রোববার, ৩১ মে ২০২৬
১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

সরকারের ভেতর আরেক সরকার, এ যেন মীর জাফরের কাহিনীর এক পুনরাবৃত্তি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক
    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিচেন কেবিনেট নিয়ে কতিপয় সাবেক উপদেষ্টার মন্তব্য ‘ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাই না।’ তারা একে অপরে দায়মুক্তি নিতে চান। আমার মনে হয়, কয়েকদিন পর মুহাম্মদ ইউনূসও এ নিয়ে বলবেন তিনি কিছু জানেন না।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে গঠিত ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হয়েছে, এখনো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহল এবং সুশীল সমাজে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের তথাকথিত কিচেন কেবিনেট বা অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা বলয়। কেউ কেউ একে সরকারের ভেতর আরেক সরকার হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সরগরম।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে সাত সদস্যের একটি কিচেন কেবিনেট ছিল, যাদের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার পরিচালিত হতো। সেখানে উপদেষ্টা পরিষদের অন্যদের স্থান ছিল না। তারা প্রতি মঙ্গলবার বসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা হয়েছে সেখানে ‘ডিপ স্টেটে’র ভূমিকা ছিল।

তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, তিনি তিন দফা পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন; কারণ তার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন উপদেষ্টার প্রভাব ছিল। এবারই প্রথম নয়। এর আগেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার দেওয়া পোস্টের বিরোধিতা করে সেই উপদেষ্টার দেওয়া অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্যের বিপরীতে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। বহুল আলোচিত ছাত্র উপদেষ্টা ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে সম্পাদিত কোন কোন চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে তার একটি তালিকা দেন।

তৌহিদ হোসেন সেই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, তালিকায় যেসব চুক্তির কথা বলা হয়েছে সেগুলো স্বাক্ষরই হয়নি। সেই সময়ই বোঝা গিয়েছিল, ইউনূস সরকারের সঙ্গে তার বোঝাপড়া হয়তো ঠিকঠাক নেই। সে কারণেই কি না, তাকে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলতে দেখা যেত না।

কিচেন কেবিনেট ও ডিপ স্টেট নিয়ে আলোচনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ইউনূস সরকারের এক উপদেষ্টা বলেছিলেন, ডিপ স্টেট তাদের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখতে চেয়েছিল। তখনও সরকারের ভেতর আরেক সরকারের বিষয়টি আলোচিত হয়।

কিচেন কেবিনেট বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, এমনকি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও দেখা যায় কিচেন কেবিনেট। অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠান সেটি রাজনৈতিক হোক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হোক—সেখানে সবাই সমান গুরুত্ব এবং সম্মান পেয়ে থাকেন না। দু-চার জন মানুষ পুরো প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি সৎ এবং নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে প্রতিষ্ঠান ভালো চলে; প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যায়। অসুবিধা হলো, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি অন্যথা করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়; যা বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য এটিই, অর্থাৎ কিচেন কেবিনেটই বড় সমস্যা।

অভিজাততন্ত্র অথবা অলিগার্কির সঙ্গে গণতন্ত্রের পার্থক্য এখানেই। গণতন্ত্রে সকলের অংশগ্রহণ থাকে, অন্য ব্যবস্থায় থাকে কতিপয়ের নিয়ন্ত্রণ। অংশীদার বাড়লে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা যায় এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) চলে আসে। কারও পক্ষে একা সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না, কতিপয় সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষেত্রে এই আলোচনাটি সামনে আসার মূল কারণ- ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গঠিত সরকারের এই কাঠামোর ক্ষমতায় ছিল বহুমাত্রিকতা। একদিকে ছিলেন অভিজ্ঞ আমলা, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, যারা দাপ্তরিকভাবে উপদেষ্টা পদের দায়িত্বে ছিলেন; অন্যদিকে ছিলেন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা, যাদের অনেকেই দাপ্তরিক কাঠামোর বাইরে থেকেও ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক নিয়মে বা পুরো উপদেষ্টা পরিষদের সম্মিলিত আলোচনার ভিত্তিতে হয়নি; বরং ইউনূসের কার্যালয়কেন্দ্রিক একটি ছোট গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে।

নোবেলজয়ী ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল; অতি সম্মানিত এই ব্যক্তি হয়তো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সংশোধন করে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন। কিন্তু তার আমলেও প্রতিষ্ঠিত হলো কিচেন কেবিনেট। অর্থাৎ তিনিও গতানুগতিকতার বাইরে যেতে পারলেন না। এ যেন ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’।

হয়তো এ কারণেই নির্বাচনের তিন দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একপেশে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে ইউনূস সরকার। এ ব্যাপারে তৌহিদ হোসেন বলেন, এই চুক্তির ব্যাপারে তার মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

এই বাণিজ্য চুক্তি সংশোধন ছাড়া বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তা থাকবে না। চুক্তিটি পড়লে বোঝা যাবে যে, এটি কোনো একটি জায়গা থেকে নাজিল হয়েছে এবং এই কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা সেটি বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলাদেশের প্রতি সামান্যতম ভালোবাসা থাকলে এমন একতরফা চুক্তি কেউ করতে পারে না।

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে যে অব্যবস্থা, নৈরাজ্য, মব সন্ত্রাসসহ দেশের স্বার্থবিরোধী যে অপকর্মগুলো হয়েছে, সেগুলো কিছু কতিপয় ব্যক্তির নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকেই হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষা ও সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইউনূস। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিপরীতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিচেন কেবিনেট, যার মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আসত এবং বাস্তবায়িত হতো। তার পুরো উপদেষ্টা পরিষদের পরিবর্তে হাতেগোনা কিছু মানুষ সিদ্ধান্ত নিতেন, যা বব উডওয়ার্ডের ভাষায় পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যবস্থা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল শক্তি হলো তার সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বচ্ছতা। ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের প্রভাব প্রাতিষ্ঠানিক কেবিনেটের চেয়েও দৃশ্যমানভাবে বড় হয়ে উঠছিল, যা, সরকারের ভেতরেই এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বা ফ্রাস্ট্রেশন তৈরি করে।

গত ২৫ মে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এ নিয়ে কথা বলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে হতো না, বরং কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো। সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে, তবে সেখানে কারা ছিলেন তা তিনি জানেন না।

তিনি আরও জানান, কিচেন কেবিনেটের একটা বৈঠকে তাকে যেতে হয়েছিল, যমুনাতে। পরে জানতে পারেন প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ, এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেতো। আমার কানেও আসতো। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে, এ রকম একেবারে একটা গ্রুপ আছে, যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

আলোচনায় কারা, আসিফের ব্যাখ্যা: দুই সাবেক উপদেষ্টার পর অনেকে এ নিয়ে আঙুল তোলেন প্রভাবশালী আরও তিন উপদেষ্টার দিকে। তারা হলেন আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এ বিষয়ে সম্প্রতি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেন, কিচেন কেবিনেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করেন আসিফ।

তদন্তের দাবি রাজনীতিবিদদের: এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে কিচেন কেবিনেটে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিচেন কেবিনেট নিয়ে কতিপয় সাবেক উপদেষ্টার মন্তব্য ‘ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাই না।’ তারা একে অপরে দায়মুক্তি নিতে চান। আমার মনে হয়, কয়েকদিন পর মুহাম্মদ ইউনূসও এ নিয়ে বলবেন তিনি কিছু জানেন না।

আমরা মনে করি, এত কিছুর দরকার নেই। বরং সে সরকারের কে কী করেছেন তা আলাদা আলাদা করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। তাহলেই বোঝা যাবে, আসলে দেশবিরোধী চুক্তি বা লুটপাটের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক, গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামরান রেজা চৌধুরী তার এক নিবন্ধে বলেছেন,
গণতন্ত্রপ্রিয় হিসেবে এদেশের মানুষ আশা করেছিল, মুহাম্মদ ইউনূস হয়তো বাংলাদেশের অতীতের সকল বাজে রাজনৈতিক নজির থেকে দেশকে বের করে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের একটি নবসূচনা করবেন। কিন্তু তা হয়নি। কেন হয়নি এ ব্যাপারে তাদের সমর্থকদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে। যত ব্যাখ্যাই আসুক না কেন, দেশের মানুষ যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন বিপজ্জনক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে নেবে না সেটি নিশ্চিত। এর জন্য দেশের কোটি কোটি মানুষকে খেসারত দিতে হবে। আর এই খেসারতের জন্য বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে যতটা দুষবে, তার চাইতে অনেক বেশি দুষবে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট (যদি থাকে) রাজনৈতিক নেতাদের। এই অভিযোগ থেকে মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা মাফ পাবেন বলে মনে হয় না।

তার সমর্থকদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বাংলাদেশের কোনো দলই মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু করতে পারবে না।

কথা সত্য, আইনিভাবে হয়তো কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না অতীত ইতিহাস। মীর জাফরকেও দেশের মানুষ আইনিভাবে বিচার করতে পারেনি। কিন্তু তার বিচার হয়েছে; জনগণের আদালতে। দুই বাংলায় মীর বংশের মানুষেরা কখনও তাদের সন্তানদের নাম জাফর রাখেন না। কৃতকর্মের জন্য মীর জাফর পেয়েছেন তার প্রাপ্য স্থান।


অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উদাত্ত আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের দুস্থ ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অসহায়দের মাঝে বস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণের সময় তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আসুন আমরা শপথ গ্রহণ করি, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করব, যাতে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। আজকের এই দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের সাফল্য।"
জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও আদর্শের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, "আজকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। আপনারা যারা বহুদিন ধরে দলের সাথে জড়িত আছেন, আপনারা জানেন, শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ হওয়ার পরে থেকে আমরা চেষ্টা করি এই দিনটিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এই দিনে বিভিন্ন জায়গায় অসহায় মানুষ যারা আছেন, অসুবিধায় যারা আছেন, আমাদের যতটুকু সম্ভব, তাদের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, দলের পক্ষ থেকে শুধু নয়, আপনাদের যাদের পক্ষে সম্ভব, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চেষ্টা করবেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।"
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের আহ্বায়কবৃন্দ, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত হওয়ার মাধ্যমেই নেতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


জিয়াউর রহমানের ৭১'র ভাষণ স্মরণ করল ভারতীয় দূতাবাস

কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছেন জিয়াউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শহীদ জিয়ার স্মৃতি স্মরণে শনিবার (৩০ মে) ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯৭১ সালের মার্চে বেতারে প্রচার হওয়া তাঁর সেই তেজস্বী ভাষণ তৎকালীন জনসাধারণের হৃদয়ে দেশপ্রেমের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিল।
সেই বেতার বার্তার কথা স্মরণ করে হাইকমিশন বলেছে, "আজ বাংলাদেশের জনগণ যখন জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম-এর স্মরণে সমবেত হয়েছে, তখন আমরা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তার কণ্ঠে ধ্বনিত সেই বিখ্যাত বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করছি– যা জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিল, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথে তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল এবং জাতীয় মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।"
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, "আজও, তখনকার মতোই, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভিন্ন আত্মত্যাগের এক গৌরবগাঁথা এবং উভয় দেশের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন যাত্রায় পাশে রয়েছে।" ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর এই দিনে জিয়াউর রহমানের কালজয়ী সেই ভাষণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারতীয় দূতাবাস।


তিন মাসে ১৯৮ কোটি টাকা আয় করল নতুন এটিসি টাওয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার এবং অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম চালুর পর বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) এ খাত থেকে সরকারের আয় হয়েছে ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা। এটি গত দুই বছরের মধ্যে একই সময়ে আদায়কৃত সর্বোচ্চ রাজস্ব। মূলত আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দুই বছরে ফ্লাইং ওভার চার্জ থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরের ব্যবধানে একই সময়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই টাওয়ারটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই এর ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

নতুন এই এটিসি টাওয়ারে সংযুক্ত রাডার সিস্টেমের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে থাকা এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি রাডার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দেশের আকাশসীমা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী প্রতিটি উড়োজাহাজকে শনাক্ত করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত ২০ এপ্রিল এই আধুনিক ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, আগে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বাংলাদেশের আকাশসীমার একটি বড় অংশ নজরদারির বাইরে থাকত। এর সুযোগ নিয়ে অনেক বিদেশি উড়োজাহাজ আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করলেও তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি আদায় করা সম্ভব হতো না। নতুন ও আধুনিক রাডার সিস্টেম স্থাপনের ফলে এখন সেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা নজরদারিহীন এলাকাগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন কোনো ফাঁকফোকর ছাড়াই সব উড্ডয়নকালীন চার্জ যথাযথভাবে আদায় করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের বিখ্যাত থ্যালেস কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশালাকার প্রকল্পের পুরো অর্থই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তির সংযোজন কেবল রাজস্বই বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করবে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে এসব বস্ত্র তুলে দেন। মূলত প্রয়াত নেতার স্মৃতি ও আদর্শকে স্মরণ করে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে মাসব্যাপী সমাজসেবামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।

বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এদিন অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের একটি বিশেষ প্রকল্পেরও যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন।

এই মানবিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ১৬টি পৃথক স্থানে আয়োজিত বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কর্মসূচির শুরুতেই সকাল সোয়া ১১টার দিকে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রার্থনা করেন।

পরিশেষে বলা যায়, দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাৎবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক জনসেবামূলক কাজ পরিচালনা করছে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দুস্থদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণকর দর্শনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩০ মে) বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং ফাতেহা পাঠের পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

এদিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে খাদ্য ও উপহারসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এসব কর্মসূচির কয়েকটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। অন্য স্থানগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও জাতি গঠনে সততার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সততা ছাড়া কোনোভাবেই একটি আদর্শ ও উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়।

তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত এলাকা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘যতদিন আমি আপনাদের সংসদ সদস্য হিসেবে থাকব, আমি কথা দিচ্ছি, কোনো ধরনের দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করবে না।’

গতকাল শুক্রবার জেলার কলমাকান্দা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এক মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই এই মাদরাসা প্রাঙ্গণেও স্থানীয় এলাকার সঙ্গে নিজের গভীর পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, এই স্থানটি আমার অত্যন্ত স্মৃতি বিজড়িত এবং আমার প্রয়াত বাবার অত্যন্ত প্রিয় স্থান ছিল। পাশেই এতিমখানা ও আমাদের জমি রয়েছে।

এই প্রিয় স্থানে এসে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার প্রয়াত বাবার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি তার দাদার নামের সঙ্গে মিল রেখে নেত্রকোনায় প্রতিষ্ঠিত ‘এন আকন্দ কামিল মাদরাসা’র কথাও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ন্যায়পরায়ণতার কথাই বলছি না, আমরা দেখাতে চাই আমরা বাস্তবে ন্যায়ের ও ইনসাফের পথে আছি।

আমি মহান আল্লাহ তায়ালাকে হাজির-নাজির রেখে বলতে পারি, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে এক সেকেন্ডের জন্য, এক টাকা বা এক দানা চাল পরিমাণ দুর্নীতিও এখানে হয়নি।’

সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাচালান ও অবৈধ উপার্জনের দিকে ইঙ্গিত করে দুর্নীতিবাজদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, অবৈধভাবে যে পয়সা ইনকাম করে স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়াচ্ছেন, দিনের পর দিন বিল্ডিং তুলছেন, সব কিন্তু মহান রব দেখছেন। এক মুহূর্তে আপনার সব চলে যেতে পারে। দিনশেষে আমাদের আসল আশ্রয় ও শেষ ঠিকানা ওই সাড়ে তিন হাত মাটি। তাই সততার সাথে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

এ সময় তিনি প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) এর একটি ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি স্মরণ করিয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ভালো কাজ করলে আপনারা সহযোগিতা করবেন, আর ভুল করলে তা শুধরে দেবেন।’

এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও শিক্ষক মো. আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মিলনমেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে এই নারী সংসদ সদস্যকে এলাকার ‘পুত্রবধূ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে উপস্থিত জনতাকে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিদর্শক-১ মো. আকরাম, কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, কলমাকান্দা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুকুমার চন্দ্র বনিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেম এবং আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতিরিক্ত কমিশনার (কাস্টমস) মো. মিজানুর রহমান, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী চাঁন মিয়া এবং এন আকন্দ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন প্রমুখ।

সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই আয়োজনটি এক আবেগঘন ও পারিবারিক আবহের সৃষ্টি করে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল কাস্টমস কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের মতো সাবেক সফল শিক্ষার্থীদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পরিশেষে সততা ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও সুশাসিত কলমাকান্দা-দুর্গাপুর গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্য শেষ করেন।


হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ব্যতিরেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যথাযথ তদারকি ও নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে লাখো মুসল্লি নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পেরেছেন। শুক্রবার তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের প্রধান কার্যাবলি সমাপ্ত হয় এবং এরপর থেকেই বাংলাদেশি হাজিরা নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের প্রথম দলটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। প্রথম দিনেই ১৩টি বিমানে করে পাঁচ হাজার চারশ’র বেশি হাজি বাংলাদেশে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন এবং ২১ মে সর্বশেষ ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছান। আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল হাজির প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর আবাসন, পরিবহন ও ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি ধর্ম মন্ত্রণালয় সময়মতো সম্পন্ন করায় নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই পবিত্র ভূমি সফর করতে পেরেছেন। হজের সার্বিক সফলতা সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ার কারণেই এবারের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফলতার কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ।'

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় হাজিদের সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং ও পানীয় সরবরাহের মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল। আগামীতে হজের খরচ কমানো এবং বেসরকারি এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম নতুন করে মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে এবারের হজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশ সরকার, সৌদি সরকার, হজ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, এজেন্সি এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের হজ সফল হয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে মহান আল্লাহর রহমত।'

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারও হজ ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফল। কোনো ধরনের বড় অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।' তাঁর মতে, সরকার ও সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার চমৎকার সমন্বয় এবং এজেন্সিগুলোর নিষ্ঠার কারণেই হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন করতে সক্ষম হয়েছেন।


জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ১০:৫৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (২৯ মে) শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে ও নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা জনগণের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, জিয়ার কর্মময় জীবন, গভীর দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার অটল অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহিদ হন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান, যা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনমুখী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি ভূমিকা রাখেন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, স্বল্প সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের অগ্রগতিতে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং রণাঙ্গনের বীর সেক্টর কমান্ডার শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে শনিবার (৩০ মে)। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক চক্রান্তের শিকার হয়ে একদল পথভ্রষ্ট সেনাসদস্যের হাতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। রণাঙ্গনের এই বীর সেনানী এবং জেড ফোর্সের অধিনায়কের প্রয়াণ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে শুরু করে আগামী ১ জুন পর্যন্ত টানা আট দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা শোকের প্রতীক হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে এই বীর সেনানীকে নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় অফিসগুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিন বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে ওলামা দলের উদ্যোগে একটি বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলে অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, বস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) মিলনায়তনে দলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়গুলোতেও সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শনের প্রবক্তা। বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের কারণে তাঁকে এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দর্শন ও দল আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ এই রাষ্ট্রনায়কের সততা, দেশপ্রেম এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতি আজও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করার শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুসারীরা।


চামড়া খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব:শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির জানিয়েছেন,চামড়া খাতকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব।

শুক্রবার (২৯ মে) সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্ন হওয়া ট্যানারি শিল্প এমন স্থানে হওয়া প্রয়োজন, যেখানে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারের সুবিধা রয়েছে। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ। ফলে চামড়া খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং মাঝপথে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কার্যক্রমে ইতালিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, ট্যানারিগুলোর তরল বর্জ্য শোধনের জন্য স্থাপিত সিইটিপির দৈনিক শোধন সক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার। অথচ পিক সময়ে উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার, যা বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিইটিপিকে পরিকল্পিত সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন। পাশাপাশি ঋণ সংকটে থাকা ও ঝরে পড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে ঘুরে দাঁড় করানো যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে।

পরে মন্ত্রী শিল্পনগরীর সদর ও বে-ট্যানারি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক অভিযান: সীমান্ত পেরিয়ে আতঙ্কিত মানুষ বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকারের নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও বহিষ্কারের ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান এবং ডিটেনশন সেন্টারে বা আটক কেন্দ্রে বন্দি হওয়ার ভয়ে শত শত মানুষ পরিবারসহ ভারতের হাকিমপুর সীমান্তচৌকিতে এসে জড়ো হয়েছেন।

বিশেষ করে গত সপ্তাহে নথিপত্রহীনদের জন্য বড় আটক কেন্দ্র নির্মাণের সরকারি নির্দেশের পর রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামগ্রিক উদ্বেগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমানে এক চরম প্রশাসনিক ও আইনি দোটানার মধ্যে পড়েছেন। একদিকে স্থানীয় প্রশাসন তাদের দ্রুত ভারত ছাড়ার জন্য মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ আইনি প্রমাণ বা নাগরিকত্বের নথিপত্র ছাড়া বাংলাদেশ সরকার তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। উপায়ান্তর না দেখে অনেক পরিবারই এখন রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তের নদী পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢোকার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালাচ্ছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে দিশেহারা মানুষ দল বেঁধে সীমান্ত এলাকায় আসছেন, যার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে বাস করা শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রিরাও রয়েছেন।

সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের একটি আটক কেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে রাখা হচ্ছে, যেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে কেবল ধর্মীয় ও জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের ভিত্তিতে আসাম থেকে শত শত মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীদের মধ্যে এই আতঙ্ক আরও প্রকট হয়েছে। অনেক তরুণ, যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতেই কিন্তু বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা ওপারে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করা নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জানিয়েছে, রাতের আঁধারে দীর্ঘ নদীপথ ব্যবহার করে মানুষের এই পারাপারের চেষ্টা ঠেকানো বর্তমানে তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার সড়কে কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই দুই কর্মকর্তা হলেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চালকের আসনে বসে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বের হন। গুলশানের বাসভবন থেকে শুরু করে তিনি রামপুরা, মালিবাগ ও বাসাবো হয়ে কমলাপুর এলাকার দিকে এগিয়ে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাই খাল ও নারিন্দা হয়ে বংশাল, গুলিস্তান, শাহবাগ ও নিউ মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সেখান থেকে তিনি জিগাতলা, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে বেরিয়েছিলেন। পরিদর্শনকালে বেশ কিছু স্থানে বর্জ্য পরিষ্কার না হওয়ায় তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় রাস্তায় ময়লার স্তূপ দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতির দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের বিষয়ে তথ্য দিয়ে জানান যে, ঢাকা পরিভ্রমণের সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ অ্যাডভোকেট মেহেদুল ইসলাম।


banner close