আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’
বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।
এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।
তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।
ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।
যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।
নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।
বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।
এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।
ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।
গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।
ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।
জ্বালানি সংকটের মধ্যে গণপরিবহনের তেলের রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের সীমা আর থাকছে না।’
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে সেতুমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘দূরপাল্লা ও গণপরিবহনে তেলের রেশনিং আজ (শনিবার) রাত থেকে থাকছে না। রাত থেকে পর্যাপ্ত তেল পাবে বাসগুলো।’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এর মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ৬ মার্চ ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি ও মাইক্রোবাস দিনে পাচ্ছে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারছে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারছে।
গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা পরিবর্তন হলেও ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি।
জাতীয় সংসদেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা, সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংসদে প্রথম অধিবেশন কতদিন চলবে, কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, কী কী আইন উত্থাপন হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপরে কত ঘণ্টা আলোচনা হবে, সেসব নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, রোববার (১৫ মার্চ) অধিবেশনের পর মুলতবি হয়ে ঈদের পর ২৯ মার্চ ফের সংসদ অধিবেশন বসবে। এপ্রিল মাসজুড়ে অধিবেশন চালু থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিবেদন আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের লেখা মুক্ত গদ্যের বই ‘শুধু মাধবীর জন্য’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশের স্টলে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) অনুষ্ঠানে বইটি লেখার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে উপস্থিত দর্শক ও পাঠকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, মাধবীকে লেখা লেখকের চিঠিগুলোতে সুখ, দুঃখ, রাজনীতি এবং একাকিত্বের নানা অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।
বইটির প্রধান চরিত্র ‘মাধবী’ আসলে কে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাধবী কে—এটা অনেক বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের জবাব যদি আগেই দিয়ে দেই, তাহলে পাঠক বইটি পড়ার আগ্রহ হারাতে পারেন। তাই বিষয়টি আপাতত অপ্রকাশিতই থাকুক।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বইটিতে মানুষের অন্তর্গত একাকিত্বের অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে। চারপাশে অনেক মানুষ থাকা সত্ত্বেও মানুষ অনেক সময় নিজের ভেতরে একা থাকে এবং মনের অনেক কথাই সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে না। সেই অনুভূতিরই প্রকাশ ঘটেছে ‘মাধবী’র কাছে লেখা চিঠিগুলোতে।
আইনমন্ত্রী জানান, বইটিতে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনীতি, রাষ্ট্র, সমাজনীতি ও দর্শনের বিভিন্ন দিকও উঠে এসেছে। তিনি মাধবীকে মোট ২৫৩টি চিঠি লিখেছেন, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে। পাঠকদের সাড়া বিবেচনা করে পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঠকদের আগ্রহই একজন লেখকের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস। পাঠক যদি কোনো লেখাকে গ্রহণ করেন, তাহলে লেখক আরও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে লিখতে পারেন এবং নতুনভাবে অনুপ্রাণিত হন। এ কারণে তিনি পাঠকদের বইটি পড়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত জানাতে অনুরোধ করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বইটি সম্পূর্ণ হৃদয়ের অনুভূতি থেকে লেখা। ভালো লাগা এবং একাকিত্বের অভিজ্ঞতা থেকেই এই লেখার সৃষ্টি। তিনি সবাইকে বইটি পড়ার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী, লেখকের সহধর্মিণী, শুভানুধ্যায়ী, বিশিষ্টজন এবং মেলায় আগত দর্শক ও পাঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
মোড়ক উন্মোচন শেষে আইনমন্ত্রী ‘শুধু মাধবীর জন্য’ বইটি ক্রয়কারী পাঠকদের জন্য অটোগ্রাফ প্রদান করেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ১০ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বিপিএম-সেবা স্বাক্ষরিত দুই পৃথক আদেশে এসব পদায়ন করা হয়। তবে শনিবার (১৪ মার্চ) ডিএমপি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের এক আদেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ) এনায়েত কবীর সোয়েবকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগ) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ) এম এম সবুজ রানাকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তরা বিভাগ) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের আরেক আদেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ) আরিফুল ইসলাম সরকারকে সহকারী পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগের (ট্রাফিক-রামপুরা জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ) ইমরানুল ইসলামকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সবুজবাগ জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-সবুজবাগ জোন) তৌফিক আহমেদকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খিলগাঁও জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-উত্তর) জান্নাতুল ফেরদৌসকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-সবুজবাগ জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (ইকুইপমেন্ট-লজিস্টিক বিভাগ) মো. সাইদুর রহমান শেখকে তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিওএম-পূর্ব বিভাগ) শুভ্র দেবকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ধানমন্ডি জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন বিভাগ) হাসান রাশেদ পরাগকে উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল-উত্তরা পশ্চিম) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-রামপুরা জোন) এ কে এম নছরুত হাসানকে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ডেমরা জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
দেশের আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে বর্ণিত সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো’।
এর মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, রাজশাহী সিটিতে মো. মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটিতে মো, রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটিতে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটিতে মো. ইউসুফ মোল্লা।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকগণ স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এর ধারা ২৫ক এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এর ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
কমিটির সদস্য হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ এপ্রিল অধিবেশন শেষ হবে বলে সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। এ ছাড়া প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১-এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ২৭টি এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, আগামীকাল সংসদের অধিবেশন শেষে তা ২৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি থাকবে। এরপর ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় অধিবেশন শুরু হয়ে চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
বৈঠকে প্রথম অধিবেশনে কী কী বিষয় উত্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় বৈঠক শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার মো. আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল শুক্রবার তার জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়।
পরে যাচাই-বাছাই শেষে আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এ সময়ে তাঁর স্ত্রীসহ স্বজনেরা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ পাটকল চালু হবে বলেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, পাট আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। একসময় সোনালী আঁশের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল। আজকে এটা প্রায় অনেকটা পিছিয়ে গেছে। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই ছিল বন্ধ পাটকল মিল আবার চালু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই খাতে বৈচিত্র্য এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের সরকারের বয়স খুবই কম তবুও আমরা বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করছি যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এগুলো দৃশ্যমান হয়। পাশাপাশি পাট ও পাটের বীজের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, বন্ধ মিল কারখানা গুলো চালু করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্লাস্টিককে নিষিদ্ধ করেছিলেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর ধারাবাহিকতায় আমরা আবার মানুষকে প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে আমরা এই চট ও পাটের দ্রব্যাদি ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করব। ইতোমধ্যে আত্ম মন্ত্রণালয় ও সরকারের বিভিন্ন অফিসে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে আমরা উদ্যোগী হচ্ছি। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জায়গায় পাট ও চটের ব্যবহার করা যায় সেগুলো নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, গণপূর্ত বিভাগ পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শহীদুল ইসলাম, ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সদস্য সচীব মাসুদ রানা পলাশ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
একইসঙ্গে আরও ৫৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এ কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে; যার ফলে খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা হ্রাসে সহায়ক হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে এক পত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গনমাধ্যমকে জানান, নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে তুরস্কে অবস্থানকালে ড. খলিলুর রহমান কয়েকটি বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব পাওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরালো করার চেষ্টা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাসিক সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানি ভাতা দেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি।
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদে মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।
প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যার মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা পাবেন।
এ ছাড়া প্রতি চার্চের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যারমধ্যে পালক/যাজক ৫ হাজার ও সহকারী পালক/যাজক ৩ হাজার টাকা পাবেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার, পরিবহন ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বাজার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ‘ফার্মারস কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর, তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর উদ্যোগ এবং দুর্নীতি রোধ ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কার্যকর পদক্ষেপ। এছাড়া গণতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ কারণেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন সচল রাখা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় অপ্রয়োজনীয় কষ্ট বাড়তে না দেওয়া।
তিনি বলেন, আমরা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছি, যার কাজ হলো যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি কার্যকর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রস্তুত করা। কমিটিতে অর্থ, জ্বালানি, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, খাদ্য ও স্থানীয় সরকারের মতো সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমন্বিত এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তুতি কয়েকটি স্তরে এগোচ্ছে। প্রথমত, জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যও কাজ চলছে। তৃতীয়ত, প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ, কৃষি ও জরুরি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ আমরা প্যানিক রেসপন্স নয়, প্ল্যানড রেসপন্সের পথে হাঁটছি।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকেই রমজান মাস শুরু হয়েছে। প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় না থাকলেও দেশে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্যের সরবরাহ মজুত আছে, তা দিয়ে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ২০২৬ সালের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিতে আগামী পাঁচ বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা আমরা পরিকল্পরা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করব।
দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তার মতে, চার-পাঁচ মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় আছে, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনার বিকল্প নেই। আগামী দিনে বিষয়গুলো মোকাবিলা করাই সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতির কঠিন একসময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরে নানা চড়াই-উত্রাইয়ে নিজেকে ‘শাণিত’ করা তারেক রহমান এমন একসময় বাংলাদেশকে সাজানোর ক্ষমতা পেয়েছেন, যখন ব্যাংক খাত লুটপাটে পথহারা। দেশ চলছে ধারদেনায়।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোকে মেরামত করা। দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি আর সুশাসনের অভাব বিনিয়োগকারীদের মনে যে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, তা দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ আরো বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিতে হবে। সবার আগে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা কেবল কাগজ-কলমে নয়, বাস্তবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরাবে। হুন্ডি বন্ধ করে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য আর ব্যবসায়ের পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
নিট পোশাক রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিকেএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের আগে তারেক রহমানকে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করা, জনজীবন-ব্যবসায় মব কালচার নিয়ন্ত্রণ করা, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, সুদের হার কমানো, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, সুশাসন নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি খুবই আন্তরিক।