দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা জানিয়েছেন, দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। ইতোমধ্যে দেশের সব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা নেই।
আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত সচিব এসব কথা বলেন। চলমান বন্যায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে কেএম আলী রেজা বলেন, ‘দেশের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে কুমিল্লায় ১২ জন, ফেনী-২, চট্টগ্রামে-৫, খাগড়াছড়ি-১, নোয়াখালী-৬, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-১, লক্ষ্মীপুর-১ ও কক্সবাজারে ৩ জন মারা গেছে। তবে মৌলভীবাজারে দুই ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।’
তিনি জানান, আক্রান্ত ১১ জেলার ৭৩ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৫২৮টি। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৪ হাজার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অশ্রয়কেন্দ্র গুলোয় মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার ৫১০ ব্যক্তি ও ৩৯ হাজার ৫৩১ গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
আলী রেজা জানান, ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৭৩৪ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬১৯টি মেডিকেল টিম সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ বরাদ্দ এক কোটি বাড়িয়ে ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি- বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক কর্তৃক সংগৃহীত মোট ৮৮ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, কাপড় ও পানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ডিডিএম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বন্যা আক্রান্ত জেলাসমুহের প্রশাসকদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মেডিকেল টিম ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প থেকে উৎপাদিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশ তাইওয়ান ক্রয় করবে বলে জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর তাইওয়ান নিশ্চিত করেছে, তারা এই প্রকল্পে ৪.৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্যাস কেনার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
তাইওয়ানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিপিসি কর্পোরেশন দীর্ঘ দেড় বছর ধরে মূল্যায়নের পর প্রস্তাবিত প্রকল্পে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বার্ষিক ২ কোটি মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্প থেকে সিপিসি বছরে ৬০ লাখ টন আলাস্কা এলএনজি সংগ্রহ করবে এবং আনুমানিক ৪.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগে অংশ নেবে।
আলাস্কার ৮০০ মাইল দীর্ঘ এই পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৬ ও ২০২৭ সালে নির্ধারিত হবে এবং ২০৩১ সালের দিকে প্রথম রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়ার মিত্রদের কাছে এই প্রকল্পটিকে প্রধান উৎস হিসেবে তুলে ধরছে, যা পানামা খাল বা আফ্রিকা মহাদেশ অতিক্রম না করেই সরাসরি এশিয়ার বাজারে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আকাশচুম্বী বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমাতে এবং ওয়াশিংটনের অসন্তোষ নিরসন করতে তাইওয়ান এ বছর মোট আমদানিকৃত গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। গত বছর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মহাসচিব প্যান মেন-আন আলাস্কার প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করেছিলেন।
তবে দীর্ঘ পাইপলাইন ও অতিরিক্ত খরচের কারণে এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞের সংশয় রয়েছে। তাইওয়ানের পাশাপাশি ফরাসি জ্বালানি জায়ান্ট টোটালএনার্জিস এবং এশীয় অন্যান্য ক্রেতারা এই প্রকল্পে অংশ নিলেও এটি সফলভাবে চালুর জন্য আরও বন্ধ্যত্বপূর্ণ চূড়ান্ত চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য চুক্তি অনুযায়ী ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণের অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক এলএইচবি (লিংক ഹോফম্যান বাসচ) প্রযুক্তির এসব কোচ ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত বিখ্যাত রেল কোচ কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে।
রাইটস লিমিটেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পাঠানো এই প্রথম চালানে সাত ধরনের কোচের মধ্যে চার ধরনের মোট ১৮টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, ৩টি এসি চেয়ার কার, ২টি এসি স্লিপার কোচ এবং ২টি এসি পাওয়ার কার। বিশেষ করে পাওয়ার কারগুলোতে ট্রেন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গার্ডদের জন্য আলাদা কক্ষের পাশাপাশি মালপত্র রাখার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রেল খাতের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস এ পর্যন্ত বিশের অধিক দেশে ২৮০টির বেশি ইঞ্জিন, ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং বিভিন্ন ট্রেনসেট সফলভাবে সরবরাহ করেছে। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতের ওই একই কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহ করেছিল। সেই সফল সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় গত ২০২৪ সালে রাইটসের সঙ্গে নতুন করে ২০০টি কোচ ক্রয়ের চুক্তি করে বাংলাদেশ।
নতুন যুক্ত হওয়া কোচগুলোর নকশায় যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ এবং বাংলাদেশের বাস্তবভিত্তিক রেল পরিচালনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচগুলোতে প্রথমবারের মতো বেশ কিছু নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও ফুটরেস্টযুক্ত বিশেষ হেলানো যায় এমন আরামদায়ক আসন। এছাড়া যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এসি কোচগুলোতে ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি ক্যামেরা, জরুরি এলার্ম সিস্টেম এবং আংশিক খোলার উপযোগী জানালা রাখা হয়েছে। এমনকি দীর্ঘ যাত্রায় শিশুদের যত্নের জন্য ডে-কেয়ার রুম এবং প্রার্থনার জন্যও আলাদা একটি কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশের ট্রেনযাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় ও ছাদে ভ্রমণের বাস্তব চিত্র মাথায় রেখে কোচগুলোর বাহ্যিক কাঠামোতে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ছাদ আরও অধিক মজবুত করা হয়েছে, যাতে বাড়তি চাপ সহজে সহ্য করা যায়। এছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ড (ইএন ১৫২২৭) অনুসরণ করে কোচগুলোর বডি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ধাক্কা সামলে যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে সক্ষম। পাশাপাশি বাংলাদেশের ট্রেন পরিচালনার বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতীয় মানদণ্ডের ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করে কোচগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই প্রথম চালান আসার মধ্য দিয়ে ২০০টি কোচ সরবরাহের বড় প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হলো, যা দেশের রেল যোগাযোগ খাতে যাত্রীসেবা বৃদ্ধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং প্রদর্শনী শিল্পের আধুনিকায়নে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) একাডেমি। রাজধানীর গুলশানে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে সংস্থা দুটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিসিপিআইটি একাডেমির প্রেসিডেন্ট ঝাও পিংয়ের নেতৃত্বে দুই সদস্যের চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান বিসিসিসিআইয়ের মহাসচিব জামিলুর রহমান।
আলোচনাকালে বাংলাদেশের ধারাবাহিক আর্থিক অগ্রগতি, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, অনুকূল জনমিতিক সুবিধা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ঝাও পিং। সেই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে যৌথ গবেষণাকর্মে বিসিসিসিআইয়ের সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে তিনি স্বাগত জানান। এছাড়া বেইজিংয়ের নীতিমালা ও বাণিজ্যিক কৌশলসংক্রান্ত সিসিপিআইটি একাডেমির বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির রূপরেখাও এ বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি খাত, জ্ঞান ও গবেষণা বিনিময় এবং প্রদর্শনী শিল্পের বিকাশকে সহযোগিতার প্রধানতম অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে এলপিজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, আধুনিক ব্যাটারি প্রযুক্তি ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা পুঁজি বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের প্রদর্শনী কেন্দ্রের আধুনিক অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌরপ্রযুক্তি ও খাদ্যপণ্য নিয়ে বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজন এবং বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে যৌথ গবেষণার প্রস্তাবও আলোচিত হয়।
বিসিসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যকার দীর্ঘ এক দশকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে চীনের প্রভাবশালী বাণিজ্যমেলা ও প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সিসিপিআইটির সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এ সময় বিসিসিসিআইয়ের সহসভাপতি খন্দকার আতিকুর রহমান ও মাসুদ আলী খান, উপদেষ্টা মো. ফয়জুল আলম এবং পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকসই বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
আবদুস সালাম বলেন, "সালাউদ্দিন আহমেদের বিয়োগে বিএনপি একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক অভিভাবককে হারাল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং ডেমরা, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সালাউদ্দিন আহমেদ রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জনগণের অধিকার আদায়ে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তা দলের নেতা-কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আবদুস সালাম মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট ডেকে কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই সময় তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও হয়রানি বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) দেশব্যাপী দুই দিন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আর এই ধর্মঘটের প্রেক্ষক্ষটেই সরকারের পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হলো। উল্লেখ্য, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিশ্বে এই জ্বালানি খাতটা সাংঘাতিক একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। আজকের যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি সংকট চলছে এবং প্রাইসের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। প্রাইস ওঠানামা করতেছে, সবসময় পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সোর্স একমাত্র আমেরিকায় বাকি আছে, তাছাড়া কোনো সোর্স ঠিক নেই। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করতেছি যে, যেন ভোক্তা পর্যায়ে, সহনীয় পর্যায়ে মূল্য রাখা যায়, সে সম্বন্ধে আলোচনা করছি।’
ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে এরকম একটা অবস্থার মধ্যে যদি কেউ এই ধর্মঘট করার চেষ্টা করে, এসেন্সিয়াল এই (পণ্য) নিয়ে, আমাদের ১৯৫৬ সালে আইন আছে, সেই আইন আমরা প্রয়োগ করব। কথায় কথায় তারা ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়াবে, এটা গ্রহণ করা হবে না।’
সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট, জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা সরকারে এসেছি, আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণ যেন কোনো অসুবিধার মধ্যে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো।’
ধর্মঘটের মতো কঠোর পথ পরিহার করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ধর্মঘটের কথা দিচ্ছেন, আমি মনে করি আলোচনার টেবিলে বসেছে, আলোচনা করে সেটা যেন সমাধান করে।’
জনসাধারণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার বা মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান সরজমিন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের প্রাক্কালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিচতলায় রাখা পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ এবং তা পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষাগারের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিতভাবে অবগত করেন। তাঁরা জানান, ভেজালবিরোধী অভিযান আরও কঠোর ও গতিশীল করার অংশ হিসেবে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও জোরালো তদারকি চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের আটটি প্রধান মহানগর এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের মান পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরবর্তীতে এই কার্যক্রমকে ক্রমান্বয়ে দেশের সব কটি অর্থাৎ ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কর্মকর্তারা আরও জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। তাছাড়া, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিশেষ প্রকল্পের আওতায় আরও ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারবাহী গাড়ি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও ভেজাল রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও এসব গাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গাড়ির বাইরে লাগানো ডিসপ্লে পর্দায় নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করবে।
এদিন পরীক্ষাগার পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নামাজে জানাজায় সশরীরে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং জানাজায় শরিক হন।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে এক শোকবার্তায় সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ছিলেন বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের এক লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা। দলের যেকোনো দুঃসময়ে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই বিদায়ে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারাল, যা জাতীয় রাজনীতি ও দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
উল্লেখ্য, ফুসফুসের জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগে গত মঙ্গলবার রাত আটটা ১০ মিনিটে রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে আগামী ২১ জানুয়ারি প্রায় ৮০০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলেও কঠোর অবস্থানে থাকবে কমিশন। নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রার্থী নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপভিত্তিক নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ করা হবে। প্রথমে জেলা সদরসংলগ্ন এবং পরে উপজেলা সদরের কাছাকাছি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো সহজ হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা যাবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে মানদণ্ড, সেই আলোকে অবশ্যই ভালো নির্বাচন করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। আমাদের নিজস্ব কোনো মোটিভ নেই। আমরা ভালো নির্বাচন করার জন্যই দায়িত্ব নিয়েছি। ভালো নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই আমরা করব। আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে।’
তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে, যাতে সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
ইউপি নির্বাচনে যেকোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে কমিশনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ—দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের প্রতি বিশেষ বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে মারামারি, বিশৃঙ্খলা বা পেশিশক্তির ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।
তবে কমিশনের উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া বা নির্বাচন বন্ধ করা নয় উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, মানুষ যাতে অপরাধ থেকে বিরত থাকে এবং আইন মেনে চলে, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই কমিশনের লক্ষ্য।
গত সোমবার কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনি অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আঘাত বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দেওয়া কিংবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা অপরাধ। একইভাবে কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও এ বিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনি এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট অথবা তার নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
অনিয়ম হলে ফল স্থগিত, পুনরায় ভোটের সুযোগ
নির্বাচনি অনিয়মের কারণে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে তা স্থগিত করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের মাধ্যমে কোনো ভোটকেন্দ্র বা একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করা যাবে।
এ ক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। আর অনুসন্ধানে ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।
নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধানও রয়েছে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায়। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন নির্ধারিত সংখ্যক উপযুক্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে। এসব কমিটি নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। প্রভাব বিস্তার ও পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপরই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্ভর করবে। সূত্র: বাসস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের এক লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই প্রয়াণে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারাল, যা জাতীয় রাজনীতি ও দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান বিএনপি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর শোকবার্তায় মরহুমের রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত আটটা ১০ মিনিটে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ডলার জোগাচ্ছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি। তাদের পাঠানো অর্থে সচল থাকছে অসংখ্য পরিবারের জীবন, মিটছে সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয়, শক্তিশালী হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই সম্ভাবনার সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন বাংলাদেশের প্রবাসী আয়, কর্মসংস্থান এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে একাধিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো। ফলে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের ৮২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকাশ করা সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
এর আগে বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী ৬২টি ফ্লাইট এবং ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী প্রভাবিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের স্থগিতাদেশের কারণে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর আগে সোমবার ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়।
তবে এই উদ্বেগের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসংস্থানের উদ্দেশে বিদেশে গেছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন বাংলাদেশি। একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। শুধু অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনেই এসেছে ১২৯ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই ইতিবাচক ধারায় চাপ তৈরি হতে পারে।
রেমিট্যান্সের বড় উৎস সৌদি আরব: বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরব। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন বাংলাদেশি কর্মী। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে ৫৩ হাজার ২৯৭, কাতারে ৪২ হাজার ৫১৬, মালদ্বীপে ২৪ হাজার ৭০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ হাজার ৬৬১ এবং কুয়েতে ২০ হাজার ২৫৪ জন কর্মসংস্থানের উদ্দেশে গেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে দেশে এসেছে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। গত অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে এসেছে প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১২৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় ছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হলে কিছু প্রবাসী শ্রমিককে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সৌদি আরবে নিয়োগ কমে গেলে কিংবা কর্মীদের আয় ও কর্মঘণ্টা সীমিত হলে দেশে অর্থ পাঠানোর সক্ষমতাও কমতে পারে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ে কর্মীদের অনিশ্চয়তা: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ২৩টি সরাসরি ও ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটের সূচি প্রভাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে।
ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে অনেক কর্মী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরিতে যোগদানের সময়সীমা, ভিসার মেয়াদ, নতুন টিকিট কেনা এবং অতিরিক্ত থাকা-খাওয়ার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে বেবিচক। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য দ্রুত জানানো, পুনরায় টিকিট বুকিং ও অর্থ ফেরতে সহায়তা, অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার জায়গা, পানীয় জল ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা এবং শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা। ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতেও বলা হয়েছে।
জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ঝুঁকি: সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের বাইরেও বিস্তৃত। দেশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে সৌদি আরব থেকে। ফলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে কিংবা আঞ্চলিক নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে জাহাজ চলাচলের সময়, বিমা ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়েও চাপ পড়বে। এর প্রভাব পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে দেশের জ্বালানি সরবরাহে সংঘাতের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে আমদানির পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি ও বিকল্প উৎসের তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।
বিকল্প শ্রমবাজারে সরকারের উদ্যোগ: মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায় সরকার বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী গেছেন। এ অঞ্চলে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া ওমান বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে পরিবারসহ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং খাতে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী। দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিও ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগের কথা জানিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে চুক্তি, ভিসা, নিয়োগসংখ্যা এবং বাস্তবে কর্মী পাঠানোর অগ্রগতির ওপর। বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানো, দালালচক্রের প্রতারণা বন্ধ, চুক্তি অনুযায়ী বেতন নিশ্চিত করা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ জোরদার করাও জরুরি। কারণ বিদেশযাত্রার জন্য ঋণ নেওয়া অনেক কর্মী প্রত্যাশিত কাজ বা বেতন না পেলে তাদের পরিবার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপে পড়ে।
বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সৌদি আরবের সংঘাত বাংলাদেশের জন্য শুধু প্রবাসী আয়ের ঝুঁকি নয়; এটি কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফ্লাইটে আটকে পড়া কর্মীদের কাজে ফেরার ব্যবস্থা করা এবং বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা জরুরি। প্রবাসী আয়ের বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদেশে কর্মরত মানুষের নিরাপত্তা ও উপার্জনের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বঙ্গোপসাগরের গভীরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি সম্পদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নতুন পর্ব শুরু হয়েছে। চীনের দুটি এবং তুরস্কের একটি জ্বালানি কোম্পানি ইতোমধ্যে সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রের আনুষ্ঠানিক নথি কিনেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমবিল, যুক্তরাজ্যের বিপি এবং ইতালির এনির মতো বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে দরপত্রে যুক্ত করতে আলোচনা চালাচ্ছে সরকার। দেশের জ্বালানি চাহিদা, আমদানিনির্ভরতা এবং দেশীয় গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবারের দরপত্রকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চীনের সিনোপেক ও সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও) দরপত্রের আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্যাকেজ বা প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনেছে। এর মধ্যে সিনোপেক বিশেষায়িত ভূতাত্ত্বিক তথ্যের প্যাকেজও সংগ্রহ করেছে। তবে নথি কেনা মানেই দরপত্র জমা দেওয়া কিংবা অনুসন্ধান চুক্তি নিশ্চিত হওয়া নয়। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় কতটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, সেটিই হবে এবারের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
গত ২৪ মে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করে। বঙ্গোপসাগরের অগভীর সমুদ্রের ১১টি এবং গভীর সমুদ্রের ১৫টিসহ মোট ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর ২০২৬।
তিন কোম্পানির অগ্রগতি, নজর বড় বিনিয়োগকারীদের দিকে: দরপত্র বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিনোপেক আনুষ্ঠানিক দরপত্রের নথির পাশাপাশি বিশেষায়িত ডেটা প্যাকেজ কিনেছে। এর আগে ১৭ আগস্ট সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং ২৩ জুলাই টিপিএও দরপত্রের প্রমোশনাল প্যাকেজ সংগ্রহ করে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. শোয়েবের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০টি কোম্পানি তথ্যপ্যাকেজ কিনেছে। তবে আনুষ্ঠানিক দরপত্রের নথি কিনেছে তিনটি কোম্পানি। পেট্রোবাংলা আশা করছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আরও কয়েকটি বড় কোম্পানি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে।
তথ্যপ্যাকেজ মূলত অনুসন্ধানের প্রাথমিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজে লাগে। প্রমোশনাল প্যাকেজে দরপত্রের শর্ত ও অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় নথি থাকে। আর বিশেষায়িত ডেটা প্যাকেজে সমুদ্রের তলদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন, সিসমিক তথ্য এবং সম্ভাব্য তেল-গ্যাসের মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত উপাত্ত পাওয়া যায়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই কোম্পানিগুলো অনুসন্ধানে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য লাভের হিসাব করে।
তথ্যপ্যাকেজ কেনা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বেরিঞ্জিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্রিসএনার্জি, পিইএএল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন, ওনোডা ইনকরপোরেটেড, রাইস্ট্যাড এনার্জি, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইমপ্রেশন ভেঞ্চারস। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য এক নয়; সবাই যে অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র জমা দেবে, তা নিশ্চিত নয়।
এক্সনমবিল-বিপিকে টানতে বিশেষ উদ্যোগ: আন্তর্জাতিক বড় কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক্সনমবিল, বিপি ও এনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে।
দরপত্র ঘোষণার পরপরই এক্সনমবিল পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পরে অনলাইন বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার তথ্য সংগ্রহ করেছিল। এবারের দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি কেনার আগ্রহও জানিয়েছে বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিপির কর্মকর্তারাও গত জুলাইয়ে পেট্রোবাংলার সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করেন। এ ছাড়া মারফি অয়েল, ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস এবং কুয়েত ফরেন পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন কোম্পানিকে (কুফপেক) দরপত্রে যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। তবে আলোচনা বা আগ্রহকে নিশ্চিত অংশগ্রহণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি সংগ্রহ, কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতা যাচাই এবং দরপত্র জমা দেওয়ার পরই বোঝা যাবে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কতটা বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিচ্ছে।
বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চুক্তির শর্তে পরিবর্তন: এবারের দরপত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি বা মডেল পিএসসি-২০২৬-এ পরিবর্তন। আগের দরপত্রে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ার পর বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো এবং বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় অনুসন্ধান কার্যক্রমে ব্যয় পুনরুদ্ধারের সুযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক সুবিধা এবং মুনাফা বিদেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অনুমোদিত ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে পারবে। বছরে ব্যয় পুনরুদ্ধারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ।
গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রেও নমনীয়তা আনার উদ্যোগ রয়েছে। পেট্রোবাংলা বা দেশীয় ক্রেতারা গ্যাস কিনতে না চাইলে চুক্তির শর্ত ও প্রযোজ্য বিধান অনুসারে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি বা রপ্তানির সুযোগ রাখা হয়েছে। অগভীর সমুদ্রের ব্লকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের ১০ শতাংশ অংশীদারত্বের ব্যবস্থাও রয়েছে।
এসব সুবিধার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাকে বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা। তবে চুক্তির সুবিধা নির্ধারণের পাশাপাশি রাষ্ট্রের ন্যায্য রাজস্ব, সম্পদের ওপর জাতীয় স্বার্থ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
গভীর সমুদ্রে অভিজ্ঞ কোম্পানির সম্ভাবনা: আন্তর্জাতিক দরপত্রে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটির গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মারফি অয়েল মেক্সিকো উপসাগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছে। ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস গভীর সমুদ্রের তেল-গ্যাস উৎপাদনে পরিচিত। কুফপেকেরও এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে অনুসন্ধান প্রকল্পে অংশীদারত্ব রয়েছে। এ ধরনের অভিজ্ঞ কোম্পানি বাংলাদেশের দরপত্রে অংশ নিলে উন্নত প্রযুক্তি, বড় বিনিয়োগ এবং গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কোন ব্লকে আগ্রহী, কত অর্থ বিনিয়োগ করবে কিংবা কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য নেই।
জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় সুযোগ, তবে ফল পেতে সময় লাগবে: বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধানের গুরুত্ব শুধু নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশীয় গ্যাসের সরবরাহের ওপর চাপ এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও সরবরাহের ঝুঁকি দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। নতুন দেশীয় উৎস পাওয়া গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সার উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। তবে অনুসন্ধান থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে পৌঁছাতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। প্রথমে সিসমিক জরিপ ও ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, এরপর অনুসন্ধান কূপ খনন, মজুতের পরিমাণ নির্ধারণ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। সমুদ্রের গভীরতায় এসব কাজ ব্যয়বহুল ও কারিগরিভাবে জটিল। কোনো কূপে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই এবারের দরপত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতা তৈরি করা, স্বচ্ছভাবে যোগ্য কোম্পানি নির্বাচন এবং অনুসন্ধানের কাজ নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কতটি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে বাস্তব জ্বালানি সম্পদে রূপ দেওয়ার পরবর্তী অগ্রগতি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ৭ম বৈঠক কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। তারা সংবিধান সংশোধন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আলোচনায় সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। উপস্থিত আলোচকদের অনেকে ইতোমধ্যে তাদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। অন্যদেরও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব কমিটির কাছে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের কমিটির কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতির প্রত্যাশা ও জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবায়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, এমপি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বলা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরও বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন(বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, এমপি; প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি; মো. আশরাফ উদ্দিন, এমপি; মো. মজিবুর রহমান, এমপি; নিলোফার চৌধুরী মনি, এমপি; ফাহমিদা হক, এমপি; মো. শফিকুল ইসলাম, এমপি এবং মোসা. নাজমুন নাহার, এমপি অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।