ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার ৩২ জন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল রোববার পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খানকে বান্দরবান ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, দক্ষিণখান থানার ওসি মো. আশিকুর রহমানকে পিরোজপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মো. শাহ আলমকে কুষ্টিয়া ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, শাহীনুর রহমানকে লালমনিরহাট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, বনানী থানার ওসি কাজী শাহান হককে রংপুর পিটিসিতে, বাড্ডা থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছাঁলাম মিয়াকে খাগড়াছড়ি ৬ এপিবিএনে, নিউ মার্কেট থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলামকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে, হাজারীবাগ থানার ওসি নূর মোহাম্মদকে ঠাকুরগাঁও ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, কলাবাগান থানার ওসি মো. মফিজুল আলমকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন এবং বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে, রমনা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়াকে কুষ্টিয়া ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এবং ধানমন্ডি থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলামকে নোয়াখালী পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া শ্যামপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমানকে গাইবান্ধা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ওয়ারী থানার ওসি জানে আলম মুনশীকে ১৪ এপিবিএনে, যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. আবুল হাসানকে ১৬ এপিবিএনে, রূপনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল মজিদকে বরিশাল ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ভাসানটেক থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিনকে মহালছড়ি এপিবিএন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, মুগদা থানার ওসি তারিকুজ্জামানকে সারদা বিপিএতে, মোহাম্মদ গোলাম মউলাকে নোয়াখালী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, মুহাম্মদ কামরুল ইসলামকে ১০ এপিবিএনে, হাতিরঝিল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেনকে হবিগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, মো. আহাদ আলীকে এপিবিএনে এবং মোহাম্মদপুর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহাকে লালমনিরহাট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে গত ১২ আগস্ট পুলিশ সদরদপ্তরেরে অপর এক প্রজ্ঞাপনে ১৮ পুলিশ পরিদর্শককে বদলি করা হয়। এ নিয়ে ডিএমপির ৫০টি থানার ওসিকে বদলি করা হলো। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এসব ওসির বেশিরভাগই ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো, গণগ্রেপ্তার ও হয়রানির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। এতে দেশ উপকৃত হবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
মেধাবীদের উৎসাহিত করা ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছু অর্জন করবে, সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’
সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’
সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুরষ্কার বিজয়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাঁদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সামনে হয়তো এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সকলে মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।’
সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে তিনি হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।
এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হলো সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালামসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, আর্টিকেল ১০২-এর অধীনে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এই এখতিয়ার অপব্যবহার ও ভুলভাবেও ব্যবহার করা হয়।
সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে।
দেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এসব মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী।
বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে।
মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে।
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায় এবং রেঞ্জ ও ডিআইজি পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের এই আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেন উপসচিব তৌহিফ আহমেদ। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন এই আদেশের মাধ্যমে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মোট ছয়জন অতিরিক্ত আইজিপি এবং পাঁচজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদের কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়া এই চার কর্মকর্তা হলেন—সাইদুর রহমান, মাইনুল হাসান, ইকবাল হোসেন ও কামরুল আহসান। পদোন্নতি পাওয়ার পরপরই তাঁদের নতুন দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।
পাশাপাশি পাঁচজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সেখান থেকে বদলি করে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতেও রদবদল আনা হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্রোরেলের ডিআইজি সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমানকে ঢাকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্য এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে যুগ্মসচিব মো. হুসাইন শওকতকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক পদ থেকে বদলি করা হয়েছে। তাকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. হুসাইন শওকত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলির আদেশাধীন ছিলেন। নতুন পদায়নের জন্য তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। এ জন্য তার চাকরি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সহজ শর্তে ও স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ ঋণের বার্ষিক সরকারি সুদহার হবে মাত্র ০.৫ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-১ শাখা থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব আনারুল কবির।
পরিপত্র অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ অর্থায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে- নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অর্থায়ন।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ তিন সংস্থাকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে পরিপত্রে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে সরকারের পরিচালন ঋণ থেকে।
সরকার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে। এ ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে ১ বছর গ্রেস পিরিয়ড (ঋণ পরিষদ স্থগিতের সময়) থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষে নির্ধারিত কিস্তিতে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কিংবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ দিতে পারবে, তবে গ্রাহকের ঋণ অনাদায়ের ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
এ ঋণের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রশাসনিক ব্যয় বা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণ নীতি ও গ্রাহক যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলা (এএমএল/সিএফটি) আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে পৃথক ব্যাংক হিসাব, পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা ও ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এমআইএস) চালু করতে হবে। প্রতিটি ঋণের জন্য স্বতন্ত্র আইডেন্টিফায়ার নম্বর এবং ডিজিটাল আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মসূচির বার্ষিক স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং অর্থবছর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পরিপত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচি নির্দেশিকা ও ঋণনীতি অর্থ বিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ পরিপত্র অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে গিয়ে একসঙ্গে কয়েক দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। তেল কেনার ব্যয়ের পাশাপাশি এখন পরিবহন খরচও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে প্রচলিত সমুদ্রপথ এড়িয়ে দীর্ঘ বিকল্প রুটে তেল আনতে হচ্ছে। এতে এক লাখ টন তেল কিনতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে শুধু পরিবহনেই খরচ হচ্ছে আরও ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক লাখ টন তেল চট্টগ্রামে পৌঁছাতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
আগের তুলনায় একই পরিমাণ তেল আমদানিতে বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম খুব বেশি না বাড়লেও শুধু পরিবহনব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
কেন এত খরচ: সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল আনার প্রচলিত পথ ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাতে সাধারণত ১৩ থেকে ১৬ দিন সময় লাগত। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ওই রুট এড়িয়ে চলতে হচ্ছে।
এখন জাহাজকে সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালী, আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ, ভারত মহাসাগর ও শ্রীলঙ্কা ঘুরে চট্টগ্রামে আসতে হচ্ছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। আগে যেখানে দুই সপ্তাহের মতো সময়ে তেল পৌঁছে যেত, এখন সেখানে সময় লাগছে প্রায় ৫০ দিন।
দূরত্ব ও সময়—দুটিই বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। জাহাজকে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকতে হচ্ছে। ফলে জাহাজের জ্বালানি খরচ, পরিচালন ব্যয়, ক্রু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বীমা এবং জাহাজভাড়ায় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। দীর্ঘ রুটে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বীমা ও পরিবহনমূল্যও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের হিসাবেও বিষয়টি স্পষ্ট। আগে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিবহনে যেখানে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতো, এখন সেখানে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ শুধু পরিবহনেই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এই বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। তাই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ইতোমধ্যে নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার অপরিশোধিত তেল পরীক্ষা করেছে। নাইজেরিয়ার ‘বনি ক্রুড’, মালয়েশিয়ার ‘মালয়েশিয়ান ব্লেন্ড’, নরওয়ের ‘আলভহেইম ব্লেন্ড’সহ বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেলের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
কারণ যেকোনো অপরিশোধিত তেল কিনলেই হবে না। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তা পরিশোধন করা যাবে কি না, পরিশোধনের পর কী পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাবে, তেলের গুণগত মান কেমন এবং মোট আমদানি ব্যয় কত দাঁড়াবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। রিফাইনারির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর মতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে আরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সরকারের আমদানি ব্যয়ের ওপর এটি বড় চাপ হলেও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার সেই চাপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানির গুরুত্ব অনেক। দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে বার্ষিক জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের আরামকো থেকে ৮ লাখ টন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডনক থেকে ৭ লাখ টন আমদানি করে সরকার।
আমদানি করা অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের পর বিপিসির অধীন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়। ফলে আমদানির খরচ বেড়ে গেলে তার প্রভাব শুধু বিপিসির হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপরই চাপ পড়ে।
বিপিসির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে, ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এক লাখ টন তেল আমদানিতে গড় ব্যয় ছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে একই পরিমাণ তেল আনতে খরচ হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
পরিবহন ব্যয় দীর্ঘদিন বাড়তি থাকলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও বাড়বে। তেল আমদানির জন্য বেশি ডলার ব্যয় করতে হলে সামগ্রিক আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির প্রয়োজন বাড়লে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ার আরেকটি সম্ভাব্য প্রভাব হলো মূল্যস্ফীতি। পরিবহন ব্যয় বাড়লে জ্বালানি সরবরাহের খরচ বাড়তে পারে। জ্বালানি পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর বাড়তি ব্যয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যেও পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, বিনিময় হার, সরকারের মূল্য নির্ধারণ নীতি এবং কতদিন বাড়তি পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প দেশ থেকে তেল আমদানি শুরু করা গেলেও সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। নতুন উৎসের তেলের দাম কম হলেও যদি পরিবহন রুট দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় খুব বেশি কমবে না। আবার তেলের মান ইস্টার্ন রিফাইনারির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় তৈরি হতে পারে।
তাই বিপিসির সামনে এখন একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন। কোন দেশ থেকে তেল কেনা হবে, কত দামে কেনা যাবে, কোন পথে আনা হবে, পরিবহন ব্যয় কত হবে এবং সরবরাহ কতটা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে—সবকিছুর সমন্বিত হিসাব করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একক বা সীমিত কয়েকটি সরবরাহ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ব্যয়ের সমুদ্রপথ নিশ্চিত করা গেলে পরিবহন ব্যয়ের বড় অংশ কমানো সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান সংকট তাই শুধু তেল আমদানির খরচ বাড়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়, সরকারি ভর্তুকি, বাজেটের ওপর চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। ফলে দ্রুত বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যয়সাশ্রয়ী পরিবহন রুট নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, দেশের কিছু সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া জোড়াতালির খবর দিয়ে ও ভিডিও বানিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বতর্মান সরকারের দায়িত্ব পালনের মাত্র সাত মাস। অথচ এ স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকারকে বিব্রত করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের এ পর্যন্ত গৃহীত সকল কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
স্বাগত বক্তব্যে আতিকুর রহমান রুমন আরো বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারকে আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমাদের আরও ধৈর্য্য ধরতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আজ একটি ভিডিওতে দেখতে পেয়েছি, দেশের কোনো এক জায়গাতে একটি মন্দির ভাঙা হচ্ছে নতুন করে সংস্কারের জন্য। এ খবরকে আমাদের পাশের দেশের কিছু সাংবাদিক বা আমাদের কিছু মানুষ বিকৃতভাবে প্রচার করছে। সরকারের উপর চাপানো হচ্ছে, যে মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। অথচ সরকার পুরোনো নানা স্থাপনার উন্নয়নে সংস্কারের কাজ করছে।
তিনি বলেন, একইভাবে আমাদের দেশেও কিছু সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম জোড়াতালির খবর ছাপাচ্ছে ও ভিডিও বানাচ্ছে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের জগতের মানুষ ছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁর নাম প্রিন্টারস লাইনে ছিল। যদিও বিগত পলাতক সরকার পালানোর ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এটিকে বন্ধ করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তখন বেকার হন অনেক সাংবাদিক, অনেক কর্মকর্তা, অনেক কর্মচারী। সেদিন আপনারা অনেকে প্রতিবাদ করেছিলেন আমাদের জন্য। অনেকে সহানুভূতি জানিয়ে ছিলেন। এ জন্য ধন্যবাদ আপনাদের।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুইদিন আগেও তারেক রহমান এই সংবাদপত্রের মালিকানায় এবং প্রকাশক হিসেবে ছিলেন।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। গত বিএনপি সরকারের শেষ সময় ১৭/১৮ বছর আগে একটি স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক তাঁকে নিয়ে সিরিজ নিউজ করেছিল।’
তিনি আরো বলেন, 'তারেক রহমান তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন না। সরকারের কোন অংশেও ছিলেন না। তখন তিনি বনানীতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বসতেন এবং গবেষণামূলক কাজ করতেন। সেখানে আমিও একজন কর্মী ছিলাম।’
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তখন দেখেছি আপনাদের অনেকে সেখানে ঢুকতে পারতেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছিলেন।
তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার বকুল তখনও আমাদের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। তিনি অনলাইনে বলছিলেন, তাঁর এলাকায় এই আছে, ওই আছে, এই সমস্যা, ওই সমস্যা।
তখন তারেক রহমান তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আপনার এলাকা কোনটা। নরসিংদী উত্তর শুনে তারেক রহমান ফাইল বের করে তাঁকে প্রশ্ন করা শুরু করেন।
তিনি তাঁকে বলেন, আপনার এলাকায় এগুলো আছে, ওই আছে। আপনার এলাকায় এই জায়গা উর্বর, ওই জায়গাতে এই জিনিস হয়। এসব কিন্তু এই বনানীর কার্যালয়ে বসেই তিনি করেছেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিগত সরকার কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশী ঋণ চাপিয়ে গেছে বর্তমান সরকারের ওপর। কালকে যে শিশু জন্মগ্রহণ করবে সে ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় সচেষ্ট আছেন মানুষের উন্নয়নে। তাই আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ গ্যাসের সংকটে ছিলেন, বিদ্যুতের সমস্যায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এগুলোর ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সমাধানের। মনিটরিং সেল করেছেন। আমাদের কর্মীরা, আমরা কাজ করছি এগুলো নিয়ে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তাই আমরা সরকারকে সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুফলা বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আসুন, আমাদের বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়তে আমরা সবাই মিলে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্দালিভ রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকরা যাতে নিরাপদ বোধ করেন এই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং এ সম্পর্ক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার কারণে আদানি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সম্মান রক্ষা করেছেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থানরত আসামিদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। এটিকে গভীর কোনো চক্রান্তের অংশ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে বিচার চলছে এমন ব্যক্তিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।
ব্রিকস সম্মেলনের বিষয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান না থাকায় তারেক রহমান সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। কিন্তু তিনি না যাওয়ার কথা জানানোর পরদিনই কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে সাধারণ মানুষও অনুধাবন করতে পারছে।
দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রিজভী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সুশাসনের কারণে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ চলছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশে বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে, যেখানে বিরোধী দল অবাধে সমালোচনা করতে পারছে কিন্তু কারো ওপর জুলুম বা গুমের ঘটনা ঘটছে না।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রিজভী বলেন, একাত্তরের শহীদ মধুর স্মৃতির প্রতি অপমানজনক কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো— মেট্রো রেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রো রেল লাইন-১ এবং মেট্রো রেল লাইন-৫ নর্দান রুট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে।
পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে পরে সমন্বিত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাইকার অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথসহ মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিশেষায়িত স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত স্কুলটিতে যান তিনি।
জানা যায়, জুবাইদা রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাব (ওডব্লিউসিসি)-এর সভাপতি সালেহা খান। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তাকে বরণ করে নেয়।
পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমান স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন থেরাপি কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
এসময় স্কুলে পরিচালিত হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তার লক্ষ্যে স্কুলটিতে ২৮ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও থেরাপিস্ট কাজ করছেন।
পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমানকে স্কুলের শিক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম, থেরাপি সুবিধা এবং মেডিকেল ইমার্জেন্সি ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেন স্কুলের অধ্যক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বাফওয়ার উদ্যোগে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার/ব্রাদারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশ কয়েকজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় কয়েকজনকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরে ডা. জুবাইদা রহমান বাফওয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘বাফওয়া কর্নার’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, বাফওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প এবং বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীও দেখেন।
পরিদর্শন শেষে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ডা. জুবাইদা রহমান।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলে প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বাফওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।
এসময় অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রী ও সদস্যরা, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশারের সভানেত্রী ও সহ-সভানেত্রী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সেই সাথে তাঁর তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে, যা মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে একটি বড় মাইলফলক।
এ বিষয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বাসস’কে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধে ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বাসস’কে বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’।
এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূলকথায় যা আছে-
মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো... ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’
চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১লা মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে... ১৩ই মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন... এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস... দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল... ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’
জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে... ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এলাম। লে. কর্নেল চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন রফিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। সিভিল টেলিফোন সার্ভিসের একজন অপারেটরকে টেলিফোনে পেলাম। তাকে বললাম: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এ সংবাদটি যেন সে চট্টগ্রামের ডিসি, কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি আর রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়ে দেয়। কারণ টেলিফোনে আমি তাদের কাউকে পাচ্ছিলাম না। টেলিফোন অপারেটর দারুণ আনন্দ প্রকাশ করল আমার কথায় এবং ঐ গভীর রাতেই সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করল সে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সেই মুহূর্তটি ছিল জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’
পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সাথে যোগ দিল... ২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’
কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ... সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়... বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে...২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বাসস’কে বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’
দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বরিশালের লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাসকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনায় রূপ দিতে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ‘প্রকল্পটি লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাস সম্প্রসারণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।’
পরিকল্পনা কমিশন ‘বরিশাল সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় সভায় একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৩টি ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২৬টি আবাসিক ভবন, ৭টি অনাবাসিক ভবন এবং আরও ১০টি অন্যান্য অবকাঠামো।
এ ছাড়া সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, অগ্নিনির্বাপণ ও টেলিযোগাযোগ সুবিধা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও প্রকল্পের আওতায় থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই সেনানিবাসে তিনটি পদাতিক ব্রিগেড, একটি আর্টিলারি ব্রিগেড এবং অন্যান্য ডিভিশন ও এরিয়া ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের আবাসন সংকট কমানো এবং সেনানিবাসে প্রশাসনিক ও সামরিক কার্যক্রম আরও সুসংহত করতেও এটি সহায়ক হবে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৭টি অফিস ভবন, সেনাসদস্যদের জন্য ১৪টি আবাসিক ভবন, ১২টি আবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ১০টি ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বরিশাল ও পটুয়াখালী বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ধরনের বড় দুর্যোগে অতীতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাস থেকে সহায়তা নিতে হতো। স্বাধীনতার পর থেকে যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এ অঞ্চলের ২১টি জেলায় প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ায় দূরবর্তী একটি সেনানিবাস থেকে এসব দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল ও পটুয়াখালীর মাঝামাঝি পায়রা নদীর তীরে লেবুখালীতে সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় সরকার।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, এ অবস্থান দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনাসদস্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের সুযোগ তৈরি করবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, সম্প্রসারিত সেনানিবাসটি স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা এবং দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।