আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’
বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।
এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।
তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।
ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।
যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।
নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।
বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।
এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।
ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।
গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।
ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।
বর্তমান বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ শুরুর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৩২১ জন সৃজনশীল প্রকাশক। এই সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ ও ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশকরা বলছেন, পবিত্র রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে ফেব্রুয়ারিতে মেলা অনুষ্ঠিত হলে তারা তাতে অংশগ্রহণ করবেন না। বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্তকে তারা প্রকাশনা শিল্পকে প্রবল অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলেও মনে করছেন।
গত শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশকরা এই অঙ্গীকারের কথা জানান।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বইমেলা কোনও সরকারি রুটিন ওয়ার্ক বা কেবল আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজার মধ্যে মেলা আয়োজনের যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে মেলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
বিবৃতিতে প্রকাশকরা তিনটি প্রধান সংকট তুলে ধরেছেন- এক. পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা: ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলে মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র মাহে রমজান শুরু হবে। রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজট ঠেলে পাঠকরা মেলায় আসবেন না। পাঠকহীন মেলা প্রকাশক ও আয়োজক উভয়ের জন্যই বিব্রতকর।
দুই. মানবিক বিপর্যয়: মেলার স্টলগুলোতে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করে। সারাদিন রোজা রেখে, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের পর এই শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক। আমরা আমাদের কর্মীদের এই কষ্টের মধ্যে ফেলতে চাই না।
তিন. অর্থনৈতিক ঝুঁকি: গত দেড় বছরে প্রকাশনা শিল্প চরম মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরও একটি অসফল মেলায় অংশ নিয়ে অবশিষ্ট পুঁজি হারানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
বাংলা একাডেমি এপ্রিলের ঝড়-বৃষ্টির অজুহাত দেখালেও প্রকাশকরা বলছেন, ঈদের পর মেলা হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু জেনেশুনে রোজার মধ্যে ‘নিশ্চিত ব্যবসায়িক মৃত্যুর ঝুঁকি নেবেন না।
বিবৃতিতে ৩২১ জন প্রকাশক বলেন, ফেব্রুয়ারিতে মেলা আয়োজিত হলে মানবিক ও ব্যবসায়িক কারণে আমাদের পক্ষে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর মেলা আয়োজিত হলে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবো এবং মেলা সফল করতে কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
উৎসবের আমেজে বই কেনাবেচার পরিবেশ তৈরি করতে ঈদের পর মেলা আয়োজনের জন্য তারা বাংলা একাডেমি ও সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির বাসভবন, মাজার গেটসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে যেকোনো প্রকার সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের অর্পিত ক্ষমতাবলে আজ সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাননীয় প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর প্রবেশ গেট, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সমক্ষে সব প্রকার সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।’
এছাড়া বিভিন্ন দাবি আদায় ও প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে যখন-তখন সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে পুনরায় অনুরোধ করা হলো।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত করে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বন্দরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা জানান।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন শ্রমিকরা। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নৌ উপদেষ্টা বলেন, “কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। আর কয়েকদিন পরে রোজা। আমরা প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান চালাচ্ছি। বহির্নোঙরে পড়ে আছে ছোলা, ডাল ও তেল। ১৮ কোটি মানুষকে তারা (ধর্মঘটকারীরা) জিম্মি করেছে। এটা চলতে দেয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে।”
সাখাওয়াত হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বন্দর এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আর কয়েকদিন পরে নির্বাচন, ওই আসনে (চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায়) তারা একটা গণ্ডগোল সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয়কে অনুরোধ করেছি, কারণ সেখানে যদি নির্বাচন ঠিকমতো না হয়, সারাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা উঠবে। এই সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট আমরা কোনো ধরনের নির্বাচন মনিটরিং বা এরকম কোনো কিছু করছি না। নির্বাচন অবশ্যই অবাধ এবং সুষ্ঠু হতে হবে।” তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ বন্দর সচল রাখার বিপক্ষে দাঁড়ালে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ধর্মঘট আহ্বানকারীদের দাবিগুলোকে ‘তুচ্ছ’ হিসেবে অভিহিত করে উপদেষ্টা বলেন, “পোর্ট চালু নাই পোর্ট চালু হবে। ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি রাখা যায় না। তাদের দাবিগুলো খুবই তুচ্ছ- অমুকে সরাতে হবে, তমুককে নিয়ে আসতে হবে, এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে- ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা কী?” তিনি জানান যে, পণ্য খালাস স্বাভাবিক করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে তিনি বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করে বলেন, “ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যাপারে অত্যন্ত পরিষ্কার। এ বিষয়টি এখনো চলমান, তারা একটি চিঠি প্রধান উপদেষ্টাকে দিয়েছেন। তারা আরও সময় চায়। আমরা যে জায়গায় আছি, সেখানে আসতে তাদের আরও সময় প্রয়োজন। আলোচনা চলবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরেও আলোচনা চলবে।” বন্দর কখন নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। সরকারের এই কঠোর বার্তার পর বন্দরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানা রক্ষা ও সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য থেকে একটি অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সই হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নৌবাহিনী সদরদপ্তরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ নামক এই সমীক্ষা জাহাজটি ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ন্যানিসে কালোবুলা ওয়াসাইকাবারা। ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া উভয় দেশের ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় পারস্পরিক বিশ্বাস ও কৌশলগত অংশীদারত্বের বহিঃপ্রকাশ, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ মূলত যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি আধুনিক ও শক্তিশালী হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ। এটি মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার এবং সাব-বটম প্রোফাইলারসহ বিশ্বমানের সব আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত। গভীর সমুদ্রে জরিপ পরিচালনা, সিবেড ম্যাপিং এবং ফিজিক্যাল ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নির্ভুল নেভিগেশনাল চার্ট তৈরিতে জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও এতে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক ও আধুনিক যোগাযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।
এই জাহাজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজনের ফলে দেশের ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এটি ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশন (আইএইচও) প্রণীত নতুন জরিপ মানদণ্ড বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) শিক্ষার্থীদের সামুদ্রিক গবেষণায় এটি ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করবে। নিরাপত্তার দিক থেকেও জাহাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি গভীর সমুদ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধসহ তেল-গ্যাস ব্লকে নজরদারি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এই চুক্তির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “এই সমীক্ষা জাহাজের বিক্রয় যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের মধ্যে গভীর আস্থা এবং দৃঢ় সহযোগিতার প্রতিফলন করে। জাহাজটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরের প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকার সমর্থন করে।”
উল্লেখ্য, এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ জাহাজটি ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীতে প্রথম কমিশন পায় এবং দীর্ঘ সেবা শেষে ২০২৩ সালে এটি ডি-কমিশন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, জাহাজটি ২০২৬ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা ‘রি-জেনারেশন’ কাজ সম্পন্ন করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালে আধুনিক সাজে সজ্জিত হয়ে জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হাজার হাজার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতে ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দীর্ঘদিনের আইনি হয়রানি ও মামলার ঘানি থেকে অব্যাহতি পেতে যাচ্ছেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের মুক্তি দিতে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে একটি জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং অন্যটি আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। এই কমিটিগুলো মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আসা আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব পালন করে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের এই আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি বিভিন্ন সময়ে মোট ৩৯টি সভার আয়োজন করে। এসব সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে জমা পড়া দরখাস্তগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিচার বিভাগের ওপর থাকা মামলার পাহাড় যেমন কিছুটা কমবে, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াইয়ে নিঃস্ব হওয়া রাজনৈতিক কর্মীদের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইন মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, মামলা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান রয়েছে। অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে আরও অনেক হয়রানিমূলক মামলা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান ঘটাতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। পর্যায়ক্রমে আইনি সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব মামলার আসামিরা চূড়ান্ত মুক্তি পাবেন বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং সমসাময়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বৈঠক শেষে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষই গঠনমূলক মতবিনিময় করেছেন। যদিও বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাৎ করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেন। এরপর তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন, যেখানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া তিনি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, নতুন রাষ্ট্রদূতের এই দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনিক সংস্কার ও রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশীদারিত্ব এবং আগ্রহের প্রতিফলন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের এই সন্ধিক্ষণে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে তার এই সরাসরি বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক কমানো এবং মার্কিন বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ২৫টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই হতে যাচ্ছে, যার প্রেক্ষাপটে এই বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাবনা সামনে আনা হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক রয়েছে, যা এই চুক্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে এই শুল্ক শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে কার্যকর দরকষাকষির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিমানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট ২৫টি বোয়িং কেনা হবে যার মধ্যে অন্তত ১৪টি উড়োজাহাজ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। শেখ বশিরউদ্দিন জানান, নির্বাচনের আগে এই চুক্তি করার মূল উদ্দেশ্য হলো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুসংহত করা, যাতে পরবর্তী সময়ে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় এলে বাণিজ্য নিয়ে কোনো সংকটে পড়তে না হয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এটি কোনো তাড়াহুড়ো নয় বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাজার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিমানের যাত্রীসেবা ও ভাড়ার বিষয়েও আশাপ্রদ তথ্য তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, গত এক বছরে কার্যকর পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাড়া প্রায় অর্ধেক কমে এসেছে। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে বিমান বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী হজ মৌসুমে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে প্রবাসীরা মাত্র ২০ হাজার টাকা ভাড়ায় দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিমানের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এই বোয়িং কেনার প্রস্তাব একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাকের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সহজ হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং বিমানের এই বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক রুটে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার কোনো সুযোগ রাখা হবে না। রোববার দুপুরে রংপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা–বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি যাচাই করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন হবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোথাও যদি সামান্যতম অনিয়ম বা কারচুপির কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রশাসন দেরি না করে সাথে সাথে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রয়াসের ওপর তিনি বিশেষ নজর দেন।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে আলাদা আলাদা নিরাপত্তা কৌশল বা ‘সিকিউরিটি প্ল্যান’ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের মতবিনিময় সভায় সেই পরিকল্পনাগুলো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একটি ‘ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল’ বা অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভার মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের দিন শান্তি বজায় রাখা এবং ভোটারদের মনে আস্থা তৈরি করা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা কঠোর হাতে দমন করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে এই ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিডা চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যে বন্দর সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিনিয়োগ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলাপকালে আশিক চৌধুরী দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জ্বালানি স্বল্পতা একটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা না গেলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া এবং বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারার চুক্তির বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন সুর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, এই চুক্তিটি হয়তো ঠেকানো সম্ভব হবে না, তবে চুক্তির শর্তগুলো যেন দেশের স্বার্থ রক্ষা করে এবং কোনো কিছু যেন একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সেদিকে সরকার নজর রাখছে। উপদেষ্টার সেই বক্তব্যের কয়েক দিনের মাথায় বিডা চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই মেয়াদে চুক্তি না হওয়ার ঘোষণাটি বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এই বিশাল প্রকল্পের ইজারা প্রক্রিয়া এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে আরও গভীর পর্যালোচনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই হয়তো আপাতত চুক্তিটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নিকট লিখিত আবেদন পেশ করেছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
সাক্ষাৎ শেষে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান যে, “একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।” লিখিত আবেদনে নারী নেত্রীরা উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তা দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা ও জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদানের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে উক্ত বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফলাফল বলে দাবি করা হয়েছে, তবে আবেদনকারীরা এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য তথ্য ছাড়াই হ্যাকিংয়ের দাবি তোলা সন্দেহজনক।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, হ্যাকিংয়ের অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন যে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিংয়ের দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে বলে তারা মনে করেন। নারী নেত্রীরা বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের পরিশ্রম জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এমতাবস্থায় নারীদের মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করা সংবিধান, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এ ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দিয়ে তাদের কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে অধিকারকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার এবং কর্মজীবী নারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান। সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, উক্ত হ্যাকিংয়ের ঘটনায় বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হলেও গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সাইবার সুরক্ষা আইনের এক মামলায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তা মঞ্জুর করেন। জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলেও নারী নেত্রীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতা হিসেবেই দেখছেন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার নতুন কাঠামো নির্ধারণে আরও একধাপ এগিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বেতন কাঠামোতে সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নবগঠিত এই সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব। অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বমূলক এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। তালিকায় রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিবগণ। এছাড়া অর্থ সংক্রান্ত কারিগরি বিষয়গুলো সুচারুভাবে পর্যালোচনার জন্য এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রককেও (সিজিএ)।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি বেতন কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদনগুলোর প্রতিটি দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে। মূলত বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করবে। কমিটির তৈরি করা এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে সরকার বেতন স্কেল বা নতুন সুবিধা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। মূলত সিভিল প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নিশ্চিত করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কমিটির মাধ্যমে সরকারি চাকুরেদের বেতন বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি একটি টেকসই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের পথ প্রশস্ত হবে।
দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে প্রথম পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের সম্মতি চেয়ে ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন আহ্বান করা হলে সারাদেশ থেকে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন জমা দেয়। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব আবেদন থেকে নীতিমালায় নির্ধারিত মানদণ্ড, গ্রেডিং এবং আঞ্চলিক সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পর্যায়ের এমপিওভুক্তির জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচনাযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে এমপিওভুক্তির এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করা হবে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ডাটাবেজ ব্যবহার করে তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করবে। মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার ফলে এখানে কোনো পর্যায়েই কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সুপারিশ বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই।
অনৈতিক লেনদেন বা তদবির রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি এ বিষয়ে অনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা করে, তবে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষকে মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (+৮৮০১৩৩৯-৭৭৪৫২৮) খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার না করে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে সরকারকে সহায়তা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের জেটিগুলোতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা থেকে শুরু করে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম এবং পণ্য ডেলিভারি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে বন্দরে আসা হাজার হাজার কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রোববার সকাল থেকেই বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের পণ্যবাহী ট্রেলার বা ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। শ্রমিক ও কর্মচারীরা কাজে যোগ না দিয়ে বন্দরের প্রবেশপথ ও আশেপাশে অবস্থান নিয়েছেন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন জানিয়েছেন, সাধারণ শ্রমিকদের শতভাগ সমর্থনে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের সম্পদ রক্ষার এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দমন-পীড়নমূলক আচরণ করছে। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালে শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে তাঁদের দুজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে বন্দর এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা কাজ হবে না। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আন্দোলন শুরু করলেও পরে এটি বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনে রূপ নেয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দর পরিদর্শন করতে এলে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত করেছিলেন। তবে উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সেই আলোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো ফলাফল না আসায় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুনরায় রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। বর্তমানে বন্দরের সব প্রবেশপথে কড়া পাহারা এবং ভেতরে কাজের পরিবেশ স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমাধান না এলে চট্টগ্রাম বন্দরে এক ভয়াবহ পণ্যজট ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।