সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

পদত্যাগ করেছেন প্রধান বিচারপতি

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০ আগস্ট, ২০২৪ ১৫:৪১

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আইন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ শনিবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান। এর আগে আজ দুপুরে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যে পদত্যাগ করব।

সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্যদের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন। পরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন।

এদিকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতিও। আজকের মধ্যে তারা সবাই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

পদত্যাগ করতে যাওয়া আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি হলেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। তবে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম পদত্যাগ করবেন না।

বিষয়:

নির্বাচিত

বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়াতে চান এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ সোমবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের এই নিবিড় মৈত্রীকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা জরুরি। বিশেষ করে ইতালিতে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারে তিনি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষক তৈরি এবং বিদেশ যেতে আগ্রহী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। বৈধ পথে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা এবং মানবপাচার রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, খুলনার সাথে ইতালির মিলান শহরের খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অপচয় রোধে একটি যৌথ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের স্থপতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের মতবিনিময়

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে আজ সকালে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।

তিনি মফস্বলভিত্তিক সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের ভবন সম্প্রসারণ, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দসহ সংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড গঠনের ব্যাপারেও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া পূরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি দু’দিনের সফরে গতকাল ঠাকুরগাঁও পৌঁছান।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ তহবিল’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে এটি ৫০ কোটি টাকার একটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। যারা প্রথাগত ব্যাংক ঋণের জটিলতায় পড়তে ভয় পান, তাঁদের সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা ব্যাংকে যেতে ভয় পায় তাদের ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থানে নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির জন্যই কর্মসংস্থান ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়।”

সরকারের অর্থনৈতিক ভাবনার নতুন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী ‘ক্রিয়েটিভ’ বা ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের সৃজনশীল মানুষদের কেবল ঋণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পণ্যের উপযুক্ত ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করে বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। সংগীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, সৃজনশীলতাকে পণ্য বা সেবা হিসেবে বাজারজাত (মনিটাইজ) করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার (NPL) ৪ শতাংশ থেকে ১ বা ২ শতাংশে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেন। বর্তমানে ব্যাংকটি মুনাফায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী ভাতা দিচ্ছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার।

এর আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তাদের এ অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সহনশীলতার রাজনীতির দিকে দেশকে নিয়ে যেতে হবে : রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশ ও জাতির অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন পুনরায় অপশক্তির হাতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক হানাহানি ও প্রতিশোধের রাজনীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, “হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে পুরো দেশে সহনশীলতার রাজনীতির ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।” তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে রাজনৈতিক সহনশীলতার কোনো বিকল্প নেই।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের দিন। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।” উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত এই জনপদে উচ্চশিক্ষার প্রসারে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বড় ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। দুই দিনের এই সফরের প্রথম দিনে তিনি সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার গ্রহণ এবং তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। রাষ্ট্রপতির এই আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে এবং শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


নির্বাচিত

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৮
অনলাইন ডেস্ক

ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হওয়ার পথে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই মাইলফলক স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত এই জনপদে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ঠাকুরগাঁও ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক সরকারি সফর। দুই দিনের এই সফরের দ্বিতীয় দিনটি তিনি উৎসর্গ করেন এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে। এর আগে গতকাল রবিবার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে গিয়ে রাষ্ট্রীয় ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ করেন। এরপর মা-বাবার কবর জিয়ারত ও স্থানীয় একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি।

নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের বিষয়ে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, জেলায় মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের পাশাপাশি বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উচিত নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা। পাশাপাশি তিনি সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে হানাহানি পরিহার করে সমঝোতার পথে চলার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো ঠাকুরগাঁও জেলা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


নির্বাচিত

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, ইসির বিধিমালা জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।

ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।

নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না।

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে দেশের মানচিত্র

# পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মায় বিলীন ১,৫৮৫ বর্গকিলোমিটার জমি # স্থায়ীভাবে হারিয়েছে ১,১৫৩ বর্গকিলোমিটার # সবচেয়ে বেশি ভাঙন যমুনায় # জমি হারানোর সঙ্গে হারাচ্ছে জীবিকা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নদীভাঙন এখন শুধু নদীতীরের মানুষের সমস্যা নয়। এর প্রভাব পড়ছে ভূমি, কৃষি, বসতি, জীবিকা ও নগরজীবনে। গত পাঁচ দশকে দেশের তিন প্রধান নদী—যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ বর্গকিলোমিটার জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আয়তনের হিসাবে এটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত এলাকার পাঁচ গুণেরও বেশি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস—সিইজিআইএস স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এই হিসাব দিয়েছে। তবে ভাঙনে হারানো সব জমি স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায়নি। একই সময়ে প্রায় ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার জমি নতুন চর হিসেবে জেগে উঠেছে। ফলে স্থায়ীভাবে হারানো জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৫৩ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো ঢাকা শহরের প্রায় চার গুণ।

সবচেয়ে বেশি ভাঙন যমুনায়: ১৯৭৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন নদীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি ভেঙেছে যমুনা। এ সময়ে নদীটি প্রায় ৯৪২ দশমিক ২০ বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন করেছে। তিন নদীর মোট ভাঙনের প্রায় ৬০ শতাংশই যমুনার।

একই সময়ে গঙ্গায় প্রায় ৩০২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার এবং পদ্মায় ৩৩৮ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার জমি নদীগর্ভে গেছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে নদীভাঙনের হার কমেছে। ১৯৮০-এর দশকে যমুনায় বছরে গড়ে প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার জমি ভাঙত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে প্রায় ১৫ বর্গকিলোমিটারে নেমেছে। পদ্মায় ১৯৯০-এর দশকে বছরে গড়ে প্রায় ২৩ বর্গকিলোমিটার ভাঙন হলেও গত এক দশকে তা ১০ বর্গকিলোমিটারের নিচে নেমেছে।

১৯৯৫ সালে যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গায় সম্মিলিত ভাঙনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে যমুনায় ৪৭, পদ্মায় ৩৬ এবং গঙ্গায় ১২ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙেছিল।

২০২৫ সালে তিন নদীর সম্মিলিত ভাঙন কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটারে। এর মধ্যে গঙ্গায় ৫ দশমিক ৯৩, যমুনায় ৩ দশমিক ৪৮ এবং পদ্মায় শূন্য দশমিক ৯৩ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙেছে।

জমি হারানোর সঙ্গে হারাচ্ছে জীবিকা: নদীভাঙনে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো। জমি হারানোর অর্থ তাদের জন্য শুধু বসতভিটা হারানো নয়; একই সঙ্গে হারাচ্ছে কৃষিকাজ, আয় ও পরিবারের দীর্ঘদিনের জীবিকার ভিত্তি।

ভাঙনের পর অনেক পরিবার প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানে দীর্ঘমেয়াদে কাজের সুযোগ না থাকায় একপর্যায়ে তাদের শহরমুখী হতে হয়।

সিইজিআইএসের হিসাবে, প্রতি এক বর্গকিলোমিটার নদীভাঙনে প্রায় এক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। তবে নদীভাঙনে বাংলাদেশে মোট কত মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব নেই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য ২০১৯ সালের। ওই বছর নয়টি জেলায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ২৪ হাজার ৩২৮টি পরিবার তালিকাভুক্ত হয়েছিল। ওই বছর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৩৬৬ কোটি টাকা। তবে দেশের সব নদী ও সব জেলা এই হিসাবের আওতায় ছিল না।

নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আসে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা না থাকায় তাদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে যুক্ত হয়। কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, কেউ গৃহকর্মী, আবার কেউ বাজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ঢাকার পল্লবীর ভোলার বস্তিতে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তাদের বেশির ভাগই ভোলা জেলার নদীভাঙন ও বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে ঢাকায় এসেছেন।

মিরপুর-১২, মোল্লা বস্তি ও দুয়ারীপাড়াসহ ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের বসতি বেশি দেখা যায়। ফলে এসব এলাকায় অনানুষ্ঠানিক বসতি ও দারিদ্র্যের চাপও বাড়ছে।

নদীভাঙন তাই শুধু গ্রামীণ জনপদের সমস্যা হয়ে থাকছে না। এর প্রভাব রাজধানীর আবাসন, কর্মসংস্থান ও নগর দারিদ্র্যের ওপরও পড়ছে।

ইব্রাহিমের তিন একর জমি এখন নদীতে: জামালপুরের ইসলামপুরের চরগিলাবাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার তিন একরের বেশি জমি ছিল। সেখানে আখ, বাদাম ও ধান চাষ করতেন। যমুনার ভাঙনে একসময় তার জমি ও ঘর দুটোই নদীতে চলে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবার নিয়ে গাইবান্ধায় মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে খেতমজুরি ছাড়া অন্য কাজের সুযোগ ছিল না। পরে ২০০৯ সালে ঢাকায় চলে আসেন।

এখন কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বাজারে জনমজুরের কাজ করেন। দিনে প্রায় এক হাজার টাকা আয় করেন। খাওয়া ও থাকার পেছনে খরচ হয় প্রায় ১৫০ টাকা।

তবু ঢাকাকে স্থায়ী ঠিকানা মনে করেন না ইব্রাহিম। যমুনায় তার জমি আবার জেগে উঠবে—এই আশায় রয়েছেন। পলি জমে জমি তৈরি হলে আবার জামালপুরে ফিরে যেতে চান তিনি।

চর জাগে, আবার বিলীনও হয়: নদীভাঙনের পাশাপাশি নতুন চর জেগে ওঠে। গত পাঁচ দশকে ভেঙে যাওয়া জমির মধ্যে প্রায় ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার নতুন চর হিসেবে জেগেছে। কিন্তু এসব চর স্থায়ী নয়। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে নতুন ভূমি তৈরি হয়, অন্যদিকে পুরোনো চর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এ কারণে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নতুন চর সবসময় স্থায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করে না। অনেক পরিবারকে একাধিকবার বসতি বদলাতে হয়।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা এর বড় উদাহরণ।

যে গ্রামের তিন ঠিকানা: মাঝেরকান্দির প্রবীণ বাসিন্দা ওয়াহাব খানের জীবদ্দশায় গ্রামটি তিনবার স্থান পরিবর্তন করেছে।

প্রায় ৪০ বছর আগে নদীর অপর পাড়ে থাকা পুরোনো মাঝেরকান্দি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন।

এর প্রায় ২৫ বছর পর নদীর মাঝখানে একটি চর জেগে উঠলে তারা সেখানে আবার বসতি গড়েন। নতুন জায়গাটির নামও রাখা হয় মাঝেরকান্দি। কিন্তু সাত বছর আগে সেই চরও নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এবার বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমিতে আশ্রয় নেন। তবে সেখান থেকেও জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পেতে হয় তাদের।

বারবার জায়গা বদলের কারণে কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থায়ী জীবিকার সুযোগ হারিয়েছে পরিবারগুলো। একসময় নিজেদের জমি থেকে বছরে ২০০ মণ ধান পাওয়া পরিবার এখন দুই ছেলের দিনমজুরির আয়ের ওপর নির্ভর করছে।

কাঠুরিয়ায় বাড়ির উঠানেও নদী: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাঠুরিয়া গ্রামে পদ্মার ভাঙনও তীব্র। সেখানে এখনো প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবার নদীর তীরে বসবাস করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনসুরা বেগমের বাড়ির পেছনের সড়ক ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। কয়েক বছর আগেও তাদের বাড়ি থেকে পদ্মা নদী প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিল। গত বছর নদী তাদের জমির কাছে চলে আসে।

চলতি বছর মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নদী তার বাড়ির উঠানের অর্ধেক গিলে নেয়। পরে পুরোনো ঘর থেকে খুলে আনা ঢেউটিন দিয়ে নতুন করে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন তিনি ও তার স্বামী।

ভাঙন শুরু হলে স্থানীয় লোকজন এসে ঘর খুলে জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে সাহায্য করেন।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৪০ জন শ্রমিক নদীতীরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছেন। এতে মনসুরার বাড়ির উঠানের অবশিষ্ট অংশ আপাতত রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তবে পাশের মাঝেরকান্দি গ্রামের মানুষ এতটা ভাগ্যবান হননি। পুরো গ্রামই নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।

সিইজিআইএস চলতি বছরও নদীভাঙনের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাবে, আরও ৯ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার জমি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাইবান্ধা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের ১১টি এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। এসব এলাকায় চারটি স্কুল, তিনটি মসজিদ, একটি ক্লিনিক ও কয়েকটি সড়কসহ মোট ৭৩টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ১০০ মিটারের কম এলাকার সম্ভাব্য ভাঙন সিইজিআইএসের পূর্বাভাসে ধরা হয় না। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের ভাঙনের আরও কিছু ঘটনা এই হিসাবের বাইরে থাকতে পারে।

নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। কোথাও এতে নদীতীর সাময়িকভাবে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। আবার কোথাও ভাঙনের গতি এত বেশি যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তীর রক্ষা করা যাচ্ছে না।

২০০৪ সাল থেকে সিইজিআইএস যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গার ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে। বর্ষার আগে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। এই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। তবে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সঙ্গে শুধু তীর রক্ষা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও জীবিকার বিষয়টিও যুক্ত।

নদীভাঙনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও বাংলাদেশের বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি সাতজন মানুষের একজন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। এর মধ্যে নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুতির হার হতে পারে মোট বাস্তুচ্যুতির প্রায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থাৎ নদীভাঙনকে শুধু নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতির বিষয় হিসেবে দেখলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ভূমি হারানো, কৃষি ও জীবিকার সংকট, বাস্তুচ্যুতি এবং শহরমুখী অভিবাসনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গায় দীর্ঘমেয়াদে ভাঙনের হার কমেছে। কিন্তু নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নতুন চর তৈরি এবং পুরোনো চর বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

একটি পরিবার নদীতে জমি হারানোর পর নতুন চর পেলে সেখানে আবার বসতি গড়তে পারে। কিন্তু সেই চর কতদিন টিকে থাকবে, তার নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে অনেক পরিবারকে বারবার নতুন করে ঘর তুলতে হয়, জমি খুঁজতে হয় এবং জীবিকা শুরু করতে হয়।

মাঝেরকান্দির মতো গ্রামের মানুষের অভিজ্ঞতা দেখায়, নদীভাঙনের ক্ষতি শুধু একটি মৌসুমের নয়। বছরের পর বছর ধরে একটি পরিবারকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে দিতে পারে এই ভাঙন। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মায় ১ হাজার ১৫৩ বর্গকিলোমিটার জমি স্থায়ীভাবে হারানোর হিসাব বাংলাদেশের নদীভাঙনের ব্যাপ্তি স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের শহরমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, এই সমস্যা এখন গ্রাম ও নদীতীর ছাড়িয়ে নগরজীবনেও প্রভাব ফেলছে। নদীভাঙনের হার কমানোর পাশাপাশি তাই প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নির্ভুল তথ্যভান্ডার, কার্যকর পুনর্বাসন, বিকল্প জীবিকার সুযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা। নইলে নদীর ভাঙনে শুধু জমির পরিমাণই কমবে না, বাড়তে থাকবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এবং শহরের ওপর তাদের নির্ভরশীলতাও।


নির্বাচিত

সাভারে বাড়ছে খুন

# তুচ্ছ ঘটনায় বিরোধে একের পর এক প্রাণহানি # সর্বশেষ পিটিয়ে হত্যা করা হলো এসবির এসআইকে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার অদূরে সাভার-আশুলিয়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক কলহ, ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ঘরের ভেতর মরদেহ মিলেছে, কোথাও সড়কে বা নির্জন স্থানে পড়ে ছিল লাশ। কিছু ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার হলেও বেশ কিছু ঘটনায় হত্যার কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলেছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি আবারও সামনে এসেছে।

গত শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৫৮ বছর বয়সী আলতাফ হোসেন ঢাকার মালিবাগে এসবির কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় একটি বিরোধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। একই ঘটনায় তার ছেলে আরিফুল ইসলামও আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আলতাফকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সূত্রপাত একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে গাড়ি রাখা ও একজন অটোরিকশাচালককে মারধরকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। আলতাফ হোসেন বিষয়টি থামাতে এগিয়ে গেলে তার সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা আলতাফের পিছু নিয়ে তার কারখানার দিকে যায়। সেখানে তার ওপর আবার হামলা চালানো হয়। ছেলে আরিফুল ইসলাম বাবাকে রক্ষা করতে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আলতাফের মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

ঘটনার পর আমিনবাজার এলাকা থেকে জহিরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মামলা করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হামলার সূত্রপাত, দ্বিতীয় দফায় কারা হামলা চালায়, ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিল এবং প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাভার-আশুলিয়ায় চলতি বছরের আগের ঘটনাগুলোতেও হত্যার নানা ধরন সামনে এসেছে। জানুয়ারিতে সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকা মশিউর রহমান ওরফে সম্রাটের বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জন নিহত হন। পরে সম্রাট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মে মাসে আশুলিয়ায় একই পরিবারের দুই ভাইকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এর আগে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে।

জুন-জুলাইয়েও আশুলিয়া ও সাভারে হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনা সংবাদে আসে। জুলাইয়ে পিবিআই একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আগস্টে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা ও তদন্তের খবর প্রকাশিত হয়।

আগস্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার। পরে পিবিআই তদন্ত করে ওই ঘটনায় আসামি শনাক্তের কথা জানায়।

তদন্তকারীদের জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য আলামত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সাভার-আশুলিয়ায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন ও কারণ এক নয়। কোথাও পারিবারিক বিরোধ, কোথাও অর্থনৈতিক লেনদেন, কোথাও মাদক ও ছিনতাই, আবার কোথাও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের বক্তব্য অনুযায়ী, আমিনবাজারের সর্বশেষ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে বিরোধ মেটাতে গিয়ে এসআই আলতাফ ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, আলতাফ হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা ওসি সোলেমান গাজী জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তারা ছায়া তদন্তে কাজ শুরু করেছেন।

আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায়ও পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিহতদের স্বজন ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সূত্র খোঁজা হচ্ছে।

সাভার-আশুলিয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের বসবাস, দ্রুত নগরায়ণ, আবাসিক এলাকার বিস্তার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগমন এ এলাকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় রাতের বেলায় পর্যাপ্ত টহল ও নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ পায়।

বিশেষ করে আমিনবাজার, বড়দেশি, মদিনা হাউজিং, জামগড়া, বাইপাইল ও আশপাশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় জনসংখ্যা বাড়লেও সব এলাকায় সমানভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অপরাধের পর দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে আগাম গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।


নির্বাচিত

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের সম্পদ যাচাই করবে দুদক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য দুজনের সম্পদ যাচাই ও অনুসন্ধানের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে সংস্থাটি।

দুদক জানিয়েছে, তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকের সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, মিরপুর ডিওএইচএসের ঠিকানায় বসবাসকারী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য কমিশন অনুসন্ধান কর্মকর্তা এবং তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিধি অনুযায়ী যাচাই ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেন এক আইনজীবী। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে জেনারেল আজিজ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনা এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে আলিশান বাংলো নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাংলো নির্মাণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

এছাড়া মিরপুর ডিওএইচএসে বাড়ি এবং ঢাকার নিকুঞ্জ-১-এর ৬ নম্বর সড়কে ‘আজিজ রেসিডেন্স’ নামে একটি বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দুই ভাইয়ের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি কেনার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ২০২১ সালের ২৩ জুন সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরে যান। অবসরের প্রায় তিন বছর পর, ২০২৪ সালের মে মাসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।


নির্বাচিত

র‍্যাবের বদলে ‌‘এসআরবি’ পুরনো প্রতিষ্ঠানের খোলস বদলানোর শামিল: টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে সংসদে উত্থাপিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’- এর মাধ্যমে বাস্তবে নতুন নামে অধিকতর ক্ষমতায়িত ও কার্যত জবাবদিহিহীন র‍্যাবের আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে। এ অভিযোগ এনে বিলটির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিলটিতে ‘এসআরবি’কে ব্যাপক ও অস্পষ্ট ক্ষমতা প্রদান, অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অনুপস্থিতি, সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ, স্বার্থের দ্বন্দ্বযুক্ত অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, র‍্যাবের জনবলকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের ঝুঁকি এবং প্রেষণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বহাল থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বহু প্রতীক্ষিত এবং এটিকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয় না। র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের যে গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন বাহিনীর কাঠামো, জনবল, ক্ষমতা, বলপ্রয়োগের বিধান এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যথায় র‍্যাবের বদলে ‌‘এসআরবি’ নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির একটি বাহিনী গড়ে উঠলে তা হবে কেবলই পুরনো প্রতিষ্ঠানের খোলস বদলানোর শামিল। কেবল একটি ‘কসমেটিক মেকওভার’ এর মাধ্যমে দেশের নাগরিক বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

বিলে একাধিক ধারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর বাইরে সশস্ত্র বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে ‘এসআরবি’তে অন্তর্ভুক্তির পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। কারণ এই বিধান অভ্যন্তরীণ পুলিশিংয়ে সামরিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি জিইয়ে রাখবে যা প্রকারান্তে প্রতিপক্ষকে হত‍্যাসহ নির্মূল করতে দীক্ষা দেয়। এর পাশাপাশি, র‍্যাবের জনবল কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া ঢালাওভাবে ‘এসআরবি’তে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর মানদণ্ড অনুযায়ী, অতীতে র‍্যাবে দায়িত্ব পালনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন বা গুমের মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা জড়িত কোনো সদস্য যেন নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে, সেজন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।

খসড়ায় বাহিনীটির ওপর অবারিত ক্ষমতা অর্পণ ও বিচারিক সুরক্ষার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিলে এই বিশেষায়িত ইউনিটকে গোয়েন্দা নজরদারি থেকে শুরু করে অভিযান, তল্লাশি ও সাধারণ তদন্তের মতো বহুমুখী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এরপরও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা’ বা ‘সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব’ -এর মতো অস্পষ্ট শব্দবন্ধের উপস্থিতি রাজনৈতিক উদ্দেশে ভিন্নমত দমন ও বলপ্রয়োগের সুযোগ ও অতীতের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। একইভাবে বিলটিতে কেবল সন্দেহের বশে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তার এবং বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ২২ ধারায় প্রস্তাবিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ সুস্পষ্টভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্বে দুষ্ট। কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাদেরই সহকর্মীদের দিয়ে তদন্ত করানোর ব্যবস্থা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এই অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পরিবর্তে সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে পুলিশ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত, মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত এবং দলীয় ও নির্বাহী বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রভাবমুক্ত তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার আইনি সুরক্ষার বিধান অন্তর্ভুক্তির দাবি রাখছি।’

টিআইবি মনে করে, র‍্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ্ব সদস্য যাচাই প্রক্রিয়া, বিচারিক সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত না হলে র‍্যাব বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। র‍্যাবের বিলুপ্তি শুধু একটি বাহিনীর নাম ও খোলস পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন, নাগরিকের অধিকার এবং কার্যকর জবাবদিহির ভিত্তিতে একটি নতুন আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়- এটাই টিআইবির প্রত্যাশা।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ধারা-ওয়ারি বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত পলিসি ব্রিফ টিআইবির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে বিলটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।


নির্বাচিত

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের

# ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ # ১৫০ শয্যায় উন্নীত হবে উপজেলা হাসপাতাল # বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায়ও সম্প্রসারণ #বিনামূল্যে রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজি ল্যাব # অ্যাম্বুলেন্স সেবায়ও পরিবর্তন # ডিজিটাল হবে স্বাস্থ্যসেবা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট দূর করা, রোগ নির্ণয়ের সুবিধা সম্প্রসারণ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশের সীমা অতিক্রম করেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু নতুন চিকিৎসক নিয়োগ নয়, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বিদ্যমান ৩০ বা ৫০ শয্যা থেকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ থেকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে নতুন ভবন, অতিরিক্ত ওয়ার্ড, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত করা হবে।

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম বড় সমস্যা চিকিৎসক ও জনবল সংকট। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ থেকে আটজন করে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যা এখনও অপ্রতুল।

এ কারণে আরও ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৯০০ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্স, টেকনিশিয়ান, মেডিকেল সহকারীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতিও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন প্রায় দেড় লাখ। ফলে পর্যায়ক্রমে আরও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ স্বাস্থ্য কিটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং অন্যান্য সাধারণ পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। এর ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের পরিকল্পনায় উপজেলা হাসপাতালগুলোর সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে যাতে সামান্য চিকিৎসার জন্য জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি উপজেলার জমি, বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন এবং সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ‘নিড অ্যাসেসমেন্ট’ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে হাসপাতালের জন্য চার ধরনের নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে শুধু হাসপাতালের ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হবে না—চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকারের পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে একই কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার বড় দুর্বলতা রোগ নির্ণয়ের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব। অনেক উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের জেলা শহর কিংবা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি দরিদ্র ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ চিকিৎসা থেকে পিছিয়ে পড়েন। এই সমস্যা কমাতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাধারণ রোগ নির্ণয়ের অধিকাংশ পরীক্ষা যাতে স্থানীয় হাসপাতালেই করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, হাসপাতাল শুধু ভবননির্ভর হলে হবে না। কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। তাই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রোগ নির্ণয় সুবিধা সম্প্রসারণে বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেগুলো অকেজো, পুরোনো অথবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা যায় না।

এই পরিস্থিতি বদলাতে ভেঙে পড়া অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনর্গঠনে আলাদা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে একটি জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে দ্রুত রোগীকে প্রয়োজনীয় হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ই-হেলথ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইউনিক স্বাস্থ্য আইডি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এই আইডির মাধ্যমে একজন রোগী দেশের যে হাসপাতালেই চিকিৎসা নিন না কেন, তার পূর্ববর্তী চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য দেখার সুযোগ তৈরি হবে। এতে একই পরীক্ষা বারবার করার প্রবণতা কমবে এবং চিকিৎসক রোগীর আগের চিকিৎসার ইতিহাস দ্রুত জানতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে খুলনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলায় ই-হেলথের পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রোটোটাইপ প্রস্তুতের আশা করা হচ্ছে। এরপর এক থেকে দেড় বছর পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ এবং বহির্বিভাগের টিকিট অনলাইনে বুকিংয়ের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা কমার পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবার জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নতুন ভবন ও শয্যা বাড়ানো এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নতুন একাডেমিক ও গবেষণা বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে সাভারে প্রতিষ্ঠিত নতুন হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনায় শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা কার্যকর হলে জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার এই বরাদ্দকে পাঁচ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য সংস্কার কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, নতুন বাজেটকে শুধু অর্থের পরিমাণ হিসেবে দেখলে হবে না; সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ মনে করেন, নতুন অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান হাসপাতালের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করাই জরুরি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে নষ্ট ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি, রিএজেন্ট সংকট, জনবল ঘাটতি, ওষুধ সরবরাহের দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনায় নমনীয় অর্থের অভাব এখনও স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা।

তার মতে, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা গেলে রোগীদের বেসরকারি খাতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার চাপ কমবে এবং সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে।

স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাখা ২৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি অংশ দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল গঠনেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, জরুরি রোগের প্রাদুর্ভাব, ওষুধ বা স্যালাইনের সংকট কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্র নষ্ট হলে এ ধরনের তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলা। তবে এই পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে শুধু বাজেট ও অবকাঠামোর ওপর নয়; সময়মতো চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও।


নির্বাচিত

হজের খরচ কমায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন ৪৩৪১ হাজি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। সৌদি আরবে বাড়িভাড়া ও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ নির্ধারিত খরচের চেয়ে কম হওয়ায় মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এসব তথ্য জানান। এ সময় ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। বাকি হাজিদের অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম খরচে বাসা ভাড়া নেওয়া সম্ভব হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জেও নির্ধারিত অর্থের তুলনায় কম ব্যয় হয়েছে। এসব খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ হাজিদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন এই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে ২৩ জন হাজির ক্ষেত্রে রিফান্ড প্রযোজ্য হবে না। তাদের চিকিৎসা ব্যয় স্বাস্থ্যবিমার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জানান, হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সরকার বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আগের বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল।

আগামী ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে হজযাত্রীদের সামগ্রিক ব্যয় আরও কমবে বলে আশা করছে সরকার।

হজের রিফান্ডের অর্থ পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্র যাতে হাজিদের কাছ থেকে গোপন তথ্য নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিফান্ডের অর্থ পেতে কোনো হাজির ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন বা ওটিপি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব তথ্য চেয়ে কেউ ফোন করলে তা প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের ফোন বা বার্তায় সাড়া না দেওয়ার জন্য হাজিদের সতর্ক করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close