তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য দূর করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করবে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় কোনো দেশেরই লাভ হচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি আজ শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবনে ভারতের সংবাদমাধ্যম দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের সমস্যাটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী সমাধান করা উচিত। বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর এ ব্যাপারে অধিকার রয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিষয়টি (পানিবণ্টন) নিয়ে বসে থাকার ফলে এটি কোনো কাজে আসছে না। এমনকি পানির পরিমাণ নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে বিষয়টি সমাধান হতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির জন্য ভারতকে চাপ দেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাপ একটি বড় শব্দ। আমি এটা বলছি না। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়, অনেক পুরোনো সমস্যা। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় পাকিস্তান আমলে। আমরা সবাই চেয়েছিলাম এই চুক্তি হোক, এমনকি ভারত সরকারও এর জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমাদের এটি সমাধান করা দরকার।
‘সার্ক এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ, এটি কাজ করছে না’
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চেতনার পুনরুজ্জীবন হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, আট জাতির এ জোট আঞ্চলিক অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। একটি মহৎ উদ্দেশ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ এবং এটি এখন কাজ করছে না। পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তিনি। এ মাসের শেষ দিকে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সার্ক রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও একটি ফটোসেশনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান ড. ইউনূস।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন তিনি। এ মাসের শেষ দিকে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘নিশ্চয়ই, আমরা সাক্ষাতের চেষ্টা করব (ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি)। যদি সার্কের সব রাষ্ট্রপ্রধান একত্র হন ও ফটোসেশনে অংশ নেন, আমি চেষ্টা করব (তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের)। সার্ক এক মহৎ উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ এবং এটি এখন কাজ করছে না। আমরা সার্কের নাম ভুলে গেছি; আমি সার্কের চেতনার পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করছি।’
আঞ্চলিক এ জোটের সদস্যদেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের ৭৯তম এ অধিবেশন ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ড. ইউনূস বলেন, ‘দীর্ঘদিন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়নি। আমরা যদি একত্র হতে পারি, তবে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।’
২০১৬ সাল থেকেই খুব একটা কার্যকর নেই সার্ক। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এ জোটকে সক্রিয় করতে চেষ্টা চালাচ্ছে নেপাল। ওই বছর পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনা ফাঁড়িতে হামলার পর ভারত ওই সম্মেলনে যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে সম্মেলনটি বাতিল হয়ে যায়।
মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, সার্কের অনুরূপ লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এ জোট অনেক কিছু অর্জন করেছে। একই রকম অর্জন এখনো করতে পারেনি সার্ক।
এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশগুলো অনেক কিছু অর্জন করেছে। সার্কের কাজ করার বিষয়টি আমাদেরও নিশ্চিত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে তাকান, কত সুন্দরভাবে এটি কাজ করছে। পাকিস্তানকে নিয়ে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে অন্য পথ খুঁজে বের করা যেতে পারে; কিন্তু সার্কের কার্যক্রম অবশ্যই থামানো উচিত নয়।’
সার্কের দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় কাঠমান্ডুতে ২০১৪ সালে। এরপর ২০১৬ সাল থেকে এটি আর খুব কার্যকর নেই।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মিয়ানমারকে তার দেশের নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি করাতে ভারতের সহায়তা চাইবেন তিনি।
এ সংকট সমাধানে ভারত ও চীন- দুই দেশেরই সহায়তা ঢাকার প্রয়োজন বলেও ড. ইউনূস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ সংকট সমাধানে আমাদের ভারত ও চীনের সহায়তা দরকার। বাংলাদেশে ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা এসেছেন। এ জনগোষ্ঠীর আকার বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি মারাত্মক চাপ তৈরি করছে। কিছু দেশ তাদের গ্রহণ করছে; কিন্তু সেটি স্বল্প সংখ্যায়। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের যেহেতু সুসম্পর্ক আছে, তাই দেশটিকে নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি করাতে ভারতের সহায়তা আমাদের প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে তিনি নিজের সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ দিক এবং সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত নানাবিধ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাঁরা দেশের বিরাজমান সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, একান্ত বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিস্তারিত রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সাধুবাদ জানান রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে উভয় রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হবে।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও একান্ত সচিব-২-সহ বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পোশাক খাতের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চক্রান্ত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা কেবল আসন্ন ডিসেম্বরকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই এমন ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যেকোনো মূল্যে এসব অপচেষ্টা সরকার রুখে দেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ শ্রমিকদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনা করা হলেও শ্রমিকদের বাস্তব সংকটের কথা বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির ইতিবাচক সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে রাজপথে যে সহিংস রূপ দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই সাধারণ মেহনতি শ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না দাবি করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান অনুযায়ী এ ধরনের নৈরাজ্যের নেপথ্যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা ইন্ধন রয়েছে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, একটি সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে নেমে কোনো কিছু করার সক্ষমতা দলটির আর অবশিষ্ট নেই। তবে তাদের কাছে সঞ্চিত থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থের জোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, ডিসেম্বরের সাথে এই তৎপরতার সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হলেও শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে।
আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কৌশল প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে অতীতের মতো বলপ্রয়োগ বা দমনপীড়নের মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে চায় না। রাজপথে থাকা তরুণরাও দেশের নাগরিক উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব সীমিত রেখে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমাধানের পথে এগোচ্ছে প্রশাসন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে নির্মম চর্চা ছিল, তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে পুলিশকে আইনানুগ ও সংঘাতের মাত্রা অনুযায়ী ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় ফিরে আসুন কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে ফেরত আনা হোক—সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাঁকে দেশের মাটিতে এনে বিচারের মুখোমুখি করা। তবে এ মুহূর্তে তাঁর পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যুর বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তৈরি পোশাক শিল্পে বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো অপতৎপরতা অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো কোনো মহল গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিয়ে কারখানা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চিংড়িমহাল ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার জন্য কেউ কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
উৎপাদন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এসব কারখানা খুব শিগগিরই খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কিছু দুষ্কৃতকারী হামলার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের যেসব দাবি-দাওয়া ছিল, সেগুলো পূরণ করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে এবং শ্রমিকেরাও সন্তুষ্ট হয়েছেন।’
তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাতের শ্রমিকনেতা এবং কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছে। গঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় দর-কষাকষি অনুষ্ঠিত হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হয়, এমন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকারও বোর্ডের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে বোর্ডেই আলাপ-আলোচনা হবে।’
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অসন্তোষের যৌক্তিক অবকাশ নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল এই অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমরা এটা কঠোর হস্তে দমন করব।’
জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত এলিজা জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পান ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এলিজা জামান। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলে সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করে এবং এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করে। উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় শূন্য হওয়া আসনটিতে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন।
তিনি আজ সকালে আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনীটি ঘুরে ঘুরে দেখেন।
এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) প্রথমবারের মতো যৌথভাবে এ সোলার এক্সপোর আয়োজন করেছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিত করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
এর আগে সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রদর্শনীতে সরকারি প্রণোদনা, আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
আসন্ন বছরে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, খরচও কমাতে চায় সরকার।’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। প্রদর্শনীটির উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্বে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা কিংবা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে সময় নষ্ট করার পরিবর্তে আমি মনে করি, আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায়, বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, বর্তমান সরকারের কাছে সেটাই অগ্রাধিকার।’
উক্ত সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ অংশ নেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ বাসভূমে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা, বৈশ্বিক জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগ এবং জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় জোটভুক্ত দেশগুলোকে সম্মিলিত পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টিগুয়ায় (এইউএ) অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের (সিএফএএমএম) বিশেষ রিট্রিট অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ তাগিদ দেন।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানের জটিল ও পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় শান্তি-শৃঙ্খলা সুদৃঢ় রাখা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রুখতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে যুগোপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর বাস্তব রূপায়ণের ওপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন দৃঢ় করতে পারস্পরিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর একটি কার্যকর ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির পুনর্ব্যক্ত করেন যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও অধিকারভিত্তিক প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ রাজনৈতিক সমর্থন অত্যন্ত অপরিহার্য। উল্লেখ্য, ১ থেকে ৪ নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় আয়োজিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে (সিএইচওজিএম) বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।
এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ সোলার এক্সপোর আয়োজন করেছে। সূত্র: বাসস
রান্নার গ্যাসের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই ভোক্তাদের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানেই ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে এখন থেকে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হবে ২ হাজার ৬০ টাকা। আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে নতুন এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্য নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, আগের নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি বিক্রির অভিযোগ ছিল। ফলে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুই মাসে বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা: এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাত্র দুই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। গত সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবরে তা ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। নভেম্বরের শুরুতে নতুন করে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে রান্নার গ্যাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।
কমিশন বাড়ানোর প্রভাব: বিইআরসির নতুন মূল্য সমন্বয়ে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দর নয়, সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কমিশনও বাড়ানো হয়েছে। আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধিও চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে শুধু সিলিন্ডার গ্যাস নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু সংকটের অভিযোগ: এলপিজির দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি দাম ৬৪ ডলার বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি কোম্পানি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দেয়। নতুন দামে বিক্রির উদ্দেশে তারা হাজার হাজার টন গ্যাস মজুত করে রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আমদানির পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকায় বাজারে সরবরাহ সংকটের যৌক্তিক কারণ থাকার কথা নয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার তথ্যের পরও বাজারে সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগে নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ভোক্তারা জিম্মি হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি গ্যাসের দামে বড় ব্যবধান: গত ২৯ অক্টোবর এলপিজির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দামের বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেসরকারি ১২ কেজির সিলিন্ডার যেখানে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় বিক্রির কথা, সেখানে সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা। অথচ বাজারে সরকারি গ্যাসের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিয়েও ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দামের এই বড় ব্যবধান বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি: এর আগেও এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খাতটিতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সে সময় আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না থাকলে বাজারে অসাধু চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বেসরকারি এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়েছিল, সৌদি আরামকোর ঘোষিত আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির ভিত্তিমূল্য সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে গণশুনানির মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।
সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করে আসছে কমিশন। তবে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত দামে বিক্রি কার্যকর করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের অস্থিরতা মিলিয়ে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের পর শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে। নবগঠিত বোর্ডের প্রথম সভা শিগগিরই হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণ এবং রুটি-রুজির স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। কোনো শিল্পকারখানা যেন বন্ধ না থাকে এবং কোনো শ্রমিক যেন কর্মহীন হয়ে না পড়েন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
দ্রুত কার্যক্রম শুরু করবে মজুরি বোর্ড: শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে।
বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং স্বতন্ত্র সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন।
বোর্ডটি পোশাকশিল্পের বিভিন্ন গ্রেডের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নাম পাওয়ার পর দ্রুত বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিকদের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরার জন্য মজুরি বোর্ডই যথাযথ জায়গা। তাই উৎপাদন বন্ধ, সড়ক অবরোধ কিংবা সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা উচিত।
ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি চূড়ান্তের প্রত্যাশা: নবগঠিত মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন। সরকার দ্রুত বোর্ড গঠন করায় এখন শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
নতুন মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্কের প্রস্তাব রয়েছে। কেউ ২৭ হাজার, কেউ ৩০ হাজার, কেউ ৩২ হাজার আবার কেউ ৩৭ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে প্রতিনিধিরা বোর্ডে জোরালো দাবি তুলবেন। তবে উৎপাদন সচল রেখেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, সংশোধিত মজুরি কাঠামো আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস, টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ মাসিক ন্যূনতম মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত বৈঠক আয়োজন এবং আলোচনার মাধ্যমে নতুন মজুরি নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
কাজে ফিরছেন সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিকরা: মজুরি বোর্ড গঠনের সরকারি উদ্যোগে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে। শ্রমিকনেতারাও নতুন বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায়ের আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজয়নগরের শ্রম ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিনিধিরা কাজ করবেন। তাই শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে তাদের কর্মসংস্থানই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আখতারও কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ সময়োপযোগী। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনার উদ্যোগ শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সহিংসতায় বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ: সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে প্রবেশ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও কারখানায় ভাঙচুরের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সম্পর্ক নেই। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ ও অন্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ শ্রমিক বা শ্রমিকনেতা গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে তাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান।
শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান এবং পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
উৎপাদন সচল রাখার ওপর গুরুত্ব: সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন সুখবর আসছে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য। মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামোগত ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনের পথ আরও সুগম হলো।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সংশোধনী আনা হয়েছে এবং সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংশোধিত বিধিমালায় যা থাকছে এক লাইনে লেখার সুযোগ: প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক লাইনে লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহার করা যাবে। বিআরটিএকে ক্ষমতা প্রদান প্রসঙ্গে যা থাকছে, মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার, অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম ও যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের আকার নির্ধারণের ক্ষমতা বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।
পরিমাপ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন সংশোধন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ নম্বরপ্লেটের চুম্বক অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানের দৈর্ঘ্য এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে পারবে। হঠাৎ করে কেন এই সংশোধন তা বিস্তারিত তুলে ধরেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। অনেক মডেলের ক্ষেত্রে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন ছিল। এই বাস্তব অসুবিধা দূর করতেই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করা হলো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার কারণে সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণে সামনের নম্বরপ্লেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
তবে কোনো ধরনের মোটরসাইকেলে কী আকারের ও বিন্যাসের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে বিআরটিএ’র পরবর্তী নির্দেশনা দেবে বলে জানা যায়।
২০২৭ সালের জন্য সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৭ সালের জন্য অনুমোদিত সরকারি ছুটির তালিকায় জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি রাখা হয়েছে। তবে এই ১৫ দিনের মধ্যে চার দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার)। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ ও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আরও ১৪ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটি (একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার) রয়েছে।
ফলে ১৫ দিনের সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিনের নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন হলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ে যাওয়া সাত দিন বাদ দিলে আগামী বছর কার্যকর সরকারি ছুটি হবে মোট ২২ দিন। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীরা তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি বা অনুরূপ উৎসবে দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি পাবেন।
ছুটির তালিকার পাশাপাশি একই বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তুতকৃত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে জারি করা অধ্যাদেশটিকে সংবিধানের নিয়ম অনুসারে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এই খসড়াটি অনুমোদন দেয়া হয়।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সম-আচরণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
নতুন এই সংশোধনীতে দেশীয় শিল্প সংরক্ষণ, নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে তৈরিকৃত এই খসড়াটি ইতিমধ্যে বিপিডিএ ও আইএমইডি-র ওয়েবসাইটে জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
এখন থেকে নিবন্ধন নিয়ে রাজধানীর বুকে চষে বেড়াতে পারবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার। সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথমে যানবাহনগুলোকে আইনি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।
গত রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান (ই-রিকশা) চলাচল-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের ১২০ ধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।’
ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানান তিনি। নতুন নীতিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়ন করতে ফি দিতে হবে চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
এখন থেকে ই-রিকশা উৎপাদন তদারকি এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের সুপারিশ করতে সরকার সাত সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শুধু চালালেই হবে না, মানতে হবে বিস্তর আইন। আর আইন ভঙ্গ করলেই হবে শাস্তি ও জরিমানা। এ ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল বহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য আটটি জোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, যার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। ফলে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। নিবন্ধনের পর চালকদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।