জাতীয় শোক দিবসের ছুটি বাতিল হওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ খোলা থাকবে। আজ বুধবার (১৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
এর আগে, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বৈঠকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এদিকে, ১৫ আগস্ট ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৩ আগস্ট এক আদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ছুটি বাতিল করেছে। এ কারণে এদিন সব তফসিলি ব্যাংক স্বাভাবিক নিয়মে খোলা থাকবে।
এ ছাড়া ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ১৫ আগস্ট স্বাভাবিক নিয়মে অফিস খোলা ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।
ঢাকার আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাসচালক, হেলপার ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), হেলপার মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০) এবং চালকের পরিচিত মো. সুমন প্রামানিক (৩০)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী ও তার পরিচিত মো. রুবেল। পথিমধ্যে বাসের অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে চালক ইমরান হেলপার জনিকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন এবং জনি বাসটি দ্রুতগতিতে গাজীপুরের চন্দ্রার দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে রুবেলকে মারধর করে শ্রীপুর এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং বাসচালক ইমরানও সেখানে নেমে যান। এরপর রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
সংবাদ পাওয়ামাত্রই আশুলিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে নামে এবং রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি বাসের মাধ্যমে ব্যারিকেড দিয়ে সাভার পরিবহনের বাসটি গতিরোধ করে। সেখান থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি জনি ও সুমনকে আটক করা হয়। পরে গতকাল রোববার বিকেলে সাভারের বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত চালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের কয়েকটি দল অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং জনি ও সুমনকে আটক করে।’ তিনি আরও জানান, ‘পরে রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ওই নারী। মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকালই আদালতে পাঠানো হয়। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পরিপালনের অঙ্গীকারে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স ফিরিয়ে দিয়েছে সরকার। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মহসিন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কর্তৃপক্ষের করা আপিলের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় তিন শর্তে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হলো।
লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া প্রথম শর্তটি হলো, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস অর্ডিন্যান্স ১৯৮২-এর নির্দেশনা প্রতিপালন অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ডিউটি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুতি সম্পন্ন করতে হবে। এবং তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে একদিন থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে জনৈক হাবিবুর রহমান নামক এক অভিভাবক রমনা থানায় মামলা দায়ের করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে অবশ্য মৃত শিশুদের প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। তবে তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মেলায় সরকার তখন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, যা পুনরায় পরিদর্শনের পর বর্তমানে শর্তসাপেক্ষে শিথিল করা হলো।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়।" মন্ত্রী মনে করেন, পুঁজিপতিরা সবসময় তাদের জানমাল ও বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত আছে এমন স্থানেই লগ্নি করতে আগ্রহী হন।
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তিনি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে ন্যূনতম সংশয় থাকলে দেশি ও বিদেশি কোনো পক্ষই নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে না। এই সংকট নিরসনে সরকার সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও নাশকতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে এবং শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত না করার কঠোর বার্তা প্রদান করেছে।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিইআইজেডসহ দেশের সকল শিল্পাঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর বিশেষ নজরদারি বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সে বিষয়টি প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়াং, চীনা সড়ক ও সেতু করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন। অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
দেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৩০ জুলাইয়ের নির্ধারিত প্রতীকী ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা। তবে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা দাবিগুলো পূরণ করা না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার (২৭ জুলাই) বিজয়নগরে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
সংগঠনের নেতারা জানান, ২০১৫ সাল থেকে সিএনজি বিক্রির ওপর প্রতি ঘনমিটারে কমিশন মাত্র ৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ গত এক দশকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কয়েক দফা বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিক মজুরি, ব্যাংক ঋণের সুদ এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধিতে স্টেশন পরিচালনার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে মালিকপক্ষের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করা। অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ফারহান নূর আক্ষেপ করে বলেন, "সরকারের একাধিক পর্যালোচনায় এই দাবির যৌক্তিকতা উঠে আসলেও অদৃশ্য কারণে এর বাস্তবায়ন নেই। প্রয়োজনে ফিড গ্যাসের দাম কমিয়ে হলেও এই কমিশন সমন্বয়ের প্রস্তাব আমরা সরকারকে দিয়ে আসছি।"
সিএনজি ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রমাগত লোকসান গুনে বর্তমানে তাদের "দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে"। তবে সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সারাদেশে যে গ্যাস বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, সেই সংকটের সময় সরকারকে সহযোগিতা করতে তারা ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। তারা মনে করেন, এই মুহূর্তে স্টেশন বন্ধ রাখলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে। কিন্তু সংকটের এই মানবিক বিবেচনা যেন দুর্বলতা হিসেবে না দেখা হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন নেতারা।
আমিরুজ্জামান চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, “দাবি ও সমস্যাগুলোর যৌক্তিক ও ইতিবাচক সমাধান না হলে ২৩ আগস্ট থেকে সারা দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি বহাল থাকবে।” সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারি উৎসাহে দেশে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে পাঁচ শতাধিক সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ যানবাহনে এই সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে। বায়ুদূষণ রোধে এই খাতের বিশাল অবদান থাকলেও বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় এখন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো কটিয়াদীতে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই আয়োজনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, "দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন হয় বৃহত্তর ময়মনসিংহে। এ অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সম্ভাবনা তুলে ধরতেই কটিয়াদীকে জাতীয় আয়োজনের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে।" গত রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সভায় উল্লেখ করেন যে, ইতিপূর্বে মৎস্য খাতের শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদানের এই আসর রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী এবার খোদ উৎপাদনস্থলেই অনুষ্ঠানটি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যবেক্ষণ শেষে কটিয়াদীকে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে হয়। তাই জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত মৎস্য উদ্যোক্তা ও খামারিদের এ অঞ্চলের সম্ভাবনা ও সফলতা তুলে ধরতেই কিশোরগঞ্জকে এ আয়োজনের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে।” নির্বাচনের পর এটিই হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর এবং ঢাকার বাইরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের প্রথম বড় কোনো অনুষ্ঠান।
এই আয়োজনটিকে কিশোরগঞ্জের জন্য একটি অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, কিশোরগঞ্জের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন। জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।” তিনি পরিষ্কার করেন যে, অনুষ্ঠানস্থলের নির্বাচন কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় বরং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে করা হয়েছে। এই জাতীয় উদ্যোগকে সফল করতে তিনি প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। মৎস্য শিল্পের সম্প্রসারণ ও খামারিদের উৎসাহ প্রদানের এই বিশেষ আয়োজনকে ঘিরে সারা জেলায় ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সূচিতে কটিয়াদীর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ সদরে একটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যাতে নির্বিঘ্নে তাঁর সফর সম্পন্ন করতে পারেন এবং জাতীয় মৎস্য পক্ষের বার্তা সারাদেশে পৌঁছে দিতে পারেন, সেজন্য সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উদঘাটন করার দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মূলত কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চারজন পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বিচ্যুত হওয়ায় দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে প্রাণ হারান ইউসুফ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান, আবির হাওলাদার, আলী হোসেন এবং শাফিন আহমেদসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এই তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বৈরিতা ছিল। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা আদায়, ব্যবসা এবং একটি টিনশেড বাড়ির দখল কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত পরিণাম হিসেবে বাবুকে সরিয়ে দিতে বিশাল অংকের বিনিময়ে পেশাদার খুনিদের ভাড়া করা হয়। অতিরিক্ত কমিশনার জানান, “এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। যার পেছনে মূলত এলাকার ময়লা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল এবং ফুটপাত দখলের মতো বিষয়গুলো জড়িত ছিল।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, “সন্ত্রাসীদের কোনো নির্দিষ্ট দল নেই এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।” গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, হাফিজুর রহমান হাফিজই তাদের এই কাজের জন্য ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ জুন প্রথম দফায় হত্যার চেষ্টা চালানো হলেও পিস্তলে গুলি লোড করার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ২২ জুলাই পুনরায় ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় এসে মিরপুরের একটি হোটেলে অবস্থান নেয় এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ঘটনার রাতে হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের সামনে সন্দেহভাজনদের অবস্থান দেখে পরিচয় জানতে চাইলে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। তল্লাশি করার চেষ্টা করতেই একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফের বুকে গুলি চালায়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং পাশে থাকা সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশ জানিয়েছে, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তা আড়াল করা হচ্ছে না। এই হামলার পেছনে আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতির প্রভাব থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। মূল হোতা হাফিজকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রের উৎস সন্ধানে কাজ করছে গোয়েন্দারা। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে অপরাধীরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ডিবির অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে।
দেশে বর্তমানে উগ্রবাদী তৎপরতা নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক। সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সেজন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কেরানীগঞ্জ ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে সিটিটিসি প্রধান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাদের বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উগ্রবাদ দমনে সিটিটিসির সক্ষমতা ও তৎপরতা সম্পর্কে বলেন, "সবসময়ই আমরা অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আমাদের ডাটাবেজের মাধ্যমে উগ্রবাদ মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি এবং যখনই কোনো সংবাদ পাই, আমরা সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করি। আমরা এগুলো আয়ত্তে রাখছি আলাদা। এদের সর্বোচ্চ আমরা চেষ্টা করছি।" বর্তমান পরিস্থিতিতে উগ্রবাদীরা শক্তিশালী হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, "না, এ বিষয়ে আমরা এখনই বলার কোনো সুযোগ নেই। তবে আমরা বলব যে, দেশের মধ্যে আশঙ্কাজনক এরকম কোনো আমরা লক্ষণ দেখছি না।"
মতিঝিলে একটি ছাতার ভেতর থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাটি নিয়ে এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান যে, খবর পাওয়ামাত্রই বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এর পেছনের কুশীলব বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি ‘পাতা কমব্যাট’ মামলার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জানান, এই মামলায় ইতিমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ নজরদারি ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সিটিটিসি যেকোনো সম্ভাব্য উগ্রবাদী হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, "দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।"
সোমবার সকালে রংপুরের বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় দপ্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল বলে, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আর জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল কি না, সে বিষয়ে তাদের দলের নেতারাই বিবেচনা করবেন।"
উক্ত অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর তিনি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে আয়োজিত পল্লী মেলার সূচনা করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পরবর্তী সময়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিআরডিবি’র উপকারভোগীদের মাঝে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ করেন তিনি।
দেশের বীর সন্তান, শহীদ পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের জন্য মাসিক সম্মানি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষের বিশেষ অনুদান পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সুযোগ-সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে গৃহীত এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুসংহত করা।
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ‘বীর উত্তম’ খেতাবধারীরা এখন থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা লাভের অধিকারী হবেন। অন্যদিকে, ‘বীর বিক্রম’ ও ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তাঁদের ক্ষেত্রেও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা এবং নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁদের মাসিক মূল সম্মানি বাড়িয়ে ২৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর সাথে তাঁরা ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তাঁদের শারীরিক অক্ষমতার গুরুত্ব বিবেচনা করে চারটি ভিন্ন শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম ‘ক’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম ‘খ’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম ‘গ’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম ‘ঘ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতির বীর সন্তানদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বর্তমান এই বৃদ্ধি সেই কল্যাণমুখী প্রচেষ্টারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি আকাশপথ পুনরায় সচল হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "ভবিষ্যতে এই রুট আর বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, "আশা করি এবার রুটটি লাভজনক হবে এবং ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ফ্লাইটের পাশাপাশি ফিরতি ও পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বুকিংও সম্পন্ন হয়েছে।" সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাস যে, সরাসরি এই বিমান যোগাযোগ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি জনসম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, "আজকের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি জানান যে, জাপানে বসবাসরত প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই ফ্লাইটটি চালু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "জাপান প্রবাসী প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র, শ্রমিক ও অভিবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা ফ্লাইটটি চালু করেছি।" ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "১৯৮০ সালে উড়োজাহাজ স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট চালু করেছিলেন।"
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ফিতা কেটে যাত্রার শুভ সূচনা করেন এবং জাপানগামী যাত্রীদের বিদায় জানান। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই রুটটি পুনরায় সচল হওয়ার পর গত ২৭ জুলাই রাত ২টা ২৫ মিনিটে বিজি-৩৭৬ ফ্লাইটটি নারিতার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনালে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা নিশ্চিত হবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম’ (অ্যাক্টিভ ডাস) বসানো হবে। এর সাথে যুক্ত থাকবে শত শত স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট।
পুরো টার্মিনাল কমপ্লেক্সজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪জি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ৫জি সংযোগ দিতে এই ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, এই নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে।’
প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক মূলত আউটডোর টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল হলেও, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে জটিল ইনডোর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রি-ইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিল কাঠামো ও বিশাল কাঁচের দেয়াল রেডিও সংকেতকে দুর্বল করে দেয়।
৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিটের সাহায্যে অ্যাক্টিভ ডাস কাঠামোর মাধ্যমে সংকেত ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি কোনো সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা দেবে।
ভবিষ্যতের বিমান চলাচল প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করেই এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ৪জি ও ৫জি উপযোগী নেটওয়ার্ক আগামী দিনে বিমানবন্দরের আধুনিক পরিচালনায় সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ কেন্দ্রের জন্য একটি সম্প্রসারণযোগ্য যোগাযোগ কাঠামো তৈরি হবে।
৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।
প্রকল্পটির মাধ্যমে পুরো তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (ইসিটি), ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর সুবিধা।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মূলধনী ব্যয় হিসেবে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই টাকা মূলত মূল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, অ্যাক্টিভ ডাস উপকরণ, স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই ডিভাইসসহ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে খরচ হবে।
রাজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ, পরিবহন, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হবে। অন্যদিকে দৈব ও মূল্যবৃদ্ধিজনিত সম্ভাব্য খরচের জন্য ২৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়, নবনির্মিত এই টার্মিনালে এখনো ব্যাপক ইনডোর মোবাইল কভারেজের ঘাটতি রয়েছে। ফলে, বিভিন্ন ইনডোর এলাকায় দুর্বল সিগন্যাল, কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সেবার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
পুরো টার্মিনালজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করাই নতুন এই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর লক্ষ্য।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রতি বছর লাখ লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তাই এই প্রকল্প বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রবেশদ্বারকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত ও উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় গতি আনতে এবং পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে বিমানবন্দর ও অন্যান্য প্রধান জনবান্ধব স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম ও দেশের মুদ্রানীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা, মুদ্রানীতির লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে রোববার (২৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপনার পর কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতা নিয়ে মতামত দেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত কার্যক্রম ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সদস্যরা মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সংকট নিরসনে এবং জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং বিতরণকারী সংস্থাগুলো তৎপরতার সঙ্গে সমন্বিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কারিগরি দল নিয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খুব দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত এফএসআরইউ ‘এক্সিলেন্স’-এ গ্যাস খালাসের সময় বয়লারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে আন্তর্জাতিক মানের অটোমেটেড সেফটি প্রটোকল এবং দায়িত্বরত কর্মীদের দ্রুততার কারণে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এলএনজিবাহী জাহাজটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে শত কোটি ডলার মূল্যের অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও এক্সিলারেটের ৬০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে দাঁড়ায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ ৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫৭ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করে জাতীয় গ্রিড সচল রাখা হয়েছে।
সংকট নিরসনে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গ্যাস সংকটের মূল কারণ কোনো জ্বালানি ঘাটতি নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক ও কারিগরি বিষয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যেসকল কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল গঠন: ইংল্যান্ড (যুক্তরাজ্য) থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি দল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন। মার্কিন কারিগরি দলসহ তারা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মহেশখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
ধাপে ধাপে সরবরাহ বৃদ্ধি: টার্মিনালের দ্বিতীয় বয়লারটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মেরামত হলে দ্রুতই দৈনিক আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
পর্যাপ্ত মজুত ও জাহাজ প্রস্তুত: পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এলএনজি আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরে প্রস্তুত রয়েছে, যা টার্মিনাল মেরামতের পরপরই খালাস প্রক্রিয়া শুরু করবে।
বিতরণ ব্যবস্থা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা: জাতীয় চাহিদার বিপরীতে সাময়িক ঘাটতি সামাল দিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সীমিত সরবরাহের মাধ্যমে সর্বাত্মক সমন্বয় বজায় রাখছে।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা: তিতাসের প্রতিদিনের ১৯০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ১২০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হয়।
সিএনজি পাম্প ও আবাসিক খাত: গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে পেট্রোবাংলা নিয়মিত পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিবহন নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। একই সাথে অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট বা গুজব ছড়িয়ে গ্যাসের বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ: সাময়িক এই সংকট সরকারের ভবিষ্যৎ জ্বালানি রূপরেখাকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার পথ উন্মোচন করেছে। বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্রুত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজির পাশাপাশি সাগরে ও স্থলে দেশীয় গ্যাস কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সৌর ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পূর্ণ দূর করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রান্নাঘর, সড়ক ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে যে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অচিরেই গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে এবং পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ আগের মতো ফিরে আসবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের দুটি এফএসআরইউ বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এই গ্যাসের ওপর ভিত্তি করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রাজধানীতে গৃহস্থালির রান্নার কাজ চলে। বর্তমানে একটি এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি মেরামতের জন্য একটি বেসরকারি কম্পানি ও পেট্রোবাংলা একযোগে কাজ করছে এবং সরকারের জ্বালানি বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।