মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ ফাল্গুন ১৪৩২

অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানাল কানাডা

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ আগস্ট, ২০২৪ ১১:৫০

শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে কানাডা। গতকাল শুক্রবার (৯ আগস্ট) এক বিবৃ‌তিতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে স্বাগত জানা‌ন। আজ শ‌নিবার (১০ আগস্ট) এ তথ্য জানায় ঢাকার কানা‌ডিয়ান হাইক‌মিশন।

বিবৃ‌তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে চলমান সঙ্কটের সমাধানে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এগিয়ে যেতে কানাডা সমর্থন করে। আমরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাগত জানাই। এ‌টি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক শাসনের পথ প্রশস্ত করার পাশাপা‌শি শান্তি পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ।

মেলানি জোলি বলেন, এই পরিবর্তনের সময়ে এমন একটি প্রক্রিয়ায় কানাডা যুক্ত হতে চায়, যা হবে সবার অংশগ্রহণমূলক। ব্যাপক অর্থে সমাজের সব খাতের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। তাতে থাকবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যুব সমাজ, নারী ও অন্য সংখ্যালঘুরা। মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, আইনের শাসন মেনে গণতান্ত্রিক রীতি ও অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের নীতিতে সব দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানায় কানাডা।

কানাডা সবাইকে শান্ত থাকারও আহ্বান জানায়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার জন্য ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার পুরোপুরি সুযোগ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় কানাডা।


নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। নতুন বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অংশ নিতে হিমালয়কন্যা ভুটানের সরকার প্রধানের এই আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকা এখন বিশ্বনেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষে সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিদেশি অতিথিদের এই দীর্ঘ তালিকায় আরও রয়েছেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল। এছাড়া শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিও এই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এই আয়োজনে শামিল হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা এবং তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি ইতোমধ্যে ঢাকা পৌঁছেছেন।

বিকেলের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি অন্তত এক হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল থেকে শুরু করে সংসদ ভবন এলাকা পর্যন্ত বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে, যা নতুন সরকারের যাত্রালগ্নকে এক উৎসবমুখর আবহ দান করেছে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই বিশাল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।


শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় ওম বিড়লা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশের এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গী হতে এবং নতুন সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিবেশী দেশের এই প্রভাবশালী নেতার আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিমানবন্দরে ভারতের লোকসভার স্পিকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ওম বিড়লার নেতৃত্বে আসা ভারতীয় প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ওম বিড়লার এই সফর মূলত নতুন নির্বাচিত সরকারের সাথে নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি জোরালো বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, নতুন সরকারের এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বনেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ওম বিড়লার আসার কিছু সময় আগেই ঢাকায় পৌঁছান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা আজ ঢাকায় সমবেত হচ্ছেন। পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও এই রাজকীয় আয়োজনে অংশ নেবেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টটি সফল করতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিশ্ববাসীর কাছে কতটা গুরুত্ব বহন করছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলের এই মাহেন্দ্রক্ষণের মাধ্যমেই বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।


২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যাঁরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। সরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যারা ডাক পেয়েছেন তাঁদের তালিকা দেওয়া হয়েছে—

পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন যারা:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সালাহউদ্দিন আহমদ

ইকবাল হাসান মাহমুদ

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন

ড. খলিলুর রহমান

আব্দুল আওয়াল মিন্টু

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

মিজানুর রহমান মিনু

নিতাই রায় চৌধুরী

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

আরিফুল হক চৌধুরী

জহির উদ্দিন স্বপন

মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ

আফরোজা খানম (রিতা)

মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

আসাদুল হাবিব দুলু

মো. আসাদুজ্জামান

জাকারিয়া তাহের

দীপেন দেওয়ান

আ ন ম এহসানুল হক মিলন

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

ফকির মাহবুব আনাম

শেখ রবিউল আলম

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন:

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

মো. শরিফুল আলম

শামা ওবায়েদ ইসলাম

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

কায়সার কামাল

ফরহাদ হোসেন আজাদ

মো. আমিনুল হক

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন

হাবিবুর রশিদ

মো. রজাবি আহসান

মো. আব্দুল বারী

মীর শাহে আলম

মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম

ইশরাক হোসেন

ফারজানা শারমিন

মো. নুরুল হক নুর

ইয়াসের খান চৌধুরী

এম ইকবাল হোসেইন

এমএ মুহিত

আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর

ববি হাজ্জাজ

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম


প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মোট ২৩ জন নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ দুপুরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন হবু সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্ভাব্য তালিকার একটি অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও প্রভাবশালী নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করে চমক দিয়েছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যশোর থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কিশোরগঞ্জের মো. শরিফুল আলম এবং ফরিদপুর থেকে নির্বাচিত শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দলের আইন সম্পাদক কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক। এই তালিকায় আরও রয়েছেন চট্টগ্রামের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা থেকে নির্বাচিত হাবিবুর রশিদ, মো. রজাবি আহসান ও মো. আব্দুল বারী।

মন্ত্রিসভার এই নতুন তালিকায় রাজনৈতিক বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন দল ও জোটের শরিকদেরও মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম এবং ঢাকার অন্যতম আলোচিত নেতা ইশরাক হোসেন। নারী নেতৃত্ব ও তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে ফারজানা শারমিন এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা মো. নুরুল হক নুরকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, এনডিপি নেতা ববি হাজ্জাজ এবং রাজবাড়ী থেকে নির্বাচিত প্রবীণ নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান তাঁর নতুন মন্ত্রিসভায় মেধা ও সক্রিয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের চেষ্টা করেছেন। এই তালিকায় যেমন রাজপথের লড়াকু সৈনিকেরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন পেশাজীবী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে এই প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক শপথ নেবেন। ইতোমধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলাদেশে একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।


স্বতন্ত্র এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যের শপথ নেননি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে এক নাটকীয় ঘটনায় তাঁরা কেবল সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবেই শপথ নিয়েছেন, এড়িয়ে গেছেন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে নির্ধারিত শপথ অনুষ্ঠান। এর আগে ক্ষমতাসীন হতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলও (বিএনপি) একই অবস্থান গ্রহণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের সঙ্গেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের অংশটুকু বর্জন করেন তাঁরা।

নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের আয়োজনে নবনির্বাচিতদের জন্য দুটি পৃথক শপথের ব্যবস্থা ছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। স্বতন্ত্র এমপিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রথম দফার শপথ পাঠ করলেও পরিষদের দ্বিতীয় দফার শপথ শুরুর আগেই অবস্থান পরিবর্তন করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা প্রকারান্তরে বিএনপির রাজনৈতিক ও আইনি অবস্থানকেই সমর্থন জানালেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই বর্জনের নেপথ্যে আইনি অস্পষ্টতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বিদ্যমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি কাঠামো বা স্বীকৃতি এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং তাঁরা কেউ এই পদের জন্য সরাসরি নির্বাচিত হননি।

সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপি এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, সংবিধান সংস্কার একটি জাতীয় ও সংসদীয় প্রক্রিয়া, যা আগে সংসদে যথাযথভাবে আলোচিত ও গৃহীত হতে হবে। বর্তমান সংবিধানের বাইরে কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়াকে বিএনপি নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিএনপির এই যুক্তির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আজ কেবল আইনপ্রণেতা হিসেবেই নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। এই ঘটনার মাঝেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রক্রিয়া শুরু হলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা ও ইশরাক হোসেনসহ আরও কয়েকজন নেতা, যা সংসদ ভবনে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

এদিকে সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ বিরতির পর আজ দিনটি ছিল অত্যন্ত কর্মমুখর। সকালে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টায় তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের সদস্যরাও পৃথকভাবে শপথ নিয়েছেন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির বিপরীতমুখী অবস্থানে এক ধরনের সাংবিধানিক অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে সংস্কারবিহীন সংসদকে ‘অর্থহীন’ বলার হুঁশিয়ারি থাকলেও স্বতন্ত্র ও বিএনপির এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে রাষ্ট্র সংস্কারের গতিপ্রকৃতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।

আজ বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দেশ পরিচালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বর্জনের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে এক গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন সরকারের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পরীক্ষা, যেখানে সংসদীয় সার্বভৌমত্ব বনাম প্রস্তাবিত সংস্কার পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত স্বতন্ত্র ও বিএনপির এই অবস্থান সরকারের শুরুতেই একটি শক্তিশালী সংসদীয় ও সাংবিধানিক বারতা পৌঁছে দিল।


মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল–১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন।তিনি শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।

স্বপন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। তিনি দলটির মিডিয়া সেলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছিলেন একসময়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের সর্বমোট ১২৯টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে বরিশাল-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম জহির উদ্দিন স্বপন ৯৯ হাজার ৪১৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৬০ ভোট।


মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন আমিনুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন হিসেবে তাঁকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়কের মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার সংবাদটি ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আমিনুল হক। তবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর তিনি ওই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তাঁর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শুরুতে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত তারেক রহমান তাঁর ওপরই আস্থা রেখেছেন। বিশেষ করে দেশের ক্রীড়া খাতের আমূল সংস্কার ও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একজন অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমিনুল হক নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা গুঞ্জন চলছিল। এই পদের জন্য আলী আসগর লবিসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমিনুল হকের পক্ষেই সিদ্ধান্ত এসেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে সুসংগঠিত করার পুরস্কার হিসেবেও এই মূল্যায়নকে দেখছেন অনেকে। এর আগে আমিনুল হককে নিয়ে জল্পনা ছিল যে, তিনি বিজয়ী হতে পারলে সরাসরি এই দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন, তবে হারার পরেও টেকনোক্র্যাট কোটায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি তাঁর প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিশেষ আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আমিনুল হকও শপথ গ্রহণ করবেন। এই মন্ত্রিসভায় আমিনুল হক ছাড়াও কিশোরগঞ্জ থেকে শরীফুল আলম, কুমিল্লা থেকে হাজী ইয়াছিন এবং মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মতো অভিজ্ঞ ও হেভিওয়েট নেতাদের ডাক পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার সকালেই সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবস শুরু করবেন বলে জানা গেছে। আমিনুল হকের এই নতুন যাত্রা দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন ভক্ত ও সমর্থকরা।


শপথ নিলেন জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বড় পরিসরে সংসদীয় রাজনীতিতে ফেরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নির্ধারিত শপথকক্ষে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো ঘটনা, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন।

এদিন সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে একই স্থানে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তাঁর দলের বিপুল সংখ্যক সংসদ সদস্যের শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সমবেত হতে শুরু করেন। দুপুরের পর সিইসি একে একে জামায়াত থেকে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করান। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় এবং সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নতুন সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর সংসদীয় রাজনীতিতে সরাসরি এবং প্রভাবশালী অবস্থানে ফেরার এই মুহূর্তটি দলটির নেতাকর্মীদের জন্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শপথ গ্রহণ শেষে সংসদ সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়ের নির্ধারিত খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং সংসদীয় বিধি মোতাবেক অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য, আজকের এই শপথ গ্রহণের পর বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে দেশে একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াতের এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সংসদীয় বিতর্কে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিরা এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা পালনের অপেক্ষায় রয়েছেন।


তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সংসদ নেতা ও দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের নবনির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ দায়িত্ব অর্পণ করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয় যে, জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক লড়াই এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই নির্বাচনকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আজ বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে আজকের এই সভায় বিএনপি সংসদ সদস্যরা একটি বৈপ্লবিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সংসদীয় দলের প্রথম সভা থেকেই তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারিভাবে শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) বিলাসবহুল গাড়ি গ্রহণ করবেন না। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রীয় কোটায় কোনো সরকারি প্লটও না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এমন গণমুখী ও ত্যাগের সিদ্ধান্ত এর আগে কখনো দেখা যায়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মূলত তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এবং জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকার অপচয় রোধেই এই কঠোর নৈতিক অবস্থান নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংসদ সচিবালয়ের কানিজ মওলার সঞ্চালনায় তাঁরা নিজ নিজ আসনের বিপরীতে স্বাক্ষর করেন। শপথের পর পরই সংসদীয় দলের সভায় অংশ নিয়ে তাঁরা নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই সরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে বলে বৈঠকে অঙ্গীকার করা হয়। আজকের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং শাসনতান্ত্রিক সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন আনতে উন্মুখ। পুরো জাতি এখন বিকেলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে, যখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক ঘটবে।


তারেক রহমান সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে এই পদে নির্বাচিত করেন। সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক পূর্ণতা পেল। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

আজকের দিনটি ছিল বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বিএনপি থেকে বিজয়ী সকল সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। শপথ গ্রহণের পরপরই বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় কৌশল ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সংসদীয় দলের সভায় মিলিত হন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের আইনসভায় এমন দাপুটে প্রত্যাবর্তনের পর এই সভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

সংসদীয় দলের এই বৈঠকে তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করার পাশাপাশি নতুন সরকার গঠন, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্য এবং সংসদে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা এই নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থনের জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংস্কারমুখী শাসনব্যবস্থা কায়েম করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এখন রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাবে বিএনপি।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক রাজকীয় পরিবেশে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে পুরো রাজধানী এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। তারেক রহমানের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়া মূলত দেশে একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে বিকেলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের মাধ্যমেই দেশে একটি নতুন নির্বাচিত সরকারের যাত্রা শুরু হবে।


বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে জামায়াত শপথই নেবে না: আব্দুল্লাহ তাহের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন এক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্যদিকে, বিএনপির এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এক চরম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়, তবে জামায়াত ও তাদের জোটের নির্বাচিত সদস্যরা কোনো ধরনের শপথই গ্রহণ করবেন না।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঘোষণা করেন যে, তারা এখনই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না। সাদা ও নীল রঙের দুটি আলাদা শপথ ফরম হাতে নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ যুক্তি দেন যে, তারা জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি বা কাঠামো এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে এটি সংবিধানে ধারণ করার পর এবং কে শপথ পাঠ করাবেন সেই বিধান হওয়ার পরই কেবল এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

বিএনপির এই অবস্থান প্রকাশ হওয়ার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে জানান, আজ দুপুর ১২টায় জামায়াত ও তাদের জোটের শরিকদের শপথ নেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সংস্কারবিহীন সংসদকে তারা ‘অর্থহীন’ বলে মনে করছেন। জামায়াত মনে করে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার এবং সংবিধানের পরিবর্তন। সেই সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বর্জন করা হলে সংসদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বিএনপি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন না বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

এই পরিস্থিতিতে সংসদ সচিবালয় ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক নাটকীয়তা ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ দেড় দশক পর গণতন্ত্রের পথে ফেরার প্রথম দিনেই দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির এমন বিপরীতমুখী অবস্থান নতুন সরকারের শাসনতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জকে স্পষ্ট করে তুলছে। একদিকে বিএনপি আইনি ও পদ্ধতিগত বৈধতার ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াত সংস্কারের বিপ্লবী ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে অনড়। বিকেলের দিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও, সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে এই অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রবল কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত তাদের বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আইনি ও সাংবিধানিক অস্পষ্টতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব থাকায় বিএনপির সংসদ সদস্যরা এখনই এই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিএনপি সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁরা নির্বাচিত হননি। তাঁর মতে, বিদ্যমান সংবিধানে এই পরিষদকে এখনো ধারণ বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সদ্য সমাপ্ত গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও, সেটি কার্যকর করার আগে সংবিধানে যথাযথ সংশোধনীর প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য সাদা রঙের নির্ধারিত ফরম থাকলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের জন্য নীল রঙের কোনো নির্দিষ্ট ফরম বা আইনি বিধান এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে যথাযথ সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি হওয়ার আগে এই শপথ গ্রহণ অর্থহীন বলে তিনি মনে করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তটি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি মনে করে, আগে এই পরিষদকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং কে এই পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন—সে বিষয়েও স্বচ্ছ আইনি নির্দেশনা থাকতে হবে। জাতীয় সংসদে বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হওয়ার পরেই কেবল এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। দলটির এই অবস্থানের ফলে আজ সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিএনপির সংসদ সদস্যরা কেবল আইনপ্রণেতা হিসেবেই শপথ বাক্য পাঠ করেন।

বিএনপির এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সমালোচনা করে বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার গুরুত্ব কমে যায়। তবে বিএনপি তাদের অবস্থানে অনড় থেকে সংসদীয় সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। এদিকে, শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারও সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়েছেন। আজকের দিনেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের অভিষেকের কথা রয়েছে, যার প্রাক্কালে বিএনপির এই অনড় সাংবিধানিক অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যেও সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হলো।


নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাক্ষী হতে এবং নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ আমন্ত্রণে তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নতুন মন্ত্রিসভার রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তাঁর এই সফর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে কেবল মালদ্বীপ নয়, বরং ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ঢাকায় পৌঁছেছেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটছে, তাকে স্বাগত জানাতেই বিশ্বনেতারা আজ ঢাকায় সমবেত হচ্ছেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতিকে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো সমর্থনের একটি বিশেষ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সফরের মাধ্যমে আগামীতে ঢাকা ও মালে-র মধ্যে বাণিজ্য ও পর্যটনসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


banner close