দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ১১ জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতির দিকে। কয়েকটি জেলা ও কিছু অঞ্চল ছাড়া বেশির ভাগ জায়গার পানি নেমে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অতি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের এ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) এ সংখ্যা ছিল ২৭ জন।
এদিকে এ বন্যায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা জেলা ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় বন্যার পানি নামছে অনেকটা ধীরগতিতে। এখনো জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, নেই মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক। বন্যার্ত মানুষকে সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। ফুলগাজী উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তাই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরেছেন বেশির ভাগ মানুষ। তবে উপজেলার মুন্সিরহাট, আনন্দপুর ও জিএম হাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের সড়ক ও বাড়ি এখনো পানিবন্দি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা জানিয়েছেন, দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। ইতোমধ্যে দেশের সব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা নেই। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত সচিব এ সব কথা বলেন।
চলমান বন্যায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে কে এম আলী রেজা বলেন, ‘দেশের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে কুমিল্লায় ১২ জন, ফেনী-২, চট্টগ্রামে-৫, খাগড়াছড়ি-১, নোয়াখালী-৬, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-১, লক্ষ্মীপুর-১ ও কক্সবাজারে ৩ জন মারা গেছে। তবে মৌলভীবাজারে দুই ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি জানান, আক্রান্ত ১১ জেলার ৭৩ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৫২৮টি। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৪ হাজার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অশ্রয়কেন্দ্র গুলোয় মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার ৫১০ ব্যক্তি ও ৩৯ হাজার ৫৩১ গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
আলী রেজা জানান, ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৭৩৪ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬১৯টি মেডিকেল টিম সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ বরাদ্দ এক কোটি বাড়িয়ে ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি- বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক কর্তৃক সংগৃহীত মোট ৮৮ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, কাপড় ও পানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ডিডিএম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দৈনিক বাংলার নোয়াখালী প্রতিনিধির তথ্যমতে, জেলায় টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এখনো জেলার ৮টি উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের ২১ লাখ ২৫ হাজার ৫শত মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ১৩০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪৩ জন মানুষ আশ্রিত রয়েছে। এখন নতুন করে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হচ্ছেন। তবে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কথা বলে জানা গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নুতন করে মানুষ উঠার জায়গা নেই। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজ বাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অপরদিকে, জেলার দুর্গম অনেক এলাকায় ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে জানান বাসিন্দারা। ত্রাণ পেতে হাহাকার করছে বন্যার্তরা।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যা কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে। আর জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত জেলায় বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি ১২৪টি ও বেসরকারি ১৬টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
বিপৎসীমার নিচে গোমতীর পানি
ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে গত আটদিন ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল গোমতী নদীর পানি। তবে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে পানির স্তর। এতে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে গোমতী। তবে নদীর পানি অব্যাহত প্রবেশ করছে বুড়িচং উপজেলায়। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যার পানি। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গোমতীর বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এতে কিছুটা হলে গোমতী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ২২ আগস্ট রাতে বুড়িচং এলাকায় গোমতীর বাঁধ ভাঙার ফলে শুক্রবার সকাল থেকে নদীতে পানি কমতে শুরু করে। বর্তমানে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গোমতী পানি। উজানে বৃষ্টি না হলে অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত বলতে পারেন।
ফেনীতে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
দৈনিক বাংলার ফেনী প্রতিনিধি জানায়, জেলার সবকটি উপজেলায় প্রায় ১১ লাখ ৫০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। তবে বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর জনজীবনে সমস্যা আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানকার মানুষ ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মনুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। ভেজা ও নষ্ট হওয়া আসবাবপত্রাদি, দুর্গন্ধময় পরিবেশ তছনছ সাজানো গুছানো সংসার-এমন মানবিক বিপর্যয়ে এখন বেঁচে থাকাই দায়। এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে মানবিক বিপর্যয় আরও গুরুতর হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় দুই জনের মৃত্যু হলেও নিখোঁজ-মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি হবে। তবে এখন পর্যন্ত এসবের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এবারের বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলায় রোপা আমান, সবজি ক্ষেত, বিজতলা সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। মানুষের বাড়ি-ঘরে চালা পর্যন্ত পানি উঠায় তাদের ঘরে থাকা আসবাবপত্র, কাথা- বালিশ, গৃহস্থালিসহ সকল প্রকার মালামাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।উপজেলাব্যাপী মাছের ঘের এবং পুকুরের মাছ সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। কোনো কোনো স্থানে কৃষকের গবাদি পশু কিছু কিছু রক্ষা করা গেলেও এখন গো-খাদ্যের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলায় মুরগির খামার একটিও নেই। গরুর খামার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক, শাখা পাকা রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। মানুষের যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিভিন্ন মানবিক সংগঠন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যেতে পারছে না।
সাত দিন বন্ধ থাকার পর জেলা হেডকোয়ার্টার এর সঙ্গে ফেনী-পরশুরাম ও ফেনী-ছাগলনাইয়া এবং ফেনী-সোনাগাজী আঞ্চলিক সড়কে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলার যোগাযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। রাস্তার ওপরের অংশ পানির তোড়ে ভেসে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। জেলার কিছু কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো দুই-তৃতীয়াংশ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এসব কিছুতে স্বাভাবিক গতি ফিরে পাচ্ছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, র্যাব, বিজিবি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ছাত্র-জনতার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয়েছে দেড় লাখ মানুষকে। এ ছাড়া বন্যা পরিস্থিতিতে নিজ উদ্যোগে মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভেসে গেছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মাছ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলমান বন্যায় ৪ উপজেলার ৮৬০টি পুকুরের অন্তত ৭৫৬ টন মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। এতে সাড়ে ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আখাউড়া উপজেলার খামারিসহ মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আখাউড়া উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পুকুর, দিঘি ও খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৩৪৮। এগুলোর মোট আয়তন ৬২১ হেক্টর। এসব জলাশয়ে প্রায় ৫০০ ব্যবসায়ী মাছ চাষ করেন। আর চাষির সংখ্যা ২ হাজার ১০৭। বন্যায় ১২১ দশমিক ৮৬ হেক্টর আয়তনের ৪৩০টি দিঘি, খামার ও পুকুরের সব মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের মোট ৪৫৬ টন মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আর ১ কোটি ১৫ লাখ পোনা পানিতে ভেসে গেছে, যার বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের নিলাখাদ গ্রামের খামারি নাইম আহমেদ বলেন, ‘বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা সামলে ওঠা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। বন্যার পানিতে পাঁচ কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ করব, বুঝতে পারছি না।’
বন্যার পানিতে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার দাবি করেছেন কর্নেল বাজারের বাসিন্দা বাছির মিয়া। তিনি বলেন, পুকুরে মাছ মাত্র বড় হয়েছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে দেড় কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।
উপজেলার মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে খামারিদের ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এদিকে কসবা উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বন্যার পানিতে ২০০ পুকুর, দিঘি ও খামারের মাছ ভেসে গেছে। এগুলোর আয়তন ৩৮ হেক্টর। ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বড় মাছ ও ১০ লাখ টাকার পোনা পানিতে ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো ভেঙে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
২০ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশন–সংলগ্ন খাল দিয়ে ভারতে থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসতে শুরু করে। এরপর আখাউড়া উপজেলাসহ পর্যায়ক্রমে কসবা উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন রাজধানীর মিরপুরস্থ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডে মহিষটিকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরপরই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাট জনসমক্ষে এসেছে। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থাপিত তথ্য বোর্ডে মহিষটির ইংরেজি নামের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে একটি অদ্ভুত ও হাস্যকর বানান ভুল ধরা পড়েছে। পরিচিতি ফলকে ‘ট্রাম্প’ বানানে ‘ট্র’ যুক্তবর্ণের পরিবর্তে টাইপিং ত্রুটির কারণে ‘ট্ট’ ব্যবহার করায় নামটি ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা পুরো নামের অর্থ ও উচ্চারণগত বিকৃতি ঘটিয়েছে।
বিষয়টি চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর মুহূর্তেই তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে হাস্যরসের খোরাক জোগায়। তথ্য বোর্ডের এই ভুল নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা রসাত্মক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে যেমন উপহাস করে বলছেন, ‘কোরবানি থেকে বাঁচলেও ট্রাম্পের নামের সম্মান বাঁচল না!’, তেমনি অনেকে বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল গোলাপি-সাদা বর্ণের অ্যালবিনো মহিষটির মাথায় সোনালি রঙের চুল এবং চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা শখ করে এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামানুসারে। এমনকি এই মহিষটির শারীরিক গঠন ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জনৈক মার্কিন নির্মাতা একে ‘হ্যান্ডসাম বিস্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
প্রাথমিকভাবে মহিষটি কোরবানির উদ্দেশ্যে বিক্রয় হলেও সেটিকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক মানুষের অত্যধিক ভিড় এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় সরকারের উচ্চপর্যায় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাণীটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ক্রেতাকে তাঁর প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মহিষটি সুস্থ থাকলেও এর পরিচিতি ফলকের ভুল বানানটিই এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোয় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উক্ত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানানোয় আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সদ্ভাবের ভিত্তির ওপর বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো একটি বিশেষ পত্রে নরেন্দ্র মোদি দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে জনকল্যাণমুখী ও বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, উভয় দেশের আত্মত্যাগ, গভীর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান অংশীদারত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, দুই দেশের সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা এবং যৌথ দূরদৃষ্টি আগামী দিনেও উভয় দেশের জনগণের প্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনমুখী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করতে তাঁর সরকার বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন। এছাড়া নরেন্দ্র মোদি ঈদ উৎসবের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে, এই পবিত্র উৎসব ভারতের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ভারতের কোটি কোটি মুসলিম নাগরিক অত্যন্ত উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করছেন।
ঈদুল আজহার অন্তর্নিহিত মহিমা বর্ণনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের শাশ্বত আদর্শকে সমুন্নত রাখাই এই উৎসবের মূল বাণী। একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব বিনির্মাণের জন্য এই মানবিক মূল্যবোধগুলো অত্যন্ত অপরিহার্য। বার্তার শেষাংশে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের নিরবচ্ছিন্ন শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় লবণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়াও মন্ত্রী জানিয়েছেন, কোরবানির মৌসুমে চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাভারের আমিন বাজার এলাকায় চামড়ার আড়তসমূহ পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিকট তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় চামড়ার মূল্য নির্ধারণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চামড়ার যে মূল্যটা আমরা নির্ধারণ করেছি। সেই মূল্যটা নির্ধারণের প্রক্রিয়ার সময় স্টেক ফোল্ডারদের সাথে যুক্ত করেছি। আমরা যেদিন, চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করি সেদিন চামড়ার সংশ্লিষ্ট সমস্ত ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন। চামড়ার যে মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি লবণ মাখানো চামড়ার মূল্য। কোরবানির পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি চামড়াতে লবণ মাখানো না হয় তবে চামড়া আস্তে আস্তে নষ্ট হতে শুরু করে। আজকের তাপমাত্রা ভালো থাকায় এখনো সময় আছে চামড়াতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার।’
সারাদেশের চামড়া সংগ্রহের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিটি জেলার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। নানা প্রকার লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সারাদেশে চামড়া সংরক্ষণের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। পশু কোরবানি থেকে শুরু করে ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় এবার অধিক পরিমাণে চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া চামড়া শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য একটি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
দেশের রপ্তানি খাতে চামড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে কোরবানির পশুর চামড়া আমরা শতভাগ যাতে সংরক্ষণ করতে পারি। আমরা রপ্তানি খাতে ব্যবহার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি। সেজন্য সাভারের সিইটিপি সমস্যাসহ যে সব ট্যানারি হাজারীবাগে স্থানান্তরিত হতে গিয়ে রুগ্ন অবস্থায় পড়েছে অথবা আজও ব্যবসা শুরু করতে পারেনি। এদের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় পৌঁছে চামড়াখাতকে পুরোপুরি একটি বিকশিত খাতে পরিণত করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস আজকে যেটি এক বিলিয়ন রপ্তানি খাত সেটিকে ১০-১২ বিলিয়ন রপ্তানিখাতে রূপান্তরিত করা সম্ভব।’
চামড়া পাচার রোধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, যেসব স্থানে চামড়া সংগ্রহ ও জড়ো করা হয় সেখানে সরকারের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসক ও বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা ও জেলা শহরগুলোতে একাধিক টিম সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি জানান। পাচারের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া পাচার হওয়ার কোনো বিষয় নেই। কিন্তু চামড়া অক্ষত রেখে সময়মতো লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করে সময় মত যাতে রপ্তানি করতে পারি সেই উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করছি।’ উক্ত পরিদর্শনকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭৭ জন, যাদের মধ্যে ৫১ জনের শরীরে এই রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত বিগত দুই মাসে দেশে হাম ও এর আনুষঙ্গিক উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৭৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর মধ্যে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার কারণে। এছাড়া একই সময়কালে পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৮৫ জনের দেহে এবং আরও ৬৭ হাজার ৯০৫ জন অসুস্থতার বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভৌগোলিক বিচারে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত ২৪১টি শিশু মারা গেছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ২৩৭ জনে। গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ২৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার, জেসিও ও সৈনিকদের সঙ্গে ঈদ প্রীতিভোজে অংশ নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনা সদস্যদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় রাষ্ট্রের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
অনুষ্ঠানস্থলে আগমন করলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান এবং ২৫ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনা সদস্যদের উদ্দেশে এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, বহু বছর পর নিজের পুরনো ও স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাস এলাকায় এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগতাড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, সেনানিবাসের এই পরিবেশ, শৃঙ্খলা, সহযোদ্ধাসুলভ বন্ধন এবং সেনাসদস্যদের আন্তরিকতা তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত পেশাদার মান, দায়িত্ববোধ এবং দুর্যোগ মোকাবেলাসহ দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য তাকে গভীরভাবে গর্বিত করে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় রাষ্ট্রের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। জাতীয় সংকট এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সেনাবাহিনীর অবদান জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী ইউনিটের সৈনিক লাইন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ইউনিট প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সৈনিকদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। কর্মসূচির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে জোহরের নামাজ আদায় করেন।
পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে নিহত শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা উভয়ে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শাহাদাতবরণকারী বীর সন্তানদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। দেশের তরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মূল প্রাঙ্গণে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণীকে নিয়ে নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন। সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর। সেখানে তাঁরা কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করেন। পারিবারিক এই শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত স্মারক চত্বরের দিকে অগ্রসর হন এবং সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেন। তাঁরা সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাফন করা শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত সেই বর্বরোচিত বিদ্রোহে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। সর্বমোট ৭৪ জনের শাহাদাতবরণের সেই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল, যাঁদের অধিকাংশকেই এই সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদনকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখযোগ্য। তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে শরিক হন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সংক্ষেপে কুশল বিনিময় করেন।
ঈদের উৎসবের দিনে শহীদদের স্মরণ করার এই উদ্যোগটি সাধারণ মানুষ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ যেন জাতি কখনো ভুলে না যায়—সেই লক্ষ্যেই প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগতভাবে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। নামাজ পরবর্তী এই জিয়ারত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের বীর সন্তানদের প্রতি জাতির চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন।
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ যখন সারা দেশের মানুষের মনে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে, তখন পারস্য উপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে বিষাদময় সময় পার করছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ৩১ জন নাবিক। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঈদুল ফিতরের পর এবার কোরবানির ঈদও তাদের কাটল বিদেশের মাটিতে লোনা জলে ভাসমান অবস্থায়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জাহাজের নেভিগেশন ব্রিজে যখন ঈদের জামাত শুরু হয়, তখন সবার মনেই ছিল পরিবারের কাছে ফিরতে না পারার এক চাপা হাহাকার। জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খানের পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এই অকুতোভয় নাবিকেরা।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই এই সংকটের শুরু। এর পরদিন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ত্রিমুখী যুদ্ধ শুরু হলে ভূ-রাজনৈতিক বেড়াজালে আটকা পড়ে জাহাজটি। গত ৮ এপ্রিল থেকে বড় পরিসরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের অনুমতি নিয়ে পার হয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে ছাড়পত্র পাচ্ছে না বাংলাদেশি এই জাহাজটি।
নাবিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটানোর প্রবল ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জাহাজের ভেতরেই তাদের ত্যাগের এই উৎসব পালন করতে হয়েছে। যদিও জাহাজে ঈদের বিশেষ খাবার ও একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির আয়োজন ছিল, কিন্তু প্রিয়জনদের সান্নিধ্য না পাওয়ার শূন্যতা সবকিছুকে ম্লান করে দিয়েছে। জাহাজের প্রতিটি কোণ এখন নাবিকদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে আছে, যারা প্রতিটি মুহূর্ত কেবল ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে তাকিয়ে দিন গুনছেন।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হয়ে টানা তিন মাস ধরে তারা এক অনিশ্চিত গন্তব্যে সাগরে ভাসছেন। কবে নাগাদ তারা হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই। প্রতিটি দিন পার করা তাদের কাছে এখন একেকটি যুগের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বজনদের কাছে ফেরার আকুল আকুতি নিয়ে মোনাজাতে তারা কেবল মুক্তির প্রার্থনা করেছেন। তাদের আশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুত তাদের এই বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনবে।
পরিশেষে বলা যায়, এই ৩১ জন নাবিকের ঈদ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে ছিল না কোনো প্রকৃত আনন্দ। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহা তাদের কাছে ত্যাগের চেয়েও বড় এক পরীক্ষার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশের সাগরে অবরুদ্ধ এই মানুষগুলোর জন্য এখন দেশবাসীর প্রার্থনা আর কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই হতে পারে ঘরে ফেরার একমাত্র পথ। যতদিন না সেই ছাড়পত্র মিলছে, ততদিন পারস্য উপসাগরের দিগন্তহীন জলরাশিই হবে তাদের অস্থায়ী ঠিকানা।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ৭৪টি কারাগারে অবস্থানরত প্রায় ৮২ হাজার বন্দির জন্য বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় প্রতিটি কারাগারে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে সকালের শুরুতেই বন্দিদের আপ্যায়ন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পায়েস ও মুড়ি দিয়ে। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দিদের মানসিক প্রশান্তি ও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।
দুপুরের খাবারে বন্দিদের জন্য রাখা হয়েছে অত্যন্ত উন্নত মানের রাজকীয় মেন্যু। এদিন দুপুরে তাদের পাতে পরিবেশন করা হচ্ছে সুগন্ধি পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস। এর পাশাপাশি ডেজার্ট হিসেবে থাকছে মিষ্টি ও চমচম। খাবারের পূর্ণতা দিতে দেওয়া হচ্ছে কোমল পানীয়, সালাদ এবং খাবার শেষে পান-সুপারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রাতের খাবারের আয়োজনেও রয়েছে ভিন্নতা। রাতে বন্দিরা পাবেন সাদা ভাত, মচমচে রুই মাছ ভাজা ও সুস্বাদু আলুর দম। প্রতিটি পদ যেন মানসম্মত হয়, সে বিষয়ে জেল সুপারদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিশেষ শিথিলতা আনা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য কারাগারের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে ফ্রি জুস কর্নার। এছাড়া বন্দিদের সঙ্গে আসা শিশুদের জন্য চকলেট ও চিপস বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কথা বলা এবং বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বন্দিদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন কারাগারে বন্দিরা তাদের পরিবারের পাঠানো নতুন পোশাক ও পাঞ্জাবি গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া অসুস্থ ও বয়স্ক বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে।
উৎসবের আনন্দ কেবল খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নানা সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি কারাগারে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। বিনোদনের অংশ হিসেবে ঈদের দ্বিতীয় দিনে বন্দিদের জন্য প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কারাবিধি অনুযায়ী, ঈদের তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন বন্দিরা তাদের পরিবারের পাঠানো খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের এই সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, বন্দিরা যেন নিজেদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সেই লক্ষ্যেই এমন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত যোগাযোগ এবং মানসম্মত খাবারের এই সমন্বয় বন্দিদের সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক এই উদ্যোগগুলো দেশের প্রতিটি কারাগারে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ ও নামাজ আদায় শেষে তাঁর প্রয়াত বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করার পরপরই তিনি সরাসরি শেরেবাংলানগরের জিয়া উদ্যানে যান। সেখানে তিনি তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন। এ সময় তাঁর সাথে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য ও দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সেখানে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
জিয়া উদ্যান থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বনানী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি তাঁর ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করেন। পরিবারের সদস্যদের স্মরণে এবং তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় তিনি সেখানে দীর্ঘক্ষণ প্রার্থনা করেন। পবিত্র ঈদের দিনে ত্যাগের মহিমার পাশাপাশি পারিবারিক ও ধর্মীয় এই রীতি পালনের মাধ্যমে তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রতিবছরই ঈদের সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করে থাকেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার দেশের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দিষ্ট সময়েই সেখানে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মুসল্লিদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেন। জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রতিমন্ত্রীগণ, জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশগ্রহণ করেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে বিশেষ খুতবা পাঠ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়।
ঈদের এই প্রধান জামাতে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী নামাজ পরবর্তী সময়ে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই ঈদের জামাত ও জিয়ারত কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে চিঠিটির বার্তা প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, এই পবিত্র উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সারা ভারতের কোটি কোটি মুসলিম অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শাশ্বত আদর্শকে সমুন্নত রাখে; যা একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ আত্মত্যাগ, সাংস্কৃতিক মিল এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে ভারত ও বাংলাদেশের মথ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
চিঠিতে মোদি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনমুখী পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা মূলত দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত।
চিঠির শেষ অংশে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শেষে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজের আগে বিশেষ বয়ান রাখেন তিনি। পরে ঈদের খুতবাহ দেন। এসময় তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরেন।
ভোর থেকেই হাজার হাজার মুসল্লি ঈদগাহে আসতে শুরু করেন। ভেতরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে সামনের সড়কে নামাজ আদায় করেন। একপর্যায়ে মুসল্লিদের উপস্থিতি কদম ফোয়ারা, শিক্ষাভবন ও শিক্ষা ভবন মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণ মুসল্লিদের পাশাপাশি এই জামাতে অংশ নেন প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ঢাকায় নিযুক্ত মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ হাজারও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
নামাজ উপলক্ষে ঈদগাহ ও আশপাশের সড়কে বর্ণিল সাজসজ্জা করা হয়। বিভিন্ন মোড়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়।
এদিকে ঈদের জামাতকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ত্যাগের মহিমায় সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ঈদের জামাতে মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানির প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। এর ফলে সকাল থেকেই পাড়া-মহল্লার অলিগলি ও নির্ধারিত স্থানগুলোতে কোরবানি দাতা ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পশু জবাইয়ের পর মাংস প্রস্তুত এবং তা বণ্টনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানুষ। কেবল ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও গ্রাম ও মফস্বল শহরগুলোতে উৎসবের একই চিত্র ফুটে উঠেছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন সকলে। এই ত্যাগের উৎসবকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই এক ধরনের আনন্দঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে।
পবিত্র এই উৎসব উপলক্ষে দেশবাসী ও সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বিশেষ বাণীতে তিনি কোরবানির প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামর্থ্যবানদের উচিত কোরবানির আনন্দ দরিদ্র, বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া। মানবিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করাই এই পবিত্র দিনের অন্যতম শিক্ষা বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে কোরবানির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, কোরবানি মানে কেবল পশু জবাই করা নয়; বরং নিজের মনের কুপ্রবৃত্তি, লোভ-লালসা ও হিংসা-বিদ্বেষকে বিসর্জন দেওয়া। পশুর কোরবানির মাধ্যমে মানুষের মনের পশুত্বকে পরাভূত করে মহানুভবতার দীক্ষা গ্রহণ করাই ঈদুল আজহার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিশেষে বলা যায়, ত্যাগের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সারা দেশে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির আবহ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি এই কোরবানি সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্জ্য অপসারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে উৎসবের আনন্দ নিরবচ্ছিন্ন থাকে। সামগ্রিকভাবে, ধর্মপ্রাণ মানুষ যথাযথ মর্যাদার সঙ্গেই তাঁদের পবিত্র এই ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি কূটনীতিকরা অংশ নেবেন। প্রধান জামাতের আগে ও পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে দিনের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বরাবরের মতো পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত আয়োজিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায় এবং পরবর্তী জামাতগুলো যথাক্রমে ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে প্রবেশের জন্য পাঁচটি ফটক নির্ধারিত রাখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি শুধুমাত্র নারী মুসল্লিদের জন্য। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে চার থেকে ছয় স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আকাশপথ থেকে নজরদারির জন্য ড্রোন এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও পৃথক ইবাদতের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের কেবল জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা ধাতব বস্তু নিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট মোড়ে ট্রাফিক ডাইভারশন ও ব্যারিকেডের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অন্যদিকে, রামপুরা, মিরপুর এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানীয় ঈদগাহ ও মসজিদে অধিকাংশ জামাত সকাল ৭টায় শুরু হবে। গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সকল সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।