বাংলাদেশে চলমান বন্যায় বাড়িঘর, স্কুল ও গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পূর্বাঞ্চলের ২০ লাখেরও বেশি শিশু এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিগত ৩৪ বছরে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়ংকর এ বন্যায় ৫৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩০ আগস্ট) ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
ইউনিসেফ জানায়, নজিরবিহীন প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি উপচে পড়ছে। যার ফলে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ মাথা গোঁজার একটু আশ্রয় খুঁজছেন; বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তা, মাঠ-ঘাট আর ক্ষেত। লাখ লাখ শিশু ও তাদের পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। তাদের কাছে নেই কোনো খাবার কিংবা জরুরি কোনো ত্রাণ সামগ্রী। সরকারি লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার-অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দেওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমি বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারণে আগামী দিনে আরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমা ব্রিগহাম বলেছেন, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যা শিশুদের ওপর চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা ও জলবায়ু সংকটের প্রভাবের ভয়াবহতাকে তুলে ধরেছে। অনেক শিশু তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, হারিয়েছে তাদের ঘর-বাড়ি ও বিদ্যালয়; তারা খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই ইউনিসেফ সক্রিয়ভাবে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও মুখে খাওয়ার স্যালাইনসহ জরুরি সেবাসামগ্রী সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু সব শিশুর কাছে পৌঁছাতে এবং শিশুদের ভবিষ্যতের ওপর চলমান এই সংকটের বিধ্বংসী প্রভাব রোধ করতে আরও তহবিলের প্রয়োজন।
দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ দুর্গত এলাকায় কাজ শুরু করে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হাসান আরিফের সঙ্গে মিলে ইউনিসেফ প্রাথমিক যাচাই পর্ব চালায়। অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিসেফ এ পর্যন্ত এক লাখ ৩০ হাজার শিশুসহ তিন লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এসব মানুষের মধ্যে তারা জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন উপকরণ যেমন, ৩৬ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পানি ধরে রাখার জন্য ২৫ হাজার জেরি-ক্যান এবং দুই লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (মুখে খাবার স্যালাইন)-এর ব্যাগ বিতরণ করেছে। কিন্তু এসবের বাইরেও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং শিশুদের জন্য জরুরিভাবে নগদ সহায়তা, নিরাপদ পানীয় জল, স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ (হাইজিন কিট), জরুরি ল্যাট্রিন তৈরি, স্যানিটারি প্যাড, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (মুখে খাবার স্যালাইন) এবং জরুরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের প্রয়োজন। অসুস্থ নবজাতক ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং গর্ভবতী মায়েরা যেন নিরাপদে তাদের সন্তান জন্ম দিতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় সেবা কার্যক্রম অবিলম্বে চালু করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যা, দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা এবং মে মাসের ঘূর্ণিঝড় রেমালের মতো দুর্যোগগুলো খুব কাছাকাছি সময়ে হয়েছে। তিনটি জরুরি পরিস্থিতির কারণে সব মিলিয়ে ৫০ লাখ শিশুসহ সমগ্র বাংলাদেশে এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ তিনটি জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু, গর্ভবতী নারী এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য জরুরি, জীবন রক্ষাকারী এবং মাল্টি-সেক্টরাল কার্যক্রম পরিচালনায় ইউনিসেফের ৩৫.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাপ্রবাহের সংখ্যা, তীব্রতা এবং অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি করেছে, যা বাংলাদেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ কারণে জলবায়ু সংকটকে মৌলিকভাবে একটি শিশু অধিকার সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনিসেফের শিশুদের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি ইনডেক্স (চিলড্রেনস ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স) অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিশুরা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকির শিকার।
বিশ্বব্যাপী ইউনিসেফ জলবায়ু সংকট নিম্নোক্তভাবে মোকাবিলা করে:
ক) শিশুদের জীবন রক্ষা করা এবং তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে;
খ) প্রতিটি শিশুকে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করার মাধ্যমে; এবং
গ) কার্বন নির্গমন ও পরিবেশগত সমস্যা হ্রাস করার মাধ্যমে।
ব্রিগহাম বলেন, বছরের পর বছর বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের লাখ লাখ শিশুর জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিশ্চিতভাবেই শিশুদের জীবন পরিবর্তন করছে।
তিনি আরও বলেন, বেশি দেরি হওয়ার আগেই, শিশুদের জন্য বৈশ্বিক নেতাদের জরুরিভাবে কাজ করার এবং তাদের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো প্রশমিত করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আমরা আহ্বান জানাই।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছে, শুধু দেশে না, বিদেশ ভ্রমণে ক্ষেত্রেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন।
তিনি বলেছেন, ৩৬ জুলাইকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়া হবে জুলাই যোদ্ধাদের। তাদের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করা হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে মূল্যছাড় দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর পর্যটন কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে 'জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার। তাদের আত্মত্যাগকে কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না; তাদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, যে মা সন্তান হারিয়েছেন, যে বাবা তার কাঁধে সন্তানের লাশ নিয়েছেন তারাই জানেন সন্তান হারানোর কষ্ট। আপনাদের অবদানের কারণেই আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। দেশকে ফ্যাসিস্টের দুঃশাসন থেকে রক্ষা করেছেন আমাদের জুলাই যোদ্ধারা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে পর্যটন খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম, শহীদ জোবায়ের আহমেদের স্ত্রী মোছা. মারজিনা আক্তার, জুলাই যোদ্ধা সানজিদা আহমেদ তন্বী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ শপথ প্রদান অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ এবং পিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন চার সদস্য হলেন—মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন এবং ইয়াসমিন গফুর। এর আগে গত ৬ আগস্ট সংবিধানের সংস্থান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের এই পদে নিয়োগ প্রদান করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিযুক্ত সদস্যরা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এই চার সদস্যের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাকিব আল হাসান একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, ‘সাকিব আল হাসান যদি দেশে আসেন আপনাদের কি মনে হয় যে তিনি নিরাপত্তাহীন থাকবেন? তিনি ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন। কিন্তু একজন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ।’
‘তার সুনাম আছে—কিন্তু যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে থাকেন ফালতু কথা বলেন সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য। আমি আবারও বলছি তিনি যদি বাংলাদেশে আসেন আইন ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য—এয়ারপোর্টে নামলে কি লোকজন তাকে মব করে কিছু করে ফেলবে? তিনি কি সেটা মনে করেন? আমরা কেউ তা মনে করি নো,’ বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘যা যা আইনগত ব্যাপার আছে সব মেনে নিয়ে যদি তিনি আসেন আমি কোনো সমস্যা দেখি না। তার প্রত্যেকটা কথা আসলে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা মানে।’
‘যে মানুষটা এখনো হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইন (একসুরে) হয়ে কথা বলে...তিনি তো আর হাসিনার চেয়ে বড় অপরাধী না। হাসিনাও যদি বাংলাদেশে আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন। পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন বিচারিক প্রক্রিয়ার। তারপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আমরা সবাই মেনে নেব,’ যোগ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা হাসিনার মতো মাফিয়া রেজিম এই দেশে আর দেখতে চাই না। এটা ভবিষ্যতেও হতে দেবো না। কোনো ফ্যাসিস্ট-মাফিয়া রেজিম না, এটা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সবচেয়ে বিভৎস অপরাধীও তার নাগরিক অধিকার যা পাওয়ার কথা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে, সেটা সাকিব আল হাসান হোক সেটা হাসিনা হোক তারা পাবেন।’
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি চীন থেকে ঢাকায় এসেছেন। এটা তার সফর আমাদের এখানকার কাউন্টার পার্টের সঙ্গে। সরকার যদি মনে করে সফরের পর স্টেটমেন্ট হয়ত দেবে। এটা নিয়ে স্পেকুলেশনের কিছু নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে কথাটা আমরা সবসময় বলি যে প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না, বন্ধু পাল্টানো যায়। আগে যেভাবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছে—একজন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চেয়েছে। সেটা জনগণের সঙ্গে হতে হবে। ভারতের আলাপটা এখন দেখছি তারা জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলছেন।’
‘ভারতের কোনো সংস্থা কোনো প্রতিষ্ঠান আগে যেভাবে বাংলাদেশে কাজ করেছে, যে ধরনের আচরণ করেছে, সেটা হতে পারবে না। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও থাকতে পারে। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে সব সরকারি দপ্তরের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে জানানো হয়, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগই সৌরবিদ্যুৎ থেকে সরবরাহ করতে হবে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য সকল সরকারি দপ্তরেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা জারি করার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয় ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
উক্ত সভায় দেশে সৌর ইনভার্টার উৎপাদনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তার নির্দেশও দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করতে একটি কার্যকর মডেল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে দেশজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারিত করা।
গত ১৭ বছরে যেভাবে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেই পুরনো ধারায় ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে আর সম্পর্ক এগোনোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন থেকে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারিত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের সুবিধা পেয়েছিল বলে দেশের মানুষের মধ্যে যে ধারণা রয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভারতও বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব অনুধাবন করছে, যাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিভিত্তিক সম্পর্ক না হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক হতে হবে দুটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের সম্পর্কের মতো।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুই দেশের নিরাপত্তা বা অন্যান্য যেকোনো ইস্যুতে পারস্পরিক আলোচনার পথ খোলা থাকবে, তবে তা অবশ্যই সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন শুরু হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা রাষ্ট্রপতির এ আদেশটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস (Nicolas Linus Ragnar Weeks)।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুইডিশ সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
আলোচনায় সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ (Bilateral Cooperation Strategy) রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেডিমেড গার্মেন্টস ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগও বাড়ছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী।
বৈঠকে সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অসাধু মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং মানবপাচারকারীদের প্রলোভন অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সুইডেনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুইডেনের কাজ করার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ও অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আগ্রহী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যম-কে নিশ্চিত করেছেন। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি এবং মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রায় দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করা সংগঠনটির নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও বৃহৎ পরিসরে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অ্যামচেম প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্বকে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন চলছে এবং শাসনের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দেশবাসীর সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে মূলত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মূল্যায়ন শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের মাধ্যমে বা বিশেষ কোনো উপায়ে সব তথ্য জনগণের সামনে পেশ করবেন। তবে এটি চূড়ান্ত হতে এখনও কিছু সময় বাকি।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রেলপথ খাতের আধুনিকায়নে সরকার নিরলস কাজ করছে। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের পরিসর বাড়ানো হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন এক জোড়া ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ ট্রেন চালু করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দীর্ঘ এক বছরের সফল আলোচনা শেষে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ বা সিইপিএ সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভ করবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে উপদেষ্টা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনে দেশের প্রথম ‘বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়েছে, যা বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের অধীনে ৭০ হাজার ৮৬১টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে সারা দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ‘ভিসা’র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সের গতি ত্বরান্বিত করা এবং পেমেন্ট বা লেনদেন ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তরে ভিসার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্টিফেন কারপিন তিন দিনের এক সংক্ষিপ্ত সফরে গত সোমবার বাংলাদেশে এসে পৌঁছান। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি এ দেশেই অবস্থান করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি। সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই সাক্ষাৎটিকে বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার পথে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আজ জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় এ সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি’র সঙ্গে সমন্বিত করেছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতির দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব। দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজির প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, সকল শ্রেণিপেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজির এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।
‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসডিজি ভিলেজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।
কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা।
তিনি বলেন, আশা করি, তিন দিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এর একটি হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। আরেকটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন। এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।
তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভিসার শ্রেণি বাড়িয়ে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন ভিসা নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ভিসা নীতিমালা ২০২৬ অনুমোদন করা হয়।
রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা; বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা; পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা; প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা; জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা; পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক এবং সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান ভিসা পদ্ধতি যুগোপযোগী, নিরাপদ, গতিশীল এবং সহজীকরণের উদ্দেশ্যে নতুন ভিসা নীতিমালা করা হয়েছে।
২০০৬ সালে ভিসা নীতিমালা ভিসার শ্রেণি ৩৩টি ছিল জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ভিসা নীতিমালায় ৩৪টি ভিসার শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিসা নীতির ভিত্তিতে আগের সব ভিসাসংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে।