মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

সারা দেশে ৫৯৯ থানার কার্যক্রম চালু

ফাইল ছবি
আপডেটেড
১১ আগস্ট, ২০২৪ ১৬:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০২৪ ১৬:৫৫

সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৫৯৯টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ রোববার (১১ আগস্ট) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, সারা দেশে ৬৩৯টি থানার মধ্যে ৫৯৯টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, ১১০টি মেট্রোপলিটন থানার মধ্যে ৯৭টি এবং জেলার ৫২৯টি থানার মধ্যে ৫০২টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে আজ রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পুলিশ ফোর্সের এখনও যারা কর্মস্থলে জয়েন করেননি তাদের জন্য জয়েন হওয়ার সর্বশেষ তারিখ হচ্ছে এই বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত। বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি আপনারা (পুলিশ) ফোর্সে জয়েন না করেন, তাহলে আমরা ধরে নেবো আপনারা চাকরি করতে ইচ্ছুক নন। এ বিষয়ে আমি পুলিশের আইজিপি, র‍্যাবের ডিজি এবং ডিএমপির কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই বৃহস্পতিবারের মধ্যে যে যার স্থানে চলে যাবেন।

তিনি বলেন, আপনারা (পুলিশ) বৃহস্পতিবার থেকে ডিউটিতে থাকবেন। অহেতুক কারো গায়ে কেউ হাত দেবেন না। আমরা বিচারের প্রক্রিয়াটা করবো। আর বিচার বিভাগ বিচার করবে। যারা দোষী হবেন বড় বা ছোট দোষী হলেই তাদের পানিশমেন্ট দেওয়া হবে। ঢালাওভাবে কাউকে দোষারোপ করা যাবে না। আমি জনগণকে বলতে চাই, আপনারা পুলিশের গায়ে হাত উঠাবেন না। আপনারা নিজেরাই সাফার করছেন। আমার কাছে রাতে রাতে ফোন আসে। বলে অমুক জায়গায় ডাকাতি হয়েছে। আমি বলি আল্লাহ আল্লাহ করো। যদি ডাকাতি হয় তাহলে পুলিশ না থাকলে কি করবে?

তিনি আরও বলেন, আমি এইমাত্র পুলিশের আহতদের দেখে এসেছি। আমাদের যতদূর করা দরকার করবো কিন্তু আপনারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে জয়েন করেন। এটা প্রথম প্রায়োরিটি। একটু আগে দেখলাম আনসারের একটা অংশ রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। তাদের কিন্তু দাবি দাওয়া আছে। সবার দাবি দাওয়া আছে। আমারও দাবি দাওয়া আছে। আমার দাবি দাওয়া হচ্ছে আপনারা ফিরে যান আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে যতটুকু করা দরকার ইমিডিয়েটলি করবো। এছাড়া অন্য মন্ত্রণালয়ের যদি ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য কিছু থাকে তাহলে আমরা আলোচনা করে করবো। আপনারা দয়া করে রাস্তাঘাট ছেড়ে দেন। রাস্তা থেকে চলে যান। অন্যান্য যত ফোর্স বা বাহিনী আছে আমি তাদের সবার সঙ্গে কথা বলবো। আপনারা আমার পরিচিত। আপনাদের কমান্ডাররা আমার পরিচিত। আমি কোনো রাজনৈতিক লোক না। আমি যা বলবো তাই করবো।

বিষয়:

নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর পূজার উপহার নিয়ে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আজ (সোমবার) দয়াগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব উপহার তুলে দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম।

​অনুষ্ঠানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার এবং একই সাথে দুটি সম্প্রদায়ের পূজা উদযাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ওসমানী উদ্যানে 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' উদ্বোধন অনুষ্ঠানকালে দুর্গাপূজার বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই আমরা তড়িৎ দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে উপস্থিত হয়েছি।”

​প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তাঁরা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাঁদের অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিকভাবে বা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না। বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনো জাতিগত বা সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করেন না; শহীদ প্রেসিডেন্টের 'সকল নাগরিকের সমান অধিকার' আদর্শেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। অতীতে কোনো মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসে সরাসরি কথা বলেননি, যা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।”

​বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্যতা সম্পন্ন ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োগের ঘোষণা দেন। এছাড়া, ডিএসসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। সরকার ও সিটি কর্পোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক সুবিধা ও উৎসবের সুযোগ সুনিশ্চিত করে তাঁদের সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

​সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি স্থানে ২টি এবং অপর স্থানে ১৭টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান আবাসনটির জরাজীর্ণ অবস্থা দূর করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

​ডিএসসিসি প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, স্বাস্থ্য বিমা এবং কর্মকালীন সময়ে দুর্ঘটনাবশত কোনো কর্মী নিহত হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং একটি মন্দির নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, সাবেক কাউন্সিলর হাজী মকবুল ইসলাম খান টিপু সহ তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আশ্বাস মন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং এর পর থেকে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষ্যে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে (বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে) যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, চলমান দুর্গাপূজায় মণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সকলকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা হয়; যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস উড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর নিকট সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারসমূহের তালিকা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান। মন্ত্রী বলেন, তালিকা পেলে সেটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষু-সহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কিশোরীদের সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: চীফ হুইপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আজ, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘প্রজননক্ষমতা ও কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও উপবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যেন শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কিশোরীদের সুস্থ বিকাশ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করে তুলতে হবে।

এ সময় তিনি পাথরঘাটায় মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ‘Strengthening Parliament’s Capacity in Integration of Population and Development Issues (SPCPD)’ প্রকল্প, ইউএনএফপিএ (UNFPA) এবং পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিএন্ডআইটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক আ ন ম খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলছে। এটা সম্ভব হয়েছে পূজা কমিটির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে, তারা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে।

আজ ১৭ অক্টোবর ২০২৬, রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন।

তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে গুজব থেকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, দেবী দুর্গার মতোই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াই করে যেতে হবে।

পুলিশ প্রধান বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারো নিরাপত্তা ছিল না, সবাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি বহু রকমের অঘটন ঘটেছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ সকল পূজামণ্ডপ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফলে নিরাপদে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে যোগ দিলেন আতাউর রহমান খান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন মো. আতাউর রহমান খান। এর আগে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত ২৫ মে সরকারের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৮ তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান খান ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, শিল্প ও জ্বালানি বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার সেবার উন্নয়নে কৌশলগত নেতৃত্ব প্রদান করেন।

কর্মজীবনে তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তিনি সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আলোচনা ও সমঝোতার কৌশল, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড (আইএফআরএস), বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়ন, ডিজিটাল যুগে নীতিনির্ধারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এসব প্রশিক্ষণ তার পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষাজীবনে মো. আতাউর রহমান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ (জিআরআইপিএস) থেকে যৌথ জাপান-এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মাস্টার অব পাবলিক পলিসি (এমপিপি) ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের লিভারপুল হোপ ইউনিভার্সিটি থেকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

দেশের নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, সমুদ্র ও নৌবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌপথের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে নবনিযুক্ত সচিব দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

নগর ভবন পরিদর্শন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় ‘নগর ভবন’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি সংস্থাটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

এর আগে সোমবার বেলা ১১টায় ওসমানী উদ্যানের আধুনিকীকরণ কার্যক্রম ও নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন শেষে তিনি নগর ভবনে উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছালে ভবনের উদ্বোধনী ফলকের সম্মুখভাগে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতায় স্বাগত জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই নগর ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের দুর্যোগকালীন জরুরি পরিচালন কেন্দ্র ‘শীতলক্ষ্যা হল’-এ ডিএসসিসির চলমান বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের ওপর প্রস্তুতকৃত তথ্যচিত্র ও উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নগর ভবন মিলনায়তনে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবর্তনের ইচ্ছা এবং চেষ্টাই আসল। ইতিবাচক চিন্তা ও মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে ঢাকা শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক পরিবেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব। নিজেদের সন্তান ও অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সিটি করপোরেশনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে শহর বদলাতে হয়তো কিছু সময় লাগবে, কিন্তু ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শহরকে সুন্দর রাখার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। নিজেদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে, কারণ নিজের পরিবর্তন দিয়েই সমাজ ও দেশ পরিবর্তনের সূচনা হয়।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহিদুল হাসান।


নির্বাচিত

গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ: রাষ্ট্রপতি

গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক হলে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে কাজ করলে তা জনগণের সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ।

তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক হলে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে কাজ করলে তা জনগণের সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে।

আজ দুপুরে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনের ভূমিকা পালন করতে হবে। সব কর্মী ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে সোচ্চার হতে হবে।

এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার বিচার নিশ্চিতসহ মূল সমস্যাগুলো সমাধানে পেশাদার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ।

সাক্ষাৎকালে ডিআরইউ প্রতিনিধিদল সংগঠনের পরিচিতি ও সদস্যদের জন্য ডিআরইউ পরিচালিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

তারা সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি এসময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলনকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন এবং সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি ডিআরইউর উন্নয়নে সহায়তার বিষয়ে সদস্যদের আশ্বস্ত করেন এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

স্বৈরাচারের ফেরার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি।

তিনি বলেন, 'বিরোধী দল অবশ্যই বিরোধিতা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।'

আজ রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলের দায়িত্ব পেয়েছে। সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব হচ্ছে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত করা।

তিনি বলেন, 'সরকার চেষ্টা করছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে। জনগণের ভোট নিয়ে আপনারা যেমন বিরোধী দলের আসনে বসেছেন, আমরাও জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। সরকারি দল মানেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, আর বিরোধী দলই শুধু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে-এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।'

বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানাতে সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব থাকলেও জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল তাঁদের।'

তিনি বলেন, 'জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যাঁরা রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়েছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে সবারই এগিয়ে আসা উচিত।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার অর্থ হচ্ছে, সেই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের পাশে থাকা এবং তাঁদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সবাই সব বিষয়ে একমত না হতে পারাটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তবে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, চিকিৎসাসেবা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে আমাদের একমত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, 'সংবিধান সংশোধন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান ও বক্তব্য থাকতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে।'

তিনি বলেন, 'সংসদে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি ও মতামত তুলে ধরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে পারেন।'

ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের প্রয়োজন ও দেশের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। তবে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।'

তিনি বলেন, 'উন্নয়নকাজের পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে স্থাপত্য ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।'

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতার অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ প্রয়োজন।'

তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে, যাতে রোগীরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, 'যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারি নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের নিজেদের আচরণেও পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।'

পরিবেশ দূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা মানুষের রোগব্যাধি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি ওসমানী উদ্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দর্শনার্থীদের উদ্যান ও স্মৃতিস্তম্ভের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও ওসমানী উদ্যান জনগণের ও রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তা যথাযথভাবে পালনে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিল রয়েছে। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।'

তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি দেশের মানুষ যেন মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পায়, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং সবাই নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে-এ প্রত্যাশাও ছিল শহীদদের। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।'

বিএনপি সরকার জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে তিনি আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন এবং উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এর সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।

এসব ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটিতে সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল আলম বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তিও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: ভারতীয় হাইকমিশনার

সমাজে প্রকৃত সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হলে সব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা দরকার।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন যে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিবিড় সহাবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকার একটি প্রধান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন যে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বর্ণিল পরিবেশের মধ্য দিয়ে এবার বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে দেখা যাচ্ছে।

জীবনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে দুর্গাপূজার এই আনন্দযজ্ঞে সরাসরি অংশ নিতে পেরে তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির মেলবন্ধন খুঁজে পেয়েছেন বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন যে, সমাজে প্রকৃত সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হলে সব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা দরকার। তিনি নিজেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক হাইকমিশনার হিসেবে নয়, বরং পরিবারের একজন আপন সদস্য হিসেবেই পূজার এই অনাবিল আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করে ভক্তদের সঙ্গে পুস্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। বাংলাদেশের মাটিতে দুর্গাপূজার সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশেই সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

সংবিধান সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সুমহান চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই আমরা আগামীর বাংলাদেশ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী একটি আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী আনার চলমান প্রক্রিয়ায় প্রধান বিরোধী দল আশানুরূপভাবে সহযোগিতা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বা কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে চাইছে, যাকে অনেকে সামগ্রিক সংস্কার বলে অভিহিত করতে পারেন। বিরোধী দলগুলো যদি কেবল সংস্কার শব্দটি ব্যবহার করেই সন্তুষ্ট থাকে, তবে তাতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো তারা বিরোধী দল হিসেবে বর্তমান সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে না।

দীর্ঘ এবং নাথানা সুদীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই জুলাই আমাদের জাতীয় জীবনে একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকে। জুলাইয়ের এই অভ্যুত্থান একদিনে বা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়নি, বরং ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে চলা অবিরাম ও ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল হিসেবেই বিগত চব্বিশের পহেলা আগস্ট ছাত্র-জনতার অদম্য গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল।

রক্তক্ষয়ী এই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস দেশের জাতীয় জীবনে চিরকাল জাগরূক ও প্রদীপ্ত হয়ে থাকবে এবং তা সবসময় আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, আমরা জুলাইকে আমাদের আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশক হিসেবে গণ্য করি। দেশের বহু প্রথিতযশা সাহিত্যিক, নাট্যকার ও সংস্কৃতিকর্মীকে তাদের বিভিন্ন নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এই জুলাইয়ের চেতনাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। কেবল নির্দিষ্ট কোনো জুলাই মাস আসলে বা শুধুমাত্র বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমেই এই চেতনাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, যতদিন পর্যন্ত শহীদদের রক্তের পবিত্র অঙ্গীকার, জাতীয় জীবনের সামগ্রিক প্রত্যাশা, জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ না হবে, ততদিন পর্যন্ত শহীদদের প্রকৃত মর্যাদা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য করা যাবে না।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, সরকার এই সংক্রান্ত আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এর ভেতরে কিছু অংশ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রকৃতির এবং বাকি অংশগুলো আইনগত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, আর এই আইনি ও বিধি-বিধান প্রণয়নের কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সুমহান চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই আমরা আগামীর বাংলাদেশ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী একটি আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। আর এই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা পরিকল্পনা আমাদের সুযোগ্য নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগেই জাতির সামনে ঘোষণা করেছেন এবং তা অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছেন। দেশের বীর শহীদদের সকল না বলা আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা মূলত সরকারের সেই সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনারই একটি অনিবার্য অংশ।


নির্বাচিত

জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন: আইনমন্ত্রী

এই রাষ্ট্রে বা আইনের চোখে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয়।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

মাদকবিরোধী আস্তানায় খোদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী কোনো কাজে কেউ জড়িত হলে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে এবং তিনি ইতিপূর্বেও তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি জোরালো ভাষায় এই মন্তব্যও করেন যে, এই রাষ্ট্রে বা আইনের চোখে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয়।

সোমবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সদ্য নির্মিত নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে আইনমন্ত্রী এই কথাগুলো বলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা বা অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, অতীতে যেভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকসমাজ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন, বর্তমান বিদ্যমান নিয়মেও তারা ঠিক একইভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এই মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো ধরনের বাধা নেই এবং এ বিষয়ে বিকল্প কোনো কঠোর ব্যবস্থা বা আইন পরিবর্তন করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত কোনো সমাধান না আসা পর্যন্ত তারা নিয়মমাফিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে আইন সম্পূর্ণ আগের মতোই বহাল রয়েছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন অবলোকন করা যাবে। সরকারের আন্তরিক কাজের সুবাদেই মানুষ তার বাস্তব প্রমাণ পাবে এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

সারাদেশে নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বিভিন্ন সমালোচনা ও বিতর্কের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জবাব দিয়ে বলেন যে, সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নির্ধারিত নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পুরো নিয়োগ কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়নি।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান কঠোর সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, বিরোধী দলগুলোকে রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে কোনো না কোনো ইস্যু বা বিষয়কে সবসময় সামনে নিয়ে আসতে হয়। নিছক বিরোধিতার খাতিরেই তারা নানা বিষয়ে সরকারের ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করে এবং তাদের প্রধান কাজই হলো অন্ধভাবে সরকারের বিরোধিতা করা। রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সরকার যতই ভালো বা জনহিতকর কাজ করুক না কেন, তারা সবসময় তার বিরুদ্ধে কথা বলবে, যা বিরোধী দলের চিরাচরিত রাজনৈতিক বক্তব্য মাত্র এবং বর্তমান সরকার সেই ভিত্তিহীন কথায় বিশ্বাস করে না।

মন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার এসব সমালোচনায় কান দিয়ে নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না এবং যাদের সার বা অন্যান্য কৃষি উপকরণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই তাদের ন্যায্য ও প্রাপ্য অংশ সঠিকভাবে বুঝে পাচ্ছেন বলে সরকার পূর্ণ বিশ্বাস করে।

এর আগে সকালে মন্ত্রী ঝিনাইদহ জেলার দুশো পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। উক্ত হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করার বিষয়ে ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিষয়:

নির্বাচিত

জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী

স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মঞ্চে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি মূলত শহীদ পরিবারের প্রতি একধরনের অবজ্ঞার সামিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে তা দেশের সচেতন জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে এবং সেই রায়ের ফলেই বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় আর অন্য দল বিরোধী দলের আসনে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মঞ্চে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি মূলত শহীদ পরিবারের প্রতি একধরনের অবজ্ঞার সামিল।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে সদ্য নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত উদ্যান এবং এর প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার পর আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বর্তমান বিরোধী দল কেবল অন্ধভাবে বিরোধিতার খাতিরেই সরকারের বিরোধিতা করে যাচ্ছে বলে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে এবং তা হওয়া উচিত বাস্তবসম্মত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতারা কখনোই অন্তরে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে পারে না, আর সে কারণেই আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পরেও বিরোধীদলীয় নেতা এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, শাসক দলের সঙ্গে একই মঞ্চে আসন গ্রহণ করায় যদি তাদের কোনো ধরনের নীতিগত আপত্তি বা অনীহা থেকেই থাকে, তবে তারা তো চাইলে সরাসরি শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের সঙ্গেও একত্রে বসতে পারতেন। অথচ এই সাধারণ জনগণের ভোটদানের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের ফলেই আজ একদিকে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং অন্যদিকে তারাই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে স্থান পেয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে ভোটযুদ্ধের আগে বর্তমান বিরোধী দল ও তাদের প্রার্থীরা নিশ্চয়ই দেশের সাধারণ ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নিজেদের পক্ষে রায় চেয়েছিল, যেমনটি আমরাও গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত জনগণই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগামী পাঁচ বছর কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং সেই জনরায়ের মাধ্যমেই বিএনপিকে সরকারে বসানো হয়েছে এবং অপর দলকে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী এই বিশেষ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।


নির্বাচিত

জাপান-বাংলাদেশের চুক্তি সই, ১ এপ্রিল থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষ কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন সহযোগিতা স্মারক বা এমওসি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান শুরু হবে।

সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চুক্তি সই এবং কর্মী নিয়োগ চালুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এর আগে গত রোববার উভয় দেশের দীর্ঘ প্রায় এক বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের মধ্যে ‘এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক এই নতুন চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন।

বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের দীর্ঘ ইতিহাসেও এটি একটি অন্যতম যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির কপি উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

নির্ধারিত এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকেই জাপান বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর এবং এই মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত হবে, যার ফলে সামগ্রিক চুক্তির মেয়াদ দাঁড়াবে দীর্ঘ দশ বছর। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে জাপানে গমনকারী বাংলাদেশি কর্মীরা নজিরবিহীন পেশাগত সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা লাভ করবেন।

চুক্তির মূল সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন যে, এর মাধ্যমে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়া এই কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মীরা তুলনামূলক উচ্চ বেতন অর্জনের পাশাপাশি জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই চুক্তির আওতায় নিয়োজিত কর্মীরা স্থানীয় জাপানি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ সমতুল্য আইনি অধিকার ও সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারী ও পুরুষ কর্মীরা সমান সুযোগ লাভ করবেন। বিশেষ করে বিদেশি নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান জন্মদানের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাকরিচ্যুতি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করার সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থাৎ গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতি হওয়ার কারণ দেখিয়ে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পথ আরও অনেক বেশি প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close