রোববার, ৮ মার্চ ২০২৬
২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

অসাধু উপায়ে দ্রব্যমূল্য না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু এবং ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজানে অসাধু উপায়ে দ্রব্যমূল্য না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, পবিত্র রামজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বরকত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। এ মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।

ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির আরেকটি হচ্ছে যাকাত মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি আমার একটি পরিকল্পনার কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই যাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘জাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও জাকাত পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে... প্রতি বছর বাংলাদেশে এই যাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির জাকাত আদায় হয়ে গেলেও জাকাতের অর্থ দারিদ্র বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, জাকাত দাতাদের ইসলামী বিধান এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে যাতে একজন জাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর জাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে জাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘ইয়াতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ইয়াতিমের প্রতি ‘হক আদায়ে’র গুরুত্ব এবং ইয়াতিমদের নিয়ে আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং ইয়াতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদের একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যায় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।


আজও ছুটির দিনে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ৭ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ শনিবার, ছুটির দিনেও অফিস করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টানা তৃতীয় শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে অফিস করলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন কার্যালয়ে অফিস করেছেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ১২টায় কার্যালয়ে আসেন। এরপরই পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার।

এরপর দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, দেশের ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতারের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয় থেকে সেখানে যাবেন তিনি।


ভিড় কমেনি ফিলিং স্টেশনে, ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে যানবাহনের লাইন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আসন্ন দিনগুলোতে তেলের তীব্র সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্ক থেকে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরেও রাজধানীর বিজয় সরণি, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত কয়েক লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আশিকুজ্জামান চয়ন নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে রাব্বি নামের আরেক চালক বলেন, তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন গুজবে তিনি বাধ্য হয়েই এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কারণ গাড়িতে তেল না থাকলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

এই অস্বাভাবিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিবার বা প্রতি ট্রিপে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২৫ লিটার, পিকআপের জন্য ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বড় ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২২০ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত তেলের মজুদ ঠিক রাখতে এবং সবার মাঝে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা একটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে এখনই দেশের বাজারে দাম না বাড়াতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধেই দ্বিগুণেরও বেশি দামে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীল করবেন না। বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং গুজব ছড়ানো রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার রেশ ধরে বাংলাদেশে যে জ্বালানি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই এগিয়ে যাবেন এমপিরা: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খামখেয়ালি নয়, স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই এগিয়ে যাবেন ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরা— এমনটাই জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় ও শেষ দিনের কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে কার্যকরী সংসদ উপহার দিতেই এ কর্মশালা। সংসদে যোগ দেওয়া নবীন সদস্যরা যেন মানসিক চাপ না নেন, সে লক্ষ্যেই এটির আয়োজন।

তিনি বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রথম ভাষণ দেবেন। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বিএনপি। নতুন সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। এ লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন, যার মধ্যে ১৪৬ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাবেন।


নাশকতা মামলায় চট্টগ্রামে সাবেক শিবির নেতা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া একটি নাশকতা মামলায় সালাউদ্দীন আইয়ূবী (৪৫) নামে এক সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) একটি যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দীন আইয়ূবী হাটহাজারী উত্তর থানা শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সাদেক নগর গ্রামের মো. জানে আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, সালাউদ্দীন দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন।

হাটহাজারী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নাশকতার মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আত্মগোপনে বা প্রবাসে থাকায় পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে যৌথ বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে।

হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেবে সরকার, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্যের পথে’ শীর্ষক এক সংলাপে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং মোট পদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রাইমারি হেলথকেয়ার সিস্টেমকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশব্যাপী ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে এর প্রয়োজনীয় কাঠামো গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসা সেবা প্রদানকে আরও সহজ ও নিখুঁত করবে। প্রতিমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে দেশের সাধারণ মানুষ উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

তবে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় অংশ দুর্নীতির কবলে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সঠিক তদারকি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে যেকোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বা প্রকল্প শেষ পর্যন্ত ‘মেগা দুর্নীতির’ খাতে পরিণত হতে পারে। তাই সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ পরিচালনা করতে একটি নির্দিষ্ট পাইপলাইনিং বা টেকসই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতে অনেক ভালো উদ্যোগ কেবল তদারকির অভাবে দুর্নীতির ভিড়ে হারিয়ে গেছে, যার পুনরাবৃত্তি বর্তমান সরকার হতে দেবে না।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন এম এ মুহিত। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও সরকারের নজরে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা হবে। এই বিশাল নিয়োগ এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


ডিএসসিসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: প্রতি শনিবার পালিত হবে ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা জনদুর্ভোগ ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সরাসরি সমাধান করতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নাগরিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি শনিবার ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। এই বিশেষ দিনে সাধারণ নাগরিকরা কোনো রকম মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন।

ডিএসসিসির এক সাম্প্রতিক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগর ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সর্বসাধারণের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের জন্য এই দিনটি বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নগর ভবনের দুয়ার এখন আরও অবারিত হলো। মূলত নাগরিক সেবার মান বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (রমজান মাস উপলক্ষে) এবং বছরের অন্য সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দারা রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশা নিধন বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলাই সংক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক অভিযোগ সরাসরি প্রশাসকের কাছে জানাতে পারবেন। প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান অথবা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের এই ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’-তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণ করলে একদিকে যেমন দুর্নীতির সুযোগ কমবে, তেমনি অন্যদিকে নাগরিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান নিশ্চিত হবে। এই নতুন উদ্যোগটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।


সংসদীয় সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির অতীত নেতিবাচক ও খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি উন্নত ও আধুনিক সংসদ উপহার দিতে চায়। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখে দেশবাসী আশ্বস্ত হবেন এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংসদের স্বাদ পাবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই বিশেষ কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের সংবিধান (কনস্টিটিউশন), সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর), সংসদীয় রীতিনীতি (কাস্টমস) এবং কনভেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংসদে যে ধরণের উন্নত চর্চা হয়, সেসব বিষয় নিয়েও নবনির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো অতীতের সব নেতিবাচক স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে দেওয়া এবং এমন একটি সংসদীয় পরিবেশ তৈরি করা যা জাতি দীর্ঘকাল প্রত্যাশা করে এসেছে।’

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর দলের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন এমপিদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা নবীন, তারা সতেজ মনে ভালো শিক্ষাটা পাবেন। একটি শিশু যেমন জন্মের পর নতুন পরিবেশ থেকে শুদ্ধ সংস্কৃতি শেখে, আমাদের নতুন সংসদ সদস্যরাও তেমনিভাবে সংসদীয় শিষ্টাচার ও বিধিবিধানের সঠিক শিক্ষা নিয়ে দেশ সেবায় নামবেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই প্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।

উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও আচার-আচরণ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দলীয়ভাবে এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দলের এমপিদের এমন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিএনপি আশা করছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংসদ সদস্যরা গঠনমূলক আলোচনা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন।


বাংলাদেশ আইন সমিতির নির্বাচনে আফজাল সভাপতি ও মাহবুব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আইন সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এ কে এম আফজাল উল মুনীর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচিত কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও একঝাঁক প্রতিভাবান আইনজীবীকে দেখা গেছে। সহ-সভাপতি পদে ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, হাসিনা মমতাজ মিষ্টি এবং সুপ্রিয়া দাসসহ মোট ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মামুনুর রশিদ ও নুসরাত ইয়াসমিন সুমাইয়া। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সালেহ আকরাম সম্রাট ও মো. কামরুল হাসান এবং অর্থ সম্পাদক পদে মো. আরমান হোসাইন দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বেল্লাল হোসাইন ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে আব্দুস সাত্তার রনি নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে হাফিজুল হক ও জাহাঙ্গীর আলমসহ মোট ১১ জন জয়লাভ করেছেন।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত কমিটি তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের বিচার বিভাগের উন্নয়ন এবং সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতারা বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বাংলাদেশ আইন সমিতি সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে।

ভোট গ্রহণ শেষে ভোটার ও অতিথিদের সম্মানে এক জমকালো ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজ্ঞ আইনজীবীরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সদস্যদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তাঁরা একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল সমিতি উপহার দেবেন। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আন্দোলনে তাঁরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।


৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটের ফ্লাইট বাতিল করলো বিমান

আপডেটেড ৭ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই পতাকাবাহী সংস্থা। এর আগে ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আরও কয়েক দিন বাড়ানো হলো।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বাতিল হওয়া রুটের তালিকায় রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবু ধাবি ও শারজাহ, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত সিটি। এই রুটের যাত্রীদেরকে বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি জানানো হবে বলে বিমানের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। যুদ্ধের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশগামী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিমানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে যারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের বিমানের কল সেন্টার অথবা নিকটস্থ সেলস অফিসে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব এখন বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ওপর বড় ধরণের ছায়া ফেলেছে।


সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই, এই সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান নেই। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। জামায়াতের উদারভাবে তা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় কোনো আপস করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে অত্যন্ত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কেবল কঠোর আইন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব।

বিদেশি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমাজে একটি সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তার সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

ইফতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বাম পাশে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।


জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা, সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোরের শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।

সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী আরও বলেন, কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের জ্বালানিসম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেলসংকটের আতঙ্কে যশোরে হঠাৎ তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ বাইকারই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল দাবি করছেন। এতে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে অকটেন মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল।

সেখানেও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে তেল। পাম্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পগুলোতে আগামী রোববার পর্যন্ত তেলের মজুত থাকলেও বাইকারদের অতিরিক্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার আগেই শেষ হবে তেল। ফলে বাইকারদের আতঙ্কে যশোরে সৃষ্টি হতে চলছে তেলের তীব্র সংকট।


banner close