দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেছেন, দেশের কয়েকটি জেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও সম্প্রদায়কে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছে সরকার। খুব শিগগিরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে সরকার।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কী ধরনের হবে, সেটি ঠিক করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শুরু হয়েছে।’ বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা বন্যার ত্রাণ পর্যায়টা অতিক্রম করে পুনর্বাসন পর্যায়ের দিকে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের বিষয়ে কাজ খুব দ্রুত চলছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে। বন্যার পানি সম্পূর্ণভাবে নামার পর পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করব। কেউ যেন বাদ না পড়েন সে বিষয়ে আমরা লক্ষ্য রাখব।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারব। এ বিষয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা চাই সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসন করতে। একটি লোকও তা থেকে বঞ্চিত হবে না।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ডি-ফরমের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেওয়ার একটি সময় রয়েছে। সেটি তিন সপ্তাহের মধ্যে দিতে হয়। আমরা সেটি এক সপ্তাহের মধ্যে করতে বলেছি, যত দ্রুত করা যায়।’
তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনে আমি যখন কথা বলেছি, তাদের দৃঢ়তা দেখেছি। তারা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কীভাবে কাজ হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যস্থাপনা অধিদপ্তর এবং বন্যাকবলিত সব এলাকার পিআইওদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণলায়ও কাজ করছে, যেমন কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়, ভূমি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়াও ক্ষতিপূরণসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়েও ধারণা দিয়েছেন তিনি। এগুলো হচ্ছে:
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের অনুদান: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। কৃষকদের কৃষি উপকরণসহ যা যা প্রয়োজন তা দেওয়া হবে।
বাড়ি নির্মাণ: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিরূপণ করে যার বাড়ি দরকার তাকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে। বসবাস করার উপযোগী বাড়ি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতাও করা হবে।
পোল্টি ফার্ম ও গবাদি পশুর খামারিকে সহযোগিতা: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যাদের পোলট্রি ফার্ম ও গবাদি পশুর খামার ছিল তাদের খামার তৈরি করতে আর্থিক সহযোগিতাসহ খামারে হাঁস মুরগি ও গবাদি পশু দেওয়া হবে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ:
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাদের দোকানপাট ছিল, ব্যবসা করতেন, তাদের পুনরায় ব্যবসা চালু করতে আর্থিক সহযোগিতাসহ দোকান তৈরি করে দেওয়া হবে।
বিভিন্ন রোগের সুচিকিৎসা: বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি চলে যাওয়ার সময় থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই হতে পারে। তাদের সুচিকিৎসাসহ ওষুধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে সরকার।
শিশুদের কাউন্সেলিং: হঠাৎ করে বাড়ি-ঘরে বড় বড় ঢলে পানি চলে আসা দেখায় বন্যাকবলিত এলাকায় অনেক শিশুর মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। সেটি দূর করতে কাউন্সেলিং করা হবে। প্রত্যেকের পড়াশোনার জন্য বই খাতাসহ সব সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে অনুদানের চেক গ্ৰহণ করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অনুদানের চেক গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব অনুদান প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা করা হচ্ছে।
দাতা সংস্থাগুলোও বন্যার্তদের পুনর্বাসনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন দাতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।
গত সোমবার সচিবালয়ে এমন একটি বৈঠক হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। সেখানে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের সমন্বয়ক, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর, আইওএম চিফ অব মিশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, ডব্লিউএফপির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ, ইউএনআরসিও হিউম্যান্টেরিয়ান অ্যাফেয়ার অ্যাডভাইজারের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর দাতা সংস্থাগুলো পুনর্বাসনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বন্যার্তদের পুনর্বাসনে সহায়তার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে এসেছে। তারা এই পুনর্বাসন কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের মানুষের অপার স্বেচ্ছাসেবা, অভূতপূর্ব সহযোগিতার জন্য প্রশংসা করেছেন। ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ও জনগণের যে উদ্দীপনা তারা দেখেছেন, ত্যাগ তারা দেখেছেন- এটার প্রশংসা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর কোন কোন বিষয়ে তারা সহযোগিতা দিতে পারেন সেটা আমরা নির্ণয় করে দিলে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আশাবাদী যে, আমরা যেভাবে সাহসিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় দুর্যোগ অতিক্রম করতে পেরেছি, আমরা ভবিষ্যতে পুনর্বাসন কর্মসূচিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারব।’
সারা দেশে কৃষির উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খাল খনন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। পরিদর্শনের সময় তাঁর সাথে ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনদাবির প্রেক্ষিতে এই বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সাহাপাড়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং একই সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে বর্ষা মৌসুমে যে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, এই খাল খননের ফলে তা স্থায়ীভাবে দূর হবে। এছাড়া খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন কৃষকরা, যা দেশের সামগ্রিক ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সাহাপাড়া এলাকায় খননযোগ্য এই খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, “খাল খনন প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই যাতে দুর্নীতির আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দেওয়া হয়, সেদিকে সরকার তীক্ষ্ণ নজর রাখবে। সম্পূর্ণ জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কাজগুলো অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে সম্পন্ন করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন নদীমাতৃক বাংলাদেশের হারানো জলপথগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার দেশজুড়ে এই পুনঃখনন প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচিটি এক জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দিনাজপুরের কাহারোল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন মন্ত্রী। সব মিলিয়ে ১৬ মার্চের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তরের জনপদে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।
আসন্ন পবিত্র শব-ই-কদর ও ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটির মাঝে থাকা ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আজ রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মূলত উৎসবের মৌসুমে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা ছুটির সুযোগ করে দিতেই নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটির সাথে আরও একদিন যুক্ত হয়ে দেশজুড়ে ঈদের আমেজ দীর্ঘতর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, ১৯৯৬ সালের কার্যপ্রণালী বিধিমালা অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতা বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। এই আদেশের ফলে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ওই দিন বন্ধ থাকবে। নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন উৎসব উদযাপনের কথা বিবেচনায় রেখেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কিছু সেবা এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা সেবা প্রদানকারী কর্মীরা যথারীতি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সচল থাকবে এবং এসকল সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলো চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না।
চিকিৎসা সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। সকল পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ওই দিন লেনদেনের জন্য খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক নির্দেশনা আসবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের বাড়তি আনন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। তবে চারটি মামলায় জামিন পেলেও এখনই তাঁর কারামুক্তি ঘটছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের জুলাই মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। বাকি তিনটি মামলা মূলত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগে শাহবাগ, ফতুল্লা এবং বন্দর থানায় দায়ের করা হয়। নিম্ন আদালতে এসব মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
শুনানিকালে সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং সাঈদ আহমেদ রাজাসহ একঝাঁক আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন। আইনজীবীরা জানান, আজ চারটি মামলায় জামিন মিললেও প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অন্য একটি মামলায় তাঁর জামিন এখনও হয়নি। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এখনই তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং একাধিক মামলার ঘটনা নজিরবিহীন, যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে তিনি আংশিক আইনি স্বস্তি পেলেও চূড়ান্ত মুক্তির জন্য তাঁকে দুদকের মামলার ফয়সালার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৬’ আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এ অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হলো। ১. গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ খালেদা জিয়া, ২. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী নুরুন নাহার আক্তার, ৩. শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মোছা. ববিতা খাতুন, ৪. সফল জননী নুরবানু কবীর, ৫. নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী মোছা. শমলা বেগম এবং ৬. সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শত অত্যাচারে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অদম্য ও অবিচল।’
তিনি বলেন, ‘নারীদের সাহস প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। সমতা, মর্যাদা ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গড়তে নারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে সব ক্ষেত্রে। নারীরা এগিয়ে গেলে জাতিও এগিয়ে যায়।’
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন দেশ হবে, যেখানে সব নারীরা নিরাপদ থাকবেন। নারী দিবস সাম্যতা, ন্যায্যতা ও ন্যায় বিচারের অঙ্গীকারের হোক।’
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই মাইলফলক উদ্যোগের বিস্তারিত জানাতে আগামীকাল সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই মহতি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলবেন।
পরদিন মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল এলাকায় উপস্থিত হয়ে সুবিধভোগী নারীদের হাতে নিজ হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে এই প্রকল্পের পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত হকদারদের খুঁজে বের করে এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এই কার্ড হবে পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত ও সার্বজনীন। হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রধান হিসেবে যিনি মা বা নারী সদস্য আছেন, তিনিই এই কার্ডের সুবিধাভোগী হবেন।
সরকার এই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত একটি বিশেষ উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পাইলটিং প্রকল্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এই কার্যক্রম সফল করার পর তা পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো প্রকার রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই স্বচ্ছতার সাথে যোগ্যদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত করাই এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগটি দেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার মাঝেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে তরল গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম বহনকারী ৮টি জাহাজের মধ্যে ৪টি ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বাকি ৪টি জাহাজের মধ্যে একটি আজ রোববার দুপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং অন্য ৩টি বর্তমানে বাংলাদেশ অভিমুখে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে ৬৩ হাজার ৩৮৩ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘আল জোরা’ এবং ৬৩ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন এলএনজি বহনকারী ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ দুটি যথাক্রমে ৩ ও ৫ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপদে পৌঁছেছে। এছাড়া ওমানের সোহার বন্দর থেকে ১৯ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে আসা ‘জি-ওয়াইএমএন’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে ৫ হাজার ১৯ মেট্রিক টন মেরিন ইথানল গ্যাস (এমইজি) বহনকারী ‘বে-ইয়াসু’ জাহাজটিও বন্দরে ভিড়েছে।
আজ রোববার দুপুর ২টায় ওমানের সোহার বন্দর থেকে ২২ হাজার ১৭২ মেট্রিক টন গ্যাস নিয়ে ‘এলপিজি সেভেন’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। এছাড়া পাইপলাইনে বা পথে থাকা অন্য তিনটি জাহাজ—‘লুসাইল’, ‘আল গালায়েল’ এবং ‘লেব্রেথাহ’ যথাক্রমে ৯, ১১ এবং ১৪ মার্চ কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত এই ৮টি জাহাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি জোরালো হওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, চলমান সংকটের কথা মাথায় রেখে জাহাজগুলোর গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইতিপূর্বে হরমুজ প্রণালি পার হওয়া জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়েই বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ভবিষ্যৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বর্তমান জাহাজগুলো পৌঁছালে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সাময়িকভাবে নিরসন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ‘প্যানিক বায়িং’ বা সাধারণ মানুষের মাঝে অতিরিক্ত তেল মজুত করার যে হিড়িক পড়েছে, তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে ঢাকা ও গাজীপুরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন এখন পুরোপুরি তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীসহ জেলা পর্যায়ের পাম্পগুলোতে ‘পেট্রোল নেই’ এবং ‘অকটেন নেই’ লেখা সংবলিত হাতে লেখা পোস্টার ও ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। এতে করে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের চালকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনই এখন কার্যত জনশূন্য। বিক্রয়কর্মীদের বদলে পাম্পগুলোতে কেবল নিরাপত্তারক্ষীদের অলস সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্পের প্রবেশপথে দড়ি বা ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। তেলের খোঁজে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে অনেক চালককে রাস্তার পাশে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে তেলের ভয়াবহ সংকট থাকলেও হাতেগোনা কিছু পাম্পে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, যদিও সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তেলের অভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অনেক যাত্রীবাহী বাসকে অলস পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতেও সংকট তৈরি করেছে।
পাম্পে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চালকরা। গাজীপুরের এশিয়া ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসান জানান, সকাল থেকে চারটি পাম্প ঘুরেও তিনি এক লিটার তেল সংগ্রহ করতে পারেননি, যার ফলে কর্মস্থলে যাওয়া তাঁর জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একইভাবে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আরিফ আহমেদ জানান, গাড়িতে যেটুকু তেল আছে তা দিয়ে গ্যারেজে ফেরাও অসম্ভব। এমন অচল অবস্থায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও রাজধানীর বিমানবন্দর সংলগ্ন কয়েকটি পাম্পে তেলের মজুত থাকায় সেখানে কয়েকশ চালকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তাকর্মীদের।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট এড়াতে আজ রোববার থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নির্দিষ্ট যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ফিলিং স্টেশনগুলোকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সরকার জানিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির নতুন রেশনিং নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত কার বা গাড়ির ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল সরবরাহেও কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। মূলত গুজব প্রতিরোধ এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিপিসি সূত্রে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই রেশনিং ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—এই বলিষ্ঠ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ রোববার (৮ মার্চ) যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর অধিকার রক্ষা, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং সম্মানজনক সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করার দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করার লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই এবারের দিবসের মূল লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শেকড় প্রোথিত আছে শ্রমজীবী নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের গভীরে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা অমানবিক কর্মপরিবেশ, দৈনিক ১২ ঘণ্টার শ্রম কমিয়ে ৮ ঘণ্টা করা এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে প্রথমবারের মতো রাজপথে নামেন। সেই আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও নারীরা তাঁদের লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে যাননি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৬০ সালে গঠিত হয় ‘নারীশ্রমিক ইউনিয়ন’ এবং ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আবারও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাঁরা আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টার অধিকার আদায় করতে সক্ষম হন।
নারী শ্রমিকদের এই ঐতিহাসিক সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে দিনটি নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতীকী দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন শুরু করে এবং ১৯৭৭ সালে একে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে নারীর অবদানকে শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের অধিকার নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে।
বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল একটি উদযাপনের দিন নয়, বরং এটি সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নতুন অঙ্গীকারের দিন হিসেবে বিবেচিত। জাতিগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে নারীর অর্জনকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই দিনে। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা সভা, পদযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একটি সমৃদ্ধ দেশ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নারীর মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।
রমজানে অসাধু উপায়ে দ্রব্যমূল্য না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, পবিত্র রামজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বরকত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। এ মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।
ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির আরেকটি হচ্ছে যাকাত মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি আমার একটি পরিকল্পনার কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই যাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘জাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও জাকাত পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে... প্রতি বছর বাংলাদেশে এই যাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির জাকাত আদায় হয়ে গেলেও জাকাতের অর্থ দারিদ্র বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, জাকাত দাতাদের ইসলামী বিধান এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে যাতে একজন জাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর জাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে জাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘ইয়াতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ইয়াতিমের প্রতি ‘হক আদায়ে’র গুরুত্ব এবং ইয়াতিমদের নিয়ে আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং ইয়াতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদের একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যায় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।
আজ শনিবার, ছুটির দিনেও অফিস করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টানা তৃতীয় শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে অফিস করলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন কার্যালয়ে অফিস করেছেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ১২টায় কার্যালয়ে আসেন। এরপরই পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার।
এরপর দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, দেশের ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতারের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয় থেকে সেখানে যাবেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আসন্ন দিনগুলোতে তেলের তীব্র সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্ক থেকে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরেও রাজধানীর বিজয় সরণি, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত কয়েক লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আশিকুজ্জামান চয়ন নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে রাব্বি নামের আরেক চালক বলেন, তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন গুজবে তিনি বাধ্য হয়েই এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কারণ গাড়িতে তেল না থাকলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
এই অস্বাভাবিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিবার বা প্রতি ট্রিপে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২৫ লিটার, পিকআপের জন্য ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বড় ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২২০ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত তেলের মজুদ ঠিক রাখতে এবং সবার মাঝে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা একটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে এখনই দেশের বাজারে দাম না বাড়াতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধেই দ্বিগুণেরও বেশি দামে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীল করবেন না। বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং গুজব ছড়ানো রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার রেশ ধরে বাংলাদেশে যে জ্বালানি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
খামখেয়ালি নয়, স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই এগিয়ে যাবেন ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরা— এমনটাই জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় ও শেষ দিনের কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে কার্যকরী সংসদ উপহার দিতেই এ কর্মশালা। সংসদে যোগ দেওয়া নবীন সদস্যরা যেন মানসিক চাপ না নেন, সে লক্ষ্যেই এটির আয়োজন।
তিনি বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রথম ভাষণ দেবেন। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বিএনপি। নতুন সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। এ লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন, যার মধ্যে ১৪৬ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাবেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া একটি নাশকতা মামলায় সালাউদ্দীন আইয়ূবী (৪৫) নামে এক সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দীন আইয়ূবী হাটহাজারী উত্তর থানা শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সাদেক নগর গ্রামের মো. জানে আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, সালাউদ্দীন দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন।
হাটহাজারী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নাশকতার মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আত্মগোপনে বা প্রবাসে থাকায় পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে যৌথ বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে।
হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।