বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩
‘মায়ের ডাক’

গুম-খুনে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার দাবি

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৪ ২০:৫৬

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গত ১১ বছরে যারা গুম-খুনে জড়িত ছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।

আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। আগের দিন মায়ের ডাকের একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের দাবির কথা জানান।

মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম মানববন্ধনে জানান, প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তারা এ সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছেন, তাদের যেন আবার রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়। গুম-খুনের ঘটনায় জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেপ্তার করে জবানবন্দি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ‘মায়ের ডাক’।

গুমের শিকার রাজধানীর বংশাল থানা ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ হোসেনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, ‘যারা গুম করেছেন তারা যেন কেউ দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন। যত আয়নাঘর আছে, সব ভেঙে একটি আয়নাঘর হবে, যেখানে শেখ হাসিনাকে রাখা হবে। উনি বুঝুক, আয়নাঘর কাকে বলে। এটা মায়ের ডাকের দাবি। যারা তার সঙ্গে জড়িত, তাদেরও শাস্তি হোক।’

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সভাপতি অধ্যাপক আবরার চৌধুরী বলেন, গুমের শিকার এ ব্যক্তিদের নিয়ে আগের সরকার ঠাট্টা-মশকরা করেছে। সেসবের ফল তারা এখন ভোগ করছে। ইঁদুরের মতো লুকিয়ে বেড়াচ্ছে। জনগণ তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তারা পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টে দেবেন বলে তিনি আশা করেন। আরও আশা করেন, সরকার ‘মায়ের ডাকের’ আকুতি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে। দোষী ব্যক্তিদের যত দ্রুত সম্ভব, দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে তাদের স্বজনদের সন্ধান এ সরকার দেবে বলে আশা করেন নারীপক্ষের শিরিন হক। মানববন্ধনে আনিশা ইসলাম বলেন, তার বাবা ইসমাইল হোসেন বাতেনকে ২০১৯ সালের ১৯ জুন মিরপুরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গুম করা হয়। প্রায় ৬ বছর ধরে তিনি বাবাকে খুঁজছেন। আগের সরকার কোনো আকুতি শোনেনি। এবার দেশ দ্বিতীয়বার ‘স্বাধীন’ হয়েছে। এখন বাবার খোঁজ চান তিনি।

গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের সন্ধান চেয়ে স্ত্রী নাসিমা আক্তার শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাজা দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় ঘুরেছি; কিন্তু কেউ খোঁজ দেয়নি।’


নির্বাচিত

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ
ইকবাল সোবহান চৌধুরী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হওয়ার পরই তাঁর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

পেশাগত জীবনে ১৯৭২ সালে একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং ১৯৯৮ সালে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটির সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা গণমাধ্যমের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উল্লেখ্য, সংস্থাটি সম্প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২,০৬০ টাকা নির্ধারণ করলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ পর্যন্ত চড়া দামে।

খিলগাঁও ও মিরপুরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও চা বিক্রেতারা জানান, প্রতি মাসেই বাড়তি মূল্যে গ্যাস রিফিল করতে গিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরাও সরবরাহ ঘাটতি এবং পাইকারি পর্যায়ে চড়া দামকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন। তাদের দাবি, আড়ত বা ডিলার পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যার ফলে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া নির্দিষ্ট কোম্পানির বোতল রিফিল ও আদান-প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ক্রেতাদের সাথে প্রায়শই তর্কে জড়াতে হচ্ছে তাদের। ফলে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি এবং বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই এখন দিশেহারা।


নির্বাচিত

মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার মিরপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ এবং কাফরুল সড়কসহ সংলগ্ন এলাকার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও মহানগর পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যকার এই নিবিড় সমন্বয়ের ফলে জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সড়ক অবরোধ, সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন।

মিরপুরের বিদ্যমান পরিবেশ নিয়ে মহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বুধবার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ পাননি এবং এলাকার সার্বিক অবস্থা পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকেরা স্বস্তিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় ইতিমধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদনমুখী শ্রমিকেরা কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন না; বরং দেশের পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্রান্তকারী মহল পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে। জনগণের জানমাল ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।


নির্বাচিত

ডিসেম্বর থেকে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারণ হবে ন্যূনতম মজুরি, জানুয়ারিতে বেতন পাবেন শ্রমিকরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর থেকেই এটি কার্যকর ধরা হবে। তবে বর্ধিত এই মজুরি শ্রমিকরা হাতে পাবেন পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায় মজুরি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে উভয় পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়। পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

বৈঠক শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার বলেন, "নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি থেকে তা পাবেন।"

একই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন জানান, "নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে এবং আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রমিকরা নতুন হারে বেতন পাবেন।"


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা

‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে হাদিসের তুলনা করে পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব জেতী প্রু। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১ নভেম্বর রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের অধীনে ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে হাদিসের তুলনা টানেন।

অনুষ্ঠানে মসিউর রহমান নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিস অভিহিত করলে অনেকে ভাবতে পারেন তিনি পরবর্তী কোনো ভালো পদায়নের জন্য তেল মারছেন; তবে তাঁর কাছে এটি চিরন্তন সত্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।’ ধর্মীয় বাণীর সঙ্গে দলীয় স্লোগানের এমন তুলনামূলক বক্তব্যের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরই সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ডিটিসিএর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এলো।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিকমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং

দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও চীন। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার) লি ছিয়াংয়ের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জ্ঞাপন করেন। সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে চীনের দৃঢ় সমর্থন ভবিষ্যতেও অপরিবর্তিত থাকবে জানিয়ে তিনি বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে জাতীয় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।

দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ ও চীনের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যা কালক্রমে দুই দেশের জনগণের অন্তরে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী দ্বিপক্ষীয় সেতুবন্ধনকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা আরও ফলপ্রসূ করে তোলা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার চীন সফরের অনুপ্রেরণায় সে সময় কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঐতিহাসিক খাল খনন বিপ্লব শুরু হয়েছিল। সেই দর্শনের আলোকেই বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়ন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার স্বার্থে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিএনপির মধ্যকার দলীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর উভয় পক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে বেইজিং সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান লিউ হাইশিং। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়ন এবং এশিয়ার বৃহৎ বাণিজ্যজোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে চীনের স্পষ্ট নীতিগত সমর্থনের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে জাতীয় অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পরিবেশের ওপর নেমে আসা তীব্র সংকটের কথা তুলে ধরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর জবাবে রোহিঙ্গা ইস্যুর সংবেদনশীলতার কথা স্বীকার করে বিষয়টি সরাসরি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গোচরে আনার প্রতিশ্রুতি দেন চীনা মন্ত্রী।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে চীনা প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন ও সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সার্বিক জাতীয় সুরক্ষার ভিত সুদৃঢ় রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, "আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।" বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কার্যকর উপস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সাথে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।" তিনি আরও বলেন, "সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে।" এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে 'জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬–২০৩১' এবং 'পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬–২০৩১'-এর বিষয় উল্লেখ করে তিনি জানান, "ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।"

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।" তিনি স্পষ্ট করেন যে আধুনিকায়নের পাশাপাশি সীমান্ত প্রক্রিয়াকে মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীল ও আন্তর্জাতিক পেশাদার মানে উন্নীত করতে হবে। একই সাথে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও মানবপাচার প্রতিরোধের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এর জন্য সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন।" আইওএম-এর নতুন রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে উন্নয়ন অংশীদারদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল বাংলাদেশের সীমান্তকেই সুরক্ষিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নে বড় অবদান রাখবে।"

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, “অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের প্রয়োজন বাড়বে। কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী।” অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখার সাথে সংগতি রেখে তৈরি এই আন্তর্জাতিক নীতিতে চারটি মৌলিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সমন্বিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট চেকপোস্টসমূহের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করা।


নির্বাচিত

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি ও চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে এই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।

বোর্ডের শিল্প শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য একটি যৌক্তিক নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশ প্রস্তুত করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শ্রম আইনের ১৩৯ ধারার বিধানমতে মালিক কিংবা শ্রমিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কোনো শিল্পের জন্য মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিতে পারে। সম্প্রতি সংশোধিত শ্রম আইনে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।

এর আগে বেতন সমন্বয়ের দাবিতে পোশাক খাতে শ্রমিকদের অসন্তোষ তীব্র রূপ নিলে গত ১ নভেম্বর সরকার মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে এবং এই খাতের জন্য পৃথক বোর্ড গঠন করে। পুনর্গঠিত এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজপথে সরব রয়েছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবারও রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


নির্বাচিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী এই স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকেট ও একটি উদ্বোধনী খাম উন্মোচন করেন।’

এ সময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান ও ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    বাংলাদেশ সফররত চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রী লিউ হাই সিং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন

বাংলাদেশ সফররত চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রী লিউ হাই সিং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে গিয়ে তিনি এ আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সমাধিবেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন চীনা মন্ত্রী। পরবর্তীতে প্রতিনিধিদলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সমাধি প্রাঙ্গণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে নিজের মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন লিউ হাই সিং।

সমাধি পরিদর্শনকালে চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ইতিবাচক দিক স্মরণ করেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এবং যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দিনের বেলায় এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনে আগ্রহী টয়োটা

ছবি: হাইব্রিড গাড়ি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় মোটরযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। এ উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অটোমোবাইল শিল্পে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ জোরদার হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

প্রস্তাবিত এ শিল্পায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দুটি অত্যাধুনিক ‘থ্রি-এস’ (বিক্রয়, বিক্রয়োত্তর সেবা ও যন্ত্রাংশ) কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলারের মূলধন বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি নভেম্বর মাসেই কেন্দ্র দুটির অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রগুলো থেকে গাড়ি বিপণন ছাড়াও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মেরামত ও বিশ্বমানের আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই দেশের বাজারে টয়োটার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির সূচনা ঘটবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা বজায় থাকলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে সার্বিক সহায়তা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

টয়োটার এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে স্থানীয় ভোক্তা ও বাণিজ্যিক মহল অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবু ইউসুফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, স্থানীয়ভাবে সংযোজন প্রক্রিয়া চালু করা গেলে উচ্চ আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ের সুযোগ পাবেন এবং নির্ভরযোগ্য আসল যন্ত্রাংশ ও দক্ষ বিক্রয়োত্তর সেবা সহজলভ্য হবে, যা বাজারে ব্র্যান্ডটির প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

দেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, টয়োটার এই বিনিয়োগ স্থানীয় খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, সহযোগী ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিগত জনশক্তির জন্য অবারিত সুযোগ তৈরি করবে। স্থানীয় মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে এ উদ্যোগটি দেশের মাটিতে একটি আধুনিক অটোমোবাইল শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করবে এবং অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকেও এ দেশে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, উৎপাদিত গাড়ি অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উপযোগী করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হবে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে টেকসই নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় শুল্ক ও কর প্রণোদনা এবং সহায়ক পশ্চাৎপদ শিল্পের দ্রুত বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থানকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু-পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

* কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এছাড়া বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।

এর আগে সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে অবশ্যই সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে অর্থের অভাবে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ হারিয়ে না যায়।

তারেক রহমান বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেলের মজুদ বাড়ানো, কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। নেট মিটারিংয়ের আওতায় নিজস্ব ব্যবহারের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির ছাদ ব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

তিনি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। উন্নয়ন সহযোগী ও প্রবাসীদেরও এ খাতে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারে জনগণকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close