বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

আগামী দু’দিন ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কা

প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৪ ১৮:৫৭

আগামীকাল মঙ্গলবার ও তার পর দিন বুধবার এই ৪৮ ঘণ্টা ঢাকাসহ চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সোমবার ভারী বর্ষণজনিত সতর্কবার্তায় এমন তথ্য জানানো হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিরাজ করায় এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে ধারনা করছে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটি।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও সোমবার থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণজনিত কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, সারা দেশের আবহাওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।


নির্বাচিত

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতেই লটারিতে বদলি: আইনমন্ত্রী

ছবি: আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক   

যেসব অফিসে দুর্নীতর শিকড় গজিয়েছে সেসব জায়গা থেকে কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতেই লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে ঢাকা জেলার ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৮টি সাবরেজিস্ট্রার পদের জন্য ১৮ জনকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। এই লটারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজিয়েছে কিংবা যেসব অফিসকে দুর্নীতির আখড়া মনে করা হচ্ছে, সেসব জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে।’

সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি নিয়ে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে, নেতিবাচক সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে বদলি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

যাদের বদলি করা হয়েছে তাদের নজরদারিতে রাখা হবে বলে সতর্ক করেন আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাদেশে ৩৭২টি সাবরেজিস্ট্রার পদের মধ্যে বর্তমানে ১৩৯টি পদ খালি আছে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

প্রবৃদ্ধি দুর্বল, বাড়ছে দারিদ্র্য, ঝুঁকিতে ব্যাংক খাত

* বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে মন্দা * উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে চাপে মানুষ * সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

অর্থনীতির গতি কমছে, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমছে না। বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনে মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত, কম রাজস্ব আদায় এবং বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যেও। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে উদ্ভূত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক তাদের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর-রাজস্ব বাড়ানো এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে তৈরি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা: বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। পরের দুই অর্থবছরে তা কমে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়। গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ২ দশমিক ২ শতাংশে, যা করোনা মহামারির পর কোনো প্রান্তিকে সর্বনিম্ন।

প্রবৃদ্ধি কমার বড় কারণ বিনিয়োগের সংকোচন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নও ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে নেমেছে। বড় অবকাঠামো প্রকল্প পর্যালোচনা, নতুন প্রকল্পে সতর্কতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার দুর্বলতায় উন্নয়ন ব্যয় কমেছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে অনেক কারখানা সক্ষমতার নিচে উৎপাদন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, যা করোনা মহামারির পর শিল্প খাতের প্রথম প্রান্তিকভিত্তিক সংকোচন।

বাংলাদেশ এখন মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্র ও মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জ্বালানি নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করছে।

মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের চাপ: মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও চাপ এখনো বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থার সমস্যায় মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

কম আয়ের শ্রমিকদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি। আগস্টে তাদের প্রকৃত মজুরি আবার ঋণাত্মক হয়ে যায়। একই সময়ে শিল্প ও সেবা খাতে কাজ হারানো নারীদের অনেকে শ্রমবাজার থেকে বেরিয়ে গেছেন। নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ২০২২ সালের ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে।

দারিদ্র্য পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের মডেলভিত্তিক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমায় দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ১ শতাংশে উঠেছে। এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে এই সীমার নিচে নেমেছে। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে গত অর্থবছরে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে আয়বৈষম্যও বেড়েছে।

ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকি: বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। ইসলামি ব্যাংকগুলোয় এ হার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে, যেখানে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রক হার ১০ শতাংশ। প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়ম শিথিল করায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হয়নি। ফলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত দুর্বলতা পুরোপুরি প্রকাশ পাচ্ছে না।

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের জামানতবিহীন তারল্য সহায়তা ২০২৬ সালের জুনে ৭৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, দুর্বল ব্যাংককে বারবার ছাড় ও তারল্য সহায়তা দেওয়ায় প্রকৃত লোকসান শনাক্ত ও সমাধানের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি ঋণ ও বিনিয়োগে মন্দা: জুনে ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গত ২৯ জুন ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা অর্থায়ন ছাড়া অন্য ঋণে আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, এতে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং ব্যাংকগুলো বড় প্রতিষ্ঠান বা সরকারকে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী হতে পারে।

প্রবাসী আয় অবশ্য রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে পণ্য রপ্তানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। আমদানি ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৭১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কমে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

রাজস্ব কম, বাড়ছে সরকারি ঋণ: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ কর আদায় করেছে। মোট রাজস্ব জিডিপির ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হলেও কর-রাজস্ব প্রায় ৭ শতাংশ। সীমিত করভিত্তি, কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন ও অতিরিক্ত করছাড় রাজস্ব বৃদ্ধির পথে বাধা।

বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। প্রথম ১১ মাসে সরকারের মোট অর্থায়নের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। সরকারি ঋণ জিডিপির ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

সামনে দুর্বল প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস: বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে থাকতে পারে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান তৈরি হলেও তা দ্রুত দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট হবে না। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। গড় মূল্যস্ফীতি থাকতে পারে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

সংস্কারে তিন অগ্রাধিকার: ব্যাংক খাতে সম্পদের মান পর্যালোচনা দ্রুত শেষ করে কোন ব্যাংক টিকে থাকতে পারবে তা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মালিক, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লোকসানের দায় বহন এবং নিয়ন্ত্রক ছাড় পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

জ্বালানি খাতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি অবকাঠামো বাড়ানো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা উন্নত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। রাজস্ব বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসন আলাদা করা, কর ফাঁকি শনাক্তে সরকারি তথ্য সমন্বয় এবং অকার্যকর করছাড় কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন হলো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনা ও দারিদ্র্য কমানো কঠিন হবে।


নির্বাচিত

সাত দশক পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসাম থেকে বাংলাদেশে মিথানল

ছবি: পণ্যবাহী বার্জ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাত দশক পর আবারও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযাত্রা শুরু হলো। আসামের ডিব্রুগড় থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে একটি পণ্যবাহী বার্জ। ভারতের স্বাধীনতার পর আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক নৌযাত্রার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) বগিবিল টার্মিনাল থেকে ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের বার্জটি যাত্রা শুরু করে। ‘কুশল কোঁওর’ নামের একটি টাগবোটের সহায়তায় বার্জটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাচ্ছে।

যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়ক এবং ভারত ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, বহু দশক পর ডিব্রুগড়ে আবার স্টিমারের সিটি শোনা যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ডিব্রুগড়সহ উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক জলপথ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলো।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঘটনাটিকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, আসামের শিল্পে উৎপাদিত পণ্য এখন নদীপথ ব্যবহার করে দেশের বাইরে বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।

১,৩০০ কিলোমিটারের নৌযাত্রা

এই চালানের মিথানল উৎপাদন করেছে আসামের নামরূপের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (এপিএল)। বগিবিল থেকে বাংলাদেশের পানগাঁও পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের অংশে বার্জটি ব্রহ্মপুত্রের জাতীয় জলপথ-২ (এনডব্লিউ-২) দিয়ে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ প্রটোকল (আইবিপিআর) রুট ব্যবহার করে পানগাঁও বন্দরে যাবে।

ডিব্রুগড় থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্রহ্মপুত্রের ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। একসময় এই নদীপথে ডিব্রুগড় থেকে চা পরিবহন করা হতো। পরে রেলপথের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নদীপথে পণ্য পরিবহন কমে যায়। ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ঐতিহাসিক ঘাটটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি বগিবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বগিবিলে যাত্রী ও পণ্য টার্মিনাল চালু হয়। এসব অবকাঠামো আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে ভারতের হলদিয়া থেকে গুয়াহাটির পান্ডুতে টাটা স্টিলের পণ্য পরিবহন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও এই পথ অতিক্রম করে। তবে আসাম থেকে সরাসরি কোনো বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের ঘটনা এবারই প্রথম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে মিথানলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে আসাম থেকে সরাসরি নদীপথে মিথানল পরিবহনের এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীপথে পণ্য পরিবহন চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত বাণিজ্যিক নৌসেবা চালু রাখা, কাস্টমস ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া কতটা সহজ হয় এবং ফেরার পথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা যায় কিনা- এসব বিষয়ের ওপর।


নির্বাচিত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের যে বিধান ছিল, তা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে ওই বাতিলের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় সংশোধিত সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যে সংশোধনীটা আমরা সামনে গ্রহণ করব—সে জায়গায় এমন কিছু আর্টিকেলের পরিবর্তন, সংশোধন সংযোজন আসবে; যেগুলো পরিবর্তনে সংশোধনের পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা হচ্ছে সাংবিধানিক গণভোট। আগে যে গণভোট হয়েছে সেটা আইনি গণভোট। এই সাংবিধানিক গণভোটটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

মন্ত্রী বলেন, যে সংশোধনটা আমরা সামনে আনব—সেখানে প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আসবে। আর্টিকেল ৪৮ ও ৫৬-এ আসবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আমরা কেন ধারণ করব, সেই বিষয়গুলো আসবে। আর্টিকেল ১৪২-এ যেখানে গণভোট ছিল না, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার সেটা উড়িয়ে দিয়েছিল। সেখানে আবার সেটা আমাদের ধারণ করতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে যাতে সহজে কেউ তা পরিবর্তন করতে না পারে, সে বিষয়েও সাংবিধানিক সুরক্ষা রাখার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় আমরা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটা যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ওইটা পরিবর্তন করলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যাতে যেতে হয়, সেটায় গণভোটের বিধান রাখতে হবে। সেজন্য এই পরিবর্তনগুলো এবং এই সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো আমরা সংবিধানে নিয়ে আসলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আমাদের গণভোট দিতে হবে।

সংবিধানে বর্তমানে গণভোটের বিধান নেই—এমন বক্তব্যের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি দুই-এক জায়গায় শুনছি, কেউ কেউ বলছেন—সংবিধানে তো গণভোট নাই। আমরা কেন গণভোটের কথা বলছি? সংবিধান সংশোধনের পরে। তারা সঠিক কথা বলছেন না।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে আর্টিকেল ১৪২ থেকে যে গণভোটের বিধানটা তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেটার বৈধতা ছিল না। এবং সেটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে রায় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগে যা ছিল, তাই সঠিক।

এ প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, সেটা তো অটোমেটিক বহাল হয় না। এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় একটা ডকট্রিন আছে। এটা হচ্ছে ডকট্রিন অব ইক্লিপস।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা যারা আইনে প্রফেসরি করেন, আইনের ছাত্র তারা জানেন। চন্দ্রগ্রহণ যখন হয়, গ্রহণটা সরে গেলে চাঁদটা আবার আলো দেখা যায়। এটাকে বলা হয় ডকট্রিন অব ইক্লিপস। ওই সংবিধানের যে বিধানটা পরিবর্তন করে গণভোট বাতিল করে দিয়েছিল, সেটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। সুতরাং আগেরটা বহাল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে একটা আইনের জটিল প্রশ্ন আছে। সেটা যতদিন পার্লামেন্টে আবার সংবিধানে ধারণ না করবে, ততদিন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলা যাবে না। তবে বিচার বিভাগ তাদের যে রায় দিয়েছে, সেই রায় অনুসারে সংবিধানে আমরা এই সংশোধনীতে সেটা ধারণ করব।

গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনরায় যুক্ত করার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সুতরাং ইট ইজ দেয়ার। এটা অসাংবিধানিক যদি কেউ বলে, যদি বলে—এখন তো সংবিধানে গণভোটের বিধান নাই, গণভোটের বিধান বহাল হয়েছে—আমরা এটা যখন সংবিধানে নিয়ে আসব, তখন সেটা আমাদের মানতে হবে। সেই হিসাবে সাংবিধানিক ভোটটা। তাছাড়া প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ মৌলিক বিষয়গুলো যেগুলোতে পরিবর্তন হলে সাংবিধানিক গণভোট দেওয়ার কথা, সেই ১৪২ অনুসারে সেটা তো আছেই এবং আমরা যুক্ত করব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা যে আমরা সংবিধানে আনছি, সেটা যাতে ভবিষ্যতে পরিবর্তন যদি কেউ করতে চায়, তখনও যাতে গণভোটের বিধান বহাল থাকে, জনগণের কাছে যেতে হয়—এইভাবে আমরা একটা সমৃদ্ধ সাংবিধানিক সংশোধনী আনব।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিধান সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিলের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।

আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা একটি টেক্সট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানগুলো পুনঃস্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে মঙ্গলবারের (৬ অক্টোবর) বৈঠকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগম, সদস্য শকত আদম এবং ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হুসাইন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারি অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণতান্ত্রিক চর্চা, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম, সংখ্যালঘুদের অবস্থা, নারী নেতৃত্ব, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে মঙ্গলবারের (৬ অক্টোবর) বৈঠকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগম, সদস্য শকত আদম এবং ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হুসাইন অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতেই ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানায়। জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে ও বিদেশে সব জায়গায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্ক মূলত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখছেন।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে ব্রিটেনের সরকারও নাগরিকদের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা করে থাকে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিটিশ বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে বাংলাদেশ পার্লামেন্টের জন্য একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করেন।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়েও প্রতিনিধিদল জানতে চায়। জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের সমান দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী রয়েছেন, যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।

এ সময় ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ সময় নারী নেতৃত্ব থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে।

দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশে গণতন্ত্র বহাল ছিল না। বর্তমানে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ডেমোক্রেসি চালু রয়েছে। পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলো অনেক বেশি ক্রিয়াশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিরোধী দলও জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যেটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

সংসদকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এখন সংসদ অধিবেশন দেখার এবং সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান ডেপুটি স্পিকার। প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে ব্যুরোক্রেটিক সিস্টেমকে আরও বেশি জনমুখী করা হচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টারি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডেপুটি স্পিকার ও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে জাতীয় সংসদ ভবন ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে। সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান হলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

সোমবার (৫ অক্টোবর) তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত আইপিইউর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত আইপিইউর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দলের সঙ্গে তানজানিয়া সফরে থাকা সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এক তথ্যবিবরণীতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে ৩৭টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, আইপিইউর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী।

সোমবারের (৫ অক্টোবর) নির্বাচনে তিনি মঙ্গোলিয়ার প্রার্থীকে পরাজিত করেন। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের ৩৭টি সদস্য দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে জহরত আদিব চৌধুরীর বিজয় আন্তর্জাতিক সংসদীয় পরিসরে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এপিজি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ এবং জহরত আদিব চৌধুরীর নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আইপিইউতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও দৃশ্যমান হলো।


নির্বাচিত

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে।

টয়োটা তুশো করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান তারা।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে।

টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদান করবে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে টয়োটা পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে টয়োটা বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে দেশের সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, ২০২৭ সালে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেইকেল (এইচইভি) উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হবে। এটি ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।

টয়োটা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টয়োটার সম্ভাব্য উদ্যোগ ও আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বুধবার একনেকে উঠছে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব

ছবি: সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নির্গমন কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটির খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮.০৮ কোটি টাকা।

‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ শীর্ষক প্রস্তাবটি এনেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। যা বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রকল্পের জন্য বিপিডিবি’র নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪.৭১ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩.৩৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্যানেল ক্ষমতা হবে ৪৪২ মেগাওয়াট। তিনি জানান, সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বুধবার একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করার কথা রয়েছে।

জহুরুল ইসলাম বলেন, রামপাল সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের এই উদ্যোগ দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি।

এই প্রকল্প নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সাহায্য করবে বলে তিনি জানান।

পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের এই ঋণে বার্ষিক সুদের হার হবে ২ শতাংশ। এতে ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময় মিলবে ১৬ বছর।

পরিকল্পনা কমিশন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

পরিকল্পনা কমিশন তার মূল্যায়নে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি কাঠামোর ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদনের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৪৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশে ২৮ হাজার ৮২৭ মেগাওয়াট অন-গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদান ৭৯৭ মেগাওয়াট।

পরিকল্পনা কমিশনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।’

কমিশন জানিয়েছে, জ্বালানির প্রাথমিক উৎসে বৈচিত্র্য এনে প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং কার্বন নির্গমন কমাবে।

‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানিতে বৈচিত্র্য আসার ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমবে’- এ মন্তব্য করে কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি রামপালের ‘ব্লক-বি’তে ৯১৮.৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে। এ জমি আগেই অধিগ্রহণ করেছে বিপিডিবি। পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, বিপিডিবি’র নিজস্ব জমি ব্যবহার করায় নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও কমবে।

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কাছেই থাকা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হবে। প্রকল্প সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, এর ফলে প্রকল্পটি তুলনামূলক কম খরচে ও দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিপিডিবি। জমিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: ব্লক-এ ৯১৫ দশমিক ৫০ একর ও ব্লক-বি ৯১৮ দশমিক ৫০ একর। ব্লক-এ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের ‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট’। ব্লক-বি রয়েছে বিপিডিবি’র হাতে।

প্রকল্প দলিল অনুযায়ী, ‘ব্লক-বি’-তে ভূমি উন্নয়ন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।

প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর ফটোভোলটাইক মডিউল ব্যবহার করা হবে। এতে ৩৬০ মেগাওয়াট মোট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার, একটি পুলিং সাবস্টেশন, তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-সার্কিট ২৩০-কেভি সঞ্চালন লাইন এবং একটি স্পেয়ার বে সহ তিনটি ২৩০-কেভি বে স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প খরচের সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ১ হাজার ২৩৮.৬১ কোটি টাকা (প্রায় ৫০ শতাংশ) ব্যয় হবে সৌর ফটোভোলটাইক মডিউল ও মাউন্টিং স্ট্রাকচার কেনায়। এছাড়া ইনভার্টার, ট্র্যান্সফরমার এবং স্কাডা (SCADA) সিস্টেমসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় খরচ ধরা হয়েছে ৭৩২.২৫ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, আর্থিক ও অর্থনৈতিক- দুই দিক থেকেই প্রকল্পটি বেশ লাভজনক ও বাস্তবায়নযোগ্য।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নকালে প্রকল্প কার্যালয়ে ২৫ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় ২০০ জন সাময়িক শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পাবেন। কাজ শেষ হলে কেন্দ্রটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ২৬১ জনের কর্মসংস্থান হবে, যার মধ্যে ৫১ জন স্থায়ী এবং ২০৩ জন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপে বলা হয়, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে এটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে পেয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত ‘সবুজ পাতা’ প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরিকল্পনা কমিশন আরও জানায়, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সুপারিশ ও পরবর্তীতে বাস্তবায়নের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের মূল প্রস্তাবের চেয়ে প্রকল্পের খরচ ৪.৩২ কোটি টাকা কমেছে।

প্রকল্পটি ‘সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো’ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ নম্বর লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।


নির্বাচিত

শহীদ জিয়ার পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিনের আলোকে আনসারদের অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে Armed Forces Division (AFD) কর্তৃক গৃহীত ‘Training of Forces Under People’s Warfare Doctrine’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় উপজেলা/থানা আনসারদের ২৮ দিনব্যাপী ‘অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ-২০২৬’ শুরু হয়েছে।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে আনসার ব্যাটালিয়নের দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্বে গাজীপুরের সফিপুর আনসার ব্যাটালিয়ন (২৭ বিএন) এবং পটুয়াখালী আনসার ব্যাটালিয়ন (৩১ বিএন)-এ প্রশিক্ষণ চলছে। এ পর্বে উপজেলা/থানা আনসারের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মোট ২০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে আরও আটটি আনসার ব্যাটালিয়নে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের উদ্যোগে উপজেলা/থানা আনসার কোম্পানির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত, দক্ষ এবং সংকট মোকাবিলায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের তত্ত্বাবধানে এবং AFD-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণে যুক্ত রয়েছেন।

প্রশিক্ষণে সদস্যদের ফায়ারিংয়ের মৌলিক বিষয়, নিশানা গ্রহণের সাধারণ নীতি এবং ফায়ারিং নিরাপত্তা সম্পর্কে বাস্তবমুখী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পদাতিক বাহিনীর সাধারণ পরিচিতি, পদাতিক কোম্পানির সাংগঠনিক কাঠামো এবং রণক্ষেত্রে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে ছদ্মবেশ, গোপনীয়তা ও আড় ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, People’s Warfare Doctrine-এর আলোকে উপজেলা/থানা আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় সামরিক জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।


নির্বাচিত

ইতালিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার কর্মীর সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য ইতালিতে বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালে বিভিন্ন খাতে অ-ইইউ দেশ থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নেওয়ার কোটা নির্ধারণ করেছে দেশটি। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

ইতালির ‘ডেক্রেতো ফ্লুসি’ বা ‘ফ্লো ডিক্রি’র আওতায় এসব কর্মী দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০টি নন-সিজনাল অধীনস্থ কাজ, ৮৮ হাজারটি মৌসুমি কাজ এবং ৬৫০টি স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নির্ধারিত।

বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব কোটার আওতায় আসতে পারবেন। ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে ইতালিতে কাজের জন্য আবেদন সরাসরি কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভিসা আবেদনের মতো নয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইতালির নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের জন্য কাজের অনুমতির আবেদন করতে হয়। আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ALI পোর্টালের মাধ্যমে।

২০২৬ সালের জন্য কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন পাঠানোর নির্ধারিত দিন ছিল ১২ জানুয়ারি, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি। নন-সিজনাল কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পারিবারিক সহায়তা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইতালির এই কর্মী নিয়োগ কর্মসূচি ২০২৬-২০২৮—তিন বছরের জন্য নির্ধারিত। এ সময়ে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে যারা বৈধভাবে ইতালিতে কাজের জন্য যেতে চান, তাদের সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের পরিবর্তে ইতালির সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ রয়েছে।


নির্বাচিত

চট্টগ্রাম বন্দরে অনুমতি ছাড়া ছবি-ভিডিও ধারণ ও প্রচার নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি-ভিডিও ধারণ ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই), সংরক্ষিত এলাকা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ বা কোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রচার থেকেও বিরত থাকতে হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার। জাতীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বন্দরের নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। ফলে বন্দরে অবস্থানরত ও বন্দর ব্যবহারকারী সবাইকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল স্থাপনার দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ বা তা কোনো মাধ্যমে প্রচার করা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে হবে।


নির্বাচিত

পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি মুনিরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের নতুন এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ সুপার কামারুম মুনিরা। তিনি এ এইচ এম শাহাদাৎ হোসাইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) পদে যোগ দিয়েছেন কামারুম মুনিরা। তিনি ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি ঢাকা জেলায়।

এর আগে কামারুম মুনিরা পুলিশ সদরদপ্তরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগে এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পুলিশ সুপার এ এইচ এম শাহাদাৎ হোসাইনকে পুলিশ সদরদপ্তরের আইসিটি বিভাগের এআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে চায় সরকার: বিমানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় জার্মানির লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সরকার। একই সঙ্গে দেশে মেইনটেনেন্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) স্থাপনে লুফথানসার বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা চান তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিমান চলাচল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশ্বখ্যাত এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান লুফথানসা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় এমআরও স্থাপনের ক্ষেত্রে লুফথানসার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দেশেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে লুফথানসা বিমানের সঙ্গে কাজ করতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়া কার্গোর ক্ষেত্রে ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) স্ট্যাটাসের বিষয়টিও উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে আসা কার্গোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত এই স্ট্যাটাস বহাল রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিরাপত্তাসহ সব পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি সম্পন্ন নিরাপত্তা অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯০ শতাংশের বেশি রেটিং অর্জন করেছে। তাই এইচআরসিএম প্রত্যাহারের বিষয়ে জার্মানির সহযোগিতা সরকারের কাম্য।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী। তবে এয়ারবাসের ডেলিভারির সময় এগিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের ডেলিভারি শুরু হওয়া জরুরি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জার্মানির বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।


নির্বাচিত

banner close