বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি সোনা উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিজি-১৪৮ নম্বর ফ্লাইটের কার্গো হোল থেকে প্রায় ১৯ কেজি ওজনের ১৬০টি সোনার বার জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একটি সমন্বিত দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত সোনাগুলো অত্যন্ত কৌশলে কার্গো হোলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে এই চালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোনা চোরাচালানের উৎস এবং কার্গো হোলে এই মূল্যবান ধাতুর প্রবেশ নিশ্চিত করার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে এমন বড় ধরনের সোনার চালান উদ্ধারের ঘটনাটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির ফসল বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত সোনাগুলো কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


দুদকের শীর্ষ পদে রদবদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংস্থাটির মহাপরিচালক পদে রদবদল করেছে সরকার।

বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুই আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে দুদকের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দুদকের বর্তমান মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে।

জনস্বার্থে জারিকৃত ওই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


আগামী ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ জুলাই দেশের শীর্ষতম চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও থাকবেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং ঢাকা মেডিকেলের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা প্রদান করে বলেন, আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও ভয়াবহতা বাড়তে পারে। তবে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে থানা, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঢাকা এবং দেশের বড় শহরগুলোর হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হবে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি দেশের চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন যে, বর্তমানে সব ধরনের ভ্যাকসিন, রি-এজেন্ট এবং স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ‘মোবাইল হাসপাতাল’ চালুর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ক্যানসার নির্ণয় প্রক্রিয়ায় আধুনিকতা আনতে ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে রোগীদের ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন।


‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বছরব্যাপী এই আয়োজনের ঘোষণা দেন। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বর্ষের কার্যক্রম আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। কবির সাহিত্য ও দর্শনের প্রচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে হবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।"

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে এই আয়োজনের সার্থকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নানা আয়োজনের মাধ্যমে এটিকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশে জেলা-উপজেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বছরজুড়ে সফলভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরি।" কবির সাম্য ও বিদ্রোহের বাণী যেন প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সরকার সেই লক্ষ্যেই এক বছর মেয়াদী এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

নজরুল বর্ষকে ঘিরে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও উৎসবের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক দর্শনকে জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের জন্য বছরজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী কবির স্মৃতি স্মরণে জাতীয় পর্যায়ের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হলো।


সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সন্ত্রাসবাদের বর্তমান ও পরিবর্তিত রূপ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর ও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভার্চুয়াল অ্যাসেটের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যেভাবে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার (১ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশল বিষয়ক এক বিতর্কে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনরুল্লেখ করেছেন। তিনি সংসদকে অবহিত করে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমনে বাংলাদেশে অত্যন্ত শক্তিশালী আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিদ্যমান। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) সমন্বিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরালো করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ অবশ্যই আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল সন্ত্রাস দণ্ড নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে হবে। তিনি ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখতে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।


আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান গেলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। স্পিকারের দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জানাজায় অংশগ্রহণ ও শোক সন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন শেষে আগামী ৪ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা নিহত হন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ তেহরানে সমবেত হচ্ছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের এই সফরকে ইরানের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরানে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির দাফন ও জানাজার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলার সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন ডলার করার আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টসহ একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ । ছবি সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টসহ একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।

সাক্ষাৎকালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি (MRT) লাইনসমূহ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দেয়।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Bangladesh–Japan Economic Partnership Agreement—EPA) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্যাট্রোল বোট (Patrol Boat) প্রদান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও ভূমিকা আশা করেন।

প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।


ডিজিটাল অর্থনীতির চূড়ান্ত ধাপে বাংলাদেশ

‘বাংলা কিউআর’ চালু, হাজারে খরচ সাড়ে ১১ টাকা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হয়েছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। এই পদ্ধতিতে লেনদেনে গ্রাহকের প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ খরচ হবে সাড়ে ১১ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, সর্বজনীন এই ব্যবস্থার ফলে আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব হবে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে লেনদেনে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি কমবে দুর্নীতি এবং বাড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়। ‘বাংলা কিউআর’ পুরোপুরি সচল হলে টাকা ছাপানো ও এর ব্যবস্থাপনা বাবদ রাষ্ট্রের বছরে যে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, তার সিংহভাগ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে দোকানে দোকানে আলাদা আলাদা ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না। একটিমাত্র ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকলেই যেকোনো ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে মুহূর্তেই টাকা চলে যাবে। অর্থাৎ, একজন ব্যবসায়ী একটিমাত্র কোড ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংক বা বিকাশ-রকেটের মতো এমএফএস গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন।

সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, শুধু বড়ো শপিংমল আর সুপারশপগুলোতেই নয়, সবাই এগিয়ে এলে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি আর মুদি দোকানেও পৌঁছে যাবে বাংলা কিউআর কোড। এর ফলে একসময় মানিব্যাগ বা ছেঁড়া-ফাটা কাগুজে নোটের ব্যবহার অতীত হয়ে যাবে।

এর আগে গত এক এপ্রিল সব ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছিলো, ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যবসায়িক স্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ বসাতে হবে। এক জুলাই থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে নিজস্ব কোড বহাল রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।


ডেঙ্গুর মহাবিপর্যয়ের মুখে দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক

* রাজধানীতে এডিসের লার্ভার উদ্বেগজনক ঘনত্ব * এ পর্যন্ত মৃত্যু ১৯, আক্রান্ত ৬২৬৭   * পুরুষ ৬২ দশমিক ২ শতাংশ, নারী ৩৭ দশমিক ৮ * এখনই লাগাম না টানলে আগস্টে ভয়াবহ সংক্রমণের শঙ্কা * ডেঙ্গুর চরিত্র অন্য বছরের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক * ঢাকার বাইরের জেলাগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিতে 
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

আষাঢ়ের রিমঝিম বৃষ্টির হাত ধরে দেশজুড়ে যখন স্বস্তির আবহ নামার কথা, ঠিক তখনই এক নিঃশব্দ ঘাতকের ডানার গুঞ্জনে ভারি হয়ে উঠছে দেশের বাতাস। সে ঘাতকের নাম-এডিস মশা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবার বর্ষার আগেই এ মশার লার্ভার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ওষুধ ছিটিয়ে নয়, নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকরা। আর ঝুঁকি কমাতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে যদি এখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ জুনের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। আর আগামী আগস্টে তা রূপ নিতে পারে এক প্রলয়ংকরী সুনামি-যা বর্তমানের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুবা সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়-ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী রেখাকে টেনে ধরার সময়ও ফুরিয়ে যাবে।

এদিকে, সারাদেশে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মুত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৩ জন।

বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন রয়েছেন।

এই সময়ে ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৩ জন।

এ বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। চলতি বছরে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, দায়সারা মশক নিধন অভিযান এবং বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক নজরদারির অভাব আজ পুরো দেশের জনস্বাস্থ্যকে এক ভয়াবহ ও নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবহাওয়া বা জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার চিরাচরিত চেষ্টা এবার আর খাটছে না; কীটতত্ত্ববিদরা আঙুল তুলে দেখিয়েছেন—প্রকৃতি নয়, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চরম অভাবই এই আসন্ন বিপর্যয়ের মূল কারিগর।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়বে। জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এবার ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসছেন। দীর্ঘ সময় যাতায়াতের কারণে রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা ও প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে সব রোগীকেই রাজধানীতে আসতে না হয়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে সেখানে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। এভিডেন্সভিত্তিক লক্ষ্য-নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে।

পরিসংখ্যানে রক্তের দাগ: মে মাস আক্রান্ত হয় ৭১৪ জন আর মারা যায় একজন। পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে। জুন মাস ৫,৯২৪ জন আক্রান্ত। এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে আট গুণেরও বেশি! এই গাণিতিক হারের বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার কতটা জ্যামিতিক গতিতে ছড়াচ্ছে। জুনের এই ভয়াবহতা জুলাই এবং আগস্টে আরও কতটা নৃশংস হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

আগস্টের মহাবিপদ সংকেত: ঢাকার বাইরে সংক্রমণের নতুন ফ্রন্টলাইন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার আগামী দুই মাসকে (জুলাই ও আগস্ট) ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত ‘সংকটাপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তার তৈরি করা গাণিতিক পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, এবারের ডেঙ্গুর চরিত্র অন্য বছরের চেয়ে আলাদা এবং আরও বেশি বিপজ্জনক। এতদিন ডেঙ্গুকে মূলত রাজধানী ঢাকার রোগ মনে করা হলেও, এবার ঢাকার বাইরের জেলাগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

হটস্পট জোন: পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের আরও কয়েকটি অববাহিকায় ডেঙ্গু এবার মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।

এই সম্ভাব্য সংক্রমণের বিস্ফোরণ রুখতে হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এখনই নড়েচড়ে বসতে হবে। প্রতিটি জেলা শহর ও পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রমকে জরুরি ভিত্তিতে বিকেন্দ্রীকরণ ও জোরদার করতে হবে।

অব্যবস্থাপনার ব্যবচ্ছেদ: যেখানে গলদজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ জিএম সাইফুর রহমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই লাগামহীন অবনতির পেছনের ভেতরের গল্পটি উন্মোচন করেছেন। উচ্চ আর্দ্রতা, তীব্র তাপমাত্রা আর ঘন ঘন বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে সত্য, কিন্তু কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতাই পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে গেছে।

আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের অনুপস্থিতি: উন্নত বিশ্বে মশার ঘনত্ব এবং ভাইরাসের উপস্থিতি দেখে আগেই বিপদ সংকেত বা ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ চালু করা হয়। বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।

সংক্রমণ ক্লাস্টার চিহ্নিত না করা: কোন এলাকায় ডেঙ্গুরোগী বেশি (হটস্পট বা ক্লাস্টার), তা সময়মতো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ করার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

পূর্বাভাসকে অবহেলা: বিশেষজ্ঞরা আগেই এই ভয়াবহ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতায় তা মাঠপর্যায়ে কোনো কাজে আসেনি।

ক্র্যাশ প্রোগ্রাম: বিজ্ঞানভিত্তিক নিধনে বিশেষজ্ঞদের ৪ দফা বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়েছেন, শুধু লোকদেখানো ড্রেন পরিষ্কার বা নালায় সামান্য লার্ভিসাইড (লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ) ছিটিয়ে ডেঙ্গুর এই সুনামি ঠেকানো যাবে না। উড়ন্ত ও সংক্রমিত পূর্ণবয়স্ক মশা বেঁচে থাকলে তারা প্রতিনিয়ত ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে। প্রাদুর্ভাবের এই শৃঙ্খল ভাঙতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অবিলম্বে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে- নিখুঁত হটস্পট ম্যানেজমেন্টযেসব বাড়ি বা এলাকায় ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হবে, তার চারপাশের ৫০০ গজ এলাকার মধ্যে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ফগিং এবং আলট্রা-লো-ভলিউম (ULV) স্প্রে করতে হবে, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশাটি অন্য কাউকে কামড়ানোর আগেই মারা যায়। সঠিক ও কার্যকর অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগপূর্ণবয়স্ক মশা মারার জন্য শুধু ডিজেলের ধোঁয়া নয়, বরং পরীক্ষিত ও ল্যাবে কার্যকর প্রমাণিত হওয়া মানসম্মত অ্যাডাল্টিসাইড কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। মশার ওষুধে ভেজাল বা অদক্ষতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সমন্বিত ও সর্বজনীন সামাজিক আন্দোলনশুধু সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি তিন দিনে একবার জমা পানি ফেলে দেওয়ার স্লোগান ‘৩ দিনে ১ দিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এটি প্রতিটি ঘরে ঘরে বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন, বহুতল ভবনের বেইজমেন্ট ও ছাদবাগানে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা কবচ নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষায় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এই মৌসুমে শরীর ভালোভাবে ঢাকা থাকে এমন লম্বা হাতাওয়ালা পোশাক পরা। এডিস মশার প্রধান কামড়ানোর সময়-অর্থাৎ ভোরে ও বিকেলে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখা। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মশার প্রতিরোধক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা।


রেমিট্যান্সে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, জুনে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এক বছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে শুধু ৩০ জুনই এসেছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ জুন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন ডলার।

সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরে (জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫) এ পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।


এলপিজির দাম বাড়বে কি না সিদ্ধান্ত কাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোক্তাপর্যায়ে জুলাই মাসে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে কি না, বৃহস্পতিবার জানানো হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী জুলাই মাসে ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।

আরও বলা হয়, ওই দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহিদ প্রকৌশলী ভবনের (ষষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করা হবে।

এ ছাড়া এলপিজির নতুন দর ঘোষণা-সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.berc.org.bd) পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সবশেষ গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সেই সঙ্গে ওই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।


২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৭ সালে হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য ১ জুলাই থেকে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। বুধবার (১ জুলাই) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আগ্রহী হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীদের হাতে রোডম্যাপ তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত থেকে রোডম্যাপ গ্রহণ করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে হবে। আগামী ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে ৮ এপ্রিল থেকে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে হজ হবে।


নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানার অনুমোদন দিয়েছে সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ৩টি নতুন উপজেলা ও ১টি নতুন থানা গঠনের অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠন করা হয়েছে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাংশের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। চট্টগ্রাম মহানগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে হাটহাজারী থানাকে দ্বিখণ্ডিত করে নতুন ‘হালদা’ থানা গঠনের প্রস্তাবও বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।

উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে রাজউকের ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ প্রকল্পের ভৌগোলিক বিভক্তি দূর করতে প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো স্থায়ীভাবে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এই নতুন উপজেলা ও থানাগুলো গঠনের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাও সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা নিকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূরণ হলো।


banner close