বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
২০ ফাল্গুন ১৪৩২

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, আমরা তাদের সেবক: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ২০:৪২
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, আমরা কেবল তাদের সেবক।” অতীত সরকারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

আজ বুধবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাহী বিভাগকে দলীয় প্রভাব ও অপব্যবহারমুক্ত রেখে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঈদের আগেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিযন্ত্র ও কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সেবা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালুর কথা তুলে ধরে বলেন, এ ক্ষেত্রেও কার্ডভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজিত আরেকটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। কাজেই জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে আমরা সেবকই থাকতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়নের জন্যই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নামফলক স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন সেটি গোপন করে রাখা হয়েছিল। আবার সে নামফলক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রেস ক্লাবকে এগিয়ে নিতে হবে।”

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় সভায় আবু সুফিয়ান এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক মো. শাহনেওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও মিয়া মোহাম্মদ আরিফসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, চট্টগ্রাম পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. সাঈদ হাসান, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


​ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ২০:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক নির্ধারিত বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ঠিকাদাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। বুধবার লালবাগের শহিদনগর শ্মশানঘাট এলাকায় মশক নিধনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাক-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।

সম্প্রতি মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসির উদ্যোগে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ডিএসসিসির ২৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় এ প্রোগ্রামের আয়োজিত হয়। বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ২০০ জন কর্মী অংশ নেন। তারা খাল, ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার ওষুধ প্রয়োগ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি কেউ দাবি করলে, আপনারা সিটি কর্পোরেশনে জানাবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হবে।"

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএসসিসির কবরস্থানে লাশ দাফন ও শ্মশানে লাশ দাহ্য বাবদ নিবন্ধন ফি ১০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার ঘোষণাও দেন প্রশাসক।

তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা শহর বাংলাদেশের মুখ। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এলে ঢাকা দেখেই দেশের অবস্থা বোঝা যায়। তাই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রীন ঢাকা’ কর্মসূচির কথা বলেছেন।

পুরান ঢাকাকে আদি ঢাকা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, আমরা চাই দক্ষিণ সিটির মধ্যে পুরান ঢাকাই সবচেয়ে উন্নত হোক। এখানে রাস্তার লাইট ঠিকমতো জ্বলবে, বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।

দলের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও ব্যবসা নেই, কারও ঘরবাড়ি নেই, কেউ পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের বিষয়েও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যেমন ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

​অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জাহানে ফেরদৌসসহ বিভাগীয় প্রধানগণ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র শ্রদ্ধা

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংসদকে প্রাণবন্ত করতে ও মানুষের কল্যানে কাজ করতে চাই
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবনিযুক্ত ৬ হুইপকে নিয়ে দুপুরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ১৯:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে তাঁদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এ সময় চিফ হুইপের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ছয় হুইপ মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং গনতন্ত্রের মা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জীয়া ছিলেন বাংলাদেশের খেটে খাওয়া গণমানুষের নেতা। তারা দেশের স্বার্থে, দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। তাদের রেখে যাওয়া আমানত বর্তমান বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় সমগ্র বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিনত করা এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

চিফ হুইপ আরও বলেন, পার্লামেন্ট হবে সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। আমি এবং হুইপবৃন্দ যারা আছেন আমরা সবাই চেষ্টা করবো পার্লামেন্টকে কার্যকরী করার এবং সত্যিকারের গনতন্ত্র যেন প্রতিষ্ঠালাভ হয়, তার জন্য যতটুকু করার তা আমরা করবো।

সংসদ প্রতিদ্বন্ধিতাতামূলক হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন- সংসদ কখনো প্রতিদ্বন্ধিতামূলক হয় না। প্রতিদ্বন্ধিতামূলক হয় নির্বাচন। সংসদ হবে কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু। যেখানে প্রাণোবন্ত আলোচনা হবে,জাতীয় সমস্যা সমাধানের আলোচনা হবে। দেশের সাধারন মানুষের কল্যানে যে সমস্ত কার্যক্রম করা দরকার, আলোচনা করে সমাধান দরকার, আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি সে সমস্ত কার্যক্রমই সংসদে হবে ইনশাআল্লাহ।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে না পাওয়ায় এই আদেশ আসে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তিনি আদালতকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ১২ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান। বাকি ১০ আসামির নাম এখনো প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এই ১২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অভিযুক্তরা অস্ত্রধারী ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ভিত্তিতে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


৮ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কে পেলো কোন দফতরের দায়িত্ব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কার্যক্রমে গতিশীলতা ও সমন্বয় বাড়াতে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারের ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনায় বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বভার সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. শরীফুল আলম এখন থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব। একই মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বে থাকা মো. রাজিব আহসানকে দেওয়া হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব।

এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এখন থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ফারজানা শারমীনকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. নুরুল হক পেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ববি হাজ্জাজকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কাজের দক্ষতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।


চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবার সারা দেশে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলায় চাঁদাবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী এবং দাগি আসামিদের তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে। এই তালিকা ধরে খুব শিগগিরই দ্রুত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে। এই উদ্যোগে দেশবাসীকে নিশ্চিন্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযানে জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা অটুট রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ডিএমপি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এ ক্ষেত্রে পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিগত সরকারের সময়ে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক দোষ চাপানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তির দায়ভার পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তাতে পারে না। পুলিশকে এখন জনগণের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃঢ় সংকল্প লক্ষ্য করেছেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। অতীত ভুলে নতুন কৌশলে পুলিশ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মূলত সারা দেশে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী

আপডেটেড ৪ মার্চ, ২০২৬ ১৫:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি আমদানির আগের সব প্রতিশ্রুতি ও চালান আসা বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত এই সংকট মোকাবিলায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রতিনিধি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। মূলত বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার কারণে জ্বালানি সরবরাহের চেইন ভেঙে পড়ায় এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুদ আছে, তা দিয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত চলা সম্ভব হবে। তবে সামনেই ঈদুল ফিতর, তাই ঈদের সময় পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মজুদকৃত জ্বালানি কীভাবে সাশ্রয়ী উপায়ে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস হিসেবে সব জায়গা থেকে জ্বালানি আমদানির জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

এদিকে আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে অসহনীয় পর্যায়ের কোনো বিদ্যুৎ সংকট হবে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং লোডশেডিং এড়াতে বিদ্যুতের অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত নয়, প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি অপরিবর্তনীয় কিছু নয়; বরং প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

দুই দেশের বাণিজ্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয় প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলার। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় দুই দেশের এই সম্পর্কের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নসহ অর্থনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে যে সমালোচনা চলছে, সে বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো চুক্তিতেই উভয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে এবং কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে গেলেও অন্য ধারা অপর পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, চুক্তিটিকে এখনই সম্পূর্ণ ইতিবাচক বা নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে এতে পরিবর্তনের পথ খোলা রয়েছে।

বৈঠকে ভিসা বন্ড ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন আদালতে জরুরি ক্ষমতার আওতায় শুল্ক সংক্রান্ত রায়ের বিষয়টি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া ভিসা বন্ড ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত যেন সহজ ও বাধাহীন হয়। যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং নন-ট্যারিফ বাধাগুলো দূর করা গেলে ভবিষ্যতে মার্কিন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। আজ বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাঁরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আনসার ও ভিডিপির দেশপ্রেম এবং পেশাদারত্বের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

সাক্ষাতে আনসার ও ভিডিপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।


পাঁচদিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে বাতিল হলো ১৭৩ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত পাঁচ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আজ বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করার মধ্য দিয়ে এই অচলাবস্থার শুরু হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে; ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল ৩ মার্চ ৩৯টি এবং আজ ৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত আরও ২৫টি ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। ধারাবাহিক এই ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিমানবন্দরের নিয়মিত শিডিউল পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার যাত্রী বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আজ বুধবার বাতিল হওয়া ২৫টি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮টি ফ্লাইট রয়েছে এয়ার অ্যারাবিয়ার। এছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি এবং কাতার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি করে ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। কুয়েত ও জাজিরা এয়ারলাইন্সের আরও ৪টি ফ্লাইটও এই তালিকায় রয়েছে। আকাশপথের এই অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় এবং নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে তাঁরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দেশগুলোর আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে এবং আকাশপথ নিরাপদ হওয়ার সাথে সাথে নতুন শিডিউল ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ওপর বড় ধরণের ছায়া ফেলেছে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বললেন পল কাপুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় পল কাপুর কেবল ‘আলোচনা ভালো হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে) আসতে আমাদের সব সময় ভালো লাগে।’

এদিন উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাশাপাশি কৌশলগত প্রতিরক্ষা ইস্যুগুলো আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্র কেনাকাটাবিষয়ক চুক্তি ‘আকসা’ (ACSA) এবং সামরিক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষার চুক্তি ‘জিসোমিয়া’ (GSOMIA) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সাংবাদিকরা তা জানতে চেয়েছিলেন। তবে এসব সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো সরাসরি জবাব না দিয়ে পল কাপুর ইতিবাচক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফরকে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার বিকেলেই মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবেন। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। এছাড়া সন্ধ্যায় তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

সফরের শেষ দিন অর্থাৎ আগামীকাল বৃহস্পতিবার পল কাপুর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন। এরপর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের ইতি টানবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। গত ৩ মার্চ ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই পল কাপুরের এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণে তাঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পল কাপুরের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর উচ্চপর্যায়ের কোনো মার্কিন প্রতিনিধির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও একান্ত আলোচনায় বসবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে পল কাপুরের তিন দিনের ঢাকা সফর শুরু হয়। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করাই তাঁর এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ দিনভর অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন পল কাপুর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে বসবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় তিনি আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) আয়োজনে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিনে পল কাপুর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিকের আগমনে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন নতুন মাত্রা পাবে, তেমনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে পল কাপুরের এই সফরটি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অংশীদারিত্বের এক নতুন রূপরেখা তৈরি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


সিসা লাউঞ্জের আড়ালে মাদক ও অনৈতিক কাজ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর গুলশান ও বনানীসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় পরিচালিত অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জ ও সিসা বারগুলো অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সিসা সেবন বন্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, র‍্যাব মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশান-বনানীসহ অভিজাত এলাকায় অবৈধ সিসা বার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

এরও আগে, গত ৮ জানুয়ারি অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়, যেখানে সিসা বারের আড়ালে মাদক ব্যবসার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।

সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় রাতের গভীরে ক্যাফে বা লাউঞ্জের আড়ালে সিসা বারের গোপন আড্ডা জমে ওঠে। প্রচলিত আইনে দেশে সিসা বার পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমতি নেই। আইনত নিষিদ্ধ হলেও তদারকির অভাবে এই সংস্কৃতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজধানীর প্রায় শতাধিক সিসা বার চালু রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৫০টি তরুণ-তরুণীদের প্রধান আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। এসব জায়গায় তামাকজাত সিসার সঙ্গে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল এমনকি লিকুইড কোকেনের মতো ভয়াবহ মাদক মিশিয়ে সেবন করা হয়। উচ্চ শব্দে সংগীত ও অ্যালকোহলের গন্ধে সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি হয়।

শুধু মাদক নয়, এসব সিসা বারে তৈরি করা হয়েছে সাউন্ডপ্রুফ গোপন কেবিন, যেখানে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার থাকে। এসব কেবিনে মাদক সেবনের পাশাপাশি নানা ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলে আসছিল, যা বন্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিলেন উচ্চ আদালত।


banner close