বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
পিটিআইকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

তিস্তা পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানে কাজ করবে অন্তর্বর্তী সরকার

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:৫২

তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য দূর করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করবে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় কোনো দেশেরই লাভ হচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি আজ শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবনে ভারতের সংবাদমাধ্যম দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের সমস্যাটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী সমাধান করা উচিত। বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর এ ব্যাপারে অধিকার রয়েছে।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিষয়টি (পানিবণ্টন) নিয়ে বসে থাকার ফলে এটি কোনো কাজে আসছে না। এমনকি পানির পরিমাণ নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে বিষয়টি সমাধান হতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির জন্য ভারতকে চাপ দেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাপ একটি বড় শব্দ। আমি এটা বলছি না। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়, অনেক পুরোনো সমস্যা। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় পাকিস্তান আমলে। আমরা সবাই চেয়েছিলাম এই চুক্তি হোক, এমনকি ভারত সরকারও এর জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমাদের এটি সমাধান করা দরকার।

‘সার্ক এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ, এটি কাজ করছে না’

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চেতনার পুনরুজ্জীবন হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, আট জাতির এ জোট আঞ্চলিক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। একটি মহৎ উদ্দেশ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ এবং এটি এখন কাজ করছে না। পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তিনি। এ মাসের শেষ দিকে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সার্ক রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও একটি ফটোসেশনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান ড. ইউনূস।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তিনি। এ মাসের শেষ দিকে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘নিশ্চয়ই, আমরা সাক্ষাতের চেষ্টা করব (ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি)। যদি সার্কের সব রাষ্ট্রপ্রধান একত্র হন ও ফটোসেশনে অংশ নেন, আমি চেষ্টা করব (তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের)। সার্ক এক মহৎ উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ এবং এটি এখন কাজ করছে না। আমরা সার্কের নাম ভুলে গেছি; আমি সার্কের চেতনার পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করছি।’

আঞ্চলিক এ জোটের সদস্যদেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের ৭৯তম এ অধিবেশন ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ড. ইউনূস বলেন, ‘দীর্ঘদিন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়নি। আমরা যদি একত্র হতে পারি, তবে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।’

২০১৬ সাল থেকেই খুব একটা কার্যকর নেই সার্ক। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এ জোটকে সক্রিয় করতে চেষ্টা চালাচ্ছে নেপাল। ওই বছর পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনা ফাঁড়িতে হামলার পর ভারত ওই সম্মেলনে যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে সম্মেলনটি বাতিল হয়ে যায়।

মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, সার্কের অনুরূপ লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এ জোট অনেক কিছু অর্জন করেছে। একই রকম অর্জন এখনো করতে পারেনি সার্ক।

এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশগুলো অনেক কিছু অর্জন করেছে। সার্কের কাজ করার বিষয়টি আমাদেরও নিশ্চিত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে তাকান, কত সুন্দরভাবে এটি কাজ করছে। পাকিস্তানকে নিয়ে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে অন্য পথ খুঁজে বের করা যেতে পারে; কিন্তু সার্কের কার্যক্রম অবশ্যই থামানো উচিত নয়।’

সার্কের দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় কাঠমান্ডুতে ২০১৪ সালে। এরপর ২০১৬ সাল থেকে এটি আর খুব কার্যকর নেই।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মিয়ানমারকে তার দেশের নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি করাতে ভারতের সহায়তা চাইবেন তিনি।

এ সংকট সমাধানে ভারত ও চীন- দুই দেশেরই সহায়তা ঢাকার প্রয়োজন বলেও ড. ইউনূস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ সংকট সমাধানে আমাদের ভারত ও চীনের সহায়তা দরকার। বাংলাদেশে ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা এসেছেন। এ জনগোষ্ঠীর আকার বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি মারাত্মক চাপ তৈরি করছে। কিছু দেশ তাদের গ্রহণ করছে; কিন্তু সেটি স্বল্প সংখ্যায়। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের যেহেতু সুসম্পর্ক আছে, তাই দেশটিকে নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি করাতে ভারতের সহায়তা আমাদের প্রয়োজন।’


নির্বাচিত

সার আমদানিনির্ভরতা কমাতে বন্ধ ৩ কারখানা চালুর উদ্যোগ সরকারের

ছবি: বন্ধ ৩ সার কারখানা।
আপডেটেড ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় তিনটি সার কারখানা আগামী নভেম্বরের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)।

সংস্থাটি আশা করছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সার আমদানিতে ব্যয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ আরও সহজ হবে।

বিসিআইসি সূত্র জানায়, সংস্থাটির অধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে চারটি চালু রয়েছে। গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংকটে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিএল) ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)। এসব কারখানা পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেরামতকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা-বাসসকে বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন চালু করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল পাওয়া গেলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

আমদানিনির্ভরতা কমাতে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার পুরোটা দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার আমদানি করতে হচ্ছে সরকারকে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা এবং বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিআইসি।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সার কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদন হয়েছে।

একই অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদিত ইউরিয়া দিয়ে জাতীয় চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের অবদান ছিল যথাক্রমে প্রায় ৯ দশমিক ১০ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এ পরিসংখ্যান থেকে বিশেষ করে ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বন্ধ টিএসপি ও ডিএপি কারখানা চালু করা গেলে এ দুই ধরনের সারের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে কারখানাগুলোর প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপর।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, দেশের সারের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৭৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো সহজ হবে।

তিনি বলেন, দেশের সব সার কারখানা চালু করে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

নভেম্বরের মধ্যে তিন কারখানা চালুর লক্ষ্য

বিসিআইসি সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করার প্রধান শর্ত হলো প্রয়োজনীয় পরিমাণে এবং নির্ধারিত চাপে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ। এ বিষয়ে গ্যাস সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ফসফরিক অ্যাসিডের ঘাটতি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় টিএসপি কমপ্লেক্সের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং প্ল্যান্টের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে কারখানাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। ডিএপি কারখানার উৎপাদনও ফসফরিক অ্যাসিডের স্বল্পতার কারণে বন্ধ রয়েছে।

বিসিআইসি আগামী নভেম্বরের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন পুনরায় শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি।

কারখানাগুলো চালু রাখার ক্ষেত্রে গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কারখানা চালু করলেই হবে না, উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য এসব ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। পর্যাপ্ত গ্যাস এবং নির্ধারিত চাপ না থাকলে ইউরিয়া কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য ফসফরিক অ্যাসিডসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন।

এ কারণে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বিসিআইসি।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, সার কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে গ্যাস ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। কারখানাগুলোর উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আমদানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য ও সরবরাহের ওঠানামার প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়তে পারে।

আধুনিকায়ন ও নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বিসিআইসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শুধু বন্ধ কারখানা চালু করাই নয়, বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে চায়।

এ লক্ষ্য অর্জনে পুরোনো প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউরিয়া ও টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

তবে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং কারখানাগুলোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় ও আমদানিকৃত সারের ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়। কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষি খাতে উৎপাদন উপকরণের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া কিংবা আমদানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে স্থানীয় উৎপাদন দেশের কৃষি খাতকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।

একই সঙ্গে সার আমদানিতে ব্যয় কমানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। তবে এ সুফল কতটা অর্জিত হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ, কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় উৎপাদনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর।

বিসিআইসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সার উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। এ জন্য বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। আগামী নভেম্বরের মধ্যে বন্ধ থাকা তিনটি কারখানা চালুর উদ্যোগ এবং আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


নির্বাচিত

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশি এই নাগরিকরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ইউজেড-২২২) তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আইওএম-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফিরে আসা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর উদ্দেশে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের অনেকেই মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি, অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।

বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর প্রতিনিধিরা তাদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় কর্মকর্তারা ফেরত আসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি করেন, যাতে সাধারণ মানুষ মানবপাচারকারীদের পাতা ফাঁদে আর পা না দেন।

প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক নাগরিককে বিমানবন্দরে আইওএম-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, জরুরি খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি যাদের তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের প্রয়োজন, তাদের জন্য সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বর্তমানে লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা অন্য অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।


নির্বাচিত

জননিরাপত্তায় আইজিপির বক্তব্য সময়োপযোগী: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়ন, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় সংগঠনটি। বিবৃতিতে সই করেছেন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মব কালচারের মধ্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আইন প্রয়োগে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্য প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তাঁদের মতে, আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করাই ওই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, পুলিশ আইন এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গলসহ প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানে পুলিশের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সুস্পষ্ট কাঠামো রয়েছে। এসব বিধানের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে নেতিবাচকভাবে দেখা এবং অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ পরিসংখ্যান পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে। পুলিশ সদস্যরা যাতে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুদৃঢ় আইনশৃঙ্খলা অপরিহার্য। জনগণ পুলিশের কাছে জানমালের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশা করে। তাই আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধা না করে দৃঢ়তা, পেশাদারত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।

অপরাধ দমনে পুলিশ আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার মূল ভিত্তি। আইজিপির বক্তব্যকে তাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।


নির্বাচিত

ফের এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই আবারও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে এলপিজির বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউশন ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে চার্জ বা মুনাফা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। এরপরও নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। এর মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন খরচ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতারা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এলপিজি কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করতে চায়। ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ডিস্ট্রিবিউটররা প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।

বিইআরসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি ও তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তবে শুনানি হলেই দাম বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাজারে এলপিজির দাম নিয়ে ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।’ ফলে একদিকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে আবারও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষের জেরে দেশব্যাপী দুই দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা দাবি করেন, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, গুদামভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। তাই কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।

গত ১৪ অক্টোবর বিইআরসির পক্ষ থেকে দাবিগুলো নিয়ে শুনানির আশ্বাস দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এলপিজির সরবরাহ নিয়ে সংকটের অভিযোগের মধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে।

বৃহস্পতিবারের (২৯ অক্টোবর) গণশুনানিতে কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে বিইআরসি। তবে ভোক্তাদের জন্য প্রশ্ন—নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত হবে কি না এবং নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে গ্যাসের দাম আরও বাড়বে কি না।


নির্বাচিত

মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ শিগগিরই : শ্রমমন্ত্রী

রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স রুমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক বলেছেন, শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে। এজন্য শ্রমিক নেতাদের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স রুমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড দ্রুত গঠনের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় সভায় মালিক, শ্রমিক ও সরকারপক্ষ একমত হয়েছে। মালিকপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করেছে। এখন শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, শ্রমিক নেতাদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলা হয়েছে। প্রতিনিধি পাওয়ার পর সরকারি ছুটি না থাকলে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে আরিফুল হক বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের পর এ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো কারণ থাকার কথা নয়। ত্রিপক্ষীয় সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের মধ্যে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে।

যেসব কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে, সেসব কারখানার শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিস্থিতি জটিল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের বাইরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের বিষয়ে শ্রমিক ও তাদের নেতারা কথা বলবেন, আর মালিকেরা তাদের নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে আলোচনা করবেন। এর বাইরে কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

কারখানাভিত্তিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কারখানার মধ্যেই আলোচনার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কারখানায় সমস্যা হলে সরকার, মালিকপক্ষের সংগঠন ও শ্রমিক নেতারা সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে প্রয়োজনে দিনরাত আলোচনা করতে প্রস্তুত সরকার।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পকারখানা সচল রাখা জরুরি। শিল্প খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকলে শ্রমিকদের বেতন ও মজুরি নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রয়োজন কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।


নির্বাচিত

জাপানে ‘নিটসু লজিস্টিকস হাব’ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত ‘নিটসু লজিস্টিকস হাব’ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এ পরিদর্শনে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলাম এবং গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া পররাষ্ট্রসচিব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, স্বাভাবিক হচ্ছে সরবরাহ

আকস্মিক কারিগরি জটিলতার কারণে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আকস্মিক কারিগরি জটিলতার কারণে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাধিক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটার পরপরই তা দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করেন। এর ফলে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ অঞ্চলে সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, সেখানেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

অপ্রত্যাশিত এই কারিগরি বিভ্রাটের কারণে সম্মানিত গ্রাহকদের যে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে, সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জ্বালানি খাতে বিগত ১৭ বছরের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাশুল দিতে হচ্ছে সরকারকে : জ্বালানিমন্ত্রী

রকার চতুর্মুখী সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি সহজে বুঝতে চাইছে না
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে জ্বালানি কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র আর্থিক ঘাটতি ও অবিরাম রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার চতুর্মুখী সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি সহজে বুঝতে চাইছে না। মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ খাতের গভীর আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ এমন এক বোঝায় পরিণত হয়েছে যে সেখানে হাত দিলেই ঋণদাতা ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ছুটে আসবে। কেন্দ্রগুলো উৎপাদনহীন বসে থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। কাতারের ওপর এলএনজি আমদানির একক নির্ভরশীলতা এবং সেখানে বোমাবর্ষণের কারণে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা তরলীকৃত গ্যাস সংকটকালে ৩০ ডলারে কিনতে হয়েছে। ফলে ভর্তুকি দিয়ে কোনোমতে সরবরাহ চালু রাখলেও কাঙ্ক্ষিত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম গ্রামাঞ্চলে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করতে দুই-তিন দিন সময় লেগে যাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ডেপুটি স্পিকার পর্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের কথার ফুলঝুরি পেরিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করেছে এবং সৌরবিদ্যুতের সমস্ত সরঞ্জাম আমদানি শুল্কমুক্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিশেষ আইনটি আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে তোলা হবে। তবে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডের আধুনিকায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, পারমাণবিক, জীবাশ্ম ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি একসঙ্গে সঞ্চালনের মতো উপযুক্ত সক্ষমতা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) এখনও গড়ে ওঠেনি। এ জটিল পরিস্থিতি উত্তরণে সবার সার্বিক সহযোগিতা পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।

বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী দাবি করেন, নিজস্ব ভূগর্ভে বিপুল গ্যাস সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিগত ১৭ বছরে কার্যকর কোনো নতুন কূপ খনন করা হয়নি। সেই অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার চরম মাশুল দেশকে আরও ৫০ থেকে ৬০ বছর দিতে হবে। তিনি জানান, ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় উৎপাদন ব্যবস্থার ৬৫ শতাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রাখার রূপরেখা থাকলেও বিগত সময়ে বাণিজ্যিক মুনাফার উদ্দেশ্যে তা পাল্টে ৭০ শতাংশ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর দল জোর করে ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি করে না। প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের পরিস্থিতি নিয়মিত এমআইএসের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সামান্য বিভ্রাটের খবর পেলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তলব করে দায়ীদের চিহ্নিত করছেন।

অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সন্ধিক্ষণে অর্থনীতিকে সচল রাখতে নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ অপরিহার্য। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির উল্লেখ করেন, দেশের ৯৬ শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় আমদানির কারণে তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জেটনেট-বিডি ও আইইএসডির যৌথ উদ্যোগে ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবে সহস্রাধিক তরুণ, নারী, গবেষক ও নাগরিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বিইপিআরসি, বিআইআইএসএস, বিএসআরইএ, সি৩ইআর, গ্রিনারি এনার্জি, আইইইএফএ, অক্সফাম এবং দ্য আর্থ সোসাইটির অংশীদারত্বে এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি নীতি প্রণয়নে ঐক্যবদ্ধ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।

বিষয়:

নির্বাচিত

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।'

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।'

এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়৷

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।'

জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান।

এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সবপক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।'

যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।'

দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, "বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করেছে, সেই বিবেচনায় স্বাস্থ্যখাতে অগ্রযাত্রা অনেক ভালো হচ্ছে। তবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।"

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাহীনতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির করাল গ্রাসে দেশের স্বাস্থ্যখাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি স্পর্শ করতে পারেনি। চিকিৎসাসেবার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোকে অধিকতর শক্তিশালী রূপ দিতে চলমান সংকটগুলো দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সরকারি বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রশাসন চিকিৎসা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তহবিল বণ্টন করেছে। তবে কেবল আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোই শেষ কথা নয়; ব্যয়িত প্রতিটি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার কাম্য। রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথার্থতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারলে সাধারণ মানুষ আরো উন্নত মানের সেবা ভোগ করতে পারবে।

আর্থিক অসচ্ছলতার অজুহাতে কোনো নাগরিক যেন ন্যুনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে চিকিৎসা গভীর সম্পর্কযুক্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাউকে যেন অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

দেশের অভ্যন্তরেই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধি বিস্তারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার প্রত্যাশায় নাগরিকদের যাতে অনাবশ্যকভাবে বিদেশে ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যে দেশীয় চিকিৎসা পরিকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষায়িত অবকাঠামো রূপায়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরি এবং যুগোপযোগী চিকিৎসা কৌশলের সম্প্রসারণের মাধ্যমেই সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার মানকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

কোলন ও রেক্টাল সার্জারিসহ আধুনিক চিকিৎসাক্ষেত্রে পারদর্শী বিশেষজ্ঞ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তরুণ প্রজন্মের সার্জনদের প্রতি গভীর আস্থা জ্ঞাপন করেন। তাঁর বিশ্বাস, উদীয়মান তরুণ চিকিৎসকদের নেতৃত্বেই এ দেশের স্বাস্থ্যসেবা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং সাধারণের দোরগোড়ায় উন্নত সেবা নিশ্চিত হবে।

চিকিৎসক সমাজের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মঞ্চ হিসেবে ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর মতো সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। এই ধরনের পেশাগত আয়োজন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি, বিশেষায়িত শল্যচিকিৎসার বিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অনন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম।


নির্বাচিত

দেশে ফিরলে মব নয়, ন্যায়বিচার পাবেন শেখ হাসিনা: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কোনো প্রকার মব বা উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না এবং প্রতিহিংসার বদলে আইনের শাসনের মাধ্যমেই তাঁর বিচার সম্পন্ন হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে, তবে প্রত্যাবর্তনের পর কোনো বেআইনি আচরণ নয় বরং সম্পূর্ণ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কোনো প্রকার মব বা উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না এবং প্রতিহিংসার বদলে আইনের শাসনের মাধ্যমেই তাঁর বিচার সম্পন্ন হবে। সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিবিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি আসবেন, আমরা হ্যাপি। আমাদের তাহলে ধরে বেঁধে আনতে হলো না, উনি আসলেন। উনি আসলে উনি বিচারের মুখোমুখি হবেন। উনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আসার পর লিগাল প্রসেসে যা যা হওয়ার, তাই হবে।’ আগামী ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চর্চা চলছে; ফলে ভিত্তিহীন অনুমান ও রাজনৈতিক জল্পনা নিয়ে বারবার জনপরিসরে আলোচনা না করাই সমীচীন।

আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা তুলে ধরে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটলিস্ট ১৮ বছর পরে। তবে হ্যাঁ, উনি দেশে ফিরে আসলে ন্যায়বিচার ফেস করবেন। উনি কোনো মব ফেস করবেন না, উনি কোনো রকম কোনো বেআইনি কিছু ফেস করবেন না।’ এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার দিয়ে উনার বিরুদ্ধে যে আমাদের প্রতিশোধগুলি, সেটা ন্যায়বিচার দিয়ে। উনি ন্যায়বিচার করেন নাই, আমরা ন্যায়বিচার করে সেটা করব। আসুক, উনাকে ধন্যবাদ, উনাকে ওয়েলকাম করি।’

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে ঢাকার অবস্থান পূর্বের মতোই অনড় ও পরিষ্কার। মূলত এই অমীমাংসিত সংকটের কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরটি আটকে রয়েছে। পাশাপাশি ভারতে বসে ওয়াশিংটন ডিসির প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া তাঁর বক্তব্যকেও ঢাকা কোনোভাবেই ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক অন্যান্য বিষয় টেনে তথ্য উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) মূল্যবৃদ্ধি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে এখন থেকে ফুটপাতের পিঠাপুলি ও ভাজাপোড়াসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সোলার এক্সপোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীর চলমান টোকিও সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এ সফরটি বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতে বৃহৎ জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এর প্রভাবে দেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে একই অঞ্চলে অবস্থান করছে। বর্তমান গতিপ্রকৃতি বজায় থাকলে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যমান আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিচরণরত সব মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র এই ঘূর্ণিবায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল ও বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিপথ সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জরুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখার পাশাপাশি উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিয়মিত সরকারি নির্দেশনার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর আজ স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার নির্ধারিত শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া তাঁরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি।

এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর উভয়ে শীর্ষ বৈঠকে বসেন।

সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close