আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’
বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।
এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।
তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।
ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।
যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।
নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।
বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।
এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।
ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।
গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।
ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার তা নিশ্চিত করা সরকার প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
শারদীয় দুর্গাপূর্জা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিগণ দেখা করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
মতবিনিময়কালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন বলে জানান।
তাঁরা বলেন, তাঁদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যে ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মতবিনিময়কালে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুভ উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সোমবার সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভার শুরুতে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পুরোদমে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর ও চালুর বিষয়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং নভেম্বরের শুরুর দিকেই উদ্বোধনের জন্য তাঁর সময় পাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় আশাবাদী। উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাবেন এবং সফর সমাপ্ত করে ২৯ অক্টোবর দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন; এরপর তাঁর সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী উদ্বোধনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।
কক্সবাজার থেকে কোন কোন বিমান পরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং কোন কোন রুটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বিশদ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি প্রধানরা অংশ নিয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য গন্তব্য দেশগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু অর্থায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে কানাডার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কানাডার মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনই মূল পথ বলে জানান তিনি, যার সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রী পূর্ণ সহমত পোষণ করেন। এছাড়া দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মেটাতে কানাডা থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ইতিবাচক আগ্রহের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) এবং আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অটোয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রসঙ্গে বৈঠকে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রান্তিক চাষিদের কাছে সার ও বীজসহ কৃষি উপকরণ সহজে পৌঁছে দিতে সরকার কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে, যেখানে কানাডার উপাত্ত ব্যবস্থাপনার আধুনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। একই সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিআইএমএমওয়াইটি) কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উঠে আসে। বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনার বরাতে তিনি আরও বলেন, সামাজিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিগুলোকে সমন্বিত করে নগদ সহায়তার পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যকর করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব, যা স্বাবলম্বী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণে খাল খনন এবং দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো প্রশংসিত হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার ছাড়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যা থেকে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য সহায়তা পেতে পারে। এ ছাড়া কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, বর্তমানে দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাক্ষাতের সমাপ্তিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এই বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি এবং গুরুতর আহত আরও ২৪ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, নিহত দুজন হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। নিহতের মধ্যে শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে জেদ্দা প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন এবং ভাইয়ের মৃত্যুতে দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। অন্যদিকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদ থেকে জেদ্দাগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন নাসরুল্লাহ।
হামলায় আহত ২৪ জন বাংলাদেশি বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী। কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নওগাঁর রানীনগরের ওমরাহযাত্রী সাফফাত রহমান এখনও অচেতন অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. দাউদুল ইসলাম। এছাড়া রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ঢাকার লালবাগের মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ এবং মিরপুরের আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন।
অন্যান্য হাসপাতালের মধ্যে ঢাকার ডেমরা এলাকার মো. আবদুল্লাহকে প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে এবং কামরাঙ্গীরচরের আরমান হোসেনকে সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কর্মরত দুই প্রবাসী মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হকও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন প্রবাসী মো. রফিক মিয়া এবং কিং ফাহাদ মেডিক্যাল সিটিতে ভর্তি রয়েছেন ইসমাইল হোসেন, মো. রায়হানুল ইসলাম ও মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা। এছাড়া প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন পাঁচ প্রবাসী কর্মী সালমা আক্তার, মো. শাহادات হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।
এদিকে এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে রয়েছেন নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় ভর্তি রয়েছেন উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত প্রবাসীদের যথোপযুক্ত ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে পাঠানোর বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, বাল্যবিয়ে নির্মূল এবং সমাজে তাদের সমমর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত 'আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬' উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, এটি একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কন্যাশিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা কোনো দয়া নয় বরং এটি তাদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার এবং তাদের সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।
নারী ও কন্যাশিশুর ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর বিচার নিশ্চিত করবে জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, অপরাধীদের কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। যেকোনো বিপদে দ্রুত রাষ্ট্রীয় জরুরি সহায়তা ও পরামর্শ পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ এবং ৯৯৯ সম্পর্কে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। পাখির উপমা টেনে তিনি বলেন, একটিমাত্র ডানার ওপর ভর করে যেমন পাখির পক্ষে উড্ডয়ন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী ও কন্যাশিশুকে পেছনে ফেলে কোনো জাতিই প্রকৃত উন্নয়নের শিখরে আরোহণ করতে পারে না।
এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাল্যবিয়ে শৈশবকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে এবং মেধার চরম অপচয় ঘটায়। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি কন্যাদের পরিবারের ওপর বোঝা না ভেবে তাদের সার্বিক কল্যাণ ও সুশিক্ষায় নিয়মিত বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন। পুত্রসন্তানের পাশাপাশি কন্যাদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলোকে কন্যাশিশুর প্রতি সমাজের নেতিবাচক মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষভাগে কন্যাশিশুদের সাহসী হওয়ার প্রেরণা জুগিয়ে রাষ্ট্রপতি আত্মমর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার প্রসার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিকূলতা জয়ের নির্দেশনা দেন এবং যেকোনো অন্যায়ের মুখে মুখ বুজে না থেকে অভিভাবক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক হেল্পলাইনের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে নিরাপত্তা সংকটের মুখে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদমুখী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন দিনে ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সর্বমোট নয়টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, যার মধ্যে সোমবার নতুন করে স্থগিত হয়েছে দুটি ফ্লাইট। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটে মোট ৩ হাজার ১২ জন যাত্রী ভ্রমণের অপেক্ষায় ছিলেন। বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি, রিয়াদ এয়ারের তিনটি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি নির্ধারিত ফ্লাইট রয়েছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার প্রবাসী ও যাত্রীর ভ্রমণসূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রবিবার রাতে চালানো হামলায় অন্তত একজন পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু এবং অপর ১১ জন আহতের ঘটনা নিরাপত্তা শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিগত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে অন্তত পাঁচ দফা হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের আক্রমণে টার্মিনালের অবকাঠামো ও সৌদিয়ার একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এক বৈমানিকসহ তিন সৌদি নাগরিক প্রাণ হারান।
প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নেওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করেছে বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো বিমান চলাচলের বিরুদ্ধে হুথিদের আগাম সতর্কবার্তার ধারাবাহিকতায় এই উপর্যুপরি হামলার ঘটনা ঘটছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী আকাশপথে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় জ্বালানি খাতের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির প্রস্তাবিত কর্মসূচির বেশিরভাগ শর্তেই বাংলাদেশ সম্মতি প্রকাশ করেছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সোমবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সাথে নীতিগত সংস্কারের কর্মপরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। সংস্থাটির সঙ্গে শর্তের যেসব ক্ষেত্রে সামান্য মতপার্থক্য রয়েছে, তা সময়ভিত্তিক পর্যায়ক্রমিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া ব্যয়বৃদ্ধি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের কাছে এক ধরনের আর্থিক নিরাপত্তা চেয়েছেন তাঁরা এবং সংস্থাটিও এ বিষয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখার বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে তো আমরা একটা ফ্রেমওয়ার্ক, পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে তো যাচ্ছি, ওটা আন্ডার প্রসেস। এর মাধ্যমে আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে আগামী দিনে কোঅপারেশনগুলো কী হবে, ওই পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের মধ্যে ওটা থাকবে। এবং ইন দ্য মিন টাইম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সাপোর্ট তো দিয়ে যাচ্ছে আমাদের, সমস্যা নাই। আই থিংক উই উইল হ্যাভ এ প্রোগ্রাম হুইচ উইল বি প্রিটি গুড।’
তিনি আরও জানান, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সহায়তামূলক উদ্যোগের পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে এই কাঠামোগত চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ১৯১টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সার্বিক অর্থনৈতিক সুরক্ষায় সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশের টেকসই জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের কাছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে স্থল ও গভীর সমুদ্রে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তরের ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনে রিয়াদের সহযোগিতা চাওয়া হলে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ১৭তম আসরের পার্শ্ববৈঠকে দেশটির বিদ্যুৎ–বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানির সঙ্গে আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানিসংক্রান্ত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা কাঠামো তৈরির বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়। এর পাশাপাশি সম্প্রতি রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে এই ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সৌদি আরব সফরের অংশ হিসেবে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গেও পৃথক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের ঘাটতি পূরণে কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক বহর থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আমদানির উৎস ও সরবরাহপথ বহুমুখীকরণের বিষয়গুলো এ সময় গুরুত্ব পায়। জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কারিগরি দলগুলোর মধ্যে আলোচনা গতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে সৌদিভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অন্য এক বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশে পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানির উৎপাদন সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া নীতির প্রশংসা করে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ ব্যক্ত করেছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেও কাজ করছে সরকার। গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ( স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৪১৫ মেগাওয়াট যার মধ্যে গ্রিড-সংযুক্ত ১ হাজার ২০০ দশমিক ৯৪ মেগাওয়াট। বাকি ৩৭৭ দশমিক ৪৭ মেগাওয়াট গ্রিডের বাহিরে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, ‘সৌর প্যানেল ব্যক্তি পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থাপন করা হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অন্তত ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এতে সরকারের কোষাগারের ওপরও চাপ কমবে। যেসব পরিবারের বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি, তারাও বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য শিল্পকারখানাগুলোকে সাধারণত প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) ১১ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৬ পয়সা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞের মতে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৪-৫ টাকা। আর ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ৮-৯ টাকা।
শফিকুল আলম বলেন, সরকার জমি, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা দিলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ৬ টাকা ৫০ পয়সা। এসব সুবিধা না থাকলে ব্যয় দাড়ায় প্রতি ইউনিটে ৯ টাকা।
তিনি আরও বলেন, ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা যায়। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ কিনতে হয়। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয়, অর্থায়নের ধরন, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকেরা দীর্ঘ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় পেতে পারেন।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় ১৩ টাকা ১৩ পয়সা। ফার্নেস অয়েল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ ব্যয় ২৭ টাকা ৪০ পয়সা। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় আনুমানিক ৭ টাকা ৯ পয়সা।
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার হুজুরীকান্দা গ্রামে অবস্থিত মতি অ্যাগ্রিভোলটাইক প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সেচ ও কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দিতে প্রকল্পটিতে মোট ৩৫ দশমিক ৩ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের জন্য ২৬ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। আর সেচপাম্প চালানো ও কার্যালয়ের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে স্থাপন করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ কিলোওয়াট ক্ষমতার আরেকটি ব্যবস্থা। প্রতিদিন গড়ে যে বিদ্যুত উৎপাদিত হয় সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ । ফলে এখানে কোন ধরণের লোডশেডিং হয় না।’
শহিদুল ইসলাম জানান, সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপনে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এর আনুমানিক আয়ুষ্কাল ২৫ বছর।
তিনি আরও বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যয় বাদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের খরচ আনুমানিক সাড়ে ৩ টাকা। ভারত ও পাকিস্তানে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে সাড়ে ৩ টাকা থেকে ৪ টাকার মধ্যে।
একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো বাড়ির ছাদে এমন একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করল, যার সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় নয় ঘণ্টার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান। তাহলে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজেরা ব্যবহার করে ২০ বছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের আনুমানিক ব্যয় ৭ টাকা ৪৩ পয়সায় নামিয়ে আনতে পারে।
এদিকে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ব্যয় কমানো ও এর প্রসার বাড়াতে সরকার সম্প্রতি নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ সুবিধা ১৮০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।
এ ছাড়া ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার প্রণোদনা চালু করেছে। এ ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা মিলবে।
কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়াম সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে।’
হাসান মেহেদী বলেন, বিশেষজ্ঞরা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের আরও জোরালো উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদি জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৯ টাকা ১২ পয়সা দরে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বিপিডিবি।
তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে গ্রিড-সংযুক্ত ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।’
সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত ও পরিবেশদূষণ কমাতে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে কাজ করছে।
সরকার নতুন বাণিজ্যিক, শিল্প ও সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলকভাবে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে, যেসব স্থাপনার বৈদ্যুতিক লোড ১০ কিলোওয়াটের বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এ শর্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বল্পসুদে অর্থায়ন চালুর জন্য উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শহরের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের অর্থায়ন কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়ের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুতের ট্যারিফ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করতে হবে।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সৌর, বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০-৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস
দেশের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরের প্রথম ইউনিটে (ইউনিয়ন-১) সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে চলতি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে ইউনিটটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম।
রোববার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর পরমাণু চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের ফিশন বা বিক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, চুল্লিতে শুরু হওয়া ইউরেনিয়ামের বিক্রিয়া থেকে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হবে, যা ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং শেষ হয় এবং গত ২৮ এপ্রিল ফিজিক্যাল স্টার্টআপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রেসার অপারেটিভ রিলিফ ভালভ ত্রুটিমুক্ত করার পর ১৬ ও ১৮ এমপিএ (MPa) উচ্চচাপের পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রাথমিকভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। দুই ইউনিটের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট (প্রতি ইউনিটে ১,২০০ মেগাওয়াট)। রূপপুরের এই প্রথম ইউনিট চালুর মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হলে দেশের চলমান জ্বালানিসংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, বাংলাদেশে পরমাণু জ্বালানি সংক্রান্ত যৌথ প্রকল্প আরও সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। রোববার রোসাটমের মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠক শেষে রোসাটমের মহাপরিচালক বলেন, “বাংলাদেশ পরমাণু যুগে প্রবেশের পর থেকেই প্রকল্প সম্প্রসারণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ নভেম্বর থেকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ২০২৭ সালে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের স্টার্টআপ বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে রোসাটমের আধুনিক প্রযুক্তি—যেমন ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (SMR) এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (FNPP) বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকারি চুক্তির (IGA) আওতায় রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটির নকশা প্রণয়ন ও সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে।
গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিকাদারদের কাছ থেকে জামানত নেওয়ার সুপারিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গৃহীত সরকারের বিগত ১৮০ দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও কমিটিকে জানানো হয়।
অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো নিয়ে তদন্তের সুপারিশ: বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে গৃহীত অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে সংসদীয় কমিটি।
কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপরও জোর দেওয়া হয় কমিটির বৈঠকে। উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিতের সুপারিশও করা হয়।
কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
বৈঠকে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তা নিশ্চিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে। রোববার ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে 'ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ওয়ে ফরওয়ার্ড- টুয়ার্ডস সাসটেইনেবল রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যান্ড আ ডিওরেবল রিজিয়নাল সলিউশন’- শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.) এতে সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কেবল বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি নিজে তার সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাপান সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া এ মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কথা রয়েছে, যেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আরও আলোচনা হবে।
রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে আইনি সরকারের পাশাপাশি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ নানামুখী কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য এবং চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সকল পথ উন্মুক্ত রেখেই বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, বিগত দশকগুলোতে এই সংকটের বহুমুখী জটিলতা ও মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখন সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তা থেকে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং খণ্ডিত উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশলের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘে এই বছর সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যাবাসন ইস্যুটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। প্রথম প্রবন্ধে মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোকপাত করেন অধ্যাপক ড. এএসএম আলী আশরাফ।
দ্বিতীয় প্রবন্ধে রাখাইনের উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। তৃতীয় প্রবন্ধে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের কৌশলগত পথসমূহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.)।
উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন কেবল মানুষদের শারীরিক পুনর্বাসন নয়; বরং ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নতুন সচিবালয় ঘিরে চক্রাকার সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পাতাল সড়ক তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর
ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্থাপত্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিনটি নকশা উপস্থাপন করা হয়। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সবাই একমত হন। পরদিনই প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকারের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায় সরকার।
শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নতুন নয়। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এ নিয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
২০১৫ সালে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সচিবালয় নির্মাণের একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ হয়। তখন ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। জিয়া উদ্যানের উত্তর পাশে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে, যেখানে আগে বাণিজ্য মেলা হতো, সেখানে ৩২ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল।
পরিকল্পনাটি জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের কথা ছিল। সেই নকশা অনুযায়ী, ১৪ তলা ভিত্তির ওপর নয়তলা করে চারটি মূল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
নতুন বিএনপি সরকারের আমলে আবদুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। গত ২৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে যা থাকছে: সচিবালয় স্থানান্তরের সম্ভাব্য স্থান ও নকশা নিয়ে গত পাঁচ মাসে একাধিক বৈঠক করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পর্যালোচনা শেষে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। স্থাপত্য অধিদপ্তরের তিনটি দল পৃথক নকশা তুলে ধরলে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ের চারপাশে চক্রাকার সড়ক নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পেছন দিয়ে একটি নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সড়কটি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর—সাবেক গণভবনের পাশ দিয়ে মিরপুর সড়কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে ওই এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা থাকায় নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য সেগুলো সরানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুর-১০ নম্বরের দিকে যাওয়া সড়কের নিচ দিয়ে পাতাল সড়ক নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওপরের সড়ক দিয়ে প্রস্তাবিত সচিবালয়ে প্রবেশ করা যাবে এবং নিচের সড়ক ব্যবহার করে মিরপুর সড়কে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এ জন্য পৃথক প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নকশায় প্রতিটি ভবন ১২ তলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবনগুলোর নকশা তৈরির কথা বলা হয়েছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তর করা হলে আবদুল গনি রোডের বর্তমান ভবনগুলোতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার স্বল্পতার কারণে কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় সমস্যা হয়। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় যানজটের কারণে কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমান সচিবালয়ের আয়তন প্রায় ১৭ লাখ বর্গফুট। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ের আয়তন হবে প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুট।
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন। ২০২১ সালে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে মাঠটি মূলত খালি পড়ে আছে। সেখানে পার্ক নির্মাণে চার বছর আগে ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, জায়গাটি দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকলে অবৈধ দখলের আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে জমিটির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যানজট বাড়ার আশঙ্কা: নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিরা। স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, ১৯৬৯ সালে তৈরি লুই আই কানের নকশার আলোকে ২০২৬ সালে এসে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁও এলাকায় ইতোমধ্যে বহু সরকারি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে ওই এলাকায় যানবাহনের চাপও বেড়েছে। নতুন করে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে যানজটের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ইকবাল হাবিবের মতে, মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার মতো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য বিকল্প স্থান নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়, অনুমোদন, নতুন সড়ক নির্মাণ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।