তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য দূর করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করবে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় কোনো দেশেরই লাভ হচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি আজ শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবনে ভারতের সংবাদমাধ্যম দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের সমস্যাটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী সমাধান করা উচিত। বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর এ ব্যাপারে অধিকার রয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিষয়টি (পানিবণ্টন) নিয়ে বসে থাকার ফলে এটি কোনো কাজে আসছে না। এমনকি পানির পরিমাণ নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে বিষয়টি সমাধান হতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির জন্য ভারতকে চাপ দেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাপ একটি বড় শব্দ। আমি এটা বলছি না। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়, অনেক পুরোনো সমস্যা। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় পাকিস্তান আমলে। আমরা সবাই চেয়েছিলাম এই চুক্তি হোক, এমনকি ভারত সরকারও এর জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমাদের এটি সমাধান করা দরকার।
‘সার্ক এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ, এটি কাজ করছে না’
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চেতনার পুনরুজ্জীবন হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, আট জাতির এ জোট আঞ্চলিক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। একটি মহৎ উদ্দেশ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ এবং এটি এখন কাজ করছে না। পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তিনি। এ মাসের শেষ দিকে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সার্ক রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও একটি ফটোসেশনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান ড. ইউনূস।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তিনি। এ মাসের শেষ দিকে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘নিশ্চয়ই, আমরা সাক্ষাতের চেষ্টা করব (ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি)। যদি সার্কের সব রাষ্ট্রপ্রধান একত্র হন ও ফটোসেশনে অংশ নেন, আমি চেষ্টা করব (তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের)। সার্ক এক মহৎ উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ এবং এটি এখন কাজ করছে না। আমরা সার্কের নাম ভুলে গেছি; আমি সার্কের চেতনার পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করছি।’
আঞ্চলিক এ জোটের সদস্যদেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের ৭৯তম এ অধিবেশন ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ড. ইউনূস বলেন, ‘দীর্ঘদিন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়নি। আমরা যদি একত্র হতে পারি, তবে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।’
২০১৬ সাল থেকেই খুব একটা কার্যকর নেই সার্ক। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এ জোটকে সক্রিয় করতে চেষ্টা চালাচ্ছে নেপাল। ওই বছর পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনা ফাঁড়িতে হামলার পর ভারত ওই সম্মেলনে যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে সম্মেলনটি বাতিল হয়ে যায়।
মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, সার্কের অনুরূপ লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এ জোট অনেক কিছু অর্জন করেছে। একই রকম অর্জন এখনো করতে পারেনি সার্ক।
এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশগুলো অনেক কিছু অর্জন করেছে। সার্কের কাজ করার বিষয়টি আমাদেরও নিশ্চিত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে তাকান, কত সুন্দরভাবে এটি কাজ করছে। পাকিস্তানকে নিয়ে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে অন্য পথ খুঁজে বের করা যেতে পারে; কিন্তু সার্কের কার্যক্রম অবশ্যই থামানো উচিত নয়।’
সার্কের দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় কাঠমান্ডুতে ২০১৪ সালে। এরপর ২০১৬ সাল থেকে এটি আর খুব কার্যকর নেই।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মিয়ানমারকে তার দেশের নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি করাতে ভারতের সহায়তা চাইবেন তিনি।
এ সংকট সমাধানে ভারত ও চীন- দুই দেশেরই সহায়তা ঢাকার প্রয়োজন বলেও ড. ইউনূস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ সংকট সমাধানে আমাদের ভারত ও চীনের সহায়তা দরকার। বাংলাদেশে ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা এসেছেন। এ জনগোষ্ঠীর আকার বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি মারাত্মক চাপ তৈরি করছে। কিছু দেশ তাদের গ্রহণ করছে; কিন্তু সেটি স্বল্প সংখ্যায়। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের যেহেতু সুসম্পর্ক আছে, তাই দেশটিকে নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি করাতে ভারতের সহায়তা আমাদের প্রয়োজন।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রশাসনিক ও আভিযানিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের ছয়জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সোমবার (৬ জুলাই) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। এই রদবদল অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে কর্মরত মো. আমীর খসরুকে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগ থেকে দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরীকে সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের মো. শাহজাহান হোসেনকে ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বদলির তালিকায় আরও রয়েছেন ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগের মো. আনোয়ার সাঈদ, যাঁকে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গোয়েন্দা-গুলশান বিভাগের মো. শাহরিয়ার আলীকে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে এবং মো. রবিউল হাসানকে ডিএমপির লজিস্টিকস বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলায় এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাজের সমন্বয় বাড়াতে কমিশনারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনস্বার্থে জননিরাপত্তা বিধান করাই এই বদলির মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই রদবদল কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সোমবারের এই বৈঠকে মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়নে বেইজিংয়ের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করেন।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি ‘এনএসআই’ (NS1) পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সরকারি সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে কোনো খরচ ছাড়াই পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না। মূলত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং অকাল মৃত্যু রোধ করতেই সরকার এই ব্যয়বহুল পরীক্ষার ফি মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এনএসআই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই সরকারি পদক্ষেপের ফলে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন, যা ডেঙ্গুজনিত জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মনে করছেন এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সেবাটি যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এছাড়া 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজতর করার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের কার্যকর সহায়তার প্রশংসা করেন। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জাতিসংঘের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, বাংলাদেশ 'উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মিশন এলাকাগুলোতে নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে জাতিসংঘের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাইতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই ইউনিটগুলো সোয়াত, সাইবার ক্রাইম তদন্ত এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।
হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন এবং আগামী ১৫-১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ আলোচনার জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অবস্থান করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য আরও ত্বরান্বিত হবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্যা ও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও জাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানিও স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে সেখানেও আপাতত বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।
রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, এরপর আবার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরায় ৭৭ মিলিমিটার, মাওসিনরামে ৬৯ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৫৭ মিলিমিটার এবং মাওফ্ল্যাংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল না বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে সংস্থাটি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), বেলা ১১টায় ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং সাড়ে ১১টায় পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নিজের স্কুলজীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বর্তমানে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।’
তিনি বলেন, এর ফলে অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
তিনি বলেন, শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
তিনি আরো বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরা একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও দেশব্যাপী উদযাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি-২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা-উপধারা সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের চলার পথে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ ও ধৈর্যের সঙ্গে শোনেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার পরিবারেই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেও তাদের প্রতি শোভন আচরণ করা উচিত। গ্রাম কিংবা শহর-সব জায়গাতেই ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা কাম্য নয়। দেশের অধিকাংশ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা সবার শেষে খাবার খান, সবার পরে ঘুমাতে যান এবং সবার আগে ঘুম থেকে ওঠেন। পরিবারের জন্য তারা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে নিরলসভাবে কাজ করেন। তাই তাদের প্রতি কোনো ধরনের অশোভন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীরা সামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সবাই মিলে এ বিষয়ে কাজ করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কন্যাসন্তানের জনক। কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত ও আইনগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনসমূহকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাক্ষাৎকালে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে তার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় উভয় পক্ষ নারী ও কন্যাশিশুর সার্বিক কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি, মিটার ভাড়া এবং প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন দিক নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সোমবার এই বক্তব্য দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানে বিতরণ সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তিনি নিজে এটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জুন ২০২৬ থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর করেছে। তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগের হার বহাল রাখা হয়েছে। মূল্য সমন্বয়ের ফলে একই পরিমাণ অর্থ রিচার্জের বিপরীতে আগের চেয়ে কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেক গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব গ্রাহক দাবি করছেন অতীতে একই ব্যবহারে কম বিল আসত, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন যে—এই মিটারগুলো পূর্ববর্তী মাসগুলোতেও একই গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিমাপ করেছে। মিটারে কোনো কারিগরি ত্রুটি থাকলে তা নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই হঠাৎ শুরু হওয়ার সুযোগ নেই। অতএব, বিল বৃদ্ধির মূল কারণ মিটারের ত্রুটি নয়, বরং নতুন ট্যারিফ হারের প্রভাব।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টিপাত কম হওয়া, ঈদুল আযহা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি পরীক্ষার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাসাবাড়িতে এসি, ফ্যান, ফ্রিজের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক গ্রাহক সর্বোচ্চ ট্যারিফ স্ল্যাবে (৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে) পৌঁছে গেছেন, যা বিল বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে কিছু দাপ্তরিক ভুল পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ প্রতিকার দেয়া হচ্ছে।
মিটার ভাড়া নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিতরণ সংস্থাগুলো এককালীন মূল্য পরিশোধ বা কিস্তিতে মিটার সরবরাহ করে। যারা এককালীন মূল্য পরিশোধ করেছেন, তাদের থেকে কোনো কিস্তি নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র কিস্তিতে মিটার নেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা কিস্তি নেওয়া হয়। চারটি সংস্থা গ্রাহকদের বাজার থেকে অনুমোদিত প্রিপেইড মিটার কেনার সুযোগও দিচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মিটার ভাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বিলম্বে বিল পরিশোধের জরিমানা প্রসঙ্গে জানানো হয়, পূর্বে ২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বিলম্ব মাশুল ধরা হলেও বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে মোট বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে এককালীন একবারই বিলম্ব মাশুল নেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ আশ্বস্ত করেছে, অধিকাংশ অভিযোগ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ পুনরায় আশ্বস্ত করতে চায়, জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যুৎ খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধুমাত্র গ্রাহকের মন্তব্যের উপর নির্ভর না করে সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরগণ বিদ্যুৎ বিল, মিটার ভাড়া ইত্যাদি সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান পর্যালোচনা ও বিল যাচাই করে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারলে তা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একটি স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
পরিশেষে, গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে বিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষতি করলে তা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়াবে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গত জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। একইসঙ্গে অস্বস্তি কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতেও। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবিএসের সবশেষ তথ্য বলছে, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে, গত মে মাসে যেটি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অস্বস্তি কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও। জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। মে মাসে যেটি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ।
এদিকে মে মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থাকলেও জুন মাসে সেটি কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।
এছাড়া জুন মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
জুন মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
দেশের সব মাদ্রাসায় দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে যেসব মাদ্রাসায় শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দিতে এবং শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সোমবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল পর্যায়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াচর্চার সম্প্রসারণে বদ্ধপরিকর।
এতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসার শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলার আয়োজন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।
এ ছাড়া যেসব মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদ শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে খেলাধুলায় পারদর্শী ও উপযুক্ত একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী শূন্য পদ দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক সংকটের জের ধরে বাংলাদেশে চলতি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত বিশেষজ্ঞরা।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যমান সব সমস্যার মূল উৎস এই যুদ্ধ। তবে এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ বসে নেই। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনা এবং অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সাথে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তিসহ বিকল্প উৎসগুলো অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
দেশের জন্য যে অপশনটি সবচেয়ে অনুকূল বাণিজ্যিক শর্ত দেবে, সেটিই বেছে নেওয়া হবে। কাতারএনার্জি অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ কমালেও তারা যথাসম্ভব জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করবে।
গত বছর বাংলাদেশের আমদানিকৃত প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজির মধ্যে ৪১.৫ লাখ টনই এসেছে কাতার থেকে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে। কাতার এনার্জির সাথে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, যার একটির আওতায় বার্ষিক ২৫ লাখ টন এবং অন্যটির আওতায় ১৮ লাখ টন এলএনজি পাওয়ার কথা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ কাতার থেকে ১৯টি কার্গো এলএনজি পেয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে আর কোনো কার্গো আসেনি।
বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক খালি এলএনজি ট্যাঙ্কার এই প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হতে পেরেছে। কাতার থেকে কিছু কার্গো এই প্রণালী পার হতে পারলেও তার কোনোটিই বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।
যার ফলে, অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা মেটাতে গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে রেকর্ড ৩৫টি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে বাধ্য হয়েছে। কাতার এনার্জির এই সাময়িক সরবরাহ হ্রাসের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘দেশের রাজনীতিকে যদি অর্থনীতিবান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাণিজ্যের উন্নয়নসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কেবল তাত্ত্বিক তর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে। যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনাকে জনগণের কল্যাণে রূপান্তর করতে হলে একটি রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।’
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর দেশের সামনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা কমবে না; বরং বাড়বে। সরকার ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এই উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ জানিয়েছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো এই বর্ধিত সময়কে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতিবান্ধব রাজনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে আমাদের বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ হয়তো কম, কিন্তু অন্যান্য রপ্তানি গন্তব্যে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই বর্ধিত তিন বছরের মধ্যে আমাদের নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা পথনকশা তৈরি করতে হবে।’
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের মানবসম্পদকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কল্যাণে রাজনীতির অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামত করা।’
র্যাপিডের এই কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামতগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগ ও শাস্তির বিধান কার্যকর রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর সহযোগিতায় The Enforced Disappearance Prevention and Redress Act, 2026 এবং The National Human Rights Commission Act, 2026-এর খসড়া বিষয়ে কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শাস্তির বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বহু মানুষ স্বজন হারিয়েও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাবা, ভাই কিংবা বোনের হত্যার বিচার পেতে অনেককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক মতামতকে সরকার স্বাগত জানায়। আইন ও নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অবদানেরও তিনি প্রশংসা করেন।
সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার, ইউএনএইচসিএইচআরের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইফতেখার সৈয়দ আলী, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লইস বারবার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংসহ কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।