সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

রেমিট্যান্সে নতুন গতি, অক্টোবরে এলো ২৮৭ কোটি ডলার

# চার মাসে প্রবাসী আয় ১১৪৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি বাড়িয়ে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি (২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৬ কোটি (২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডলার। শতকরা হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ (১১ দশমিক ৪৬৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ১৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।

রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। এর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।

বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের বাজারে চাপ এবং আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। প্রবাসী আয় বাড়লে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহও বাড়ে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও রেমিট্যান্সের প্রভাব ব্যাপক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে লাখ লাখ পরিবার দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটায়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা সৃষ্টিতেও এ অর্থ ভূমিকা রাখে। তবে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করা প্রয়োজন। প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা, লেনদেনের খরচ কমানো এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, অক্টোবর মাসে ২৮৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এবং অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।


বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব

# ৩৪০ হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ ফেরত # এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে পাবেন সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের হজ মৌসুমে বাংলাদেশি ৩৪০ জন হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এ তথ্য জানান। হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্সের আওতাভুক্ত নয়—এমন চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে আটকে রাখা অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ফেরত পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে হজযাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অর্থাৎ যেসব হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে অর্থ আটকে রাখা হয়েছিল, তারা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। অতীতের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরত পাওয়ার নজির ছিল না বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌদি আরব থেকে এ অর্থ ফেরত পাওয়া হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও হজযাত্রীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় আরও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।


মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, তা এখনো জানেন না তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অনুরোধের জবাব এখনো দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত জানতে চেয়ে পাঠানো কূটনৈতিক নোটের জবাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাংলাদেশ এখনো কোনো উত্তর পায়নি বলে রোববার জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

নজরুলের পরিবার জানায়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাদের কাছ থেকে কিছু নথি সংগ্রহ করেছিলেন। তবে নজরুলের মরদেহ কোথায় রয়েছে কিংবা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানতে পারেননি।

সুইটির বাবা তার মেয়ের মরদেহ কিংবা অন্তত দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাদের কিছুই জানায়নি। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি থেকে মিশন এ বিষয়ে জানতে পারে।

পরবর্তীতে অভিযোগ, আদালতের রায়, আইনি প্রতিনিধিত্ব ও মরদেহের পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়।

কনস্যুলেটের আগের চিঠিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ওই দুই বাংলাদেশি আটক ছিলেন। তবে, ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বাংলাদেশি বন্দিদের তালিকায় ওই দুজনের শাস্তি সম্পর্কে তথ্য ছিল না।

নজরুল ও সুইটির পরিবারের সদস্যরা এর আগে জানিয়েছিলেন, ওই দুজনের যে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে থাকলে, বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে তা জানাতে হয়।

এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় মামলা দুটি নিয়ে বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকায়ও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে ওই দুই বাংলাদেশি পর্যাপ্ত আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে।

ওই দুই বাংলাদেশির আটক, বিচার, সাজা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের কী ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দিয়েছিল, তার বিস্তারিত জানাতে ২৮ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়।


পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা ও রপ্তানি সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

#মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব # সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান সরকারের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সরকারের এ উদ্যোগকে শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

তিনি বলেন, সরকার দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় কাজ করতে চায় সরকার।

আগেই গঠন করা হলো মজুরি বোর্ড: পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে সংশ্লিষ্ট শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নিরপেক্ষ সদস্য করা হয়েছে। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুবকে মালিকদের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের নিয়ম রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে সময় থাকলেও সরকার আগেই উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়া গেলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা সময় লেগেছে। রোববার রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর পরদিন সকালে বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবেন।

সহিংসতা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ ও অন্যান্য দাবি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সহিংস আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন, বিভিন্ন স্থানে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, যারা সহিংসতা, নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ ও উসকানির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে সরকার মনে করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কারখানা চালু ও রপ্তানি অব্যাহত রাখার আহ্বান: আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারণে কারখানা বন্ধ থাকলে তা যেন সাময়িক হয়। শ্রমিক ও মালিকদের পারস্পরিক আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হবে।

তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এ খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা। নতুন মজুরি বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ এবং মালিকদের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলে পোশাকশিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ‘ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেল’ হয়ে উঠছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালোটাকা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বা দলীয় অবস্থান একটি ‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে’ পরিণত হচ্ছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিল ক্ষমতার রাজনীতির চর্চার অবসান ঘটবে। সেখানে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতার রাজনীতির কারণে দলীয় কোন্দল, অন্তর্দ্বন্দ্ব, এমনকি মানুষের প্রাণ দিতে হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সেটি আরও বেশি বিকশিত হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সুশাসনের ঘাটতির কথা তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা এবং জবাবদিহির ঘাটতির ফলে বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার দেখা যায়। এর ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা এক ধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন নিয়েও কথা বলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। এ অর্থের ব্যবস্থাপনা অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিনির্ভর। ফলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকে। দলগুলোর আনুষ্ঠানিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গেও বাস্তবতার বিশাল পার্থক্য রয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি বিদ্যমান। আইন ও বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া দেশের আইনি কাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর চর্চারও অসামঞ্জস্য রয়েছে।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অন্য দেশের চর্চার সঙ্গে বাংলাদেশের চিত্র সামঞ্জস্যহীন উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই চর্চা অতি নিয়ন্ত্রণমূলক। অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের কার্যকর পদ্ধতির অনুপস্থিতির কারণে আইনি শর্তভিত্তিক ব্যবস্থা অঙ্কুরেই অর্থনির্ভর প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি করে।

দলীয় নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের প্রাধান্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃণমূল, বিভিন্ন বৈচিত্র্যের মানুষ ও নারীদের অংশগ্রহণের ঘাটতির কারণে নেতৃত্ব বিকাশে পরিবারতন্ত্র বা অভিজাততন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য সাধারণ মানুষ সুযোগবঞ্চিত হচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কখনো ইতিবাচক হতে পারে না। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।

রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলিতে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য।

সংস্কারের দায়দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং দলগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের পূর্বশর্ত হিসেবে নেতাদের নিজেদের আয়নার সামনে দাঁড় করাতে হবে। সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কাওছার আহমেদ ও কাজী আমিনুল হাসান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান এবং আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।


সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট ব্যাহত, বিপাকে ২৩ হাজার যাত্রী

# সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে প্রভাবিত ১৫৯টি # সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট সমস্যায় ইন্ডিগো ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথে যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ১৫৯টি ফ্লাইটে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী। প্রভাবিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৮২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি। ফলে সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব চৌধুরী রোববার এ তথ্য জানান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী এই পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে। একই সঙ্গে তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াত করা ট্রানজিট যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।

সরাসরি ফ্লাইটে বেশি প্রভাব: প্রভাবিত ৮২টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩৭টি, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ২০টি, রিয়াদ এয়ারের ১৬টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের যাত্রা ও ফেরার সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রীদের একটি বড় অংশ এ পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ও রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইটেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইটেও ভোগান্তি: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার প্রভাব শুধু সরাসরি যাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ট্রানজিট ফ্লাইটেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। এ ধরনের ৭৭টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।

এর মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ৩০টি ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটায় একাধিক দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরব যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে যাদের একাধিক ফ্লাইটের সংযোগ রয়েছে, তাদের পরবর্তী যাত্রা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যাত্রীদের বাড়তি চাপ: বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করেন। একইভাবে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদেরও প্রতিদিন বিভিন্ন ফ্লাইটে আসতে হয়। ফলে বিমান চলাচলে এমন বিঘ্নের প্রভাব পড়ে দুই দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায়।

ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন বা পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা থাকলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে অপেক্ষা, সংযোগ ফ্লাইট মিস করা এবং নতুন করে ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানোর মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে কর্মস্থলে যোগদানের নির্ধারিত সময় থাকা প্রবাসী কর্মীদের জন্য এ ধরনের অনিশ্চয়তা বাড়তি চাপ তৈরি করে।

এদিকে, পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ১৫৯টি ফ্লাইট এবং ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির আওতায় এসেছেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার সীমাবদ্ধতা কত দিন থাকবে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় দুই দেশের আকাশপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ পুরোপুরি ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।


নতুন কাঠামোয় বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

# চার মাসের বেতন একসঙ্গে # অধিকাংশের হিসাবে যোগ হয়েছে বকেয়া অর্থ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুফল পেতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, রোববার সকালে অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশ। এর মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং আট লাখ পেনশনভোগীর অধিকাংশই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাড়তি অর্থ পেয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে না পারায় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর হিসাবে নতুন বেতন যুক্ত হয়নি। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে যাদের পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়েছে, তারাই প্রথম দফায় বর্ধিত বেতন পেয়েছেন। বাকিরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোববার সকাল ১০টার পর থেকেই অনেক সরকারি চাকরিজীবীর মুঠোফোনে নতুন বেতনের অর্থ জমা হওয়ার বার্তা আসতে শুরু করে। এতে দীর্ঘদিন পর বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পেতে শুরু করেছেন তারা। অন্যদিকে, প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

বেতন নির্ধারণে অসংগতি: নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম এবং বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছেন।

কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডের মধ্যে কিছু অসংগতি দেখা যাচ্ছে। বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এতে কেউ কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। আবার পদোন্নতির পরও কারও কারও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে।

সর্বোচ্চ বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ: গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হলেও একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। কয়েকটি ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাচ্ছেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন বেতন স্কেলের শতভাগ কার্যকর হবে।

ভাতা বাড়ছে ২০২৮ সাল থেকে: নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে এখনই পরিবর্তন আসছে না। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে প্রচলিত হারেই দেওয়া হবে। সংশোধিত ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতনকাঠামো চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই কাঠামোয় সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

দীর্ঘ বিরতির পর নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, বেতন নির্ধারণের জটিলতা এবং ভাতা নিয়ে বিদ্যমান অসংগতি নিরসনই এখন নতুন কাঠামোর সুফল পুরোপুরি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকবে ৪ দিন, কমবে গ্যাসের চাপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবিস্থত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর সকাল থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ফলে এই সময়ে সারা দেশে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) জনসংযোগ দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সামিটের টার্মিনালে এলএনজি থেকে গ্যাসে রূপান্তরের (রিগ্যাসিফিকেশন) কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে বর্তমান দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পেয়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে। ফলে সারা দেশে গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরেও এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম করা হয়েছিল। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।


ইন্টারপোলের সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন পুলিশ আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় ইন্টারপোল গ্লোবাল বায়োসিকিউরিটি কনসফারেন্সে যোগ দিতে ফ্রান্সের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এই কনফারেন্সে যোগ দিতে তিনি রোববার ঢাকা ত্যাগ করেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারপোলের বায়োটেররিজম প্রিভেনশন ইউনিটের উদ্যোগে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফ্রান্সের লিয়ঁতে ইন্টারপোল সদর দপ্তরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, জীবাণু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বায়োসিকিউরিটি হুমকি পর্যালোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলন শেষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশে ফিরবেন আইজিপি।

বিষয়:

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ: ৫০ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া কারখানা বন্ধের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও নিউ এইজ কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে প্রবেশ করে উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে সংহতি প্রকাশ করে আশপাশের অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনের সড়ক অবরোধ করলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা, বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই প্রতিহত করা এবং তালিকা করে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, মূলত এই তিন দফা দাবিতেই শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছেন। মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এক গণমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বর্তমানে সার্বিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

বিষয়:

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

পুলিশ ও আনসার ক্যাডারে যোগ দিলেন ৮৪ নবীন কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের জন্যেও নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস (পুলিশ) ও বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে তা যেন কোনোভাবেই কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুপিরিয়র সার্ভিসে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সকল কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে আপনাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।’

তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ পালন করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের চেয়ে পুলিশ ও আনসার সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেখানে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইজিপি (ইনচার্জ) ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

উল্লেখ্য, আজ ১ নভেম্বর পূর্বাহ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৬৫ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।


ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলবে আটটি জোনে, নিবন্ধন শুরু কাল থেকে

১৩ সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির ই-রিকশা নিয়মতান্ত্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ ঘোষণার সময় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

নতুন এ নীতিমালার প্রেক্ষাপটে চালকদের বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোনো পক্ষের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ না দিয়ে পর্যায়ক্রমে বৈধ যানবাহনকে সনদ প্রদান এবং অনুমোদনহীন রিকশা অপসারণ করা হবে। রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসন ও চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জোনভিত্তিক চলাচলের জন্য আটটি ভিন্ন রং বরাদ্দ থাকবে, যাতে এক এলাকার নির্ধারিত রিকশা অন্য এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের যৌথ পর্যালোচনায় প্রতিটি জোনে চলাচলের উপযোগী রিকশার সংখ্যা ও সীমা নির্ধারিত হবে এবং প্রধান প্রধান বাস রুটে এসব স্বল্পগতির যানের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

নির্ধারিত বিধিমালা অনুসারে, প্রতিটি ই-রিকশার প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং অনুমোদন প্লেটের জন্য এক হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রতিবছর নবায়নযোগ্য এই নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য, মালিকের পরিচয় ও চলাচলের অঞ্চল চিহ্নিত রাখতে ডিজিটাল কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। প্রাথমিক ধাপে চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা না হলেও সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাইসেন্স কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তবে নিবন্ধনের পূর্বশর্ত হিসেবে চলাচলকারী রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত কারিগরি নকশা অনুসারে পরিমার্জন করতে হবে এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই একই নকশা অনুসরণ করতে হবে।

অননুমোদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হবে, যেখানে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক স্টেশনগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে ব্যাটারি চার্জ করার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে প্রণীত এই কাঠামো আপাতত ১৩টি মহানগরে কার্যকর হলেও পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে পৌরসভাগুলোতেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীসাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে ট্রাফিক বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও মালিকপক্ষের যৌথ সমঝোতায় ই-রিকশার কিলোমিটারভিত্তিক নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।


দেশ গঠনে যুবসমাজই প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি

রাজপথের সংঘাতময় সংস্কৃতির বদলে সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং রাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশের বিপুল যুবশক্তিকে কর্মমুখী ও উৎপাদনশীল ধারায় সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে এই তরুণদের মেধা ও শ্রমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। সব বিষয়ে সংকীর্ণ রাজনীতির চর্চা পরিহার করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাজপথের সংঘাতময় সংস্কৃতির বদলে সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে উৎখাত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং এই অর্জনকে জাতীয় কল্যাণে ফলপ্রসূ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বিপ্লবের মাধ্যমেই সামগ্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়; দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ দিতে হবে। আর এই নতুন দেশ নির্মাণের গুরুদায়িত্ব তরুণদের কাঁধেই নিতে হবে।

বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও সময়োপযোগী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, শিক্ষিত ও আধুনিক দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বেকারত্বের হতাশা থেকেই তরুণদের মাঝে মাদকের মতো মারাত্মক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজের সকল প্রকার বৈষম্য, অন্যায় ও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।


banner close