বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৭ ফাল্গুন ১৪৩২

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবে না সরকার: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষাখাতকে সকল প্রকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনের মাধ্যমে দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই লক্ষ্য ও আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি কার্যকর ও কর্মমুখী শক্তিতে রূপান্তর করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা প্রশাসনের আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে স্বয়ং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সকল স্তরে কঠোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি মনে করেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা এর সুফল ভোগ করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রচলিত বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে যে সকল ভাষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সেই ভাষাগুলো শেখানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিদেশের মাটিতে আরও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। এছাড়া কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে (ভোকেশনাল এডুকেশন) পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কাজ শুরু হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মানসিক ও শারীরিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ আরও জানান, কেবল ক্লাসরুমের পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের আটকে না রেখে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। শারীরিক সুস্থতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। নতুন সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের শিক্ষাখাতে এক অভাবনীয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সচিবালয়ের এই মতবিনিময় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের শুরুতেই শিক্ষাখাতে এক নতুন গতির আভাস পাওয়া গেল তাঁর বক্তব্যে।


লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন ড. ইউনূস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই এক দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন উপদেষ্টা ও সমমর্যাদার ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যে তাঁদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর পদ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহ আগেই নিজের পাসপোর্টটি জমা দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদায়ী প্রশাসন নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ ক্ষমতা হস্তান্তরের এক অনন্য নজির স্থাপন করল।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশ গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগেই তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধাসমূহ পদের অবসান ঘটার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই উপদেষ্টারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত প্রদানকারী অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও তাঁদের লাল পাসপোর্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন। তালিকায় আরও নাম রয়েছে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের।

প্রশাসনিক ও বিশেষ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও তাঁদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়া মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, যারা এখনো পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি, তাঁদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যেই তাঁদেরও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘ ১৮ মাস পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার এই সন্ধিক্ষণে বিদায়ী উপদেষ্টাদের এই পেশাদার ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।


দ্রুতই স্বাভাবিক হচ্ছে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া: সহকারী হাই কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভ্রমণ ভিসাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি জানিয়েছেন যে, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে পুনরায় পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রদান কার্যক্রম সচল রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীঘ্রই সাধারণ পর্যটক ও অন্যান্য পেশার মানুষদের জন্যও ভিসা প্রাপ্তি সহজতর হবে। বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় অনিরুদ্ধ দাস বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের এই গভীর বন্ধুত্ব কেবল রাজনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি মনে করেন, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য এবং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হলো দুই দেশের সাধারণ জনগণ। তাই একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে সহকারী হাই কমিশনার বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং গঠনমূলক সমালোচনা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে সচ্ছতা বজায় রাখা গেলে ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য নাগরিক সেবাগুলো আরও বেগবান করা সম্ভব হবে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে এবং ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো সহায়তায় সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ভারত সরকারের ‘এইড টু বাংলাদেশ’ এবং ‘এলওসি’ প্রকল্পের আওতায় সিলেট অঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বেশি আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান এবং শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বক্তারা দুই দেশের ঐতিহাসিক ও আত্মিক বন্ধন আগামী দিনে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন।

সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের প্রেস-ইনফরমেশন-শিক্ষা-কালচার শাখার সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়াসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভার শেষ পর্যায়ে সহকারী হাই কমিশনার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সিলেটের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীতে তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই মতবিনিময় সভাটি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পাদিত চুক্তি খতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সকল জানা-অজানা চুক্তি বর্তমান সরকারের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি মনে করেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে ওই সকল চুক্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা গভীরভাবে যাচাই করা দরকার এবং ক্ষেত্রবিশেষে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা বাতিল করার বিষয়েও সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় নতুন সরকারকে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবসম্মত। এরই মধ্যে এলডিসি উত্তরণ পেছাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া নানা নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো পুনরায় পরীক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ ‘ট্রানজিশন দল’ বা রূপান্তর দল গঠন করা যেতে পারে, যারা বিগত ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ ও কারিগরি মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে।

অর্থনৈতিক গতিপথ সম্পর্কে সরকারকে কিছুটা সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার পরামর্শ দিয়ে এই প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন প্রশাসনের এখন কিছুটা ‘দম নেওয়া’ প্রয়োজন। সরকারকে প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি স্বল্পমেয়াদী ‘স্প্রিন্ট’ বা দ্রুত গতির দৌড়ের মতো কাজ করবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদী ‘ম্যারাথন’ কৌশলে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আগামী ১৮০ দিনের কোনো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে বর্তমান অর্থবছরের আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। তাঁর মতে, চলতি অর্থবছরের এই পর্যায়ে এসে তাড়াহুড়ো করে বড় কোনো পরিবর্তন না করে বরং আগামী অর্থবছরের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করাই হবে সঠিক কৌশল।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, তাঁদের অন্যতম বড় ব্যর্থতা ছিল দীর্ঘ ১৮ মাসেও অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলপত্র বা পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ জাতির সামনে উপস্থাপন করতে না পারা। যদিও মেয়াদের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বিদায়ী পরিকল্পনামন্ত্রী একটি প্রতিবেদন তৈরির কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু শাসনকালের একটি বড় সময় কোনো সুসংগঠিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া অতিবাহিত হওয়াটা কাম্য ছিল না। বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে এই ঘাটতি পূরণ করে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অস্থিরতা কাটাতে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এই সভায় দেশের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন, যারা অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


অটোপাশের সংস্কৃতিতে আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ তৈরি করে অটোপাশ আদায়ের যে নেতিবাচক সংস্কৃতি গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, বাংলাদেশে সেই ধারায় ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই সাহসী অবস্থান ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী মনে করেন, একটি উন্নত জাতি গঠনে মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের কোনো বিকল্প নেই এবং অটোপাশের মতো প্রথা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে যে শিক্ষার্থীরা রাজপথে মব তৈরি করে বা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পরীক্ষা ছাড়াই পাসের দাবি তুলেছে এবং তা কার্যকরও হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার এই ধরনের কোনো অযৌক্তিক দাবি প্রশ্রয় দেবে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দেশ আর সেই অরাজক সংস্কৃতির দিকে ফিরে যাবে না; বরং নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মেধার যাচাই করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে আপসহীন ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষক সমাজের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, একই সাথে শিক্ষকতা করা এবং আন্দোলনের নামে রাজপথে সক্রিয় থাকা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তিনি শিক্ষকদের ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের প্রতি সরকারের পূর্ণ শ্রদ্ধার কথা জানান। তবে তিনি পরামর্শ দেন যে, শিক্ষকদের কোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ে পেশ করতে হবে। সরকার নিজে থেকেই জানে শিক্ষকদের কোন অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনটা করা সম্ভব নয়। ফলে রাজপথ দখল করে জনজীবন বিপর্যস্ত করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক ‘ভিশন’ বা রূপকল্প রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন থেকে কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সমাজ সরকারের এই কড়া কিন্তু গঠনমূলক বার্তাটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। মূলত একটি জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সচিবালয়ে তাঁর এই বক্তব্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটিকে শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


এই রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নবগঠিত নির্বাচিত সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি এই পবিত্র রমজান মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের যে অঙ্গীকার করেছিল, তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আজকের সভায় এই কার্ডের কার্যকারিতা এবং বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার চাচ্ছে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এই প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রমটি একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি ‘সার্বজনীন’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ, এর আওতায় আসার ক্ষেত্রে তাত্ত্বিকভাবে কোনো বাধ্যবাধকতা বা সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তবে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল বিতরণের লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কমিটি একটি পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা তৈরি করেছে। এই পদ্ধতিতে সবার আগে দেশের অত্যন্ত দরিদ্র বা ‘হতদরিদ্র’ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে দরিদ্র এবং পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর সহায়তা প্রদান করা।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করছেন। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা মানুষের জন্য এটি একটি বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত কার্যক্রমটি কীভাবে স্বচ্ছতার সাথে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়া মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানো যায়, সেটিই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনি ইশতেহারের এই প্রতিফলন নতুন সরকারের জনকল্যাণমুখী রাজনীতির এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সারাদেশে এটি স্থায়ীভাবে পরিচালনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সচিবালয়ে আজ দিনভর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।


ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিম্নআয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই কার্ড চালুর চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সারাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় কার্যদিবসের শুরুতেই অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও গতিশীল করা। প্রধানমন্ত্রী এই কার্ড বিতরণে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই এই সেবা পান তা নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, নতুন সরকারের উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে এই ফ্যামিলি কার্ডকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, কারিগরি প্রস্তুতি ও তালিকা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং সব ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের মানুষ পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ডের সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ করে চাল, ডাল ও তেলের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রমজানের শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড একটি বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা হিসেবে আসবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হওয়ায় এর বাস্তবায়নে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের জটিলতা অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সচিবালয়ের এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের জনবান্ধব অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও, পরবর্তীতে এটি দেশজুড়ে একটি স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় কর্মদিবসে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং দেশের বর্তমান সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সকালে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এরপরই শুরু হয় তাঁর পূর্বনির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যস্ততা। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী দেশের শীর্ষ দুই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা সম্পন্ন করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ১০টায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধানগণের সঙ্গে মূল বৈঠকটি শুরু হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকগুলোতে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী এখন সরাসরি জনকল্যাণমূলক এবং পরিবেশগত কর্মসূচিগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করছেন, যেখানে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া বিকেলের অধিবেশনে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল-জলাধার খননের এক উচ্চাভিলাষী জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাঁর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ সংস্কারাধীন থাকায় বর্তমানে তিনি সচিবালয় থেকেই তাঁর যাবতীয় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় তদারকি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ প্রশাসনিক গতিশীলতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয় কার্যদিবস ছিল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নে অত্যন্ত কর্মমুখর ও তাৎপর্যপূর্ণ।


সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। সকাল ৯টার কিছু পরেই তিনি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত কার্যালয় এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-র জরুরি সংস্কার ও মেরামতের কাজ বর্তমানে চলমান থাকায় সাময়িকভাবে তিনি সচিবালয় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা ও প্রশাসনিক তৎপরতা নজরে আসার মতো।

প্রধানমন্ত্রীর আজকের দিনটি কাটছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভার মধ্য দিয়ে। তাঁর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সম্পন্ন করা যায়, সেই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এই কার্ড বিতরণের ভূমিকা নিয়ে তিনি বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

দিনের দ্বিতীয় ভাগে দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী আরও একটি বড় ধরনের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এই সভার মূল আলোচ্য বিষয় হলো আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খাল খননসহ জলাধার পুনরুদ্ধারের এক বিশাল পরিকল্পনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এই ‘সবুজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের বিস্তারিত রূপরেখা এই বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। দখল হয়ে যাওয়া জলাধার উদ্ধার এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসেও তিনি দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। নতুন সরকারের যাত্রালগ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই ত্বরিত ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক পদক্ষেপ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যমুনা এবং নিয়মিত কার্যালয় মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও বেশ কয়েক দিন তিনি সচিবালয় থেকেই তাঁর সকল দাপ্তরিক কার্যাবলি পরিচালনা করবেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিটি বিভাগকে সক্রিয় করতে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি তদারকি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


আজ থেকে সরকারি অফিস-আদালত-ব্যাংকের নতুন সময়সূচি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক ও আদালতের নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ থেকে নতুন এই সূচি অনুযায়ী দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের সুবিধার্থে এবং সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনা করে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

নতুন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে নামাজের জন্য দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের বিরতি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই সময়সূচিটি সব সরকারি দপ্তরের জন্য বাধ্যতামূলক হলেও বিমা, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মতো জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব আইন ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে সময়সূচি সমন্বয় করতে পারবে। সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে যথারীতি শুক্র ও শনিবার বলবৎ থাকবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। রমজান মাসে সাধারণ গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংকগুলো সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে লেনদেন পরবর্তী দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করতে হবে। লেনদেন চলাকালীন নামাজের বিরতি থাকলেও গ্রাহকসেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে যে, রমজান মাসে নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। তবে আদালতের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য অফিসগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। উচ্চ আদালতের সময়সূচি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রেও লেনদেনের সময় কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, রমজান মাসে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত শেয়ারবাজারে সাধারণ লেনদেন চলবে। লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের জন্য আরও ১০ মিনিট ‘পোস্ট ক্লোজিং’ সেশন রাখা হয়েছে। মূলত পবিত্র রমজান মাসে কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত ও ইবাদত-বন্দেগির সুযোগ করে দিতেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সময়সূচি সংস্কার করা হয়েছে। প্রথম কার্যদিবসেই দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে এই নতুন নিয়ম মেনে কাজ শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব, পিএস-২ ও এপিএস-২ নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, যিনি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ছালেহ শিবলী নামেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই অভিজ্ঞ সংবাদ কর্মীকে এখন সরকারের সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, অন্য যে-কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই দায়িত্বকাল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টির ওপর (যেটি আগে ঘটে) নির্ভর করবে। মূলত তারেক রহমানের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সুসমন্বয় বজায় রাখায় তাঁর ওপর এই বড় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই দিনে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। আতিকুর রহমান রুমনকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা গ্রেড-২ পদমর্যাদার সর্বশেষ ধাপের বেতন স্কেলে কার্যকর হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ (পিএস-২) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মো. মেহেদুল ইসলাম, যা গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। সহকারী একান্ত সচিব-২ (এপিএস-২) পদে নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুর রহমান সানি, যাকে গ্রেড-৬ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই অভিন্ন শর্তারোপ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকেই তাঁদের নিয়োগ কার্যকর হবে এবং তাঁদের বর্তমান অন্য সকল পেশাদার সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন প্রশাসনের গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত দপ্তরের কার্যাবলি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই চৌকস কর্মকর্তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনে নতুন এই নিয়োগসমূহ সরকারের নীতি নির্ধারণী বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দাপ্তরিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ থেকেই তাঁরা নিজ নিজ পদে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।


এমপিদের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার ঘোষণায় টিআইবির সাধুবাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিষয়টিকে বহুল প্রতীক্ষিত, সুচিন্তিত, সময়োপযোগী ও আশা-জাগানিয়া বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, এ ঘোষণায় দীর্ঘদিন লালিত কর্তৃত্ববাদী ও বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার চর্চার অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে, এ পদক্ষেপের পরিপূর্ণ ও টেকসই সুফল অর্জনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা যেন ভুলে না যাই যে, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণরায়ের মৌলিক অভীষ্ট এমন এক জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ—যা হবে সুশাসিত, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। এক্ষেত্রে বিপুল জনরায় নিয়ে সদ্য ক্ষমতাসীন জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণাসহ বিভিন্নভাবে জনগণের কাছে প্রদত্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ যতগুলো অঙ্গীকার করেছে, তার কার্যকর ও ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ।

তিনি বলেন, সরকারি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা ও প্রয়াস থাকলেও কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রদত্ত কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতিই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তেমনই সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তব সুফলও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাবে না।

বরং উন্নয়ন প্রকল্প ও ক্রয়খাতসহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বহুমুখী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণের পাশাপাশি ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ লেনদেন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারসহ চৌর্যতান্ত্রিক অনাচার অব্যাহত থাকার ঝুঁকি প্রসারিত হবে।

সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে সংসদ সদস্য ও সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী বাৎসরিক নবায়নযোগ্যভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিতের দাবি জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, সরকার ও জাতীয় সংসদের দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জুলাই সনদের সম্পূর্ণ দ্বিমতহীন ৭৪ ধারা অনুযায়ী সব জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতাসহ অনতিবিলম্বে ওয়েবসাইটে প্রকাশের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, এই চর্চা সব খাত ও পর্যায়ের সব সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য জনবল—যাদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়, তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার সুচিন্তিত ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছি। এটি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নবগঠিত সরকারের প্রতি জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

একই সঙ্গে, রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টচক্রের মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে’—মর্মে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা-ও যেন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এই প্রত্যাশা করছি।

এক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোটসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সব রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও খাতের দায়িত্ব, তথা সার্বিকভাবে জনগণের ভূমিকা পালনের সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।


আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি

* শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার * সরকার সবক্ষেত্রে অনাচার অনিয়মের সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর * কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান তথা দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইনের শাসনেই। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে এ কথা বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবরকমের কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে।

দেশবাসীর তারেক রহমান বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়।

আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যাবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার অনিয়মের সব সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।

ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নিলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা, বিক্রেতা, গ্রহীতা—এই সরকার সবারই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।

রমজানে ইফতার, তারারি, সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রতাসাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ বলেই আমি মনে করি। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রতাসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।

তারেক রহমান আরও বলেন, আমি আপনাদের বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন।

যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে, মাঠে, ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জন-জীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা বাড়িতে থেকেও যেন সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল নৌ, সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ সুলভ এবং নিরাপদ করা করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ববাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত।’

তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং স্বচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবশক্তির উদ্দেশে তিনি বলেন, মেধায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সব রকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছরে ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার ‘প্ল্যান-পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।

তিনি আরও বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত, ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার, আমার, আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।


banner close