শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৮ ফাল্গুন ১৪৩২

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটের পর পর্যায়ক্রমে তারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ নির্বাচন কমিশনারগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনবাহিনীর প্রধান যথাক্রমে সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশী সংস্থার প্রধানরা শ্রদ্ধা জানান। এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পরে একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে

প্রথম প্রহরের শ্রদ্ধা নিবেদন যখন চলছিল, তখন নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো মানুষ।ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন শহীদ মিনারের আশপাশে। শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে তারা অপেক্ষা করছেন।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষ হলে শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই হাজারো মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে যান শহীদ মিনার অভিমুখী লাইনে।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের অপেক্ষায় দাঁড়ান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে একুশ ছিলো অবরুদ্ধ, এবার সেই একুশ মুক্ত ’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন পরে একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতা করে থেকে একুশে ছিল অবরোধ এবার সেই একুশে মুক্ত।”

‘‘ আমাদের অনুভূতি সেই জন্যেই একটু ভিন্ন রকম এবং আজকে একটা নির্বাচনের পরে যে সরকার নির্বাচিত সরকার বিএনপির নতুন সরকার জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাও অসীম হয়ে উঠেছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আমরা এটা প্রত্যাশা করছি যে, আমরা জনগণের যে প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোর জন্যে গণতান্ত্রিক সরকারের জন্যে একটা বাংলাদেশে একটি সত্যিকার অর্থেই একটা ইনসাফের ওপর ভিত্তি করে একটা গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা। ”

‘ একুশের যেটা মূল চেতনা ছিল যে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন একটা সমাজ একটা রাষ্ট্র গঠন করা সেই চেতনার ভিত্তিতে আমরা আগামী দিনে এগিয়ে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের এই নতুন একুশের যে অনুপ্রেরণা সে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা সামনের দিকে নিঃসন্দেহে জনগণের কল্যাণের জন্য আমরা কাজ করতে সক্ষম হব। আমাদের মাতৃভাষাকে আমরা আরো সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবো, আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবো, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সমর্থ হবো।”


ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটের পর তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ নির্বাচন কমিশনারগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর তিনবাহিনীর প্রধান যথাক্রমে সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশী সংস্থার প্রধানরা শ্রদ্ধা জানান।

এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পরে একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে

প্রথম প্রহরের শ্রদ্ধা নিবেদন যখন চলছিল, তখন নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো মানুষ।ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন শহীদ মিনারের আশপাশে। শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে তারা অপেক্ষা করছেন।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষ হলে শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।

শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই হাজারো মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে যান শহীদ মিনার অভিমুখী লাইনে।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের অপেক্ষায় দাঁড়ান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে একুশ ছিলো অবরুদ্ধ, এবার সেই একুশ মুক্ত ’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন পরে একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতা করে থেকে একুশে ছিল অবরোধ এবার সেই একুশে মুক্ত।”


চিরগৌরব ও আত্মপরিচয়ের অমর একুশে আজ   

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০০:৪৭
কাইয়ুম আহমেদ

‘মোদের গর্ব মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা’-এই মায়ের ভাষাকে আমাদের রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালির রক্তে রাঙানো দিন আজ; অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনেই মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রক্তে রাঙা হয়েছিল। ছাত্র-যুবক ও সাধারণ মানুষ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরুদ্ধে। রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত, শফিউলদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মাতৃভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও আত্মসম্মানের প্রতীক। গৌরবময় ভাষা আন্দোলনের রক্তেরঞ্জিত এই ইতিহাস যুগে যুগে আমাদের জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস, চিরগৌরর ও আত্মপরিচয়ের দিন। তাইতো কবির ভাষায় গাইতে হয়- মরণ সাগর পারে তোমরা অমর, তোমাদের স্মরি। নিখিলে রচিয়া গেলে আপনারই ঘর, তোমাদের স্মরি।। সংসারে জ্বেলে গেলে যে নব আলোক জয় হোক, জয় হোক, তারি জয় হোক... তোমাদের স্মরি।।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলমুক্ত না হতেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ভাষা ‘বাংলা’ কেড়ে নিতে চেয়েছিল। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভাষণে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেন। বলেন, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। যারা এ ব্যাপারে বিভ্রান্তির-সৃষ্টি করছেন তারা বিদেশী রাষ্ট্রের অর্থভোগী চর তথা পাকিস্তানের শত্ৰু। জিন্নাহর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ছাত্ররা। তারা ‘না’ ‘না’ বলে বিক্ষোভ দেখায়। পরে এই ঘোষণায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে ছাত্র-রাজপথে নেমে আসে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর চোখ রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বাংলাকেই রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মিছিল বের করে। এই আন্দোলন পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে করে। ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায় পাকিস্তানি পুলিশ। এতে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক শহীদ হন। তাদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন ও শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতিসত্তা বিনির্মাণের প্রথম সোপান। বাঙালি জাতির কাছে তাই দিনটি যেমন গভীর শোক ও বেদনার, তেমনি মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক ঐতিহাসিক দিন।

আজ মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদরা সিক্ত হলেন মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগেই প্রস্তুত করা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রাত রাত ১২টা ১মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর থেকেই ফুল হাতে মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আজ সারাদিনই চলবে শ্রদ্ধা নিবেদন।

এদিকে, একুশের ভোরে কালো ব্যাজ ধারণ করে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের জনতা।

একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতে রাখা হবে।

ভাষাশহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব স্যাটেলাইট চ্যানেলে অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদপত্রে থাকছে বিশেষ আয়োজন।


ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ‘জোরদার’ চায় দিল্লি: জয়সওয়াল

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল । ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার ‘বহুমাত্রিক’ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তন্তর করেন।

জয়সওয়াল বলেন, চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

ব্রিফিংয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। সবশেষ গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে আরেক দফা অবনতি ঘটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল মানুষ, সেসময় মিশনে ঢিলও ছোড়া হয়। এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। পরের দিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মকালে সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগিরই ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরবে।


দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত সমস্যার সমাধান ছাড়া দেশের গণমাধ্যমের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়নে সাংবাদিক সমাজের সর্বাত্মক সহযোগিতা চান সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন ফ্যামিলি কার্ড ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা একান্ত প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।

সভাপতির বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আজ আমরা একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সমবেত হয়েছি। বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনের যে স্বপ্ন আমাদের সামনে রয়েছে, সাংবাদিক সমাজ সেই অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

প্রেসক্লাবের জমি ও ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বর্তমান সরকারকে নতুন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘ইফতার মাহফিল ও দোয়া’ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

ইফতার মাহফিলে আরো অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী), যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কবি আবদুল হাই শিকদার, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, জাহেদুল ইসলাম রনি, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক আবু তাহের, এনটিভির পরিচালক নুরুদ্দীন আহমদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিএনপি মিডিয়া সেলের শায়রুল কবির খানসহ দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক নেতা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

ইফতারের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের পেশ ইমাম বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।


এলডিসি উত্তরণ ৩ বছরের জন্য স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘে চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন) তিন বছরের জন্য স্থগিত করতে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা চিঠি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে জাতিসংঘের সিডিপি আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে বসবে। সেখানে বাংলাদেশের অনুরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।

বাংলাদেশে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন স্থগিতের অনুরোধ করে দেওয়া চিঠিতে উল্লখ করা হয়েছে, সরকার যে প্রিপারেটরি পিরিয়ড পেয়েছিল, তা মূলত কোভিড মহামারি-পরবর্তী পাঁচ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু এই সময়ে একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি শিপিং খাতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তন, বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি—সব মিলিয়ে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। ফলে প্রিপারেটরি সময়কাল যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলেও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমন্বয় নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা যায়নি।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে উচ্চ মাত্রার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। একইসঙ্গে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা মোকাবিলায় সময় প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তিন বছরের জন্য একটি ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ এবং সম্ভাব্য সময় বৃদ্ধি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত হতে পারে। এরপর সিডিপি তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী সেপ্টেম্বরে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, গত বছর বাংলাদেশের অনুরোধে একটি মূল্যায়ন পরিচালনা করেছিল জাতিসংঘ। তাতে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হলেও কোনো নির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়া হয়নি; বরং গ্র্যাজুয়েশন প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশের জন্য ‘চ্যালেঞ্জিং’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেওয়া হবে। পুরো সুপারিশ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হতে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং চলমান মূল্যায়নের ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।


প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে আটজনের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন এই দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

মাহদী আমিনকে একসঙ্গে চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো-শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।


একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শণ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ব্যাপক জনসমাগম হবে। এ উপলক্ষে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন। শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অমর একুশের অনুষ্ঠানও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু শহীদ মিনারকেন্দ্রিক নয়; পুরো ঢাকা শহরজুড়েই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

শহীদ মিনারে যেতে নির্দিষ্ট কয়েকটি সড়ক ব্যবহার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা ব্যবহার করা যাবে না। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চানখারপুল দিয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করা যাবে না। নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যদের সুযোগ করে দিতে হবে।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।


বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একুশের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা। এই চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমান সরকার তা সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই দিনে, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদকে, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা।’

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।’

তিনি বলেন, ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সব ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা ভাষা শহীদ এবং স্বাধীনতা অর্জন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।’ তিনি দেশব্যাপী ভাষা বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।


একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় তিনি শহীদ মিনারে উপস্থিত হবেন এবং সে সময় তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেবেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

শহীদ মিনার পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং-শহীদ মিনার রুট অনুসরণ করতে হবে। অন্য কোনো রাস্তা ব্যবহার করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। শ্রদ্ধা শেষে শহীদ মিনার থেকে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চাঁনখারপুল হয়ে স্থান ত্যাগ করা যাবে। কেউ কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য সঙ্গে আনবেন না।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিছু প্রবেশপথে ডাইভারশন চালু থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে সহযোগিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।


তারেক রহমানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

ফোনালাপে দুই নেতা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


দাবি আদায়ের নামে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না: র‍্যাব ডিজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান।

শহিদুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে র‍্যাব সতর্ক অবস্থানে থাকবে। গত দেড় বছরে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে স্থিতিশীলতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতির উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনের নামে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে র‍্যাব আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘিরে র‍্যাব বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাবের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহীদ মিনার এলাকায় ইনার ও আউটার পেরিমিটারভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। পুরো এলাকা কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে ফুট পেট্রল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ মোতায়েন থাকবে। বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।

মহাপরিচালক বলেন, নিরাপত্তাজনিত কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই। তবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দেশব্যাপী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা দেশে বিভিন্ন আয়োজন হবে। এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


ভারতের স্পাইসজেটের জন্য বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না করায় ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে না।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে পড়েছে। একাধিক ফ্লাইট এখন বিকল্প করিডোর ব্যবহার করায় দূরত্ব ও সময় বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের বিপরীতে স্পাইসজেটের কাছে বড় অঙ্কের ‘ওভারফ্লাইট চার্জ’ বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংস্থাটি।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলো এখন বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলছে।

সাধারণত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে যেতে বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়। তবে বর্তমান নিষেধাজ্ঞায় প্রতিটি ফ্লাইটে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে এবং খরচও বেড়েছে।

ইতোমধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা স্পাইসজেটের জন্য এটি নতুন চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হিসাবে সংস্থাটি ২৬৯ কোটি রুপির বেশি লোকসান করেছে। অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা।

বকেয়া পরিশোধ করে পুনরায় অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রুটে স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা সংস্থাটির জন্য কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


banner close