মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

নির্বাচিত

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও প্রবাসীরা সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে এবং পরবর্তী সময়ে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তিনি জানান কর্মীরা পরে সৌদি আরবে যেতে পারলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। ৩ লাখ টাকায় যেখানে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭-৮ লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে সেই অর্থ তুলতে তুলতেই কর্মীদের সময় পার হয়ে না যায়।

তিনি আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ে বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আগামীতে শ্রম খাতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ হবে।

আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রতিরক্ষা সম্মেলনে আমন্ত্রণ আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও সম্মেলনের (আইডিইএক্স ২০২৭) ১৮তম সংস্করণে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী, দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। একই সময়ে অনুষ্ঠেয় নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি এক্সিবিশনের (এনএভিডিইএক্স ২০২৭) অষ্টম সংস্করণেও অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস এ তথ্য জানায়। দুটি ইভেন্ট আগামী বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) অনুষ্ঠিত হবে।

স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সর্বশেষ অগ্রগতি ও উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য আইডেক্স এবং এনএভিডিইএক্স একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। এই প্রদর্শনীতে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একত্রিত হয়।

ক্রাউন প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করবে এবং প্রদর্শনীর সাফল্যে অর্থবহ অবদান রাখবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তার সর্বোচ্চ বিবেচনা ও গভীর কৃতজ্ঞতার আশ্বাস জ্ঞাপন করেন।


নির্বাচিত

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন বলেছেন, ‘দেশে সারের কোনো সংকট ছিল না এবং বর্তমানেও কোনো সংকট নেই। দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট দেখানোর অপচেষ্টা করেছে। তবে এই চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। বর্তমানে দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন সার মজুত রয়েছে।’

সারের ডিলারশিপ বিতরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ডিলারশিপ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে তা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে এবং বিষয়গুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

আমদানিনির্ভর পণ্যের তালিকা কমে আসছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এমন কিছু পণ্য ছিল, যা প্রতি বছরই আমদানি করতে হয়েছে। তবে এ বছর ব্যতিক্রম ঘটেছে এবং এখন পর্যন্ত সেগুলো আমদানি করার প্রয়োজন পড়েনি।’


নির্বাচিত

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীন সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত অতিথিদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসব কার্যালয়ে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা হবে।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় সাত হাজার ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং মারাত্মক রোগ ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান। আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সরকারি কার্যালয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ অধূমপায়ী নারী-পুরুষ পরোক্ষ ধূমপানজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। এ ছাড়া প্রায় চার কোটি মানুষ ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এ ক্ষতি থেকে মানুষকে সুরক্ষায় সব জনসমাগমস্থল শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবিও জানান বক্তারা।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের সহকারী চিকিৎসক ডা. নায়লা পারভিন এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকরা।


নির্বাচিত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রজ্ঞাপন জারি

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পূর্ণ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আহসান হাবিব।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর নিয়োগ-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে, তিনি এই পদে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবকে রাষ্ট্রপতির ১০% কোটায় সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অবসরে যাওয়ার পূর্বে তিনি নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করবেন।

জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আহসান হাবিব বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কর প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। তিনি কর অঞ্চল-১/২/৩/৭/৮/১৫, ঢাকা, কর অঞ্চল-খুলনা, কর অঞ্চল-রংপুর, কর আপিল অঞ্চল-খুলনা, কর আপিল অঞ্চল-রাজশাহী ও কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া, তিনি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান
জাপানের হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব কথা জানান।

সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।’

বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’ (বাংলাদেশ-জাপান স্কিলস পার্টনারশিপ) গড়ে তোলা, একটি ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী’ (টেকনোলজিক্যাল ভিলেজ অ্যান্ড ইনোভেশন সিটি) প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি সহযোগিতা বাড়ানো।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদের সময়সীমা নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি

মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের সময়সীমা বাড়াল বিআরটিএ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মোটরযানের বিভিন্ন কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। জরিমানা ছাড়াই মূল কর ও ফি পরিশোধ করে এসব কাগজপত্র আপডেটের সুযোগ দিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র (যেমন ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি পরিশোধ করে হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত শেষবারের মতো বর্ধিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে, সংশ্লিষ্ট সকলকে জরিমানা ব্যতীত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিজেদের মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার জন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

জাপান ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন
জেবিসিসিইসি সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জাপানের স্থানীয় সময় আজ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।একই সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় মাসুমি কাকিনোকি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও রয়েছেন। তিনি একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ক্রসফায়ারেও পিছপা হবে না: আইজিপি

পুলিশ লাঠিপেটা করলে বলা হয় ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’, আবার নীরব থাকলে বলা হয়, ‘দুর্বল পুলিশ’
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা সুসংহত রাখা ও অপরাধীদের কঠোর দমনে সরকারের সুস্পষ্ট অনুমতি থাকলে পুলিশ প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারস্থ শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শরিয়াহভিত্তিক সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে বাহিনীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইজিপি উল্লেখ করেন, পুলিশ লাঠিপেটা করলে বলা হয় ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’, আবার নীরব থাকলে বলা হয়, ‘দুর্বল পুলিশ’। তাই সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পুলিশকে কার্যকর কাজের পরিবেশ ও সক্ষমতা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইন ও সংবিধান অনুসরণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যতা যাচাই না করে গুজবে কান দেওয়া অনুচিত।

বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে পুলিশপ্রধান স্পষ্ট করেন যে কোনো পুলিশ সদস্যের অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাথে পুলিশের কিছু সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার আওতায় গত দুই মাসে ২৭ জন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিজের ঘর আগে পরিষ্কার করার নীতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় চাপানো কিংবা বাহিনীকে অকার্যকর করার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, কে আসবে বা না আসবে তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আলাদা কোনো ভাবনা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আইন ও সংবিধান যেভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেবে, পুলিশ ঠিক সেভাবেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ক্রসফায়ার বাস্তবায়নেও পুলিশ দ্বিধা করবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা দেন।

অনুষ্ঠানে ‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও সুদের কুফলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদ ও ঘুষমুক্ত, যা নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। অতীতে ব্যাংক দখল ও গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

ঢাকার উন্নয়ন ও নাগরিক স্বস্তিতে সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান সড়কমন্ত্রীর

রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, সার্বিক শৃঙ্খলা এবং নাগরিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার রাজধানীর কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের এই জনবহুল শহরে সিটি করপোরেশনের সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা প্রদান করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তদুপরি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হওয়া নানামুখী আর্থিক অনিয়ম ও উন্নয়ন তহবিলের অপব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে না, বরং সড়কের গুরুত্ব ও জনস্বার্থই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।

একই সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, দক্ষিণ ঢাকার প্রধানতম নাগরিক সংকটের নাম জলাবদ্ধতা। এর সাথে নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রাখা হকারদের কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খুব দ্রুত বিশেষ প্রশাসনিক কর্মসূচি কার্যকর করা হবে।

প্রশাসক কড়া বার্তা দিয়ে জানান, ব্যস্ততম রাজপথে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও কাঠামোর আওতায় পুনর্বাসনের সুযোগ থাকবে, যার সফল দৃষ্টান্ত মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেট। এ সময় নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ দায়বদ্ধতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনে যেকোনো ধরনের শৈথিল্য দেখা গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের সংসদীয় মৈত্রী লীগের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানিগুলো
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপান সফরে থাকা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে টোকিওতে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন মৈত্রী লীগের সভাপতি এবং জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সংহত করতে ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য তারো আসোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপান সফরের প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকের স্মৃতিচারণ করেন। অন্যদিকে তারো আসোও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর অতীত সাক্ষাতের বিষয়টিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো সর্বদাই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব গভীর করতে অত্যন্ত গঠনমূলক অবদান রেখেছেন।

বৈঠকে দুই দেশের নীতিনির্ধারকেরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং জনসাধারণের পারস্পরিক মেলবন্ধন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তারো আসো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের একটি বড় অংশই সম্ভাবনাময় তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সেখানে বিদেশি পুঁজির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় জাপানি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগ করতে ব্যাপক আগ্রহী বলে জানান তিনি।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বৈঠকে শিক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) কার্যকর বাস্তবায়নে তারো আসোর ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি শিল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জাপানের অবিচল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অন্যদিকে জাপানি প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন এলডিপির চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাবৃন্দ।

বিষয়:

নির্বাচিত

সাগরের নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এ, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকলে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি আজই রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এ। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন সমুদ্র বেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে এবং বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে বিরাজ করছে মেঘলা ও গুমোট আবহাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমাগত পশ্চিম দিকে এগিয়ে একই এলাকায় ঘনীভূত রয়েছে। এর গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকলে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, গত মধ্যরাতে সিস্টেমটির অবস্থান ছিল পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্র সংলগ্ন সাগর অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। একই সাথে সাগরে থাকা সব মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকালে তথ্যগুলো গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবা সুখী।

বিষয়:

নির্বাচিত

সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক

পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য
পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিশেষ জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে একটি চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি এ অভিযানের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী আয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পুলিশের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিট, আঞ্চলিক পুলিশ ব্যারাক, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণের ফাঁকা স্থানে পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ, ভেষজ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করা হবে।

পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দেশব্যাপী সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close