অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে উপদেষ্টাদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ শুক্রবার দুপুরে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
আন্দোলনকারী ছাড়াও নাহিদ ইসলামের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে বেরিয়ে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছিল গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি।
আসিফও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা। ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে দলটি।
একনজরে তারা দু’জন
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর অন্যতম সমন্বয়ক। নাহিদ ইসলামের ডাকনাম ‘ফাহিম’। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। জন্ম ১৯৯৮ সালে ঢাকায়। বাবা শিক্ষক। মা ঘর সামলে সন্তানদের মানুষ করেছেন। ছোট এক ভাই রয়েছে তার। নাহিদ বিবাহিত।
কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে তাকে দুবার আটক করা হয়। প্রথমবার, ১৯ জুলাই সাদা পোশাকধারী বেশ কয়েকজন লোক তার এক বন্ধুর বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। চোখে কাপড় বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। দুদিন পর পূর্বাচলে একটি ব্রিজের তলায় নিজেকে আবিষ্কার করেন নাহিদ। দ্বিতীয়বার, ২৬ জুলাই ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। আন্দোলনের সময় সামাজিকমাধ্যমে বেশ সরব দেখা গেছে তাকে। বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে আন্দোলনকারীদের নির্দেশনা দিয়েছেন আসিফ।
পুরো নাম আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র সমন্বয়ক থেকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা’ হয়েছেন তিনি।
আসিফ মাহমুদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মো. বিল্লাল হোসেন ও মাতার নাম রোকসানা বেগম। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও কলেজটির বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। রাত ৯টা ২১ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ জন সদস্য। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় শপথ অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি নতুন দায়িত্ব পাওয়া তিন উপদেষ্টা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটারদের যাতায়াত এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ ছুটির দিনগুলোতেও রাজধানীতে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সাধারণ ছুটি এবং এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও যাত্রীদের সুবিধার্থে মেট্রোরেল তার নিয়মিত সূচি অনুযায়ী চলবে। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাজধানীর যানজটমুক্ত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই পরিষেবাটি সচল রাখার মাধ্যমে মূলত ভোটারদের কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে ট্রেন চলাচল এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) একেএম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রেন অপারেশন, লাইন অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত সবার ছুটি বাতিল থাকবে। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্রেন চলাচলে কোনো অসুবিধা থাকবে না এবং যাত্রীরা নিয়মিত সময়সূচী অনুযায়ী যাতায়াত করতে পারবেন।
তবে নিরাপত্তার খাতিরে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের দিন সাধারণ কর্মদিবসের মতোই মেট্রো ট্রেন চললেও যে সমস্ত স্টেশনের প্রবেশপথ বা গেট সরাসরি কোনো ভোটকেন্দ্রের একদম সন্নিকটে অবস্থিত, নিরাপত্তার স্বার্থে সেই নির্দিষ্ট গেটগুলো বন্ধ রাখা হতে পারে। তবে যাত্রীদের ওঠানামার জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনের অন্যান্য বিকল্প গেটগুলো যথারীতি উন্মুক্ত থাকবে। এর ফলে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি যাত্রী সাধারণের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ডিএমটিসিএল।
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সারা দেশে সব ধরনের যান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়কপথে সাধারণ যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মেট্রোরেল সচল থাকার সিদ্ধান্তটি রাজধানীর ভোটার ও নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের আয়োজন সম্পন্ন করতেই সরকার এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ইজারা কেন্দ্র করে চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও চরম অচলাবস্থা নিরসনে জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে এসে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে শত শত শ্রমিক-কর্মচারী উপদেষ্টার গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে দিয়ে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে উপদেষ্টা হেঁটে বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশের সময়ও বিক্ষোভকারীরা চারপাশ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিতে থাকায় এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন উপদেষ্টা সরাসরি ঢাকা থেকে সকাল সোয়া ১০টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে তিনি গাড়িবহর নিয়ে বন্দর ভবনের দিকে রওনা হন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টাকে বহনকারী গাড়িটি বন্দর ভবনের অদূরে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা চারপাশ থেকে গাড়িটি ঘিরে ধরেন। এসময় শ্রমিকরা ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা-হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘গো ব্যাক অ্যাডভাইজার’, ‘মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’—এমন নানা তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে উপদেষ্টার গাড়িটি প্রায় ১৫ মিনিট সেখানে আটকে থাকে। পরে পুলিশ ও বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা একটি মানববেষ্টনী তৈরি করে গাড়িটিকে কোনোমতে বন্দর ভবনের মূল ফটকের ভেতরে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
উত্তেজনা কেবল রাস্তার মোড়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গাড়িটি বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশের পরপরই নিরাপত্তা কর্মীরা গেট বন্ধ করার চেষ্টা করলেও শতাধিক বিক্ষুব্ধ শ্রমিক স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে ঢুকে পড়েন। নৌ উপদেষ্টা যখন গাড়ি থেকে নেমে ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন শ্রমিকরা আবারও তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের বিশেষ পাহারায় উপদেষ্টাকে দ্রুত লিফটে করে ওপরের তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা বন্দর ভবনে চলমান অচলাবস্থা ও এনসিটি ইজারা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ভবনের বাইরে এবং আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে আজ বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ওপর প্রশাসনিক দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে গত বুধবার সকাল থেকে এই কঠোর কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মবিরতির প্রভাবে বহির্নোঙর থেকে জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়া যেমন বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি জেটিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকেও পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে এক নজিরবিহীন স্থবিরতা নেমে এসেছে, যা দ্রুত নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হলেও শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। মূলত এনসিটি ইজারা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা কাজ হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে আজ বৃহস্পতিবারও শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে বন্দরে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি নিরসন এবং বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে আজ একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি সভা আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। সভায় বন্দর সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি ছাড়াও শ্রমিক নেতা ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক পত্রে জানানো হয়েছে যে, মূলত বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস ও লোডিং কার্যক্রমে চলমান স্থবিরতা দূর করা এবং শ্রমিকদের মধ্যে বিরাজমান অস্থিরতা মোকাবিলায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতেই এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমানে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির ফলে বিভিন্ন জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, অফডক থেকে মালামাল আনা-নেওয়া এবং বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্যবাহী যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসবে না, ততক্ষণ তাদের এই কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য যে, এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল গত শনিবার থেকে, যখন শ্রমিকরা টানা তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টার এবং বুধবার থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন। শ্রমিকদের দাবি, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল তুলে দেওয়া হলে বন্দরের সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আন্দোলনের প্রথম দিন চারজন শ্রমিককে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয় এবং পরে রবিবার আরও ১২ জনকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে আরও ১৫ জন আন্দোলনকারী কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একদিনের কর্মবিরতিতে রাজস্বের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করতে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখেও শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় আজকের জরুরি সভাটি বন্দরের ভবিষ্যৎ এবং চলমান সংকট নিরসনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান এই গেটওয়েতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এড়াতে দ্রুত একটি সম্মানজনক সমাধানের প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কোনো পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য নেই। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের কড়া সমালোচনা করেন এবং সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পরও অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে বলে যারা দাবি বা প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ অসৎ। তিনি মনে করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এই গোষ্ঠীটি কিছুদিন আগেও নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এখন যখন এটি স্পষ্ট যে নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও গুজব সামনে এনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার মূলত নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার একটি সুকৌশলী অপচেষ্টা। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো এই যে, কিছু উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন মানুষও এই ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে বাস্তবতা হলো, এ ধরনের দাবির কোনো আইনি বা দাপ্তরিক ভিত্তি নেই এবং এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া এবং এরপরই নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। এর বাইরে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক অভিলাষ বা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্য সরকারের নেই। নির্বাচনোত্তর ক্ষমতার পালাবদল যেন দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণকে এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজবে কান না দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকারের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মূলত নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সময়মতো ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই জরুরি ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও শিল্পীদের সৃজনশীলতা উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত রিকশা আর্ট ফেস্টিভ্যাল উপভোগ করেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর স্ত্রী ডিয়ান। এই উৎসবের মাধ্যমে রিকশাকে শিল্পের এক জীবন্ত ক্যানভাস হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শিল্পীদের অসামান্য সৃজনশীলতা ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, রিকশাকে চলমান ক্যানভাসে রূপান্তর করার এই ধারা একদিকে যেমন স্থানীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, অন্যদিকে শিল্পে উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের আমেরিকান চেতনাকেও প্রতিফলিত করে। মূলত শিল্পের এই নান্দনিক প্রকাশ ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতাকে আরও অর্থবহ করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রিকশা চিত্রকর্মের দীর্ঘ ইতিহাস ও বিশ্বজুড়ে এর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও নতুন করে আলোকপাত করা হয়।
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানান যে, “মব ভায়োলেন্স বলে কোনো কিছু নেই। পুলিশের মধ্যে কোনো ভীতি কাজ করছে না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে।” তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নির্বাচন চলাকালীন যদি কোনো প্রার্থী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, তবে তাঁকে সরাসরি জেলখানায় যেতে হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীদের আচরণের সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোনো জনপ্রতিনিধি অশুভ আচরণ তাহলে ফলাও করে প্রচার করুন সোজা হয়ে যাবে। কোনো প্রার্থী অশোভন আচরণ করলে, তা সমাজে প্রকাশ পেলে এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে যাবে। বেশি করলে পাশে জেলখানা দেখিয়ে বলেন সেখানে চলে যাবে।” এছাড়া তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রকার সহিংসতার আশঙ্কা নেই এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি ও পুলিশের অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম সভায় অংশ নেন। মূলত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জনমনে আস্থা ফেরাতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বড় আকারের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ ও আচরণবিধি তদারকি করার জন্য মোট ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা সরাসরি নির্বাচনী মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে যোগদান করবেন এবং তার আগে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তারা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দণ্ড প্রদান করতে পারবেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বরত বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার গুরুদায়িত্বও পালন করবেন এই ম্যাজিস্ট্রেটরা।
সরকারি এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা মোতাবেক ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত এই ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। এছাড়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের কার্যক্রমের তথ্য একটি নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করার জন্য প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির ফলে ভোটগ্রহণের আগে ও পরে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়ানো এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বড় ধরনের জনমত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে তাদের রাজনৈতিক পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আর অবশিষ্ট ৫২ শতাংশ ভোটার অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থন করতে পারেন। বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)।
লেখক ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ কর্তৃক উপস্থাপিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক মনোভাব এবং নির্বাচনি পরিবেশের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। গবেষণাটি সম্পন্ন করতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন ভোটারদের রাজনৈতিক ঝোঁক। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এমন ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে তাদের পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামগ্রিকভাবে ভোটারদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এই আগ্রহের ক্ষেত্রে লিঙ্গ, বয়স বা ভৌগোলিক অবস্থানের কোনো বড় প্রভাব দেখা যায়নি।
জনমতের ক্ষেত্রে ইস্যুভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম দুর্নীতি ও সুশাসন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে ধর্মীয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার। নেতৃত্বের গুণাবলির ক্ষেত্রে ভোটাররা এখন আর কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিশমার ওপর নির্ভর করতে রাজি নন; বরং তারা এমন নেতৃত্ব খুঁজছেন যারা জনদরদি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার প্রধান উৎস হিসেবে বর্তমানে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে গবেষণায় ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও ধরা পড়েছে। ভোটাররা নির্বাচন পরিচালনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি এবং ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই কমবেশি বিদ্যমান। এছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার কেবল প্রার্থীর যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল উভয় বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপটি আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত প্রদান করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল (৫১) আর নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হৃদরোগ ও দীর্ঘদিনের কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জনা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ময়মনসিংহ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত ৩টার দিকে শহরের ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুতে শেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মাহমুদুল হক রুবেল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা সেক্রেটারী ও শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সাহেব এর মৃত্যুর খবর দিয়েছেন এবং আল্লাহ তায়ালা যেনো জান্নাত নসিব করেন- এই বলে তিনি আল্লাহর নিকট দোয়াও করেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার জানাজার সময় ও স্থান পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সাক্ষাৎকালে তিনি নিজের লেখা গ্রন্থ ‘বিভীষিকাময় আয়নাঘর’ এবং তার বাবা গোলাম আযমের লেখা ৯ খণ্ডের আত্মজীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম’ রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত আগ্রহের সাথে বইগুলো গ্রহণ করেন এবং উল্টেপাল্টে দেখেন।
সাক্ষাৎ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আযমী লিখেন, আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। আমার লেখা "বিভীষিকাময় আয়নাঘর", আমার বাবাকে নিয়ে সচিত্র (প্রায় সোয়া দুই হাজার ছবি সম্বলিত) বই "প্রেরণার পরশমণি" এবং আমার বাবার লেখা আত্মজীবনী "জীবনে যা দেখলাম" (৯ খন্ড) উপহার দিয়ে এলাম।
এছাড়াও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি খুব আগ্রহ সহকারে বই গুলো নিলেন এবং উল্টেপাল্টে দেখলেন। উনার মূল্যবান সময় থেকে আমাকে অনেক সময় দেয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই চুক্তিতে সই করেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, চুক্তিটি সইয়ের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হলো, যার আওতায় যৌথভাবে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন উদ্যোগে এই সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। চুক্তিতে প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করার পাশাপাশি হস্তান্তরিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে এসব সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি হস্তান্তর কিংবা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কথা চুক্তিতে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং এটি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েকদিন আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে, দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরিদর্শনের শুরুতে কূটনীতিকরা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রায় ৪ হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন প্রতিনিধি দলকে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী বলেন, ‘জাদুঘরের পেছনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যে কোনো জায়গায় এ ধরনের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই জুলাই জাদুঘরটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জাদুঘরটিকে বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জাদুঘরটি জুলাইয়ের বিদ্রোহের ৩৬ দিনের ক্লাইম্যাক্স প্রদর্শন করে, তবে এটি বছরের বছরের দুঃশাসনের উপাদানগুলোও তুলে ধরে।’ তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, ‘ইতিহাসের আসল পাঠ হলো এটি যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা।’ পরিদর্শনে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পেরে আমি আনন্দিত। ইতিহাস বোঝা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে বিপ্লব ঘটে এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উৎপত্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার অনুপ্রেরণামূলক এবং শক্তিশালী স্মরণ করিয়ে দেয়।’
জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব অতিথিদের কাছে এই স্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। এই বিশেষ পরিদর্শন কর্মসূচিতে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, ইতালি, কসোভো, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউনেস্কো, ডব্লিউএফপি, আইওএম, একেডিএন ও বিমস্টেকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৪০ জন সদস্যকে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক প্র্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি (অব:)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত সিনিয়র সচিব জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনাব নাসিমুল গণি।
উক্ত অনুষ্ঠানে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ৪০ জন কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক প্রদান করেন।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।
প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশের উপকূলীয় দুর্গম এলাকাসমূহ, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও সমুদ্র পথে এবং উপকূলীয় এলাকায় জনসাধারণের জান ও মাল রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, মাদক পাচার রোধ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর ও বহিঃনোঙর এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া দেশের জাতীয় সম্পদ রূপালী ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন রোধ এবং সমুদ্রে সরকার ঘোষিত মৎস্য অভয়ারণ্য বাস্তবায়নে এ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের বন্দরসমূহের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক সাড়াশি অভিযানের ফলে বহিঃনোঙ্গর অঞ্চলে দস্যুতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং পোর্টের রেটিং পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজ এমটি বাংলার জ্যোতি, এমটি বাংলার সৌরভ এবং বিএলপিজি সোফিয়ার ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড 'ফার্স্ট রেস্পন্ডার' হিসেবে মুহূর্তেই প্রতিটি ঘটনাস্থলে পৌছে সফলভাবে অগ্নি নির্বাপণ এবং উপকূলকে পরিবেশ দূষনের হাত থেকে রক্ষা করে। উন্নত প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত এই বাহিনীর অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) হতে মর্যাদাপূর্ন ‘Letter of Commendation’ লাভ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সময়ের পরিক্রমায় ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার নিপুণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে কার্যকর, শক্তিশালী ও সুদক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য উজ্জীবিত ও বদ্ধপরিকর।