শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩৪৯ এমপির ভোটার তালিকা, গাজী নজরুলও পাচ্ছে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

স্পিকারের সাথে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকার তথ্য নিশ্চিত করেন।

ভোটার তালিকায় সাধারণ আসনের ২৯৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতায় ঋণখেলাপির কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তিনি ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার পদ বাতিলের আর্জি স্পিকারের কাছে জানালেও তা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আইন অনুযায়ী স্পিকার কর্তৃক আসন শূন্য ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদাধিকার বলে সংসদ সদস্য বহাল রয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল:

মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে)

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়, ১৮ আগস্ট (বিকেল ৪টা পর্যন্ত)

ভোটগ্রহণ (প্রয়োজন সাপেক্ষে) ২০ আগস্ট (দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে) ।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন; অন্যথায় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।


নির্বাচিত

মন্ত্রীদের বেতন হওয়া উচিত ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ: প্রতিমন্ত্রী নুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবং তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই পরামর্শ দেন। প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে নির্বাচনী এলাকার সামাজিক ও মানবিক চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে অনৈতিক পথে পা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জানান, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য সর্বমোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো পান, যা বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রতুল। বিশেষ করে যাদের ব্যক্তিগত বড় কোনো সম্পদ নেই, তারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আর্থিক চাপের মুখে পড়েন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য এই বেতনে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” তিনি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে নুর বলেন, দুর্গম ও খারাপ সড়কে চলাচলের জন্য নিরাপদ যানবাহনের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে করমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল হওয়ায় তিনি সচিবদের মতো এমপিদের জন্য সরাসরি সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, “একজন এমপি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন। মেয়াদ শেষে গাড়িটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এ ধরনের সুবিধা থাকা উচিত।” তার মতে, ছোট গাড়িতে যাতায়াত করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে, অথচ ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ বা দামি গাড়ি কেনার সামর্থ্য সব সংসদ সদস্যের নেই।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারি দপ্তরে জনগণের ভোগান্তি কমাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।


নির্বাচিত

স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের খবরদারি করছে না। তিনি মনে করেন, একটি মজবুত গণতান্ত্রিক কাঠামো বিনির্মাণের জন্য মুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তিনি দাবি করেন, অতীতে সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে সংশয় ছিল, বর্তমানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। সেমিনারে উপস্থিত আলোচকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশে স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে উদ্বেগ একসময় ছিল, বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিস্থিতি নেই। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বক্তারাও সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। আলোচকদের এই পর্যবেক্ষণ ও মতামত আমি সরকারপ্রধানের কাছেও পৌঁছে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, তেমনি গণতান্ত্রিক পরিবেশও শক্তিশালী গণমাধ্যম বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই এই দুই বিষয়কে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।’ মন্ত্রীর মতে, সংবাদমাধ্যমকে কেবল সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না, এটি একটি শিল্পও বটে। তাই এখানে বিনিয়োগ ও মুনাফার বিষয় জড়িত। তবে জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতার বিষয়টি অগ্রগণ্য। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম কেবল একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি শিল্পও। ফলে এ খাতে বিনিয়োগ, পরিচালনা এবং মুনাফার বিষয়ও রয়েছে। তবে একই সঙ্গে গণমাধ্যমের রয়েছে জনস্বার্থ রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই এই খাতকে এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, যেখানে মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং সরকারের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে।’

বর্তমান সময়ের জটিল তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনকার গণমাধ্যম ব্যবস্থা অনেক বিস্তৃত। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের ইকোসিস্টেম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। প্রচলিত সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা তথ্যপ্রবাহ ও সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নতুন প্রজন্মের গণমাধ্যম গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’ সবশেষে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে নীতিমালার মাধ্যমে একটি উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়বে, সাংবাদিকদের জন্য উন্নত বেতন-কাঠামো, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।’


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট ২০ আগস্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৩ আগস্ট, যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট এবং ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এ তফসিল ঘোষণা করেন।

এখন অপেক্ষা, আগামী ৫ বছরের জন্য বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা দেখার। এটি ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় পদটি শূন্য হয়।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই ভোটের দিন নির্ধারণ করেছে ইসি। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারে ভোট হয় সংসদ কক্ষে এবং নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে। একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট হয়; সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। ভোট সমান হলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীকে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে আগে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত কেউ এ পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং অন্য একজন সমর্থক হিসেবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছর। কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে তার নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন- এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চললেও এখন সেই সিদ্ধান্তের ভার এককভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে।

সরকার দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, ইতোমধ্যে তা ঠিক করেছেন তারেক রহমান। এই নাম প্রধানমন্ত্রীর ফোল্ডারে সংরক্ষিত আছে। অতীতে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে আনুগত্য, দক্ষতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া বিএনপি এবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনেক বেশি সতর্ক।

দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ হলেও রাজনৈতিক সংকটের সময় এ পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করে বিএনপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অন্যদিকে অদক্ষতার কারণে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাই অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষ, সাহসী, গ্রহণযোগ্য ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিতে চায় বিএনপি।

গত শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনের কার্যক্রম, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

সবশেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর অর্পণ করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সরাসরি দলের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেওয়াকে দলটির অভ্যন্তরীণ আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন্দ্র করে দলটি একক নেতৃত্বের অধীনেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেন, সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানের পরিচয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে অতীতের ভালো এবং তিক্ত-দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় বিএনপি বিবেচনায় নেবে বলে দলটির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

প্রথমত দেশ ও দলের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস; দ্বিতীয়ত, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা এবং তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি পদের নেতা বা ব্যক্তির মধ্যে কিছুটা সাহস থাকাও প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি।

যেমন ১৯৯৬ সালের মে মাসে বিএনপি সরকারের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাহসিকতায় তৎকালীন সেনাপ্রধান লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

অন্যদিকে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। কিন্তু বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য থাকলেও অদক্ষতার কারণে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ব্যর্থ হন বলে অনেকে মনে করেন।

ফলে দেশে এক-এগারোর জরুরি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়তে তিনি বাধ্য হন। এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তিনি সাহসী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

সার্বিকভাবে এর ফলাফল পুরোপুরি বিএনপির বিপক্ষে গেছে বলে আলোচনা আছে। অনেকের মতে, শুধু দলীয় আনুগত্য যে কাজে লাগে না, ইয়াজউদ্দিনের ঘটনায় তা প্রমাণিত।

অন্যদিকে সাহসের অভাব না থাকলেও বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে রাষ্ট্রপতি করা হয়।

কিন্তু ওই পদে তাকে বেছে নেওয়ার ফলও শেষ বিচারে বিএনপির পক্ষে যায়নি। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন না করা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ না করা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে মুন্সীগঞ্জে স্বাগত জানিয়ে ছেলে মাহী বি চৌধুরীর তোরণ নির্মাণসহ কয়েকটি ঘটনায় মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

এসব ঘটনার সূত্র ধরে ২০০২ সালের ১৯ ও ২০ জুন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাকে ‘ইমপিচ’ করার সিদ্ধান্ত হলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।


নির্বাচিত

মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ-ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে এখন ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে বেড়েছে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) চট্টগ্রামের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ কয়েকদিনের মধ্যে পুরোপুরি মেরামত সম্পন্ন হলে পুরোদমে গ্যাস সঞ্চালন শুরু হবে।

এর আগে, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটির পুরো অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সবররাহ অর্ধেকে নেমে আসে। নিয়মিতভাবে ৯৫০ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আরপিজিসিএল।


নির্বাচিত

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তাবিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।’ যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

আফরোজা খানম আরও বলেন, ‘যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।’ বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে।’ পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএও’র নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।


নির্বাচিত

বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন

কাজী জেসিন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কাজী জেসিন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০১’-এর ১১(২) ধারা অনুসরণে কাজী জেসিনকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা এবং সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে বিদ্যমান সকল প্রকার কর্ম-সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে যে, নিয়োগের আনুষঙ্গিক অন্যান্য শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। গণমাধ্যম ও উপস্থাপনা অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাজী জেসিনের নিয়োগ রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমের প্রশাসনিক ও বস্তুনিষ্ঠ সম্প্রচার কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে অডিও বক্তব্য দেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে। গত বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং ভারত সরকার তা অনুমোদন করছে। এতে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’ তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ অতীতেও বিভিন্ন ঘটনার পর ‘জঙ্গিবাদ’ ও ‘চরমপন্থার’ বয়ান সামনে এনে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করেছে। একই কৌশল এখন বিদেশের মাটিতেও অনুসরণ করা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সরকার ও জনগণই সম্পর্কের উন্নয়ন চায়। তবে ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। জ্বালানি, পানি, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে। তবে শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাই এ বিষয়ে ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’


নির্বাচিত

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মো. ওবায়দুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে মো. ওবায়দুর রহমানকে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং চলতি বছরের জুন পর্যন্ত উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। মো. ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়, যেখান থেকে বর্তমান পদায়নের মাধ্যমে তিনি নতুন দায়িত্ব পেলেন।


নির্বাচিত

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বসছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সকল বিমানবন্দরে ভিআইপি ও সিআইপিসহ প্রত্যেক যাত্রীর জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভার সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন অডিট প্রসঙ্গে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অডিটের ফলাফলের ওপর দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নির্ভরশীল, তাই আইকাওর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল কমপ্লায়েন্স দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, “ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সমান। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একই নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে।” এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নির্বিঘ্ন ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান যে, দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানার বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকাই উত্তম।” পাশাপাশি তিনি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা ও আন্ডার ভেহিকেল স্ক্যানিং সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব ও অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, পুলিশ, এপিবিএন ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

ডিএমপির ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাত সহকারী কমিশনারকে (এসি) বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে গুলশান বিভাগের পেট্রোল-ক্যান্টনমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সাকিলুর রহমানকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পরিবহন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মুশফিকুর রহমান তুষারকে লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তানিয়া সুলতানাকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

লজিস্টিকস বিভাগের প্রকিউরমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ সুরাইয়া উর্মিকে পিওএম-পশ্চিম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহফুজার রহমানকে প্রটেকশন বিভাগের বঙ্গভবন-নিরাপত্তা-১ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ওয়েলফেয়ার ও ফোর্স বিভাগের নারী পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নুসরাত ইয়াছমিন তিসাকে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগের ট্রাফিক-পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ভারতকে বলেছি পাইপলাইনে আরও বেশি ডিজেল দিতে: জ্বালানিমন্ত্রী

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন ভারতের কাছে আরও বেশি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এদিন ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে অনেক অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, সে রকম রুটিন মিটিং ভারতের অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যাপার আছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে, সেখান থেকে ডিজেল আসে। তাদেরকে বলেছি, আরও বেশি (ডিজেল) দেওয়ার জন্য।’

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে টুকু বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।’

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান টুকু। তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার সমস্যাও যাবে না।’

বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা বলি বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে কেউ আসে না।’

ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি আমরা। মার্চ মাসে যে গরম ছিল

জুন মাসে সে গরম ছিল না।’

একজন গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিল আসতো সাড়ে তিন হাজার টাকা। এখন আসছে সাত হাজার টাকা।

‘আমার লোক পরীক্ষা করে দেখে এসেছে, উনি দুই টনের দুটি এয়ার কন্ডিশনার চালান। উনার ফ্রিজ আছে, ব্লেন্ডার চালান। এত কিছু চালানোর পরেও সাত হাজার টাকা যদি বেশি বিল হয়...আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও সাত হাজার টাকা দিয়ে এত কিছু চালানো যায়,’ যোগ করেন তিনি।


নির্বাচিত

মেয়েকে নিয়ে বাবার কবর জিয়ারত করলেন জোবায়দা রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী এবং নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মাহবুব আলী খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নে বনানী সামরিক কবরস্থানে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁর কন্যা ও তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, মরহুম মাহবুব আলী খানের প্রয়াণ দিবস স্মরণে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর নিজস্ব বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর এবং তাঁর সহধর্মিণী সৈয়দা ইকবাল মন্দ বানু। তাদের দুই কন্যাসন্তান হলেন শাহিনা খান জামান ও ডা. জুবাইদা রহমান।


নির্বাচিত

banner close