সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন ১৪৩৩

আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করা হয়েছে: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৬:১৮

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ বাংলাদেশির সকলকে সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছে। আজ মঙ্গলবার সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

ইউনূস বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশিকে আজ দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ক্ষমা করেছেন। তবে সাজা মওকুফ করা হলেও তাদের সেদেশে না রেখে শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠানোর কথা জানিয়েছে দেশটি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের খবরটি নিশ্চিত করে বলেছেন, ক্ষমাপ্রাপ্ত এসব লোককে শিগগিরই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তখন পুরো বাংলাদেশ উত্তাল। একের পর এক বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। এ অবস্থায় আন্দোলনে সমর্থন ও সংহতি জানায় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। বিভিন্ন দেশে হয়েছে মিছিল-বিক্ষোভ। তেমনই এক বিক্ষোভ মিছিল করতে গিয়ে আরব আমিরাতে আটক হন ৫৭ বাংলাদেশি।

আরব আমিরাতের আইনানুযায়ী দেশটিতে মিছিল, সমাবেশ বা আন্দোলন করার সুযোগ নেই। যে জন্য মিছিলে জড়ো হওয়া ৫৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির পুলিশ। পরে দেশটির ফেডারেল আদালতে দ্রুত বিচারে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় ৫৭ জন বাংলাদেশিকে। এর মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং বাকি একজনকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এলো দেশের ৬ শতাংশ ভুট্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে মোট ভুট্টা আমদানির ৬ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশের ভুট্টার বাজারে পুনরায় প্রবেশ করল দেশটি।


পশুখাদ্য শিল্পের চাহিদা মেটাতে ২০২৬ বিপণন বর্ষে বাংলাদেশ ১৭ লাখ ৪০ হাজার টনের বেশি ভুট্টা আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টন এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


‘গ্রেইন অ্যান্ড ফিড আপডেট’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ভুট্টার সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ ব্রাজিল। মোট আমদানির ৬৮ শতাংশই এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি থেকে। এরপর ২৪ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত।
চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
তবে মে মাসে শুরু হওয়া বিপণন বর্ষে ব্রাজিল থেকে ভুট্টা আমদানির হার আগের চেয়ে কমেছে। ইউএসডিএর আগের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বিপণন বর্ষে বাংলাদেশ তার মোট ভুট্টার প্রায় ৯৩ শতাংশই ব্রাজিল থেকে আমদানি করেছিল। এর বাইরে ৪ শতাংশ আর্জেন্টিনা থেকে এবং ২ শতাংশ পাকিস্তান থেকে এসেছিল।


বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পুনরায় ভুট্টা আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল; যদিও পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করেন। সেই শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে এবং দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে সম্মত হয় বাংলাদেশ।


মার্কিন সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, ঐতিহাসিকভাবেই ভারত বাংলাদেশের ভুট্টার অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। কারণ হিসেবে তুলনামূলক কম দাম, পরিবহন ব্যবস্থা এবং পণ্য পৌঁছাতে কম সময় লাগার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।


তবে ভারত জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল উৎপাদন বাড়িয়ে দেওয়ায় ২০২৪ সাল থেকে দেশটি ভুট্টা রপ্তানি কমিয়ে দেয়। এর ফলেই শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসে ব্রাজিল।


সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বিপণন বর্ষে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ১৮ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।


নির্বাচিত

মতিঝিল আইডিয়ালের ২৩ শিক্ষককে দুদকে তলব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুয়া ও জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ জন শিক্ষককে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ কার্যালয়ে এসব শিক্ষককে উপস্থিত থাকতে এক চিঠিতে অনুরোধ করেছে দুদক।

এ সময় তাদের বিএড সনদের মূল সার্টিফিকেট ও ১ সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর দুকদের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান স্বাক্ষতির এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযোগ ছিল এই প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষক ভুয়া সনদে চাকরি করছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু নথি পাওয়া সাপেক্ষে সম্প্রতি দুদক অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভুয়া ও জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা-চাকরি করার অভিযোগ রয়েছে। এটি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ২৩ শিক্ষকের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষকগণের নামের তালিকাসহ ইস্যুকৃত নোটিশ প্রেরণ করা হলো।

‘এই নোটিশে বর্ণিত তারিখ ও সময়ে তাদেরকে অধ্যক্ষ কার্যালয়ে (বিএড সনদের মূলকপি ও ১ সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ) উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হলো। কোন শিক্ষক জরুরি কোন কারণে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে তার বি.এড সনদের মূলকপি ও ১ সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অধ্যক্ষের জিম্মায় রাখার অনুরোধ করা হল।’

তালিকায় রয়েছেন যারা: রুবিনা সুলতানা, মো. সুলাইমান, তাহমিনা ইয়াছমিন, মোহা. কাবিউল ইসলাম, সেবিকা রানী পাল, মোছা. নাহিদা আখতার, সালেহ আহমেদ, মো. মোজাম্মেল হক, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহফুজা হাসনা, সালমা খাতুন, সুস্মিতা আক্তার, মো. আজিবর রহমান শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আবু বকর, মহিউদ্দিন, আজমল হোসেন, মো. ফরিদুর রহমান শেখ, নুরজাহান, মো. সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ আল আমীন খান, মোহাম্মদ আফছার উদ্দিন এবং এন. এম. মঞ্জুরুল হক।


নির্বাচিত

অর্থনীতির পুনরুত্থানে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাংলাদেশের জন্য অগ্রাধিকার: জহির উদ্দিন স্বপন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার সফররত চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পথচলা শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, চীন থেকে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এর পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বাংলাদেশকে বিনামূল্যে একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং ২ হাজার বর্গকিলোমিটার সুবিধার স্টোরেজ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের দিগন্ত প্রসারের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশ ও চীন—উভয় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সফররত চীনা প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রদেয়িক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য কমরেড ঝাও জুনমিন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্য ও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ছয় দিনের এ কংগ্রেস চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) আয়োজিত কংগ্রেসে ৯৭টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ আইন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আন্তঃদেশীয় অপরাধের মধ্যে সংগঠিত অপরাধ, সাইবার অপরাধ, মানব ও মাদক পাচার, অর্থপাচারসহ দ্রুত পরিবর্তনশীল অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে কংগ্রেসের আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবুধাবি ঘোষণাতেও অপরাধ প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, উদীয়মান অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলাজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং আদালতের ওপর মামলার চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর এ আন্তর্জাতিক কংগ্রেস আয়োজন করে। এবারের কংগ্রেসের মূল প্রতিপাদ্য হলো—ডিজিটাল যুগে অপরাধ প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিচার ও আইনের শাসন ত্বরান্বিত করা; মানুষ ও পৃথিবীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

কংগ্রেসে সংগঠিত ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, মানব ও মাদক পাচার, অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং পরিবেশগত অপরাধের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, ইলেকট্রনিক প্রমাণ, ভার্চুয়াল সম্পদ এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান ফলাফল হিসেবে ‘আবুধাবি ঘোষণা’ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অপরাধ প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিচার ও আইনের শাসন জোরদারে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার ও সহযোগিতার দিকনির্দেশনা হিসেবে এ ঘোষণা কাজ করবে।

আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিচারিক সংস্কারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে এসব অপরাধ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

আধুনিক বন্দর-দক্ষ নাবিক গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ চাইলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, শুধু আন্তর্জাতিক নৌ-চুক্তিতে যোগদান বা আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; এর সুফল নিশ্চিত করতে নিরাপদ জাহাজ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং টেকসই নৌবাণিজ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’।

মন্ত্রী বলেন, নীতি, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

শেখ রবিউল আলম দেশের বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে এনে বন্দরসেবার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি ২০২৯ সালে চালুর লক্ষ্যে থাকা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়। বন্দরটি প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় মাদার ভেসেল সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে। এটি চালু হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও লজিস্টিক ব্যয় কমার প্রত্যাশা রয়েছে।

মন্ত্রী নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্ল্যাগ স্টেট ও পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথা জানান। নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান কার্যকরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের নাবিকদের বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে নাবিকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তাঁদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৫টি মেরিটাইম একাডেমি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একটি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ নাবিক, মেরিন প্রকৌশলী ও বন্দর ব্যবস্থাপনা পেশাজীবী তৈরিতে কাজ করছে। ২০১৪ সাল থেকে ১৩৮ জনের বেশি নারী ক্যাডেট মেরিটাইম একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৫০ জন নারী ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করছেন।

অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও উপকূলীয় নৌপরিবহনের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান শেখ রবিউল আলম।

দেশের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথকে অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় নৌপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বিত মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও বাংলাদেশের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়। হংকং কনভেনশন অনুযায়ী দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে এবং আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে এ শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) ‘গ্রিনভয়েজ-২০৫০’ কর্মসূচির সহায়তায় জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কম-কার্বন জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, বন্দর কার্যক্রমের বিদ্যুতায়ন এবং পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সবুজ নৌপরিবহনে উত্তরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব নৌ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো—নীতি যেন বাস্তব কার্যক্রমে রূপ নেয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার যেন পরিমাপযোগ্য অর্জনে পরিণত হয় এবং বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনা যেন দৃশ্যমান জাতীয় সুফলে রূপান্তরিত হয়।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনী, জাহাজমালিক, শিপিং কোম্পানি, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং নাবিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গে ৯ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১০৯৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে এসব তথ্য জানানো হয়। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ নয়জনের কারও মৃত্যুই পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের কারণে হয়নি; সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে চারজন, সিলেটে দুজন, চট্টগ্রামে দুজন এবং ময়মনসিংহে একজন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২১২ জনে।

একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২২৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫১৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। এরপর রয়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ অন্যান্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, হামের উপসর্গে ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত ৪৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করছে। তবে হাসপাতালে আসা বা ভর্তি হওয়া সব রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি শনাক্ত সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষায় দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের মিজলস-রুবেলা ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাটি মূলত একটি বিতর্কিত জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে ঘটেছে এবং প্রাথমিকভাবে তিনি এই ঘটনার ভিকটিম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও সামগ্রিক বিষয়াদি খতিয়ে দেখতে পুলিশের গভীর তদন্ত চলছে এবং এ নিয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থলটি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী নামাপাড়া এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে একটি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই সাবেক সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের কিছু লোক রাতের আঁধারে জায়গাটি দখল করতে গেলে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সম্পত্তির মধ্যেই সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড কাঠামো ছিল, যা তিনি কনটেন্ট তৈরির স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করতেন এবং দখলচেষ্টার সময় সেই স্থাপনাটিতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ঘটনার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ তথ্য পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেখান থেকে গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সালমান মুক্তাদির সামাজিক মাধ্যমে এসে চাঁদা না দেওয়ার কারণে ভাঙচুরের অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা করেননি। এমনকি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে কেউ সরাসরি চাঁদা দাবি করেনি। ফলে কোনো দলের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সালমান মুক্তাদির যদি সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তবে পুলিশ তা তদন্ত করে দেখবে। বিরোধপূর্ণ জমি দখল ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।


নির্বাচিত

নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে নিয়োগবঞ্চিতদের অবস্থান কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগপত্র না পাওয়ার প্রতিবাদে এবং অনতিবিলম্বে তা প্রদানের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রার্থীরা। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। 'সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ' ব্যানারে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেখানে প্রাথমিক জমায়েত শেষে একটি সুশৃঙ্খল মিছিল নিয়ে তাঁরা শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন এবং সড়কে বসে পড়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে রবিবারের এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশনের পর অধিকাংশকে যোগদান করানো হলেও অন্তত দুই হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এখনো আটকে রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পথে বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ নতুন উন্নয়নযাত্রা শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেছেন।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন-এই তিন ‘আর’ (থ্রি-আর) কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের দ্বার উন্মুক্ত করতে প্রবাসী পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগও বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আসুন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করি।’

সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিগণ অংশ নেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বৈঠক

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাত, নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ ঢাকা ও আঙ্কারার মধ্যকার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় সফর বিনিময় এবং বাংলাদেশে তুর্কি কোম্পানিগুলোর নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এছাড়া তুরস্কের আনতালিয়া শহরে অনুষ্ঠাতব্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-৩১’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে আয়োজিতব্য ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্মেলন’-এ আঙ্কারার প্রতিনিধিদলকে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

দেশের স্বার্থকে রক্ষা করেই বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে সরকারি সফর সমাপ্ত করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ রাষ্ট্রীয় সফরের নানা কূটনৈতিক অর্জন তুলে ধরে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমেরিকা থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার কঠোরভাবে এসব দমন করবে।’ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের বক্তব্য সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।’

বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় ভিড় পরিহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী জনসমাগম পছন্দ করছেন না এবং এটিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক রূপান্তর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, পাঁচ দিনের এই ব্যস্ত সফরে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান। সাধারণ পরিষদে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।


নির্বাচিত

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু আজ সকালে এ কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি আজ সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

ঢাকা ফেরার আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, ইউএনজিএর সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। এগুলোর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ চিফ হুইপের

ঢাকার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জ্যুলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, মানুষের অস্তিত্ব, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবনধারণের সঙ্গে জীববিজ্ঞানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে এ বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জ্যুলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক শর্ত খাদ্য। আর খাদ্যসংস্থান সরাসরি উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। মাছ, মাংস ও উদ্ভিদজাত খাদ্য মানুষের পুষ্টি ও জীবনধারণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে মানুষের খাদ্য ও জীবনব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, রাজনীতি বা তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরে সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং সন্তানদের সুশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের বাস্তব সুফল মানুষের কাছে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

চীফ হুইপ বলেন, নদী, হাওর, বন, পাহাড়, জলাভূমি ও সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির আবাসস্থল। দেশের এই সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং টেকসই গবেষণার মাধ্যমে তরুণরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

সম্মেলনে দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ড. মো. খালেদ কানাক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে গবেষকগণ ও গণমাধ‌্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close