দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ১১ জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতির দিকে। কয়েকটি জেলা ও কিছু অঞ্চল ছাড়া বেশির ভাগ জায়গার পানি নেমে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অতি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের এ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) এ সংখ্যা ছিল ২৭ জন।
এদিকে এ বন্যায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা জেলা ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় বন্যার পানি নামছে অনেকটা ধীরগতিতে। এখনো জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, নেই মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক। বন্যার্ত মানুষকে সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। ফুলগাজী উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তাই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরেছেন বেশির ভাগ মানুষ। তবে উপজেলার মুন্সিরহাট, আনন্দপুর ও জিএম হাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের সড়ক ও বাড়ি এখনো পানিবন্দি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা জানিয়েছেন, দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। ইতোমধ্যে দেশের সব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা নেই। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত সচিব এ সব কথা বলেন।
চলমান বন্যায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে কে এম আলী রেজা বলেন, ‘দেশের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে কুমিল্লায় ১২ জন, ফেনী-২, চট্টগ্রামে-৫, খাগড়াছড়ি-১, নোয়াখালী-৬, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-১, লক্ষ্মীপুর-১ ও কক্সবাজারে ৩ জন মারা গেছে। তবে মৌলভীবাজারে দুই ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি জানান, আক্রান্ত ১১ জেলার ৭৩ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৫২৮টি। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় প্রদানের জন্য মোট ৪ হাজার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অশ্রয়কেন্দ্র গুলোয় মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার ৫১০ ব্যক্তি ও ৩৯ হাজার ৫৩১ গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
আলী রেজা জানান, ১১ জেলায় মোট ১২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৭৩৪ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬১৯টি মেডিকেল টিম সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ বরাদ্দ এক কোটি বাড়িয়ে ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি- বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক কর্তৃক সংগৃহীত মোট ৮৮ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, কাপড় ও পানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ডিডিএম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দৈনিক বাংলার নোয়াখালী প্রতিনিধির তথ্যমতে, জেলায় টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এখনো জেলার ৮টি উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের ২১ লাখ ২৫ হাজার ৫শত মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ১৩০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪৩ জন মানুষ আশ্রিত রয়েছে। এখন নতুন করে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হচ্ছেন। তবে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কথা বলে জানা গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নুতন করে মানুষ উঠার জায়গা নেই। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজ বাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অপরদিকে, জেলার দুর্গম অনেক এলাকায় ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে জানান বাসিন্দারা। ত্রাণ পেতে হাহাকার করছে বন্যার্তরা।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যা কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে। আর জেলা শহর মাইজদীসহ সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত জেলায় বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি ১২৪টি ও বেসরকারি ১৬টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
বিপৎসীমার নিচে গোমতীর পানি
ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে গত আটদিন ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল গোমতী নদীর পানি। তবে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে পানির স্তর। এতে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে গোমতী। তবে নদীর পানি অব্যাহত প্রবেশ করছে বুড়িচং উপজেলায়। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যার পানি। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গোমতীর বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এতে কিছুটা হলে গোমতী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ২২ আগস্ট রাতে বুড়িচং এলাকায় গোমতীর বাঁধ ভাঙার ফলে শুক্রবার সকাল থেকে নদীতে পানি কমতে শুরু করে। বর্তমানে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গোমতী পানি। উজানে বৃষ্টি না হলে অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত বলতে পারেন।
ফেনীতে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
দৈনিক বাংলার ফেনী প্রতিনিধি জানায়, জেলার সবকটি উপজেলায় প্রায় ১১ লাখ ৫০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। তবে বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর জনজীবনে সমস্যা আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানকার মানুষ ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। মনুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে। এই মুহূর্তে ফেনীতে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। ভেজা ও নষ্ট হওয়া আসবাবপত্রাদি, দুর্গন্ধময় পরিবেশ তছনছ সাজানো গুছানো সংসার-এমন মানবিক বিপর্যয়ে এখন বেঁচে থাকাই দায়। এসব বিষয় জরুরিভাবে ব্যবস্থা না হলে এখানে মানবিক বিপর্যয় আরও গুরুতর হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় দুই জনের মৃত্যু হলেও নিখোঁজ-মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি হবে। তবে এখন পর্যন্ত এসবের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এবারের বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলায় রোপা আমান, সবজি ক্ষেত, বিজতলা সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। মানুষের বাড়ি-ঘরে চালা পর্যন্ত পানি উঠায় তাদের ঘরে থাকা আসবাবপত্র, কাথা- বালিশ, গৃহস্থালিসহ সকল প্রকার মালামাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।উপজেলাব্যাপী মাছের ঘের এবং পুকুরের মাছ সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। কোনো কোনো স্থানে কৃষকের গবাদি পশু কিছু কিছু রক্ষা করা গেলেও এখন গো-খাদ্যের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলায় মুরগির খামার একটিও নেই। গরুর খামার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক, শাখা পাকা রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। মানুষের যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিভিন্ন মানবিক সংগঠন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যেতে পারছে না।
সাত দিন বন্ধ থাকার পর জেলা হেডকোয়ার্টার এর সঙ্গে ফেনী-পরশুরাম ও ফেনী-ছাগলনাইয়া এবং ফেনী-সোনাগাজী আঞ্চলিক সড়কে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলার যোগাযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। রাস্তার ওপরের অংশ পানির তোড়ে ভেসে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। জেলার কিছু কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো দুই-তৃতীয়াংশ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এসব কিছুতে স্বাভাবিক গতি ফিরে পাচ্ছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, র্যাব, বিজিবি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ছাত্র-জনতার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয়েছে দেড় লাখ মানুষকে। এ ছাড়া বন্যা পরিস্থিতিতে নিজ উদ্যোগে মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভেসে গেছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মাছ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলমান বন্যায় ৪ উপজেলার ৮৬০টি পুকুরের অন্তত ৭৫৬ টন মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। এতে সাড়ে ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আখাউড়া উপজেলার খামারিসহ মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আখাউড়া উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পুকুর, দিঘি ও খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৩৪৮। এগুলোর মোট আয়তন ৬২১ হেক্টর। এসব জলাশয়ে প্রায় ৫০০ ব্যবসায়ী মাছ চাষ করেন। আর চাষির সংখ্যা ২ হাজার ১০৭। বন্যায় ১২১ দশমিক ৮৬ হেক্টর আয়তনের ৪৩০টি দিঘি, খামার ও পুকুরের সব মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের মোট ৪৫৬ টন মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আর ১ কোটি ১৫ লাখ পোনা পানিতে ভেসে গেছে, যার বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের নিলাখাদ গ্রামের খামারি নাইম আহমেদ বলেন, ‘বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা সামলে ওঠা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। বন্যার পানিতে পাঁচ কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ করব, বুঝতে পারছি না।’
বন্যার পানিতে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার দাবি করেছেন কর্নেল বাজারের বাসিন্দা বাছির মিয়া। তিনি বলেন, পুকুরে মাছ মাত্র বড় হয়েছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে দেড় কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।
উপজেলার মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে খামারিদের ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এদিকে কসবা উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বন্যার পানিতে ২০০ পুকুর, দিঘি ও খামারের মাছ ভেসে গেছে। এগুলোর আয়তন ৩৮ হেক্টর। ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বড় মাছ ও ১০ লাখ টাকার পোনা পানিতে ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো ভেঙে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
২০ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশন–সংলগ্ন খাল দিয়ে ভারতে থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসতে শুরু করে। এরপর আখাউড়া উপজেলাসহ পর্যায়ক্রমে কসবা উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশেষ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. এমাদুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের কথা জনসম্মুখে জানানো হয়।
সংসদীয় প্রথা ও আইন অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্বাচনের পরপরই নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ সাধারণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর এরই মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য প্রাথমিক প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চের এই অধিবেশনটি দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।
পুলিশের এসপি ও ওসিদের নিয়োগ আর লটারির মাধ্যমে হবে না বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হবে।
আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারেন না। বড় জেলা ও ছোট জেলার কাজের ধরন আলাদা- সেখানে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি লটারির প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি নিয়োগ এভাবে হওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাদের দক্ষ ও উপযুক্ত মনে করবে, তাদেরই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পদায়ন করা হবে—এমন নির্দেশনা বৈঠকে দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকার লটারির মাধ্যমে এসপি-ওসিদের পদায়ন শুরু করে। ২৪ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার চূড়ান্ত করা হয়। পরে ডিসেম্বরের শুরুতে একই প্রক্রিয়ায় ৫২৭ থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়।
বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাইবে না।’
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকে আমাদের দেশের বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আমরা বৈঠক শুরু করেছি।
আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ করেছি যে তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মোটো হচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট। সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না এবং আমাদের নীতিমালা হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যাশনাল ডিগনিটি ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম নবনির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক রদবদলকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, একটি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াটা খুবই সাধারণ ঘটনা। বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নিজের দায়িত্বকাল সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নিয়ে এসেছে এবং একে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর একমাত্র চাওয়া হলো জুলাই অভ্যুত্থানে ভুক্তভোগী মানুষের বিচারের দাবি যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়।
পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তাজুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক পরামর্শ মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে তাঁকে বর্তমান ধারা বজায় রাখার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে নতুন নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। সেই সময়ে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে সরাসরি পদত্যাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল নতুন কেউ দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থলাভিষিক্ত হবেন। জনসাধারণের কাছে কোনো ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেননি।
এ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণাদি সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ অকাট্য প্রমাণাদি হাজির করেছে, তা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। পুরো প্রসিকিউশন টিম কোনো অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ছাড়াই অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইন পেশায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
পুলিশ বাহিনীতে জনবল বাড়াতে দ্রুত ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ নিয়োগ কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে শুরু হবে।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালনা করা।’
তিনি জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে। লাইসেন্স যথাযথ নিয়মে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে। যারা লাইসেন্স পেয়েছেন, তারা কি তা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তা যাচাই করা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। এছাড়া এই লাইসেন্সের অধীনে থাকা অস্ত্রগুলোও বাতিল হবে।’
তিনি আরও জানান, তার জানা অনুযায়ী ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র বর্তমানে অবৈধ হিসেবে গণ্য। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
পোস্টে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন।
আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন। শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে ও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এলে প্রতিরক্ষা সচিব মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টাকে প্রতিরক্ষা সচিব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড, উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
উপদেষ্টা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করণের জন্য কাজ করবে।
এসময় তিনি সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণকল্পে মন্ত্রণালয়ের সকলে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাধীন-সার্বভৌম, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মতোই যত দ্রুত সম্ভব কৃষক কার্ড চালু করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ সংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিগতভাবে অনেক আগেই কৃষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই আজ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতো পাইলট প্রকল্প আকারে কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হবে। প্রকৃত কৃষকরা এ কার্ড পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সুবিধা পাবেন কৃষক। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন সুবিধা নিতে পারে সেজন্যই স্মার্ট কৃষক কার্ড। পর্যায়ক্রমে সব কৃষক এ কার্ড পাবেন।’
সচিবালয়ে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিং সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে চীনের প্রেসিডেন্ট আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির সাংবাদিকদের ব্রিফিং প্রদান করেন। তিনি জানান চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সফরের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এই সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি চীনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশংসিত হয়েছে।
সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তাঁর নির্ধারিত দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যাজ পরিধান করান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতিশীলতা আনছেন। চীনের রাষ্ট্রদূতের এই সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের বর্তমান আন্তর্জাতিক অবস্থানের গুরুত্বকেই পুনর্ব্যক্ত করছে। আগামীতে দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে এখনই মন্তব্য করেননি। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তৃতীয় কোনো দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি জানান, চীন এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কাম্য নয়। মূলত ওয়াশিংটনের প্রভাব ঠেকানোর কৌশলী বার্তার পাশাপাশি বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তারা অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)। গত ২১ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসবিসি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হারুন-অর-রশিদ এই অভিনন্দন প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালে কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ দেশের বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তাঁরা। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বীমা শিল্পের আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কায়সার রশিদ চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পদোন্নতি সূচক ব্যাজ পরানো হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর দাপ্তরিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নতুন মহাপরিচালককে এই সামরিক সম্মাননা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত থেকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নবনিযুক্ত মেজর জেনারেলকে ব্যাজ পরিয়ে দিতে সহায়তা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত থেকে কায়সার রশিদ চৌধুরীকে অভিবাদন জানান। নতুন মহাপরিচালকের অধীনে সংস্থাটির গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে আরও গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।
পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কায়সার রশিদ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই র্যাংক ব্যাজ পরিধানের মাধ্যমে তাঁর নতুন দাপ্তরিক যাত্রার এক আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শুরু হলো। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আজ সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত সরকারপ্রধান তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনীর প্রধানগণ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সফরটি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি তদারকি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অফিসের প্রথম দিনে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন ‘র্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।
অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রশাসনিক ও প্রচার শাখার কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলামসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর এই দাপ্তরিক কাজের সূচনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সেনানিবাসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির উদ্দেশে যাত্রা করেন।