আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’
বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।
এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।
তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।
ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।
যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।
নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।
বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।
এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।
ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।
গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।
ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।
আগামী পয়লা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী দিনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন-সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।
টাঙ্গাইল ছাড়া অন্য উপজেলাগুলো হলো—পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।
বৈঠকসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণসুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।
বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটির দিনেও সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে তিনি সচিবালয়ে যান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
মন্ত্রিসভার এ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ সময় আবর্জনা পরিষ্কারে দেশীয় পদ্ধতিতে আধুনিক ভ্যাকুয়াম তৈরির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক করবেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, আজ পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটি। এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার (১৮ মার্চ) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এর ফলে মঙ্গলবার থেকেই মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা সাতদিনের ছুটি শুরু হয়েছে। তবে ছুটির এই আমেজের মধ্যেও দাফতরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে এসেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার আগে রাজধানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশ ও বাহির্গমন পথ গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শুরু করেন তারা।
এ সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা, টিকিট বিক্রি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তারা।
আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার টার্মিনালে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপের কথা জানিয়ে একে ‘এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপের কথা তিনি তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, আজ ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
স্ট্যাটাসে মাহদী আমিন সরকারের ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে।
মাহদী আমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ হুবাহু তুলে ধরা হলো :
সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা
১. ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি– ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২৫০০ টাকা সহায়তা। মাত্র ২১ দিনে বাস্তবায়ন, সরকারের মানবিক অগ্রাধিকারের উদাহরণ।
২. ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী— ৪,৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।
৩. ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ— নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ। সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা— দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম মাশায়েখদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি
৫. কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ— প্রায় ২৭,০০০ কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে শিগগিরই কার্যক্রম শুরু, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, নতুন উদ্যমে চাষাবাদে সহায়তা।
৬. দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি— ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন, ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু। সেচ উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন
৭. সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময়— প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন; কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
৮. ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস— প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত।
৯. বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত— উপস্থিত থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
১০. এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল— শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।
অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতা
১১. বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা— রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি ক্রয়।
১২. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ— ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।
১৩. শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ— সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধ। পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
১৪. রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু— পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
১৫. স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি— স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
১৬. পুনর্ভর্তি ফি বাতিল ও লটারি বাতিল— প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল; লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।
১৭. বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা— রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
১৮. ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ— ৯,০০০ শিক্ষক নিয়োগ, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার।
১৯. ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি— শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত; নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত উদ্যোগ; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু।
স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ
২০. ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসা কেন্দ্র— স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু; ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।
২১. ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান— সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
২২. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা— গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
২৩. নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস— সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ; সাইবার বুলিং প্রতিরোধ।
রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ
২৪. রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়— সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি; অপচয় রোধে ইফতার সীমিত।
২৫. অবৈধ দোকান উচ্ছেদ— কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ।
২৬. শহীদ সেনা দিবস— ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ।
২৭. ঢাকা হয়রত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল— উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ।
২৮. বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট— ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন।
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার নেতৃত্ব এভাবেই সাধারণ মানুষের আশা ও অনুভূতিকে ধারণ করছে, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করছে। অভূতপূর্ব এ পথযাত্রায় নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে, ইনশাআল্লাহ। তাই তো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শুরু হলো। গতকাল সোমবার ছিল চলতি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস, যার ফলে বিকেল থেকেই রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলো থেকে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এবং প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দ প্রতিটি মানুষের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে।
এ বছরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ শনিবার বাংলাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। এর সাথে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট ছুটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত দিনে। মূলত ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে সরকার এই দীর্ঘ অবকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে দীর্ঘ এই ছুটির আনন্দ ও অবকাশ সবার ভাগ্যে সমানভাবে জোটেনি। জনস্বার্থ ও জরুরি সেবাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে বেশ কিছু খাতের কর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের মতো অপরিহার্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের জন্য এই ছুটি কার্যকর হবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জরুরি সেবা সচল রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই সময়ে কর্মব্যস্ত থাকবেন। অন্যদিকে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের সময়সূচি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পৃথক নির্দেশনা প্রদান করবে। বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের নিজস্ব নিয়ম ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলবে। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এবার পাঁচ দিনের ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এই টানা ছুটির সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ঈদে মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা। বাড়তি ছুটির কারণে সড়কে ও গণপরিবহনে চাপ কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে। তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত হাজারো কর্মীর আত্মত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমের কারণেই সাধারণ মানুষ গ্রামে ফিরে নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপন করতে পারবে। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতরের আনুষ্ঠানিকতা।
শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি পাঁচ ব্যাংকের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা অভিন্ন ফরমেটে নিয়ে একীভূতকরণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বলেছেন। পাঁচ ব্যাংকের অন্য বিষয়গুলোও দ্রুত এক করে অভিন্ন আকারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু করার পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসাবে একীভূতকরণের কোনো বিকল্প নেই। যত দ্রুত একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে, তত দ্রুত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
সোমবার পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে প্রশাসকদের সহযোগী বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গভর্নর পাঁচ ব্যাংকের তথ্য প্রযুক্তি সমন্বয় করতে কেন দেরি হচ্ছে তা জানতে চান। কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংকগুলো আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাদের তথ্য একত্রিত করতেও সময় লাগছে। এছাড়া একীভূতকরণ চলমান থাকবে কিনা এ নিয়েও বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
জবাবে গভর্নর বলেন, একীভূতকরণ থেকে পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। সরকার এরই মধ্যে নতুন এই ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে। আমানত বিমা তহবিল থেকে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্বল পাঁচ ব্যাংক নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো হচ্ছে-এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
চেয়ারম্যানের পদত্যাগ: সরকারি মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তাকে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সরকারের সাবেক সচিব।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীর অন্য দেশগুলো সুন্দর। জিন-ভূত নয়—মানুষই সেই সব দেশ সুন্দর করেছে। এ দেশের মানুষ একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ২০২৪–এর আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছে। এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে, প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা, যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের থেকে সজাগ থাকতে হবে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন তিনি।
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাল কাটা জরুরি। দেশের সব খাল ভরাট হয়ে গেছে। এমনকি বর্ষার মৌসুমেও খরা হয়, অনেক জায়গায় পানি অভাবে চাষাবাদ করা যায় না। আমরা এই বর্ষার পানিটাকে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাই। উজানের সময় যে পানি পাওয়া যাবে সেটাকে ধরে রাখতে চাই, যাতে শুষ্ক মৌসুম এবং বর্ষা মৌসুম দুইভাবেই কৃষকরা উপকৃত হয়। আগামী ৫ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এটা আজ সাহাপাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এই খালটির সঙ্গে পুনর্ভবা নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এই নদীর জলস্রোত ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে, যা পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সেই কাজগুলো করা যে কাজগুলো করলে মানুষের উপকার হয়। যে কাজগুলো করলে মানুষ খুশি হবে। আমরা চেষ্টা করি সেই কাজগুলো করতে এবং সেই কারণেই আজ আমরা একত্রিত হয়েছি এই সাহাপাড়া খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই খালটি প্রায় ১২ কিলোমিটার লম্বা। যখন সম্পূর্ণভাবে কাজ শেষ করতে পারব, তখন ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি নিয়ে ১২০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনতে পারবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবে। শুধু তাই নয়, এই এলাকার কৃষক ভাইবোনের এখন যা ফসল উৎপাদন হচ্ছে তার থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিকটন বেশি ফসল উৎপাদন হবে।’
কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষকের পাশে থাকতে চাই। আমরা নির্বাচনী ওয়াদা করেছিলাম ভোটে জয়লাভ করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেবার ওয়াদা করেছিলাম। সরকার গঠনের পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিএনপি কৃষকের কথা মনে রেখেছে। সেই বৈঠকে কৃষিঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি।’
কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিরাট দেশ। ২০ কোটি মানুষের বসবাস এই দেশে। এত মানুষের জন্য খাবার দাবার বিদেশ থেকে কি আনা সম্ভব? এই খাবার আমাদের এই দেশেই উৎপাদন করতে হবে। বিশেষ করে ধান-চালসহ মৌলিক খাবারগুলো এই দেশে উৎপাদন করতে হবে। আমাদের দেশের মাটি উর্বর। শুধু খাল নয়, খালের দুইপাশে ৬০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। সেইসঙ্গে খালের দুই পাশে চলাচলের জন্য রাস্তা করে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালে পানি না থাকায় আমাদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে হয়। আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে যতটুকু গভীরতায় পানি পাওয়া যায় এখন পানি পেতে আরও বেশি গভীরতা প্রয়োজন হয়। ওই পানি কমে গেলে আমাদের বিপদে পড়তে হবে। এজন্য মাটির উপরের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য মাটির গভীরের পানি রেখে দেওয়া যায়। খাল-নদী খনন করে আমাদের সেই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী ওয়াদায় আমরা ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। আমরা এরইমধ্যে সেই কাজটি শুরু করেছি। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এরইমধ্যে ৩৭ হাজার মা-বোনের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। ধীরে ধীরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম সেই কাজগুলো শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের জন্য যেভাবে সুদ মওকুফ করেছি, মা-বোনদেরকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি একইভাবে কৃষকভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব। যা আগামী মাস থেকে চালু হবে। ক্ষুদ্র-প্রান্তিক ও মধ্যম চাষীদের কাছে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। যাতে করে এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।’
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার হচ্ছে কৃষকের বন্ধু। কৃষক ভালো থাকলে কৃষাণী ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। বাংলাদেশের কৃষিকে আমরা শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে চাই।’
উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে যারা কৃষি সংক্রান্ত দ্রব্য নিয়ে মিল-কারখানা করেছে। আমরা এরইমধ্যে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, এই এলাকায় কি কি কৃষি নির্ভর মিল-কারখানা গড়ে তোলা যায়। যাতে করে এখানকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের মানুষই ৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ২০২৪ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছিল। কাজেই এই দেশের মানুষই শহীদ জিয়ার সময়ে খাল খননের মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিদেশে রপ্তানি করেছিল। এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা। আর সজাগ থাকতে হবে। যারা বিভিন্ন রকম কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা করতে চায়। মিষ্টি কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদেরকে সাবলম্বী করে তোলা, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে দেশের মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, ভবিষৎ প্রজন্মকে মানুষ করে গড়ে তোলা। মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে আজকে দেশ গড়ার কর্মসূচি শুরু হলো। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেই বাংলাদেশের মানুষ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এই কর্মসূচি কতটুকু সফল হলো তার খোঁজ রাখব এবং খাল খনন সম্পন্ন হলে দেখতে আবার আসব।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বোচাগঞ্জ-বিরল আসনের এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, প্রকল্প এলাকার বীরগঞ্জ-কাহারোল আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা প্রমুখ।
এর আগে, কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে যান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর শহরে ফরিদপুর কবরস্থানে নানা-নানীসহ নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করেন। বিকেল ৫টায় শহরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দিনাজপুরের সুধী সমাবেশ ও ইফতার এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দিনাজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে এখনো স্বাভাবিক রয়েছে বাস চলাচল। তবে তেলের জন্য ভোগান্তি এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করার অভিযোগ করেছেন পরিবহনকর্মীরা।
সোমবার বিকেলেও মহাখালী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় নেই। এখনো ঈদের চাপ পড়েনি। কাউন্টার থেকে সহজেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সড়কে যানজট না থাকায় বাস পেতেও সমস্যা হচ্ছে না।
এসি বাসের অপেক্ষায় থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘আজকে ঝামেলা কম। আমি এসির জন্য চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এখনো এসি বাস আসেনি। তাই নন-এসির টিকিট কাটলাম। আমার খুব বেশি সময় লাগেনি। আমি দুই-তিন মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। গাড়ি থাকলেই সিট পাওয়া যাচ্ছে।’
তবে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান পরিবহনকর্মীরা। বেতন-ভাতা নিয়েও অসন্তুষ্ট তাঁরা। এক বাসচালক বলেন, ‘আসার রাস্তা পুরোই যানজটমুক্ত ছিল। তবে বনানী থেকে মহাখালী আসতেই বেশি সময় লেগেছে। এটুকু রাস্তা এসেছি দুই ঘণ্টায়। রাস্তায় যতগুলো তেলের পাম্প আছে, সবাই বলছে তেল শেষ। আমরা যে ঈদের যাত্রীদের নিয়ে যাব, সেই সুযোগটা পাচ্ছি না।’
গাবতলীর চিত্রও প্রায় একই রকম। এই বাস টার্মিনালে কোনো অনিয়ম না পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএ চার্টের বাইরে কোনো ভাড়া নেওয়া যাবে না। এই জিনিসটা আমরা সবার কাছে অনুরোধ করেছি। আমরা আশা করি, সবাই এটা মেনে চলবে। কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো আমাদের উদ্দেশ্য না।’
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, ‘ছোটখাটো কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করছি। তারাও এটি প্রতিপালন করছে।’
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও বাড়তি ভাড়া রোধে মঙ্গলবার থেকে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এসব দেশের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ৪ মার্চ ৩২টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি এবং ১৫ মার্চ ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১২টার পরও ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এদিন কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এদিন বাতিল হয়েছে ২৮টি ফ্লাইট।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কানেক্টিভিটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়েও উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বরেছেন।
ক্রস-বর্ডার এনার্জি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি একটি বড় পরিসরের এবং চলমান আলোচনা। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
ভিসা প্রক্রিয়া কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের ভিসা চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম আজ সোমবার দুপুরে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্থাপিত একটি নতুন কম্পোস্ট প্ল্যান্টের শুভ উদ্বোধন করেন। পরিদর্শনকালে তার সাথে সাবেক ডেপুটি মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক উপস্থিত এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের জানান যে, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকো-পার্ক ও খেলার মাঠে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডফিল এলাকার চিরচেনা দুর্গন্ধ ও দূষণ দূর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একে নাগরিক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
বর্জ্য থেকে সম্পদ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাঃ
প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন সংগৃহীত ৩২০০-৩৫০০ টন বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি কোরিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ আগামী ঈদুল আযহার পর শুরু হবে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ডাম্পিং করার পরিবর্তে তা প্রক্রিয়াকরণ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া আজ উদ্বোধন হওয়া কম্পোস্ট প্ল্যান্টে প্রতিদিন ১০০ টন গৃহস্থালী পচনশীল বর্জ্য থেকে ২০ টন জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সফল হলে এর পরিসর আরও বৃদ্ধি করা হবে, যা গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে এবং সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষাঃ
ল্যান্ডফিলে প্রায়ই ঘটা অগ্নিকাণ্ড রোধে ১৮১ একর জায়গাজুড়ে ৪০টি পয়েন্টে পানির হাইড্রেন্ট স্থাপন এবং পানির লাইনসহ স্থায়ী জলাধার নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আগুন নেভানোর জন্য নতুন ৬টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে। প্রশাসক জানান, ময়লার স্তূপ থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণেই মূলত এখানে আগুন লাগে। বর্তমানে ময়লার উপরে মাটির আচ্ছাদন দেওয়ার কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা দুর্গন্ধ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুতই এই এলাকা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হবে।"
রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে বিপণিবিতানে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত রোববার রাত ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কথা–কাটাকাটির জেরে ওই বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা এক রিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে রিকশাচালকেরা এ ভাঙচুর চালান। এমনকি তারা বিপণিবিতানের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। পরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে যান।
রাতেই সেখানে যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। গতকাল সকালেও ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, একটি বিপণিবিতানের সামনে রিকশা দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকদের মধ্যে গত সোমবার রাতে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একজন রিকশাচালকের সঙ্গে বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীদের কথা–কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রিকশাচালক চলে যান।
ওসি বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। বিপণিবিতানের মালিকেরা আরেকটি মামলা করবেন। এখনো সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের অভিযোগ, বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে এক রিকশাচালককে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে ওই রিকশাচালকের পরিচয় কেউ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
নাগরিকদের সব ধরনের তথ্য ও সুযোগকে একটি কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলার পর তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে, দেশেও ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর বিষয়ে চিন্তা করছে সরকার।
এছাড়া ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চীন ও ভারতের সঙ্গে ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। ঋণ নয়, এখন থেকে বিনিয়োগে জোর দেবে সরকার।
জ্বালানি বিষয়ে হওয়া চুক্তি বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের সরকার জ্বালানি বিষয়ে যেসব চুক্তি করেছিল সেগুলো অসম চুক্তি ছিল। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিষয়ে কী ধরনের চুক্তি করলে সেটি লাভজনক হয়, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
আগের সরকারের চুক্তিগুলোর পুনরাবৃত্তি না করে, বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমনভাবেই চুক্তি করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।