রোববার, ২৪ মে ২০২৬
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৪ ২১:৪৪

আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।

এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’

বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।

এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।

মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।

তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।

যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।

নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।

বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।

এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।

বিষয়:

রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিরসন ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য এবং আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক ও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন। বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর, সুসংহত ও বেগবান হবে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ জানতে চান।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক ও নিবিড় সহযোগিতা চেয়েছেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবারিত উদারতা ও অনন্য সংহতির ভূয়সী প্রশংসা করে ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই মানবিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বাস্তবসম্মত উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানান। আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


রামিসা হত্যার ঘটনায় পুরো জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। পুরো জাতি এ ঘটনায় শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ।

শনিবার (২৩ মে) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রামিসাসহ এ ধরনের নৃশংস ঘটনাগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। পুরো জাতি এ ঘটনায় শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। জাতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা, সহানুভূতি ও শোক প্রকাশ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, তা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ফল। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তৈরি জনমতের ভিত্তিতেই সরকার আরও কার্যকর আইন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে, যাতে সমাজ থেকে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হয়।

এদিকে, পাড়ায় মহল্লায় গড়ে ওঠা স্কুল কলেজগুলো যেন সরকারি নীতিমালায় চলে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

পরে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।


ঈদযাত্রায় ট্রেনে বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই: রেলসচিব

আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ২২:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের ঈদযাত্রা শনিবার (২৩ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী ঈদযাত্রায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখছে না কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৩ মে) কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলসচিব বলেন, ঈদুল আজহার ঈদযাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন ট্রেনের শিডিউল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও একটি সভা হবে।

তিনি বলেন, গত ঈদুল ফিতরে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। তবে পশ্চিমাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া এবং কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে দুর্ঘটনার মতো দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন রেলসচিব।

তিনি বলেন, মিটারগেজ লোকোমোটিভের কিছু সংকট রয়েছে। তাই আগে থেকেই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে। আগামীকাল থেকে তা ৮০টির বেশি হবে বলে আশা করছি।

ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।

স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, টিকিট ছাড়া যাত্রীরা যাতে স্টেশনে ঢুকতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তারাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীচাপের কারণে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। ঈদের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


বিরোধীদলের ছোট বন্ধুরা আসলে মাদকাসক্ত কি না, সন্দেহ হয়: আলাল

আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ২০:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী রাজনৈতিক দলের কনিষ্ঠ নেতাদের আচরণ দেখে তারা মাদকাসক্ত কি না, এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। শনিবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক সমাজের ভূমিকা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

'অপরাজেয় বাংলাদেশ' আয়োজিত এই সভায় আলাল বলেন, 'মতপার্থক্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং বিএনপি সমালোচনাকে সবসময় ভালোভাবে গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের ছোট বন্ধুরা যেভাবে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক আচরণ করে যাচ্ছে, তা কোনো সুস্থ ধারার রাজনীতি হতে পারে না।'

রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় সমালোচনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আলাল বলেন, 'যারা এই ধরনের নোংরা সমালোচনা করছে, তাদের মুখের ভাষা ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে আমাদের সন্দেহ হয়—এরা আসলে মাদকাসক্ত কি না।'

একই সভায় দেশে মাদক চোরাচালান ও বিস্তারের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেন আলাল। তার অভিযোগ, 'শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির কারণেই দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা যাচ্ছে না।' পাশাপাশি সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার পেছনে মাদককে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।


পিরোজপুরে এলজিআরডির মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে শুধু পিরোজপুর জেলাতেই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। বিগত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় দেশের এই অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৩ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে দেশের প্রকৌশলীরা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করবেন।

বক্তব্যে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অধিকার আদায়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির ভূয়সী প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন সানজিদা ইসলাম তুলি। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি গুম হওয়া পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশা ও ন্যায়বিচারের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলী, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


হাম রোগ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের অন্যান্য সরকারি দপ্তরে ছুটি থাকলেও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবাতে কোনো ডাক্তারের, নার্সের ছুটি হবে না। থাকতে হবে।” এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, শুধুমাত্র ভ্যাকসিন নিলেই কোনো শিশু শতভাগ নিরাপদ—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তিনি কলেরার উদাহরণ টেনে বলেন, যদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তবে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাঁর মতে, “যদি বেশিভাবে ভাইরাসটা ছড়িয়ে যায়, ক্ষেত্র বিশেষে হতেও পারে। এটা কতটুকু গ্যারান্টি আমি জানি না, আই অ্যাম নট এ সায়েন্টিস্ট, যার কারণে আমি জানি না।” মূলত বর্তমানের প্রাদুর্ভাবের মাত্রা বিবেচনা করে তিনি এই সতর্কতা দিয়েছেন।

ঈদের সময় সংক্রমণের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মায়েরা যেন আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা কোনো জনাকীর্ণ স্থানে ভ্রমণ না করেন। হামকে ‘হাইলি ছোঁয়াচে রোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সতর্ক করেন যে শ্বাস-প্রশ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ঈদের ছুটিতে বাসে বা ট্রেনে যাতায়াত এবং সামাজিক মেলামেশার ফলে যদি সুস্থ শিশুরা রোগীদের সংস্পর্শে আসে, তবে দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ১১:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রাজধানী ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি ময়মনসিংহের পথে রওনা হন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানের এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল ৩টায় ত্রিশালের ঐতিহাসিক নজরুল একাডেমি মাঠে আয়োজিত কবির জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করবেন তিনি। সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টায় স্থানীয় নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জনসভা ও বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। কবির স্মৃতিধন্য ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্পোর্টস কার এবং ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) গাড়ির একটি বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন মডেলের পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


ঈদ উপলক্ষে আজও ব্যাংক খোলা, চলবে স্বাভাবিক লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সাত দিনের ছুটির কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এবং আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ ২৩ মে এবং আগামীকাল ২৪ মে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, এই দুই দিন ‘সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রাহকরা নিয়মিত লেনদেন করতে পারবেন’ এবং আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যাংক বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মূলত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যাংক সচল রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) গত ১৮ মে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার জারি করে। তবে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি থাকলেও তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে শিল্পাঞ্চল ও বন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সমৃদ্ধ এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ওই দিনগুলোতে দাপ্তরিক সময়সীমা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও ‘গ্রাহক লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।’

এর পাশাপাশি দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন ব্যতীত ছুটির অন্য দিনগুলোতেও এসব স্থানে সীমিত আকারে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এই বিশেষ ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যথাযথ আর্থিক ভাতা প্রাপ্ত হবেন। সাধারণ মানুষের কোরবানির কেনাকাটা ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই ব্যাংকিং খাতে এই বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।


বাংলাদেশ থেকে শেষ হলো হজ ফ্লাইট, ২৪ হজযাত্রীর প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছরের হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সকল নির্ধারিত ফ্লাইট সম্পন্ন হয়েছে এবং নিবন্ধিত সকল হজযাত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। শুক্রবার (২২ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এবারের হজ যাত্রায় মোট ২০১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৬ জন যাত্রী পবিত্র ভূমিতে গমন করেছেন।

হজের যাবতীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল হজযাত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তবে এবারের হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মৃতদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, মক্কায় ১৫ জন এবং মদিনায় ৯ জন হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ গত ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) নামের এক ব্যক্তি সৌদি আরবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মৃতদের দাফন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


স্মার্টফোনে বন্দি শৈশব, ঝুঁকিতে মানসিক স্বাস্থ্য

* ঢাকার ৮৩ শতাংশ শিশুই দিনে ২ ঘণ্টার বেশি থাকছে স্ক্রিনে * ভুগছে নানা সমস্যায়, অল্প বয়সেই চোখে উঠছে চশমা * কমে যাচ্ছে শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষমতা * ৮০ শতাংশ ভুগছে তীব্র মাথাব্যথায় * ব্যাহত হচ্ছে ঘুম, বাড়ছে স্থূলতা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

সাত বছর বয়সি তামিমের চোখ দুটো জোনাকির মতো জ্বলছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা মোবাইল স্ক্রিনের ওপর ঝড়ের গতিতে কাঁপছে। সে এখন চার দেয়ালের ঘরে নেই; এক রক্তক্ষয়ী কাল্পনিক যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাপতি যেন!

সামনে ঠাণ্ডা হয়ে আসা ভাতের থালা নিয়ে পাথর হয়ে বসে আছেন মা। পরম স্নেহে এক লোকমা ভাত তামিমের মুখের কাছে নিতেই রুমের বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল সে—উফ আম্মু! ডিস্টার্ব কোরো না তো! আর একটা শট দিলেই এনিমি খতম! গেম ওভার হয়ে যাবে!

মায়ের হাতটা মাঝপথেই থমকে যায়। তামিমের মুখের সেই অদ্ভুত হিংস্রতা দেখে মায়ের বুকটা কেঁপে ওঠে। এই দৃশ্যটি কেবল তামিমের একার নয়; এটি আজ দেশের নতুন ‘মহামারি’।

রাজধানীর বনশ্রীর একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর দিন শুরু হয় ডিজিটাল স্ক্রিন দিয়ে, শেষও হয় স্ক্রিনেই। সকালে স্কুল থেকে ফেরার পর তামিমের আর কোনো ব্যস্ততা নেই। এলাকায় একটা খেলার মাঠ আছে ঠিকই, কিন্তু কর্মব্যস্ত বাবা-মায়ের তাকে নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় নেই! আবার একা ছাড়তেও ভরসা পান না তারা। ফলে তামিমের বিনোদন, অবসর আর একাকিত্বের একমাত্র সঙ্গী এখন স্মার্টফোনটি। তবে শুধু, তামিম নয়; ড্রয়িংরুমের সোফা থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল, এমনকি রাতের বিছানা—শিশুদের শৈশবের সিংহভাগই এখন গ্রাস করে নিয়েছে এই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের নীল আলো। নিজেদের অজান্তেই এই কৃত্রিম স্ক্রিন কেড়ে নিচ্ছে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ, হাসি আর প্রাণচাঞ্চল্য, ঝুঁকিতে মানসিক স্বাস্থ্য।

গবেষণার ভয়াবহ পরিসংখ্যান: এক অদৃশ্য মহামারি: অনেক মা-বাবা মনে করেন, সন্তান ঘরে চোখের সামনে ফোন নিয়ে বসে আছে, মানে সে নিরাপদ আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই ধারণার মুখে এক বড় চপেটাঘাত করেছে। ঢাকার শিশুদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তাকে গবেষকরা সরাসরি অদৃশ্য মহামারি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ঢাকার ছয়টি (তিনটি বাংলা ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম) স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি ৪২০ জন শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাই করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে-

নিরাপদ সীমার লঙ্ঘন: আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিশুর জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ নিরাপদ ‘স্ক্রিন টাইম’ বা স্ক্রিন দেখার সময় হলো ২ ঘণ্টা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮৩ শতাংশ শিশুই দৈনিক ২ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করছে।

সাড়ে চার ঘণ্টার ডিজিটাল বন্দিত্ব: গড়ে ঢাকার শিশুরা স্মার্টফোন, টিভি বা কম্পিউটারের পেছনে দিনে সাড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করছে। অর্থাৎ, তাদের দিনের একটা বড় অংশই কাটছে অবাস্তব এক ডিজিটাল জগতে।

শরীর ও মনে ডিজিটাল বিষক্রিয়া; অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা গবেষণার শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার উপাত্তগুলো দেখলেই স্পষ্ট হয়:

১. শারীরিক বিপর্যয় : গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই ইতোমধ্যে চোখের নানা সমস্যায় ভুগছে। অল্প বয়সেই তাদের চোখে উঠছে চশমা। এছাড়া ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই তীব্র মাথাব্যথার কথা জানায়। মাঠে না যাওয়া এবং সারাক্ষণ বসে ফোন গোঁতার কারণে শিশুদের শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ঘুম আর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ওজন (স্থূলতা)।

২. মানসিক ও আচরণগত জটিলতা: শারীরিক ক্ষতির চেয়েও ভয়ঙ্কর ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের মনে।

তথ্য বলছে, প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ২ জনই (৪০ শতাংশ) ভুগছে তীব্র দুশ্চিন্তা,অতি চঞ্চলতা কিংবা আচরণগত নানা মানসিক সমস্যায়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, আমার ছেলেটা আগে কত শান্ত ছিল। এখন ফোন ছাড়া সে খেতেই চায় না। ফোন কেড়ে নিলে বা ওয়াইফাই বন্ধ করে দিলে সে আমাদের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠে, জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। স্ক্রিনের আসক্তি আমাদের পরিবারের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।

গোঁড়ায় গলদ: দায় কার: এই পরিস্থিতির জন্য আমরা খুব সহজেই শিশুদের দোষ দিয়ে দিই। কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যাবে, এর জন্য দায়ী আমরা বড়রাই।

রামপুরার এক বাসিন্দা অকপটে স্বীকার করলেন সেই সত্য, ‘আমরা বাবা-মায়েরাই এর জন্য দায়ী। ছোটবেলায় বাচ্চা একটু কাঁদলে বা ঠিকমতো না খেতে চাইলে আমরাই তো শান্ত রাখার জন্য তাদের হাতে ইউটিউব চালিয়ে মোবাইল তুলে দিই। আমরা নিজেদের সাময়িক শান্তির জন্য শিশুকে বিষ খাওয়াচ্ছি, পরে সেটাই তাদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।’

আবার বাড্ডার এক অভিভাবক জানান সামাজিক প্রতিযোগিতার কথা। তার দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া সন্তান বন্ধুদের দেখাদেখি ট্যাবের জন্য কান্না করত। বাধ্য হয়ে ট্যাব কিনে দেওয়ার পর এখন সেই সন্তান সারাক্ষণ এক কোণায় মুখ গুঁজে বসে থাকে। পড়াশোনা, গল্পগাছা—সব উধাও।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও মতামত: শিক্ষাবিদদের মতে, অতিরিক্ত গুগল-ইউটিউব নির্ভরতার কারণে শিশুরা বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এতে তাদের মেধাচর্চা কমছে এবং ভুল তথ্য শেখার বা নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। স্মার্টফোন এখন শিশুদের জন্য এক প্রকার ‘মারণাস্ত্রের’ মতো কাজ করছে।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, এই সংকটের জন্য শুধু বাবা-মাকে দায়ী করা যাবে না। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন এবং ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। মাঠ ও পার্ক দখল হয়ে যাওয়ার কারণে শিশুরা ঘরে বন্দি হয়ে পড়ছে।

সমাধানের পথ: প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে ও বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি খেলার মাঠ ও পাবলিক স্পেসগুলো উদ্ধার করে শিশুদের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। একে গবেষকরা ‘অদৃশ্য মহামারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এখনই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষাবিদদের মতে, এই গুগল-ইউটিউব নির্ভরতা শিশুদের মৌলিক শিক্ষার ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখন বইয়ের পাতা উল্টানোর চেয়ে স্ক্রিন স্ক্রল করতে বেশি পছন্দ করে। এতে তাদের গভীর চিন্তার ক্ষমতা বা মেধাচর্চা কমছে। একই সাথে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ভুল তথ্য বা অনোপযুক্ত কনটেন্ট দেখার কারণে আশঙ্কাজনকভাবে নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। একজন অধ্যাপক তো স্পষ্টই বলেছেন, ‘প্রযুক্তি ভালো, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্মার্টফোন শিশুদের জন্য এক প্রকার মারণাস্ত্রের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তবে এই সংকটের দায় কেবল পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার সুযোগ নেই সমাজ বা রাষ্ট্রের।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ‘সামাজিকভাবে যদি একটা কালচার তৈরি হয়ে যায়, তবে একা বাবা-মায়ের পক্ষে সন্তানকে আটকে রাখা কঠিন। এর জন্য আমাদের সামাজিক পরিবেশ বদলাতে হবে।’

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী একটি অত্যন্ত জরুরি দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘যে দেশে শিশুদের খেলার মাঠ আর বিনোদনের পার্ক যত কমতে থাকে, সে দেশে কারাগার আর হাসপাতালের সংখ্যা তত বাড়তে থাকে।’ তিনি অবিলম্বে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ ও পাবলিক স্পেসগুলো উদ্ধার করে শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং প্রতিটি অভিভাবককে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টার জন্য সন্তানকে নিয়ে বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মুহিববুল্লা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে এই প্রথম কোনো পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমামকে প্রশাসনিক উচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লা হিল বাকীকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী মধ্যমপন্থি আলেম ও ইসলামী গবেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি কওমি, আলিয়া ও প্রচলিত শিক্ষাধারায় সমানভাবে শিক্ষিত একজন আলেম।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার থাকছে না: ইসি মাছউদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করাসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কোনো পোস্টার থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য হলো, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে এরমধ্যে একটি হলো এই নির্বাচনে পোস্টার থাকবে না। আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পোস্টার না রাখার পক্ষে।’ এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনি প্রচারের ধরনে একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশোধিত বিধিমালার কারিগরি ও কৌশলগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আসন্ন ভোটগুলোতে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার থাকবে না এবং অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধানটিও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। এছাড়া নির্দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনমূলক স্বাক্ষরের যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিও সহজ করার লক্ষ্যে বাতিল করা হচ্ছে। তবে উপজেলা নির্বাচন ব্যতীত অন্যান্য স্তরে প্রার্থীর জামানতের অঙ্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। আইনি কড়াকড়ির বিষয়ে তিনি বলেন যে, প্রবাসী বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না এবং আইসিটি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা পলাতক আসামি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ঈদের ছুটির পরপরই সংশোধিত এই বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হবে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনি ডামাডোল শুরু হতে পারে। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন—সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ও সংঘাতমুক্ত আচরণ, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন ভূমিকা এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সততা ও সক্ষমতা। তিনি বিশ্বাস করেন, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার জন্য ইসিকে নীতিগত জায়গা থেকে ‘হুংকার’ দিতে হবে।

নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার যদি আন্তরিকভাবে বলেন- জাল ভোট আমি করতে দেব না, বা দুই নম্বর কাজ হবে না-তাহলে তা তার সততা, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর নির্ভর করে।’ তাঁর মতে, কেবল ব্যক্তিগত সততা থাকলেই চলবে না, বরং মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও একজন কর্মকর্তার জন্য অপরিহার্য। এই সকল নিয়ামকের যথাযথ সমন্বয় ঘটলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


আসামি সোহেল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল: ডিবিপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আদালতে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরবর্তীতে তার নিথর দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা দীর্ঘকাল ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল এবং ‘তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না’। ঘাতকের চারিত্রিক স্খলন ও মাদকাসক্তিই এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে বলে পুলিশ মনে করছে।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, একই ভবনের পাশাপাশি কক্ষে থাকা রামিসাকে দেখে ঘটনার দিন সকালে ইয়াবাসক্ত সোহেলের মধ্যে ‘বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে’। সে শিশুটিকে কৌশলে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে বাথরুমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে সোহেল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ‘গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে’। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গুম করার অমানবিক পরিকল্পনায় যোগ দেন। তাঁরা একটি ধারালো চাকুর সাহায্যে শিশুটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন এবং তার দুই হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। রামিসার মা যখন তাঁর মেয়ের সন্ধানে দরজায় নক করছিলেন, তখন সোহেলকে জানালা দিয়ে পালানোর সুযোগ করে দিতে স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন।

এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে রামিসার পল্লবীর বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান যে, পুলিশ দ্রুততম সময়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং ‘আসামি ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ​এখন চার্জশিট দেওয়ার পালা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার কাজ সিআইডি ল্যাবে চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ‘ডিএনএ টেস্টের নিয়ম হচ্ছে যে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, যেহেতু এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়। সেটা শেষ হবে রোববারের দুপুরের মধ্যে। রোববারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারবো এবং তারপর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে বিচার কার্য নিষ্পন্ন হয় সে চেষ্টা করবো। যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায় সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।


banner close