বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পুরোনো ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হন।

দলীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল এবং তিনি রওনাও দিয়েছিলেন। তবে পথিমধ্যে হঠাৎ বমি করেন এবং দুর্বল হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেন, “আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রোগ্রামস্থলে আসতে পারেননি। আমরা সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।”

ঢাকা মহানগর উত্তর আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, তারা আমিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।


প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সচিবালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীমের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে অপহরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্দেশনার এক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে স্কুলছাত্রটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অপহৃত ছাত্র খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুল-এর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুল ছুটির পর চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাকে আটক করে জোড়পুকুর এলাকার একটি নির্মাণাধীন সাততলা ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে বাবার মোবাইল নম্বর নিয়ে অপহরণকারীরা ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

ছেলের অপহরণের খবর পেয়ে খন্দকার শামীম প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি জানান। প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি শুনেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ পুলিশ-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই অভিযান শুরু হয়। যে নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল, সেটির সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হয়। টাকা পাঠানোর কথা বলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে আরেকটি নম্বর চাওয়া হলে তারা সময়ক্ষেপণ ও দরকষাকষির চেষ্টা করে। এ সময় প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পরে খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকার ওই নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, দ্রুত নির্দেশনার কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে। পলাতক অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ফের রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হলেন সরওয়ার আলম

সাবেক অবসরপ্রাপ্ত সচিব সরওয়ার আলম | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:০৫
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক অবসরপ্রাপ্ত সচিব সরওয়ার আলম আবারও রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকেই তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান সরওয়ার আলম। তাকে সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। এবার নতুন করে তিনি দায়িত্ব পেলেন।

সরওয়ার আলম বিসিএস ৮৫ ব্যাচের তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এ সচিব (জনসংযোগ) হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) ছিলেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) পদে থাকা অবস্থায় তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যান।


কোস্ট গার্ডের পৃথক ২ অভিযানে মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ২০ পাচারকারী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ২০ পাচারকারীকে পৃথক ২ অভিযানে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার মধ্যরাত ১ টায় অপারেশন সমুদ্র প্রহরায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ কামরুজ্জামান কর্তৃক সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ১০০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

অপরদিকে, রাত ৩ টায় অপারেশন কোরাল দ্বীপে নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ অপূর্ব বাংলা কর্তৃক সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণ- পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাচার ও চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


৫ আগস্টের পর কিছু নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গত ৫ আগস্টের পর থেকে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর করা এসব হয়রানিমূলক মামলার বিষয় সরকার গুরুত্বসহকারে দেখছে। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত তথ্য বের করা হবে। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কেউ যাতে অকারণে ভোগান্তির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে এক দফায় ১ হাজার ৬১৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মামলা প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়ায় যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রত্যাহারযোগ্য মামলাগুলো সত্যিকার অর্থেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সেবা প্রদানের মাধ্যমে নগরবাসীর আস্থা অর্জনই হবে আমার প্রধান কাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে সরকার গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনাব মোঃ আব্দুস সালামকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএসসিসি’র পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২৫ক এর উপধারা (৩) অনুযায়ী তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনিযুক্ত প্রশাসক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিকট যোগদানপত্র পেশ করেন।

পরবর্তীতে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশক নিধন এবং ঢাকাকে একটি পরিবেশবান্ধব 'সবুজ শহর' হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জমাদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া প্রশাসক মহোদয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

দুপুর ২টায় নবনিযুক্ত প্রশাসক শেরেবাংলা নগরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে নগর ভবনে পৌঁছালে ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রশাসক মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "সেবা প্রদানের মাধ্যমে নগরবাসীর আস্থা অর্জনই হবে আমার প্রধান কাজ। ঢাকা মহানগরীতে সমস্যা অনেক, আমি জনগণের সহযোগী হিসেবে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। পরিচ্ছন্ন ঢাকা, মশক নিধনসহ বাসযোগ্য নগরী গড়তে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন, এখন কাজের মধ্য দিয়ে আমাকে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হবে। আমরা নগরবাসীর অভাব ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে পূরণ করার চেষ্টা করব। যেসব বড় সমস্যা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে, সেগুলো আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।"

নবনিযুক্ত প্রশাসক জনাব আব্দুস সালাম সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আমরা একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানান।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূতইয়াও ওয়েন।

আজ মঙ্গলবার সকালেসচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন।

এর আগে গতকাল সোমবার তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইয়াও ওয়েন। ওই সাক্ষাতে তিনি তারেক রহমানকে অভিবাদন জানান।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রবাসী কর্মীদের মরদেহ বিনা খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে: নুরুল হক

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মৃত প্রবাসী কর্মীদের মরদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। মূলত বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর পর বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে দ্রুততম সময়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। প্রবাসীদের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধার্থে এদিন ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’-এর দুটি নতুন ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, এর আগে মরদেহের পরিবহনে তিনটি গাড়ি নিয়োজিত ছিল, যার সঙ্গে আজ আরও দুটি আধুনিক যান যুক্ত হলো। এই বর্ধিত সক্ষমতার ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তে মরদেহ দ্রুত ও নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রবাসীদের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণের সময় দাফন ও তাৎক্ষণিক খরচের জন্য পরিবারের হাতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এর বাইরে যারা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সঠিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে প্রবাসে কাজ করতে গিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারকে ১৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই সুযোগ-সুবিধাগুলো যেন প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার সহজে পায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সরকারি সেবার প্রসারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, মৃত প্রবাসীদের সম্মানের সঙ্গে শেষ বিদায় জানাতে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনার এই কার্যক্রম কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব জেলাতেই এই উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রবাসীদের রক্তঘাম করা রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তাই তাঁদের শেষ সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে সরকার। প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশনের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মিশনে মৃত ব্যক্তিদের আইনি সহায়তার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে। মূলত প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই নতুন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।


সোহরাওয়ার্দীর ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনায় প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কর্তব্যরত চার পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড বা পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অপেশাদার আচরণের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়মিত মাদকবিরোধী তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রমনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং প্রাথমিক সত্যতা মেলায় চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, তল্লাশি চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়েছিল। এর ফলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী ওই চার সদস্যকে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী পরবর্তী স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে জনসাধারণের সঙ্গে সংবেদনশীল ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে ডিএমপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বা তৎসংলগ্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের এমন আচরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঢাবি কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো উন্মুক্ত স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন সাধারণ মানুষের হয়রানির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করার মাধ্যমে বাহিনীর স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।


দীর্ঘ দেড় বছর পর সচল হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর পুনরায় সচল হয়েছে ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর বাস ডিপো থেকে ‘রয়্যাল মৈত্রী’র একটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রবেশ করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ ছিল। মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন এক আবহে এই বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক ওয়ারিছ আলম ডিএস জানান, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এই রুটে বাস চলাচল করবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে এবং যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে নিয়মিতভাবে সপ্তাহে তিন দিন এই পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে। সাধারণত আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় পৌঁছাতে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ঢাকা হয়ে সরাসরি বাসে এই দূরত্ব কমে মাত্র ৫০০ কিলোমিটারে নেমে আসে, যা যাতায়াতের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই নতুন গতির প্রশংসা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। এছাড়া রাজ্য সরকারের পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আগরতলায় গণমাধ্যমকে জানান, এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার মৈত্রী ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার প্রতীক। তিনি মনে করেন, যাতায়াতের এই মাধ্যমটি কেবল দুই দেশের জনগণকে কাছে আনবে না, বরং পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য উভয় দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ থাকা অপরিহার্য এবং এই সংযোগ সেই পথকে আরও সুগম করবে।

ত্রিপুরার পরিবহণ মন্ত্রীর মতে, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশকে একটি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যেকোনো অস্থিরতা ভারতের জনগণের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিগত সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা পরিলক্ষিত হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সেই বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে বর্তমানে উভয় পক্ষই অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই বাস পরিষেবার সফল প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।


হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে পর্যালোচনা করা হবে: ধর্মমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী হজ মৌসুম থেকে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরাম (আরআরএফ) নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন তিনি।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এবার হজের সার্বিক প্রক্রিয়া এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে সম্ভাব্য সব দিক পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, আমি এখানে আসার আগেই এবারের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী হজ থেকে যাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, সে চেষ্টা থাকবে।

সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করবো, জনগণের খেদমত করবো।

ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে আরআরএফ সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, অর্থ সম্পাদক রকিবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চ্যানেল আইয়ের রিপোর্টার আকতার হাবিব, দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য শামসুল ইসলাম, উবায়দুল্লাহ বাদল, মহসিনুল করিম, আহমেদ জামাল, কামরুজ্জামান বাবলু প্রমুখ।


১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই বিশেষ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। সরকারের এই যুগান্তকারী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিটি প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য করতে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

সারা দেশের প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বর্তমান সরকার। মূলত হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসতেই এই বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এই বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতিতে প্রতিটি কার্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং কোনো ধরণের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থাকবে না।

ফ্যামিলি কার্ডের এই কার্যক্রমটি দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রথম ধাপে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন এবং বগুড়া সদরসহ মোট ১৩টি এলাকার নির্বাচিত ওয়ার্ডে এই সুবিধা প্রদান করা হবে। প্রতিটি পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। উদ্বোধনী কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করছে।

প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিপূর্বেই অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সিং বা সরাসরি উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা করবেন। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী সরাসরি খাদ্য ও নিত্যপণ্য সহায়তার আওতায় আসবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে এই কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।


ঈদুল ফিতরে রেলযাত্রার প্রস্তুতি: ৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আগামী ৩ মার্চ থেকে অনলাইনে এই টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে। রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা যাবে ২৩ মার্চ থেকে। প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ভিড় এড়াতে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল রাখতে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুই ভিন্ন সময়ে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকালে অনলাইনে উন্মুক্ত করা হবে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের টিকিট পাওয়া যাবে প্রতিদিন দুপুর থেকে। সার্ভারের ওপর বাড়তি চাপ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত এই সময় বিভাজন করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা যাতে সহজে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন, সেটিই এখন রেলওয়ে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

যাত্রী সেবা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ৫ জোড়া অর্থাৎ মোট ২০টি স্পেশাল ট্রেন ঈদের বিশেষ সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত গন্তব্যগুলোতে চলাচল করবে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা এবং স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য উৎসবমুখর ও নিরাপদ হবে।


banner close