আক্রান্ত ১১ জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। দুর্গম যেসব এলাকায় এত দিন যাওয়া সম্ভব হয়নি সরকারি-বেসরকারি ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের, এখন সেসব এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তারা। তবে ত্রাণের জন্য হাহাকার সবখানে। আশার কথা, নতুন বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সব মানুষ দাঁড়িয়েছেন একসঙ্গে। তাই গত ৫ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের আহ্বানে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ সাড়া দিচ্ছেন, প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে তার ত্রাণ তহবিলেও মিলছে বিপুল সাড়া। তবে উপদ্রুত এলাকার মানুষ চাইছেন নগদ সহায়তা-ত্রাণের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের পাশাপাশি ঘরবাড়ি মেরামত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কৃষিতে সহায়তা। তবে সব মহলের একটা লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব পানিবন্দি মানুষের কাছে ত্রাণ হিসেবে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া। এদিকে, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে বারবার পানিতে নামতে বাধ্য হওয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। উপদ্রুত জেলাগুলোতে ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার হাসপাতালগুলোসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে একযোগে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা। ফেনী শহরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আসরের নামাজের পরেও তার এলাকাতে বন্যার লেশমাত্র ছিল না। তবে কোথা থেকে হঠাৎ এত দ্রুত গতিতে ঢলের পানি আসা শুরু করে যে মাগরিবের নামাজের আগেই কোমরসমান পানিতে ভরে যায় চারপাশ। প্রাণে বাঁচতে তার চার তলা বাসায় মুহূর্তে প্রতিবেশীদের অনেকে ভিড় করেন। এ কয় দিন বাসার দোতলা থেকে চতুর্থ তলায় বাসিন্দারাসহ ৪০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমন প্রতিবেশীও প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ে ছিলেন যাদের তিনি আগে চিনতেনও না। পানি ছিল ভীষণ ঠাণ্ডা। এখন পানি মোটামুটি নেমে গেছে। তবে নিচতলার ভাড়াটিয়া কোনো কিছুই সরাতে পারেননি। তার সব সম্পদ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা শহরের একতলা বা টিনশেডসহ সাধারণ ঘরে যারা ছিলেন তাদের সবার। এসব মানুষ সব হারিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে বাঁচবেন তা আল্লাহ জানেন। এমন ঢল আমার জীবনে কখনো দেখিনি।’
বন্যায় ক্ষতির এমন চেহারা প্রায় সবখানে। পুকুরসহ মাছের ঘেরগুলো ভেসে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষকের মাঠের ফসল, ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে সব মালপত্র, ঘরের কোনো আসবাবপত্র আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এই পরিস্থিতি এখন ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের সবগুলো জেলায়।
এদিকে, চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। এছাড়া, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে এই তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। আক্রান্ত এসব জেলায় ৭৪টি উপজেলার মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন।
তিনি জানান, পানিবন্দি-ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৩ হাজার ৮৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন মানুষ এবং ২৮ হাজার ৯০৭ টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা সেবায় মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে ৩ জন বন্যার কারণে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও মৌলভীবাজারে ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা, গোমতি ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর পানি কমতে পারে এবং এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আজ দেশের তিনটি নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার ৪ নদীর ৬টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। এরমধ্যে গোমতির নদীর কুমিল্লা স্টেশনের পানি ৭৮ থেকে নেমে আজ ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া মুহুরী নদীর পরশুরাম স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে আছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির উচ্চতা সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি তিন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তা নেমে শুধু অমলশীদ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। রবিবার বিপৎসীমার ওপরে থাকা মনু নদীর মৌলভীবাজার স্টেশনের পানি আজ বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর পানি আরও কমতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে কোনও কোনও স্থানে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে যশোরে ২২২ মিলিমিটার। এছাড়া বরগুনায় ১২০, বরিশালে ১০৪, টেকনাফে ১০১, পটুয়াখালী ৮৮, নোয়াখালী ৮৭, গোপালগঞ্জের হরিদাশপুরে ৮৫, কক্সবাজারে ৮২ এবং বান্দরবানের লামায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে উজানে আসামের তেজপুরে ১৯, ত্রিপুরায় ১২ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আজ রাতে একসঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়নি।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১১ জেলায় মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসির তথ্যের বরাত দিয়ে ত্রাণ সচিব জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে।
ফেনীতে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
কামরুল হাসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সচিব কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেওয়া হবে।
যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রাণ সচিব।
নোয়াখালীতে আবারও বেড়েছে পানি
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বাড়ছে পানি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে গত শনিবার বিকেল পর্যন্ত পানি কিছুটা কমলেও সেদিন রাত ১০টার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে আবারও কোথাও কোথাও এক ফুট থেকে দুই ফুট পানি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন।
বন্যার কারণে জেলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের জিলহাজুল ইসলাম (১০), কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট পশ্চিম পাড়ার দুই বছর বয়সী শিশু আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কালাদরপ ইউনিয়নের পূর্ব শুল্লকিয়া গ্রামের আড়াই বছরের রিয়ান। এরমধ্যে শিশু রিয়ান বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়াও বন্যার পানির কারণে ঘরের ভেতর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের কাকন কর্মকার (৩০) ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৫০)।
এদিকে ফেনী থেকে বন্যার পানি ডাকাতিয়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নোয়াখালী বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশংকা রয়েছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। বসত ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও সাতটি পৌরসভার ২০ লাখ ৩৬ হাজার সাতশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে আটশ ২৬টি কেন্দ্রে একলক্ষ ৫৩ হাজার চারশ ৫৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা ও ১৮শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
ফেনীর তিন উপজেলায় বেড়েছে বন্যার পানি
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরি কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর পানি ৷ তবে পানিবন্দি রয়েছেন এসব এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ ৷ ফেনী পৌর শহরের দু-তিনটি সড়ক ও বাসা বাড়িতে পানি কমলেও এখনো অনেক সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের নিচতলা পানিতে সয়লাব।
ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ফেনী সদর, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা উপজেলায়। বন্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । এখানে এখনও পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ৷ বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জন্য ফেনীর মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি স্লুইসগেট ও নোয়াখালীর মুছাপুরের ১৭ টি স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়েছে।
গত রবিবার থেকে ফেনী শহরের বিদ্যুতের ৯টি লাইন সচল হয়েছে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেল থেকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।
ফেনীতে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডুবুরি দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী টিম পরশুরাম ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী এবং দাগনভূঞা এলাকায় নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তৎপরতা চলমান রেখেছে ৷ এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থানীয়ভাবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, মানবিক সংগঠন তথা বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন জনগণের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় জেলার ১টি এবং ছয়টি উপজেলায় ছয়টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ৬টি হাসপাতালে মেডিকেল ক্যাম্প চালু রয়েছে। জেলা শহরে এসব বেসরকারি হাসপাতালসমূহ হল: কনসেপ্ট হাসপাতাল, মেডিনোভা হাসপাতাল মেডিল্যাব, আল আকসা হাসপাতাল, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকবলিত মানুষজনদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আস্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট লোকজন উঁচু ভবনে বা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
একই সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুছাম্মত শাহীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে কন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সহযোগিতা ও উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও আপামর জনগণের সহযোগিতা পেলে সুন্দরভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এই দুর্যোগময় মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক হতে আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আপনার দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় এখনও অপ্রতুল। স্থানীয়রা জানান, এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ আগস্ট থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ফেনী জেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এ অঞ্চলের মুহুরী কহুয়া সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ৩০ স্থান ভেঙে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম দফা এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের দ্বিতীয় দফা এবং ২০ আগস্ট থেকে তৃতীয় দফা বন্যাকবলিত হয় এসব উপজেলার মানুষজন।
এবারও কোরবানির ঈদ ঘিরে চামড়াশিল্প নিয়ে পুরনো সংকটের পুনরাবৃত্তি দেখল দেশবাসী। লবণযুক্ত চামড়ার দাম এ বছর প্রতি বর্গফুট দুই টাকা বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে সেই দাম পাননি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ কারণে চরম লোকসানের মুখে দেশের কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা চামড়া সড়কে ফেলে দিয়েছেন। কেউ ফেলেছেন নদীতে। কেউ আবার রাগে-ক্ষোভে ময়লার ভাগাড়ে ফেলেছেন। অথচ একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে, ট্যানারিগুলো লাখ লাখ চামড়া সংগ্রহ করছে। এরপরও কাঁচা চামড়ার বাজারে ধস। ফলে পুরো চামড়া শিল্প সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থাপিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্মিত না হওয়ায় ট্যানারিগুলো আন্তর্জাতিক সনদ পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে একের পর এক হারাচ্ছে বৈশ্বিক বাজার। বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চামড়ার দামও নেমে এসেছে তলানিতে।
পবিত্র ঈদুল আজহা বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় মৌসুম। সারা বছরের কাঁচামালের প্রায় অর্ধেক আসে এই ঈদে। অথচ প্রতি বছরই দেখা যায় একই চিত্র। সরকারি দাম ঘোষণা, মাঠপর্যায়ে দাম না পাওয়া, সিন্ডিকেট, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হতাশা এবং কোথাও কোথাও চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনা। এবারের কোরবানির ঈদেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। এবার দেশে প্রায় ৯০ লাখ গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। সরকারি হিসাবে গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। তবে বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ কম হবে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা শুরু থেকেই ৭৫ থেকে ৮০ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কোরবানির সংখ্যা কমতে পারে।
এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়. যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। এই হিসাবে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোরবানির দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেই চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। ছোট আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। জামিয়া কারীমিয়া আরাবিয়া (রামপুরা) মাদ্রাসার চামড়া সংগ্রহকারী ও সুলতান ভূঁইয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর কোরবানি কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত হারে চামড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও পোস্তার আড়ত ব্যবসায়ীরাও কারসাজি করে পানির দরে চামড়া কিনেছেন। ঢাকার কোথাও সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি। ফলে মুষ্টিমেয় কিছু ট্যানারি ও আড়ত ব্যবসায়ী মুনাফা পেলেও বাকি সবাইকে লোকসান গুনতে হবে। তিনি জানান, চামড়ার দাম না পাওয়ায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হতাশা বিরাজ করছে। কারণ চামড়া বিক্রিত অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্য, বস্ত্র ও বেতনভাতা হয়ে থাকে।
খিলগাঁও গোড়ান বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, গত বছর যে মানের চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন, এবার সেখানে ৬৫০ টাকার বেশি দাম পাননি। পুরান ঢাকা ওয়ারীর ব্যবসায়ী সালাম মিয়ার ক্ষোভ আরও তীব্র। তিনি ২৫০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু পোস্তার ক্রেতারা এমন দাম প্রস্তাব করেন, যা থেকে পরিবহন খরচও ওঠে না। শেষ পর্যন্ত লোকসানে চামড়া বিক্রি করে এক বুক হতাশা নিয়ে বাসায় ফেরেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
লালবাগের পোস্তার কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, ভালোমানের চামড়া সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের মধ্যেই বেচাকেনা হয়েছে। তবে ত্রুটিযুক্ত চামড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে দাম কমে যেতে পারে।
কারা লাভবান হলো : বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত ছিল। অনেক ছোট ব্যবসায়ী ও আড়তদার ঋণ না পাওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে ট্যানারিগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে ঈদের তৃতীয় দিন রাত পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার পিছ কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি গরু ও মহিষের চামড়া। ১ হাজার ৭২৫টি ট্রাকে এসব চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে। এ থেকে বোঝা যায়, বাজারে কাঁচামালের ঘাটতি ছিল না। বরং সংগ্রহ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। তবে দাম নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের দিন বিকাল পর্যন্ত এক ধরনের দাম থাকলেও সন্ধ্যার পর যোগসাজশ করে আড়তদাররা একযোগে দাম কমিয়ে দেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুরান ঢাকার পোস্তা আড়ত মালিক ও সাভারের ট্যানারি মালিকদের কারসাজির কারণেই চামড়ার বাজারে পতন হয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া এবার চামড়া কেনার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো মাত্র ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অনেক ট্যানারি পুরনো ঋণে খেলাপি হওয়ায় নতুন করে ঋণ পায়নি। ফলে অনেক আড়তদার ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাজারে সক্রিয় হতে পারেননি। এতে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং দামও নেমে গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রায় ৯৯ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। কিন্তু কাঁচা চামড়ার দাম বাড়ছে না।
এ বছর এখন পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে প্রায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার পিস এসে পৌঁছেছে। ট্যানারি মালিকদের ভাষ্যমতে, এসব চামড়া তারা সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা পিস দরে কিনেছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন অনেক ক্ষেত্রে। একটি গরুর চামড়া মাত্র ২০০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ২০১৭ সালে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ১৬০টি ট্যানারি সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, সব ট্যানারির কঠিন ও তরল বর্জ্য পাইপলাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারে গিয়ে পরিশোধিত হবে। এর মাধ্যমে ট্যানারিগুলো সহজেই আন্তর্জাতিক মানের ‘লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, সিইটিপি নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে শিল্পনগরীর বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ বেড়েছে এবং পাশের ধলেশ্বরী নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এর প্রভাব পড়েছে রপ্তানি বাজারে। বর্তমানে শিল্প নগরীর শতাধিক ট্যানারির মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বড় ক্রেতারা বাংলাদেশি চামড়া কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে প্রধানত চীনই বাংলাদেশের চামড়ার অন্যতম ক্রেতা হিসেবে রয়েছে।
ট্যানারি মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। একটি চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, রাসায়নিক ব্যবহার, শ্রমিকের মজুরি ও প্রক্রিয়া জাতকরণসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট চামড়া সর্বোচ্চ ৭০ সেন্ট দরে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচই উঠে আসছে না, লাভ তো দূরের কথা।
আজমির লেদারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহ বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ট্যানারি পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা না থাকায় চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। সিইটিপির সমস্যার সমাধান না হলে এই সংকট কাটবে না।
চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার নতুন করে আধুনিক সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের নিজস্ব উদ্যোগে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয়টি ট্যানারিকে ইটিপি স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সদর ট্যানারি ও বে ট্যানারি নিজস্ব ইটিপি স্থাপন করেছে। তবে বাকি চারটি ট্যানারি এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তবে ট্যানারি মালিকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সিইটিপির সমস্যা সমাধান ছাড়া পৃথক ইটিপি স্থাপন খুব বেশি সুফল বয়ে আনবে না। কারণ ইটিপিতে শুধু তরল বর্জ্য (ওয়াটার ওয়েস্ট) শোধন হয় কিন্তু কঠিন বর্জ্য (সলিড ওয়েস্ট) শোধনের জন্য সিইটিপিতেই পাঠাতে হবে। এছাড়া একটি ইটিপি স্থাপনে শত কোটি টাকার বেশি ব্যয় প্রয়োজন হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগ নিতে পারছে না।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, চামড়াশিল্পকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সিইটিপি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রপ্তানি বাজার পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা চামড়ার মান কমে যাওয়াও দরপতনের অন্যতম কারণ। ইদানীং পশুর শরীরে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (স্থানীয় ভাষায় করোনা) এর কারণে সংগৃহীত চামড়ার প্রায় ২৫ শতাংশই রপ্তানি অনুপযোগী। এছাড়া পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলা হয়। এতে চামড়ার পুরুত্ব ও মান নষ্ট হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমিয়ে দেয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিইটিপি প্রকল্প। এখন নতুন সিইটিপি নির্মাণ এবং পৃথক ইটিপি স্থাপনের মাধ্যমে চামড়া শিল্পে কতটা সুদিন ফিরে আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ডের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। এতগুলো আলাদা কার্ডের প্রয়োজন নেই। আমরা চাই, একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন।’
মন্ত্রী জানান, শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই নয়; ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসী কার্ডটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত সুবিধাগুলো নির্ধারণ করিনি। তবে কীভাবে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়, ব্যাংকিং গেটওয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং কারেন্সি-সংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।’
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ভূমিসংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা যেন ভূমি অফিসে বা হাসপাতালে গিয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার পান, সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’
এদিকে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (০১ জুন) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার (০২ জুন) থেকেই এই সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। শিগগিরই অভিযোগ পাঠানোর পদ্ধতি প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে। এতে আইন, কল্যাণ, সেবা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মীর শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দুর্ভোগ, বিমানের টিকিট সংকট এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ তদন্তে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব এজেন্সি কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েও টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণা করেছে, তদন্ত শেষে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও কতজন কর্মী আটকা পড়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে, যাতে বিশেষ বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পুনরায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় অথবা সময়সীমা বাড়ানো যায়। কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্রের কাছে সরকার মাথা নত করবে না। অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএমইটির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলসি) সহসভাপতি হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সম্মেলনের সভাপতি উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো এবং অন্য দুই সহসভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান ও আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজের পাশাপাশি তিনি এ দায়িত্ব সামলাবেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রতি বছর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।
গত ১ জুন এই নির্বাচনে আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মত সমর্থন জানান। এটি বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের গঠনমূলক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আইএলওর গণতন্ত্রায়ণ, শোভন কর্মসংসথান, সামাজিক ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়া এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।
মিশন আরও জানায়, বিশ্বজুড়ে শ্রমশক্তির নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অবদান, এটি তারই এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
সম্মেলনের সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আইএলও’র সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে (আইএলসি) বিশ্বের ‘শ্রম সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যা আইএলওর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম।
কাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে সরকার, শ্রমিক সংগঠন এবং নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে, গত ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশ খেলাপি থাকলেও মার্চ শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
মঙ্গলবার (০২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মার্চ ২০২৬ ভিত্তিক ‘শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন’–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত বা মন্দ ঋণ। ডিসেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে উঠেছে।
এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকভেদে খেলাপি ঋণের চিত্রে দেখা যায়, সব ধরনের ব্যাংকেই শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের হার ডিসেম্বরের ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে মার্চে বেড়ে ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ দশমিক ১১ শতাংশে, বিদেশি ব্যাংকে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৮২ শতাংশে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশে উঠেছে।
মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।
খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
পরিমাণের দিক থেকেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৭ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি বাড়তে থাকায় ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও নতুন ঋণ বিতরণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন বছর সময় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সরকারের আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)।
ইউএনসিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে একমত ইউএনসিডিপি। ফলে কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতিবাচক সুপারিশ করার পথ তৈরি হয়েছে।
ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন যৌক্তিক। তবে এই অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের একটি সুযোগ।
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইউএনসিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ করেছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।
ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্য মেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণ প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারিত হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে প্রস্তুতি পর্ব ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কমিটি বিশেষভাবে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দিয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ৯৯টি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই জয়ের ফলে আগামী এক বছর মেয়াদে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। এটি বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাব ও সক্ষমতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সাইপ্রাস। ভোটগণনা শেষে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। ফল ঘোষণার পরপরই সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসার গৌরব। এর আগে দীর্ঘ ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে সংস্থাটির ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর পুনরায় এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এখন থেকে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নানা এজেন্ডা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী চলমান নানা সংকট নিরসনে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় সাধারণ পরিষদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আগামী এক বছরের এই মেয়াদে তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবেন। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে সাতজন অতিরিক্ত সচিবকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার (০১ জুন) রাতে দেওয়া এসব প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম ও সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষর করেছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব জিন্নাত রেহানাকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান।
এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশিদা ফেরদৌসকে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম হুমায়ুন কবির সরকারকে।
ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে মেট্রো এলাকার বাইরে পাঠিয়ে পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (০২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কথা বলেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন করে কেউ বেকার হবে না, আবার একই সাথে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। দেশে রাতারাতি বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা রাস্তায় নেমে আসায় বেকারত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের হুট করে উচ্ছেদ করা কঠিন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও চালকদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখে তাদের মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে।
একই সাথে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের যৌথ সমন্বয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা ও জনসচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, এমনকি রাতের বেলাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাম্প্রতিক নৃশংস শিশু হত্যার বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান থাকায় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে যথাসময়ে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
এ ছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটিকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচারসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হবে।
আজ দেশব্যপী উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) অন্যান্য পরিচালকদের ও ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠাবার্র্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান। আরও বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম. এ. খান বেলাল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, উদ্যোক্তা পরিচালক এ.এস.এম. ফিরোজ আলম, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর নাসরিন সুলতানা, পিএইচডি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ মোঃ জাকির হোসাইন, শামীম আহম্মদ, অসীম কুমার সাহা, ড. মোঃ জাহিদ হোসেন ও ড. তাপস চন্দ্র পাল, এসইভিপিবৃন্দ মোহাম্মদ ইকবাল রেজওয়ান, মোঃ আব্দুল হালিম ও মেইন শাখার প্রধান মোঃ আব্দুল আউয়াল সহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যপী ব্যাংকের সকল শাখা, উপশাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয় এবং গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।
ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা, শাখা, আমানত সংগ্রহসহ ব্যাংকের সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ”বাংলার ব্যাংক” খ্যাত মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১৯৯৯ সালের ২ জুন যাত্রা শুরু করে গত ২৭ বছরের কঠোর পরিশ্রমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক একটি গ্রাহকবান্ধব, বিশ^স্ত ও টেকসই ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও করপোরেট সুশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবার প্রতিশ্রুতি দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বলেন, গ্রাহকদের চাহিদার বাস্তবায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত করাসহ চলতি বছর খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, এসএমই ও রিটেইল খাতকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে দেশের প্রত্যন্ত জনপদে শাখা-উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট স্থাপন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ২টায় চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীন সফরের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, চীন সরকার ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় এক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এই প্রতিনিধি দলটি চীন সফরে গিয়েছেন।
তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণ হবে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে এবং তা চলবে ৮ জুন পর্যন্ত।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ মামুন শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, আনোয়ার উল হালিম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার, মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহর একান্ত সচিব তারিখ হাসান। অন্য কর্মকর্তারা হলেন, জুলিয়া মঈন, জেসমিন আক্তার ও মোহাম্মদ জাব্বার।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে সোমবার (০১ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা চীনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আলি আকবর খান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে ১৫ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলি আকবর খান। তিনি ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে রেঞ্জ পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অকৃত্রিম সততার সঙ্গে কর্মসম্পাদন করে সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছেন।
পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ইতালিতে ও মালদ্বীপে দুটি কর্মশালায় অংশ নেন তিনি। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি তাঁর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা সমৃদ্ধ করেছেন।
আলি আকবর খান সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় সিআইডি পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি'র সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সোশ্যাল পলিসি চিফ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার বলেন, আমাদের সবার সন্তান থাকলেও তাদের সুরক্ষা বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন নই। সংসদীয় ককাস গঠনের পূর্ব থেকেই শিশুবান্ধব বাজেট ও নীতি প্রণয়নে ইউনিসেফের প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেন, যে সকল সংসদ সদস্যগণ শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়নের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন, তাঁদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করা সম্ভব।
ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অ্যাডভোকেসির অংশ হিসেবে প্রাক-বাজেট ব্রিফিং ও গোলটেবিল আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুরা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। তিনি আরও বলেন, শুধু বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং তার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকালে শিশু অধিকার, শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিক স্পেশালিস্ট মো. আশিক ইকবাল, কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ফারিয়া সেলিম, কমিউনিকেশন অফিসার কারিশমা আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।