আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’
বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।
এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।
তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।
ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।
যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।
নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।
বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।
এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।
ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।
গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।
ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপটির খনন ও আনুষঙ্গিক উন্নয়নকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ থেকে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটি উদ্বোধন করা হয়।
বিজিএফসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে জ্বালানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৫টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি খনন করা হয়েছে। চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এর খননকাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় ছয় মাসের ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞের পর ২০২৬ সালের ১১ জুন খনন কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার (এমডি) বা ৩ হাজার ৪৭১ মিটার (টিভিডি)। খনন পরবর্তী কমপ্লিশন কাজের পর ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) এবং প্রোডাকশন টেস্টিং সম্পন্ন করে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিএফসিএলের মতে, নতুন এ কূপটি থেকে উত্তোলিত গ্যাস যুক্ত হলে দেশে চলমান জ্বালানি ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে, যা বিশেষ করে শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মহাপরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১১টি কূপ খনন করে দৈনিক প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ কথা জানিয়েছেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনএসডিএ’র গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এনএসডিএ’র প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও ছিলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, ন্যায্য ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘লিডিং এসডিজি অ্যাকশন’— শীর্ষক লিডার্স ডায়ালগে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় ড. তিতুমীর বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সম্মিলিত ও ভবিষ্যৎমুখী। আমাদের এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু উন্নয়নে অর্থায়নই করবে না, বরং উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও সৃষ্টি করবে।’
বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি।
অগ্রাধিকারগুলো হলো — সংকট মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াশীল পদ্ধতির পরিবর্তে ঝুঁকি আগাম শনাক্ত ও প্রশমনে সক্ষম আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করা, দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পব্যয়ী ও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমন্বয় বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে নমনীয় সহায়তা ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত রাখা।
তৃণমূল পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্যোগ তুলে ধরেন ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল সেবা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংলাপে আরও অংশ নেন— ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা, বেনিনের অর্থমন্ত্রী আরিস্তিদ মেদেনু ও পানামার সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বিয়াত্রিস কার্লেস দে আরাঙ্গো।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিস। সূত্র: বাসস
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন ও ভাতার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশনাকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশতম গ্রেডের চাকরিজীবীরা ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন, যা গত ৩০ জুন আহরিত বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডে ৭৫ শতাংশ হারে বর্ধিত মূল বেতন দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনবৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কাঠামোটি কার্যকর ধরা হওয়ায় চাকরিজীবীরা তাদের বকেয়া পাওনাও বুঝে পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই প্রক্রিয়ায় পেনশনভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর যাবতীয় সুবিধার আওতায় আসবেন।
নতুন এই কাঠামোতে প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং একাদশ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে আনুপাতিক হারে অন্যান্য ভাতাও সমন্বয় করা হবে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা ও সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দাখিল করে।
দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে, শ্রমজীবী শ্রেণির অধিকার নিশ্চিত করতে এবং ইনসাফভিত্তিক নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবার আগে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। ‘সরকার কি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র, সমসাময়িক সংকট এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম।
দেশের শিক্ষা খাতের গভীর সংকট তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, "বর্তমানের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু পাস করতে পারছে, অন্যদিকে দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেখানে ছাত্র খুঁজে পাচ্ছে না। আবার সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষক হতে চাচ্ছেন না। এই তিনটি বড় বড় সমস্যা আমাদের পীড়িত করছে। এটার সমাধান দরকার।"
তিনি আরও বলেন, "সবার আগে যদি বাংলাদেশ বলি, তাহলে সবার আগে মানসম্মত শিক্ষার বাংলাদেশ হতে হবে। যারা বলেন শ্রমজীবী মানুষের উত্থান চাই, সেই উত্থান হতে হবে তাদের সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে। শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের, পিছিয়ে পড়া মানুষের সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে। উপযুক্ত শিক্ষার জায়গা দিতে হবে। যারা বলেন একটা নতুন বন্দোবস্ত করবেন, সেই নতুন বন্দোবস্ত হতে হবে শিক্ষার অধিকারকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। আর যারা বলেন ইনসাফ চাই, শিক্ষা থেকে বঞ্চনার চেয়ে বড় বেইনসাফি আর কিছু হতে পারে না।"
অনুষ্ঠানে সিপিডির নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জেন্ডার ইনডেক্স অনুযায়ী দেশে শিক্ষার সুযোগ বাড়লেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়ন এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। প্রাথমিকে ছেলে-মেয়ের সংখ্যার সমতা এলেও ধনী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগে এখনও বড় ধরনের ফারাক রয়ে গেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের কেবল শ্রেণিকক্ষে আবদ্ধ না রেখে বিতর্ক ও খেলাধুলার মতো বাস্তবমুখী জীবনদক্ষতা অর্জনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে জিপিএ-৫ কোনো শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধার সামগ্রিক প্রতিফলন নয় উল্লেখ করে অভিভাবকদের এই ফলাফলকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
মূল গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও চলমান সংকটগুলো তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময় প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি ও লিঙ্গসমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা স্থবির হয়ে পড়েছে। কোভিড অতিমারি কিংবা বন্যার মতো দুর্যোগে আমাদের শিক্ষা কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধারার মধ্যে মানের অসমতা শিখনফল ও সুযোগের ক্ষেত্রে তীব্র বৈষম্য তৈরি করছে।
সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ২০০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, ইশতেহারবহির্ভূত পদক্ষেপ এবং জাতীয় বাজেটে এসব প্রতিশ্রুতির আর্থিক প্রতিফলন খতিয়ে দেখেছে গবেষকদল। সিপিডি মনে করে, কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা রুটিনমাফিক বাজেট বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষার সামগ্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষা খাতে কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে হবে, আর্থিক বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘোষিত নীতিগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহের পথ খুলছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আজ শনিবার জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। এর পরবর্তী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের আরও চারটি কূপ উৎপাদনে এলে মোট প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতার চাপও কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীর এই কূপটি শনিবার (আজ) উদ্বোধনের পরপরই জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, কূপটি উৎপাদনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাস যুক্ত হবে। দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর ফলে গ্যাসের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
একে একে আসছে আরও তিন কূপ: শুধু তিতাস-২৮ নয়, গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আরও কয়েকটি কূপের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে লগিংসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০-১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও এগিয়ে চলছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কূপ থেকেও দৈনিক প্রায় ১০-১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।
অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ ঘিরে বড় প্রত্যাশা: গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন মজুত অনুসন্ধানের দিক থেকেও তিতাস-৩১ নম্বর কূপটি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল কূপটির খননকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটার গভীরতায় পৌঁছেছে খননকাজ। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে।
ভূতাত্ত্বিক কোনো জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তিতাস-৩১ এর কাজ শেষ করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কূপটি সফল হলে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে তিতাস-৩১ এর গুরুত্ব শুধু সম্ভাব্য উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় নতুন গ্যাস মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, কূপটির মাধ্যমে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস মজুতের সন্ধান মিলতে পারে। তবে এই পরিমাণ এখনো অনুমাননির্ভর। কূপের খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই মজুতের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।
এরপর বাখরাবাদ-১১: তিতাস-৩১ এর কাজ শেষ হলে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মিটার। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮ এর সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে মোট সম্ভাব্য সরবরাহ দাঁড়াবে প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়ছে দেশীয় উৎসের গুরুত্ব: বাংলাদেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। এই চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নতুন দেশীয় কূপ থেকে অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে। তিতাস-৩১ এর অনুসন্ধান সফল হলে সেখানে নতুন মজুত যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে তিতাস ও বাখরাবাদের নতুন কূপগুলো বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে। আজ শনিবার তিতাস-২৮ থেকে যে সরবরাহ শুরু হবে, তা আগামী কয়েক মাসে আরও কয়েকটি কূপের উৎপাদনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ও অনুসন্ধান—দুই ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে।
দেশের বাড়তে থাকা পরিবহন চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধান মহাসড়ক বা ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্কের নতুন মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার। চীনের অনুদানে এই পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি বড় নদী পারাপারের সেতুগুলোকে একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পরিকল্পনায় যুক্ত করা হবে।
এ লক্ষ্যে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘প্রিপারেশন অব বাংলাদেশ ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক প্ল্যান ফোকাসিং অন দ্য এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড মেজর রিভার ক্রসিং ব্রিজেস’ শীর্ষক কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের পুরো অর্থ চীন সরকার অনুদান হিসেবে দেবে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থনৈতিক করিডোরে জোর: সওজ কর্মকর্তারা জানান, নতুন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে শক্তিশালী করা। বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বড় শহর ও আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য রুট ও কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি কোন কোন বড় নদীতে সেতু প্রয়োজন, সেগুলোও চিহ্নিত করা হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এসব সেতুর পরিকল্পনা করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা তৈরি করা হবে। এতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সময়ে কোন প্রকল্প আগে নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
আগের মাস্টারপ্ল্যান থেকে ভিন্নতা: সওজ এর আগেও জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্ক নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় তৈরি ওই পরিকল্পনায় জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সার্বিক উন্নয়ন, বিভিন্ন শ্রেণির সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল।
নতুন ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনার লক্ষ্য তুলনামূলকভাবে আরও কৌশলগত। এতে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশেষ গুরুত্ব পাবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
বড় নদী পারাপারের সেতুগুলোকেও এবার বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং জাতীয় ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সমন্বিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সমন্বিত পরিকল্পনায় গুরুত্ব: প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশে একটি সমন্বিত পরিবহন তথ্যভাণ্ডার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে বিভিন্ন সময়ে মহাসড়ক উন্নয়ন হয়েছে অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে। এর ফলে কোথাও কোথাও সড়কের প্রযুক্তিগত মান ও সক্ষমতার মধ্যেও পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ন ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সওজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে প্রধান সড়ক নেটওয়ার্কের জন্য একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক কৌশল প্রয়োজন বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়ে, বড় নদীর সেতু এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ আরও সুসংগঠিত হবে।
চীনের কারিগরি সহায়তা: পরিকল্পনাটি তৈরিতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেবে চীন। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের নভেম্বর ও ২০২১ সালের জুনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে ২০২৫ সালের ২৬ জুন ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনায় চীনের সহায়তার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সওজ কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ কাঠামো আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানো, বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সংযোগ শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরো জোরদারে চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
আজ চীনের হাইনান প্রদেশের হাইকো সিটিতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার চীনা বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্য খাতের যৌথ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসাসুবিধা ও ছাড় দেওয়ারও অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ গ্রিন মেডিক্যাল চ্যানেল এবং চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় চালুর বিষয়ে সম্মতি জানায়।
হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ঝাং জুন বাংলাদেশি পক্ষের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জনবল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যশিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
আজ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতিকালে এ অঞ্চল ও এর জনগণের যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
এ সময় মন্ত্রীদ্বয় একটি সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বাংলাদেশের মন্ত্রীদ্বয় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
মন্ত্রীদ্বয় ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উন্নয়নে বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি জোগান দিয়ে অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠা দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তাঁরা।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। সূত্র: বাসস
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না—সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে দলটি প্রকারান্তরে তা মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক পূর্বে জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট বিবৃতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে প্রণীত সেই বিবৃতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হলে দলটির মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বহু বিতর্কের সুরাহা হতো। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনের সংশোধনীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞার আওতায় ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও পরিচালিত যুদ্ধ’ শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে জামায়াতদলীয় প্রতিনিধিরা কোনো ‘না’ ভোট দেননি।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে না ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে কনসিড (স্বীকার) করল। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। এখানেই রাজ্জাক সাহেব অনন্য। এখানে রাজ্জাক সাহেব একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে গেছেন।’ এ সময় প্রখ্যাত এই আইনজীবীর গ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জামায়াত ঘরানার আইনজীবীদের অনুপস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। তিনি নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সময়ের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ পরিমণ্ডলে এখনও অনেক মৌলিক সংস্কার সাধনের অবকাশ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার দেওয়া নতুন বাড়িতে উঠেছেন শাহবাগের ফুটপাতে বসবাস করা গোলাপি বেগম।
আজ শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০২৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশের সময় শাহবাগের ফুটপাতে বসবাসকারী গোলাপি বেগমের অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে।
মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক বছর তার চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থাও করা হয়।
পরে তার স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় গোলাপি বেগমকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, হাসানুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বাসস
বাজারে বৈধ সিগারেটের পাশাপাশি অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল ও চোরাই সিগারেট। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব অবৈধ পণ্যের সরবরাহ ও বিক্রি বাড়ায় একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে তামাকজাত পণ্য ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি। কম দামে পাওয়া এবং সহজলভ্য হওয়ায় নকল ও চোরাই সিগারেটের প্রতি বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ আকৃষ্ট হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ বাজারের বিস্তার ঠেকাতে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা না হলে এর আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু অবৈধ সিগারেট বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে রাজস্ব ফাঁকি, চোরাচালান, নকল পণ্য উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও চলতি বছর তামাকজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, সম্পূরক শুল্ক ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের বিধিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে।
ভার্গো টোব্যাকোতে সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ফাঁকি: সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সামনে আসে সিগারেটের অবৈধ উৎপাদনের আরেক চিত্র। ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাওলতিয়া এলাকায় ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানা ও পাশের একটি গুদামে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দল। কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতরে উৎপাদন চলছিল বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পরে কর্মকর্তারা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ব্যবহৃত ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য দেখতে পান তারা।
প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজারের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশসহ ব্যবহৃত স্ট্যাম্প-ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।
এরপর জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন বার্তা ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহের প্রাথমিক তথ্য পান। এনবিআরের হিসাবে, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি কারখানার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে বৈধ উৎপাদনের আড়ালেও অবৈধ উৎপাদন, ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং হিসাবের বাইরে পণ্য বাজারজাতের অভিযোগ উঠতে পারে।
শাহ আমানতে একের পর এক চালান: গাজীপুরে নকল সিগারেটের উৎপাদনের অভিযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিদেশি সিগারেট প্রবেশের ঘটনাও থামছে না।
গত ১৭ আগস্ট দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে একবারে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর মধ্যে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে পাওয়া যায় ৭৮২ কার্টন এবং লাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট। আটক পণ্য ও আইফোনের মোট শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগেও চলতি বছর শাহ আমানতে ধারাবাহিকভাবে বিদেশি সিগারেট আটকের ঘটনা ঘটেছে। ১ জানুয়ারি ৪৪০ কার্টন, মার্চে ৩০০ কার্টন, মে মাসে ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন এবং জুনে এক ঘটনায় ১ হাজার ২ কার্টন যাত্রীর ব্যাগেজ ও ৬৯৬ কার্টন মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দের তথ্য পাওয়া যায়।
এপ্রিলেও আবুধাবি থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে বিদেশি সিগারেট জব্দ হয়েছিল। এসব ঘটনা থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও মাসকাট থেকে আসা যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলোতে বিদেশি সিগারেট পাচারের চেষ্টা নিয়মিত নজরে আসছে।
লাগেজেই ভাগ হয়ে আসে বড় চালান: চোরাচালানের একটি কৌশল হলো বড় চালানকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে যাত্রীদের লাগেজে বহন করা। ফলে বড় বাণিজ্যিক চালান হিসেবে কাস্টমসের নজরে পড়ার ঝুঁকি কমে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্টে পণ্য ফেলে রেখে সরে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।
১৭ আগস্টের ঘটনাটিই এর উদাহরণ। তিন যাত্রীর ব্যাগে ৭৮২ কার্টন পাওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ২০ কার্টন ছিল মালিকবিহীন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু পণ্য জব্দ করলেই পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, পরিত্যক্ত লাগেজের প্রকৃত মালিক, অর্থদাতা ও দেশে পণ্য গ্রহণকারীর পরিচয় বের করতে লাগেজ ট্যাগ, যাত্রীর তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্ট ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন, অনেক সময় সাধারণ প্রবাসীরা না বুঝে অন্যের দেওয়া প্যাকেট বা পণ্য লাগেজে বহন করেন। এসব পণ্য বহন আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বছরের পর বছর একই চিত্র: প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে গত কয়েক বছর ধরেই শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেট আটকের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। কখনো একক যাত্রীর লাগেজ, কখনো কয়েকজন যাত্রীর ব্যাগেজ, আবার কখনো মালিকবিহীন লাগেজ থেকে পাওয়া গেছে শত শত কার্টন সিগারেট।
চলতি বছরের ঘটনাগুলোও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। মে মাসে ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন সিগারেট আটকের সময় বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছিল। জুনের ঘটনায় তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ১ হাজার ২ কার্টন এবং লাগেজ বেল্ট থেকে ৬৯৬ কার্টন জব্দ হয়।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—এত বিপুল চালান বারবার ধরা পড়লেও এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও অর্থদাতাদের কতটা শনাক্ত করা যাচ্ছে?
উপজেলা বাজারেও নকল ব্র্যান্ড: শুধু বিমানবন্দর দিয়ে আসা বিদেশি সিগারেটই নয়, দেশের অভ্যন্তরে অনুমোদনহীন ও নকল ব্র্যান্ডের সিগারেটের বাজারও বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ‘সিটি’, ‘ম্যানশন’, ‘ওসাকাসহ’ বিভিন্ন নামের সিগারেট উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে এসব সিগারেট মজুত রেখে লোক নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ও দোকানে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় কয়েকজন দোকানদারের ভাষ্য, আসল ব্র্যান্ডের তুলনায় কম দামে এসব সিগারেট বিক্রি হওয়ায় ক্রেতা বাড়ছে। কম আয়ের মানুষও দামের কারণে এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান তারা।
এক রিকশাচালক বলেন, কম দামে পাওয়ায় তিনি এসব সিগারেট খান। আরেক দিনমজুর জানান, সিগারেটের দাম বাড়ায় কম দামের পণ্যই কিনছেন।
স্থানীয় এসব বক্তব্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের অনুমোদন, উৎপাদনস্থল ও সরবরাহ চক্র সম্পর্কে সরকারি তদন্তের বিকল্প নয়। তবে মাঠপর্যায়ের বাজারে কম দামের অজ্ঞাত উৎসের সিগারেটের উপস্থিতির বিষয়টি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে রাজস্ব ক্ষতিও: ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ এ এম আবু তাহের বলেন, সিগারেট সেবনে ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে নকল বা অবৈধভাবে উৎপাদিত সিগারেট বাজারে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শুধু রাজস্বের প্রশ্ন নয়, জনস্বাস্থ্যেরও বিষয়।
বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনও সাম্প্রতিক সময়ে আরও কঠোর হয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিগারেটের ওপর সরকারের কর কাঠামোও উল্লেখযোগ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তামাকজাত সিগারেটের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাটসহ একাধিক কর প্রযোজ্য। ফলে কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা পণ্য রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ উৎপাদক ও ব্যবসার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা ও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে জোর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সোলার হোম সিস্টেম, সৌরচালিত সেচ পাম্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনায় অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, তহবিলের অর্থ থেকে দেওয়া ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। এর মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে অর্থায়নের সহজ সুযোগ তৈরি হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিধি বাড়লে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও কমানো সম্ভব হতে পারে।
কোথায় ব্যবহার হবে ১,৫০০ কোটি টাকা: সরকারের গঠিত তহবিল থেকে গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ঋণ দেওয়া হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগের পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সৌরচালিত সেচ পাম্পেও এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি কেনার ক্ষেত্রেও ঋণ নেওয়া যাবে। ফলে শুধু নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নয়, বিদ্যমান ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নেও এ তহবিল কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা এ তহবিলে দেওয়া হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা সরকারের অপারেটিং লোন থেকে সংস্থান করা হবে।
তহবিলের ৫০০ কোটি টাকা করে পাবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করবে।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় থাকবে নজরদারি: সরকারি অর্থায়নের এ কর্মসূচিতে ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণের অর্থে কত মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন হয়েছে, কতজন সুবিধাভোগী ঋণ পেয়েছেন এবং ঋণ আদায়ের পরিস্থিতি—এসব তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
অর্থবছর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত হিসাবসহ বার্ষিক প্রতিবেদনও দাখিল করতে হবে। তবে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ, ঋণ এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, তহবিলের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। তার মতে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সারাদেশে বিতরণ করা হলেও এর আওতায় কত মানুষ ও প্রতিষ্ঠান আসবে, তা নির্ভর করবে ঋণের সীমা, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও মনিটরিংয়ের ওপর।
নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণ বড় চ্যালেঞ্জ: কম সুদের ঋণ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সহায়ক হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শুধু ঋণ সুবিধা যথেষ্ট নাও হতে পারে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ শফিকুল আলমের মতে, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা অনেক মানুষের পক্ষে ঋণ নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা কঠিন।
তার মতে, এসব মানুষের জন্য ঋণের পাশাপাশি সরকারি ক্যাপিটাল সাবসিডি বা বিনিয়োগ প্রণোদনা চালু করা হলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে।
অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে ইডকল ও পিকেএসএফকে সম্পৃক্ত করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। এতে শহরের পাশাপাশি পল্লী এলাকার উদ্যোক্তা ও গ্রাহকেরাও অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারেন।
আমদানি ব্যয় কমাতেও করছাড়: সৌরবিদ্যুতের প্রসারে শুধু ঋণ নয়, যন্ত্রপাতি আমদানিতেও করছাড় দিচ্ছে সরকার। ১৬ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে শিল্পে ব্যবহারের জন্য সোলারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এসব যন্ত্রপাতি ১ শতাংশ শুল্কে আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও দেশে উৎপাদিত কয়েকটি কম্পোনেন্ট ছাড়া সোলারের প্রায় সব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি করতে পারবেন। এর আগে এসব পণ্যে আমদানি করের হার ছিল ২৩ থেকে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত।
এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। গৃহস্থালি পর্যায়ে নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে স্বল্প সুদের ঋণ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে করছাড় ও নেট মিটারিং—এই তিন উদ্যোগ সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে ১,৫০০ কোটি টাকার তহবিল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছ ঋণ বিতরণ, সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকর নজরদারির ওপর।