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারতের আরেক শহর কলকাতার বায়ুমান ২০৪। আর, পঞ্চম অবস্থানে আছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা বায়ুমানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আইকিউএয়ার। যা শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য আশঙ্কার কারণ হতে পারে।

আর বায়ুমান ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হয়। যা নির্দিষ্ট একটি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।


বাংলাদেশি ট্রলারসহ ২৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশি ট্রলারসহ ২৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতের কোস্ট গার্ড। জব্দ ট্রলারটির নাম এফবি সাফওয়ান। আটক বাংলাদেশি জেলেদের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছে টহল দিচ্ছিল। সে সময় তারা আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি বাংলাদেশি ফিশিং ট্রলার আটকায়।

ট্রলার থেকে আটক করা হয় ২৪ জেলেকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

গতকাল সোমবার সকালে ২৪ জেলেসহ আটক ট্রলারটি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আটক জেলেদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হবে।


ভবিষ্যতে যেন কোনো অবস্থাতেই এক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ শাসিত না হয়: আলী রীয়াজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট–সংক্রান্ত কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে যেন কোনো অবস্থাতেই এক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ শাসিত না হয়। যেন জবাবদিহির ব্যবস্থা তৈরি হয়, স্বাধীন বিচার বিভাগ আমরা তৈরি করতে পারি, লোকের কাছে ইনসাফের দরজাটা অন্তত খুলতে পারি, সে জন্যই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।’

গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে বিভাগীয় কর্মকর্তা-প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এ কথা বলেন। ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

মতবিনিময় সভায় আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটের প্রচার নিয়ে সরকার এমন কিছু করছে না, যার আগের কোনো ইতিহাস নেই। নৈতিকতার জায়গা ও আইনি দিক থেকে বলা হলে সমস্ত কিছুর দিক থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ইতিবাচক প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণ কি ‘না’ ভোট দিতে পারবেন? অবশ্যই দিতে পারবেন। কেউ যদি ‘না’ ভোট দিতে চান, দিতে পারেন।’

সংস্কার বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। এই পুনরাবৃত্তি আমরা রোধ করতে চাই। তারই একটি তালিকা ভবিষ্যতের রূপরেখা হিসেবে তৈরি হয়েছে জুলাই সনদ। যদি আমরা ইতিবাচকভাবে রাষ্ট্রের সংস্কার করতে চাই, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে যে দলিল আছে, জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে তার একধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা প্রয়োজন। যে কারণে ত্রয়োদশ যে সংসদ তৈরি হবে, সে সংসদ কেবল জাতীয় সংসদ নয়। জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—সংবিধান সংশোধন পরিষদ হিসেবে ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করবেন। কেন বলা হয়েছে, তার একটি কারণ রয়েছে। এটি সংবিধানে স্বাভাবিক সংশোধনী নয়, এটি সংবিধান সংস্কার করার প্রচেষ্টা। যাতে করে ভবিষ্যতে আদালতে এটা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য ত্রয়োদশ সংসদকে কিছু কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার দেওয়া হয়েছে।’

গণভোট বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘অনেকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এত দিন আলোচনা করলেন, তারপর আবার গণভোট কেন? গণভোটের কারণ হচ্ছে, ৩০টি রাজনৈতিক দল অনেকের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু এমন লোকও তো আছেন, যারা রাজনৈতিক দল করেন না। তাদের বক্তব্য শুনতে হবে, সম্মতির প্রয়োজন হবে। সে কারণেই গণভোট। আমরা বলেছি, দেশের চাবি আপনার হাতে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দেশের মালিক জনগণ। সেটারই চর্চার জায়গা হচ্ছে এই গণভোট। আসুন, সকলে মিলে চেষ্টা করি। সাফল্য অর্জন নিঃসন্দেহে করা যাবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া।


তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে শিগগিরই: চীনা রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবসময় পাশে থাকতে চায়। তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এই পরিদর্শন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিবেশ উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত একটি নৌকায় করে তিস্তার উভয় তীর পর্যবেক্ষণ করেন। তারা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং পরিবেশগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত নদীর তীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা, জীবনযাত্রার সংকট এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা। এ সময় তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের মনে আজকের এই উচ্চপর্যায়ের সফর নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কাউনিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা ত্রাণ নয়, বরং নদীর স্থায়ী বাঁধ এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চান।

তিস্তা পাড়ের স্থানীয় আকবর আলী বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত আজকে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি তারা একটি নিশ্চিত জীবন পাবেন।

পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে চীন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। আজকের এই সফর সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ সময় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষ প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা বন্ধুপ্রতিম চীনের সঙ্গে মিলে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছি।

তিনি আরও বলেন, এখন এটা দুই ধরনের সমীক্ষা চলছে। একটা হচ্ছে এই প্রকল্পটার যে ফিজিবিলিটি হয়েছে, এটা শতভাগ ফুলপ্রুফ কি না, সঠিক কি না; এটা হচ্ছে প্রযুক্তিগত দিক। আরেকটা হচ্ছে আর্থিক দিক। এখানে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ তো, এই আর্থিক বিনিয়োগটা চীন সরকার করলে ওটা তাদের জন্য টেকসই হবে কি না।

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তার সরকারের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।


পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আকাশে কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আজ মঙ্গলবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং বুধবার থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুসারে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালন করা হবে। গতকাল সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিন সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের শাবান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি।


৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সব বৈধ অস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৪ শাখা থেকে উপসচিব আবেদা আফসারী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সোমবার সাংবাদিকদের এতথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে আগামী ৩১ জানুয়ারি মধ্যে নিকটস্থ থানায় বৈধ অস্ত্র জমা দিতে হবে।

এছাড়া ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীগণের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তার সশস্ত্র রিটেইনারের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এ আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে The Arms Act, 1878 এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না, ভোট হবে নিরপেক্ষ: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সৈনিককে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এতে কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না।

গত রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক দুটি সভায় সৈনিকদের সাথে দরবার এবং কর্মকর্তাদের সাথে অফিসার্স অ্যাড্রেসে, সেনাপ্রধান এসব নির্দেশনা দেন। সভায় ঢাকার বাইরে অবস্থানরত সেনাকর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, ওই অফিসার অ্যাড্রেসে সেনাবাহিনী প্রধান বর্তমান পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না। কোনো স্বজনপ্রীতি বা কারও পক্ষ নেওয়া যাবে না। ভোটের মাঠে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিতে হবে, যাতে সব শ্রেণির মানুষ ভোটকেন্দ্রে যান। ভোটকেন্দ্র বা মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সবাই নির্বিঘ্নে-নিশ্চিন্তে ভোট দিয়ে বাসায় ফিরবেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেনাসদস্যরা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী নিষ্ঠার সঙ্গে যে দায়িত্ব পালন করছে, সেটি দেশ ও জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। আগামী নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরতে হবে।

এ সময় সেনাপ্রধান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নানা ধরনের অপপ্রচার, গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর বিষয়েও সতর্ক করেন। পাশাপাশি সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাদের সাজা দিতে হবে, যাতে নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।


banner close